Category: প্রশাসন

  • নারায়ণগঞ্জে অভাবী মানুষের পাশে র‍্যাব

    নারায়ণগঞ্জে অভাবী মানুষের পাশে র‍্যাব

    করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি কর্মহীন ও প্রতিবন্ধী অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে র‍্যাব-১১। তারা প্রতি রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভাবগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসসহ শিশুখাদ্য।

    র‍্যাব তাদের নিজস্ব গোয়েন্দাদের দিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত অভাবী মানুষগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রীগুলো পৌঁছে দিচ্ছে। তারা এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

    গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এখনো এই লকডাউন চলছে। নারায়ণগঞ্জে ভাসমান ও শ্রমিক শ্রেণি বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেশি। করোনার কারণে এসব মানুষ খাদ্যসংকটে পড়েছেন। সেই মানুষদের খাদ্যসংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিক কারণে র‍্যাব কর্মহীন অভাবী মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। তাদের ত্রাণসহায়তা কার্যক্রমে সরকারি কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকলেও শুরুতে ব্যাটালিয়নের সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় এ কার্যক্রম আরও প্রসারিত হয়।

    গত ৮ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত এক মাস তিন দিনে তারা সাড়ে ৬ হাজার পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিয়েছে। পরিবারপ্রতি খাদ্যসহায়তায় তাদের প্যাকেটে ছিল ৫ থেকে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি ছোলা, আধা কেজি মুড়ি, ১ কেজি লবণ, ১ থেকে ২ কেজি চিনি, ২টি সাবান। এ ছাড়া ১৭২ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারকে খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৩০টি শিশুর জন্য শিশুখাদ্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তারা।

    এদিকে দেশের বাইরে থেকে প্রবাসীরা ফোনে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের কষ্টের বিষয়টি র‍্যাবকে জানালে এ রকম তিন প্রবাসীর পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে র‍্যাব। বিকাশেও অনেক মধ্যবিত্ত অভাবী পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে তারা। মসজিদ ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও খাদেম যাঁরা অভাবে থাকলেও কারও কাছে চাইতে পারেন না, এমন লোকদের খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে র‍্যাব।

    র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ জেলায় ভাসমান লোকের বসবাস বেশি। করোনার কারণে তারা কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়েছে। তাই মানবিক কারণে র‍্যাব এই উদ্যোগ নিয়েছে। ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভাবী এলাকা ও মানুষগুলো সম্পর্কে তাদের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাতের বেলায় ওই এলাকায় প্রকৃত অভাবী মানুষগুলোর বাড়ি বাড়ি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয় তারা।

    রাতে ত্রাণ দেওয়ার বিষয়ে র‍্যাব জানায়, দিনের বেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গেলে সেখানে শত শত মানুষের সমাগম হয়। এতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, এতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে তাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার র‍্যাব অফিসে এসেও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন। র‍্যাব সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের প্রধান, বড় কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে রং দিয়ে বৃত্ত তৈরি, বাঁশের বেষ্টনী নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু থেকে চালিয়ে আসছে।

    শিমরাইল এলাকার বাসিন্দা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর চোখে আলো নেই। তাই ত্রাণের জন্য কোথাও যেতে পারেননি। র‍্যাব তাঁকেসহ তাঁর মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে।

    শহরের ভুঁইয়ারবাগ এলাকার বাসিন্দা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবার। তারা কারও কাছে হাত পাততে পারছে না। আবার ত্রাণসামগ্রীর জন্য কোথাও গিয়ে লাইন ধরতে পারছে না। তবে তাঁদের এলাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের বেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে র‍্যাব।

    এ বিষয়ে র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সীমিত পরিসরে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকৃত অভাবগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। যত দিন করোনা সংকট থাকবে, তত দিন তাঁদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    এদিকে এই করোনার সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি র‍্যাব মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

    এ বিষয়ে র‍্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, আর্তমানবতার সেবায় সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অনাহারী ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য র‍্যাব এগিয়ে এসেছে। দিনের বেলায় সরকারি দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বিশ্রামের সময় তাঁদের এই সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব ও র‍্যাব সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ ৫৯ জন। এ ছাড়া করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামসহ ১১ চিকিৎসক, ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ১ হাজার ৪৭৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৭৯ জন। আক্রান্তের হার বেশি নারায়ণগঞ্জ সিটি ও সদর উপজেলায়।

