Category: প্রশাসন

  • গুজব-গণপিটুনি: উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে

    গুজব-গণপিটুনি: উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে

    অনলাইন ডেস্ক :

    ‘ছেলেধরা’ কিংবা ‘কল্লাকাটা’ এগুলো স্রেফ গুজব। আর এ গুজবে কান দিয়ে গণপিটুনি দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। আইন কারও হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানান। যারা এ ধরনের গুজব বা গণপিটুনিতে উস্কানি দেবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বুধবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশাল পুলিশ লাইন্সের ইন সার্ভিস সেন্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সস্মেলনে এ কথা বলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম। এসময় তিনি গুজব ও গণপিটুনি রোধে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সহযোগিতা চান।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্নস্থানে ছেলেধরা অভিযোগে গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারা হচ্ছে। যা কোনোভাবে কাম্য নয়। যেকোনো মূল্যে ছেলেধরা গুজব এবং গণপিটুনি রোধে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার আলোকে বিভিন্নস্থানে মাইকিং করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

  • বাড্ডার রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার

    বাড্ডার রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক :

    রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যা মামলাার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সারাবাংলা জানান, রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয়কে গুলিস্তান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, হৃদয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য শাহবাগ থানায় রেখে তার বাবা-মাকে সেখানে ডাকা হয়েছে। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেই হৃদয়কে বাড্ডা থানায় নেওয়া হবে।

    এর আগে, রোববার (২১ জুলাই) তিনজন ও সোমবার (২২ জুলাই) সকালে একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। চারজনকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হলে তাদের মধ্যে জাফর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    ২০ জুলাই শনিবার সকালে রেনু নামের এক নারী তার সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য উত্তর বাড্ডার ওই বিদ্যালয়ে যান। এরপরই তাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • গুজব প্রতিরোধে মাঠে নামছে ৬১ লাখ আনসার

    গুজব প্রতিরোধে মাঠে নামছে ৬১ লাখ আনসার

    অনলাইন ডেস্ক :

    হাওয়ায় ভাসছে, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে। এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। কুসংস্কার থেকেই মিথ্যা প্রচার সত্য বলে ধরে নিচ্ছে কেউ কেউ।

    এর ঢেউ ছড়িয়েছে পাড়া-মহল্লায়। এনিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে দেশজুড়ে গণপিটুনিতে হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

    গুজব ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার। দেশজুড়ে এই গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে আনসার ও ভিডিপি।

    এ জন্য মাঠ পর্যায়ে থাকা এ বাহিনীর ৬১ লাখ সদস্য জনগণকে সচেতন করছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ।

    ঢাকার খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এ বাহিনীর অনান্য কর্মকতারা। তারা বক্তব্যে জানান, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী। তৃণমূল পর্যায়ে এ বাহিনীর বিস্তৃত। স্বাধীনতা যুদ্ধেও এ বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা।

    মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা প্রতিরোধ করতে প্রতিটি গ্রামে আনসার সদস্যরা কাজ করছে। সমাজে এ ধরনের কুসংস্কার থাকলে গুজব ছড়াবেই। তাই কোনভাবেই এই গুজবে কান না দেওয়া যাবে না।

    এটা প্রতিরোধ করতে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার লিডারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই বার্তা পেয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবে কান না দিতে জনসাধারণকে সচেতন করবেন ৬১ লাখ আনসার সদস্য।

    আনসার ভিডিপিকে সামনে এগিয়ে নিতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে সারাদেশে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাড়ে ১২ হাজার আনসার কমাণ্ডারকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

    এছাড়া আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের বেতন, ভাতা নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেওয়া হচ্ছে। আগে বাহিনীতে থ্রি নট থ্রি রাইফেল ব্যবহার করা হতো, যেটা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যথেষ্ট ছিল না। এখন নতুন ৩০ হাজার আধুনিক অস্ত্র এই বাহিনীর জন্য আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো ২০ হাজার অস্ত্র আনা হবে।

    বাহিনীর দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন আনসার সদস্য দূর্ণীতি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, এ বাহিনীর তিনটি মূল অংশ রয়েছে। তা হলো, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল। এই তিন বাহিনী তিনটি পৃথক আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

    সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদ মর্জাদার মহাপরিচালকের নেতৃত্বে অপর দুজন সেনা কর্মকর্তাসহ বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক পরিচালিত আনসার ও ভিডিপির পৃথক পৃথক কার্যকারিতা রয়েছে।

