Category: প্রশাসন

  • রোগীর অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল, ভুয়া যৌন ডাক্তার গ্রেফতার

    রোগীর অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল, ভুয়া যৌন ডাক্তার গ্রেফতার

    নিজেকে ডাক্তার বলে মিথ্যা পরিচয়ে যৌন রোগের চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে রোগীর অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল করা একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইম বিভাগ। শুক্রবার রাতে যাত্রাবাড়ীর মিরাজেরবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ডিএমপি।

    গ্রেফতারকৃত প্রতারকের নাম আশরাফ হোসাইন ওরফে আদনান রিয়াদ (২২)।

    ডিএমপি জানায়, গ্রেফতারের সময় রিয়াদের কাছ থেকে একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

    ডিএমপি জানায়, প্রতারক আশরাফ নিজেকে যৌন রোগের চিকিৎসক বলে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিরাজেরবাগ এলাকায় প্রতারণা করত। সে যৌন রোগের চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন মহিলাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অশ্লীল ছবি ধারণপূর্বক ফেসবুক আইডি ‘আদনান রহমান’ এ সেভ করে রাখত। পরবর্তীতে ভিকটিমের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করার জন্য তাদেরকে চাপ সৃষ্টি করত। ভিকটিমরা তার কথায় রাজি না হলে ভিকটিমদের নামে ফেক ফেসবুক আইডি খুলে অশ্লীল ছবি পাবলিকভাবে প্রকাশ করে এবং অশ্লীল ছবি দিয়ে ভিডিও তৈরি করে আত্মীয়-স্বজনের কাছে প্রেরণ করবে বলে ভয়ভীতি প্রদান করত।

    এ ঘটনায় ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের নজরে আসলে প্রতারক আশরাফকে ধরতে তৎপরতা চালায় ডিজিটাল ফরেনসিক টিম। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

  • বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ফরমায়েশি রায় উল্লেখ করে প্রতিবাদে বরিশালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

    শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সদররোড সংলগ্ন টাউন হল চত্বরে মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

    উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসলিমা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মহিলা দল নেতা তাসলিমা কালাম পলি, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাতেমা রহমান, পাপিয়া আজাদ, ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু, মির্জা খাদিজা, হাজেরা বেগম ও শায়লা শারমিন প্রমুখ।

    উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসলিমা বেগম বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। মানববন্ধনে কোনো মাইক কিংবা হ্যান্ড মাইকও ব্যবহার করতে দেয়নি পুলিশ। এরপর মিছিল করতে চাইলে তাতেও বাধা দেয় পুলিশ।

  • ইয়াবা তালিকায় আবার সাংসদ বদির নাম

    ইয়াবা তালিকায় আবার সাংসদ বদির নাম

    ইয়াবার হালনাগাদ তালিকায় কক্সবাজারের ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারির (গডফাদার) নাম উঠেছে। তালিকার শীর্ষে আছেন কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ ও উখিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংসদ আবদুর রহমান বদি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের একাধিক তালিকার মতো এবারও সাংসদ বদির পাঁচ ভাই আবদুল শুক্কুর, আবদুল আমিন, মৌলভি মুজিবুর রহমান, মো. সফিক, মো. ফয়সাল, ভাগনে সাহেদুর রহমান নিপু (ওসি আবদুর রহমানের ছেলে), বেয়াই শাহেদ কামাল, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলসহ ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ শনিবার কক্সবাজার আসছেন। মহেশখালী ও সৈকতের একটি হোটেলে আলাদা দুটি মাদকবিরোধী সমাবেশে মাদক চোরাচালান ও ইয়াবা গডফাদারদের ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিতে পারেন তিনি। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক মাস আগে টেকনাফে র‌্যাবের পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করলেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়ার ভাষ্য, তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদারের কেউ এলাকায় নেই। দেশের বাইরে অবস্থান করে ইয়াবা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    ইয়াবার নতুন তালিকা প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমদ গতকাল শুক্রবার বলেন, মাদকের তালিকা হালনাগাদ হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় কক্সবাজার জেলার ৭৩ জনের নাম এসেছে। তাঁদের ধরতে টেকনাফ-কক্সবাজারে অভিযান চলছে।

