Category: প্রশাসন

  • শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পুলিশের

    ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহিংসতা নয়, ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করতে হবে। তারা আমাদের সন্তান। এই অল্প বয়সে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে দেখে আমি মুগ্ধ হয়েই তাদেরকে এই লাল গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানালাম। সেই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় পাশে থাকবে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ।’

    এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা।

    jagonews24

    রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদ এবং ৯ দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার সময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল তুলে দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

    শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেয় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। এ সময় সকলের হাতে লাল গোলাপ দেখা যায়।

    jagonews24

    মানববন্ধন স্থলে উপস্থিত হয়ে ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। পরে মানববন্ধন শেষে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন হবে

    ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন হবে

    বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে যাচ্ছি। আমরা হাতে লণ্ঠন দিচ্ছি, বাড়ি আলোকিত করছি। মানুষের সাহস আলোকিত করছি, জীবন আলোকিত করছি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দেশে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা সাফল্যে থাকব। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চে আয়োজিত সৌরবাতি বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা সমগ্র বাংলাদেশে বিদ্যুতায়ন করতে যাচ্ছি। এই বাংলাদেশ হবে সফলকাম আধুনিক বিশ্বের পরিবেশ বান্ধব একটি বাংলাদেশ।

    বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে আলোর বার্তা সবার হাতে চলে আসছে। শেখ হাসিনা সমগ্র গ্রামকে আলোকিত করছেন। আপনাদের একমাত্র বার্তা হবে, আগামীতে যে করেই হোক নৌকা মার্কার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি মাথা উঁচু করে বিশ্বের কাছে এক নম্বর দেশ হতে চাই, তাহলে নৌকা মার্কার কোনো বিকল্প নাই। জামায়াত-বিএনপি জোট প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে ষড়যন্ত্র করতে যাচ্ছে। আমাদেরকে মোকাবেলা করতে হবে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জন কেনেডি জাম্বিলের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়াও এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আশরাফ উদ্দিন, নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

    এদিন নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবতেদায়ী-কওমী-নূরাণী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা সহ ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে সৌরবাতি বিতরণ করা হয়।

  • ১১ জেলায় নতুন ডিসি

    ১১ জেলায় নতুন ডিসি

    ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশ জারি করা হয়েছে। জেলাগুলো হল- কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ফেনী, খাগড়াছড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, শেরপুর, খুলনা, সুনামগঞ্জ ও বান্দরবান। আর এই ১১ জেলার বর্তমান ডিসিদের সরকারের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    নতুন ডিসিদের মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তন্ময় দাসকে নোয়াখালীতে, দুদক কমিশনারের একান্ত সচিব এস এম ফেরদৌসকে মানিকগঞ্জে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে ফেনীতে, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডেজ এম নুরুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনকে নীলফামারীতে, আইএমইডির উপ-সচিব আনার কলি মাহাবুবকে শেরপুরে, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে খুলনায়, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে সুনামগঞ্জে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম বান্দরবানের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

    বান্দারবানের ডিসি মো. আসলাম হোসেনকে কুষ্টিয়ার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার ডিসি মো. জহির রায়হানকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক, খাগড়াছড়ির ডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো. মাহমুদুল হাসানকে রাজউকের পরিচালক, নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম, শেরপুরের ডিসি মল্লিক আনোয়ার হোসেনকে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক এবং সুনামগঞ্জের ডিসি মো. সাবিরুল ইসলামকে রাজউকের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    নোয়াখালীর ডিসি মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব, মানিকগঞ্জের ডিসি নাজমুস সাদাত সেলিমকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    ফেনীর ডিসি মনোজ কুমার রায়কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব, খুলনার ডিসি মো. আমিন উল আহসানকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব পদে বদলি করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই’

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই’

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

    রবিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষক আসছেন। তারা সার্বিক পরিস্থিতি কিছুক্ষণ পর পর্যবেক্ষণ করবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শনিবার পর্যন্ত যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে সেসবের কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু পাওয়া যায়নি। যেগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয় হচ্ছে অনেক প্রার্থী পোলিং এজেন্টই দেন না। সে বিষয়টাও আমরা খেয়াল করছি। এদিকে সকাল থেকেই বরিশাল নগরের এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া নগরের পয়েন্ট থেকে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

