Category: প্রশাসন

  • ‘অনাগত সন্তানকে বাবার মুখ দেখাতে পারবো না’- কাঁদছে অন্তসত্ত্বা স্ত্রী’

    ‘অনাগত সন্তানকে বাবার মুখ দেখাতে পারবো না’- কাঁদছে অন্তসত্ত্বা স্ত্রী’

    বাবার মুখ দেখাতে পারবো না- পুলিশে চাকরি করেও এতটা সৎ ছিলেন তিনি, যে মৃত্যুর আগে স্ত্রী-সন্তানের মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরও বানাতে পারেননি-

     

    করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খালেকের মৃত্যুতে তিন সন্তান নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী’ ফাতিমা বেগম (২৮)।

     

    চিরতরে বাবার আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে খালেকের তিন অবুঝ সন্তান। বাবার ক’ফিনের পাশে বসে ছোট্ট শিশুটি কেঁদে কেঁদে বলল, আমার বাবা অসুস্থ, বাবা অসুস্থ!

     

    বাবার মৃত্যুতে ছোট দুই মেয়ে এক ছেলের পড়াশোনা হুমকিতে পড়ে গেছে। একই সঙ্গে অনাগত আরেক সন্তানের দুশ্চিন্তায় এক বুক ক’ষ্ট জমেছে ফাতিমা বেগমের।

     

    করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া পু’লিশ সদস্য আব্দুল খালেকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল খালেকের স্ত্রী’ ফাতিমা বেগম তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে খাদিজা আক্তারের বয়স ১৩ বছর। মেজো মেয়ে সামিয়া আক্তারের বয়স ১১ বছর। একমাত্র ছেলে সালমান ফারসির বয়স ছয় বছর।

     

    ২০০৪ সালে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন আব্দুল খালেক। এরপর সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পদোন্নতি পান। আব্দুল খালেক ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় মারা গেলেও তার পরিবার থাকে বরিশালের একটি ভাড়া বাড়িতে। মূলত বছর দেড়েক আগে বরিশালে কর্মরত ছিলেন আব্দুল খালেক।

     

    তাই পরিবার নিয়ে বরিশাল থাকতেন তিনি। পরে তিনি বদলি হয়ে ঢাকা যোগদান করলেও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে পরিবারকে বরিশাল রেখেছিলেন তিনি। অত্যন্ত বিনয়ী ও সদা হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল খালেকের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছাড়া নেমে এসেছে তার নিজ এলাকায়। কাঁদছেন তার সহকর্মীরা।

     

    খালেকের পারিবারিক সূত্রে জানায়, চাকরি পাওয়ার আগে নিজ এলাকার একটি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। চাকরি জীবনেও তিনি ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন স্থানে কর্মরত অবস্থায়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন আব্দুল খালেক। চাকরিও করতেন স্বল্পবেতনে। তাই স্ত্রী’-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরও বানাতে পারেননি তিনি।

     

    আব্দুল খালেকের শ্যালক মহিউদ্দিন বলেন, আমার বোনের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে, মেজো মেয়ে পড়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। দুই বোনই অ’ত্যন্ত মেধাবী। দুইজনেই পঞ্চম শ্রেণিতে ‘এ প্লাস’ পাওয়ার পাশাপাশি বৃত্তি পেয়েছে। একমাত্র ছেলে পড়ে নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণিতে।

     

    তিনি আরও বলেন, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বরিশালে বাসা ভাড়া থাকে তারা। নিজেদের মাথা গোঁজার ঘরও তৈরি করতে পারেননি। এর মধ্যে হঠাৎ দুলাভাইয়ের মৃত্যুতে তিন শিশু সন্তানসহ অনাগত আরেক সন্তান নিয়ে মহাবিপদে পড়লেন বোন। বোনের এই কঠিন দুর্দিনে পু’লিশের সহায়তা খুব প্রয়োজন।

     

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে খালেকের স্ত্রী’ ফাতিমা বেগম বলেন, ছোট তিন সন্তান এবং অনাগত আরেক সন্তানের বাবা যখন মারা যায়, তখন সেই সন্তানদের মায়ের অবস্থা কি হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। এমন অল্প বয়সে আমার সন্তানরা বাবাকে হারিয়েছে। অনাগত সন্তানটা তার বাবার মুখটাও দেখতে পারল না। সন্তানের মুখও দেখে যেতে পারল না তার বাবা।

     

    তিনি বলেন, আমাদের অনাগত সন্তান সাত মাস পর জন্মগ্রহণ করবে। কষ্ট বোঝানোর ভাষা নেই। মা হয়ে আমি অনাগত সন্তানকে বাবার মুখ দেখাতে পারলাম না- এই দুঃখ কিছুতেই ভুলতে পারব না।

     

    আব্দুল খালেক খুব কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন জানিয়ে স্ত্রী’ ফাতিমা বলেন, যেখানে থাকুক না কেন সবসময় আমাদের খোঁজখবর নিতেন। তিনি এখন নেই। তিন সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব? কার কাছে যাব? কোথায় থাকব? কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। দেশের মানুষকে বাঁ’চাতে গিয়ে সন্তানরা পিতৃহারা; আমি বিধবা।

     

    আব্দুল খালেকের শ্বশুর মো. আব্দুল জলীল খন্দকার বলেন, শবে বরাতের কয়েকদিন আগ থেকে আমার জামাতা অসুস্থ ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর আমাদের সবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে খালেক। আমাদের সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চায়। এরপর সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনতে পাই আম’রা।

     

    করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় আব্দুল খালেকের মৃত্যু হয়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোঁপখালী গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজা নামাজে ই’মামতি করেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

     

    জানাজায় অংশগ্রহণ করেন- বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মা’রুফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, অ’তিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহজাহান হোসেন, বেতাগীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব আহসান, বেতাগী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন তপু প্রমুখ। এছাড়া জানাজা নামাজে অংশ নেন মরহুমের স্বজনরা।

     

    এরপর মরহুমের ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি ও এসপিসহ উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা ম’রহু’মের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি বিপদে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় মরহুমের পরিবারকে নগদ অর্থসহ খাদ্যদ্রব্য সহায়তা দেয়া হয়।

     

    বরগুনার পু’লিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তারপরও কিছু কিছু মৃত্যু গৌরবের। আব্দুল খালেকের আত্মত্যাগ আমাদের ঋণী করেছে। বরগুনা জেলা পুলিশ আব্দুল খালেকের পরিবারের সঙ্গে আছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ তার পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আব্দুল খালেকের পরিবারের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা আম’রা পালন করব।

     

    এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, আব্দুল খালেককে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনতাম। অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। আমি সবসময় তার পরিবারের পাশে থাকব।

  • পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের উদারতায় খুশি চিকিৎসক ও সাস্থকর্মীরা

    পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের উদারতায় খুশি চিকিৎসক ও সাস্থকর্মীরা

     

     

    পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হায়াতুল ইসলাম খান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে চিঠি ও উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। এসপির চিঠি পেয়ে চিকিৎসকেরা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁকেও চিঠি ও উপহার পাঠিয়েছেন।

     

    করোনাকালে সেবাদানকারী দুই পেশার কর্মকর্তাদের মধ্যে এ রকম সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রকাশ করে উপহারসামগ্রী বিনিময় বিরল দৃষ্টান্ত।

     

    এসপির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এসপি জেলার সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে চিঠি দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাঁদের কাজের প্রশংসা করে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চিঠির সঙ্গে উপহার হিসেবে চকলেট ও মগ পাঠিয়েছেন।পুলিশ কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। যেকোনো প্রয়োজনে চিকিৎসকদের ফোন পেয়ে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে পুলিশ।

     

    মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী হাসান বলেন, ‘আমরা এসপি মহোদয়ের চিঠি ও উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁকেও চিঠি ও উপহার পাঠিয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ, মৃত ব্যক্তির দাফন, হোম কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন করার ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে খুব সহযোগিতা পাচ্ছি। করোনা মোকাবিলায় এসপির পাশে থাকার অঙ্গীকার আমাদের কাজ করায় উৎসাহ জুগিয়েছে।’

