Category: প্রশাসন

  • তামিমের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    তামিমের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কব্জির ইনজুরিতে পড়ে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ খেলে মঙ্গলবারই দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। বুধবার দুপুরে ফোন করে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং হাতের ইনজুরির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাট করার সময় বাম হাতের কব্জিতে চোট পান ওপেনার তামিম ইকবাল। মাঠ থেকে সোজা চলে যান হাসপাতালে। সেখানে স্ক্যান করে দেখা যায়, চিড় ধরা পড়েছে কব্জিতে। যার অর্থ, এশিয়া কাপেই আর খেলতে পারছেন না তিনি।

    কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, যখন মুশফিক একপাশে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত, তখন অন্য পাশে একে একে সবাই আউট হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মুশফিককে সঙ্গ দিতে ভাঙা হাত নিয়ে মাঠে নামেন তামিম এবং পেসার সুরঙ্গা লাকমালকে এক বল মোকাবেলাও করেন তিনি।

    তামিমের এই সাহসিকতার দারুণ প্রশংসিত হয় দেশে-বিদেশে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠে নামার মতো সাহস সচরাচর কারও হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তামিম সেই সাহস দেখালেন এবং মুশফিকের সঙ্গে অসাধারণ ৩২ রানের একটি জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের ভিত তৈরি করে দেন। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।

    তামিম ইকবালকে ফোন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা দেশের সম্পদ। বহির্বিশ্বে দেশের মুখ দিন দিন উজ্জ্বল করছো। নিজেদের শরীরের প্রতিও যত্ন নিতে হবে। খেলায় হারজিত থাকবেই।’ ওইদিনের ম্যাচে সাহসী ভূমিকার জন্য তামিমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য বলেন তামিমকে। কুণ্ঠাবোধ না করে যে কোনো বিষয় তাকে জানাতেও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • উস্কানিমূলক পোস্ট শনাক্তে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল হচ্ছে

    উস্কানিমূলক পোস্ট শনাক্তে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল হচ্ছে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, গুজব ও ভিডিও প্রচারকারীকে শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।  

    বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরকালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের (নোয়াখালী-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কোনো গোষ্ঠী বা দল যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে যে সুনাম অর্জন করেছে তা ধরে রাখতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। যারা সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের (ঝালকাঠি-১) অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে চলছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্পর্শকাতর স্থানসমূহে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা তল্লাশিসহ উক্ত যানবাহনের যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ রোধে নৌ, সড়ক ও রেলপথে চোরাচালানের সম্ভাব্য রুটসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • আমি কখনোই গণমাধ্যমের সহযোগিতা পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

    আমি কখনোই গণমাধ্যমের সহযোগিতা পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

    সাংবাদিকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি দেশের জন্য। তবে এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো যে, আমি কখনোই ওভাবে খুব একটা সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের সহযোগিতা পাইনি, প্রচার পাইনি। হয়তো বা সেটা যারা মালিক থাকেন, তাদের কারণে। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে সবসময় আমার ভালো একটা সম্পর্ক রয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকারসহ সব ধরনের অধিকারই হরন করা হয়েছিল। তারা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনীতিবিদদের মুখে কালি দেয়। পরে নিজেদের উর্ধ্বক্রিয়ায় নিজেরাই ফেঁসে যায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা যখন প্রথম ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি, তখন থেকেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নের রুল-মডেল হিসাবে স্বীকৃত।

    শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

    তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছাত্রজীবন থেকেই সংবাদপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রথমেই ইত্তেহাদ নামে একটা পত্রিকা আসে, তারপর মিল্লাত পত্রিকা ও এরপর ইত্তেফাক পত্রিকা বের হলো। তিনি সবসময় এসব পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রহমত আলী এমপি প্রমুখ।

  • চিকিৎসার জন্য আফজালকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    চিকিৎসার জন্য আফজালকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    অবশেষে অসুস্থ অভিনেতা আফজাল শরীফকে চিকিৎসার জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে ডেকে অনুদানের চেক তুলে দেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতার হাতে।

    প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমার অভিনেতা আফজাল শরীফ প্রায় চার বছর ধরে মেরুদণ্ড, কোমর ও হাড়ের ব্যথায় ভুগছেন। যে কারণে এখন আর অভিনয় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কিছুদিন পরপর থেরাপি নিতে হয় আফজালকে। চিকিৎসার জন্য মোটা অংকের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বিধায় আফজাল শরীফ প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি সহায়তা চেয়েছিলেন।

    এ জন্য গত ১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী ঐক্যজোটের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং নাট্যনির্মাতা জিএম সৈকত আবেদনসহ আফজাল শরীফকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। সেদিন আফজাল শরীফের চিকিৎসার সহায়তার জন্য আবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

    এরপরই বুধবার ডেকে আফজাল শরীফের হাতে অনুদানের এ অর্থ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি আগামী সপ্তাহে

    শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি আগামী সপ্তাহে

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে। তার জামিন চেয়ে করা আবেদনটি আগামী রোববার কার্যতালিকায় আসবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

    বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। আদালত তখন এ মামলার শুনানির জন্য আগামী সপ্তাহ নির্ধারণ করেন। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

    এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ওই মামলায় শহিদুল আলমের জামিন নামঞ্জুর করেন। এর পর গত সোমবার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে উসকানিমূলক মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় গত ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগে ৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় ডিবি। সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ১২ আগস্ট শহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত।

  • র‌্যাবের নতুন এডিজি কর্নেল জাহাঙ্গীর

    র‌্যাবের নতুন এডিজি কর্নেল জাহাঙ্গীর

    র‌্যাবের নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম।

    মঙ্গলবার র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) হিসেবে তিনি কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খানের স্থলাভিষিক্ত হন।

    কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল স্টাফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশন ঘাটাইল সেনানিবাস নিযুক্তি হতে প্রেষণে র‌্যাব ফোর্সেসে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে তিনি র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    কর্নেল জাহাঙ্গীর গত ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৩; ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। তিনি ৫৫ এবং ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের বিভিন্ন পদসহ ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এছাড়া তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডে জিএসও-৩ (অপস), সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস পরিদফতরের জিএসও-২ (অপস) এবং পদাতিক পরিদফতরের জিএসও-১ এর দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি আর্মস ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) এর জিএসও-১ (জয়েন্ট অপারেশন) এর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস অফিসার হিসেবে কুয়েত সেনাবাহিনীতে তিন বছর প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্কুল অব ইনফেন্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস, জালালাবাদ সেনানিবাস, সিলেট এ রণকৌশল বিভাগের প্রশিক্ষক এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির জেন্টেলম্যান ক্যাডেটদের প্রশিক্ষক (প্লাটুন কমান্ডার) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

    কর্নেল জাহাঙ্গীর দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে কাউন্টার টেরোরিজম কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক হতে তার্কিস ভাষাসহ কোম্পানি কমান্ডার কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়াও চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, রাশিয়া, ভারত এবং শ্রীলঙ্কা হতে প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সততা, পেশাদারিত্ব, বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করে আসা এ কর্মকর্তা গতবছরের ১১ জানুয়ারি কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯ পদাতিক ডিভিশন, ঘাটাইল সেনানিবাসে কর্নেল স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১০২টি গাড়ি ‘বিক্রি’ ইমরান খানের

    প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১০২টি গাড়ি ‘বিক্রি’ ইমরান খানের

    পাকিস্তান তেহরিকই ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান দেশটির অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরতে একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মালিকানাধীন অতিরিক্ত ১০২টি বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এসব গাড়ির ৬১টি গাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে যারমধ্যে পাঁচটিই বুলেটপ্রুফ।

    দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) টুইটারে লিখেছে, নিলাম হওয়া গাড়ির মধ্যে মার্সিডিজ ২০০৫ মডেলের পাঁচ হাজার সিসির এসইউভি বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড় কোটি রুপিতে। এছাড়াও ল্যান্ড ক্রুজার ভি-৮ মডেলের গাড়িটি নিলাম হয়েছে আড়াই কোটির রুপিরও বেশি মূল্যে।

    সোমবার অনুষ্ঠিত এ নিলামে বিক্রি হয়েছে আটটি বিএমডব্লিউ যার মধ্যে তিনটি ২০১৪ মডেলের, তিনটি পাঁচ হাজার সিসির এসইউভি ও দুইটি ২০১৬ মডেলের তিন হাজার সিসির এসইউভি।

    ২০১৬ মডেলের মার্সিডিজ বেঞ্জের চারটি গাড়ি বিক্রি হয়েছে এরমধ্যে দুইটিই বুলেট প্রুফ। পাশাপাশি ১৬টি টয়োটা, একটি হোন্ডা সিভিক, তিনটি সুজুকি ও একটি হিনো বাসও নিলামে বিক্রি হয়েছে।

    এর আগে দেশটির নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ব্যয় সংকোচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ভবনের বিলাসবহুল ও অতিরিক্ত গাড়ি নিলামে তুলে বিক্রির ঘোষণা দেন।

  • জেলা প্রশাসক বরিশাল এর সাথে অষ্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার এর সাক্ষাত।

    জেলা প্রশাসক বরিশাল এর সাথে অষ্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার এর সাক্ষাত।

    কাজী সাইফুলঃ

    বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট আজ সকালে জেলা প্রশাসক,বরিশাল জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে আসেন। এ সময় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক, বরিশাল মহোদয়।

    পরে জেলা প্রশাসক মহোদয় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতায় বাংলাদেশ তথা বরিশালের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

  • নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি

    নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি

    ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন তারা এই অভিযোগ করেন।

    নিখোঁজ রনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানান তারা। রনি সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার মাসদাইর পাকাপুল এলাকার ঠিকাদার মোস্তফা কামাল ওরফে ফুফা মোস্তফার ছেলে। জানা গেছে, রনির বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মামলায় সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

    রনির স্বজনরা জানান, শনিবার সকাল ১০টায় রনি বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। রাত সাড়ে ১০টায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ভাইকে জানায়, ঢাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা রনিকে কালো রঙের একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।

    এর পর থেকে রনি নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের স্বজনরা কাছে আত্মীয়দের বাড়িতে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে খোঁজ করেও রনির সন্ধান পাননি।

    এ ব্যাপারে রোববার বিকেলে ফতুল্লা থানায় জিডির আবেদন করা হয়েছে বলে জানান স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের সহায়তা করছে না। রনিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি নিয়ে থাকে তাহলে সেটা নিশ্চিত করে জানানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান স্বজনরা।

    রনির আইনজীবী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস জানান, রনির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগে মামলা রয়েছে, যেগুলোর বাদি পুলিশ। পূর্বে ১১টি মামলা ছিল। চলতি মাসে আরও দুটি হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ১৮ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন রনির হদিস দিতে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে রনির দুই ভাইসহ নিকট আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। রনির বাবা, মা ও বড় ভাই হজ পালনে সৌদি আরব গিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।

  • পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন: পুলিশ

    রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী পুলিশ। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এসব খুনের ঘটনায় রাজবাড়ীতে পদ্মা সেতু নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে তা ভিত্তিহীন।

    রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

    আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন এ রকম আর কোনো গুজব ছড়াতে না পারে সে জন্য সাংবাদিকদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আগস্ট মাসে ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নে (মুলঘর, আলীপুর ও বানীবহ) তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে ওইসব এলাকায় নানা ধরণের গুজব ছড়াতে থাকে।

    শুরুতে পুলিশ বিষয়টি আমল না দেয়ায় গুজব ডালপালা মেলে আরও ছড়িয়ে যায়। অনেকেই গলাকাটা আতঙ্কে এলাকায় পাহারা দিতে শুরু করে। অবশেষে আমরা হত্যাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

    পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে হাজেরা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী তমিজউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একমাস ধরে এই হত্যা মামলা তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    এসপি বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পারি ওই গৃহবধূর ছেলে হাফিজুল প্রবাসে থাকেন। হাফিজুলের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (২৫) অনেক ভালোবাসতেন তার মা হাজেরা বেগম। এ কারণে হাজেরা মাঝেমধ্যেই ছেলের বউয়ের কাছে ঘুমাতেন। কিন্তু ছেলের বউ স্বপ্নার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল স্থানীয় সোহেল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে।

    রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন রাতে সোহেল তার সহযোগী কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতে আসে। এসময় স্বপ্না ও তার চার বছর বয়সী ছেলে সানী এবং শাশুড়ি হাজেরা একই বিছানায় শুয়েছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে ছেলের বউয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলেন হাজেরা। আর এতেই সোহেল, কবির ও স্বপ্না মিলে গলাকেটে হত্যা করে হাজেরাকে। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে স্বপ্নাকে সন্দেহ করতে না পারে এজন্য সোহেল স্বপ্নার দুই হাতে কোপ দিয়ে জখম করে দিয়ে যায়।

    পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে হাজেরার লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি তার ছেলের বউ স্বপ্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওইসময় মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বপ্না জানান, ওইদিন রাতে খাবার খেয়ে সে তার ছেলেসহ শাশুড়ি একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান ঘরের আলো নেভানো এবং তার শাশুড়ির শরীরে রক্ত। এসময় তিনি চিৎকার দিলে পাশের ঘরে থাকা শ্বশুরসহ অন্যান্যরা ছুটে এসে দেখেন হাজেরা বেগমের গলাকাটা লাশটি খাটের ওপর পড়ে আছে।

    কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর হত্যার মূলহোতা সোহেল ও তার সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের শাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন স্বপ্না।

    এর আগে ৭ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে নিজ বসত ঘরে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ আদুরী আক্তার লিমাকে (২৫) গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন গত ৮ আগস্ট নিহতের স্বামী রড মিস্ত্রি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, পিলার থেকে ম্যাগনেট সংগ্রহ চক্রের সদস্য ছিলেন আদুরী বেগম। তার আপন দুই দেবর এবং এক ফুফাতো দেবরও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই ম্যাগনেট ব্যবসার দ্বন্দের কারণেই তিন দেবর মিলে গলাকেটে হত্যা করে আদুরীকে। আদুরীর তিন দেবর বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

    এছাড়া গত ২ আগস্ট দিনগত রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে দাদী শাহিদা বেগম (৪৫) ও নাতনী লামিয়া আক্তারকে (৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়। জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩ আগস্ট নিহত শিশু লামিয়ার বাবা গার্মেন্টেস কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

    এ হত্যার বিষয়ে সংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় আসামি গ্রেফতার রয়েছে। এ হত্যার রহস্যটিও আমরা ইতিমধ্যে উদঘাটন করেছি। কিন্তু, আমাদের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে। আশা করছি ওই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে শিগগিরই এ হত্যার বিষয়ে আপনাদের জানাতে পারবো।

    সাংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন, সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. কামাল হোসেন ভূইয়া ও পরিদর্শক মো. জিয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।