  • জমজমাট প্রচারণা শেষে থমথমে তিন সিটি

    জমজমাট প্রচারণা শেষে থমথমে তিন সিটি

    তিন সিটিতে শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা। রোববার সকাল থেকেই এ তিন সিটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। টানা কদিনের জমজমাট প্রচারণা শেষে সবই যেন থমকে আছে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনের জন্য। তবে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তিন সিটিতে মোট ১৭ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগর পিতা নির্বাচিত করবেন।

    রাসিক

    এই নগরীর মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন পুরুষ এবং এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী। ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

    এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আরও চার প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, ভোটের নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বপালন করছেন অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

    তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে ও পরে তিন দিন পুরো নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ঘিরেও থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে ভোটারদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই নগর পুলিশ কর্মকর্তা।

    সিসিক

    সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

    এবার নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ২৭টি টিম কাজ করছে। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য থাকবেন।

    Election

    তবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সমূহে ২ জন করে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এছাড়া ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ৯টি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।

    সিসিক নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

    বিসিসি

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।

    বিসিসি নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ন (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ৬২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা।

    অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার মিলিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ছাড়ও পুলিশের একাধিক দলকে টহল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিজার্ভ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচারের জন্য ১০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

    এছাড়া ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩শ সদস্য কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

  • হলি আর্টিসান মামলা : বিচারের জন্য মহানগর আদালতে বদলি

    হলি আর্টিসান মামলা : বিচারের জন্য মহানগর আদালতে বদলি

    রাজধানী গুলশানের হলি আর্টসানে জঙ্গি হামলার ঘটনার দায়ের করা মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) সাইফুজ্জামার হিরো এই আদেশ দেন।

    গুলশান থানার আদালতের নিবন্ধন কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালত। মামলাটি এখন সিএমএম আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে মামলাটির বিচার কার্যক্রম হবে।

    এর আগে ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর। এর মধ্যে ৬ জন কারাগারে ও দুই জন পলাতক রয়েছে।

    কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।

    পলাতক দুই আসামি হলেন- শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দানারে সুপারিশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।যার মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে ও ৫ জন হলি আর্টিসানেই নিহত হয়েছেন।

    গুলশানে হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত পাঁচজন হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

    বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এসময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।

    ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

  • হলুদ সাংবাদিকতার কাছে হার মানার লোক আমি নই- বরিশাল পুলিশ কমিশনার

    হলুদ সাংবাদিকতার কাছে হার মানার লোক আমি নই- বরিশাল পুলিশ কমিশনার

    আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী, শুভাকাংখী, শত্রু মিত্র সকলের উদ্দেশ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা-পিতা-নাগরিক হিসাবে কিছু অনুভুতি ব্যক্ত করছি।

    অতি সম্প্রতি “তথা কথিত” কিছু পত্রিকা যেমন মানবজমিন, ইনকিলাব ও ভুঁইফোড় অনলাইন পত্রিকায় বরিশালের পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতা পিটিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিকরা আবার মফস্বলীয় ঘরনার আদম সন্তান যারা নিজেদের খুব জ্ঞানী আর ক্ষমতাবান ভাবেন।

    ভাষা আর শিক্ষা দীক্ষায় তারা আবার বরিশালের আঞ্চলিকতার একনিষ্ঠ অনুরাগী-জোর করেও তাদেরকে দিয়ে শুদ্ধ বাংলা ভাষা বলানো যায় না। এর মধ্যে আবার যুগান্তর নামক পত্রিকার মাননীয় মফস্বলীয় সাংবাদিক ভাইও বিরাট মওকা পেয়ে কঠিন মার-মার কাট-কাট রির্পোট করে রীতিমত কোন আন্তর্জাতিক খেতাব অর্জনের খোয়াব দেখছেন!!

    বাংলাদেশের এই শ্রেনীর সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা সাংবাদিকতার মত মহান পেশাকে আরো মহিমান্বিত করে যাচ্ছেন-আপনাদেরকে সাধুবাদ জানাচ্ছি!