    বর্তমানে পার্বত্র চট্টগ্রাম এলাকায় ১৬টি আনসার ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদবীর প্রায় ৭ হাজার সদস্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের পাশাপাশি জননিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে।

    পুলিশের মত মামলা তদন্তে এই বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মত বিনিময় সভায় বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ছয়টি সংস্থার মূল একটি হলো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।\

    শুধুমাত্র নির্বাচনী আইনেই নয়, বরং স্থানীয় সরকারের তিনটি আইনের ধারা-২ এ আনসার বাহিনী ও ব্যাটালিয়ন আনসারকে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি একই সংজ্ঞায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সংগত কারণেই ব্যাটালিয়ন আনসার ফোর্স নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের সঙ্গে তাদের চাহিদা অনুযায়ী এককভাবে জননিরাপত্তার কাজে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে মোবাইল কোর্টে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে।

    তাই মামলা তদন্তে আনসার বাহিনী সক্ষম। এ বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেটা এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। জাতিসংঘ মিশনেও আনসার সদস্যরা কাজ করছে।

    আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মতবিনিয় সভা চলে। এ সময় সভা সূত্র আরো জানিয়েছে, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ২৬টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার কাজ, বাঁধ ও সড়ক মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতেও এ বাহিনীর সদস্যরা একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

    নির্বাচনী ব্যবস্থার দায়িত্ব পালন এ বাহিনীর একটি নিয়মিত কাজ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালীন সময় দুস্কৃতিদের হামলায় এই বাহিনীর ১১ জন সদস্য মৃত্যু বরণ করেন।

    ক্রীড়াক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভৃমিকা রয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ বাহিনী ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে।

    বেলা ২টা পর্যন্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাশেষে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন কৃতি আনসার ক্রিয়াবিদকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ।

  • আজও মিন্নিকে জামিন দেননি আদালত

    আজও মিন্নিকে জামিন দেননি আদালত

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনা সদরে চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    মঙ্গলবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক কামরুল হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের।

    এর আগে মিন্নির দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার এবং হাসপাতালে তার উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে তাকে আদালতে তলবের আবেদন করেন তার আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। এ সময় আইনজীবী মিন্নি অসুস্থ বলেও দাবি করে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার আবেদন করেন। দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    এর আগের দিন রোববার মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করেন।

  • মিন্নির জামিন শুনানি ৩০ জুলাই

    মিন্নির জামিন শুনানি ৩০ জুলাই

    নিউজ ডেস্ক :

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন চেয়ে ফের আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী ৩০ জুলাই জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান শুনানির দিন ধার্য করেন।

    এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিস কেস হিসেবে মিন্নির জামিন শুনানির আবেদন করি। পরে আদালত শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের নথি তলব করে আগামী ৩০ জুলাই মিন্নির জামিন শুনানির দিন নির্ধারণ করেন
    এর আগে গত সোমবার আদালতে দেয়া মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার ও তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির আবেদন নামঞ্জুর করেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    এদিকে রিফাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া কামরুল আহসান সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মঙ্গলবার সকালে আবেদনের পর দুপুরে সাইমুনের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। পরে শুনানি শেষে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইয়াসিন আরাফাত সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাইমুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের।

    গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনেই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্বামী রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন
    গত ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    এরপর বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    পরদিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

    এরপর শুক্রবার বিকেলে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের সবাই রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • বিসিসির অভিযানে অবৈধ পানি সেচের অপরাধে ১৯ মটর জব্দ

    বিসিসির অভিযানে অবৈধ পানি সেচের অপরাধে ১৯ মটর জব্দ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে অবৈধ সেচের জন্য ব্যবহৃত মটর চালানোর অপরাধে ১৯টি মটর জব্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডস্হ কাউনিয়া হাউসিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মটর জব্দ করা হয়।

    জানা গেছে, বিসিসি পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহি প্রকৌশলী হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনে এসে বিসিসির পানি সররবরাহের সংযোগের সাথে অবৈধ মটর বসিয়ে পানি উত্তোলনের করা হচ্ছে। এ সময় ১৯ টি মটর জব্দ করা হয়। এবং পরবর্তিতে এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করে জরিমানা করা বলে জানান বিসিসি কর্মকর্তারা।

