Category: প্রশাসন

  • বরিশালে সিটি নির্বাচনে বিএমপির আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে সিটি নির্বাচনে বিএমপির আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    জাকারিয়া আলম দিপুঃ আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে নিরাপত্তা সংক্রান্তে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় । বিসিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    আজ ৫জুলাই বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর আমতলা বিজয় বিহঙ্গ সংলগ্ন  বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহ্ফুজুর রহমান বিপিএম এর সভাপতিত্বে আসন্ন সিটি কর্পোরেশেন নির্বাচন নিরাপত্তা সংক্রান্তে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় ।উক্ত সভায় আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করার জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্তে আলোচনা ও সিধান্ত গ্রহন করা হয়।

    উল্লেখ্য বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এ তিনটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ হয়েছে ২৮ জুন । যাচাইবাছাই শেষ হয়েছে ১ ও ২ জুলাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জুলাই। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জুলাই।

  • কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আওলাদ হোসেন’র বদলী

    কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আওলাদ হোসেন’র বদলী

    অবশেষে বদলি হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মু. আওলাদ হোসেন মামুন। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেয়া এক আদেশে তাকে খুলনা রেঞ্জে বদলী করা হয়েছে বলে জানাগেছে। তবে নতুন করে কোতয়ালী থানায় কোন ওসি’র দায়িত্ব দেয়া হয়নি। অবশ্য ওসি শাহ মো. আওলাদ এর বদলীর লিখিত আদেশ থানায় পৌছেনি বলে জানিয়েছে থানার দায়িত্বশীল সূত্র।

    দীর্ঘ দিন ধরেই বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালণ করে আসছে শাহ মো. আওলাদ হোসেন। দায়িত্বপালনকালিন সময় বিভিন্ন কারনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হন তিনি। অবশেষে ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেনকে বদলী হতে হয়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সত্য রঞ্জন খাসকেল বলেন, বদলীর বিষয়টি মুখে মুখে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত দাপ্তরিক কোন চিঠি থানায় আসেনি।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, শুনেছি ওসি আওলাদ হোসেনকে খুলনা রেঞ্জে বদলী করা হয়েছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত লিখিত আদেশ পাইনি। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • পরকিয়ার জেরে মৃত্যু, এখন কঙ্কাল নিয়েও টানাটানি

    পরকিয়ার জেরে মৃত্যু, এখন কঙ্কাল নিয়েও টানাটানি

    কুমিল্লায় দাফনের ৯ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে এক ব্যবসায়ীর কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের ধনুয়াইশ গ্রামের খলিলুর রহমানের কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়। খলিলুর রহমান একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, মৃত খলিলুর রহমান কুমিল্লা সদরের কালিরবাজারে একটি স্টুডিওসহ পাঁচটি দোকানের মালিক ছিলেন। ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলমগীর হোসেনের পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গেও খলিলুর রহমানের সম্পর্ক তৈরি হয়।

    সম্পর্কের এক পর্যায়ে আলগীরের মেয়ে রুনা আক্তারের (১৯) সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন খলিল। খলিলের স্ত্রী ও ছেলে থাকা শর্তেও আলমগীর ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম চাপ দেন রুনা আক্তারকে বিয়ে করার জন্য। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে খলিলকে কালিরবাজারে নিপা স্টুডিও থেকে রুনা আক্তার ও তার মা শাহিদা বেগম পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার আমতলী খটকপুর গ্রামের নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খলিলকে বিয়ের জন্য জোর করলে খলিল অস্বীকার করায় তাকে কৌশলে হত্যা করে।

    পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সকালে খলিলের পরিবারকে জানানো হয় খলিল স্ট্রোক করেছে। তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। খলিলের পরিবার বিশ্বাস করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।

    পরবর্তীতে খলিলের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, মেয়ের সঙ্গে পরকিয়ার সুবাদে আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময় খলিলের থেকে প্রচুর টাকা ধার দেয়। ধার নেয়া টাকা ফেরত চাওয়া ও মেয়েকে বিয়ে না করায় তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়।

    পরবর্তীতে ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের মা মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে রুনা আক্তারকে প্রধান আসামি করে রুনার মা শাহিদা বেগম, বাবা আলমগীর হোসেন, মামা ও খালুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে কুমিল্লা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    আদালত হত্যা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার আদালতের নির্দেশে মৃত খলিলুর রহমানের মরদেহের কঙ্কাল কবর থেকে উত্তোলন করে পিবিআই।

    এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম ফয়সাল, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা শাখার ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন চৌধুরী, কুমিল্লা কালির বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিকান্দার আলী উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা শাখার ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন চৌধুরী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা দীর্ঘদিন তদন্ত করে বিভিন্ন ধরনের হত্যার ক্লু পেয়েছি। যেহেতু মৃত্যুর পর মরদেহটির কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি সেহেতু মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের কাছে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য মরদে উত্তলোন করা হয়েছে। কঙ্কালটির ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার পুণরায় দাফন করা হবে।

  • সংসদে পাত্তা পাচ্ছে না এমপিদের আনা আইন

    সংসদে পাত্তা পাচ্ছে না এমপিদের আনা আইন

    সংসদে তাদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু জাতীয় সংসদে সরাসরি উপস্থাপিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) আইন বা বিলগুলো পাস হচ্ছে না। বর্তমান সংসদে তাদের আনা একটি আইনও পাস হয়নি। এমনকি সংসদ নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের আলাদা আলাদা ধারা পরিবর্তনের জন্য আনা বিলও গুরুত্ব পাচ্ছে না।

    অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়া বিলের পর সংসদে উত্থাপিত আইনগুলো পাস হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আইন প্রণয়নে এমপিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। গত চার অধিবেশনে কোনো বেসরকারি বিলই উত্থাপন হয়নি।

    প্রসঙ্গত, সংসদের কার্যপ্রণালীবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী ছাড়াও অন্য এমপিরা বিল আনতে পারেন। এ জন্য ১৫ দিন আগে সংসদ সচিবের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে বিলের তিনটি অনুলিপি। সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি মনে করলে বিলটি পাসের সুপারিশ করে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ কমিটি একটিও বৈঠক করেনি। তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন তিনি। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় জিল্লুল হাকিমকে (রাজবাড়ী-২)।

    ওই সময়ের সভাপতি আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘সরকারি বিলগুলোও কিন্তু এমপিদের মাধ্যমেই পাস হয়। আইন মন্ত্রণালয় বিলগুলোর খসড়া করলেও সংসদে উত্থাপনের পর তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করেন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। তবে বেসরকারি বিলগুলো বেশি করে পাস হওয়া উচিত। পাস হয় না বলেই কমিটি বৈঠকও করে না।’

    স্বাধীনতার পর ২৭৩ বিল উত্থাপন, পাস মাত্র ৯টি
    সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদে এমপিরা সরাসরি ১৫টি বিল (১৯ মার্চ পর্যন্ত) আনলেও পাস হয়নি একটিও। শুধু চলতি সংসদ নয়, বিগত ৯টি সংসদের এমপিদের বিলগুলো পাসের নজির খুবই কম। দশটি সংসদে এখন পর্যন্ত ২৭৩টি বিল আসলেও পাস হয়েছে মাত্র ৯টি। প্রথম সংসদে এ ধরনের কোনো বিল পাওয়া যায়নি। তবে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বেশি বিল আনা হয়েছিল। এ সংসদে ৭৪টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র একটি। বিগত নবম সংসদে সবচেয়ে বেশি বিল পাস হয়। ওই সংসদে ২১টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র তিনটি।

    এছাড়া দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে ৪৭টি বিলের মধ্যে পাস হয় মাত্র দুটি। তৃতীয় সংসদে পাঁচটি বিলের মধ্যে পাস হয় একটি। চতুর্থ জাতীয় সংসদে ছয়টি বিল আনা হয়, পাস হয়নি একটিও। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে বেসরকারি কোনো বিলই পাওয়া যায়নি। সপ্তম জাতীয় সংসদে ৫১টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র একটি। অষ্টম সংসদে ৫৪টি বিলের মধ্যে একটি পাস হয়। নবম সংসদে ২১টি বিলের মধ্যে পাস হয় তিনটি আর চলতি দশম সংসদে ১৫টি বিল আনা হয়। আলোর মুখ দেখেনি একটিও। তবে স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) আনা সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭ এর আইডিয়া নিয়ে আরেকটি নতুন বিল আনে সরকার।

    আর কত ঝুলে থাকবে আইনগুলো
    গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক প্রার্থী সর্বোচ্চ তিন আসন থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী, এক ব্যক্তি দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রার্থী হতে পারবেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একই সময়ে ১০০ বা ২০০ যে কয়টি আসন থেকে ইচ্ছা নির্বাচন করতে পারবেন। এই বৈপরীত্য দূর করার জন্য পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মো. রুস্তম আলী ফরাজী বিগত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭ (সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ সংশোধন) নামে একটি বিল আনেন। কিন্তু আজও তা পাস হয়নি। তবে গত মাসে বিলটি সংসদে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় কমিটি।

    এমপিদের উত্থাপিত বিলগুলো পাস হওয়া উচিত কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘অনেক বিল আছে যা পাস করলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেগুলো পাস করা যেতে পারে।’

    সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বৈপরীত্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “সংবিধানে এত বড় একটি ব্যত্যয় থাকতে পারে না। এটা নিয়ে সংসদে আমি ছাড়া আর কেউ মুখ খোলে না। এটা সংবিধানে কোনোভাবেই থাকতে পারে না। এটা আইনের চরম ব্যত্যয়। পৃথিবীর কোনো দেশের সংবিধানে এ ধরনের ‘ভুল’ নাই। এটা একটি মারাত্মক ব্যত্যয়।”

    ‘সংবিধানের আদি প্রণেতারা এটা হয়তো তখন বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখন এটা আমি সংশোধনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এটা পাস করলে তাদের (সরকার) কী অসুবিধা হয় তা বুঝি না!’

    ‘এমপিদের উপস্থাপিত বিলগুলো পাস করলে সংসদ অর্থবহ, প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হবে; এই পার্লামেন্টকে মানুষ মূল্যায়ন করবে’- যোগ করেন তিনি।

    বেসরকারি বিল যারা এনেছেন
    দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত ১৫টি বিলের মধ্যে পাঁচটি এনেছেন মো. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩)। তিনি জেলা জজ আদালত মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (এখতিয়ার) বিল, ২০১৫; সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৪ (সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের সংশোধন); ন্যায়পাল (সংশোধন) বিল, ২০১৭; সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭; (সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের সংশোধন) এবং নামাজ কায়েম বিল, ২০১৭ আনেন সংসদে।

    এছাড়া মো. ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) ‘অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা (অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত) বিল; সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯) ‘বাংলাদেশ পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকরণ বিল, ২০১৬’; এ কে এম ফজলুল হক (শেরপুর-৩) ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের অধিকার বিল, ২০১৬’ এবং ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২) ‘বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার বিল, ২০১৬’ সংসদে আনেন।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন  বলেন, ‘এখন সংসদে বিল নিয়ে কথা হয় না। কথা হয় অন্যকে হেয় করার জন্য। আর সংসদে বেশির ভাগ সময় স্তুতি হয়। তাই সরকারি বিলগুলো খুব কম সময়ে পাস হয়। বেসরকারি বিলগুলো তো পাত্তাই পায় না।’

  • গাজীপুরে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    গাজীপুরে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

    আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে ২৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

    রবিবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন।

    বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মোহসিন রেজা বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কমিশন ভূমিকা রাখবে

    গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কমিশন ভূমিকা রাখবে

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

    রবিবার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ সহকারী সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা পদে নবনিযুক্ত ১৯১ জনের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

    মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুল আলম ও একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ খালেদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ফলাফলের জন্য তিনজন চৌকস প্রশক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।

  • বরিশালে প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনকারী অনিক চৌধুরী আটক অতঃপর…..

    বরিশালে প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনকারী অনিক চৌধুরী আটক অতঃপর…..

    অনিক রহমান ওরফে প্লেবয় অনিক চৌধুরী। দেখতে সুদর্শন যুবক। চাল চলনে সমাজের উচ্চ শ্রেণীর ছাপ। বরিশাল নগরী দাপিয়ে বেড়ান চাচা ডাঃ মজিবুর রহমান রিপন ওরফে এমআর চৌধুরী বিলাশবহুল গাড়ী নিয়ে। বসবাস করেন নগরীর চৌমাথা সিএন্ডবি রোড চাচার আলিশান বাড়ী চৌধুরী প্যালেসে। বখাটে ওই যুবক কোন চাকরি না করলেও নিজেকে একটি বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয় থেকে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পাস করা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বরিশাল নগরীতে ঘুড়ে বেড়ায়। নিজের সুদর্শন চেহারা আর চাচার গাড়ী বাড়ী দেখিয়ে একের পর এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। এরপর মেয়েদের বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে মেয়ের পরিবারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়ের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করে। মেয়েদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করে সবকিছুই মোবাইল ফোন এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতো।

     বখাটে অনিক

     

    গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮ টার দিকে নগরীর লাইন রোডের মুখে সদর রোডে একটি মেয়েকে মারধর করে বখাটে অনিকসহ ৪/৫ যুবক। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। উপস্তিত জনতা বখাটে অনিককে গণধোলাই দেয়। পরে সংবাদকর্মীরা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং বখাটে অনিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এরপরই থানায় ছুটে আসে বখাটে অনিকের বাবা অনিচুর রহমান ওরফে বাবুল চৌধুরী ও ডাঃ মজিবুর রহমান রিপন ওরফে এমআর চৌধুরীসহ তাদের বন্ধু প্রভাবশালী এক পুলিশ কর্মকর্তা। তারা বখাটে অনিককে থানা হাজত থেকে ছাড়িয়ে নিতে জোর লবিং তদ্বির চালায়। হামলার শিকার ছাত্রীটি তার উপর হামরার ঘটনার বিচার চেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহ্ফুজুর রাহমানকে ফোন দিয়েছে বলে ভুক্তভুগী ওই ছাত্রী জানায়। এর পরই কঠোর অবস্থানে যায় পুলিশ। এরপর অনিকের বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতনের এজাহার দাখিল করে ওই ছাত্রী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ রাতেই ডাক্তার মজিবুর রহমান রিপন ওরফে এমআর চৌধুরীর সিএন্ডবি রোডের চৌধুরী প্যালেসে অভিযান চালিয়ে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করে।

     অনিক পুলিশের হাতে আটক

    পরে শুক্রবার দুপুরে আইটি বিষয়ে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার জিহদ রানাকে থানায় খবর দেয় কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান। ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা জানান, বখাটে অনিকের গুগল ড্রাইভ ও গুগল ফটো ড্রাইভে প্রায় ৮/১০ টি মেয়ের ৪ হাজার অশ্লীল ছবি ছিল। এগুলো পুলিশের উপস্তিতিতে বখাটের অনিকের বাবা মা ও আত্মীয় স্বজন ও পুলিশের সামনে ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীদের সাথে মেলামেলা করে ঘনিষ্ট মূহুর্তে ছবি ও ভিডিও করে অর্থ আদায় করাই বখাটে অনিকের ব্যবসায়।
    ভুক্তভুগী ছাত্রী অভিযোগ করেন-বখাটে অনিক তাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। এরই মধ্যে সে জানতে পারে বখাটে অনিক মেয়েদের বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করে এবং তাদের ছবি ও ভিডিও করে রেখে তাদের ব্লাক মেইলিং করে অর্থ আদায় করে। সে বখাটে অনিককে বুঝতে না দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ রাখে। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় নগরীর কালীবাড়ীর মুখে সদর রোডে একটি মেয়ের হাত ধরে যাচ্ছে। মেয়েটি কে জিজ্ঞাসা করলে সে ওই ছাত্রীকে না চেনার অভিনয় করে। এ সময় বখাটে অনিকের হাত ধরে থাকা এইচএসসি পড়–য়া তাজ নামের ওই মেয়েটিকে হামলার শিকার ছাত্রী জানায় তাকে বিয়ের জন্য অনিক প্রতিদিন তার বাসার সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কান্না করে। এ সময় বখাটে অনিক ছাত্রীটির উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের নিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে বখাটে অনিক

    পরে বখাটে অনিকের বাবা ও চাচা এবং কয়েকজন প্রভাশালীর চাপের মুখে থানায় দাখিল করা এজাহার তুলে নেয়।
    তবে পুলিশ সূত্র ও ভুক্তভুগী ছাত্রী জানিয়েছে বখাটের অনিক, তার বাবা আনিসুর রহমান ওরফে বাবুল চৌধুরী তার চাচা থানায় ৬শ টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকার নামা দিয়েছে। অঙ্গীকার নামায় অনিক ও তার বাবা-চাচা উল্লেখ করেছে- অনিক বিয়ের প্রলোভনে কোন ছাত্রীর সাথে এ ধরণের সম্পর্ক তৈরি করে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি তৈরি করে অর্থ আদায় করবে না। এরপর বখাটে অনিক ভুক্তভুগী ছাত্রীর পা ধরে কান্নাকাটি করে মাফ চায়।

    এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার এসি শাহনাজ পারভীন সাংবাদিকদের জানান-অনিক একটি বখাটে ছেলে। ভুক্তভুগী ছাত্রীটি এজাহার তুলে নিয়েছে। এ কারণে বখাটে অনিককে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়।

    বখাটে অনিক থানায় বাবা মায়ের সামনে এক মেয়ের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে শেষ রক্ষা পায়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ওই কলেজছাত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন- অনিক ভুক্তভুগী ওই ছাত্রীর পাশাপাশি আরও একটি ছাত্রীর সাথে প্রেম করত। এ দৃশ্য দেখে ফেলে ওই ছাত্রী। এ নিয়ে কথাকাটির এক পর্যায়ে ছাত্রীটিকে মারধর করে অনিক। ছাত্রী এজাহার তুলে নিয়েছে। অনিক ও তার পরিবার স্টাম্পে অঙ্গীকার করেছে এ ধরনের অপরাধ আর করা হবে না। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
    নগরীর কোতয়ালী থানার সামনেই একটি ছাত্রীকে মারধর করা বখাটে

  • কাউনিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতা পরিচয় পেতে যাচ্ছে নবজাতক সপ্তর্শী

    কাউনিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতা পরিচয় পেতে যাচ্ছে নবজাতক সপ্তর্শী

    গত বছরের জানুয়ারী মাসে ধর্ষণের শিকার হন অঞ্জনা (২৫) নামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।  পিতা- অতুল চন্দ্র শিকদার, সাং- কাউনিয়া ১ম গলি দিঘীর দক্ষিণ পশ্চিম কোনায়, থানা- কাউনিয়া, বিএমপি, বরিশাল কে বা কাহারা ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে উক্ত অঞ্জনা গর্ভবতী হয়। তাহার অন্তঃসত্বার বয়স ২২ সপ্তাহ ছিল।

    উক্ত ঘটনা কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম জানা মাত্রই ভিকটিমকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ভিকটিমের বাবাকে খবর দিয়েথানায় এনে অভিযোগ নিয়ে বাদী করে কাউনিয়া থানার মামলা নং-০২, তারিখ- ০২/১০/১৭ ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) রুজু করেন। নিয়মানুযায়ী অনুযায়ী ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়। ভিকটিম অঞ্জনা জন্মগত ভাবে একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। তাহার এবং তাহার গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে ভিকটিম অঞ্জনাকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীন সেইফ হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে উক্ত ভিকটিম ১ টি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূতপূর্ব কমিশনার জনাব এসএম রুহুল আমীন তার নাম রাখেন সপ্তর্শী।

    মামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ভিকটিম কখোনই বলে নাই যে, কে তাকে ধর্ষন করেছিল। এরকম একটি প্রতিকূল পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ নিজের মেধা বুদ্ধি পেশাদারিত্বের কারণে এবং ঊর্ধক্ষতন পুলিশ কর্মকর্তাগণের সার্বক্ষনিক নিবিড় পর্যবেক্ষন ও দিক নির্দেশনার ফলে একজন মাত্র সন্দিগ্ধ ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সেপোর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উক্ত সন্দিগ্ধ ব্যাক্তির ডিএনএ নমুনা নিয়ে ভিকটিম অঞ্জনার কন্যা সন্তান সপ্তর্শীর সংঙ্গে ডিএনএ তুলানামূলক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ এনালিষ্ট মতামত প্রদান করেন যে, ডিএনএ পরীক্ষায় সুদৃঢ় ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সন্ধিগ্ধ আসামী মিঠুন বাড়ৈ, পিতা- মৃত পরেশ বাড়ৈ, সাং- কাউনিয়া প্রধান সড়ক, সিলেট ফ্যাক্টরী, খ্রিষ্টান কলোনী, থানা- কাউনিয়া, বিএমপি, বরিশাল ভিকটিম অঞ্জনার কন্যা সন্তান সপ্তর্শীর জৈবিক পিতা বা জন্মদাতা। অর্থাৎ আসামী মিঠুন বাড়ৈ এর ধর্ষণের ফলেই ভিকটিম অঞ্জনা গর্ভবতী হয় এবং কণ্যা সন্তান সপ্তর্শীর জন্ম দেয়। উক্ত মামলার সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য সাফল্য হলো- মামলার এজাহারে কোন আসামীর নাম নাই। অধিকন্তু মামলার ভিকটিমও বলে না কে তাকে ধর্ষণ করেছিল। এমনিই একটি সম্পূর্ন কঠিন অবস্থা থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই/সেলিম রেজা এর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পেশাদারিত্ব মনোভাবের কারণে এবং অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম পিপিএম এবং উধর্ক্ষতন সকল অফিসারদের নিবিড় তদারকির ও সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ভিক্তিক তদন্তের কারণে মামলা তদন্তে এতবড় সাফল্য হয়েছে। এ জাতীয় ঘটনায় এরকম সাফল্য খুব বিরল। বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য এবং শিক্ষনীয়। মামলাটি তদন্ত শেষে কাউনিয়া থানার অভিযোগপত্র নং-১৩৬, তারিখ- ৩১/৫/২০১৮ ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হইয়াছে। মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো কোন লোক অযথা এই মামলায় হয়রানী হয় নাই। অথচ এ ধরনের মামলায় হয়রানী হওয়ার মত সুযোগ ছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এতসুক্ষ এবং আন্তরিকতার সহিত তদন্ত করেছেন ফলে একমাত্র সন্দিগ্ধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পরই মামলার ঘটনার প্রমাণিত হয়ে যায়। বিষয়টি খুবই প্রশংসার যোগ্য এবং সফলতার দাবী রাখে।

  • মাদক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী

    মাদক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী

    মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, মাদকের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    বুধবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকালে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন।

    দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়। এতে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক বিষয়ক সাংসদদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সাংসদ রুস্তুম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। মাদকের সাথে জড়িতদের শাস্তি আরও কঠোর করা হচ্ছে। মাদকের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান করে বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে সংশোধন করা হবে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি জানান, গত মে মাস থেকে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা হয়েছে। আটক হয়েছে ২০ হাজার ৭৬৭ জন।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী জানান, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি স্থাপনে শান্তি চুক্তির অনেক ধারা এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকিগুলোও বাস্তবায়নের পথে। অবহেলিত ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে নানা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অপর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

  • কখনো জাতীয় পার্টির এমপি ছিলাম না: অর্থমন্ত্রী

    কখনো জাতীয় পার্টির এমপি ছিলাম না: অর্থমন্ত্রী

    জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করা হলেও তিনি নীরব ছিলেন। কিন্তু তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন, এই দাবি করতেই চটে গেলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। প্রতিবাদ করলেন। বললেন, নো। কখনো জাতীয় পার্টির এমপি বা সদস্য ছিলাম না।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার সম্পূরক বাজেট আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহীত এ প্রতিবাদ করেন।

    তিনি বলেন, আমি আগেও কয়েকবারই বলেছি, কিন্তু জাতীয় পার্টির সদস্যরা সেটা অস্বীকার করে যান। আজকেও অস্বীকার করেছেন। আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি কোনো দিন জাতীয় পার্টির সদস্যও ছিলাম না। কোনো দিন জাতীয় পার্টির মন্ত্রীও ছিলাম না। অনেকবারই এটা বলেছিল।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জেনারেল এরশাদ যখন সামরিক শাসক ছিলেন সেই সময় মন্ত্রী ছিলাম, জাতীয় পার্টির তখন জন্মও হয় নাই। জাতীয় পার্টি জন্ম হওয়ার আগে আমি সেই সরকার থেকে পদত্যাগ করে চলে যাই। কাজেই আমার অনুরোধ হবে ভবিষ্যতে যেন জাতীয় পার্টির সদস্যরা মনে রাখেন, যদি মনে না রাখেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন জাপা এমপিদের বিরুদ্ধে।

    এসময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, জাতীয় পার্টি গঠনের পূর্বেই এরশাদ সাহেবের সামরিক শাসনের সময় অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেব বাজেট দিয়েছিলেন। উনি (অর্থমন্ত্রী) কখনো জাতীয় পার্টি করেননি। তবে আমি আশ্বস্থ করতে চাই, ভবিষ্যতে তার (অর্থমন্ত্রী) মতো জ্ঞানি, অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জাতীয় পার্টি তাদের দলে স্থান দেবে না। এরজন্য (জাতীয় পার্টিও মন্ত্রী বলায়) আপনাকে (অর্থমন্ত্রী) আদালতে যেতে হবে না। কিন্তু আপনি ব্যাংক ডাকাতদের যে প্রটেকশন দিয়েছেন তার জন্য আদালতে যেতে হবে।

    পরে জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন বলেন, আমি তাকে (অর্থমন্ত্রী) জাতীয় পার্টির আমলের মন্ত্রী কথাটি বলিনি। তিনি খুবই শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, কিন্তু সংসদে আমরা কিন্তু সহকর্মী। অর্থমন্ত্রী বয়স্ক হলেও অন্য সংসদ সদস্যকে এভাবে ধমকানো তার সঠিক হয়নি।