  • একজন সৎ ও কর্তব্য পরায়ণ এসপি ফাতিহা

    একজন সৎ ও কর্তব্য পরায়ণ এসপি ফাতিহা

    ঝালকঠি প্রতিনিধি// আরিফুর রহমান আরিফ : পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলে ও ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। একজন ব্যতিক্রমধর্মী পুলিশ সুপার।প্রতিনিয়ত তিনি কাজ করে যাচ্ছেন জনগন ও দেশের কল্যাণে । “পুলিশ জনগণের বন্ধু” তিনি এই বাক্যটির উৎকৃষ্ট নিদর্শন।তিনি অন্যতম একজন আদর্শ পুলিশ সুপার যিনি তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আধুনিকতা, প্রযুক্তি ও সততা এবং মেধার দক্ষতা দিয়ে অপরাধ দমন করার চেষ্টা করেন দেশের কল্যাণে। “পুলিশ জনতার, জনতা পুলিশের” এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এসপি ফাতিহা ইয়াসমিন। তিনি মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও গরিবের বন্ধুসুলভ পুলিশ সুপার । তিনি তার সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও তার বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা এবং মেধার বিকাশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত করেছেন। তার চোখে ধনী-গরিব, রিক্সাচালক হতে সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশে মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনেছেন। তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাই নন পাশাপাশি অনেক সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ ও অবদান রেখেছেন। ঝালকাঠিবাসী বলেন, তিনি একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন পুলিশ অফিসার। তিনি আমাদের বন্ধু তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ মাদক, চাদাঁবাজ, ইভটিজার, মুক্ত। তারা আরো বলেন, তাঁর মতো একজন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠা পুলিশ অফিসার পেয়ে আমরা সত্যিই ধন্য। ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন , বর্তমান সরকার গণমানুষের বন্ধু, সরকার আমাদের পাঠিয়েছেন মানুষের মুখেহাসি ফোটাতে তাদেরকে হেফাজত করতে , মানুষের সাথে মিলেমিশে তাদের সুখ দুঃখভাগাভাগি করে নিতে। আমরা মানুষের অতন্ত্র প্রহরী আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাদাঁবাজ, ইভটিজার মুক্ত করে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমার কাছে ধনী-গরিব, রিক্সাচালকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। একজন নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো পুলিশ। আর আমরা যদি তাদের আশ্রয় এবং তাদের সমস্যা নিরসন না করি তাহলে কে করবে। “পুলিশ জনতার এবং জনতা পুলিশের” আমি এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে মাদক, সন্ত্রাস মুক্ত করতে এগিয়ে যাব। আমি একটি কথা বলবো জনগণের উদ্দেশ্যে-আপনারা পুলিশ কে নিজের বন্ধু ভাবুন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশজনগণের শুধু বন্ধুই নয়, সেবকও। পুলিশ সব সময়ই জনগণের বন্ধুহিসেবে জনগণের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সেবা দেয়া সম্ভব নয়। ঝালকাঠিবাসীর অভিমত ফাতিহা ইয়াসমিনের সততা ও ন্যায়নিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে বলেন, জীবন সংগ্রামকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানুষের সঠিক পুলিশ অফিসারের । যে দিন বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় একজন করে এমন পুলিশ সুপার থাকবেন সেদিনই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে নিরাপদ, সুন্দর এবং শান্তিময় দেশ। গত ২০ জুন ২০১৯ ঝালকাঠিতে যোগদান করেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন । তিনি ঝালকাঠি যোগ দিয়েই পাল্টিয়ে দিতে শুরু করেছেন এখানকার সমাজ ব্যবস্থা। বিরল অসাধ্যটিকেই সত্যিতে পরিনত রুপরেখা করতে যাচ্ছেন । এর আগে তিনি চট্রগ্রাম মেট্রো পলিটন পুলিশের উপকমিশনার ছিলেন। সেখানকার সমাজ ব্যবস্থাপনা ও অস্থির জনপদে শান্তির সু-বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে ঝালকাঠি এসেছেন। ইতিমধ্যেই মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তিনি মাদক নির্মূলসহ জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রাক্ষায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।এছাড়া প্রতিটি পরিবারের সন্তানরা কে কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, কখন ঘরে ফিরছে এসব বিষয়ে সকল পিতা-মাতাকে নজরদারী করার পরামর্শ দেন ।লেখাপড়া ফাকি দিয়ে আড্ডার ফলে যুবসমাজ যাতে ধ্বংসের পথে পা বাড়াতে না পারে সে দিকে খেয়াল রেখে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেন।