    বিসিসি পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহি প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির বলেন, মেয়র মহোদয় বেশ কিছু দিনে আগে অবৈধ মটরের ব্যপারে ‍হুঁসিয়ারি দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে মটর জব্দ করা হবে। পরবর্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশাল র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ বনদস্যু নিহত

    বরিশাল র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ বনদস্যু নিহত

    সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু খালেক বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়ার খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- বনদস্যু খালেক বাহিনীর প্রধান খালেক (৪৮) ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বেল্লাল (২৯)।

    র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সজীবুল ইসলাম বলেন, সাগরে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞা ২৩ জুলাই প্রত্যাহার হচ্ছে। তাই ইলিশ মৌসুমে সাগরের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সুন্দরবন ও সাগরে টহল জোরদার করে। নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোররাতে র‌্যাবের একটি দল সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়ার খাল এলাকায় যায়। এ সময় বনদস্যুরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে গুলিবর্ষণ শুরু করে। র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

    রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে বনদস্যুরা বনের গহীনে চলে গেলে র‌্যাব সদস্যরা জোংড়ার খাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুইজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ ও বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। দিনের আলো ফুটলে নদীতে থাকা জেলেরা সেখানে এসে এই দুইজনকে খালেক বাহিনীর সদস্য বলে শনাক্ত করেন। নিহতদের মরদেহ খুলনার দাকোপ থানায় পাঠানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে খালেক নামে এক ব্যক্তি ৫/৬ জন সহযোগীকে নিয়ে নিজ নামে বাহিনী গড়ে তোলেন। সাগর ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি অপরহরণের পর মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এই খালেক বাহিনী। সর্বশেষ এই খালেক বাহিনী ইলিশ মৌসুমে সাগরে মাছ ধরতে আসা জেলেদের ট্রলারে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির প্রস্তুতি নিতে সুন্দরবনের জোংড়া খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে র‌্যাবের গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল।

  • নয়ন-মিন্নির সংসারের ২০ আলামত জব্দ

    নয়ন-মিন্নির সংসারের ২০ আলামত জব্দ

    অনলাইন ডেস্ক :

    নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি এখনও রহস্যাবৃত। মিন্নি বারবারই বলছেন, নয়নের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। নয়নের বাড়িতে থাকা বা সেখানে তার যাওয়া-আসার তথ্য সঠিক নয়।

    কিন্তু নয়নের মা দাবি করছেন, মিন্নি তার ছেলের বউ হিসেবেই বাড়িতে অবাধে যাতায়াত করত। রীতিমতো তার বাড়িতে মিন্নি ছোটখাটো সংসারও গড়ে তুলেছিল। মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের সম্পর্কের নানা স্মৃতিও প্রতিবেদককে দেখান নয়নের মা।

    বরগুনা সরকারি কলেজ ঘেঁষে নয়ন বন্ডের বাড়ি। টিনের চালা দেয়া তিনটি ঘর। সোমবার সেখানে গেলে দেখা যায়, বাড়ির কাঠের দরজা বন্ধ। দরজা ঠেলতেই সেটি খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, নয়নের মা সাহিদা বেগম একা এক ঘরে বসে আছেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    বলেন, এই মিন্নির জন্য আমার ছেলেটা শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, আসেন এই ঘরে আসেন। এখানে নয়ন থাকত। পুলিশ এখান থেকে মিন্নির ব্যবহৃত অনেক কিছুই নিয়ে গেছে। তার পরও কিছু কিছু জিনিস এখনও পড়ে আছে। দেখা গেল, নয়নের ঘরে ঢোকার দরজার ওপর বড় করে লেখা ‘বাসর ঘর’।

    দেয়ালের কয়েকটি জায়গায় ইংরেজি হরফে লেখা ‘এন প্লাস এম’। অর্থাৎ নয়ন যোগ মিন্নি। আরেক জায়গায় লেখা ‘আই লাভ ইউ এন প্লাস এম।’ দেয়ালের আরও কয়েকটি লেখা কে বা কারা কালো কালির স্প্রে দিয়ে মুছে দিয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র প্রায় সবই ভাঙা। নয়নের মা বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না।

    নয়নকে ধরার জন্য পুলিশ বাড়িতে এসে কিছুই রাখেনি। সব ভেঙে দিয়েছে। ভাঙা ড্রেসিং টেবিল দেখিয়ে তিনি বলেন, এটার কাচ পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। এই ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মিন্নি অনেক সাজগোজ করেছে। ভাঙা ড্রয়ার খুলে তিনি বের করেন একটি ফেস পাউডারের খালি কৌটা। নয়নের মা বলেন, কৌটাটা পড়ে আছে।

    পাউডারসহ ওপরের অংশ নিয়ে গেছে পুলিশ। ঘরের এক কোণে একটা প্লাস্টিকের ফুলসহ ফুলদানি রাখা। র‌্যাপিং পেপার দিয়ে মোড়ানো। সেটা দেখিয়ে তিনি বলেন, নয়নের জন্মদিনে এটা মিন্নি দিয়েছিল। ওই জন্মদিনের ভিডিও নাকি মোবাইলে ছাড়া হয়েছে। ইউটিউব না কিসে যেন এখনও আছে। সবাই দেখেছে।

    এ-ঘর, ও-ঘর ঘুরিয়ে একটা ভাঙা কম্পিউটার টেবিলের সামনে নিয়ে তিনি দেখান কয়েকটি মোবাইল ফোনের ভাঙা টুকরো। যেগুলোর খাপটাই শুধু আছে। মাদারবোর্ড ও সিমকার্ড নিয়ে গেছে পুলিশ। নয়নের মা বলেন, পুলিশ যে মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে গেছে তাতে নয়নের সঙ্গে মিন্নির অনেক ছবি ছিল।

    এরপর নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোনের গ্যালারি খুলে কয়েকটি ছবি দেখিয়ে বলেন, মিন্নি প্রায় প্রতিদিনই এ বাড়িতে চলে আসত। কলেজের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা একটা সরু গলি দেখিয়ে তিনি বলেন, ওই গলি দিয়ে সে হেঁটে চলে আসত। গলিতে দাঁড়ানো মিন্নির হাস্যোজ্জ্বল ছবিও দেখান তিনি।

    আরেকটা ছবিতে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ভিডিও চ্যাটের স্ক্রিন শট দেখিয়ে নয়নের মা বলেন, তারা তো সব সময় ভিডিওতে কথা বলত। এই দেখেন ছবি। এতে দেখা যায়, নয়নের চ্যাটিং মেসেঞ্জার প্রোফাইলে মিন্নির ছবি দিয়ে লেখা ‘বউ’। আর মিন্নির চ্যাটিং প্রোফাইলে লেখা এএস মিন্নি অর্থাৎ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

    এসব দেখিয়ে নয়নের মা বলেন, পুলিশ প্রায় সবকিছুই নিয়ে গেছে। আমার কাছে এগুলোই অবশিষ্ট আছে। তিনি বলেন, এগুলো আমার কাছে থাকার কথাও নয়। একদিন নয়নের মোবাইলের স্ক্রিন টাচ (পরদা) নষ্ট হয়ে গেলে কিছুদিন আমার ফোনটা ব্যবহার করে। পরে আমাকে যখন মোবাইল ফিরিয়ে দেয় তখন এই ছবিগুলো ছিল।

    বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, নয়নের ঘরে সাদা দেয়ালে লাল রং দিয়ে এক জায়গায় লেখা ০০৭ (নয়নের সন্ত্রাসী গ্রুপের সাংকেতিক নাম)। সাহিদা বেগম বলেন, নয়ন কেন তার নামের সঙ্গে বন্ড বা ০০৭ সেভেন লিখত তা আমি জানি না। সে বেঁচে থাকলে জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু তাকে তো মেরেই ফেলল। নয়নের মা আরও বলেন, নয়নকে মেরে ফেলল।

    কিন্তু যারা তাকে বন্ড বানাল তাদের কি কিছুই হবে না। যারা তাকে নয়ন থেকে নয়ন বন্ড বানিয়েছে তাদেরও ধরা হোক। যাতে আর কোনো নয়ন বিপথগামী সন্ত্রাসী বা বন্ড না হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ‘০০৭ লাইসেন্স’ একটি বিখ্যাত হলিউড সিনেমা সিরিজ। সিনেমার মৌলিক গল্প অনুযায়ী ০০৭ হচ্ছে মানুষ হত্যার লাইসেন্স। এতে যিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন তার নাম জেমস বন্ড।

    স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এই ছবি দেখে নয়ন বিশেষভাবে প্রভাবিত হন। এরপর নিজেকে ‘০০৭ লাইসেন্স’ সিনেমার নায়ক ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের নামের সঙ্গে নিজেই যুক্ত করে দেন ‘বন্ড’ শব্দটি এবং একই সঙ্গে গড়ে তোলেন ০০৭ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নয়নের বাড়ি থেকে অন্তত ২০ ধরনের আলামত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি, মিন্নির ব্যবহৃত লিপস্টিক, চিরুনি, চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল, কামিজ, চুলের ক্লিপ, ফেসপাউডার, চোখের ভ্রূতে ব্যবহৃত আই ব্রো, সিমকার্ড এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে প্রমাণ করতেই এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। নয়নের বাড়ির চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল ও তার ব্যবহৃত কয়েকটি জিনিস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে।

    ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মিন্নি যেহেতু বারবারই নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন তাই কিছু অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করা গেলে রিফাত হত্যার জট অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    অকাট্য প্রমাণ হাতে এলে তখন প্রমাণ করা সহজ হবে ঘটনার পর নিজেকে আড়াল করতেই কিভাবে মিন্নি একের পর এক মিথ্যা কথা বলে গেছেন। এমন মন্তব্য তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার।

    নয়নের বাড়ি থেকে আলামত সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির সোমবার বলেন, আমরা বেশকিছু আলামত নয়নের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেছি।

    এগুলোর মধ্যে একটি কামিজ, মিন্নির লেমিনেটিং করা একটি ছবি, চুল পেঁচানো চিরুনি ও এম প্লাস এন খোদাই করা সামুদ্রিক ঝিনুক রয়েছে। এই ঝিনুকটি মিন্নি ও নয়ন কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে সংগ্রহ করেছিলেন। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে নয়নের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে চান না মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর। সোমবার শহরের স্টার টেইলার্স নামের একটি দোকানে বসে মোজাম্মেল কিশোর বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে গোপনে দেয়া হয়নি।

    বিয়েতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় হাজার লোককে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনীতিক থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিয়েতে এসেছিলেন। মিন্নির বাবা বলেন, এতগুলো মানুষ দাওয়াত খেতে এলো কই কেউই তো বলেনি নয়নের সঙ্গে তোমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এখন আবার কেন বিয়ে দিচ্ছ।

    রিফাতের বাবাও তো বলেননি আমার মেয়ের আগেই বিয়ে হয়েছে। তাছাড়া আমি তো রিফাতের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাইনি। রিফাতের পরিবারই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। কারণ রিফাত ও মিন্নি একে অপরকে পছন্দ করত। আমি প্রথমদিকে এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না।

    মিন্নির বাবা আরও বলেন, আসলে মিন্নিকে জেলে ঢোকানোর জন্য সুনাম দেবনাথ (স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে) সর্বপ্রথম মিন্নির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছে বলে তিনি ফেসবুকে লেখেন। মিন্নিকে তিনি বিতর্কিত করতে চান। এর কারণ হল, মামলার এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি। সে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী।

    সে যদি বাইরে থাকে তবে রিফাত হত্যার আসামিদের সবার বিরুদ্ধে সে সাক্ষী দেবে। তাহলে বিচারে তাদের শাস্তি নিশ্চিত। তাই যাতে মিন্নি সাক্ষী না দিতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিন্নিকে গ্রেফতার করে সরিয়ে দিলেই মামলা শেষ।

    কারণ বিচার হয় সাক্ষীর ভিত্তিতে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন, যারা রিফাতকে খুন করেছে তারা তো সবাই সুনাম দেবনাথের লোকজন। নয়ন বন্ড শম্ভুর লোক, এটা তো শহরের সবাই জানে।

    এদিকে নয়ন ও মিন্নির বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিনের একটি কপি এক সাংবাদিকের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করেন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৪৫/২০১৮)।

    কাজীর দফতরে রক্ষিত বালাম বইয়ের ৯৬ নম্বর পৃষ্ঠায় পাত্র-পাত্রী ও সাক্ষীদের নামের ঘরে ছেলে পক্ষের ২ জন্য এবং মেয়ে পক্ষের ২ জন করে মোট চারজন সাক্ষীর নাম আছে। নয়নের পক্ষের দু’জন সাক্ষীর একজন হলেন রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী।

    আর মেয়ের পক্ষের সাক্ষীরা হলেন জান্নাতুল ফেরদৌস, পিতা জাহাঙ্গীর আলম। ঠিকানা আয়লা গুচ্ছগ্রাম। আরেকজন হলেন সাইফুল ইসলাম মুন্না, পিতা সহিদুল ইসলাম। ঠিকানা পশ্চিম কলেজ রোড।

    কাজী আনিসুর রহমান বলেন, নয়ন বন্ড কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবসহ তার কাজী অফিসে আসেন। তারা বিয়ের কথা বললে দু’পক্ষের অভিভাবক কোথায় জানতে চান। এ সময় নয়ন বলেন, তার বাবা বেঁচে নেই। মা ফোনে কথা বলবেন।

    এরপর তার মাকে ফোন করে নয়ন বন্ড কাজীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অপরদিকে মিন্নি বলেন, তার বাবা-মা আসতে পারছেন না। তার পক্ষে দু’জন সাক্ষী এনেছেন। এরপর কাজী বিয়ে পড়ান।

    এই বিয়ে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নয়নের মা সাহিদা বেগম বলেন, ‘মিন্নি ও নয়ন কাজী অফিসে যাওয়ার পর কাজী মিন্নির চাচাকে ফোন করে বলেন, আপনার ভাতিজি এখানে বিয়ে করতে এসেছে। এরপর নানা জটিলতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওইদিন আর কাজী অফিসে বিয়ে হয়নি।

    পরের দিন ১৫ অক্টোবর (২০১৮) এই বাড়িতেই (নয়ন বন্ডের বাড়ি) কাজী বিয়ে পড়ান। রিফাত শরীফের সঙ্গে যখন মিন্নির বিয়ে হয়, তখন নয়ন বন্ড জেলে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নয়ন জেল থেকে বের হওয়ার পর মিন্নি আবার বাসায় আসতে শুরু করলে আমি নয়নকে বলি, এই তুই আরেকজনের বউকে নিয়ে ঘরে আস, তোর লজ্জা নাই? এর জবাবে নয়ন বলে, মা তুমি চুপ করো।’

    পরবর্তীকালে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির আনুষ্ঠানিক বিয়ে পড়ান বরগুনা সদরের কাজী এইচএম রহিম। কিন্তু এ বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ন বন্ডের মা বলেন, ওই বিয়ের বিষয়টি তারা জানতেন না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে যখন কাজী অফিসে গিয়ে মিন্নিকে বিয়ে করে তখন কাজী আমার সঙ্গে কথা বলেছিল।

    এদিকে বিয়ের সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। সূত্র বলছে, প্রভাবশালীদের চাপে সাক্ষীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। এই বিয়ের কাবিন প্রসঙ্গে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, এটা একটা সাজানো কাবিননামা। রিফাত খুনের পর তৈরি করা হয়েছে। এর কোনো ভিত্তি নেই।

    প্রভাবশালীরা চাইলে কিনা করতে পারে। শম্ভু বাবুর বিরুদ্ধে কথা বলে পরিবারসহ আমি নিজেও জীবন নিয়ে সংশয়ের মধ্যে আছি। যে কোনোদিন আমিও নিহত হতে পারি। আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলো স্কুলে পর্যন্ত যেতে পারছে না।

  • বরিশালে পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

    বরিশালে পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

    বরিশালে পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৩ই) জুলাই বেলা ১২ টায় দেশ ব্যাপির সাথে চতুর্থ বারের মত নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) রাম চন্দ্র দাস।

    বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম (বিপিএম বার), বরিশাল মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, বরিশাল প্রেস ক্লাব সাবেক সভাপতি এ্যাড. এস এম. ইকবাল ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হোসেন চৌধুরী।

    এখানে আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার দাস সহ পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি,মৎস্য, শিক্ষা, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনামূলক দেয়া বক্তব্য তুলে ধরা সহ জনগনকে সরকারী কর্মকর্তারা কিভাবে সেবা প্রদান করবেন বিষয়ের কথাগুলো উপাস্থপন করা হয়।

  • রিফাত হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রিশান ফরাজীর

    রিফাত হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রিশান ফরাজীর

    নিউজ ডেস্ক :

    রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজী হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ সোমবার (২২ জুলাই) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, এপর্যন্ত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন
    গত ১৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে রিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেই রিশান ফরাজীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে রিশান ফরাজীকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১২জন আসামির মধ্যে এখনও চার আসামি গ্রেফতার হয়নি। তারা হচ্ছেন, মামলার ৫ নম্বর আসামি মুসা, ৭ নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামি রায়হান ও ১০ নম্বর আসামি রিফাত হাওলাদার। আগামী ৩১ জুলাই মামলার চার্জ গঠনের তারিখ ধার্য রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে কোপায় দুর্বৃত্তরা। বরিশাল নেওয়ার পথে ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে রিফাত শরীফ মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।