Category: প্রশাসন

  • টেকনাফে ১০ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

    টেকনাফে ১০ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পাচারের সময় ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

    শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া নাফ নদী সংলগ্ন রহমানের মৎস্যখামার এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।

    টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বিজিবি সূত্র জানায়, নাফ নদী দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আনা হবে বলে তথ্য পায় বিজিবি। এই সূত্র ধরে টেকনাফ সদরে নাজিরপাড়ার সীমান্তচৌকির হাবিলদার মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল নাফ নদী সংলগ্ন রহমানের মৎস্য খামার এলাকায় অভিযানে যায়। দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১০-১২ জন লোককে একটি বস্তা নিয়ে আসতে দেখে বিজিবির টহল দলের সন্দেহ হলে তাদের চ্যালেঞ্জ করা হয়।

    পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বস্তাটি ফেলে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় তাদের ধাওয়া করেও কাউকে আটকাতে পারেননি বিজিবির সদস্যরা। পরে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া বস্তার ভেতর ইয়াবা পাওয়া যায়। বিজিবি সেগুলো গণনা করে দেখে ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

    টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, জব্দ করা ইয়াবাগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হবে।

  • সরকারবিরোধী নেটওয়ার্ক সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের

    সরকারবিরোধী নেটওয়ার্ক সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের

    ডিজিটাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার বেশ কয়েকজনকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরকারকে উত্খাত করতে একটি শক্তিশালী ফেসবুক গ্রুপ গড়ে তুলে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছিলেন।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া ও বিদ্বেষপূর্ণ মতামত এবং সিক্রেট চ্যাটিংয়ের তথ্য অনুসন্ধানের সূত্র ধরে আনিসুর রহমান চৌধুরী (৪১) নামের এক ব্যবসায়ীকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। আনিসুরের সরকারবিরোধী অপতৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৩ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে আনিসুর রহমান জানান, তিনি সামরিক বাহিনীতে একসময় সৈনিক পদে চাকরি করতেন। বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি ঢাকায় একটি বিদেশি দূতাবাসে যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে ফেসবুকের সূত্র ধরে তার সঙ্গে র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানের পরিচয় হয়। হাসিনুর তাকে সরকারবিরোধী মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশে উৎসাহিত করতেন। তার একেকটি সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া ব্যাপকভাবে লাইক শেয়ার দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এভাবেই তারা একটি সরকারবিরোধী শক্তিশালী ফেসবুক গ্রুপ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে তারা সরকার উত্খাতের ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের পথে পা বাড়ান। গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে হাজির হয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ষড়যন্ত্রের আদ্যোপান্ত স্বীকার করেন আনিসুর রহমান চৌধুরী। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে মোহাম্মদপুরের জনৈক রাজনৈতিক নেতা ইব্রাহিম খলিল ওরফে বাবু মিশুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বাবু মিশু তার মামা হিসেবে জনৈক ইকবাল চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। এই বাবু মিশু প্রায়ই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবনসহ বিভিন্ন দূতাবাসে যাতায়াত করেন। তিনিই চৌধুরী আনিস নামে তাকে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। এ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতেন। একপর্যায়ে বাবু মিশু ও ইকবাল চৌধুরী ডা. সেলিম নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। ডা. সেলিম আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। এদিকে গাড়ি ব্যবসার সূত্রে আনিসুর রহমান চট্টগ্রামে যাতায়াত করতেন। তখন তার সঙ্গে র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিনের সখ্য গড়ে ওঠে। হাসিন তার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। ফেসবুকে সরকারবিরোধী কোনো মন্তব্য করতে হাসিন তাকে উৎসাহিত করতেন। এভাবে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল থেকে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। আনিসুর রহমানের জবানবন্দিতে আরও বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন ক্যাপ্টেন (অব.) মারুফ রাজু (নেভি), ক্যাপ্টেন (অব.) গনিউল আজম (নেভি), মেজর (অব.) ফেরদৌস, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) ওয়াহিদুন নবী, ক্যাপ্টেন (অব.) আইয়ুব হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) ফেসদৌস আজিজ ও লে. কর্নেল (অব.) তৌহিদ। এর মধ্যে ক্যাপ্টেন গনিউল আজম ও লে. কর্নেল তৌহিদ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল সিএসএফের সদস্য। ক্যাপ্টেন মারুফও একসময় সিএসএফে ছিলেন। এদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলেন বিডি পলিটিকো নামের একটি রাজনৈতিক ওয়েবসাইটের পরিচালক কামরুল ইসলাম। চলতি বছরের এপ্রিলে ইকবাল চৌধুরীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদের জন্য সামরিক, বেসামরিক ও অবসরপ্রাপ্তদের নিয়ে ৭০ জনের একটি টিম গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আনিসুর রহমান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তিনি সৈনিক পদে চাকরি করতেন। কিডনি জটিলতার কারণে ২০০১ সালের এপ্রিলে তিনি মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক আউট হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। এর মধ্যে মারুফ রাজু ওরফে রানা বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকের নামে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে আলোচনায় আসেন। সর্বশেষ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক নিশা দেশাই ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারির ছবিসংবলিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিলেন; যা পরে ভুয়া প্রমাণিত হয়। এ ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া গত ৭ মে থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ইকবাল চৌধুরীও। র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক (সিও) হিসেবে কর্মরত থাকার সময় লে. কর্নেল হাসিনুরের বিরুদ্ধে জঙ্গিসম্পৃক্ততার অভিযোগ আসে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা। তদন্তে প্রমাণিত হয়, হাসিনুরের সঙ্গে হিযবুতের প্রধান সংগঠক মহিউদ্দীনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে আসে র‌্যাব-৭-এর কার্যালয়ে বসে তিনি হিযবুত নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। হিযবুত নেতা মহিউদ্দীন গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হাসিনুরের নাম বলেন। মহিউদ্দীন আরও জানান, হিযবুতের নারী শাখার প্রধান ফারিয়া আফসানা ওরফে মুনমুন হাসিনুরের শ্যালিকা। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর কর্নেল হাসিনুরকে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতার হয়ে তিনি জেলে যান। পাঁচ বছর কারাভোগ করে ২০১৪ সালে জামিনে ছাড়া পান। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে তিনি প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলেন। যে কারণে তিনি বর্তমান সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েন। হাসিনুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত বুধবার রাতে তাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের সুরাহা এখনো হয়নি। কোনো সংস্থার তরফ থেকে তাকে গ্রেফতারের তথ্যও জানানো হয়নি।

  • ব্রাজিলের কুতিনহো এখন পর্তুগালেরও

    ব্রাজিলের কুতিনহো এখন পর্তুগালেরও

    লুইস সুয়ারেজের পথ অনুসরণ করে লিভারপুল থেকে শুধু বার্সেলোনায় আসেননি, কুতিনহো আরও একটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন সতীর্থকে। সুয়ারেজের মতো তিনিও ইউরোপের এক দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন

    শিরোনামে কোনো ভুল নেই। কারণ আজ বিকালেই পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলার। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মূল ভরসায় রূপ নেওয়া কুতিনহো এখন থেকে বহন করবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশের পাসপোর্ট। আর এতে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল বার্সেলোনাও। কারণ কী?

    স্প্যানিশ ফুটবলের নিয়মে কুতিনহোর বার্সেলোনায় থাকা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ স্প্যানিশ ক্লাবগুলো লিগে নাম নিবন্ধন করাতে পারে মাত্র তিনজন অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়। কিন্তু বার্সেলোনা এ বছরই ব্রাজিলের তিনজন খেলোয়াড় কিনেছে। জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলে কিনেছে কুতিনহোকে। এবার গ্রীষ্মকালীন দলবদলে কিনল ম্যালকম ও আর্থারকে। জানুয়ারিতে বার্সা কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনাকেও কিনেছিল। সর্বশেষ দলে যোগ দিয়েছেন চিলির মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদাল।

    বার্সেলোনা প্রাক-মৌসুমের শুরুতে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে থাকা তাদের খেলোয়াড়দের অনেককেও ডেকে পাঠিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজনই ব্রাজিলিয়ান নাগরিক। মারলন সান্তোস, ডগলাস ও রাফিনহা। ডগলাসকে এরই মধ্যে আবার ধারে খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তুরস্কের একটি ক্লাবে। পাউলিনহোও চীনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

    গত বিশ্বকাপে তিন গোল করে আলো ছড়ানো ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনাও বার্সা ছেড়েছেন গতকাল। তবু এ মুহূর্তে বার্সার স্কোয়াডে অন্তত ছয়জন অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড় আছেন। সান্তোস, রাফিনহাকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে বার্সাকে। বাকি ছিল কুতিনহো, ম্যালকম, আর্থার ও ভিদাল। বার্সা এই চারজনকেই এবারের মৌসুমে চায়। এই সমস্যার সমাধান করতেই কুতিনহোকে নিতে হয়েছে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব।

    কুতিনহোর স্ত্রী এইনি পর্তুগিজ নাগরিক। তাঁদের বিয়ের তিন বছরও হয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী কুতিনহো পর্তুগালের নাগরিকত্ব নিতে পারেন। এর আগে লিভারপুল থেকেই বার্সেলোনায় আসা লুইস সুয়ারেজ একই কাজ করেছিলেন। ইতালিয়ান স্ত্রীর সৌজন্যে সুয়ারেজের ইতালির নাগরিকত্বও আছে। কুতিনহোও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিলেন।

    তবে ব্রাজিল সমর্থকদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কুতিনহো ব্রাজিল দলকে ছেড়ে যাচ্ছেন না। সুয়ারেজ যেমন উরুগুয়েকে বিদায় বলেননি। লিওনেল মেসি শৈশবেই স্পেনের নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলানোর চেষ্টাও করেছিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। সে সময় মেসি জাতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকেই বেছে নেন।

  • ড. আফতাব হত্যা : সাবেক এমপি তৃপ্তি গ্রেফতার

    ড. আফতাব হত্যা : সাবেক এমপি তৃপ্তি গ্রেফতার

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আফতাব আহমেদ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি বিএনপির সাবেক এমপি মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    বুধবার রাজধানী থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের কোতয়ালী ইউনিট।

    সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-মিডিয়া) শারমিন জাহান ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে  তৃপ্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের নিজ বাসায় অধ্যাপক আফতাবকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর তিন দিন পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    এ ঘটনায় তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

  • ফেসবুকে উসকানি : সিরাজগঞ্জে আইনজীবী গ্রেফতার

    ফেসবুকে উসকানি : সিরাজগঞ্জে আইনজীবী গ্রেফতার

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার দেয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

    সোমবার মধ্যরাতে শহরের মাহমুদপুর মহল্লার ওপেন গার্ডেন এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সপার আবু ইউসুফ।

    গ্রেফতার সাখাওয়াত হোসেন শাকিল মৃত আব্দুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে। তিনি সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদস্য।

    মঙ্গলবার বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন পোস্ট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আইসিটি আইনে মামলা করা হয়েছে।

  • তিন দিনে ৭৪ হাজার মামলা দিল ট্রাফিক পুলিশ

    তিন দিনে ৭৪ হাজার মামলা দিল ট্রাফিক পুলিশ

    চলমান ট্রাফিক সপ্তাহের প্রথম তিন দিনে সারাদেশে মোট ৭৩ হাজার ৯৩৮টি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক আইন অমান্য, যানবাহন নিবন্ধনের কাগজ না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র, লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দেয়া হয়েছে।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহের আজ তৃতীয় দিন। এই অভিযানে ফিটনেস/ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই এবং অন্যান্য আইন অমান্য করায় মোট ৫৮ হাজার ৫৪৯টি যানবাহন ও ১৫ হাজার ৩৮৯ জন চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ সময়ে এক কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৯৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে এক হাজার ৮৭০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।

    week

    গত রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ট্রাফিক সপ্তাহ চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পুলিশকে হটিয়ে শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করে। এরপরই শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার অনুরোধ করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ।

  • এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে, মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রী

    এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে, মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে? অান্দোলন কীভাবে করতে হয় তা কি ছাত্ররা দেখাতে পেরেছে? ছাত্রদের অান্দোলনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ভয়ের কিছু নেই। এরা কতদূর যেতে পারে সেটাও অামার জানা ছিল। এত দুর্বল চিত্তের লোক অামার সঙ্গে থাকার দরকার নেই, না থাকাই ভালো।

    সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছাত্ররা আন্দোলনে দেশ স্থবির করে দিয়েছিল মন্ত্রীদের এ সংক্রান্ত কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    প্রকৃত আন্দোলন মানে রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে, এমন তো কিছুই হয়নি- উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ফেসবুক সমস্যা করেছে মন্ত্রীদের এমন মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলেই ফেসবুক একটা সমস্যাই। অনেক খবরাখবর হয়তো নিতে পারেনি।

    সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-তে সর্বোচ্চ ৫ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সাজা রাখার প্রস্তাব করেছিলেন মন্ত্রীরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা (আইন মন্ত্রণালয়) যখন একটা সুপারিশ করে পাঠিয়েছে তখন ৫ বছরই থাকুক। অনেক কিছু ঘেঁটেই তারা আইনটি করেছে।’

    নতুন আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলা নেই। এ ক্ষেত্রে ‘মোবাইল কোর্ট’ নতুন আইনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির শাস্তি ৫ বছর জেল

    বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির শাস্তি ৫ বছর জেল

    বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে গুরুতর আহত করলে বা প্রাণহানি ঘটানো হলে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনটির খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা জানান।

    তিনি জানান, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে গুরুতর আহত বা প্রাণহানি ঘটালে আগে শাস্তি ছিল ৭ বছরের জেল। পরে সেটা কমিয়ে ৩ বছর করা হয়। এখন সেটা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।

    শফিউল আলম বলেন, ‘খসড়া আইনানুযায়ী, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে গুরুতর আহত বা প্রাণহানি ঘটানোর শাস্তি ৫ বছরের জেল বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। তবে জরিমানার সীমা উল্লেখ করা হয়নি। জরিমানার পরিমাণ সীমাহীন।’

    তবে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মধ্যমে মৃত্যু হলে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় এটা ইচ্ছাকৃত ছিল তবে দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা অনুযায়ী তার বিচার হবে। এটার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। সেই বিধান খসড়া আইনে রয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম।

    এছাড়া খসড়া সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সহায়তা দিতে একটি তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী জুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল আইনটি। দেড় বছর আগে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

  • নেপথ্যচারীদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে

    নেপথ্যচারীদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে তাদেরকে শক্তহাতে মোকাবিলা করা হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। একইসঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনের বিষয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি না থাকায় বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এসময় কমিটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে ঘরে ফেরাতে শিক্ষকদের মোটিভেশন করার সুপারিশ করা হয়।

    সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠক সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম ও কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন।

    কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সরকার দলীয় এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা টানা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি। শেষ সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল। এছাড়া বাস-শ্রমিক ও ড্রাইভারদের ওপর জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। কাজেই এ ধরনের ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য থাকা উচিত ছিল।

    এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, সরকার চাইলে এ আন্দোলন দমন করা কোন বিষয় নয়। এর থেকে বড় আন্দোলন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ধৈর্য সহকারে হ্যান্ডল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এসময় সংসদীয় কমিটির সদস্যরা সরকারের এ অবস্থানকে স্বাগত জানায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানান, আন্দোলনকে দীর্ঘ করা ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবার মেয়েদের ব্যবহার করা হয়েছে। বিকৃত বক্তব্য সম্বলিত ব্যানার ওদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবের নেপথ্যে জামায়াত-শিবিরের ইন্দনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদের ফোনালাপ ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার শুরুতে একটা ইমোশন ছিল। কিন্তু এখন তা অন্যখাতে প্রবাহিত করার দূরভিসন্ধি করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে একটি গোষ্ঠী জড়িত হয়ে পড়েছে তা এখন প্রমাণিত বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনের পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে, তাদেরকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।’

    সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, ১৫টি বৈদেশিক মিশনের পাসপোর্ট ভিসা উইং থেকে প্রতিমাসে আর্থিক হিসাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া র‌্যাবের শূণ্য পদে দ্রুত জনবল পদায়নের এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরা সেবা বিভাগের সচিব, মহা-পুলিশ পরিদর্শক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রবিবার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ

    সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রবিবার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ

    আগামীকাল রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করেছে পুলিশ। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সপ্তাহে ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে শুরু করে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি পর্যন্ত- যে কোনোভাবে আইন লঙ্ঘন হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার (৪ আগস্ট ২০১৮) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ ঘোষণা দেন। নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপি কমিশনার।

    তিনি বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নেমেছেন তা অত্যন্ত মহৎ। কিন্তু এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য, ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এটা চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা এভাবে রাস্তায় থাকার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে, এই অবস্থাও চলতে দেওয়া যায় না।

    শিক্ষার্থীরা আইন প্রয়োগে আমাদের নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে, আমরা এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন ট্রাফিক রুলের কঠোর প্রয়োগে উদ্যোগ নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল (রবিবার) থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবে পুলিশ। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাই।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। ‘নিরাপত্তাহীনতা’র অজুহাতে অলিখিত ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা, এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

    শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য মহৎ। সরকারের পক্ষ থেকে এ আন্দোলনের দাবিতে সাড়া দেওয়া হয়েছে। পুলিশও নৈতিকভাবে এতে সমর্থন করে। কিন্তু গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত রিপোর্টসহ বিভিন্ন তৎপরতা ঘেঁটে আমরা বুঝতে পেরেছি, এই আন্দোলনে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। এতে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এমনকি আমাদের হাতে যে তথ্য রয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় স্কুল ড্রেস তৈরিরও হিড়িক পড়ে গেছে।

    আন্দোলনে পুলিশ ও রাষ্ট্রকে নিয়ে নোংরা ভাষায় প্ল্যাকার্ড তৈরির অভিযোগ তুলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে নোংরা ভাষায় পুলিশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে প্ল্যাকার্ড বানানো হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারছি না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কারা পুলিশকে হেয় করতে চাইছে সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট। ২০১২-১৩ সালের পুরনো ছবি এখন শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন বলে চালানো হচ্ছে।

    পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশে আমার ৩১ জীবনের চাকরি জীবনে মিরপুর পুলিশ লাইনে বা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা হবে, ধারণাও করতে পারিনি।

    শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের লাইসেন্স চেকিংয়ের তৎপরতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মস্থলে যাতায়াতে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। হজযাত্রীদের ফ্লাইট মিস হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারছে না।

    শিক্ষার্থীরা পুলিশের প্রতিপক্ষ নয় জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তারা আমাদের পরিপূরক। তাদের আন্দোলনের ফলে ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইনকে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সাহস পেয়েছি আমরা। তাদের দাঁড় করানো নৈতিক ভিত্তির ওপর আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছি। সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবো আমরা। এই সময়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্স ছাড়া চালক, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলসহ কোনোভাবে ট্রাফিক আইনের ব্যত্যয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন না মানার যে চেষ্টা, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

    ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুবিধ কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করছি এ আইন বাস্তবায়নের। অনেক সময় পেশাজীবীদের স্টিকার লাগিয়ে আইন লঙ্ঘন করা হয়। আরও একটি সমস্যা আমাদের ভৌত অবকাঠামো না থাকা। বাস টার্মিনাল নেই, যেসব আছে তা ডিপোতে পরিণত হয়েছে।

    ‘আইন না মানার সংস্কৃতি সবচেয়ে বড় সমস্যা। একটি এলাকায় গেলে আমরা খুব ট্রাফিক রুল মানি, কিন্তু সেখান থেকে বেরোলে আর মানি না। সবার কাছে আহ্বান জানাই সব জায়গায় ট্রাফিক রুল মেনে চলার। বিশৃঙ্খলা নয়, শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ আনতে হবে। আইন মানতে হবে, যারা আইন মানে না, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।’

    জনগণের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ সারারাত জেগে থাকে বলে আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন। সবার কর্মঘণ্টা আছে, পুলিশের কর্মঘণ্টা নেই ১৬-১৭ ঘণ্টাও আমাদের ডিউটি করতে হয়। তাপদাহ, শৈত্য প্রবাহ, ঝড়-বৃষ্টি, সবসময় পুলিশ আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শৃঙ্খলা ধরে রাখার জন্য। আমাদের ত্যাগ খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।