Category: প্রশাসন

  • দুদক পরিচালক এনামুল বাসিরকে গ্রেফতার করল দুদক

    দুদক পরিচালক এনামুল বাসিরকে গ্রেফতার করল দুদক

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঘুষ নেওয়ার মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সোমবার রাতে দুদকের একটি দল রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

    দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘খন্দকার এনামুল বাসিরকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতে তাকে রমনা থানায় রাখা হবে।’

    এর আগে, (১০ জুন) দুদকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অনুসন্ধান হতে তাকে দায়মুক্তি দিতে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণে সমঝোতা করেন।

    তিনি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা ঢাকার রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য তিনি গ্যাসচালিত একটি গাড়ি দাবি করেন। এছাড়া তিনি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবৈধভাবে পাচার করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এটিএন নিউজে প্রচারিত এই প্রতিবেদনটি কমিশন আমলে নিয়ে দুদক সচিব মো. দিলওয়ার বখত এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

    প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে কমিশন, দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

  • গুজব গণপিটুনি বন্ধে পুলিশকে বার্তা

    গুজব গণপিটুনি বন্ধে পুলিশকে বার্তা

    শনিবার ঢাকার বাড্ডার এই বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তসলিমা বেগম রেনু (৪২) নামে এক নারী মারা যান
    পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে মানুষের মাথা লাগবে- এমন গুজব ডালপালা মেলে শেষে গিয়ে ঠেকেছে ছেলেধরার হাতে। ফলাফল হিসেবে-উদ্ভূত হয়েছে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি, দেখা দিয়েছে ছেলেধরা আতঙ্ক। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্রেফ সন্দেহের বশে ঘটছে গণপিটুনির ঘটনা। সম্প্রতি কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বিষয়টা নিয়ে দৃশ্যত উদ্বিগ্ন পুলিশও। ছেলেধরার গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ব্লগগুলো নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-অপারেশন্স) সাঈদ তারিকুল হাসান সারাদেশের পুলিশের ইউনিটকে এই বার্তা পাঠান।

    বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক পোস্টে মন্তব্য বা গুজব ছড়ানোর পোস্টে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বার্তায় মোট চারটি উপায়ে ছেলেধরার গুজব ও গণপিটুনি প্রতিরোধে পুলিশের ইউনিটগুলোকে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, স্কুলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ছুটির পর অভিভাবকরা যাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায় সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, প্রতিটি স্কুলের ক্যাম্পাসের সামনে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরের বস্তিতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এছাড়াও বার্তায় গুজব বন্ধে জনসম্পৃক্ততামূলক কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গুজববিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, এলাকায় মাইকিং- লিফলেট বিতরণ, মসজিদের ইমামদের ছেলেধরা গুজববিরোধী আলোচনার নির্দেশনা।

    এই চিঠির প্রেক্ষিতে পুলিশের কোন ইউনিট কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্সের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, চিঠিতে গুজব বন্ধে পুলিশের ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সারাদেশের পুলিশ সদস্যরা গুজব ও গণপিটুনি বন্ধে কাজ শুরু করেছে।

    পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়, যাতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

    এরমধ্যে বৃহস্পতিবার নেত্রকোণা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে ‘শিশুর মাথা’ পাওয়ার পর তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।

  • বরিশালে শিশু‌ ধর্ষণ মামলার আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

    বরিশালে শিশু‌ ধর্ষণ মামলার আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

    ব‌রিশা‌লের মুলাদী‌তে ১০ বছ‌রের এক শিশু‌কে  ধর্ষ‌নের মামলায় আসামী‌কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দি‌য়ে‌ছে আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জ‌রিমানা অনাদা‌য়ে আ‌রো ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হ‌য়ে‌ছে।

    দন্ডপ্রাপ্ত র‌ফিকুল ইসলাম (৩২) মুলাদী পৌর এলাকার নজ‌রুল ইসলাম হাওলাদা‌রের ছে‌লে ও ভিক‌টি‌মের প্র‌তি‌বেশী।

    সোমবার (২২ জুলাই) দুপু‌রে আসামীর অনুপ‌স্থি‌তি‌তে ব‌রিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক  মোঃ আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষনা ক‌রেন ব‌লে জানি‌য়ে‌ছেন রাষ্ট্রপ‌ক্ষের আইনজী‌বি স্পেশাল পি‌পি ফ‌য়েজুল হক ফ‌য়েজ।