    আপনাদের সম্পাদকদের কাছে নিচের প্রতিবাদটি পাঠানো হয়েছে। ছাপানো হবে না হয়তো। তাই ফেসবুকই ভরসা।

    দীর্ঘ বিশ বৎসর মাঠে ময়দানে আর পুলিশ হেডকোর্য়াটার্সে বহু চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে সৎ-কর্মঠ-প্রতিবাদী-ধার্মিক-অসাম্প্রদায়িক পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। কতিপয় পদলেহনকারী আর অসৎ-ধান্ধাবাজ সহকর্মীদের শত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আজকের অবস্থানে এসেছি। শুধুমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায়।

    কতিপয় ভুঁইফোড় সাংবাদিকের হলুদ সাংবাদিকতার কাছে হার মানার লোক আমি নই। কোন রাজনৈতিক নেতার বুকে অতো বড় কলিজা নেই যে আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধোর করবে। আমার জীবনের প্রতিটি কাজ আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ঠ করার জন্যেই করে থাকি এবং আমৃত্যু করে যাবো-ইনশাআল্লাহ।

    যে ঘটনা সুন্দরবন ১১ লঞ্চে ঘটেছে তা অনাকাংখিত-পত্রিকার অতিরঞ্জনের ফলে আমি, আমার সহকর্মীগন বিব্রত, আহত তবে একই সাথে সংযত। দুষ্কৃতিকারীরা যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন আপনাদের কৃতকর্মের জন্য আইনের আওতায় আপনাদের আনা হবে ইনশাআল্লাহ।

    আর ছিঁচকে মফস্বলীয় কতিপয় মেরুদন্ডহীন সাংবাকিকদের বলছি-হলুদ সাংবাদিকতার জন্যে আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার সকল নাগরিকের মত একজন পুলিশ কর্মকর্তারও রয়েছে-জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের এই সোনার বাংলায়!

    দেখা হতে পারে আদালতে ইহকাল বা পরকালে। সত্য প্রতিষ্ঠায় পোস্টটি শেয়ার করে কৃতজ্ঞ করবেন-ধন্যবাদ।

  • পুলিশ কমিশনারকে লাঞ্চিত করে ঢাকায় গেলেন আ’লীগ নেতা

    পুলিশ কমিশনারকে লাঞ্চিত করে ঢাকায় গেলেন আ’লীগ নেতা

    বরিশালে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এসে ঘটনাচক্রে পুলিশ কমিশনারের ওপর চড়াও হলেন দক্ষিন ঢাকা আওয়ামী    লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। একটি যাত্রীবাহি লঞ্চের কেবিনে এই নেতা প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার মর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে পেটালেন। এমনকি ওই সময় পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান ছুটে গেলে তাকেও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানাগেছে। মামলায় ১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ অজ্ঞাত আসামি করে ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যারাতে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালের এই ঘটনায় বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি বরিশাল পুলিশের ইমেজের বিষয় হওয়ায় কেউ মুখ খুলছেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশও রয়েছে নিরব-নিশ্চুপ। তবে বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করার বিষয়টি অনুমান করা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওই লঞ্চের একাধিক যাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন- ঢাকা দক্ষিন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ সুন্দরবন ১১লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের সম্মুখে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রায় একই সময় ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান লঞ্চঘাটে যান। সরকারী এই কর্মকর্তাদের প্রোটকল দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান। কিন্তু ঘটনাচক্রে সচিবকে পিছু ফেলে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা চলে যান লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের লাউঞ্জে। সেখানেই গিয়ে দেখতে পান অর্ধশতাধিক লোকের মধ্যে বসেছিলেন আ’লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। এই নেতার সাথে থাকা অপরাপর বেশ কয়েক ব্যক্তি পিস্তল হাতে নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে কমিশনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম ছুটে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করেন। এবং পিস্তলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু আ’লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ ও তার সাথে থাকা লোকজন পুলিশকে কোন ধরনের ‘থোরাও কেয়ার’ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী ছুটে গিয়ে তাদের দ্রুত স্থান ত্যাগের অনুরোধ করেন। এই সময়ে তুমুল বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে শাহ আলম মুরাদের সাথে থাকা সৈকত ইমরানসহ ২০ থেকে ২৫জন একত্রিত হয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম ও দেহরক্ষী হাসিবকে এলোপাতারি পিটুনি দেয়। উদ্বুদ্ব পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনার চেয়েছিলেন সকলকে বের করে দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার। কিন্তু ক্ষুব্ধ শাহ আলম ও তার বাহিনী পুলিশ কমিশনারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে শাহ আলম কমিশনারকে লাঞ্চিত করেন বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান। এমনকি কমিশনারকে এই সময়ে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন তার সাথে থাকা ইমরান সৈকতসহ বেশ কয়েকজন বলেও জানান উপস্থিত লঞ্চ যাত্রীরা। এই চিত্র ক্যামেরায় ধারন করতে গেলে কমিশনারের সঙ্গি ওবায়েদকেও মারধর করে তারা। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে শাহ আলমের লোকজন। আ’লীগ নেতার পুরো সন্ত্রাসের চিত্র লঞ্চের অনেক যাত্রীকে হতাশ-বাকরুদ্ধ করেছে।

