Category: প্রশাসন

  • বরিশালে নতুন করে ৭ পু‌লিশসহ ১৪ জনের ক‌রোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২০৮

    বরিশালে নতুন করে ৭ পু‌লিশসহ ১৪ জনের ক‌রোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২০৮

    বরিশালে গত ২৪ ঘন্টায় ৭ পু‌লিশসহ আরো ১৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই নি‌য়ে জেলায় ক‌রোনা আক্রা‌ন্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২০৮ জনে।

    আক্রান্তদের মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২ জন নার্স রয়েছে। একজন নার্স সুপারভাইজার বয়স (৪৮) অন্য জন পুরুষ ব্রাদার বয়স (৩০), বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭ জন । তার মধ্যে একজন পুলিশের সিভিল সদস্য। আক্রান্ত ৭ জ‌নের সবাই পুরুষ বয়স (৫২, ৫২, ৪৮, ৪৪, ৪৩, ৩৫, ২৬), একজন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা পুরুষ (৪৮), একজন গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা পুরুষ (৪৮), একজন উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা পুরুষ (৫৬), নগরীর জিয়া সড়ক নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা পুরুষ বয়স (৪০), সাগরদী ধান গবেষনা রোড এলাকার বাসিন্দা পুরুষ বয়স (৩৫) তাদের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।

    আজ ২৮ মে বৃহস্পতিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর মাইক্রোবায়লোজি বিভাগে স্থাপিত আরটি-পিসিআর ল্যাবে বেশ কিছু নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১৪ জনের রিপোর্ট পরেজটিভ আসে।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পর পরই ওই ১৪ জন ব্যাক্তির অবস্থান অনুযায়ী তাকে লকডাউন করা হয়েছে তাদের আশপাশের বসবাসের অবস্থান নিশ্চিত করে লকডাউন করার প্রক্রিয়া চলচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অবস্থান এবং কোন কোন স্থানে যাতায়াত ও কাদের সংস্পর্শে ছিলেন তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কনস্টেবল সোহেলের মৃত্যুতে বরিশাল পুলিশ শোকাহত, আত্মরক্ষায় কৌশলী চ্যালেঞ্জ

    কনস্টেবল সোহেলের মৃত্যুতে বরিশাল পুলিশ শোকাহত, আত্মরক্ষায় কৌশলী চ্যালেঞ্জ

    শাকিব বিপ্লব :: বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা এখন নিজেদের জীবন রক্ষায় অধিকতর সজাগ হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক ভিক্তিক ভ’মিকা রাখতে গিয়ে পুলিশই এখন এই মরনঘাতীর ছোবলের মুখে পড়েছে। একজন পুলিশ কনস্টেবল করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গোটা জেলায় এই বাহিনীর ভিতরে একধরনের চাপা আতঙ্ক-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার ২৭ মে রাতে সোহেল মাহমুদ নামক এই পুলিশ কনস্টেবল করোনা রোগের উপসর্গ নিয়ে শেবাচিমে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যাওয়ায় এই উৎকন্ঠা আরও চেপে ধরেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মেট্রো পুলিশের ট্রেনিং অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার শাখায় কর্মরত এই পুলিশ সদস্য প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পুলিশ-প্রশাসন অন্যান্য সদস্যদের মনোবল অটুট রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে, এমনটি খবর পাওয়া গেছে।

    প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র বলছে, করোনার বিস্তার বরিশালে প্রসারিত হওয়ায় জেলা ও মেট্রো পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষায় প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বনে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দিক-নিদের্শনা দেওয়াসহ প্রটেকশনমূলক উপকরন সরবরাহ করে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষার উপর আগেভাগেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু গণমানুষের প্রাণ রক্ষায় ভ’মিকা রাখতে গিয়ে বাধ্যতামূলক তাদের সংস্পর্শে যাওয়ায় করোভাইরাস আপনা-আপনি পুলিশ সদস্যদের স্পর্শ করতে শুরু করে।

    পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার চেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ গুণ। জেলার ১০ টি থানায় এপর্যন্ত ১৪ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে অস্থিরতায় ভুগলে তাদের টেস্টের মুখোমুখি করা হলে ২ জন পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়। আক্রান্ত ২ জনই জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে এই ২ জনের মধ্যে ১ জন শেবাচিমে, অন্যজন নিজবাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপর ১২ জন হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন।
    কিন্তু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মেট্রোপুলিশের মধ্যে। মেট্রো এলাকার বিভিন্ন থানাসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত অন্তত ৩৫ জন পুলিশ সদস্য করোনার ছোবলে কাবু হয়ে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা অবনতির দিকে ধাবিত হলে ঈদপূর্ব ২ দিন আগে তাদের বিশেষ ব্যাবস্থায় ঢাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।এর আগে পুলিশ সদস্যদের করোনা টেস্টের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সার্বিক দায়ত্ব দেয়া হয়।

    বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি অপারেশন মোজাম্মেল হোসেনকে। তিনি জানান, সন্দেহের অলোকে এপর্যন্ত মেট্রোপুলিশের প্রায় ২৪৬ জন সদস্যকে করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের রেজাল্ট পজিটিভ আসলেও তাদের সান্নিধ্যে থাকা আরও শতাধিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যারাক ও বাড়িতে হোম কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নির্ধারিত ১৪ দিন অতিক্রম করে স্বাভাবিক জীবনযাপনশুরু করেছে।

    অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এরপর থেকেই মেট্রো পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে আরও বেশী সচেতন হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার আঃ রাকিবুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যগত খোঁজখবর এবং পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে একটি ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটির সভাপতি এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবী করেন, সম্ভবত মেট্রো পুলিশেও অনূরূপ ব্যাবস্থা নেয়া হয়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সাহাবুদ্দীন খান অভিন্ন মন্তব্য করে এই প্রতিবেদককে বলেন, মেট্রো পুলিশেও এধরনের একাধিক কমিটি রয়েছে। জেলা অপেক্ষা শহরে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের করোনা আক্রান্তের সংখ্যাগত দিক বেশী থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এর যথেষ্ট কারন, সম্ভাবনা ও যৌক্তিকতা রয়েছে। বিভাগীয় এই শহরে বিভিন্ন স্থানের মানুষের আনাগোনা ও হাট-বাজারের সংখ্যা বেশী থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্র দীর্র্ঘ বিস্তৃত হওয়ায় দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে পুলিশ সদস্যদের মানুষের কাছাকাছি যেতে হচ্ছে। আবার কখনও আসামী ধরার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে না জেনেও প্রবেশের ঘটনাও সংক্রমিত হওয়ার অন্যতম একটি কারন হতে পারে। ফলে কখন, কার সংস্পর্শ থেকে করোনার ছোবলের আওতায় পড়ছে পুলিশ সদস্যরা তা বুঝে উঠা সম্ভব নয়।

    এসব ভাবনাকে সামনে রেখেই পুলিশ সদস্যদের মাঠে সক্রিয় থাকতে বাধ্য থাকতে হচ্ছে। একদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা , অন্যদিকে করোনা প্রতিরোধে লকডাউনের এই শহরে মানুষের গতিবিধি সামাল দেয়ার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাস অলক্ষ্যেই তাদের শরীরে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিমত রয়েছে। একারনে জেলাসহ মেট্রো পুলিশ সদস্যদের বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্রের জায়গায় সুরক্ষার তাগিদ দূর্যোগের শুরু থেকেই দিয়ে আসা হচ্ছিলো, এমনটি দাবী করেন মেট্রোপুলিশ কমিশনার।

    তিনি জানান, পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহনের মধ্যে তাদের থাকার জায়গা পুনঃবিন্যাস করে আরও প্রসারিত করা হয়েছিলো। বিভিন্ন ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের নতুন ব্যারাক ও স্কুলসহ নবনির্মিত বিশেষ ভবনে দূরত্ব বজায় রেখে আবাসনের জায়গায় প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেই সাথে দেয়া হয় করোনাভাইরাস প্রটেকশনের উপকরন। অবশ্য অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাবী করেন, সরবরাহকৃত উপকরনের মধ্যে পিপিই ও মাস্ক কতোটা উন্নতমানের তা প্রশ্নবিদ্ধ। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা কাজের সময় বেখেয়ালে মাস্ক ও পিপিই ব্যাবহারের সুযোগ পাচ্ছেনা অথবা নিচ্ছেননা।
    মোদ্দাকথায়, মেট্রোপুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার আঃ রাকিবুল ইসলাম একই ভাষায় মন্তব্য করেন যে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুদ্ধের অনুকরনেই মুখোমুখি অবতীর্ণ হতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। সেক্ষেত্রে যুদ্ধের মাঠে ফ্রন্টলাইনে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা মেনে নিয়েই দেশাত্মবোধের পরিচয় দিতে গিয়ে করোনার আঘাত পুলিশ বাহিনীকে আহত করছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    তবে সোহেল মাহমুদ এর মৃত্যুকে তারা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছে না। ২৭ মে রাতের এই বিয়োগাত্বের ঘটনাকে মেট্রো পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বলে জানা যায়। অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যু পরবর্তী পুলিশের মধ্যে আরও সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করেন পুলিশ কমিশনার। বিপরীতে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়েছে কিনা, এমন সম্ভাবনা নাকোচ করে দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে যেকোনও মুহূর্তে-দূর্যোগে মৃত্যুকে সাথে নিয়েই দায়িত্ববোধের জায়গায় অনঢ় থাকতে হয়। শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেন, মেট্রো পুলিশের ট্রেনিং অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার শাখায় কর্মরত কনস্টেবল সোহেল মাহমুদ’র মৃত্যু তাদেরকে একধরনের সতর্কবার্তা দিলো আগামীর জন্য।
    বিষয়টি বিবেচনা করে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বললেন, সম্মুখ্য যুদ্ধে যখন থাকতেই হবে তখন সকল পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। সোহেল মাহমুদ আসলে করোনায় আক্রান্ত ছিলো কিনা সেবিষয়টি তারা এখনও নিশ্চিত নয়।

    পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯ টায় এই পুলিশ কনস্টেবল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেবাচিমে নিয়ে আসা হয় । সে পূর্ব থেকেই ডায়াবেটিস ও এ্যাজমা রোগাক্রান্ত ছিলো। হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগায় সোহেল মাহমুদকে শেবাচিমে ভর্তির পর প্রথমে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিলো করোনা উপসর্গের রোগী হিসেবে। তার শারিরীক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটে ভ্যান্টিলেশন দেওয়াও হয়েছিল। আকস্মিক রাত ১২ টার পর সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তিনি প্রকৃত অর্থে করোনা রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ বুধবার তা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর কথা রয়েছে।

    পুলিশের আর একটি সূত্র জানায়, কনস্টেবল সোহেল মাহমুদের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঐ রাতেই মেট্রোপুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শেবাচিমে ছুটে যান। এবং তার ভর্তি থেকে মৃত্যুপূর্ব পরিস্থিতি অবগত হন। মেট্রোপুলিশ কমিশনারের তত্বাবধানে রাতেই তার মৃতদেহ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানকার স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আজ দুপুরে সোহেল মাহমুদকে করোনাভাইরাসে মৃত ব্যাক্তির দাফনের আদলেই তাকে বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় সমাহিত করা হয়েছে।

  • বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে পুলিশ সদস্যর মৃত্যু

    বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে পুলিশ সদস্যর মৃত্যু

    বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে সোহেল মাহমুদ (৩৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৭ মে) রাত সোয়া ১২টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোহেল মাহমুদ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রেনিং ও ওয়েলফেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন, তার বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া এলাকায়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, মৃত পুলিশ কনেস্টেবলের শ্বাসকষ্ট ও ডায়বেটিক এর সমস্যা ছিলো আগে থেকেই। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার বিকেলে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হয়। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

    হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলেও এখনো করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত ওই পুলিশ সদস্যর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

  • হৃদয়ের দাফন সম্পন্ন, পাঁচ দিনের রিমান্ডে প্রাপ্তবয়স্ক ৩ আসামি

    হৃদয়ের দাফন সম্পন্ন, পাঁচ দিনের রিমান্ডে প্রাপ্তবয়স্ক ৩ আসামি

    বরগুনায় ঈদের দিন বিকেলে নদীর তীরে বেড়াতে গিয়ে হামলায় নিহত হৃদয়ের দাফন সস্পন্ন হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ছোট লবনগোলা গ্রামের নিজ বাড়ি হৃদয়ের দাফন সম্পন্ন হয়।

    এদিকে হৃদয় হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক তিন জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার বিকেলে বরগুনার সিনিয়ন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বিচারক মোঃ আব্বাস উদ্দিন তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও এ মামলায় গ্রেফতার অপ্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক সরোজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক আসামি নোমান কাজি, হেলাল মৃধা এবং হেলাল ফকিরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয় ভার্চুয়াল আদালতে। পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গ্রেফতার অপর চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরও সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এ রিমান্ড শুনানির জন্য পরবর্তিতে দিন ধার্য করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    সোমবার বিকেলে বরগুনার পায়রা নদীর পাড়ে গোলবুনিয়া বল্ক ইয়ার্ডে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে যান হৃদয়। এ সময় পূর্বশত্রুতার পাশাপাশি হৃদয়ের সঙ্গে থাকা এক বান্ধবীকে অভিযুক্তরা উত্ত্যক্ত করলে হৃদয় এর প্রতিবাদ করেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে অভিযুক্তরা হৃদয়সহ তার কয়েক বন্ধুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

    পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে গুরুতর আহত হৃদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন হৃদয়।

    মঙ্গলবার রাতে নিহত হৃদয়ের মা ফিরোজা বেগম ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৪-১৫ বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    অভিযুক্তদের মধ্যে মামলার এক নম্বর আসামি নোমান কাজি (১৮), দুই নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২৬), ছয় নম্বর আসামি সাগর গাজি (১৬), সাত নম্বর আসামি ইমন হাওলাদার (১৮), আট নম্বর আসামি রানা আকন (১৬), ১২ নম্বর আসামি সফিকুল ইসলাম ঘরামি (১৫) এবং ১৫ নম্বর আসামি হেলাল ফকিরকে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • বরিশালে বিভিন্ন বিনোদন স্পট পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

    বরিশালে বিভিন্ন বিনোদন স্পট পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

     করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, গণজমায়েত বন্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে শুরু থেকেই নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।
    তারই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় আজ (২৬মে) বিকাল ৩টা থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বিনোদন স্পট পরিদর্শন করেন।

    এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বাধীন একটি মোবাইল কোর্টের টিম তার সাথে ছিলো।

    মোবাইল কোর্ট টিমসহ নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ট, বঙ্গবন্ধু পার্ক, প্ল্যানেট পার্ক ও বধ্যভূমি (ত্রিশ গোডাউন) এলাকায় পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব রাজিব আহমেদ।

    এসময় পথিমধ্যে থাকা দর্শনার্থীদের মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিনোদন স্পটে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান জনসাধারণকে সতর্ক করেন এবং বাসায় পাঠিয়ে দেন।

    পরিদর্শনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ জানান, মানুষকে ভালো রাখতে বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃক এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাড়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাড়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ৬ টি প্রতিষ্ঠান ও ২ জন ক্রেতাকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে নগরীর চকবাজার, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ফলপট্টি, গীর্জা মহল্লা, সদর রোড, নতুন বাজার, চৌমাথা বাজার, কালিজিরা বাজার এলাকায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও দ্রব্যমূল্যের বাজার দর মনিটরিং এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা।

    জানা গেছে- স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটায় আসার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় ২ জন ক্রেতা ও সরকারি নিদর্শনা অমান্য করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখার অপরাধে ৬ টি দোকানকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্বরত র‍্যাব-৮ এর একটি টিমের সহযোগিতায় বিভিন্ন দোকান ও গলির মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে, তা ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তিতে আইনানুগ শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করে সবাইকে বাসায় চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়। ঈদের কেনাকাটায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা।

  • সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক-বর্তমান সহস্রাধিক সদস্য করোনায় আক্রান্ত

    সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক-বর্তমান সহস্রাধিক সদস্য করোনায় আক্রান্ত

    সাবেক-বর্তমান মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ ২৩ মে, শনিবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

    আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত ১ হাজার ২০ জন ও পরিবারে ৯২ জন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেসামরিক ও অন্যান্য ২৫২ জনসহ মোট ১ হাজার ৩৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

    এদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ও ৪২১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্ব স্ব আবাসস্থলে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ভর্তিরত অপর সব রোগী সুস্থ আছেন।

    এছাড়া এতে আক্রান্ত হয়ে এদের মধ্যে ১০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ বছরের উপরে অবসরপ্রাপ্ত রয়েছেন আটজন এবং দুইজন কর্মরত সেনাসদস্য রয়েছেন। যারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন যাবত অনিরাময়যোগ্য বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়েছিলেন তারা।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত সব সদস্য, তাদের পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজিসহ (এএফআইপি) সব সিএমএইচে মোট ১৩টি ‘আরটি-পিসিআর’ মেশিন প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।

    এছাড়া সব সিএমএইচে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), মাস্ক, গ্লোভস এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ আনুষাঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি মজুদ আছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর পিসিআর ল্যাবরেটরিতে সশস্ত্র বাহিনীর ৪ হাজার ৩৭৫ জন, পরিবারের ৭৭৪ জন এবং বেসামরিকসহ অন্যান্য ২ হাজার ২৬১ জন সদস্যের মোট ৭ হাজার ৪১০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দ্বারা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয় এতে।

  • আম্পানে বরিশাল : ক্ষতিগ্রস্থদের ঘর তুলে দিলো সেনাবাহিনী

    আম্পানে বরিশাল : ক্ষতিগ্রস্থদের ঘর তুলে দিলো সেনাবাহিনী

    ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ব্যাপক সহায়তা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস থেকে শুরু করে পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য দ্বার্থহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মূলত দক্ষিণাঞ্চলে নিরলস কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে শেখ হাসিনা সেনানিবাস তথা ৭ পদাতিক ডিভিশন। এই ডিভিশন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪৩টি পরিবারকে দিয়েছেন নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা। তাছাড়া ঝড়ে বিধ্বস্ত ১০টি ঘর মেরামত করে দিয়েছেন সেনা সদস্যরা।

    মূলত, ২০ মে বরিশালেও আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্পান। এই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে প্রায় লন্ডভন্ড দক্ষিণাঞ্চল। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৬ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গলের নেতৃত্বে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলায় একটি করে মোট ১০টি (ডিএমটি) দুর্যোগ মোকাবেলা দল ও একটি স্পেশাল টিম গঠন করা হয়।

    যারা ঘূর্ণিঝড় কবলিত এবং ক্ষতিগ্রস্থদের বিষয়ে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তারা বরিশাল জেলার সকল বেসামরিক প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধান করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কাজ করেছেন।

    শুধু ঘূর্ণিঝড়ের সময়েই নয়, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ব্যবস্থাপনাতেও দেখা মিলেছে দুর্যোগ মোকাবেলায় গঠিত ৬ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৬২ ইষ্ট বেংগলের নেতৃত্বাধিন টিমের কার্যক্রম। তারা আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বরিশাল জেলার ১৪৩টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের হাতে শুকনা খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে শুকনা খাদ্যসামগ্রী, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।

    এদিকে শুধু খাদ্য সহায়তা এবং নগদ অর্থই নয়, ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ১০টি ঘর নিজ হাতে মেরামতও করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা সেনানিবাসের সদস্যরা। আর এই মেরামত কাজের আত্ত্বাবধান করেন ৬২ ইস্ট বেংগলের ক্যাপ্টেন আশ্ফান।

    উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের শিকার হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ জনগণ। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ঘর-বাড়ী। ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের ঘের ও খামার।

  • বিরল মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন বিএমপি’র এডিসি রেজাউল করিম

    বিরল মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন বিএমপি’র এডিসি রেজাউল করিম

    কোভিড-১৯ এক অদেখা ভাইরাস যা অতি আণুবীক্ষণিক। অথচ এই অদৃশ্য ভাইরাসটি পুরো পৃথিবীর সকল স্বাভাবিক ব্যাবস্থাকে সম্পূর্ণ রুপে অকার্যকর করে ফেলেছে। কোটিকোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন লাখ চল্লিশ হাজার মানুষের প্রান কেড়ে নিয়েছে। জীবন আর জীবিকার এই সন্ধিষণে মানুষের মৃত্যু কেবলই গানিতিক যোগবিয়োগের হিসেব নিকেশে পরিনত হয়েছে। পৃথিবীর দেশেদেশে সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে/ মানাতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করণে দিনরাত নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সরকারি সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেল পুলিশ যেমনি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তেমনি মাঠেময়দানে, হাটেবাজারে সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বরিশার মেট্রোপলিটন পুলিশ যার অগ্রভাগে রয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সুযোগ্য কর্ণধার জনাব মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার মহোদয় । তাঁর চৌকশ দিক নির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণায় বিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ রেজাউল করিম তাঁর স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতিতে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে কমর্হীন হয়ে পড়া নিরন্ন, ছিন্নমূল, পঙ্গু/ বিকলাঙ্গ এবং অন্ধ অসচ্ছল মানুষদের প্রতি। প্রতিদিন তিনি তাঁর কর্তব্যকর্মে বের হওয়ার পূর্বে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সরকারি গাড়ীতে কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বের হন। চলতি পথে তিনি খুঁজতে থাকেন তাঁর পূ্র্ব পরিকল্পিত ক্যাটাগরির মানুষদেরকে। পুরো বরিশাল শহরে তিনি হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ান এসব কর্মক্ষতা হারানো নিরন্ন মানুষদের এবং যখন যেখানেই উক্তরুপ মানুষদের দেখা পান কিংবা কারো মাধ্যমে সংবাদ পান তখনই তিনি সেখানে ছুটে গিয়ে তার গাড়িতে রাখা খাদ্য- সামগ্রী হাতে তুলে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন । বিশেষ করে বিকলাঙ্গ প্রতিবন্ধী মানুষ দেখলেই তিনি এগিয়ে যান সাধ্যের সবটুকু নিয়ে। এভাবে তিনি শহরের প্রায় সকল বিকলাঙ্গ মানুষ সহ অসখ্য কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সহায়তা তুলে দিয়েছেন নিরবে- নিভৃতে। সেখানে নেই কোন আনুষ্ঠানিকতার ছিটেফোঁটা। দ্বারেদ্বারে – পথেপ্রান্তরে পৌঁছে দেয়া এ ধরনে সহায়তা পেয়ে স্বস্তিতে সহায়তা প্রাপ্তরা। এমন নিভৃতচারী পুলিশ কর্মকর্তার ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগের খবর বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বেশ কয়েকজন শুভাকাঙ্খি তাঁর এ মহতি উদ্যোগে শরীক হতে এগিয়ে আসেন। এতে আরো তড়ান্বিত হয় এই অতি মানবীয় কার্যক্রম। রমযানের পূর্ব থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই মহতি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে আজ অবধি।

    সহায়তাপ্রাপ্ত একজন বলেন, চলতি পথে অচেনা আজানা কেউ সাধারণত সাহায্য করেনা। কিন্তু পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে এমন সাহায্য পেয়ে আমার বড়ই উপকার হলো। আল্লাহ ওনাকে আরো বড়পদে নিয়ে যাক।

    এ বিষয়ে ডিবির এডিসি মোঃ রেজাউল করিম বরিশাল বাণীকে বলেন, নিজ এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রেরণায় সাধ্যানুযায়ী অসহায়, কর্মহীন, নিরন্ন বিকলাঙ্গ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধণ্য মনে করছি। দেশের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সদাশয় সরকারের পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটা দেশমাতৃকার সেবার ব্রত বৈকি? যতদিন সম্ভব আমার এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদার এই পুলিশ কর্মকর্তা বিনয়ের সাথে আরো বলেন যে, দেশের এই চরম দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কর্মহীন, নিরন্ন বিকলাঙ্গ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সমাজের বিত্তশালী মানুষদের নিঃস্বার্থ সহায়তার হাত বাড়ানো বড়ই সময়ের দাবী। কারণ পৃথিবীর জীবিত কোন মানুষই এমন মহামারী আগে কখনো দেখেনি, তাই সরকারের সর্বান্তকরণ প্রচেষ্টার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবানদেরকে সরকারের পাশে থাকা খুবই প্রয়োজন। তবেই আমারা এই অদেখা শত্রু করোনাকে পরাজিত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

  • ঝালকাঠিতে এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের  ঈদ উপহার দিলো সেনাবাহিনী

    ঝালকাঠিতে এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের ঈদ উপহার দিলো সেনাবাহিনী

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ আর মাত্র দু’দিন পরেই পালিত হবে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব মুজিববর্ষের প্রথম ঈদুল ফিতর। মুজিববর্ষে এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হলো ঈদ উপহার। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এতিম খানা ও মাদ্রসার লিল্লাহ বোডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করা শিশু শিক্ষার্থীদের এ উপহার দেয়া হয়। ঝালকাঠির শেখেরহাট ইউনিয়নের নওপাড়া, গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দেঊলকাঠি, বিন্নাপাড়া, কেওড়া ইউনিয়নের সারেংগল, নবগ্রাম ইউনিয়নের পরমহলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসার লিল্লাহ বোডিং ও এতিম খানার শিশু শিক্ষার্থীদেরকে নগদ অর্থ এবং পোলাওর চাল, তেল, চিনি, দুধ সেমাইসহ খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশন শেখ হাসিনা সেনানিবাসের ২২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর ইসতিয়াখ নিজ হাতে এসব খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। একদিকে কভিড ১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে থমকে আছে গোটা দেশ, তার উপর ঈদ পুর্ববর্তী সময়ে ঘুর্ণিঝড় ‘আমফান’র তান্ডব। এমনই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই সহায়তা পেয়ে শিশুদের মুখের হাসি ছিলো চোখে পড়ার মত। ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দেউলকাঠি ইলাহাবাদ রহমানীয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাওঃ নাসির উদ্দিন খান বলেন, এবার ঈদের দিন সকালে এতিম শিশুদের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারবো তা ভাবতেও পারিনি। সেনাবাহিনীর এই সহায়তা পেয়ে এখনতো দুপুরের খাবারের চিন্তাটুকুও দুর হয়ে গেলো। একই ধরনের মন্তব্য করেছে শেখেরহাট ইউনিয়নের গুয়াটন এলাকার নওপাড়া দারুচ্ছুন্নাত ইয়াতিম খানার শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।