Category: প্রশাসন

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের খােঁজ জানতে ভোলার এসপিকে তলব

    শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের খােঁজ জানতে ভোলার এসপিকে তলব

    শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ জীবিত না মৃত- এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন না পাঠানোর ব্যাখ্যা দিতে ভোলা জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২০ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল।

    ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কঠোর গোপনীয়তায় কারাগার থেকে ছাড়া পান রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস (৪৬)। ওইদিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা সেসময় জানান, এ ধরনের সন্ত্রাসী কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো হয়। বহু বছর ধরে এ রীতি মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু বিকাশের ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি।

    ১৫ বছর ধরে কারাবন্দি ছিলেন বিকাশ। কারাগারে বসেই মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ রয়েছে।

    ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই কাশিমপুর কারাগার থেকে একবার মুক্তি পেয়েছিলেন বিকাশ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই দিনই গাজীপুরের গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় (অপরাধে জড়িত সন্দেহে) গ্রেফতার করে আবার কারাগারে পাঠায়।

    পরে তেজগাঁও থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই মামলায় তিনি ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান।

    কারা সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে ১ নভেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বিকাশকে পাঠানো হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারের কর্ণফুলী ভবনে বন্দি ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ওই সময় জানায়, বিকাশকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে কিছুদিন ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায় থেকে তৎপরতা চলছিল। একপর্যায়ে কারা কর্মকর্তাদের ডেকে বিকাশের মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়।

    কারাগার থেকে বের হওয়ার পর বিকাশের আর কোনো খোঁজ জানে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    বিকাশ-কাহিনি

    পুলিশের কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, বিকাশের বাবার নাম বিমল চন্দ্র বিশ্বাস, বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগরে। ঢাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ বিশ্বাসের ভাই বিকাশ। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা করেছিল, তাতে প্রকাশের নাম ছিল। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় করা পুলিশের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে বিকাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকা প্রকাশের আগেই প্রকাশ দেশের বাইরে পালিয়ে যায় বলে তথ্য রয়েছে।

    সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী দল গড়ে উঠতে শুরু করে। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডেন আসলাম, হারেসউদ্দীন, জোসেফ আহমেদ, প্রকাশ-বিকাশ, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, টিক্কা, মুরগি মিলন, লিয়াকত হোসেন প্রমুখ। ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আধিপত্য নিয়ে সন্ত্রাসী দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।

    প্রকাশ-বিকাশ প্রথমে বাসাবো এলাকায় কর্মকাণ্ড চালালেও পরে তারা মিরপুর-আগারগাঁও এলাকায় আস্তানা গাড়েন। আগারগাঁওয়ে জোড়া খুন, এলজিইডি ভবনে খুনসহ আরও কয়েকটি খুনের দায়ে সরাসরি বিকাশকে আসামি করা হয়েছিল।

    বিকাশকে ১৯৯৭ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আলোচিত সহকারী কমিশনার (এসি) আকরাম হোসেন গ্রেফতার করেছিলেন। সেই সময়ে বিকাশের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগসহ ১২টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বাকি মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।

  • হঠাৎ তছনছ দুই পুলিশের সুখের সংসার

    হঠাৎ তছনছ দুই পুলিশের সুখের সংসার

    অনলাইন ডেস্ক :

    সুখের সংসার – হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘ’টনায় ভেঙে তছনছ মৌসুমি আক্তার মৌয়ের সুখের সংসার। অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি। তার চোখের পানি অনবরত ঝরছিল। কা’ন্না করতে করতে মৌসুমি বলেন, আমি কিছুই চাই না। আমি আমা’র স্বামীকে চাই। আমি আমা’র সুখের সংসার চাই। কি হবে আমা’র আর আমা’র শিশু সন্তানের।

    ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলেছেন যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানের চাপায় নি’হত ট্রাফিক পু’লিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মিকেলের স্ত্রী’ মৌসুমি মৌ। মৌসুমিও ট্রাফিক পু’লিশের সার্জেন্ট। হঠাৎ স্বামীর মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মৌসুমি।