    মামলা সূ‌ত্রে জানা‌গেছে,  ২০০৯ সা‌লের ৭ ডিসেম্বর দুপু‌রে বা‌ড়ির সবার অ‌গোচ‌রে ভিক‌টিম‌ শিশু কন্যাকে ধান কুড়া‌নোর কথা ব‌লে পার্শবর্তী এক‌টি বাগা‌নে নি‌য়ে যায় দন্ডপ্রাপ্ত র‌ফিকুল ইসলাম। সেখা‌নে নি‌য়ে শিশু‌ কন্যা‌কে ধর্ষন ক‌রে র‌ফিকুল পা‌লি‌য়ে যায়। প‌রে শিশু‌টি বা‌ড়ি‌তে এ‌সে বাবা মা‌কে বিষয়‌টি বল‌লে তারা মুলাদী থানায় ওই ঘটনায় এক‌টি মামলা দা‌য়ের ক‌রেন। ২০১০ সা‌লের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুলাদী থানার এসআই জ‌হিরুল ইসলাম আদাল‌তে চার্জশীট দা‌খিল ক‌রেন। আদালত ৭ জ‌নের সাক্ষ্যগ্রহন শে‌ষে আজ এ রায় ঘোষনা ক‌রেন।

  • অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া

    অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া

    নিউজ ডেস্ক :

    বরিশাল নগরসহ মহানগর এলাকায় বেশ জোরেসোরে এগিয়ে চলছে পুলিশের সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম। যেসব কাজে বেশ সাড়াও পড়েছে এরইমধ্যে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মাদক, জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইম, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও ইভটিজিংবিরোধী সচেতনতামূলক সভাগুলো বেশি কাজে আসছে।

    যদিও সুশীল সমাজের মতে, সন্তানদের খারাপ ও ভালো শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব যেমনি পরিবারের, তেমনি শিক্ষকদেরও। তাই শুধু প্রশাসন নয়, তাদেরও উচিত সন্তানদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া। যাতে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি করা যায়।

    বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই নগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিকে এ সভাগুলো রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে থাকলেও এখন এগুলো অনেকটাই আন্তরিকতা ও বন্ধু সুলভ পরিবেশের মধ্য দিয়ে করা হচ্ছে। নানান গল্পের ছলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদক, জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইম, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও ইভটিজিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হচ্ছে। যেসব আলোচনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা থাকছেন। একইসঙ্গে এসব সভায় অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরও রাখা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা নিয়ে আমাদের বড় ধরনের একটা প্ল্যান রয়েছে। মাঝখানে পরীক্ষার জন্য এগুলো বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন আবার শুরু হয়েছে। আমাদের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান সরাসরি সভাগুলোতে যোগ দিচ্ছেন। এগুলোর বিষয়ে মনিটরিং করছেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা থাকবে এটা সবাই চায়। আর এজন্য আমরা বরিশাল মহানগর পুলিশ কাজ করছি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে, যাতে তারা ভদ্র ও ভালোভাবে থাকার বিষয়টি বোঝে। অর্থাৎ যেটা শোভন না, সে বিষয়ে তাদের অবহিত করতে হবে। সমাজে একটা মূল্যবোধ আছে, সেটা শিখতে হবে। শোভন-অশোভনের বিষয়ে মানুষকে জানাতে হবে। এ সচেতনতামূলক কর্মসূচিও আমরা হাতে নিয়েছি। যদিও এগুলো পরিবারের ভেতর থেকেই আসতে হবে
    মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে নয়, আমরা মাদরাসায়ও অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম করছি। নিম্নবিত্তসহ উচ্চবিত্ত সবপর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমান চোখে দেখা হচ্ছে। তবে বয়স ও শ্রেণিভেদে আলোচনা বিষয়বস্তুর পরিবর্তন ঘটছে। যেমন ইভটিজিংয়ের বিষয়টি নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক। আর প্রাথমিকের বিষয়টি আলাদা। কারণ বয়সের একটা বিষয় রয়েছে তাদের। মনে রাখতে হবে, সবাই সবকিছু গ্রহণ করতে পারে না।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গার্ডিয়ানদেরও সচেতন করা হচ্ছে। কারণ একটা মানুষের জন্য তার ঘর বা বাসাটা হলো সব থেকে ইফেকটিভ প্রতিষ্ঠান। পরিবারের বন্ধন কিংবা পরিবারের প্রতিষ্ঠানটাকে শিক্ষা ক্ষেত্রের আতুরঘর বলা যায়। এখান থেকে আমিসহ সবাই মূল জিনিসটা শিখছে। আর পড়াশুনাটা স্কুল থেকে শিখছে। যদিও এখন গার্ডিয়ানরা বাচ্চাদের পড়ালেখার চাপে রাখছে। একবারের জন্যও ভালো কথা বলার সুযোগ পায় না।

    মাদক সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে ছেলে খারাপ কিছু করলেও বাবা তাকে শাসন করে না, পাত্তা দেয় না। এ থেকে বিরত থাকতে হবে অভিভাবকদের।

    তিনি বলেন, যা করতে চাচ্ছি সেটা হলো, আমরা মশালটা জ্বালিয়ে দেবো, তবে জ্বলতে হবে নিজেকেই।

  • বরিশালে মোস্তাক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    বরিশালে মোস্তাক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।

    স্থানীয় সূত্রে জানাযায় বিসিসির ২৬নং ওয়ার্ড হরিনাফুলিয়া এলাকার সরদার বাড়ির লিটন, মজিবর সরদার, মোঃ সাগর সরদার (২২) পিতা: আঃ রহমান সরদার, হাফেজ হাং (২৩) পিতা: মনির হাং ও মোঃ আক্কাস (২১) পিতা: মনির হাং দীর্ঘদিন ধরে এক ছাত্রলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে জাগুয়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে ড্রেজিং ব্যবসা করে আসছিলো।

    এনিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঐ এলাকার কিছু লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য মারামারির সময়ে জাগুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম চৌধুরী না থাকলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যেতো। চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম মারামারি থামালেও উদ্দেশ্য প্রনিত ভাবে ঐ মামলায় তাকে জরানো হয়েছে ।

    এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম চৌধুরী বলেন মারামারি মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে।

  • এবার মিন্নির মা-বাবাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি রিফাতের পরিবারের

    এবার মিন্নির মা-বাবাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি রিফাতের পরিবারের

    বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও মিন্নির মা-বাবাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। রোববার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। এ সময় রিফাতের মা, বোন, চাচা-চাচি ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের বাবা বলেন, ‘বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিনে-দুপুরে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে ‘০০৭’ গ্রুপের সদস্যরা। এ ঘটনায় আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। প্রাথমিকভাবে যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে সেখানে মিন্নির ভূমিকায় সবাই প্রশংসা করে। তাই আমি প্রাথমিকভাবে মিন্নিকে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী করি। পরবর্তীতে এ ঘটনার আরও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ায় মিন্নির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও নয়ন বন্ডের মায়ের কথায় আরও প্রকাশ্যে আসে মিন্নির আসল চেহারা। এরপর আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই। পুলিশও তাদের তদন্তে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এতেই প্রতিয়মান হয় যে, মিন্নিই এই খুনের প্রধান পরিকল্পনাকারী।’

    এ সময় রিফাতের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু কিছু গণমাধ্যম আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ছেলে হারিয়েছি, আমার পাশে না দাঁড়িয়ে তারা খুনিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মিন্নির মা-বাবা আমার কাছে তাদের মেয়ের বিয়ের বিষয়টি গোপন করে রিফাতের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। এই বিয়েই আমার ছেলের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মিন্নির মা-বাবাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরে মিন্নিকেও রিফাত হত্যা মামলার আসামি করে গ্রেফতার দেখানো হয়। মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দেয়া সেই কাভার্ডভ্যান চালক একদিনের রিমান্ডে

    সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দেয়া সেই কাভার্ডভ্যান চালক একদিনের রিমান্ডে

    ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে চাপা দেয়া যমুনা গ্রুপের কভার্ডভ্যানের সেই চালক জলিল মিয়াকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রবিবার দুপুর ২টার বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম শামীম আহম্মেদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার এসআই আব্দুল মালেক একই আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। আদালত তখন রিমান্ড আবেদনটি গ্রহণ করে আসামির উপস্থিতিতে গতকাল শুনানির দিন ধার্য করেছিল।

    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও বন্দর থানা) এসআই মিলি খানম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মালেক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত চালক জলিল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

    রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া চালক জলিল মিয়া টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর পৌরসভার পুস্তকামারি এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিন সিকদারের ছেলে।

    প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্ণকাঠি জিরোপয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া। কাভার্ডভ্যানটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন।

    এ সময় চালক জলিল মিয়া কাভার্ডভ্যানটি না থামিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।

  • গণপিটুনি : ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করছে পুলিশ

    গণপিটুনি : ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করছে পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক :

    রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয় হত্যার ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। স্কুলের দোতলা থেকে করা একটি মোবাইলের ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

    শনিবার (২০ জুলাই) সকালে ওই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে পুলিশ। গণপিটুনি বন্ধে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বার্তাও পাঠিয়েছে। তবে সারাদেশের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।

    এদিকে ঘটনাস্থলে ধারণকৃত একটি মোবাইলের ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারীকে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার পর মুহূর্তেই লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। তবে স্থানীয় চার-পাঁচ যুবক তাকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল ও এলোপাতাড়ি লাথি মারছিল। ভিডিওর ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    স্কুলের অভিভাবকরা জানান, অনেকে ভিড় করলেও স্থানীয় তিন-চার যুবকই মূলত তাকে মারধর করে হত্যা করেছে। বাকিরা পেছন থেকে ‘মার, মার’ চিৎকার করছিল।

    এ ঘটনায় শনিবার রাতে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে পুলিশের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহমেদ হুমায়ূন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণকৃত কিছু ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছি। অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মামলা যেহেতু হয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবেই।’

    বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত চলছে। মামলা হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    এদিকে এ ঘটনায় উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সংগ্রহ করা হয়েছে স্কুলে প্রবেশপথসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।

    এ ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেন বলেন, ‘তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ আশপাশের লোকজনের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। তবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।’

    এদিকে রোববার (২১ জুলাই) নিহত রেনুর মহাখালীর বাড়িতে চলছিল শোকের মাতম। তার চার বছরের মেয়ে তাসলিম তুবা এখনো জানে না তার মা কোথায়। পরিবারের কেউ জিজ্ঞেস করলে শুধু বলে, ‘আম্মু নাই।’

    রেনুর পরিবার জানায়, আড়াই বছর আগে রেনুর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে তিনি মহাখালী ওয়ারলেসের বাসায় থাকতেন। তিনি আড়ং ও ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। শুক্রবার রাতেও তিনি পরিবারের লোকজনকে জানান, তুবা বাসায় অনেক দুষ্টুমি করে তাই তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেবে।

    শনিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলার বাদী ও রেনুর ভাগনে নাসির উদ্দিন বলেন, “খালার (রেনু) আচরণ সন্দেহ হওয়ায় নাকি স্কুলের বাইরে থেকে হট্টগোল শুরু হয়। ৩-৪ মিনিটের মধ্যে পুরো মানুষে ভরে যায়। এ সময় স্কুলের মাঠে থাকা অভিভাবকদের সন্দেহ হলে তারা খালাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় দোতলায় থাকা প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে খালাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে গণপিটুনি দেয়া হয়।”

    তিনি বলেন, ‘শুধু সন্দেহেরবশে মানুষ মানুষকে হত্যা করে? বাস্তবতা না দেখেই একটা কথা শুনে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম। আমরা কোথায় আছি?’

    এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করতে গিয়ে অভিভাবকদের গণপিটুনির শিকার হন মানসিক রোগে আক্রান্ত তাসলিমা বেগম রেনু। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন লাশ হয়ে।

  • রিফাত হত্যায় রিফাত ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

    রিফাত হত্যায় রিফাত ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

    নিউজ ডেস্ক :

    বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী। শনিবার (২০ জুলাই) বিকাল ৪টায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে সে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

    এ তথ্য নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রিফাত ফরাজীকে তিন দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ আদালতে হাজির করা হয়। সে আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

    রিফাত হত্যা মামলায় এপর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তখন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা ৭ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ৭ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

  • আমি এলাকায় মুখ দেখাব কি করে?

    আমি এলাকায় মুখ দেখাব কি করে?

    অনলাইন ডেস্ক :

    শরীয়তপুর সদর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে দেলোয়ার ছিপাই (৩৭) নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দেলোয়ার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাহমুদপুর গ্রামের ইসমাইল ছিপাইর ছেলে। এর আগে শনিবার সকালে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

    ধর্ষণের শিকার মাদরাসাছাত্রী জানায়, ২৮ মে মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশী দেলোয়ার ছিপাইর বাড়ির টিউবওয়েলে গোসল করতে যায় ওই কিশোরী। তখন মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। টিউবওয়েলের চারদিকে টিনের বেড়া দেয়া ছিল। ওই সময় আশপাশে লোকজন না থাকায় ওঁৎ পেতে থাকা দেলোয়ার টিনের বেড়ার ভেতর ঢুকে টিউবওয়েলের ফ্লোরে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় দেলোয়ার।

    ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলেনি কিশোরী। ১৬ জুলাই মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কিশোরীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। তখন চিকিৎসকরা জানান, কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হলে দেলোয়ারের পরিবার, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিষয়টি সমাধানের জন্য হাসপাতালে আসেন।

    কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের এ অবস্থার জন্য দেলোয়ার দায়ী। আমার ছোট্ট মেয়েটাকে ধর্ষণ করল ভ্যানচালক দেলোয়ার। তার বিরুদ্ধে আমি থানায় মামলা করেছি। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমি এলাকায় মুখ দেখাব কি করে।’

    মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ঢালী বলেন, ধর্ষণের ঘটনা আমরা সমাধান করতে পারি না। এর বিচার করবেন আদালত। ঘটনা শুনে শুক্রবার স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুনকে নিয়ে মেয়েটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। যে মেয়েটার এ অবস্থা করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পালং মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দেলোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা কিনা জানতে সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে।