Category: প্রশাসন

  • মানুষ এখন পুলিশকে ভালোবাসছে, শ্রদ্ধা করছে : আইজিপি

    মানুষ এখন পুলিশকে ভালোবাসছে, শ্রদ্ধা করছে : আইজিপি

    পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশ সদস্যরা কোনোভাবেই কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

    তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেছেন, যারা অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বড়লোক হতে চান, বাংলাদেশ পুলিশে তাদের স্থান নয়। তারা পুলিশের চাকরি ছেড়ে বাড়ি গিয়ে ব্যবসা করে বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
    মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন আইজিপি।

    বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, রূপকল্প- ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় শামিল হয়ে পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হতে হবে। ক‌রোনাকা‌লে এই অ‌ভিযাত্রায় বাংলা‌দেশ পু‌লিশ অ‌নেকদূর এ‌গি‌য়ে‌ছে ব‌লে উ‌ল্লেখ ক‌রেন তি‌নি।

    ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, গণমানুষের দোরগোড়ায় পুলিশিংকে পৌঁছে দিতে হবে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রান্ত থেকে কেন্দ্র সর্বত্র হাতে নিতে হবে উন্নয়নমুখী উদ্ভাবনী পুলিশিং কার্যক্রম। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কেন্দ্রিক বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে তার দায়িত্বাধীন এলাকার প্রত্যেক নাগরিকের সুখ-দুঃখের খোঁজ নিবেন। বিপদে ও প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। এ বিষয়ে একটি এসওপি প্রণয়ণের কাজ চলমান রয়েছে। শীঘ্রই সুনির্দিষ্ট দিক‌-নি‌র্দেশনাসহ একটি এসওপি সকল ইউনি‌টে পৌঁছে দেয়া হবে।
    আইজিপি বলেন, দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালোবাসতে হবে, মানুষকে কোনো প্রকার নির্যাতন ও নিপীড়ন করা যাবে না। সকল উপায়ে সর্বতোভাবে মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। দায়িত্বপালনকা‌লে শা‌রীরিক শ‌ক্তি নয়, আইনি সক্ষমতা‌কে কা‌জে লাগা‌তে হ‌বে।
    মাদকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে অথবা মাদক ব্যবসার সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    তিনি বলেন, আসুন আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেশকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাই, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন।

    পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। দা‌য়িত্বরত অবস্থায় আহত, গুরুতর আহত ও নিহ‌তের ক্ষে‌ত্রে কল্যাণ সংক্রান্ত সু‌বিধা‌দি র‌য়ে‌ছে। এর পাশাপা‌শি চাকরিরত অবস্থায়ই সদস্যদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, শাসন ও সোহাগের সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ভালো কাজ করলে স্বীকৃতি ও উৎসাহের পাশাপাশি মন্দ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করা হবে না। পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যাপারে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

    আইজিপি বলেন, বর্তমান করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে সহযোগিতা করছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ পুলিশের এ মানবিকতা দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশ পুলিশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    মানুষ পুলিশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে, পুলিশকে ভালোবাসছে, শ্রদ্ধা করছে। মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে পুলিশ। মানুষের এ অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের এ অবস্থান ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের জন্য জনগণের পুলিশ হয়ে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও মাদকসহ যেকোনো প্রকার পুলিশি মিসকন্ডাক্টকে কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে জনগণের পুলিশ হয়ে ওঠা সহজ হবে না।
    আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে করোনা সংক্রমণ রোধে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। যারা অসুস্থ আছেন তিনি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

  • শাহান আরা আব্দুল্লাহর রুহের মাগফিরাতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের দোয়া মোনাজাত

    শাহান আরা আব্দুল্লাহর রুহের মাগফিরাতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের দোয়া মোনাজাত

    বরিশালে জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে শাহান আরা আব্দুল্লাহর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত।

    মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রয়াত মাতা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহান আরা আব্দুল্লাহ’র অকাল মৃত্যুতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে আজ ১২ জুন শুক্রবার জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমা বাদ দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়া-মোনাজাতের উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক বরিশাল এস, এম, অজিয়র রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরিশাল তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সহকারী কমিশনার ভুমি বরিশাল সদর মোঃ মেহেদী হাসানসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

  • শুভ জন্মদিন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান

    শুভ জন্মদিন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ডিআইজ মো. শাহাবুদ্দিন খানের আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জন্মদিন। তিনি ১৯৬৪ সালে শৈলকুপার হিতামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    জন্মদিনে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বিশেষ করে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া বার্তা ফেসবুকে ছড়িয়েও পড়ে। এছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাপর কর্মকর্তারাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    শাহাবুদ্দিন খান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে গত বছরের ৩ এপ্রিল যোগদানের আদেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে তিনি ১২ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগদান করেন।

    পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান এর আগে শিল্প পুলিশের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এছাড়া তিনি কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজশাহী, মুন্সিগঞ্জে পুলিশ সুপার ও ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) এবং র‌্যাব-৪, র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১২ এর কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার সুদান ও কসভোসহ বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন।

    পুলিশ শাহাবুদ্দিন খান বরিশালটাইমসকে জানিয়েছেন করোনা মহামারির কারণে তার জন্মদিন উপলক্ষে তেমন কোন আড়ম্বর নেই। তবে সকালে পরিবার নিয়ে বাসায় স্বল্প পরিসরে আয়োজনতো থাকেই।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে- গত ববছর পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খানের জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক কাটা হলেও এবার করোনার কারণে কোন আয়োজন নেই। তবে তাকে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

    এই পুলিশ কর্মকর্তাকে জন্মদিনে বরিশালটাইমস পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক শাহীন হাসান, সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহকারি সম্পাদক আকতার হোসেন, মুরাদ হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক মো. শামীম, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এইচএম জাহিদসহ কর্মরত সকলে।

  • বরিশালে শারীরিক দূরত্ব ও প্রকাশ্যে ধূমপানের দায়ে ৫ জনকে অর্থদণ্ড

    বরিশালে শারীরিক দূরত্ব ও প্রকাশ্যে ধূমপানের দায়ে ৫ জনকে অর্থদণ্ড

    বরিশালে শারীরিক দূরত্ব উপেক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং জনবহুল জায়গায় প্রকাশ্যে ধূমপানের দায়ে ৫ ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর নথুল্লাবাদ এবং রূপাতলী বাস টার্মিনালে এই অভিযান চালায়।
    এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শারীরিক দূরত্ব উপেক্ষা করায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা অনুযায়ী শাহ আলমকে ১ হাজার ও মো. রানা নামে এক ব্যক্তিকে ৫শ’ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া জনবহুল স্থানে ধূমপান করার দায়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ এর ৪ ধারা অনুযায়ী মো. মিলন নামে এক ব্যক্তিকে ৩শ’ টাকা এবং মাস্ক না পড়ায় মো. ছাব্বির ও মিলন মিয়া নামে ২ জনকে ৫শ’ টাকা করে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  • বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা…

    বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে মোবাইল কোর্ট অভিযানে ২ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা…

    করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সাধারণ ছুটি শেষে সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গত ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সরকার কর্তৃক গণপরিবহন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসগুলো যাত্রী তুলছে কিনা এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার জন্য বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমান-এর নির্দেশনায় বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড, রুপাতলীসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আজ ১১ জুন সকাল থেকে ১ টি মোবাইল কোর্ট টিম মাঠে কাজ করছে। বরিশাল জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল হুদা, এসময় বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শারীরিক দূরত্ব উপেক্ষা করার জন্য শাহ আলম ও মোঃ রানা কে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ছাব্বির ও মিলনকে মাস্ক না পরায় একই আইনে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মিলন নামের ১ ব্যক্তি কে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করার অপরাধে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০০৫ এর ৪ ধারা অনুযায়ী ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় বি আর টি এ এর ইন্সপেক্টর ইকবাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনানুগ দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি টিম। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা জানান যে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশালে থ্রি-হুইলার গুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাইও নেই, চরম ঝুকিতে যাত্রীরা

    বরিশালে থ্রি-হুইলার গুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাইও নেই, চরম ঝুকিতে যাত্রীরা

    তানজিম হোসাইন রাকিব: বরিশালে  যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে থ্রি-হুইলার গুলোতে মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যবিধি। এ সব থ্রি-হুইলার এর যাত্রীরা সামজিক দূরত্ব বজায় না মেনে যার যার ইচ্ছে মতো ছিট নিয়ে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। থ্রি-হুইলার গুলোতে নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও। এমনকি  যাত্রী চলাচলে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনেরও নেই কোন নজরদারি কিংবা তদারকি। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে চরম ঝুঁকিতে থাকলেও সকলে যেন নিরব-নিশ্চুপ।

    গতকাল সোম ও আজ মঙ্গলবার দু’দিন সরেজমিনে রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, সদর রোড, লঞ্চঘাট,নতুন বাজার, বটতলা, চৌমাথা, জেল খানার মোড়, সাগরদি সহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায়  স্বাস্থ্যবিধি ভাঙার এমন ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে।

    জানা যায়, একটানা ৬৫ দিন বন্ধ থাকার গত ৩১ মে থেকে সারাদেশে গনপরিবহন সহ সকল ধরনের যোগাযোগ সীমিত পরিসরে চলাচল শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে, সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল পরিবহন চলাচলে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও তার কোনটাই মানা হচ্ছে না। বরং সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থ্রি-হুিইলার ডাইভাররা যাত্রী উঠাচ্ছেন এবং যাত্রীরা যার যার মতো গাদাগাদি করে ছিট নিয়ে বসে আছেন। গত ৩১ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১০ দিন একই চিত্র ছিল বলে নিশ্চিত করেছে রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, সদর রোড, লঞ্চঘাট,নতুন বাজার, বটতলা, চৌমাথা, জেল খানার মোড়, সাগরদি সহ নগরীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন হকার ও যাত্রীরা।

    স্থানীয় হকার ও যাত্রীরা জানায়, প্রথম ৩/৪ দিন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা,  এবং র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি ও তদারকি ছিলো। কিন্তু ৫/৬ দিন ধরে  কারও কোন নজরদারি বা তদারকি নেই। এর ফলে স্বাস্থবিধির তোয়াক্কা না করে থ্রি-হুিইলার ডাইভাররা তাদের খেলাল-খুশি মত যাত্রী উঠাচ্ছেন এবং যাত্রীরাও তাদের মত করে যেখানে-সেখানে ছিট নিয়ে গাদাগাদি করে বসে পড়ছেন।

     

  • শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের চোরাই ওষুধসহ নার্স আটক

    শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের চোরাই ওষুধসহ নার্স আটক

    শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের চোরাই ওষুধসহ নার্স আটকশেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ওষুধ চুরি করে ধরা পড়লেন এক সিনিয়র স্টাফ নার্স।
    আজ সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল গেটের সামনে থেকে ওষুধসহ ওই নার্সকে আটক করে সিটি এনএসআই।
    জানা গেছে, বার্ন ইউনিটের রোগীদের বিনামূল্যে প্রদানের জন্য দেওয়া ওষুধ চুরি করে দীর্ঘদিন ধরেই খোলা বাজারে বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। এদের ধরতে বেশকিছু দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল সিটি এনএসআই। আজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হল গেটের সামনে থেকে আটক করা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের সিনিয়র নার্স তপন কুমার বিশ্বাসকে। তার কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এ ওষুধগুলো বার্ন ইনস্টিটিউটের রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহের কথা ছিল।

    সূত্র জানায়, আটক নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাহবাগ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ‘প্লাস চিহ্নযুক্ত’ ফোন কলে সাবধান!বিভিন্ন অজুহাতে জানতে চাওয়া হচ্ছে গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য

    ‘প্লাস চিহ্নযুক্ত’ ফোন কলে সাবধান!বিভিন্ন অজুহাতে জানতে চাওয়া হচ্ছে গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য

    মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন। বিভিন্ন অজুহাতে জানতে চাওয়া হচ্ছে গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য। হুবহু কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার থেকে ফোন আসায় গ্রাহকরাও সহজেই পা দিচ্ছেন অভিনব প্রতারণার ফাঁদে!

    সেসব কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার স্পুফিং করে কৌশলে গ্রাহকের তথ্য জেনে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা কার্ডের সব অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। তবে নাম্বার এক হলেও প্রতারকদের কলের ক্ষেত্রে সাধারণত নাম্বারের আগে ‘প্লাস চিহ্ন’ থাকে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

    শনিবার (৬ জুন) রাজধানী এবং ফরিদপুরের ভাঙা এলাকা থেকে র‍্যাব -২ এবং র‍্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে এ চক্রের ১৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

    আটকরা হলেন- নাজমুল জমাদ্দার (১৯), হাসান মীর (১৮), ইব্রাহিম মীর (১৮), তৌহিদ হাওলাদার (২৩), মোহন শিকদার (৩০), পারভেজ মীর (১৮), সোহেল মোল্যা (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), সৈয়দ হাওলাদার (২০), রাকিব হোসেন (২৪), মোহাম্মদ আলী মিয়া (২৬), পলাশ তালুকদার (৩৪), ইমন (২৫)।

    এসময় তাদের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬২ টাকা, ৩১টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, ২টি ট্যাব, ১২০টি সিম, ১টি রাউটার এবং ১টি টিভি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

    রোববার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যারের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

    তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মানুষের বাইরে যাওয়া এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে প্রতারক চক্র। বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এ চক্রের ১৩ সদস্যকে আটক করা হয়। তারা প্রত্যেকেই প্রাথমিকভাবে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

    আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ‘একজন মাস্টারমাইন্ডের অধীনে ৩০-৩৫ জন সদস্য কাজ করে থাকেন। সাধারণত ৫টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে চক্রটি।’

    প্রথমত, চক্রের ‘হান্টার টিমের’ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের তথ্য সরবরাহ করে থাকে। তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের নাম্বার সংগ্রহ করে মাস্টারমাইন্ডদের সরবরাহ করে।

    দ্বিতীয় ধাপে ‘স্পুফিং টিমের’ সদস্যরা কাস্টমার কেয়ার নাম্বার কিংবা ব্যাংক কর্মকর্তার নাম্বার ক্লোন করে। ফলে প্রতারকরা যখন গ্রাহকদের টার্গেট করে ফোন দেয়, তখন হুবহু সংশ্লিষ্ট নাম্বারটি দেখতে পায়। এতে গ্রাহকরা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যান। অনেক উচ্চশিক্ষিত গ্রাহকও এ ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রতিটি নাম্বার স্পুফিং বা ক্লোন করতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পায় এ টিমের সদস্যরা।

    তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে প্রধান কাজটি করে থাকে ‘কাস্টমার কেয়ার’ টিমের সদস্যরা। তারা ১৫-২০ জন একসঙ্গে একটি রুমে বসে কথাবার্তা বলে একটি সত্যিকারের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের আবহ তৈরি করে। গ্রাহককে ফোন দিলে আশেপাশের নয়েজের মাধ্যমে তাকে বিভ্রান্ত করা হয়।

    চক্রের মাস্টারমাইন্ড নিজেই দলটি পরিরিচালনা করেন। তারা কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা সেজে কৌশলে গ্রাহকের কাছ থেকে গোপন পাসওয়ার্ড কিংবা ভেরিফিকেশন কোডসহ বিভিন্ন তথ্য জেনে নেন। সঙ্গে থাকা অন্য কেউ অ্যাপসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এজন্য তারা নির্জন কোনো চর বা গাছপালা ঘেরা নিরাপদ জায়গা বেছে নেয়।

    চতুর্থ ধাপে ‘টাকা উত্তোলন’ টিমের সদস্যরা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ ট্রান্সফারের পর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এজেন্টদের মাধ্যমে নগদ টাকা উঠিয়ে নেয়। যেসব ব্যালেন্স উত্তোলন করা সম্ভব হয় না, সেসব দিয়ে বিভিন্ন কেনাকাটা করে নেয় তারা।

    শেষ ধাপে ‘ওয়াচম্যান’ টিমের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে ছোটখাট দোকান চালানোর কাজে সম্পৃক্ত। যারা এলাকায় কোনো আগন্তুক কিংবা সন্দেহভাজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সন্দেহ হলে মাস্টারমাইন্ডকে খবর দেন। তারা ঘণ্টা বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন।

    প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দলের মাস্টারমাইন্ড নিজের জন্য ৫০ ভাগ, সহযোগীদের জন্য ৩০ ভাগ, হান্টার টিমকে ২০ ভাগ এবং স্পুফিং টিমকে নম্বর প্রতি এক-দেড় হাজার টাকা কিংবা কথা বলার সময়ের ভিত্তিতে টাকা দিয়ে থাকে। এছাড়া, লটারি জেতার কথা বলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল তারা।

    আটকদের মধ্যে নয়জনই মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করে র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আটক মোহন গত দুই মাসে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জন করেছে বলে জানতে পেরেছি। একটি গ্রুপকে আমরা ধরতে পেরেছি। সারা দেশে এমন ৪-৫টি গ্রুপ সক্রিয় থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

    গ্রাহকদের নাম্বার হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ চক্রের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি-না খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

    সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, নাম্বার স্পুফিং বা ক্লোন করায় গ্রাহকরা হুবহু সংশ্লিষ্ট নাম্বার থেকেই ফোন পাবেন। ফোন করে অ্যাকাউন্ট বাতিল, স্থগিত বা সিস্টেম আপগ্রডের কথা বলে তথ্য, পিন বা ভেরিফিকেশন কোড জেনে নিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু প্রতারকদের স্পুফিং নাম্বারের আগে সাধারণত ‘প্লাস চিহ্ন’ থাকে। উদাহরণস্বরূপ কোনো কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার যদি ‘১২২১’ হয়, তাহলে প্রতারকদের দেওয়া ফোন কলে নাম্বার হবে ‘+১২২১’।

  • সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

    সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

    বরিশালে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। মাত্র ২৩ দিনে এখানে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০৫ সদস্যের। এর ৯৮ জনই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের। শুধু পুলিশ সদস্য নন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। সব মিলিয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    একের পর এক দফতর ও থানায় সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো দফতর বা থানা লকডাউন করেনি পুলিশ বিভাগ। করোনার বিস্তার ঠেকাতে মাঠে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব দফতর ও থানাতেই সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তাদের প্রশংসা করেছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ প্রশংসা করেন।

    বরিশালে পুলিশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ১৪ মে- একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের গাড়ি চালকের। পরে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও যারা মাঠে কাজ করছেন তাদের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৯৮ সদস্যের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। একই সময়ে বরিশাল রেঞ্জের ৬ জেলায় করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে আরও ৭ জনের।

    আক্রান্তদের সিংহভাগ মাঠপর্যায়ে কর্মরত কনস্টেবল হলেও উচ্চপর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও শনাক্ত হচ্ছে করোনা। ৩১ মে সংক্রমণ ধরা পড়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার প্রলয় চিসিমর। এছাড়া কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এআর মুকুলও করোনা আক্রান্ত। কোতোয়ালি থানাতেই ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও ২ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর রয়েছেন।

    বিষয়টি সম্পর্কে আলাপকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রশাসন) নূরুল ইসলাম বলেন, ‘১০ পুলিশ সদস্যের মধ্যে করোনা ধরা পড়লেও থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন চেকপোস্ট সামলানো আর নিয়মিত টহলও অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য দফতরে কারও করোনা সংক্রমণ হলে স্বাভাবিকভাবেই সেটি লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। আমরা চরম ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি।’

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘সারাক্ষণ মাঠে থাকা ও সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করছি আমরা, তাই আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপকতা এতটা হতে পারে তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। মাত্র ২৪ দিনে পুলিশ ও তাদের সদস্যরা মিলে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১২১। প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা। সবচেয়ে যেটি বড় সমস্যা তা হল- উপসর্গহীন করোনা রোগী। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে আশার কথা, এখন পর্যন্ত কেউ গুরুতর অবস্থায় যায়নি। তাছাড়া সুস্থ হয়ে ওঠা সদস্যদের সংখ্যাও কম নয়।’

    কোনো দফতর লকডাউন না করে কাজ চালানো প্রসঙ্গে শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের প্রস্তুতি ছিল। সদস্যদের সাজানো হয়েছে গ্রুপ ভিত্তিতে। কোনো একটি দফতরে একজনের করোনা সংক্রমণ হলে আমরা সেই গ্রুপকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দ্বিতীয় গ্রুপকে কাজে লাগিয়েছি। এভাবে ৮-১০টি করে গ্রুপ স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। ঘুরে ঘুরে তারাই দায়িত্ব পালন করছে। ফলে জনসাধারণকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারছি আমরা।’

    পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে করোনা প্রশ্নে বিএমপির কর্মকাণ্ড এবং সংক্রমণ প্রসঙ্গে খোঁজ নেন। সংক্রমণের শিকার পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি পুলিশ সড়ক পরিবহন সেক্টরে সবরকম চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশনা দেন।

    বরিশাল জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৩২ জনের। এরমধ্যে বরিশাল নগরে রয়েছে ৪১৬ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৫ জন। মারা গেছেন ৪ জন।

  • করোনা উপসর্গ নিয়ে সাব-ইন্সপেক্টরের মৃত্যু

    করোনা উপসর্গ নিয়ে সাব-ইন্সপেক্টরের মৃত্যু

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মোঃ একরামুল ইসলাম (৪৫) নামে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার নমুনা সংগ্রহ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা।

    এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ জানান, থানার এসআই মোঃ একরাম গত ৭-৮দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। গত ১লা জুন থেকে তিনি পৌর সদরের ভূঁইয়া টাওয়ারের ৩য় তলার ভাড়া বাসায় ছুটিতে ছিলেন। তবে সেখানে তিনি একাই থাকতেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাতেও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন মোল্লা। এ সময়ও নিজের অসুস্থতার কথা জানান তিনি। তবে এতটা জটিল অবস্থা কেউ বুঝতে পারেননি। শনিবার সকালে এমরান নিজের শরীর বেশি খারাপ লাগছে বলে ওসিকে জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিনকে জানান। খবর পেয়ে ডা. নুর উদ্দিন অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে নেওয়ার পর ডাক্তাররা পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে জানান।

    জানা গেছে, এসআই ইকরাম কুমিল্লার লাকসাম থানার অতিশপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালপাড়া গ্রামের মৃত শামছুল আলমের পুত্র। ১৯৯৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ ফিরোজ হোসেন মোল্লা তাকে ফোন করে জানান একজন সাব ইন্সপেক্টর খুব অসুস্থ বোধ করছেন দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে হবে। খবর পাওয়া মাত্র তিনি ডাক্তারসহ অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে পরীক্ষার পর দেখা যায় তিনি মারা গেছেন।

    তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি তিনি আরো ৮ দিন আগে থেকেই জ্বর-সর্দি-শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাই মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

    এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে থানার ওসি (ইন্টেলিজেন্স) সুমন বণিক, থানার গাড়ি চালক তোহিদুল ইসলামেরও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এছাড়া এডিশনাল এসপি শম্পা রানী সাহাসহ কয়েকজন অসুস্থ বোধ করছেন। ফলে থানায় দায়িত্বরত অফিসাররা সবাই উদ্বিগ্ন।