    সব তালিকায় বদি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একাধিক বাহিনীর তালিকায় সাংসদ বদিসহ তাঁর পরিবারের অন্তত ২৬ জনের নাম আছে। এ প্রসঙ্গে সাংসদ বদি বলেন, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে তিনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি বরাবরের মতো বলেন, তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

    তালিকার ৬ নম্বরে আছে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদের নাম। তিনি সাংসদ বদির ঘনিষ্ঠ। ৭, ৮ ও ৯ নম্বরে আছে জাফর আহমদের চার ছেলে মোস্তাক মিয়া, দিদার মিয়া, মো. শাহজাহান (টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারমান) ও মো. ইলিয়াছের নাম। জাফর আহমদ বলেন, সব তালিকায় তিনিসহ তাঁর ছেলেদের নাম আছে। কিন্তু কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

    তালিকার ২ নম্বরে আছেন হাজি সাইফুল করিম। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ। পরিবারের দাবি, তিনি দেশের বাইরে। সাইফুল ইয়াবা ব্যবসায়ী নন।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা এবং ইয়াবার শীর্ষ গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ জনের নতুন তালিকাটি তৈরি করে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, ৭৩ গডফাদারসহ কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিদের ধরতে ঘরে ঘরে অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী।

    গত ৩ এপ্রিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৈরি সর্বশেষ ইয়াবা তালিকায় স্থান পেয়েছে কক্সবাজারের ১ হাজার ২৫০ জনের নাম। এর মধ্যে গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত ১০৪ জন। তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে ৯১২ জনের বাড়ি টেকনাফে। তাঁদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের সদস্যও আছেন।

  • ইলিশ নিয়ে পুলিশের এএসআইয়ের কাণ্ড!

    ইলিশ নিয়ে পুলিশের এএসআইয়ের কাণ্ড!

    মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে জেলেদের ভয় দেখিয়ে ইলিশ মাছ ও টাকা আদায়ের অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সামুর বাড়ি এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যাক্তিরা হলেন: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা, তাঁর দুই সহযোগী মো. মোহন (২৪) ও লিটন শেখ (২২)। সোহেলের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীতে।  তিনি মুন্সিগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। ৪ মাস আগে দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ মাসের শুরুতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দেওয়ার জন্য মুন্সিগঞ্জ থেকে ছাড়পত্র নেন তিনি। অপর দুজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার এলাকায়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইউনুস আলী বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার একটি চরে জেলেরা মাছ বিক্রি করছিল। সেখানে গিয়ে সোহেল নিজেকে লৌহজং থানার পুলিশ কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। মা ইলিশ ধরার অপরাধে তিনি জেলেদের গ্রেপ্তার করার কথা বলেন। একপর্যায়ে জেলেদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও ১২৫টি মা ইলিশ নিয়ে সবাইকে ছেড়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে, সোহেল এর আগেও এখানে এসে জেলেদের কাছ থেকে মাছ ও টাকা নিয়েছেন। পরে জেলেরা লৌহজং থানায় খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সোহেল মুন্সিগঞ্জ জেলায় কর্মরত নন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার মাছ ও টাকা নেওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালেও সোহেল সহযোগীদের নিয়ে সামুর বাড়ি এলাকায় যান। সেখানে আবারও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে জেলেদের কাছে টাকা চান। এ সময় জেলেরা দুই সহযোগীসহ সোহেলকে আটক করে থানায় খবর দেন।

    লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান বলেন, সোহেল রানা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বলপূর্বক অর্থ আদায়ের মামলা হয়েছে। এএসআই সোহেলের পরিচয় নিশ্চিত করে রাজিব খান বলেন, মামলা হওয়ার পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো.জায়েদুল আলম ফুয়াদ বলেন, প্রকৃত সত্য জানার জন্য থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দশ দেওয়া হয়েছে। যদি সোহেল দোষী না হন, মামলার বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা হয়েছে।

  • কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    কেরালায় বিক্ষোভের মুখে মন্দিরে ঢুকতে পারেননি দুই নারী

    পাহাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ বেয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। সোনার তৈরি ধাপটিতে পৌঁছাতে সিঁড়ির আর মাত্র ১৮টি ধাপ বাকি ছিল। দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার। এই সোনালি ধাপটুকু পেরোতে পারলেই তাঁরা পৌঁছে যেতেন পবিত্র মন্দিরটিতে। গড়তে পারতেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ভঙ্গের ইতিহাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় উন্মাদনার কাছে হার মানতেই হলো তাঁদের। আইনও তাঁদের এই পবর্তসম ধর্মান্ধতাকে চিরে আলো পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দিতে পারল না।

    ভারতের কেরালা রাজ্যে সাবারিমালায় পাহাড়ের ওপর আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে দুই নারীকে প্রবেশ থেকে বিরত রাখতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পুরোহিতেরা। নারীদের মাসিকের সময় বিবেচনায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।

    পুরোহিতদের এই বাধার মধ্য দিয়ে যেন আরেকবার প্রমাণ হলো, পুরুষেরাই ধর্মীয় ব্যাপারে নেতৃত্বের অবস্থানে থাকবেন। নারীরা শুধুই পালন করে যাবেন। তা–ও পালন করতে হবে পুরুষের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বেষ্টনীর মধ্যে থেকে। ধর্ম নিয়ে নারীরও যে আবেগ প্রকাশের অধিকার আছে, তা যেন উপেক্ষিতই থেকে যাবে। ধর্মপ্রাণ নারীদের যেন তা–ই করতে হবে, যা পুরুষ চায়।
    যে দুই নারী রীতি ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, মন্দিরে পৌঁছানোর আইনি প্রবেশাধিকার তাঁরা সঙ্গে নিয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু আইন তাঁদের রক্ষাকবচ হতে পারেনি।

    এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, শুক্রবার পুলিশি পাহারায় একজন সাংবাদিকসহ দুজন নারী লক্ষ্যে পৌঁছানোর সময় শেষ ধাপে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মন্দিরের পুরোহিতরা। নারী দুজন শেষ আধা কিলোমিটারের সোনালি ধাপ পেরোতে চাইলে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। সব ধরনের ধর্মীয় প্রথা ও প্রার্থনা বন্ধ করে মন্দির বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
    সাবারিমালা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কানদারারু রাজিভারু বলেন, ‘আমরা মন্দির বন্ধ করে চাবি হস্তান্তর করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ভক্তদের পাশে আছি। আমার কাছে আর কোনো উপায় নেই।আয়াপ্পা দেবতার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দিতে পথ অবরোধ করে রেখেছেন ভক্তরা। ছবি: এএফপিপুলিশ দুই নারীকে এই বার্তা জানানোর পর তাঁরা ফিরে আসতে রাজি হন। ঘটনাস্থলে পুলিশের দলের নেতৃত্বে থাকা মহাপরিদর্শক (আইজি) এস শ্রিজাত বলেন, ‘আমরা নারীভক্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছি, তাঁরা ফিরে যেতে রাজি হয়েছেন। তাই আমরা ফিরে যাচ্ছি। তাঁরা আবার ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন।’

    সকালে বিক্ষোভরত ভক্তদের উদ্দেশে শ্রিজাত বলেন, ‘আমিও একজন আয়াপ্পাভক্ত। এখানে এসেছি সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালনে। আমি মনে করি, নারীদের মন্দিরের ভেতর প্রবেশের অধিকার রয়েছে।’
    কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। তাঁরা দুই নারীর মন্দিরে প্রবেশের মুখে বাধা দেন।

    গত মাসে দেবতা আয়াপ্পার মন্দিরে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক নির্দেশের পর তিন দিন আগে মন্দিরটির খোলা হয়। অন্য ভক্তদের মতে, আদালত সে ক্ষেত্রে আবেগ ও ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। তাঁদের ভাষায়, আয়াপ্পা একজন কুমার দেবতা এবং নারীদের ঋতুকালীন বয়স ‘বিশুদ্ধ নয়’।

    মন্দিরটি পরিচালনায় থাকা দেবাসম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাদাকামপালি সুরেনদ্রান এনডিটিভিকে বলেছেন, যে দুজন নারী মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা ভক্ত নন, অধিকারকর্মী। সত্যিকারের কোনো ভক্ত সেখানে যেতে চাইলে সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো অধিকারকর্মীকে সাবারিমালাকে তাঁদের জায়গা হিসেবে প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    হায়দরাবাদের মোজো টিভির সাংবাদিক কবিতা জাক্কাল হলুদ হেলমেট মাথায় বিক্ষোভের মধ্যে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। তাঁকে ঘেরাও করে রেখেছিল পুলিশ। ৩০০ পুলিশ ঘেরাও করে নিয়ে যাচ্ছিল তাঁকে। আরেক নারী কালো শাড়ি পরে, দেবতা আয়াপ্পার জন্য রীতি অনুসারে প্রার্থনার সরঞ্জাম মাথায় নিয়ে আলাদাভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী নারী ম্যারি সুইটি ফিরে আসতে রাজি ছিলেন না। তিনি জানান, তিনি গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে গেছেন, আয়াপ্পাও দেখতে চান। সে সময় পুলিশ তাঁকে নিজ দায়িত্বে যেতে বলেন। পাম্বা থেকে তাঁরা ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠেছিলেন।
    বিক্ষোভকারী ভক্তদের দুই দিন ধরে মন্দিরে নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিলাক্কাল ও পাম্বা বেজ ক্যাম্পে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে । সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্রমাগত হুমকির মুখে নারীরা ফিরে আসতে বাধ্য হন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও দুজন সাংবাদিক যাঁর একজন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এর ভারতীয় সাংবাদিক মন্দিরের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে ফিরে আসেন।

  • বরিশালে গৃহকর্মী শিশু লামিয়ার পাশে এবার পুলিশ নারী কল্যাণ সংস্থা (পুনাক)

    বরিশালে গৃহকর্মী শিশু লামিয়ার পাশে এবার পুলিশ নারী কল্যাণ সংস্থা (পুনাক)

    বরিশালে গৃহকর্মী শিশু লামিয়া আক্তার মরিয়ম (১০) নির্যাতনে জড়িত গৃহকর্তা আশরাফুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার পরবর্তী দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পুলিশ নারী কল্যাণ সংস্থা (পুনাক) বিএমপি। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওসিসিতে শিশুটিকে দেখতে গিয়ে এই দাবি রাখেন পুনাকের সাধারণ সম্পাদিকা দিলরুবা আলম।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে শিশু মারিয়ার চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অভয় দিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. খাইরুল আলামপত্নী দিলরুবা আলম বলেন- এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কারণ আগামীতে কোন গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের আগে যেন সেই শাস্তির বিষয়টি মনে পড়ে।

  • রুমিকে ছেড়ে দিতে পুলিশ সুপারকে ফোন দিলেন কাদের

    রুমিকে ছেড়ে দিতে পুলিশ সুপারকে ফোন দিলেন কাদের

    শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার মানবাধিকার কর্মী রুমি আক্তার (৪০) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মুমিনুন্নিছা খানম পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রুমিকে জামিন দেন। এর আগে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ আদালতে রুমির বিরুদ্ধে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

    রুমি বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঝিনাইগাতী শাখার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি উপজেলার ভালুকা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন সরকারের মেয়ে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান তরফদার বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মজিবর রহমান সোমবার রাতে রুমির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, রুমি আক্তার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছবি বিকৃত করে তার ফেসবুকে পোস্ট দেন। এতে মন্ত্রীর সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বাদীসহ অন্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান তরফদার বলেন, গত সোমবার রাতে ঝিনাইগাতী পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। পরদিন আদালতে হাজির করে তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রুমিকে জামিনের আদেশ দেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজ উদ্যোগে রুমিকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। পুলিশ সুপার ও মামলার বাদীকে কল দিয়ে রুমিকে দ্রুত ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন সেতুমন্ত্রী।

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর দেখলাম, মেয়েটি আমার ছবি বিকৃতি করেনি। অন্য কারো ফেসবুক পেজ থেকে সে শুধুমাত্র শেয়ার করেছে। সে কারণে আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েটিকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে বলেছি। পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য। কোনো নিরপরাধ লোক এ আইনে শাস্তি পাবে না। অপরাধী যে তার উপযুক্ত শাস্তি হবেই। কেউ যেন এই আইনের অপপ্রয়োগ করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

  • রাজবাড়ীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪

    রাজবাড়ীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪

    রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ট্রেনের সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত ভটভটির সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সোলাকুড়া রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের শহিদ শেখের ছেলে সরোয়ার শেখ (২২), একই গ্রামের এলেম সরদারের ছেলে ইমরান সরদার (২২), আলেক মৃধার ছেলে মজনু মৃধা (২৩) এবং তুলশী বরাট গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে শাকিল শেখ (২০)।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের ওসি একেএম আজমল হোসেন বলেন, জুট মিলের কাজ শেষে ভটভটি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন ১১ জন শ্রমিক। তাদের গাড়িটি জামালপুরের সোলাকুড়া রেলগেট ক্রস করার সময় কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়াগামী ফরিদপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

    rajbari

    এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত এবং আটজন আহত হন। তারা সবাই মধুখালীর আশাপুরের রাজ্জাক খান জুট মিলে কাজ করেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে মজনু মৃধা মারা যান। এখনো তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী।

    তিনি বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

  • বরিশালে মোটরসাইকেল কেনে না দেয়ায় গলায় ফাঁস দিলো স্কুলছাত্র

    বরিশালে মোটরসাইকেল কেনে না দেয়ায় গলায় ফাঁস দিলো স্কুলছাত্র

    বরিশালে মোটরসাইকেল কেনে না দেয়ায় মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে মো. শোভন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। শোভন নগরীর বাজার রোড এলাকার খালেক সরদারের ছেলে এবং টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    শোভনের স্বজনরা বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই মোটরসাইকেল কেনার আবদার করে আসছিল শোভন। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে বেশ কয়েকবার ঝগড়াও হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল কেনে না দেয়ায় অভিমান করে বুধবার রাতে বাসার বারান্দায় ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় শোভন।

    কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্র আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

  • ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

    ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুর লাশ উদ্ধার

    গোয়ালন্দ ফেরিঘাটে গত সোমবার রাতে ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া সাড়ে চার বছরের শিশু রুকাইয়ার লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে লাশটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

    পরে কয়েকজন লাশটি ট্রলারে করে তুলে ডাঙায় আনেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দৌলতদিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) লাবু মিয়া, ফাঁড়ির সেকেন্ড অফিসার (এসআই) আসাদুজ্জামান মোল্লাসহ পুলিশের সদস্যরা হাজির হন। এসআই কামরুল ইসলাম লাশের সুরতহাল করেছেন।

    পুলিশ বলছে, শিশুটির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা রওনা হয়েছে।
    শিশুটির বাবার নাম সেলিম রেজা ও মায়ের নাম জেসমিন আক্তার। সেলিম রেজা পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহরে। তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে রুকাইয়া ছিল ছোট। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর।

    গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। রাতে তার মা তাকে ফেরিতে শৌচাগারের দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে যান। বাইরে অপেক্ষায় থাকা সাড়ে চার বছরের শিশুটি হঠাৎ ফেরিতে থাকা বাসের ব্রেক করার শব্দে চমকে ভয়ে দৌড় দিয়ে ফেরি থেকে নদীতে পড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ফেরিটি তখন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পেছনের ডালা নামানো ছিল, কিন্তু পন্টুন থেকে সরে এসেছিল। শিশুটি ভয়ে দৌড় দেওয়ার সময় অন্ধকারে ঠাওরাতে না পেরে পন্টুন ও ফেরির ফাঁকা স্থান দিয়ে নদীতে পড়ে যায়। শিশুটিকে কেউ পড়ে যেতে না দেখলেও তার দৌড়ে যাওয়া ও পানিতে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেয়েছেন কয়েকজন।

    পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা জেসমিন আক্তারের ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তারা কয়েকজন মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিল। রাতে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে তাঁদের গাড়িটি রজনীগন্ধা নামক একটি ফেরিতে ওঠে। মা জেসমিন এ সময় রুকাইয়াকে নিয়ে শৌচাগারের দিকে যান।

    মেয়েকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি ভেতরে ঢোকেন। পরে বেরিয়ে এসে রুকাইয়াকে না দেখতে পেয়ে তিনি মেয়ের খোঁজে চিৎকার করতে থাকেন। শিশুটির বাবাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তখন কয়েকজন জানান, ফেরিতে ওই সময় একটি এসি বাস উঠে সশব্দে ব্রেক করলে আওয়াজে ভয় পেয়ে যায় শিশুটি। সে পেছনের দিকে দৌড় দেয়, সঙ্গে সঙ্গে পানিতে কিছু পড়ে যাওয়ার বড় ধরনের শব্দ হয়।