    এদিকে, সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মিকেলের মৃ’ত্যুতে নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক বার্তা দিয়ে আহাজারি করছেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম কিবরিয়া নামে পু’লিশ মহলে পরিচিত থাকলেও মূলত বন্ধু-বান্ধবের কাছে মিকেল হিসেবে অ’ত্যাধিক পরিচিত ছিলেন তিনি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাড়ি হলেও শহরে থাকতেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। পু’লিশের দায়িত্ব পালন শেষে বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতেন তিনি। সবসময় শান্ত ও হাসিখুশি ছিলেন কিবরিয়া।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পড়াশোনা শেষে ২০১৫ সালে পু’লিশে যোগ দেন। পু’লিশে যোগ দেয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। বরিশালে কোনো বন্ধু-বান্ধব গেলে আপ্যায়ন না করে ছাড়তেন না কিবরিয়া। এসব কারণে বন্ধুমহল ও শিক্ষকমহলে জনপ্রিয় ছিলেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া।

    জানা যায়, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজে’লার সুবিদখালী বন্দরের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী সরদারের বড় ছেলে গোলাম কিবরিয়া মিকেল। তার ছোট এক বোন রয়েছে। তিন বছর আগে বিয়ে করেন কিবরিয়া। মিকেলের স্ত্রী’ পু’লিশের সার্জেন্ট মৌসুমি আক্তার মৌ বরিশালে কর্ম’রত আছেন। তাদের দুই বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে পড়ালেখা করেছেন কিবরিয়া।

    সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার অকাল মৃ’ত্যুতে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমা’র স্নেহের ছাত্র মিকেল পু’লিশ সার্জেন্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কর্ম’রত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে মা’রা গেছেন। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন।’

    মিকেলের বন্ধু বাপ্পী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বন্ধু, তোমা’র অকালে চলে যাওয়া আম’রা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত দান করুক।’

    মিকেলের বন্ধু এসডি সুমন লিখেছেন, ‘প্রিয় সতীর্থ পু’লিশ সার্জেন্ট মিকেল সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আ’হত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেছে। তোর চলে যাওয়া মানতে পারছি না বন্ধু। ভালো থাকিস পরপারে, তোর জন্য দোয়া রইলো।’

    সাখাওয়াত সোহেল নামে আরেক বন্ধু লিখেছেন, ‘কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আ’হত হয়ে সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। তার মৃ’ত্যুতে গভীরভাবে শোক জানাচ্ছি আম’রা। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।’

    গতকাল সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা-মেট্রো-উ-১২-২০৫৪) থামা’র সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া।

    কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামা’র সংকেত দেন। কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে তার দুই পায়ের চারটি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    স্থানীয়রা তাকে উ’দ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পু’লিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আ’টক করে।

    কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে আইসিইউতে মা’রা যান গোলাম কিবরিয়া।

  • কিবরিয়া অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে : বিএমপি কমিশনার

    কিবরিয়া অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে : বিএমপি কমিশনার

     কাভার্ডভ্যানের চাপায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট এস এম গোলাম কিবরিয়া মিকেল (৩১) এর দ্বিতীয় জানাজা’র নামায অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮ টায় বরিশাল পুলিশ লাইন্স মাঠে এ জানাজা’র নামায অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম (বার), বরিশাল জেলা পুলিশের সুপা সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বজন, সহকর্মী-শুভাকাঙ্খি প্রমুখ।

    জানাযার পূর্বে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম (বার) বলেন, সার্জেন্ট কিবরিয়া সবার প্রিয় মানুষ ছিলো। নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বপরায়ন ছিলো। আমরা জনগনের নিরাপত্তায় থাকি, নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করি। ডিউটিরত অবস্থায় ঘাতকের আঘাতে কিবরিয়ার মৃত্যু হয়েছে, আমাদেরও ঘাত-অপঘাতে মৃত্যু হতে পারে, তারপরও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে জনগনের নিরাপত্তায় কাজ করে যেতে হবে আমাদের। হয়তো এই ঝুঁকির মধ্যে আমাদের আর কোন সদস্যের জীবন চলে যেতে পারে। তবে কিবরিয়া অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তার পরিবারের সবার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আর যদি কেউ কিবরিয়ার আচরনে দুঃখ পেয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করে দিবেন এবং দেনা-পাওনা থাকলে আমাদের বলবেন।

    দ্বিতীয় জানাজা শেষে সার্জেন্ট কিবরিয়ার জন্মভূমি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা ১১টায় তৃতীয় জানাজা সুবিদখালী সরকারি রয় পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজা শেষে পূর্ব সুবিদখালীর সরদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হন মিকেল। যেখানে তার দাদা-দাদীর কবর রয়েছে। এরআগে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বাদ আসর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের শহীদ শিরু মিয়া মিলনায়তনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজা শেষে সড়কপথে সার্জেন্ট কিবরিয়ার মরদেহ নিয়ে সড়ক পথে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন স্বজন ও সহকর্মীরা। বুধবার ভোররাত ৪ টা ২০ মিনিটে কিবরিয়ার মরদেহ নিয়ে বরিশালে পৌছান তারা।

    এদিকে কিবরিয়ার মরদেহের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গড়িয়ার পারে আগে থেকে অপেক্ষমান ছিলেন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খিরা। তারা সেখান থেকে কিবরিয়ার লাশবাহি গাড়িকে সাথে নিয়ে বরিশাল পুলিশ লাইন্স এ আসেন। যেটা ছিলো তার শেষ কর্মস্থল। এদিকে সার্জেন্ট এস এম গোলাম কিবরিয়া মিকেল এর মৃত্যুতে শোকাহত স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্খিসহ পরিচিতজনরা। দায়িত্ব পালনকালে তার এ চলে যাওয়াকে কর্মনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখছেন সহকর্মী, সহপাঠীরা।

    এস এম গোলাম কিবরিয়া মিকেল এর জন্ম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে। ২ বোনসহ ৩ ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। বাবা ইউনুস আলী সরদার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক। পারিবারিক ভাবেই আওয়ামীলীগ ঘরোয়ানা কিবরিয়ার স্কুল জীবনের শুরুটা নিজ এলাকায় পাড় করলেও, মাধ্যমিকের শুরুটা হয় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।

    পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্টের চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে ছিলেন। ৩ বছর আগে ব্যাচমেট ট্রাফিক সার্জেন্ট মৌসুমী আক্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সাংসারিক জীবেন ওহি নামে ২ বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে।

    উল্লেখ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় সোমবার (১৫ জুলাই) গুরুত্বর আহত হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান।

  • এবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে মিন্নি

    এবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে মিন্নি

    নিউজ ডেস্ক :: বরগুনায় স্বামী রিফাত শরিফ হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে আদালতে তোলা হলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

    গতকাল (মঙ্গলবার) দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় বরগুনা জেলা পুলিশ। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

    তিনি জানান, সকাল সাড়ে নয়টার পর তার বাসা থেকে পুলিশ মিন্নিকে নিয়ে আসে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    আগামীকাল তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মিন্নিকে পুলিশি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে পুলিশ মিন্নির জড়িত থাকার সত্যতা পেয়েছে।

    এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল থেকে বলা হচ্ছিল, রিফাত হত্যায় অভিযুক্ত অন্য যেসব আসামি রিমান্ডে আছে তাদের মুখোমুখি করার জন্যই মিন্নিকে পুলিশ লাইন্সে আনা হয়। সেখানে দিনভর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

    এ মামলায় মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

  • কলাপাড়া থেকে ৫১৬ জেলেকে ভারতের কোস্টগার্ডের হাতে হস্তান্তর

    কলাপাড়া থেকে ৫১৬ জেলেকে ভারতের কোস্টগার্ডের হাতে হস্তান্তর

    ৯ দিন ধরে কলাপাড়ার পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের আশ্রয়ে থাকা ৩২ টি ট্রলারসহ ট্রলারের ৫১৬ ভারতীয় জেলেকে ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে হস্তান্তরের জন্য সোমবার ভোররাতে রওনা দিয়েছে কোষ্টগার্ডের দুটি জাহাজ। কলাপাড়া থেকে প্রায় তিনশ’ ৩৩ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় জলসীমায় ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবর রহমান।
    গত ৭ জুলাই সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ৩২টি ভারতীয় ট্রলার বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে কলাপাড়ার সাগর মোহনার রাবনাবাদ চ্যানেলে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ড তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়। আশ্রয় নেয়া জেলেদের বাড়ি ভারতের ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়। খবর পেয়ে ভারতীয় হাই কমিশনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল গত ৯ জুলাই পায়রা বন্দরে এসে ভারতীয় জেলেদের খোঁজ খবর নেন। ভারতীয় জেলেদের প্রতি মানবিক ব্যবহারে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা ও আতিথিয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবর রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কলাপাড়া কোষ্টগার্ডের দুটি জাহাজ ৫১৬ ভারতীয় জেলেসহ ৩২ টি মাছ ধরা ট্রলার রওনা করেছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাদেরকে ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

  • সার্জেন্ট কিবরিয়ার মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের শোক

    সার্জেন্ট কিবরিয়ার মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের শোক

    বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি

    শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একজন তরুণ ও দায়িত্বশীল সদস্যকে হারিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যান্ত দুঃখজনক ঘটনা

    মন্ত্রী মরহুম গোলাম কিবরিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেই সাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • চার বছর আগে পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন সার্জেন্ট কিবরিয়া

    চার বছর আগে পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন সার্জেন্ট কিবরিয়া

    কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সুবিধখালী এলাকায় চলছে শোকের মাতম। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সবাই শোকাহত। কিবরিয়ার এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।

    স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, ২০০৪ সালে সুবিধখালী রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন কিবরিয়া। তারপর সুবিধখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। ২০১৫ সালে পুলিশে চাকরি হয় কিবরিয়ার। বরিশালে পুলিশের সার্জেন্ট পদে যোগদান করেন তিনি।

    স্থানীয়রা আরও জানান, কিবরিয়ার বাবা ইউনুস আলী সরদার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের লেকচারার ছিলেন। তার মায়ের নাম সাহিদা বেগম। তারা দুজনে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে। তারা ছেলের লাশ আনতে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
    তিন বছর আগে কিবরিয়ার বিয়ে হয়ে মৌসুমির সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে তারা বরিশালে থাকতেন।

    কিবরিয়ার চাচা নিজাম উদ্দিন বলেন, কিবরিয়ার এমন মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা সবাই শোকাহত। মেধাবি ছাত্র ছিল সে। তার এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।

    প্রসঙ্গত, সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাভার্ডভ্যান চাপায় গুরুতর আহত হন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। তারপর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

  • বাবার কোল খুঁজছে সার্জেন্ট কিবরিয়ার ছোট্ট শিশু!

    বাবার কোল খুঁজছে সার্জেন্ট কিবরিয়ার ছোট্ট শিশু!

     সসহকর্মীদের কাছে তার পরিচিতি ছিল ‘কাজ পাগল মানুষ’। সেটাই তো হওয়ার কথা। সেই ছোট্ট বেলা থেকে ভালোবেসে যে পেশায় কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করে তাই হয়েছিলেন। ভালোই চলছিল, শত ব্যস্ততার পর যখন বাসায় ফিরে নিজের বছর দেড়েকের ছেলেকে কোলে তুলে নিতেন। সেই পাগলের মতোই তাকে আদর-ভালোবাসায় ভরে দিতেন। কিন্তু আজকের পর এসব শুধুই স্মৃতি।

    কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার ছেলেটি কেবল আধো আধো বোলে দু’একটা কথা বলতে শিখেছে। কিন্তু কোনো দিন আর বাবা বলে ডাকা হবে না তার। বাবার আদর ভালো ভাবে অনুভব করার আগেই পিতৃহারা হতে হলো তাকে।

    সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। ঠিক সেই সময় তাকে চাপা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান তিনি।

    তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, কিবরিয়া কর্মরত ছিলেন বরিশাল মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে। কর্তব্য পালনকালেও সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন তার ছোট্ট শিশুটির কাছে। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। বাড়ি পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ থানায়। তার বাবা স্থানীয় সুবিদখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন।

    কিবরিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সবসময় চাইতেন বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করতে। সেজন্য অন্যকোনো চাকরির পরীক্ষা না দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্টে হিসেবে যোগ দেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-২০০৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। বন্ধুমহলে পরিচিত ছিলেন মিকেল নামেই। লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্ট্রি এন্ড কালচার বিভাগে।

    স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৯ নম্বর রুমে থাকতেন তিনি। মিকেলের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বন্ধু-সহকর্মী-স্বজনরা। সবার মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মিকেলের স্ত্রী মৌসুমি মৌ, তিনিও পুলিশের সার্জেন্ট। বরিশাল মহানগরেই কর্মরত রয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তারা।

    মিকেলকে হারিয়ে স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা হাতড়ে ফিরছেন তার স্মৃতি। মিকেলের সহপাঠী বাংলাদেশ হাউসবিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কৌশিক আল মামুন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ভীষণ হাসিখুশি প্রাণ খোলা ছেলে ছিলো মিকেল। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতো। কখনো কারো সাথে দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখিনি তাকে। সে পুলিশ হিসেবেও ভালো ছিলো। কখনো কাউকে হয়রানি বা নির্যাতন করেনি। যখনই কথা হতো তখনই বরিশালে যেতে বলতো। খুব অতিথিপরায়ণ ছিলো।

    মিকেলকে স্মরণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সহকর্মী এসআই আল আমিন চ্যানেল আই অনলাইন-কে বলেন: কিবরিয়া ভাই আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে লেখাপড়া করেছি। এসএম হলেও পাশাপাশি রুমেই থাকতাম আমরা। ভাইয়ের চেয়ে দুই বছরের ছোট হলেও সবসময় ভাইয়ের সাথেই থাকতাম। খুব মনখোলা মানুষ ছিলেন তিনি।

    ‘‘বরিশাল গেলেই দেখা করা আড্ডা দেয়া হতো তার সাথে। মাস খানেক আগে একটা বিয়ের প্রোগামে ভাইয়ের সাথে আমার শেষ দেখা হয়। রিকশায় করে চলে যাবার সময় ভাই আমাকে বলেছিলেন ইনশাল্লাহ আবার দেখা হবে। কিন্তু আর কখনোই দেখা হবে না এটা মেনে নিতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে।’’সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জিরো পয়েন্টে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যানকে থামার সংকেত দেন তিনি।

    সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কাভার্ডভ্যান চালক। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া মোটরসাইকেলে করে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানের সামনে গিয়ে ফের থামার সংকেত দেন। কিন্তু চালক না থেমে সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

    এতে সার্জেন্ট কিবরিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে রাজধানীতে নিয়ে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

    সহকর্মীদের কাছে তার পরিচিতি ছিল ‘কাজ পাগল মানুষ’। সেটাই তো হওয়ার কথা। সেই ছোট্ট বেলা থেকে ভালোবেসে যে পেশায় কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করে তাই হয়েছিলেন। ভালোই চলছিল, শত ব্যস্ততার পর যখন বাসায় ফিরে নিজের বছর দেড়েকের ছেলেকে কোলে তুলে নিতেন। সেই পাগলের মতোই তাকে আদর-ভালোবাসায় ভরে দিতেন। কিন্তু আজকের পর এসব শুধুই স্মৃতি।

    কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার ছেলেটি কেবল আধো আধো বোলে দু’একটা কথা বলতে শিখেছে। কিন্তু কোনো দিন আর বাবা বলে ডাকা হবে না তার। বাবার আদর ভালো ভাবে অনুভব করার আগেই পিতৃহারা হতে হলো তাকে।

    সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। ঠিক সেই সময় তাকে চাপা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান তিনি।

    তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, কিবরিয়া কর্মরত ছিলেন বরিশাল মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে। কর্তব্য পালনকালেও সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন তার ছোট্ট শিশুটির কাছে। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। বাড়ি পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ থানায়। তার বাবা স্থানীয় সুবিদখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন।

    কিবরিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি সবসময় চাইতেন বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করতে। সেজন্য অন্যকোনো চাকরির পরীক্ষা না দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্টে হিসেবে যোগ দেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-২০০৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। বন্ধুমহলে পরিচিত ছিলেন মিকেল নামেই। লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্ট্রি এন্ড কালচার বিভাগে।

    স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৯ নম্বর রুমে থাকতেন তিনি। মিকেলের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বন্ধু-সহকর্মী-স্বজনরা। সবার মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মিকেলের স্ত্রী মৌসুমি মৌ, তিনিও পুলিশের সার্জেন্ট। বরিশাল মহানগরেই কর্মরত রয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তারা।

    মিকেলকে হারিয়ে স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা হাতড়ে ফিরছেন তার স্মৃতি। মিকেলের সহপাঠী বাংলাদেশ হাউসবিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কৌশিক আল মামুন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ভীষণ হাসিখুশি প্রাণ খোলা ছেলে ছিলো মিকেল। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতো। কখনো কারো সাথে দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখিনি তাকে। সে পুলিশ হিসেবেও ভালো ছিলো। কখনো কাউকে হয়রানি বা নির্যাতন করেনি। যখনই কথা হতো তখনই বরিশালে যেতে বলতো। খুব অতিথিপরায়ণ ছিলো।

    মিকেলকে স্মরণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সহকর্মী এসআই আল আমিন চ্যানেল আই অনলাইন-কে বলেন: কিবরিয়া ভাই আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে লেখাপড়া করেছি। এসএম হলেও পাশাপাশি রুমেই থাকতাম আমরা। ভাইয়ের চেয়ে দুই বছরের ছোট হলেও সবসময় ভাইয়ের সাথেই থাকতাম। খুব মনখোলা মানুষ ছিলেন তিনি।

    ‘‘বরিশাল গেলেই দেখা করা আড্ডা দেয়া হতো তার সাথে। মাস খানেক আগে একটা বিয়ের প্রোগামে ভাইয়ের সাথে আমার শেষ দেখা হয়। রিকশায় করে চলে যাবার সময় ভাই আমাকে বলেছিলেন ইনশাল্লাহ আবার দেখা হবে। কিন্তু আর কখনোই দেখা হবে না এটা মেনে নিতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে।’’

    সোমবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জিরো পয়েন্টে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যানকে থামার সংকেত দেন তিনি।

    সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কাভার্ডভ্যান চালক। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া মোটরসাইকেলে করে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানের সামনে গিয়ে ফের থামার সংকেত দেন। কিন্তু চালক না থেমে সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

    এতে সার্জেন্ট কিবরিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে রাজধানীতে নিয়ে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

  • গ্রেফতার নয়, তদন্তের জন্যই মিন্নিকে আনা হয়েছে : এসপি মারুফ হোসেন

    গ্রেফতার নয়, তদন্তের জন্যই মিন্নিকে আনা হয়েছে : এসপি মারুফ হোসেন

    বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি থেকে পুলিশে লাইনসে আনা হয়েছে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে কথা বলছেন।

    বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মামলার তদন্তের জন্যই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলা দরকার। সে জন্য তাকে পুলিশ লাইনসে আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। মিন্নির সঙ্গে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরকেও পুলিশে লাইনসে আনা হয়েছে।

    পুলিশ সুপার জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তারা ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছেন। মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি ৩ জন এখনো রিমান্ডে রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জন আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলো- রিশান ফরাজী, মাসা (বন্ড), রায়হান, মুহায়মিনুল ইসলাম সিফাত ও মো. রিফাত।

    তাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য বরগুনাসহ সর্বত্র অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

    আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির চাচা আবু সালেহ জানান, মিন্নির বাবার বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১০ সদস্যের পুলিশ টিম এখনো অবস্থান করছে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে আনার জন্য নারী পুলিশের একটি দল মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের বাড়িতে যায়।

    তিনি বলেন, পুলিশ মিন্নির পরিবারকে জানিয়েছিল- রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের শনাক্ত ও মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে পুলিশে লাইনসে যেতে হবে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের প্রধান গেটের সামনে ঘাতকেরা স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে।

    গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • বরিশালে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

    বরিশালে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

    বরিশালে ভূয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

    আজ মঙ্গলবার বরিশাল মেট্রোপলিটন দ্বিতীয় আমলী আদালতের বিচারক আনিচুর রহমান তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি জিআরও এসআই খোকন চন্দ্র নিশ্চিত করেছেন।

    আসামীরা হলেন, পুলিশ সদস্য বেল্লাল হোসেন, আনিচুর রহমান মৃধা ও মোঃ ইলিয়াস এবং তাদের সহযোগী সুজন চন্দ্র শীল, শিরিনা সুলতানা ও সুবর্ণা আক্তার।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামীরা দীর্ঘদিন যাবত নিজেদের ভূয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে চাঁদাবাজি করতো।

    সোমবার প্রতারণার সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই দেলোয়ার তাদের গ্রেফতার করে।