    পরিস্থিতি বেগতিক অনুমানে নিয়ে পুলিশ কমিশনার বিএমপি কন্ট্রোল রুমে দ্রুত ফোন করে ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ ডেকে নেয়। কিন্তু বরিশাল পুলিশ চাইছিল না সরকারের দুই জন সচিবের উপস্থিতিতে এই ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আসুক। যে কারণে ঘটনার পর সকলকে গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিতে লঞ্চটি থামিয়ে রাখা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    তবে একটি সূত্র দাবি করছে- এই ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিক শাহ আলম মুরাদ কেন্দ্রীয় আ’লীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। এর পরেই কমিশনারের মোবাইল ফোনে কোন ব্যক্তি বিশেষ ফোন করে কথা বলেন। মূলত মুঠোফোনে আলাপচারিতার পরই বরিশাল পুলিশ গ্রেফতারের মতো কোন ঘটনার দিকে না গিয়ে লঞ্চটি ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা লঞ্চের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই লঞ্চে ঢাকার যাত্রা নিরাপদ নয় মনে করে টার্মিনালেই নেমে যান। যদিও লঞ্চটি ছেড়ে দেওয়ার আগেই পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সিসিটিভি থেকে সংগ্রহ করে রাখেন বলে শোনা গেছে।

    এই বিষয়টি নিয়ে রোববার দিনভর বরিশাল পুলিশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইলেও দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা মুখ খোলেন নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানা পুলিশও বিষয়টি স্বীকার করছে না। তবে গভীর রাতে পুলিশের একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে- এই ঘটনায় শাহ আলম মুরাদের নাম উল্লেখ না করে সৈকত ইমরানের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নাম্বার ৩৩/১৮। তারিখ ১৫ জুলাই। মামলায় তাদের ১৪২/১৪৩/১৮৬/৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার অনুঘটক শাহ আলম মুরাদকে কেন নামধারী আসামি করা হচ্ছে না সেই সম্পর্কে বরিশাল পুলিশের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য আসেনি। তাছাড়া অভিযুক্তদের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

    তবে এই ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এক আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন- পুলিশ কমিশনার শাহ আলম মুরাদকে সঙ্গীদের নিয়ে বসে থাকতে দেখতে পান। ওই সময় তাকে দেখে কেন আ’লীগ নেতারা উঠে দাড়ালেন না এই বিষয়টিতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। মূলত এই কারণেই তর্কাতর্কির একপর্যায়ে এই উদ্বুদ্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুনের ভাষ্য হচ্ছে- তিনি ঘটনা সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন। তাছাড়া কেউ তাকে কিছু অবহিতও করেননি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় সুন্দরবন-১১ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে। তবে তারা ভিআইপি লাউঞ্জে কিছু একটা হয়েছে বলে জানালেও কি হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবী করেছেন। তবে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি, ছোট খাট একটা ঘটনা হয়েছে।

    তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেছেন- ঢাকা থেকে আসা কতিপয় বাজে ছেলেপান তাদের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, দক্ষিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ শনিবার সকালে অর্ধশত লোকজন নিয়ে বরিশালে এসে দলীয় মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করেন।’’

    যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়, জন প্রশাসন মন্ত্রনায়লের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে বিদায় জানানোর জন্য বরিশাল কেন্দ্রীয় লঞ্চঘাটে অস্থান রত সুন্দরবন ১১ লঞ্চে যায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (বিপিএম পিপিএম) ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মহফুর রহমান। এসময় তারা লঞ্চের ভিআইপ লাউঞ্জে প্রবেশ করেই দেখতে পায় দাড়িওয়ালা মধ্য বয়সী এক ব্যাক্তি একটি বড় অস্ত্র হাতে নিয়ে সোফার উপরে বসে আছে। এসময় ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) তাদের নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভিআইপ লাউঞ্জে উপস্থি ভিআইপ যাত্রী ব্যতীত অতিরিক্ত লোকজনেক সংরক্ষিত এলাকাছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে এবং ভিআইপি লাউঞ্জে দুই সচিব আসার বিষয়ে অবহিত করেন।
    এসময় পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম নির্বাচন ও দুই সচিবের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অস্ত্রধারী ওই ব্যাক্তিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তি তার অস্ত্রের লাইসেন্স না দেখাতে চাইলে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী কনস্টেবল হাসিব ওই ব্যক্তিকে ভিআইপি লাউঞ্জথেকে বাহিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তির সাথে থাকা সৈকত ইমরান নামের এক ব্যাক্তি কমিশনারের দেহরক্ষীর সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়ায়। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যাক্তি ও সৈকত ইমরান উত্তেজিত হয়ে তাহাদের সাথে থাকা সঙ্গীদের নিয়ে পুলিশ কনস্টেবল হাসিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে এলোপাথারী মারপিট করে। এসময় পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম তাহাদের থামাতে চেষ্টা করলে কনস্টেবলসহ তার উপর এলোপাথারীভাবে মারপিট করতে থাকে। মারপিটে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা, ফুলা জখম কলে। এসময় তারা তাদের পরিচয় দিয়ে বলে, আমরা পুলিশে লোক, আমারা এখানে সরকারী নিরাপত্তার কাজে এসেছি। পরিচয় দেয়ার পরেও অস্ত্রধারী ব্যক্তি ও তাহার সাথে থাকা সৈকত ইমরানসহ আরো ২০থেকে ২৫ জনে মিলে তাদের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাহার অস্ত্র দিয়ে পুলিশ কমিশনারে স্টাফ অফিসার ও বডিগার্ড মোঃ হাসিবকে হত্যার উদ্ধেশ্যে গুলি করারচেষ্টা করে। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরন করারচেষ্টা করে। এসময় বিএমপি মিডিয়া বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল ওবায়েদ ঘটনার ছবি তুলতে চাইলে তাকে মারপিট করে ক্যামেরা ছিনিয়েনেয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে কগুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
    এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কমিশনার বিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানালে মামলার বাদি এসআই রিয়াজসহ কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিন, কোতয়ালী মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অতিরিক্তফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রন করে। এসময় উল্লেখিত দুই সচিব লঞ্চে অবস্থান করলেও ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকতে পারছিলোনা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা উভয় সচিবকে ভিআইপ লাউঞ্জে নিয়ে যায়।

  • বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ও বকশীর ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁস!

    বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ও বকশীর ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁস!

    বরিশাল কোতয়ালি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মর্যাদার এক কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের একটি গোপন ভিডিওচিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার কনস্টেবল (বকশী) ওই ঘুষ বাণিজ্যের রফাদফার মধ্যস্তততা করেছেন।

    বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- ওই মামলাটির চার্জশিট আদালতে জমা দেয়ার পরও অভিযুক্তদের কাছে ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। বুধবার (১১ জুলাই) বরিশাল শহরের একটি রেস্তোরাঁয় রফাদফার সেই ভিডিওচিত্র প্রকাশ পেলে শুরু হয় তোলপাড় (!) ওই ভিডিওচিত্রে প্রকাশ পেয়েছে- বকশি ১২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছেন। যদিও দাবির ১২ হাজার টাকার ১০ হাজার টাকা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপায়ন হস্তগত করতে চেয়েছিল। অবশ্য এই বিষয়ে শহরের কোন এক জায়গা থেকে ফোন করে বকশীকে দিক নির্দেশনাও দিচ্ছিলেন দীপায়ন। কিন্তু আদালতে চার্জশিট দেয়ার পরে পুলিশ বদলাতে পারে কিনা বা সেখান আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার কোন ক্ষমতা রাখে কিনা এই সন্দেহে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেন।

    এই রফাদফার ভিডিও ছাড়াও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপায়ন টাকা দাবি করার একটি অডিও প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিও অডিওর দুটি ক্লিপ এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অবশ্য এই ঘটনায় চার্জশিটে অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর এসআই ও বকশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন।

    অভিযোগকারি বরিশাল শহরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, একই এলাকার ইব্রাহিম মানিক ওঁঝা চলতি বছরের ২৮ মার্চ বরিশাল আদালতে তাকেসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৩৮৫/৩৮৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭ ও ১৪৩ সহ ৭টি ধারায় সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোতয়ালি পুলিশের ওসিকে এজাহারভুক্ত করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে থানা থেকে এই মামলাটির তদন্তভার এসআই দীপায়নকে দেয়া হলে শুরু হয় নাটকীয়তা। এই কর্মকর্তা সাম্প্রতিকালে অভিযুক্ত কামামল হোসেনকে জানিয়ে দেন আদালতে তাদের অভিযুক্তকরে চার্জশিট দেয়ার বিষয়টি। কিন্তু তিনি এই বিষয়টিকে পুঁজি করে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেয়ার সংকল্প নেন। যেখানে মধ্যস্তততাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ওই থানার বকশী সুশান্তকে।

    মূলত এসআই দীপায়নের দিকনির্দেশনা পেয়েই সুশান্ত গত বুধবার (১১ জুলাই) চার্জশিটে অভিযুক্ত কামাল হোসেনকে নিয়ে নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার কুটুম বাড়ি রেস্তোরাঁয় সমঝোতায় বসেন। এই পুরো বিষয়টি বাইরে থেকে কোন ব্যক্তি বিশেষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- অভিযুক্তের সাথে আলাপচারিতার প্রাক্কালে বকশী সুশান্ত এসআই দীপায়নকে প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট জানিয়ে দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মামলাটির ধারা কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বকশী জনপ্রতি নিজের জন্য ২ হাজার ও এসআই দীপায়নের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অর্থাৎ এই ঘটনায় ৬ অভিযুক্তের কাছ থেকে ৭২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। এমনকি বাকি ৫ অভিযুক্তকে এসআই দীপায়নের সাথে সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন সুশান্ত।

    এই পুরো বিষয়টি বকশী স্বীকার করেছেন। তবে তার চাকুরি চলে যাওয়ার শঙ্কা জানিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার অনুরোধ রাখেন। কিন্তু পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই দীপায়ন বলছেন- অপরাধ করলে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দিবেন তা মেনে নিবেন।

    তবে এই বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছ থেকে অবগত হওয়ার পর কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ব্যক্তি পুলিশের দায় পুলিশ বিভাগ নিবে না।

    এমতাবস্থায় পুলিশের উচ্চমহল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় সেটি এখন দেখার অপেক্ষা।’

  • খুনি নিজেই ছিলেন হত্যার প্রতিবাদ আন্দোলনে সোচ্চার!

    খুনি নিজেই ছিলেন হত্যার প্রতিবাদ আন্দোলনে সোচ্চার!

    হত্যার পর অত্যন্ত কৌশলে খুনি নিজেই নেমে পড়ে নিখোঁজ বন্ধুকে খুঁজতে। পরিবারকে দিতে থাকে নানা সান্ত্বনা। নিখোঁজ বন্ধুকে খুঁজে পেতে থানা পর্যন্ত যান খুনি নিজেই। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

    খুন হওয়া ব্যক্তির মোবাইলের সিম উদ্ধারের পরেই বের হয়ে আসে খুনির আসল চেহারা। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ শহরের। নিখোঁজের ২১ দিন পর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বন্ধুর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে কালিরবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষের ৫ টুকরা খন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার রাত ১১টার দিকে আমলাপাড়ার ১৫ কে সি নাগ রোডের রাশেদুল ইসলাম ওরফে ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালায় পুলিশ। তারা সেপটিক ট্যাংক খুলে ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ৩টি বস্তায় প্রবীর ঘোষের ৫ টুকরো খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। তবে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হলেও উদ্ধার হয়নি দুই পায়ের হাটুর নিম্নাংশ। এ বাড়ির ২য় তলায় প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথ ভাড়া থাকতেন। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিককে গ্রেফতার করেছে।

    এদিকে প্রবীর ঘোষ নিখোঁজের পরেই জেলাজুড়ে এই ব্যবসায়ীকে ফিরে পেতে আন্দোলেন নামে তার পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

    পুলিশ সূত্র জানায়, সেই আন্দোলনেই খুনি পিন্টু সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। প্রত্যেকটি কর্মসূচিতেই সে যোগ দিয়ে নিজেকে কৌশল খাটিয়ে বাঁচার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। কিন্তু প্রবীর ঘোষের মোবাইল সিম সব রহস্যের উদঘাটন করে দেয়।

    পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে, গত ১৮ জুন রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর বালুর মাঠের বাসা থেকে কালিরবাজার এসে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ। নিখোঁজের ঘটনায় ১৯ জুন প্রবীরের বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এরপর প্রবীর ঘোষকে উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ।

    প্রবীর ঘোষের সন্ধানকালে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় ব্যবহার হওয়ার সন্ধান পায় পুলিশ। তারা মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে এর বাহক বাপন ভৌমিককে গ্রেফতার করে। বাপন ভৌমিক পুলিশকে জানায় পিন্টু তাকে এ মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। পুলিশ বাপনকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। এরপরপরই গ্রেফতার করা হয় প্রবীরের বন্ধু পিন্টু দেবনাথকে।

    জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক জানায়, প্রবীর ঘোষের লাশ আমলাপাড়ার ১৫ কে সি নাগ রোডের রাশেদুল ইসলাম ওরফে ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে রয়েছে। এ তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। পরে ডোম নিয়ে এসে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে তল্লাশি অভিযান চালায়। অনেক দিন হয়ে যাওয়ায় লাশটির খণ্ডগুলো বিকৃত হয়ে গেছে। পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রবীরের পারিবারিক সূত্র জানায়, কিছু দিন আগে ভারতের কলকাতায় প্রবীর ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথের ওপেন হার্ট সার্জারী হয়। এই প্রবীর ঘোষই ভারতে পিন্টুর চিকিৎসার জন্য সকল সহযোগিতা করে।

    পুলিশ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে, প্রবীর ঘোষের এক ভাই দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে অবস্থান করছে। ওই ভাইয়ের দেয়া টাকা নিয়েই প্রবীর ও পিন্টু স্বর্ণ ও সুদের ব্যবসা করছিলেন। এই টাকার একটি বিশাল অংশ পিন্টুর কাছে গচ্ছিত ছিলো। প্রবীর এ টাকার জন্য কিছুদিন ধরে পিন্টুকে চাপ দিয়ে আসছিলো।

    পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই প্রবীর ঘোষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার কারণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। গ্রেফতারকৃত পিন্টু দেবনাথ এবং বাপন ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা শুধুমাত্র লাশটি কোথায় আছে তা বলেছে। কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, কারা কারা জড়িত, কেনোই বা হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে তারা পুরোপুরি মুখ খোলেনি। যেহুতু লাশ উদ্ধার হয়েছে পুরো ঘটনাটি এখন পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    ভাই হারিয়ে শোকে মূহ্যমান ইতালি প্রবাসী ছোট ভাই সৌমিক ঘোষ লেন জানান, আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর খুনীরা তাকে খোঁজার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যায়। আমরা ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি এরাই খুনী। অথচ এই খুনীরা আমাদের প্রতিদিনই সমবেদনার বাণী শুনিয়ে আসছিল।

    এই ঘটনার পেছনে অন্যকারো হাত আছে দাবি করে কালীবাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মার্কেটের সভাপতি সঙ্কর ঘোষ বলেন, ওরা দুজন মিলে হত্যা করেনি। এই হত্যার পেছনে অন্য কারো হাত আছে। আমরা চাই, হত্যার রহস্য উন্মোচন করে হত্যাকারী এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক।