Category: প্রশাসন

  • গণপিটুনিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে

    গণপিটুনিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে

    গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল। এছাড়া গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারাকে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

    শনিবার বিকেলে এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

    পুলিশ সদর দফতর জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে- একটি মহল এমন গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

    পুলিশ সদর দফতর আরও জানায়, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলেন নেবেন না। গণপিটুনির ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • বন্ড গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী আদালতে

    বন্ড গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী আদালতে

    বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি বন্ড গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজীকে আদালতে তোলা হয়েছে।

    শনিবার (২০ জুলাই) বিকালে তাকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলে পুলিশ।

    এর আগে ২ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা থেকে গোপন খবরের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় রিফাত ফরাজীকে। এরপর ৮ জুলাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে এই মামলায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী রিফাত ফরাজীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    ১৩ জুলাই রাতে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রেফতার দাবি করেন। রিফাতের বাবার অভিযোগের ফলে আলোচিত এই হত্যা মামলা নাটকীয় মোড় নেয়। গ্রেফতার করা হয় নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে।

    রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

  • কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত সার্জেন্ট কিবরিয়ার বাসায় চুরি

    কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত সার্জেন্ট কিবরিয়ার বাসায় চুরি

     নিউজ ডেস্ক :

    কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত পুলিশ সার্জেন্ট কিবরিয়ার বরিশালের ভাড়াটে বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরীর মুন্সী গ্যারেজ এলাকার জমিদার বাড়ির বিসর্জন ভবনের তৃতীয় তলায় তার ভাড়াতে বাসায় চুরি হয় বলে জানায় বরিশাল কোতয়ালী থানা পুলিশ।

    তবে চুরির ঘটনায় কি পরিমান ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষনিক জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে কিবরিয়ার স্বজন আসার পরে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

    খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল  আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আকরাম হোসেনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, নিহত সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় তার নিজ বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালীতে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এজন্য কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসমী সহ স্বজনরা সকলেই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কিবরিয়ার বাড়িতে আজ অবস্থান করছে। সেই সুযোগে বরিশাল নগরের মুন্সী গ্যারেজ এলাকায় তালা ভেঙে কিবরিয়ার ফ্লাট বাসায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।

    ওসি জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে দেখতে পান কিবরিয়ার ঘরে প্রবেশের দরজায় যেটার সাথে তালা দেয়া হয় সিটকিনির সেই লকটি ভাঙা। এছাড়া ঘরের মধ্যে আলমিড়া খোলা এবং ভেতরে থাকা সকল মালামাল তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। ধারনা করা হচ্ছে চোর চক্র ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। তবে কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসুমী না আসা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাকে খবর দেয়া হয়েছে।

    তাছাড়া এই ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি নুরুল ইসলাম।

    উল্লেখ্য, বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে কাভার্ডভ্যানের চাপায় আহত পুলিশ সার্জেন্ট কিবরিয়া মারা যান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার মৃত জলিল সিকদারের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের গাড়ি বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া।

    কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।

  • রিফাত হত্যা : ফের আদালতে মিন্নি

    রিফাত হত্যা : ফের আদালতে মিন্নি

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হঠাৎ আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। পাঁচদিনের মধ্যে দু’দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে তাকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে।

    রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির মিন্নিকে আদালতে হাজিরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কী কারণে, কয়টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে তা জানাতে চাননি আদালত দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

    এদিকে পাঁচদিনের রিমান্ডের দুদিন শেষ হওয়ার পর আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে নেয়ার খবর পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন সংবাদকর্মীরা। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। জড়ো হয়েছেন উৎসুক সাধারণ জনতাও।

    গতকাল বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। ইতোমধ্যে মিন্নি স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

    এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    এরপর বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

  • রিমান্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মিন্নি

    রিমান্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মিন্নি

    রিমান্ডে একের পর এক – বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

    এ সময়ে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার (১৭ জুলাই) মিন্নির রিমান্ড মঞ্জুরের পর পু’লিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে মিন্নি। ইতোমধ্যেই মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও মিন্নি যুক্ত ছিলেন।

    এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের এক সদস্য বলেন, ‌‘মূলত রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল না। তাকে মারধর করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুর্ঘ’টনাবশত নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।’

    এছাড়াও বরগুনা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ড সংগঠিত হয়। ঘটনার দু’দিন আগে সোমবার হেলাল নামে এক ছেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই মোবাইল ফোন উ’দ্ধারের জন্য নয়ন বন্ড মিন্নির দারস্থ হয়।

    পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোন উ’দ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উ’দ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধরের শিকার হন মিন্নি। পরে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেন।

    এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মা’রধরের শিকার হয়েছেন তার প্রতিশোধ নিতে নয়নকে রিফাত শরীফকে মা’রধর করতে বলেন। তবে মা’রধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকেন, সেটাও মিন্নি নয়নকে বলে দেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মা’রধরের প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্ড বাহিনী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের অ’পর এক সদস্য জানান, ‘হা’মলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও কলেজের সামনে রিফাতকে মা’রধরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময় ক্ষেপণের জন্য রিফাত শরীফকে নিয়ে আবার কলেজে প্রবেশ করেন।

    এর কিছুক্ষণ পরই বন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আ’টক করে মা’রধর করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মা’রধর করা হচ্ছে দেখেই মিন্নি তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন।

    পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে মা’রধর শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসে। মূলত মিন্নি রিফাত শরীফকে বাঁ’চাতে নয়, রিফাত শরীফকে মা’রধরের অ’ভিযোগ থেকে নয়ন বন্ডকে বাঁ’চাতেই বারবার নয়ন বন্ডকে প্রতিহত করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মিন্নি।’

    প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনার পু’লিশ লাইনে নিয়ে যায় পু’লিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পু’লিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আ’টকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হ’ত্যাকা’ণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই মিন্নিকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ।

    পরবর্তীতে বুধবার (১৭ জুলাই) মিন্নিকে আ’দালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পু’লিশ। সেখানেও আ’দালতের করা প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি মিন্নি। ফলে আ’দালত মিন্নির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • সার্জেন্ট কিবরিয়া হত্যার কঠোর বিচার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

    সার্জেন্ট কিবরিয়া হত্যার কঠোর বিচার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

    বরিশালে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীকে কঠোর শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে বরিশাল স্ট্রিট বাইকার্স গ্রুপের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    মানববন্ধনে বক্তারা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করা যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানের চালককে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, কিবরিয়া হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে করা, কাভার্ডভ্যানের হেলপারের সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা, রাষ্ট্র কর্তৃক কিবরিয়ার সন্তানের দায়িত্ব গ্রহণ, সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দেয়ার স্থানে তার নামে ‘শহীদ সার্জেন্ট কিবরিয়া পুলিশ বক্স নির্মাণ’ এবং বরিশালসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় গাড়ির নির্দিষ্ট গতিসীমা করে দেয়া।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল স্ট্রিট বাইকার্স সদস্য ওয়াহেদ রাব্বী। এতে বক্তব্য রাখেন সিমথি অধিকারী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও মির্জাগঞ্জের বাসিন্দা মো. সোহেল রানা এবং হাসিবুল হাসান মিতুল।

    উল্লেখ্য, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠি জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া। কাভার্ডভ্যানটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন।

    তখন কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল মিয়াসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে

    কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সেদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া প্রায় সাড়ে ৪ বছর ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নে। তার বাবা ইউনুস সরদার সুবিদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

  • মোবাইল ফোনকে ঘিরেই রিফাত হত্যার গল্প!

    মোবাইল ফোনকে ঘিরেই রিফাত হত্যার গল্প!

    একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে  এ তথ্য জানিয়েছেন বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য।

    ওই পুলিশ সদস্য জানান, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দুদিন আগে সোমবার হেলাল নামে একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নয়ন বন্ড মিন্নির দারস্থ হয়।

    পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোন উদ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মারধরের শিকার হন মিন্নি। পরে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেন।

    এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মারধরের শিকার হয়েছেন তার প্রতিশোধ নিতে নয়নকে মারধর করতে বলেন। তবে মারধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকেন, সেটাও মিন্নি নয়নকে বলেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মারধরের প্রস্তুতি গ্রহণ নেয় বন্ড বাহিনী।

    তিনি আরও জানান, রিফাত শরীফের ওপর হামলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও কলেজের সামনে রিফাতকে মারধরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময়ক্ষেপণের জন্য রিফাত শরীফকে নিয়ে আবার কলেজে প্রবেশ করেন।

    এর কিছুক্ষণ পরই বন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আটক করে মারধর করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মারধর করা হচ্ছে দেখেই মিন্নি তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন।

    পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসে। মূলত মিন্নি রিফাত শরীফকে বাঁচাতে নয়, রিফাত শরীফকে মারধরের অভিযোগ থেকে নয়ন বন্ডকে বাঁচাতেই বারবার নয়ন বন্ডকে প্রতিহত করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মিন্নি।

    এদিকে আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

    জাগো নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার মিন্নির রিমান্ড মঞ্জুরের পরও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে মিন্নি। ইতোমধ্যে মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নি যুক্ত ছিলেন।’

    জাগো নিউজের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এ মামলার ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুধু টিকটক হৃদয় একাই নন, এ মামলার একাধিক অভিযুক্ত রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।’

    অন্যদিকে বুধবার আদালতে মিন্নির রিমান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির আদালতকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে এ মামলার একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ সময় প্রযুক্তির সহায়তায় সংগৃহীত সেই সব তথ্য-প্রমাণ আদালতে তুলে ধরেন তিনি।

    মিন্নির রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস বলেন, মিন্নির শুনানির সময় আদালতে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য শেষে আদালত মিন্নির সঙ্গে কথা বলেন। ‘আপনার পক্ষে কোনো আইনজীবী আছে কি না? এবং আপনার কোনো কিছু বলার আছে কিনা?’ আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি আমার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

    সঞ্জীব দাস আরও বলেন, ‘আদালত রিফাত হত্যায় অভিযুক্তদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি চুপ হয়ে যান এবং আদালতের এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

  • রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত: পুলিশ সুপার

    রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত: পুলিশ সুপার

    পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত রয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বাংলানিউজকে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন।

    বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে কোথা থেকে রিশানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে জানায়নি পুলিশ। এখন পর্যন্ত প্রধান সাক্ষী মিন্নিসহ ১৫ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

    গ্রেফতার ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চারজন রিমান্ডে রয়েছেন। রিশান ফরাজীকেও রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হয়েছে।

  • বরিশালে সার্জেন্ট কিবরিয়া হত্যার ঘাতক কাভার্ডভ্যান চালকের রিমান্ড চায় পুলিশ

    বরিশালে সার্জেন্ট কিবরিয়া হত্যার ঘাতক কাভার্ডভ্যান চালকের রিমান্ড চায় পুলিশ

    ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে চাপা দেয়া যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানটি তল্লাশি করে দেখবে পুলিশ। কাভার্ডভ্যানটিতে কোনো অবৈধ মালামাল বহন করা হচ্ছিল কি-না তা নিশ্চিত হতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘাতক চালক জলিল মিয়ার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালক জলিল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মো. শামীম আহম্মেদ আসামির উপস্থিতিতে আগামী ২১ জুলাই রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর বন্দর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চালক জলিল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী ২১ জুলাই শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জলিল মিয়ার কাছে সেদিন এত দ্রুততার সঙ্গে পালানোর চেষ্টার পেছনে কী কারণ ছিল তা জানতে চাওয়া হবে। সর্বোপরি মামলার তদন্তকাজ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করা হচ্ছে। আসামি জলিল মিয়া যেন সর্বোচ্চ সাজা পান।

    তিনি আরও বলেন, বেপরোয়াভাবে চালানোর কারণে যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানটি থামতে সংকেত দিয়েছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। তবে কাভার্ডভ্যানটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। তবে চালক জলিল মিয়া কাভার্ডভ্যানটি না থামিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

    এসআই আব্দুল মালেক বলেন, চালক জলিল মিয়ার দ্রুত পালানোর চেষ্টা বিভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত বহন করে। সে কারণে যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানটিতে তল্লাশি করে দেখা হবে ভেতরে কোনো অবৈধ মালামাল ছিল কি-না। এ বিষয়ে যমুনা গ্রুপের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তল্লাশির সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও যমুনা গ্রুপের নির্ধারিত কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হবে।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠি জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া। কাভার্ডভ্যানটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন।

    তখন কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল মিয়াসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।

    কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সেদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া প্রায় সাড়ে ৪ বছর ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নে। তার বাবা ইউনুস সরদার সুবিদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

  • ফল এলো নুসরাতের আলিম পরীক্ষার

    ফল এলো নুসরাতের আলিম পরীক্ষার

    আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের (আলিম) একটি মাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন। তিনি কোরআন মাজিদ ও হাদিস বিষয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে না পারায় তাকে অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

    ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন (৬ এপ্রিল) নুসরাত রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় ঘাতকরা। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। ফলে কোরআন ও হাদিস বিষয়ের ওই একটি পরীক্ষা বাদে বাকি পরীক্ষাগুলো দেয়া হয়নি তার।

    এর আগে, গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদ্রাসার ছাদে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা। সেখানে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হলে তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর ৪দিন পর ১০ এপ্রিল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    ফলাফল প্রকাশের দিনে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আজ বুধবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামশ জগলুল হোসেনের আদালতে বেলা ২টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৬ জুন শাহবাগ থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে সোনাগাজী সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি মোয়াজ্জেম নিয়ম ভেঙে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।