     

    পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এসপির চিঠি ও উপহার পেয়ে আমাদের ভালো লেগেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময় আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছে।’

     

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। পুলিশ সব সময় তাঁদের পাশে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ কথা জানিয়ে তাঁদের কাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়ার জন্য চিঠি ও উপহার সামগ্রী দিয়েছি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়মিত চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বলেছি। দেশের এক সংকটকালে চিকিৎসকদের মনোবল চাঙা রাখতে আমি তাঁদের সহযোগিতা করার নিশ্চয়তা জানিয়ে সাধ্যমতো খোঁজখবর নিচ্ছি।’

  • করোনায় মোট ৩ পুলিশের মৃত্যু, বাংলার মুখ ২৪. কম থেকে শোক প্রকাশ

    করোনায় মোট ৩ পুলিশের মৃত্যু, বাংলার মুখ ২৪. কম থেকে শোক প্রকাশ

    তানজিম হোসাইন রাকিব :: করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে পুলিশে। সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫৩৭ জন পুলিশ সদস্য এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে এতে জনসেবায় দমে যাবে না পুলিশ সদস্যরা।

     

    পুলিশ সদর দপ্তর এসব তথ্যোর পাশাপাশি আরো জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে গত দুদিনে সংক্রমণে রাজধানীতে পুলিশের আরো দুই সদস্যের মৃত্যু হলো। এই নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন তিন পুলিশ সদস্য। এরপরও বাকিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে বাঁচাতে সেবা দিয়ে চলেছেন নিরলসভাবে।

     

    নিজেরা সংক্রমিত হওয়ার ভয়, পরিবার পরিজনের পিছুটান উপেক্ষা করে মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই তারা মূলত করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শুরুতে পুলিশের মধ্যে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব থাকলেও তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে বর্তমান আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশের সুরক্ষা সরঞ্জাম আরো বাড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। এখন যা আছে তাই দিয়েই পুলিশ সদস্যরা করোনাযুদ্ধ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করছে। রাজধানীসহ সারাদেশে বীরদর্পে তারা মানুষের সব ধরনের সেবা দিয়ে চলেছেন।

     

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫৩৭ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৩২ জন পুলিশ সদস্য কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) রাখা হয়েছে।

     

    আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৭২ জন। তাদের মধ্যে ১১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। পুরুষ ২৬১ জন।

     

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশে ১৬ নারী পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একজন এসপি, ৪ জন অতিরিক্ত এসপি, ২ জন এএসপি, ১২ জন পুলিশ পরিদর্শক, এসআই থেকে সার্জেন্ট ৫৫ জন, এএসআই ৬৬ জন, ২০ জন নায়েক ও ৩৩১ জন কনস্টেবল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

     

    সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ দুঃসময়ে পুলিশের পুরো কাজের ধরণ পাল্টেছে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় তেমন ব্যস্ততা না থাকায় করছেন নানা ধরনের সামাজিক কাজ। বিশেষ করে অসহায় মানুষের ত্রাণ সহায়তায় কাজ করছেন। তারা। তবে পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

     

    পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা বলেন, করোনাযুদ্ধে আমাদের তিন সদস্য মারা গেলেও দমে যায়নি আমরা। আমাদের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছে।

    এদিকে র‍্যাবসহ আইন শৃঙখলা বাহনীর অন্যান্য সদস্যরাও কম বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

     

    এদিকে মৃতদের এই অকাল প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের আইজি ডিএমপি কমিশনার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন। সেই সঙ্গে ভয়কে জয় করে পুলিশের এই বীর সদস্যরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য কাজ করে গেছেন।

     

    দেশমাতৃকার সেবায় তাঁদের এ আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। বিশেষ করে পুলিশ সব সময়ই ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে রয়েছে। তাই পুলিশের সুরক্ষা সরঞ্জাম বাড়িয়ে তাদের মনোবল বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

     

    উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ পুলিশের দুজন পরিদর্শকসহ মোট ৪৩ জন সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গত দুদিনে আরো ১৭ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে এই সদস্য সংখ্যা ৪৩ এ দাঁড়ায়।

     

    জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

     

    জায়েদুল আলম জানান, ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের দুজন পরিদর্শকসহ ৪৩ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বাকিরা জেলা পুলিশ লাইনসে ও বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন |

     

    তিন পুলিশ সদস্যর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলার মুখ ২৪. কম এর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় | বাংলার মুখ ২৪.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা: পলাশ চৌদুরী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) সহ বিভিন্ন বার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেন |

  • করোনায় জীবন দিলেন আরও দুই পুলিশ সদস্য

    করোনায় জীবন দিলেন আরও দুই পুলিশ সদস্য

    বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আরও দুই সদস্য। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান তারা।

     

    তাদের একজন হলেন ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণে কর্মরত এএসআই আব্দুল খালেক (৩৬)। আরেকজন ট্রাফিক উত্তরের বিমানবন্দর এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২)।

     

    তাদের মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

     

    ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর এএসআই আব্দুল খালেককে আরামবাগে একটি হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হয়। বুধবার তার করোনার পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার করোনায় পজিটিভ আসে। এদিন বিকেল থেকে আব্দুল খালেকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন কোয়ারেন্টাইনে অবচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়ার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

     

    আব্দুল খালেকের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামে। তার বাবার নাম আজিম উদ্দিন মৃধা।

     

    সহকর্মীরা জানিয়েছেন, শান্ত, বিনয়ী, দায়িত্বপরায়ন ও কর্তব্য পালনে নিরলস, নিরহংকার, সদা হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের ছিলেন এএসআই আব্দুল খালেক। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

     

    অন্যদিকে ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরের সহকারী কমিশনার (এডমিন) বদরুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ট্রাফিক উত্তরের বিমানবন্দর এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মারা যান।

     

    তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে সিদ্ধেশ্বরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুলিশ তত্ত্বাবধানের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টারে রাখা হয়। গত ২৬ এপ্রিল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ আসে।

     

    বুধবার তার অবস্থার অবনতি হলে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়।

     

    বাংলাদেশে করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী হলেন কনস্টেবল জসিম। তিনি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মারা যান। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমিপ) ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে।

  • জনসচেতনতা তোয়াক্কা করছেন না, কিছু মানুষ 

    জনসচেতনতা তোয়াক্কা করছেন না, কিছু মানুষ 

     

    স্টাফ রিপোর্টার// জুবায়ের হোসাইন: সম্মানিত পুলিশ সুপার, ফাতিহা ইয়াসমিন ঝালকাঠি ‘মহোদয়ের নির্দেশনায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য মনিটরিং এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালনা।

    এ সময় তিনি কিছু অসচেতন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে করে তাদের বলেন

    (আপনাদের মতো বেশীরভাগ লোকই তুচ্ছ অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন। আপনাদের আর কবে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে?? দেশের আর কত লোক আক্রান্ত হলে কিংবা আর কত লোকের মৃত্যু হলে আপনারা ঘরে থাকবেন!!)

    এছাড়াও তিনি ঝালোকাঠী সদর ও তার অনন্য থানা গুলোর সার্বিক খোঁজ খবর নেন।

  • বরিশালে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা

    স্টাফ রিপোর্টার  // সাইফুল ইসলাম  :

    বরিশাল জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত আছে। আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরীতে ৩ টি মোবাইল কোর্ট টিম মাঠে অভিযান পরিচালনা করেন এসময় চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, বাজার রোড, গীর্জা মহল্লা, চকবাজার, জেলা খানার মোড়, কাঠপট্টি, নতুন বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ বাজার মনিটরিং, জনসমাগম করে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১২ টি প্রতিষ্ঠান কে মোট ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা অাদায় করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন।

    এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ জিয়াউর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দীন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন টি-স্টল, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাক্স পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাক্স বিতরণ করা হয়।

    এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর বাজার রোড এলাকায় প্রতিটি দোকানে দোকানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সামাজিক দূরত্ব মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

    বন্ধ রাখার নির্দেশনা স্বত্তেও খোলা রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে করোনা ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় নগরীর কাঠপট্টি, বাজার রোড ও নথুল্লাবাদ এলাকার ৮ টি দোকানকে বিভিন্ন অংকে মোট ১ লক্ষ ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল সদর উপজেলার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ জাকির হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।

    অপর একটি মোবাইল কোর্ট টিম এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা এর নেতৃত্বে অভিযানকালে জানা যায় যে ফেসবুকের পোস্ট কে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার সম্পর্কে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণজমায়েত হবে বলে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়।এই অনভিপ্রেত গণজমায়েত এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসক বরিশাল এর নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজিরপুরের তত্ত্বাবধানে বিশেষ মহড়া প্রদান করা হয়।

    বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসাবে উপজেলার ইচলাদী বাজারে একটি মুদির দোকানে আধা দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা বিক্রয় করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭তম পদাতিক ডিভিশনের ক্যাপ্টেন মোঃ শুভ সহ একটি টিম। র‍্যাব ৮ এর পক্ষে ছিলেন এস এই লুতফুর সহ একটি টিম ও উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ একটি টিম।

    অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দীন এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে যেমন নগরীর বান্দ রোড, বাজার রোড ও পোর্ট রোড বাজারে বিশেষ বাজার মনিটরিং মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

    অভিযানকালে নগরীর লঞ্চঘাট এলাকা ও পোর্টরোডে দ্রব্যমূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৮ ধারার ২টি মামলায় কাজী ফল ভান্ডার ও সোবহান ফ্রুটস নামক ২টি প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫১ ধারার মামলায় পূরবী খান ফ্রুটসকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এসময় ৬ বস্তা মেয়াদউত্তীর্ণ খেজুর কেরোসিন ঢেলে নদীতে ফেলে ধ্বংস করা হয়।

    অভিযানে মোবাইল কোর্টকে আইনানুগ সহযোগিতা প্রদান করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর একরটি টিম। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ঝালকাঠিতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন সেনা সদস্যরা

    ঝালকাঠিতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন সেনা সদস্যরা

     

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ কভিড ১৯ নভেল করোনা যখন খেটে খাওয়া মানুষকে বেকার করে দিয়েছে এমনই সময় ঝালকাঠিতে অসহায়ের পাশে দাড়ালো সেনা সদস্যরা। করোনা সংক্রামন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ঝালকাঠির শত শত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন শেখ হাসিনা সেনানিবাসের মেজর ইশতিয়াখ এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঝালকাঠি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিজেদের বরাদ্দ থেকে একটি অংশ অসহায়দের জন্য বিতরন করে আসছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মঙ্গলবারও ঝালকাঠিতে অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেদের হাতে চাল ডাল আলু পিয়াজ, লবন পৌছে দিয়েছে দেশ রক্ষার অতন্ত্র প্রহরী সেনাসদস্যরা।

  • বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট  অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানে ৭১ হাজার টাকা অর্থদন্ড

    বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানে ৭১ হাজার টাকা অর্থদন্ড

    পবিত্র মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখায় বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। এসময় তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফ হোসেন এই মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন।

    সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অপরাধে রোগ সংক্রমন আইন অনুযায়ী নগরীর লাইন রোডে আর.এফ.এল কোম্পানির একটি শোরুম কে ২০ হাজার টাকা ও একই স্থানে ইলেকট্রনিক দোকানে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া অতিরিক্ত মূল্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির অপরাধে নগরীর চকেরপুল এলাতায় হাদি জাহাঙ্গীর স্টোরস নামক এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    এছাড়াও নগরীর কাঠপট্টি, লাইন রোড, পিয়াজপট্টি, চকেরপুল, বাজার রোড, নাজিরের পুল ও সদর রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    এসময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিৎ, অকারণে বাইরে ঘোরাফেরা করা মানুষদের ঘরে ফেরানো ও অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট বন্ধ রাখা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জনসমাগম না করাসহ জনসচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তার টিমের সগযোগীরা।

    তাছাড়া অতিরিক্ত দামে বেগুন ও আদা বিক্রির অভিযোগ পেয়ে বিভিন্ন বাজারে তদারকি মূলত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তার টিম। তবে অভিযোগের সত্যতা না পেলেও মূল্যবৃদ্ধি না করার বিষয়ে সকলকে সচেতন করা হয়

  • বরিশালে ১৪ ব্যক্তি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে ১৪ ব্যক্তি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা

    করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও পবিত্র মাহে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রন করতে বরিশালজুড়ে চলছে প্রশাসনিক তৎপরতা। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ বাজার মনিটরিং,সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, গণজমায়েত বন্ধে বরিশালে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসময় অধিক মূল এবং অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করার অপরাধে ১৩ টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তিকে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়।

     

    মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের ৪টি টিম পৃথক পৃথক ভাবে নগরীর চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, বাজার রোড, গীর্জা মহল্লা, চকবাজার, বাজার রোড, জেলা খানার মোড়, কাঠপট্টি এলাকায় জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আফরোজ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আতাউর রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন।

     

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন চায়ের দোকান, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাস্ক পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করা হয়। এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা। অভিযান পরিচালনাকালে বিজয় স্টোর এবং আলমগীর স্টোর (নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয়কারী) প্রতিষ্ঠানকে মূল্য তালিকা না থাকা এবং অধিক দামে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রির অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অমীত সাহা নামে এক ব্যক্তি প্রতি কেজি ৯০ টাকার মুড়ি ১৪০ টাকা বিক্রয় করায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করায় তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

     

    অপর একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানকালে বাংলাবাজার ও রূপাতলী বাজারে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির অপরাধে চারটি দোকানকে ভিন্ন ভিন্ন অংকে ১১ হাজার টাকা এবং সিএনবি রোডে বাড়ির নির্মাণ কাজে শ্রমিক সমাগমের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরীর অপরাধে বাড়ির মালিক মোঃ ফজলুল হককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আইনানুগ সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর একটি টিম।

     

    অপর একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমে অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদান করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউর রাব্বী। এ সময় নগরীর চকবাজার এলাকায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ১টি দোকানকে করোনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করার দায়ে ৫০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন মেজর জাহাঙ্গীর সহ র‌্যাব-৮ এর একটি টিম।

     

    অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আফরোজ এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রচার প্রচারণাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ঘরে অবস্থা করার অনুরোধ করেন। এসময় ক্রোকারিজসহ নানা অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১১ হাজার টাকা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ধার্য্যকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পন্য বিক্রি করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।

     

    অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা, কাপড়ের দোকান সীলগালা

    বরিশালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা, কাপড়ের দোকান সীলগালা

    শামীম আহমেদ :: বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে নগরীর একটি কাপড়ের দোকান সীলগালাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

     

    আজ (২৪ এপ্রিল) শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে অভিযান শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত।

     

    ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান জানান, আগামীকাল রমজান উপলক্ষে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রন রাখার জন্য এই অভিযান চালানো হয়। ২ শত ৫০ টাকা দামের আদা ৪শ থেকে সারে ৪শ টাকা দরে বিক্রি করায় এক আদা বিক্রেতাকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দোকান, মোবাইল ফোন এবং কাপড়ের দোকান খোলা রাখায় মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বাজার রোড এলাকায় জরিমানা ও সতর্ক করার পরেও তৃতীয়বারের মত সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় প্রিয়াংকা বস্ত্রালয় কাপড়ের দোকানটিকে সীলগালা করা হয়।

     

    অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীর জানান, নগরীর সাগরদি বাজার এলাকায় ৮টি অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখায় ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজ এবং রমজানের তারাবির নামাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে করার জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ, ইমাম ও মুয়াজ্জেনদের সাথে কথা বলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।