Category: প্রশাসন

  • বরিশালে দেড় মাসে মোবাইল কোর্টে সাড়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

    বরিশালে দেড় মাসে মোবাইল কোর্টে সাড়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

    করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রমজান উপলক্ষে বিশেষ বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে বরিশাল জেলা জুড়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, মার্চ মাসে দেশে করোনা পরিস্থিতির সূত্রপাত হওয়া থেকে শুরু করে ১৬ মে পর্যন্ত বরিশাল জেলায় হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মাস্ক, স্যানিটাইজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছেন।

    সূত্র জানায়, গত দেড় মাসেরও অধিক সময়ে মোট ২৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এসব অভিযানে মোট ৪শ’ ব্যক্তি ও ৪৯৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এসবে মোট ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা ও ৪৭ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

  • জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় আসা–যাওয়া বন্ধ

    জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকায় আসা–যাওয়া বন্ধ

    মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকা মহানগরীতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ আসতে পারবেন না বা নগরীর বাইরে যেতে পারবেন না। আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

    ডিএমপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আজ রোববার থেকে রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে তল্লাশির ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাতে কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বাইরে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই তল্লাশির এই ব্যবস্থা।

    তবে ডিএমপি বলেছে, জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহন এই নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত থাকবে।

    ডিএমপি জানায়, যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যানবাহন চালনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    করোনা ঠেকাতে নগরীতে এই নিয়ন্ত্রিত চলাচলের ব্যাপারে নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।

  • কাছে গেল না কেউ, লাশ নিয়ে রিকশাভ্যান চালালেন কনস্টেবল

    কাছে গেল না কেউ, লাশ নিয়ে রিকশাভ্যান চালালেন কনস্টেবল

    করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পাশে পড়ে থাকা লাশটির কাছে যায়নি কেউ। অবশেষে মরদেহ রিকশাভ্যানে তুলে এক পুলিশ সদস্য চালিয়ে থানায় নিয়ে যান বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আনুমানিক ৫০-৬০ বছর বয়সী মৃত ওই বৃদ্ধের পরনে সাদা রংয়ের হাফ শার্ট, লুঙ্গি ও মাথায় সাদা রঙের টুপি ছিল।

    মৃতের পরিচয় পাওয়া যায়নি জানিয়ে গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে গাছা থানার পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মিয়া জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকার ডিউটি করছিলেন। এমন সময় তিনি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর ৫০-৬০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক বৃদ্ধ অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বলে খবর পান।

    “অনেকক্ষণ ধরে তার নিথর দেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সন্দেহে কেউ তার পাশে যায়নি।

    তবে কনস্টেবল রুবেল মিয়া গিয়ে দেখতে পান বৃদ্ধে দেহ রক্তাক্ত। তার ধারণা অজ্ঞাত কোনো গাড়ি ওই ব্যক্তিকে চাপা দিয়েছে।

    রাত গভীর হওয়ায় বৃদ্ধের দেহটি বহন করার জন্য কোনো গাড়ি পাচ্ছিলেন না তিনি। এ সময় এক রিকশা-ভ্যান চালককে লাশটি থানায় নেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে

    “সেই চালকও তার ভ্যানে লাশটি না তুলতে আমাদের হাতে-পায়ে ধরেন।

    “পরে নিজেই ভ্যানটিতে লাশটি তুলে চালিয়ে থানায় নিয়ে যাই।”

  • একদিনে পুলিশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৪১, মোট ২৩৮২

    একদিনে পুলিশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৪১, মোট ২৩৮২

    করোনাভাইরাসে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আরও ২৪১ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে মোট ২৩৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ সংখ্যা শনিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের সকল পুলিশ ইউনিটের।

    করোনা চিকিৎসায় ১৯ দিনে হাসপাতাল তৈরি করেছি: আনোয়ার খান
    পুলিশের করোনা কন্ট্রোল রুমের সূত্র মতে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য ১০৪১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি।

    ডিএমপির পক্ষ থেকে জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের ২ জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন।

    সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসমুক্ত হয়ে ৩৬১ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন ৭ জন।

  • সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা পেলেন র‌্যাবের ঈদ উপহার

    সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা পেলেন র‌্যাবের ঈদ উপহার

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮) এর পক্ষ থেকে সুন্দরবন থেকে দস্যুতা ছেড়ে আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের মাঝে ঈদ উপহার দেয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মোংলার ফরেস্ট গার্ড এলাকার মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ৬৫ জন জলদস্যুকে এ ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় র‌্যাব-৮ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    র‌্যাব-৮ এএসপি মো. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে মোংলা ফরেস্ট ঘাটে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ২৮৪ জলদস্যুর হাতে এ সব সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

    র‌্যাব-৮ এর অপারেশন অফিসার এএসপি ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুন্দরবনের দস্যুরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করে। স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য র‌্যাবের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতাও করা হচ্ছে। দেশের এই করোনা পরিস্থিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় র‌্যাবের ডিজির পক্ষ থেকে আমরা ২৮৪ জন জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলাম।

    করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।

  • কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি আগ্রহ হারাচ্ছে পুলিশ

    কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি আগ্রহ হারাচ্ছে পুলিশ

    স্টাফ রিপোর্টার //সাইফুল ইসলাম : ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে দোকান মালিক ও ক্রেতারা সরকারের দেয়া শর্ত স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। ফলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসায় বরিশালে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে গিয়ে একটি বিশেষ সুবিধাভোগি মহলের রোষানলে পরে কাজের আগ্রহ হায়িছে ফেলছেন তৃণমূলের প্রকৃত করোনা যোদ্ধা পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর কাপড় ও পোশাক ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র চকবাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা সম্ভব হবে না বুঝতে পেয়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এরপরেও অতি মুনাফালোভী দোকানের ব্যবসায়ীরা বড় বড় দোকানগুলো বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে কাপড় ও পোষাক বিক্রি শুরু করেছেন। এছাড়াও চকবাজারের কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী নিজেদের কর্মচারীদের দিয়ে কৌশলে ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। অন্যদিকে নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ চিন্ত না করেই সরকারের সুযোগের অপব্যবহার করছেন প্রায় একমাস গৃহবন্দী থাকা নারীরা। সূত্রমতে, চকবাজার ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতি সদস্যরা বিসিসি মেয়রের আহবানে দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সারাদিয়ে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরেও সেই মালিক সমিতির অধিকাংশ সদস্যরা তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক শাটার খুলে বেচা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজার, কাঠপট্টি, গির্জা মহল্লা এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে এতো পরিমাণের লোকজন বাসা বাড়ি থেকে বের হয়ে চলাচল করছে, যা দেখে মনে হয়না বরিশাল নগরীতে এখনও জেলা প্রশাসনের জারি করা লকডাউন রয়েছে। সরেজমিনে নগরীর চকবাজার এলাকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার পুরাপুরি খোলা, রেখে নারী ও পুরুষ ক্রেতাদের কাছে চলছে বেচা বিক্রি। সামনে দোকানের কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তারা গণমাধ্যম কর্মীদের দেখলে ভিতরের ক্রেতা রেখেই বাহির থেকে পুনরায় শাটার টেনে লাগিয়ে দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনাভাইরাস থেকে জনগণকে সুরক্ষায় সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করায় বরিশালে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার ও শনিবার জেলা প্রশাসনের পৃথক চারটি টিম নগরীর চকবাজার, বাজার রোড, কাটপট্টি, ফলপট্টি, গির্জা মহল্লা, বটতলা ও পুলিশ লাইন, বাংলাবাজার, সদর রোডে অভিযান পরিচালনা করেছেন। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা শতভাগ পালন করতে গিয়ে একটি বিশেষ সুবিধাভোগি মহলের রোষানলে পরে করোনা প্রতিরোধে কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তৃণমূল পর্যায়ের করোনা যোদ্ধা পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নিদের্শে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বরিশাল জেলার বাহিরের লোকজন কৌশলে সড়কপথে প্রবেশ করে ক্রমেই বরিশালকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সড়কপথে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভূরঘাটা দিয়ে কখনও গভীর রাতে কিংবা ভোরে পন্যপরিবহনে, মাইক্রোবাসে ও প্রাইভেটকারে অবাধে জনসাধারণ বরিশালে প্রবেশ করছে। যেকারণে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিদের্শে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ভূরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে গত এক মাসেরও অধিক সময় থেকে চেক পোষ্ট বসিয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে পন্যপরিবহনে, মাইক্রোবাসে ও প্রাইভেটকারে যাতায়াত অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে অধিক মুনাফালোভীরা এখন চরম বেকায়দায় পরেছেন। সূত্রমতে, গত ১৪ মে রাতে নিয়মিত চেকপোষ্টে কর্মরত ছিলেন গৌরনদী মডেল থানার চৌকস এসআই হেলাল উদ্দিন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। এসময় ঢাকা মেট্টো চ-১৯-৫৭৫৫ নম্বরের একটি মাইক্রেবাসে অবৈধভাবে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে প্রবেশের সময় এসআই হেলাল চালক মজিদ হাওলাদারকে আটক করেন। পরবর্তীতে যাত্রীরা অনুরোধ করে বলেন, তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং একটি মৃত্যুর ঘটনায় তারা জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য বরিশালে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে যাত্রীদের অনুরোধে মাইক্রোবাসটি ছেড়ে দেয়া হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চেক পোস্টের বিরুদ্ধে অবস্থান করা একটি বিশেষ সুবিধাভোগী মহল এসআই হেলালের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে মাইক্রোবাস ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা গুজব ছড়িয়ে ভাইরাল করেছে। এ ঘটনার পর সরকারি নির্দেশ পালনে ওই চেক পোস্টে থানার কোন অফিসার ডিউটি করতে রাজি হচ্ছেন না। এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার বলেন, সরকারের নির্দেশ শতভাগ পালন করার জন্য থানা পুলিশ নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও গত দুই মাস পর্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করার পরেও যারা পুলিশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্ঠা করছেন তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনকালে  মাঠে-ঘাটে ছুটছেন প্রশাসনের ‘দুই হাসান

    ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনকালে মাঠে-ঘাটে ছুটছেন প্রশাসনের ‘দুই হাসান

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি//আরিফুর রহমান আরিফ: কোভিড ১৯ যখন বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে থমকে দিয়েছে। বাংলাদেশও বাদ যায়নি এর আক্রমন থেকে। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর কোনো রাস্ট্র্রের সরকারকে ঠিকমতো ঘুমোতে দিচ্ছেনা নভেল করোনা নামক এই ভাইরাসটি। দেশের এই ক্রান্তিকালে পরিবার-পরিজনের কথা না ভেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের নির্দেশনা জনগনকে মেনে চলাতে ঝালকাঠিতে দিন রাত অবিরাম মাঠে ঘাটে ছুটছেন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা। এই দুই কর্মকর্তার অবিরাম ছুটে চলা চোখে পড়ার মত। ঝালকাঠিবাসী সংক্ষেপে এদেরকে উপাধী দিয়েছেন ‘মানব সেবক দুই হাসান’। এদের একজন হলেন ঝালকাঠি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এম মাহমুদ হাসান আর অন্যজন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহম্মেদ হাসান। প্রশাসনের কর্মকর্তা এই দুই হাসানকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে দেখে থাকেন ঝালকাঠির মানুষ। এরা পৃথকভাবে একজন ছুটছেন আইন- শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে, আবার অন্যজন অপরাধ দমনে ছুটছেন ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে। আবার কখনো দুজনেই গোপন খবরে খাদ্য সহায়তা নিয়ে করা নাড়ছেন ক্ষুধার্তদের দরজায়। সেটা কথনও দিনে আবার কখনও রাতে। দুজনেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদেরকে ফোন করে জানতে চান কার ঘরে খাদ্য সংকট আছে, কে কোন সরকারি সহায়তা পায় নি ? তারপর গোপনেই সেই অসহায় নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দেবদূতের মত হাজির হচ্ছেন দুই হাসান। পুলিশের আদর্শবান কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান নিজ অর্থায়নে ব্যক্তিগতভাবে অগনিত মানুষের ঘরে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন। আর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা আহমেদ হাসানকে সরকারি সহায়তা নিয়ে প্রায়ই মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে মধ্য রাতেও ছুটতে দেখা যায়। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার দুমকি গ্রামের স্বনামধন্য এক আলোকিত পরিবারের সন্তান এম.এম. মাহমুদ হাসান। একজন আদর্শ শিক্ষক পিতার গর্বিত সন্তান। স্কুল- কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ২৮- তম বিসিএস এর মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। ২৮ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে মেধা তালিকায় তিনি ২য় স্থান অধিকার করেন। এর পূর্বে ২৭ তম বিসিএস(কৃষি) ক্যাডারে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে বরিশালের মুলাদী উপজেলায় দু’বছর চাকুরী করেন। পুলিশের একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ন কাজের জন্য ২০১৬ এবং ২০১৮ সনে মোট দু’বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) অর্জন করেন। এই পুরস্কারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি জনগণের আইনি সেবাসহ অসহায়ের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি ২০১৯ সালে দশ বার (১০ বার) বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। অপরদিকে চট্রগ্রাম বিভাগের বাঁশখালী উপজেলার কৃতিসন্তান আহমেদ হাসান। নাটমুরা গ্রামের পুকুরিয়া হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি, বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে বি.বি.এ এবং এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন করে ৩৭-তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন প্রশাসন ক্যাডারে। বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) দায়িত্বে আছেন। দুজনই বলেছেন, ঝালকাঠি জেলায় দক্ষ, যোগ্য এবং পরম মমতাসিক্ত মানসিকতার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার রয়েছেন বিধায় তারা নিরলসভাবে কাজ করতে উৎসাহ পাচ্ছেন। ঝালকাঠির বিশিষ্টজনরা বলছেন, সিনিয়র কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে যদি দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সততা থাকে তাহলে তার অধিনস্ত জুনিয়র কর্মকর্তারা পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে রাষ্ট্রের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন। এমনটাই হয়েছে ঝালকাঠির বেলায়ও। এখানকার জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী এবং পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন উভয়ের ক্ষেত্রেই দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সততা এর কোনটাই তাদের মধ্যে কমতি নেই। এ জেলার শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তারা বলেছেন জেলার অভিভাবক ঝালকাঠি-নলছিটির সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু নিজেও সততা নিয়ে কাজ করেন। তিনি জেলা প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের বৈধ কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে সবসময়ই ন্যায়সঙ্গত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর তাই এ জেলার ডিসি- এসপি উভয়েই নিরলসভাবে জনগণের সেবক হিসেবে সরকারের পক্ষে স্বাধীন ও বাধাঁহীনভাবে কাজ করতে পারছেন

  • বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১০ জন করোনা আক্রান্ত

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১০ জন করোনা আক্রান্ত

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-বিএমপি এর ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

    গত ১১ মে মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদের গাড়িচালকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে তার সংস্পর্শে আসা মোট ৪৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই ৪৯ জনের মধ্য থেকে ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে।

    আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন সৈনিক পদে বরিশাল পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। যার মধ্যে একজন নারী সৈনিক রয়েছেন, তার বয়স ২২ বছর।

    বাকী ৯ জন পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৯ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

    এমন তথ্য  নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল।

  • করোনা যুদ্ধে পুলিশের নেই কোন প্রশিক্ষণ তাও জীবন দিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

    করোনা যুদ্ধে পুলিশের নেই কোন প্রশিক্ষণ তাও জীবন দিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

    করোনা যুদ্ধে পুলিশের কোন প্রশিক্ষণ নেই। কিন্তু জীবন দিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সম্মুখ সমরে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একদিন-প্রতিদিন।

    পুলিশের অব্যাহত মানবিক দৃষ্টান্ত সমাজ জীবনে ঘটিয়েছে আলোর বিচ্ছুরণ । বিশ্ব পরিমন্ডলে নতুন এক উচ্চতায় তুলে ধরেছে নিজেদের।

    অদৃশ্য এক অনুজীবের বিরুদ্ধে কঠিন এ যুদ্ধে সংক্রমিত প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্যের সুস্থতার দিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

    আক্রান্তদের অদম্য প্রত্যয়, সাহস আর অনুপ্রেরণা জুগানো হচ্ছে নানাভাবে, প্রতিনিয়ত। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) নিজেই পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন।

    শুধু তাই নয়; পুলিশ প্রধানের নির্দেশে আক্রান্ত পু‌লিশ সদস্যদের সু‌চি‌কিৎসা ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ানো হচ্ছে চি‌কিৎসা ও সেবার আয়োজন।

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা এবং তাদের মনোবল বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন পুলিশের আইজি ড.বেনজীর আহমেদ।

    করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেসরকারি ইমপালস হাসপাতালে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

    ৬ টি বিভাগীয় শহরে হাসপাতাল ভাড়া করে সেখানেও প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। আক্রান্ত সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইউনিট কমান্ডারদের সাথে কথা বলে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

    ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ টিম

    আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদের নির্দেশে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে করোনা আক্রান্ত প্রত্যেক সদস্যকে স্বশরীরে পরিদর্শনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ টিম’ গঠন করেছে।

    একই সূত্র মতে, প্রাথমিকভাবে এই বিশেষ টিমগুলো করোনা আক্রান্ত প্রত্যেক সদস্যকে সরেজমিনে দেখতে যাবে। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোজ-খবর নিবে, হাসপাতাল কিংবা আইসোলেশনে থাকাকালীন তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জেনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

    পদমর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেক সদস্য যাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান- সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এই ‘বিশেষ টিম’।

    সূত্র জানিয়েছে, ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুলিশের সবচেয়ে বড় এই ইউনিটের একটি বিশেষ টিম শুক্রবার (০৮ মে) কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগ এবং করোনা চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের বর্ধিতাংশ ডিএমপির ট্রাফিক ব্যারাক, রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদেরকে স্বশররীরে দেখে এসেছে।

    এ সময় করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা এই বিশেষ টিমকে সামনে পেয়ে উজ্জীবিত হন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। বিশেষ টিমটি সমস্যার কথা জেনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানে উদ্যোগ নেয়।

    পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের আলোকে জানান, করোনাকালে জনগণের সুরক্ষা নি‌শ্চিত করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই ছয় জন দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য।

    তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত মোট ৯৮ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন।

    করোনা আক্রান্তদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ

    এর আগে গত ৫ মে ডিএমপির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে আছেন এমন সদস্যদের নিয়মিত খাবারের বাইরে ডিম, দুধ, ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ শুরু হয়।

    এছাড়া যারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন তাদের নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি লেবু, মৌসুমি ফল আনারস ও মালটা সরবরাহ করা হচ্ছে।

    তাদের মেসগুলো গরম পানির ব্যবস্থা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সব পুলিশ সদস্যের মাঝে ভিটামিন ‘সি’ ও জিংক ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

    এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানসহ রেঞ্জের অন্য কর্মকর্তারা করোনা আক্রান্ত প্রতিটি পুলিশ সদস্যের খোঁজ নিচ্ছেন।

    রেঞ্জের ১৩টি জেলায় করোনা আক্রান্ত প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

    একইভাবে দেশের অন্যান্য জেলা ও থানায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের পাশে থেকে ঊর্ধ্বতনরা সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা।

  • অসাধারণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ পুলিশ

    অসাধারণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ পুলিশ

    ভয়াবহ করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখ সারিতে যারা যুদ্ধ করছেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শাহাদাতবরণ করেছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেক দিন আগের একটা ঘটনার কথা মনে পড়েছে। ২০০৫ সালের কথা। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়, প্রচ- শীত। বনানীর কামাল আতাতুর্ক রোডে এক সুপরিচিতজনের অফিসে একদিন গল্প আর আড্ডায় কখন যে রাত সাড়ে ১১টা বেজে গেল টের পাইনি। ঘড়িতে চোখ পড়তেই মনে হলো এখনই বাসায় ফেরা উচিত। সঙ্গে গাড়ি নেই। বের হয়ে দেখি রাস্তায় মানুষজন গাড়িঘোড়া বলতে কিছুই নেই। সুনসান নীরব নিস্তব্ধ একটা পরিবেশ। একটু দূরে বনানী লেকের ব্রিজের ওপর দুজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। জানা ছিল, কামাল আতাতুর্ক পার হয়ে এপারে গুলশান ক্লাবের লাগোয়া ৫৫ নম্বর সড়কে অধিক রাতেও রিকশা পাওয়া যায়। সুতরাং একটু জোরে হেঁটে ৫৫ নম্বর সড়কের মাথায় আসতেই দেখি একটি মাত্র রিকশা চাদর মুড়ি দিয়ে একজন সিটের ওপর বসে আছে। কাছে এসে জিজ্ঞাসা করতেই বলল কোথায় যাবেন। বারিধারা ডিওএইচএস বলতেই রাজি হলো। রিকশায় উঠে একটু চারদিকে তাকিয়ে দেখি একজন মানুষের চিহ্ন কোথাও নেই। আশপাশের বাড়িগুলোর নিরাপত্তা কর্মীরাও বোধহয় শীতের প্রকোপে ভিতরে ঢুকে কোথাও চুপচাপ বসে আছে। এর আগে শুনেছি এবং পত্রিকায়ও পড়েছি অনেক সময় রিকশা চালকের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের একটা যোগাযোগ থাকে। সুযোগ পেলেই তারা কাজে লাগায়। তাই রিকশায় বসেই একটু আগবাড়িয়ে রিকশাওয়ালাকে বললাম, কোনো সমস্যা বা ছিনতাই হওয়ার কোনো ভয় নেই তো। প্রতিউত্তরে রিকশাওয়ালার কথা শুনে আমি একটু চমকেই গেলাম। বলল, স্যার আপনি এখন আমার জিম্মায় আছেন। আপনাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সব দায়িত্ব আমার। এটা হলো গিয়ে ইমানি দায়িত্ব। শহীদ হয়ে যাব তবুও আপনার কোনো ক্ষতি হতে দিব না। শহীদ কাকে বলে এবং সে কেন রিকশা চালায় ইত্যাদি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে এলাম। লেখাপড়া জানা ছেলে, বাড়ি রংপুর। সেদিন রিকশাওয়ালার কথায় অভিভূত হয়ে অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। এ রকম আত্মত্যাগের সাহস ও উৎসাহ দেখলেই একাত্তরের কথা মনে পড়ে। গল্পটি লেখার শুরুতে এ জন্য বললাম, আত্ম উপলব্ধিগত দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা একজন সাধারণ মানুষকেও কতখানি অনুপ্রাণিত করতে পারে তার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ সেদিন পেলাম একজন রিকশাওয়ালার কাছ থেকে। ভাবতেও কত ভালো লাগে। এরাই তো আসল সোনার মানুষ। এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ আজ করোনার আক্রমণে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। অজানা, অদেখা, কায়াহীন শত্রু করোনার আক্রমণ থেকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করাই এখন রাষ্ট্রের এক নম্বর প্রধান কাজ। এ মুহূর্তে করোনার আক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র মূলমন্ত্র সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং যথাসম্ভব ঘরে থাকা। নিশ্চিতকল্পে শুরু থেকে বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে মাঠে-ময়দানে কাজ করছে তা দেখে আমার গল্পের ওই রিকশাওয়ালার কথাই বারবার মনে আসছে, শহীদ হয়ে যাব তবুও দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ থেকে পিছু হঠবো না। এ যেন আমাদের এক অন্যরকম পুলিশ বাহিনী। অন্য সময়ে সামাজিক অপরাধ দমন সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু আজ জাতির এই কঠিন সংকটে পুলিশ সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশিত স্বমূর্তিতে যেভাবে ভূমিকা রাখছে তা এক কথায় অসাধারণ। কথায় আছে, পুলিশ যদি সত্যিকার অর্থে মানুষের বন্ধু হয় তাহলে ওই দেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা শুধু যে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মানুষকে ঘরে রাখা নিশ্চিতকল্পে কাজ করছে তাই নয়। সব রকম মানবিক সহায়তা নিয়ে তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাজির হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এমনকি মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনও করছে পুলিশ। আদরের ছেলেমেয়েরা যখন করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধ পিতা মাতাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে তখন পুলিশ তাদের সযতেœ তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করছে। করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ যখন স্বজনরা নিতে আসছে না, তখন পুলিশ সেই লাশ নিয়ে যথাযথভাবে দাফন করছে। এই দৃশ্য দেখে ছোটবেলায় পড়া সেই কবিতার কথাই মনে পড়ে। ‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক/কে বলে তা বহুদূর/মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক/মানুষেতে সুরাসুর। মানুষ আর মানবতা না থাকলে এই পৃথিবী থাকত না। মানুষকে রক্ষার মহান ব্রত পালনকালে ইতিমধ্যেই পুলিশের সাত সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আরও পনেরোশর বেশি সদস্য আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, যারা দেশ ও মানুষের জন্য আত্মদান করেন তাদের তোমরা মৃত বল না, তারা শহীদ। দেশ ও মানুষকে বাঁচানোর কাজ সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং আত্ম সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কিছুই পুলিশের জন্য নিশ্চিত থাকা উচিত। পুলিশ কর্তৃপক্ষ আরেকবার সব কিছু পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন। সুরক্ষা সামগ্রীর কোনো ঘাটতি ও ত্রুটি আছে কিনা সেটা যেমন দেখা দরকার, তেমনি দেখা দরকার সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে সদস্যদের ভিতর অনুপ্রেরণার কোনো অভাব আছে কিনা। আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি দেশ ও জাতির সুরক্ষায় নিজেদের ক্ষয়ক্ষতিতে বাহিনীর মনোবল কখনো ক্ষুণœ হয় না, বরং সেটি শতগুণ বৃদ্ধি পায়। যে লক্ষ্য অর্জনে তারা জীবন দিয়ে গেলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে বাকিরা যখন আরও উদ্বুদ্ধ হবেন, তখনই ওই আত্মদান সফলতা লাভ করবে। একটু আগে যেমনটা বলেছি, পুলিশের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ থাকলেও জাতির সংকটকালে এর আগেও আমাদের পুলিশ বাহিনী অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। মনে পড়ে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজানে সশস্ত্র জঙ্গিদের তা-বের কথা। গুলশান ঘটনার আগে ২০১৩ সাল থেকে জঙ্গিরা দেশব্যাপী উদারমনা এবং ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ওপর টার্গেট কিলিং চালিয়ে কয়েক ডজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। সে সময়ে দেশি-বিদেশি কিছু পক্ষ ও গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করতে থাকে বাংলাদেশে আইএসের মতো ভয়ঙ্কর সব জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। যা বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টায় দমন করা সম্ভব নয়। সে ছিল আরেক মহাদুর্যোগের সময়। আইএস বাংলাদেশে আছে, এটা সরকারের মুখ থেকে বের করতে পারলেই ষড়যন্ত্রকারীদের কেল্লাফতে। সেই দুর্যোগ মোকাবিলায়ও পুলিশ বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।

    গুলশান ঘটনার পর জঙ্গিদের বড় বড় সব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি পুলিশ গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তাতে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন। বিশ্ব মহলে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশ এখন একটা উদাহরণ। গুলশান ঘটনার পর জঙ্গিরা যদি ওই রকম আরও দু-চারটা ঘটনা ঘটাতে পারত তাহলে ওই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হতো। কে বা কারা এবং কেন, কখন কী ষড়যন্ত্র করছে তা সব সময় বোঝা না গেলেও বাতাসে কান পাতলে তার কিছু আওয়াজ তো পাওয়াই যায়। গার্মেন্ট কারখানা খোলা-বন্ধ রাখা নিয়ে শ্রমিকদের জনস্রোতের পরিণতিতে করোনাভাইরাসের  বিস্তৃতি কত দূর গড়িয়েছে তার পূর্ণচিত্র এখনো আসেনি। সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কী হবে একমাত্র খোদাই জানেন।

    ইতিমধ্যে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে। এটি এমন যে, একজনের হলে তা আর থামিয়ে রাখা কঠিন। চায়নায় প্রথম একজনেরই হয়েছিল। প্রবল যৌক্তিক অভিযোগ রয়েছে। উহান ল্যাবের কর্তৃপক্ষ শুরুতেই আমলে না নেওয়ার কারণেই সেটি এখন সারা বিশ্বের আতঙ্ক এবং ইতিমধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে বধ করে ফেলেছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড রিসার্চ পলিসি সম্প্রতি মতামত দিয়েছে করোনার কবল থেকে বিশ্ববাসী সহজেই মুক্তি পাচ্ছে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু ঠেকানো নির্ভর করবে টিটিটিআই, অর্থাৎ টেস্ট, ট্রেসিং, ট্রিটমেন্ট এবং আইসোলেশন কার্যক্রমের সফলতা এবং তার সঙ্গে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর। অর্থনৈতিক কারণে সব ধরনের কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক না হলেও সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সুরক্ষা বিধিমালা কঠোর ও যথার্থভাবে কার্যকর করতে না পারলে মানুষের মৃত্যুর মিছিল ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। শুরুতে নারায়ণগঞ্জের লকডাউন যদি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা যেত তাহলে দেশের অন্যান্য জায়গায় হয়তো সংক্রমণ ঠেকিয়ে রাখা যেত। নারায়ণগঞ্জ থেকে লোক যাওয়ার পরেই অন্য অনেক জেলায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমাবনতির ভিতরেই ঈদ এসে গেছে। শুধু অর্থনৈতিক কারণে দোকানপাট  এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাতে ঝুঁকির মাত্রা কতখানি বৃদ্ধি পাবে সেটি খতিয়ে দেখা হয়েছে কিনা জানি না। জনসংখ্যা ও তার ঘনত্ব বিচারে টিটিটিআই কার্যক্রমে আমরা এখনো অনেক পিছনে আছি। ঝুঁকি হয়তো নিতে হবে। তবে তার মাত্রা সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    ঈদ আমাদের জীবনে আগে এসেছে, ইনশা আল্লাহ আগামীতেও আসবে। মানুষের জীবনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সব কিছু ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। যা করা যায় তা দ্বিধাহীনভাবে করতে হবে। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তা অনুসরণে মানুষকে সজাগ ও অনুপ্রাণিত করার জন্য ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণা দরকার। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। এটি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ জরুরি। এই মর্মে ব্যাপক প্রচারণা দরকার যে আই প্রটেক্ট ইউ অ্যান্ড ইউ প্রটেক্ট মি, অর্থাৎ আমি আপনাকে সুরক্ষা দিব/আপনি দিবেন আমাকে/থাকব আমরা নিরাপদে/পরব মাস্ক সকলে। এই স্লোগানে মানুষ উদ্বুদ্ধ হলে অনেক কাজ হবে। পুলিশ বাহিনী যেহেতু মানুষের সুরক্ষায় গ্রাউন্ড লেভেলে কাজ করছে, তাই সব কর্মস্থলের জন্য এসওপি তৈরি ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকল্পে তারা অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। প্রয়োজন হলে এ সময়ে পুলিশের সঙ্গে আনসার এবং আরও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগ করা উচিত। এ পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকাকে স্যালুট জানাই। আশা করি জাতির এই ক্রান্তিকালে তারা আগের মতোই সফল হবে।