  • সংবাদপত্র হকারদের পাশে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম

    সংবাদপত্র হকারদের পাশে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম

    বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের উদ্যোগে শতাধিক সংবাদপত্র হকারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

    আজ বুধবার দুপুর ১২টায় বরিশাল জেলা স্কুল মাঠে বরিশাল নগরীর তিন সংবাদপত্র এজেন্সির নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংবাদপত্র বিক্রয়কারীদের মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

    খাদ্য সহায়তা প্রদানকালে ডিআইজি জানান, সরকার বিভিন্ন ভাবে বর্তমান সংকটকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবাদপত্র বিতরণকারীরা বর্তমান সংকটকালে পরিবার-পরিজনয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে তিন এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পত্রিকা বিতরনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ইতিমধ্যেই বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও তার সামর্থ্য অনুযায়ী বরিশালের মানুষের পাশে থাকবেন’।

    খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ, ডিআইজি অফিস বরিশাল পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রামানিক, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস. এম জাকির হোসেন, মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, এম.রহমান নিউজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ, আলম বুক এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আলম সিকদার, রকি নিউজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল।

  • পুলিশ, তুমি বন্ধু হয়েই থাকো

    পুলিশ, তুমি বন্ধু হয়েই থাকো

    অনেক শিশুর মতো আমিও পুলিশ সম্পর্কে কৌতূহলী হই শৈশবেই। দারুণ পরিপাটি তখনকার খাকি পোশাকে সজ্জিত কোনো পুলিশ দেখলে অপলক তাকিয়ে থাকতাম। তবে পুলিশের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার শিশুমন প্রথম ধারণা লাভ করে বাংলা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। সেখানে সব সময় শেষ দৃশ্যে আবির্ভূত হতো একদল পুলিশ। নায়কের উত্তম-মধ্যমে নাজেহাল কুচক্রী দলকে উদ্ধার করত তারা। সঙ্গে নিশ্চিতভাবে থাকত একটি সংলাপ, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’ বাস্তব জীবনেও পুলিশের আবির্ভাব ঘটেছিল অনেকটা একইভাবে। আমি তখন অনেক ছোট। বাসার সবকিছু ডাকাতেরা লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ এসেছিল। বেশ কয়েক মাস তদন্তের পর ভাটা পড়ে পুলিশের তৎপরতায়। ধরা পড়ে না কোনো ডাকাত। প্রথম অভিজ্ঞতাতেই তাই পুলিশের কর্মদক্ষতা নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল আমার শিশুমনে। পরবর্তী সময়ে সেই ধারণার আর তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    পুলিশ সম্পর্কে যে খবরগুলো আমরা পাই, তার অধিকাংশই নেতিবাচক। পুলিশের ক্ষেত্রে প্রায়শই নেতিবাচক বিশেষণই বেশি ব্যবহৃত হয়। ভালো কাজ স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয়, কথা হয় কেবল খারাপ কাজগুলো নিয়ে। ওই সব বিশেষণ এমনভাবে আমাদের তাড়িত করে যে আমরা অনেকেই পুলিশের প্রতি আস্থাশীল হতে পারি না, এড়িয়ে চলি পুলিশকে। তাদের প্রশংসনীয় কাজগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঢাকা পড়ে গেছে দুর্নীতির আড়ালে।

    করোনা পরিস্থিতি সারা বিশ্বকেই বিভিন্ন বিষয়ে নতুনভাবে ভাবিয়েছে, নতুন পথ দেখিয়েছে। লকডাউন শুরুর দিনগুলোতে পুলিশের কর্মতৎপরতা নতুনভাবে দেখার সুযোগ পায় বাংলাদেশের মানুষ। সম্ভবত এই প্রথম পুলিশ বাহিনীর দেশ ও জাতিকে সেবা করার ইচ্ছার বিষয়টি প্রবলভাবে অনুভূত হয়, যা পুরো জাতিকেই নতুনভাবে নাড়া দেয়। আমরা নতুনভাবে চিনতে শুরু করি পুলিশকে। এই জোয়ারে ভেসে যায় পুলিশ নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হওয়া এত দিনের ক্ষোভ ও অনাস্থা। করোনা লকডাউনের তুমুল দুঃসময়ে অসহায় মানুষ তাঁদের পাশে পুলিশকে খুঁজে পান মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা খাবারের প্যাকেট হাতে। তাঁদের কেউবা রাতের আঁধারে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, আবার কেউবা অসহায় মায়ের অসুস্থ সন্তানকে পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে কিংবা প্রসববেদনায় কাতর নারীকে সন্তান জন্মদানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, করোনা সংক্রমণে মৃত ব্যক্তির সৎকার করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে হাজারের ওপরে পুলিশ সদস্য করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, মারা গেছেন পুলিশ বাহিনীর বেশ কজন সদস্য। চিকিৎসকদের পাশাপাশি তাঁদের এই অবদান এই সময়ে বিরাট গুরুত্ব বহন করে।

    করোনাকালে পুলিশের তৎপরতা আমাদের নতুনভাবে ভাবিয়েছে পুলিশের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে। পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে একদিকে যেমন আমাদের নতুন প্রত্যাশার মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, ঠিক একইভাবে পুলিশের নানা অসহায়ত্ব ও সীমাবদ্ধতা আমাদের ভাবিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি পুলিশের দৈন্যদশার কথা। আমরা শুনেছি জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে ব্যারাকের মেসে অবস্থান করা পুলিশের বিমর্ষ পিতৃ হৃদয়ের আকুতি।

    লকডাউন এরই মধ্যে ঢিলেঢালা হয়ে গেছে। হয়তো পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে অচিরেই। কিন্তু আমরা চাই, করোনা-পরবর্তী পৃথিবীতেও বাংলাদেশ পুলিশ নতুনভাবে পথ চলুক মাথা উঁচু করে। সূচনা হোক বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত পথচলা। অনাস্থা নয়, বরং আস্থার নতুন দিক উন্মোচিত হোক। দূর হোক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মানুষকে সেবা দেওয়া পুলিশের ব্যক্তিজীবনের যাবতীয় দৈন্য আর হতাশা। পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক করা হোক, খসড়া পুলিশ আইন চূড়ান্ত হোক, যার সুফল পেতে পারে সমগ্র জাতি।

    গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সপ্তাহে শিশু একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলাম শিশুদের একটি সেশনে। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, ‘পুলিশ আমার বন্ধু’। অবাক হয়ে শুনছিলাম পুলিশের কাছ থেকে আমাদের শিশুদের নানা প্রত্যাশার কথা। করোনার লকডাউন পরিস্থিতি পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ করে দিয়েছে, তা যেন চলমান থাকে। পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই সবার বন্ধু হয়ে থাকে।

  • সাঈদীর মুক্তির ‘দায়িত্ব নেয়া’ সেই রকি বড়ুয়া আটক

    সাঈদীর মুক্তির ‘দায়িত্ব নেয়া’ সেই রকি বড়ুয়া আটক

    একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্ত করতে দেশে ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টার অভিযোগে রকি বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। একইসঙ্গে নারীসহ তার আরো ছয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের প্রধান লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, ‘রকি বড়ুয়া মূলত একজন প্রতারক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রচার করে তিনি প্রতারণা করেন। সম্প্রতি তিনি সাজাপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে সাঈদীকে মুক্ত করার পরিকল্পনা হয়েছে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। এরপর আমরা রকি বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে থাকি।’

    তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে পাঁচলাইশে রকি বড়ুয়ার আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিদেশি মদ ও পিস্তল পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফ দেন রকি। এতে তিনি দুই পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় সহযোগীর মধ্যে এক নারীও আছেন। তারা মূলত রকি বড়ুয়ার আস্তানায় থাকতেন। ওই আস্তানা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, মদের বোতল, স্ট্যাম্প-সিল, গেরুয়া পোশাক, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের নানা সরঞ্জাম এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ছবি জব্দ করা হয়েছে। ২৫ লাখ টাকার এফডিআর, মানুষকে প্রতারণা করার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

    গ্রেপ্তার রকি ভান্তের বেশ ধরে গেরুয়া রঙের কাপড় পরে যে প্রতারণা করে সেই কাপড় এবং সাঈদীর মুক্তি নিয়ে বৈঠকের ছবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসও উদ্ধার করা হয়। আমরা এসব বিষয়ে আরো কাজ করছি। রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর প্রধান লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল।

    সম্প্রতি জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী এবং আলোচিত ধর্মীয় বক্তা তারেক মনোয়ারকে নিয়ে বৈঠক করে তার গ্রামের বাড়িতে। সাঈদীকে মুক্ত করার জন্য ভারত সরকারের সাথে লবিং করার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল সৃষ্টির জন্য ওই বৈঠকে পরিকল্পনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বৈঠকের পর পরই লোহাগাড়া এলাকায় একটি বৌদ্ধ মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    অঘোষিত লকডাউনের মাঝে জামায়াত নেতার ছেলের চট্টগ্রাম আসা এবং বৈঠকের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এমনকি রকি বড়ুয়া নিজেও দাবি করে ভারতের লবিং ঠিক করার জন্যই শামীম সাঈদী ও তারেক মনোয়ার তার সাথে বৈঠক করেছে। এরপর থেকে রকি বড়ুয়ার সন্ধানে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

  • বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়িচালকের করোনাভাইরাস শনাক্ত

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গাড়িচালকের করোনাভাইরাস শনাক্ত

    স্টাফ রিপোর্টার // সাইফুল ইসলাম : বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক গাড়ি চালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার নমুনা পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়। তাকে বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। কনস্টেবল পদবীর এ পুলিশ সদস্য বরিশাল মেট্রোপলিটন দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদের গাড়ি চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার দক্ষিণ জোনের কার্যালয় ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, জ্বর গলাব্যাথাসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন ওই গাড়ি চালক। সোমবার নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় তার সংস্পর্শে আসা পুলিশ কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ ৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি সদস্যদেরও কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। তবে কতজন পুলিশ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মোট কতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে তা স্পষ্ট করে বলেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।

  • বরিশালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ দোকান মালিককে জরিমানা

    বরিশালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ দোকান মালিককে জরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর ১টায় নগরীর কাটপট্টি রোডের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান।

    এসময় জননী ফার্মেসী, জাকির ফার্মেসী ও জিত ফার্মেসী থেকে বিপুল পরিমান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার হয়। এ কারণে ৩টি দোকানের মালিককে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অপরদিকে নগরীর তালতলী বাজারে ৩টি দোকানে মূল্য তালিকা না টানানোর কারণে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জণকল্যানে এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান।

  • নথুল্লাবাদে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    নথুল্লাবাদে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    বরিশাল নগরীতে ইজিবাইক (ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা) চালক হত্যা মামলা আসামি জামাল মাজিকে (৩০) গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। জামাল কাশিপুর ইছাকাঠী এলাকার লতিফ মাঝির ছেলে।

    শনিবার (৯ মে) রাত দশটার দিকে কাশিপুর ইছাকাঠী ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। কাশিপুর ইছাকাঠী প্রধান সড়কে পরিবারসহ ২৯ নং ওয়ার্ডের কর্নেল নুর হোসেন বাবুর বাড়ির কেয়ারটেকার জামাল। সে ভোলা জেলার শশীভুষন থানার করিমপুর গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

    আজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় জামাল মাঝি । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোস্তাফিজুর রহমান।

    ঘটনার পরের দিন নিহত জাকির গাজীর ভাই আমির হোসেন শুক্রবার ( ৯ মে) এয়ারপোর্ট থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং ৫।

    উল্লেখ, যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে ইজিবাইক (ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা) চালক জামাল হামলা চালায় জাকির গাজীর উপরে । শুক্রবার (০৮ মে) দুই দফায় এই হামলার ঘটনায় আহত ইজিবাইক চালক মো. জাকির গাজী (৩২) কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত জাকির গাজী এয়ারপোর্ট থানাধীন রামপট্টি এলাকার বাসিন্দা সোমেদ গাজীর ছেলে।

  • করোনা ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তনুযায়ী  ঝালকাঠি কারাগার থেকে ৬ কয়েদীর মুক্তি

    করোনা ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তনুযায়ী ঝালকাঠি কারাগার থেকে ৬ কয়েদীর মুক্তি

     

    ঝালকাঠী প্রতিনিধি// আরিফুর রহমান আরিফ :  করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সকল কারাগার থেকে ক্যাটাগরী অনুযায়ী কিছু কয়েদী মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার ধারাবাহীকতায় ঝালকাঠি কারাগার থেকে মুক্তি মিললো ৬ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীর। সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক আদেশে শনিবার এদেরকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝালকাঠি কারা কতৃপক্ষ। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলো ঝালকাঠি কিস্তাকাঠির আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে  মোঃ নয়ন (২৭) মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজায় দন্ডিত হয়ে ২ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৫২/এ। পৌর এলাকার কলেজ মোড়স্থ রামলাল কংশবনিকের ছেলে রনজিৎ কংশবনিক (৩৭) মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজায় দন্ডিত হয়ে দেরমাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৫৭/এ। শহরের আমতলা সড়কের ধীরেন সিংহ’র ছেলে কুকন সিংহ (৩২) মানহানী মামলায় ১ বছর সাজায় দন্ডিত হয়ে ২ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৪৪/এ। ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শাহআলম মুন্সির ছেলে সোহাগ মুন্সি (২৫) বাল্যবিবাহ আইনের একটি মামলায় ১ বছর সাজায় দন্ডিত হয়ে ২ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৫০/এ। একই উপজেলার হামিদ খানের ছেলে সান্টু খান (৪৫) বাল্যবিবাহ আইনের একটি  মামলায় ১ বছর সাজায় দন্ডিত হয়ে ২ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৫১/এ। এছাড়া ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোতালেব হাওরাদারের ছেলে তারেক হাওলাদার (২৮) মাদক আইনের একটি মামলায় ৬ মাসের সাজায় দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে দেরমাস কারাভোগের পর মুক্তি পেলো যার কয়েদী নম্বর ৪৬৫৯/এ। ঝালকাঠির জেল সুপার শফিকুল আলম বলেন, শুক্রবার আমরা এই মুক্তি আদেশটি হাতে পেয়েছি। ঝালকাঠি কারাগারে থাকা ৯ কয়েদীর তালিকা কারা সদর দপ্তরে প্রেরন করা হলে সেই তালিকা থেকে ৬ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীর মুক্তির আদেশ আসে। শনিবার সকালের মধ্যে ২ জন বাড়ীতে ফিরে গেছে। আর যে ৪ জন রয়েছে তাদের কাছে পৃথক অংকে জরিমানার ৪৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে তাই তাদের বাড়ি ফিরতে একদিন বিলম্ব হবে বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ হলেই তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে।

  • সামাজিক দূরত্ব বজায়ের দৃষ্টান্ত রাখলেন মাননীয় রেঞ্জ ডিআইজি, বরিশাল

    সামাজিক দূরত্ব বজায়ের দৃষ্টান্ত রাখলেন মাননীয় রেঞ্জ ডিআইজি, বরিশাল

     

     

    ,স্টাফ রিপোর্টার//জুবায়ের  হোসাইন:  আজ ঝালকাঠিতে   করোনাভাইরাসে কর্মহীন অসহায় মানুষ মাঝে খাদ্য সমগ্রী বিতরন করেন,

    জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ, বরিশাল রেঞ্জ, বরিশাল, মহোদয় ঝালকাঠি জেলার হরিজন, কামার ও মুচি সম্প্রদায়ের মধ্যে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় জনাব ফাতিহা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার, ঝালকাঠি মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি নানা তাদেরকে করোনা থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় তা নিয়ে তাদেরকে উপদেশ দেন।  ও বিশেষত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেন।