Category: প্রশাসন

  • করোনা আক্রান্ত বিএমপি’র ৭ সদস্যকে রাজারবাগে প্রেরণ

    করোনা আক্রান্ত বিএমপি’র ৭ সদস্যকে রাজারবাগে প্রেরণ

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৭ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকালে তাদেরকে নগরীর পুলিশ লাইন্সে বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল মাইক্রোবাসযোগে তাদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    এর পুলিশ লাইন্সে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর পক্ষে এ সংক্রান্ত ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম। পরে তিনি করোনা আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করেন।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত পুলিশের সম্মুখ যোদ্ধা সাত সদস্যর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় প্ররনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছ।

  • ঘূর্ণিঝড় “আম্ফান” মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ- বিএমপি কমিশনার

    ঘূর্ণিঝড় “আম্ফান” মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ- বিএমপি কমিশনার

    ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ মোকাবিলায় বিএমপি’র সহায়তা নিন, প্রয়োজনে বিএমপি’র চার থানাধীন সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিন, উদ্ধার তৎপরতাসহ যে কোন জরুরি প্রয়োজনে অফিসার ইনচার্জগণের নম্বর অথবা বিএমপি হেডকোয়ার্টার্স কন্ট্রোল রুম নম্বরে যোগাযোগ করুন বলেছেন বিএমপি কমিশনার।

    তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় “আম্ফান” মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    বুধবার সকালে বিএমপির মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ নম্বরসমূহ প্রদান করা হয়েছে।

    অফিসার ইনচার্জ কোতোয়ালি মডেল থানা বিএমপি
    📲01713-374267
    অফিসার ইনচার্জ বন্দর থানা বিএমপি
    📲01713374597
    অফিসার ইনচার্জ এয়ারপোর্ট থানা বিএমপি
    📲01713374609
    অফিসার ইনচার্জ কাউনিয়া থানা বিএমপি
    📲01713374603
    ☎ বিএমপি হটলাইন- 01769690126

  • মেয়র সাদিকের নির্ঘুম রাত , অনূরূপ পুলিশ কমিশনারও

    মেয়র সাদিকের নির্ঘুম রাত , অনূরূপ পুলিশ কমিশনারও

    স্টাফ রিপোর্টার// সাইফুল ইসলাম : প্রাণ কেড়ে নিতে সময়ের অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস আতঙ্ক থেকেও অধিকতর চিন্তা-ভাবনা দেখা দিয়েছিলো ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ধেয়ে আসছে, এই খবরে বরিশালের চারিদিকে চরম আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় একরাত পার হলো গতকাল বুধবার ২০মে ঘনঘোর আঁধারে এক পরিবেশ। বরিশালের শুধু প্রশাসন নয়, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ক্ষয়ক্ষতি রোধে দিনের শুরু থেকে সর্বাত্মক চেষ্টায় ও কর্মপ্রয়াসে ফুটে উঠেছে কতটা মানুষের জন্য নিবেদিত। বিশেষ করে বরিশাল মেট্রোপুলিশ কমিশনার মোঃ সাহাবুদ্দিন খান ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ কাটিয়েছেন নির্ঘুম এক রাত।

    সবাই যখন ঘুমে বিভোর তখন জেগে থাকা একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অন্যজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা প্রকৃতির ভয়ঙ্কর গতিবিধির সর্বশেষ তথ্য জানতে তাদের চোখ ছিলো অতন্দ্র প্রহরীদের ন্যায়। যতটুকু জানা গেছে, মেট্রোপুলিশ কমিশনার এবং তার সাথে রেঞ্জ ডিআইজি সাহাবুদ্দিন খান গোটা পুলিশ বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তাদরে কমস্থলের আশপাশে নামিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট এলাকার বসতিদের আত্মরক্ষায় সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে যেতে। সেই সাথে পুলিশ সদস্যরাও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যেনো ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের গতিবেগের সাথে নিজেরাও ছুটাছুটি করেছেন কোনো মানুষ যেনো অরক্ষিত অবস্থায় না থাকে। অবশ্য গতকাল বুধবার সকাল থেকেই তাদের এই প্রস্তুতি দেখা যায়।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এক্ষেত্রে বিশেষ এক ভ’মিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন মেট্রোপুলিশ কমিশনার। তিনি শহরকেন্দ্রিক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হলেও তার এলাকার আওতাধীন বিশেষ করে কীর্তনখোলা ও মেঘনার নদীর মধ্যবর্তী স্থান চড়কাউয়া থেকে লাহারহাট পর্যন্ত বন্দর থানা পুলিশকে সজাগ বা দৌড়ের উপর রেখেছিলেন কোথাও যেনো নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকে। তদ্রুপ রেঞ্জ ডিআইজি তার তিনটি থানা হিজলা , মুলাদী ও মেহেন্দীগঞ্জকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ গাইডলাইন দিয়ে মাঠে রাখেন রাতভর।

    সূত্রের ভাষ্যমতে , সকাল থেকেই নদী তীরবর্তী বা কাছাকাছি এলাকাসমূহের মানূষদের সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়ে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকেও সতর্ক রেখেছিলেন নিজেদের চিন্তাভাবনা বা কৌশলের আলোকে। সেক্ষেত্রে স্পীডবোটসহ এম্বুলেন্স স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিলো -ডাকলেই তড়িৎ ব্যাবস্থা নেওয়ার। শুধুই কী তাই? সাইক্লোন সেন্টারে খাবার ব্যাবস্থাও করা হয়েছিলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। যা তদারকিতে ছিলো পুলিশ সদস্যরা। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, মেট্রোপুলিশ কমিশনার নিজ উদ্যোগেও খাবার প্রস্তুত রেখেছিলেন দুযোগ পরবর্তী সময়ের জন্য।
    তবে পুলিশী ভ’মিকার নজরকাড়া দৃষ্টি ছিলো গতকাল দিনভর হ্যান্ডমাইকে কখনও ডাঙায় আবার নদীতে স্পীডযোগে স্বেচাছাসেবকদের ন্যায় সর্বশেষ খবর অবহিত করে আমজনতাকে নিরাপদে থাকতে ঘোষণা দিয়ে আসছিলো। তাদের এই পদক্ষেপ বেশ কার্যকর হয় বলে জানা গেছে। আবার অনেকে পুলিশের আহবান উপেক্ষা বা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে আমলে নিতে না চাওয়ায় তাদের সাইক্লোন সেন্টারে যেতে বাধ্য করে।

    অন্যদিকে বরিশাল নগর আ.লীগের সাধারণ সস্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ তার দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও মাঠে নামিয়ে দিয়েছিলেন , স্ব্চ্ছোসেবকের ভ’মিকায়। ইতিপূর্বে এধরনের দুর্যোগে এই নেতা নিজেই স্পীডবোটযোগে নৌপথে নেমে হ্যান্ডমাইকে মানুষকে সতর্কতায় ভ’মিকা রাখতে দেখা গেলেও এবার করোনায় নিরাপত্তাজনিত কারনে ঘর থেকেই বরিশালে প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র মনিটরিং করছিলেন। একপর্যায়ে রাতে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, এমনটি জানালেন তার ঘনিষ্টজনরা।

    এই নেতাও সকাল থেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন ঝড়ের গতিবেগ বরিশালকে ছোঁয়া দেয় কিনা এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন নয়া এই দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সহায়তা বা নির্দেশনা মানতে। তিনিও প্রস্তুত ছিলেন, আম্ফান যদি বরিশালকে আহত করে ক্ষয়ক্ষতির ধ্বংসস্ত’পে রূপ দেয় তাহলে পরবর্তী করণীয়সমূহ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণে।

    জানা যায়, সন্ধ্যার পরই শুরু হয় অম্ফানের তান্ডব। সুন্দরবনে আঘাত হানার পর ঝাপটা আসতে থাকে দক্ষিণাঞ্চলে। প্রথমে যেভাবে বাতাসের গতিবেগ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাতে আশঙ্কা তৈরী হয়েছিলো বরিশাল জেলায় আম্ফান প্রকৃতির বৈরীতায় বিবর্ণ করে তুলতে যাচ্ছে। ভাগ্যসহায়, ধীরে ধীরে বাতাসের গতিবেগ কমে আসলেও গুমট ভাব মানুষের ভিতরকার আতঙ্ক আরও ভর করে।

    ধারনা করা হচ্ছে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের সম্মিলিত পূর্বপ্রস্তুতিতে এঅঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অতোটা বেশী নয়। তবে মর্মদায়ক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে কলাপাড়া থেকে। সেখানে সতর্কীকরণ প্রচারণা চালাতে গিয়ে নদীতে নৌকা ডুবে শাহ আলম মীর (৫৫) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক নিখোঁজ রয়েছেন। হিজলায় গভীর রাতে মেঘনায় দুই ট্রলারের সংঘর্ষে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ট্রলার মাঝি রাসেল হাওলাদারের মৃতদেহ উদ্ধার করতে স্থানীয়রা সক্ষম হয়েছেন। ভোলার চরফ্যাসনের কচ্চপিয়ায় ঝড়ে গাছের নিচ চাপা পড়ে সিদ্দিক ফকির নামের ৭০ বছরের একজন মারা গেছেন।

    এই ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় আম্ফানের যে গতিবেগের কথা প্রচার পেয়েছিলো এবং সন্ধ্যার পর তার আলামত শুরু হওয়ায় ভীতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি অস্বাভাবিক ছিলোনা। কিন্তু বরিশাল জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ক্ষমতাসীন মহল প্রকৃতির এই বৈরীতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ব ইতিহাস পর্যালোচনায় ভয়ঙ্করতা থেকে। উদ্বিগ্ন মানুষ রাতের গভীরতায় ক্লান্তিতে যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখন মেট্রোপুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান ও মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ চিন্তামগ্নে নির্ঘুম রাতটিতে ছিলেন সরব । পাশাপাশি জেলা প্রশাসক মোঃ অজিউর রহমান ও পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি রাতভর খোঁজখবর নিতে থাকেন, দিতে থাকেন সকল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা।

    এদিক থেকে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও পুলিশ কমিশনারের ভুমিকা তাদের থেকেও ছাড়িয়ে যায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্ভাব্য আঘাত কি করে সামাল দেয়া যায়, সে নিয়ে দিনভর ব্যাস্ততা, রাতে উভয়ের চিন্তা আরও প্রবলতর হয়ে ওঠে। অন্তত বিভাগীয় এই শহরে আম্ফানের প্রবেশ করলেও মোকাবিলায় দৃঢ়তার সাথে জনতার পাশে থাকতে মাঠে থাকা স্বেচ্ছাসেবক পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের সাথে সার্বক্ষীণক যোগাযোগ রাখেন সেহরীর পূর্বমূহূর্ত পর্যন্ত। রাতভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে। যদিও দুজনই সম্ভাব্য ইতিহাসের বড় ঝড়ের ছোবল আশঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন কিন্তু মানসিকভাবে ছিলেন দৃঢ়চেতা। করোনার দুর্যোগের মাঝে আবার নতুন ঝামেলার উপসর্গ আম্ফান মোকাবিলায় তাদের কর্মপ্রয়াসে ফুটে উঠেছে তারা কতটা মানুষের জন্য নিবেদিত।

  • ‘এই ঈদ-শপিং যেন জীবনের শেষ ঈদ-শপিং না হয়’

    ‘এই ঈদ-শপিং যেন জীবনের শেষ ঈদ-শপিং না হয়’

    করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারিতে উদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে ঈদ উপলক্ষ্যে মানুষ ঢাকা থেকে ব্যাপকভাবে গ্রামে ফিরছেন। বিষয়টির সমালোচনা করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

    তিনি বলেন, এই ঈদ যেন শেষ ঈদ না হয়। এইবারের শপিং যেন শেষ শপিং না হয়।

    রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ড. বেনজীর আহমেদ সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, করোনা সংক্রমণের মধ্যে শহর ছেড়ে গিয়ে কেউ যেন গ্রামের বাড়িতে পরিবার কিংবা প্রতিবেশীর জন্য মৃত্যুদূত হয়ে না যাই।

    তিনি আরো বলেন, বর্তমান করোনা মহামারী সংকট সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। আসুন আমরা সবাই সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

    ঈদের কেনাকাটা ও নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের মহাপরির্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কপি পেস্ট হবে না, এক দেশ পিটিয়ে পিটিয়ে ঘরে ঢুকিয়েছে, আমরাও তো তাই করতে পারি না। আমরা শারীরিকভাবে আঘাত না করেই মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবেই করতে চাই। জনগণের পাশে থেকেই করতে চাই। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বল প্রয়োগের সুযোগ নেই।

    আইজিপি আরো বলেন, যখন সামাজিক দূরত্ব দরকার তখন আমাদের মানতে হবে, এটা তো জোর করে মানানোর কিছু নেই। আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছে, তাই বলে কী আমরা বাংলাদেশকেই পুরো প্রান্তিক করে ফেলব? এজন্য লাইভ এবং লিভিং।

  • “পুলিশ এখন মানুষের প্রথম ভরসাস্থল”

    “পুলিশ এখন মানুষের প্রথম ভরসাস্থল”

    আমরা যখন রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,
    পুলিশ তখন নির্ঘুম চোখে পাহারা দেয় দেশ,
    আমরা যখন প্রিয়জনের পাশে বসে গল্প করি, পুলিশ তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। কত কষ্টসহিষ্ণু তাদের জীবন। একজন পুলিশ সদস্যের জীবনে যেমন সাহসিকতার গল্প আছে, তেমনি বিড়ম্বনার গল্প আছে। যেমন মানবিকতার গল্প আছে, তেমনি রূঢ়তার গল্প আছে।
    তাদের অমানুষিক পরিশ্রমের গল্পটি এ রকম—কখনো ৮ ঘণ্টা, কখনো ১২ ঘণ্টা, কখনো ১৬ আবার কখনো ১৮ ঘণ্টার ডিউটি করতে হয়। কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তাদের জীবনেও যেন কোনো উৎসব নেই। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেই। কখনো প্রচণ্ড গরমে ইউনিফর্ম পরে, ঘামে ভিজে, আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকতে হয়।
    রাস্তার অলিগলি থেকে বঙ্গভবন, গণভবন। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা—কোথায় পাহারা দিতে হয় না তাদের? কোথায় নেই তারা?
    হাসপাতালের অসুস্থ রোগী থেকে মৃত লাশের পাশে, কিংবা করোনায় আক্রান্ত মৃত লাশের সৎকারে। কৃষকের ধান কাটায়। আবার মাঠে-ময়দানে, পাড়া-মহল্লায়, হাটবাজার—সবখানে পুলিশ সদস্যরা। করোনার আতঙ্কে অজ্ঞাত লাশের পাশে যখন কেউ নেই, তখন পুলিশকে ওই লাশের পাশে দাঁড়াতে হয়। লাশের দাফনের সব ব্যবস্থা করতে হয়।
    পার্থক্যটা এখানে, আমরা করোনা মোকাবিলায় ঘরে আর তারা বাইরে। আমরা প্রিয়জনের সান্নিধ্যে আর তারা জীবনের ঝুঁকিতে। তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। আর আমরা অসচেতনতায় আক্রান্ত হচ্ছি। ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আমরা যখন প্রিয়জনের লাশ ছুঁয়ে দেখতে পারি না, তখন অন্যের লাশ কাঁধে বহন করে পুলিশ। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করতে হয়। যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে প্রয়োজনে ছুটে আসতে হয় ঘর থেকে। তাদেরও তো ঘরে অসুস্থ মা–বাবা থাকতে পারে। সন্তানসম্ভাবা স্ত্রী থাকতে পারে।
    তারপরও আমরা পুলিশকে কারণে–অকারণে অপছন্দ করি। তাদেরকে নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করি। তাদেরকে নিয়ে খারাপ ধারণা পোষণ করি। তারাও তো রক্তে–মাংসে গড়া মানুষ । তাদেরও আবেগ আছে, অনুভূতি আছে। মানুষের সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা যেন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করি, বরং আমরা তাদের সাহসিকতার জন্য গর্ববোধ করতে পারি। মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা পুলিশ নামক এই সব মানুষকে ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি।
    আসুন আমরা রাস্তার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে সালাম দিই। তাদের ভালো কাজের প্রশংসা এবং মূল্যায়ন করি। এই দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের পাশে সাহসে বুক বেঁধে দাঁড়ানোর জন্য তাদের পুরস্কৃত করি। তাদেরকে উৎসাহিত করি।আর সব দোষ কেন পুলিশের ওপর? আর সব কাজেই কেন পুলিশকে করতে হয়? বলপ্রয়োগ করা থেকে শুরু করে চোর ধরা, সন্ত্রাস দমন, ভূমি বেদখল মুক্ত করা থেকে ভূমি দখল করে দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতার কাজও তাদের করতে হয়। তাহলে আমাদের কাজ কী? আমাদের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব এবং কর্তব্য কী? আমরা পুলিশকে বন্ধু ভাবতে পারি।

    রাষ্ট্রের এই অতন্দ্র প্রহরী পুলিশকে যেকোনো সংকট, সংগ্রামে, দুর্যোগ আর সম্ভাবনায় আমরা সাথি করে পথ চলতে চাই। আসুন করোনা মোকাবিলায় সবাই একসঙ্গে যুদ্ধ করি। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
    পুলিশদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। তাদের নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে।
    আসুন পুলিশকে ঘৃণার চোখ দিয়ে নয়, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার চোখ দিয়ে তাদের দিকে তাকাই। সবাই মিলে বদলে দিই সমাজ এবং দেশ।
    আমরা যেন পুলিশকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। পুলিশকে সাথে নিয়ে সবাই মিলে ক্ষুধা দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

  • বরিশালে আরো ১২ পুলিশসহ ১৫ জনের করোনা শনাক্ত

    বরিশালে আরো ১২ পুলিশসহ ১৫ জনের করোনা শনাক্ত

    বরিশালে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ১৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই নি‌য়ে জেলায় ক‌রোনা আক্রা‌ন্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩ জনে।

    আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন হলেন পুলিশ সদস্য তার সবাই বরিশাল পুলিশে কর্মরত আছেন তারা সবাই পুরুষ বয়স (৪৪, ৩৪, ২৫, ৪৩, ২৯, ৩০, ২৮, ৩৮, ৪৮, ৪৭, ৪৪, ৫৫)। অন্য দুইজন বরিশাল মহানগরীর নাজির মহল্লা এলাকার বাসিন্দা পুরুষ বয়স (৫২, ১৫), অন্য একজন বরিশাল মহানগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা পুরুষ বয়স (৩৩) তাদের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।

    আজ ১৯ মে মঙ্গলবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজর মাইক্রোবায়লোজি বিভাগে স্থাপিত আরটি-পিসিআর ল্যাবে বেশ কিছু নমুনা পরীক্ষা করা হলে আজ ১৫ জনের রিপোর্ট পরেজটিভ আসে।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান জানান, আক্রান্ত ১৫ ব্যক্তির অবস্থান অনুযায়ী লকডাউন করা হয়েছে। তাদের পাশে বসবাসকারীদেরও লকডাউনের প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত বরিশাল জেলায় ২৮ জন নারী এবং ৭৫ জন পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

    বরিশাল জেলায় করোনা আক্রান্তের মধ্যে বরিশাল মহানগরী ৬১, সদর উপজেলা ২জন (রায়পাশা কড়াপুর এবং চরমোনাই), বাবুগঞ্জ ১২জন, মেহেন্দীগঞ্জ ৫জন, উজিরপুর ৭জন, হিজলা ৩জন, গৌরনদীতে ৩জন, বানারীপাড়া ৩জন, বাকেরগঞ্জে ৩জন, মুলাদী ২জন এবং আগৈলঝাড়া ২জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়।

    জেলায় মোট ৩৮ জন ব্যক্তি করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    উল্লেখ্য ১৩ মে বরিশাল সদর হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত ০১ জনসহ করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ৯ জন চিকিৎসক এদের মধ্যে ৪ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক, ৬ জন নার্স, ১ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ১ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ মোট ১৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

  • ঈদের সময় ফুর্তি করতে বের হবেন না: আইজিপি

    ঈদের সময় ফুর্তি করতে বের হবেন না: আইজিপি

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে কেউ ফুর্তি করতে বের হবেন না।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।

    বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ঈদের সময়ে শহরে–গ্রামে যে যেখানে আছেন, ফুর্তি করতে বের হবেন না।’ যাঁর যাঁর অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘দয়া করে নিজের অবস্থান থেকে বের হবেন না। ঢাকা ছাড়বেন না এবং ঢাকায় আসবেন না। জীবনে অনেক ঈদ আসবে। তখন এসব করা যাবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে এই উৎসব জীবনের শেষ উৎসব হয়। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে আনন্দ করার জন্য নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দূত হয়ে পরিবারের সামনে হাজির হবেন না।’

    পুলিশ কেন কঠোর হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘সরকার দেশের মানুষের জন্য যা ভালো সেটা করছে। দেশে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। সরকারকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক দেশ মানুষকে ঘরে রাখতে শক্তি প্রয়োগ করলেও আমরা কোনো শক্তি প্রয়োগ করিনি।’

    তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, গুজব ছড়ানো অপরাধ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ দেশবিরোধী অবস্থান নিলে কেউ তা মেনে নেবে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারও নেই। করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

    পুলিশের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের পরিকল্পনায় কোনো ভুল ছিল কি না? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, এখনো করছে। ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অনেক কাজ করেছে। যেখানে লাশের কাছে পরিবারের কেউ যেতে চায়নি, সেখানে পুলিশ গিয়েছে। এ রকম হলে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে পুলিশের জন্য আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশই না, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাও আক্রান্ত হয়েছেন।

    মানুষ এই সাধারণ ছুটিকে উৎসব মনে করেছে, পুলিশ কেন কিছু বলছে না? এর জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, মানুষকে জোর করে ঘরে রাখা যাবে না। তাদের বুঝতে হবে জীবনটা তার নিজের। নিজের সুরক্ষার কথা নিজেকেই ভাবতেই হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাঈনুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ‘ভুয়া তালিকা’ ফেসবুকে দেওয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

    প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ‘ভুয়া তালিকা’ ফেসবুকে দেওয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

    প্রধানমন্ত্রীর ২ হাজার ৫০০ টাকার ঈদ উপহারের ভুয়া তালিকা নিয়ে ফেসবুকে গুজব সৃষ্টির অভিযোগে গাজীপুরের ছায়াবিথী এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার মোস্তফা আহম্মেদ ওরফে পলাশ গাজীপুর সদর থানার পূর্ব চান্দনা এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে। আজ সোমবার র্যাব-১-এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ক্যাম্প কমান্ডার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৭ মে র্যাব-১-এর একটি দল দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেসবুকে গুজব সৃষ্টির অভিযোগে মো. মোস্তফা আহম্মেদ ওরফে পলাশকে গ্রেপ্তার করে।…

  • দীর্ঘ‌দি‌নের জমিজমা সংক্রান্ত বি‌রোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করলেন অ্যাডিশনাল এসপি মাহমুদ

    দীর্ঘ‌দি‌নের জমিজমা সংক্রান্ত বি‌রোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করলেন অ্যাডিশনাল এসপি মাহমুদ

    ঝলকাঠি প্রতিনিধি//আরিফুর রহমান আরিফ:  ঝালকাঠিতে প্রভাবশালী দুই গ্রুপ জ‌মি নি‌য়ে বি‌রোধ মিমাংসার জন্য দীর্ঘ‌‌দিন পর্যন্ত স্থানীয় সা‌লিশ, রাজ‌নৈ‌তিক নেতা, থানা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসসহ বি‌ভিন্ন জায়গায় বারবার গি‌য়েও হ‌‌য়েছেন ব্যর্থ।‌ অবশেষে মিমাংসিত হ‌য়ে‌ছে জমিজমা সংক্রান্তে দীর্ঘদিনের বি‌রোধ। স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদপিয়া এলাকার শাহজাহান মোল্লার সা‌থে একই এলাকার মিজান মাস্টার গংদের সাথে দীর্ঘ‌দিন যাবৎ জ‌মি সংক্রান্ত বি‌রোধ চ‌লে আস‌ছিল। জ‌মি নি‌য়ে বি‌রোধ মিমাংসার জন্য দীর্ঘ‌দিন পর্যন্ত বি‌ভিন্ন মানু‌ষের সহ‌যো‌গিতা চে‌য়ে ব্যর্থ হ‌য়ে সমস্যার কোন সমাধান পান‌নি তারা। অবশেষে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের নির্দেশে সরেজমিনে এসে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের জ‌মি নি‌য়ে বি‌রোধ মিমাংসা করলেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান। রবিবার (১৭ মে) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মাহমুদ হাসানের সু‌কৌশ‌লী ভূমিকায় সম‌ঝোতার দ্বারপ্রা‌‌ন্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এতে মিমাংসা হ‌য় দীর্ঘ‌দি‌নের জমিজমা বি‌রোধ। এতে স্থানীয় জনগণ এবং উভয়পক্ষই জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। বি‌রোধ মিমাংসার বিষ‌য়ে স্থানীয় সা‌লিশদারগণ ব‌লেন, দীর্ঘ‌দিন থে‌কেই এই জমি নি‌য়ে সমস্যা বিদ্যমান ছিল। আমরা একাধিকবার চেষ্টা ক‌রেও এ সমস্যার কোন সমাধান কর‌তে পা‌রি‌নি। আজ পুলিশের আন্তরিক চেষ্টায় সেটার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়‌েছে। ত‌বে এবার আর কোন বি‌রোধ থাক‌বে না ব‌লে আশা ক‌রছি। দীর্ঘ‌দি‌নের সমস্যা নিরস‌নের বিষ‌য়ে মাহমুদ হাসান বলেন বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উভয়পক্ষের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে।

  • ছুটিতে গ্রামের বাড়ি রওনা দেওয়া যাবে না: আইজিপি

    ছুটিতে গ্রামের বাড়ি রওনা দেওয়া যাবে না: আইজিপি

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে ও সরকারের ঘোষিত বর্ধিত ছুটি উদ্‌যাপনের জন্য অনেকেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।

    আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি।

    আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, তা সবাইকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

    সংশ্লিষ্ট সব পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যেন কোনোভাবেই ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে কেউ যেতে না পারেন। একইভাবে প্রতিটি জেলা ও মহানগরীও জনস্বার্থে কঠোরভাবে এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে।

    শপিং মল ও মার্কেটগুলো যেন যথাযথ নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে বলেন তিনি। সব ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

    আইজি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে হাসি মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। অনেক সদস্য ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত দেশপ্রেমিক এ ত্যাগী পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও কল্যাণের জন্য সম্ভবপর সব উদ্যোগের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    করোনা মোকাবিলায় সাফল্য দেখিয়েছে, এমন সব দেশের পলিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পলিসিসহ বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার আলোকে পুলিশ সদস্যের জন্য একটি অত্যন্ত আধুনিক এসওপি (স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসেডিওর) তৈরি করে সেটি সব ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেন আইজিপি।

    দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলেন আইজিপি। আইজিপি বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা একটি বিরল সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থায়ীভাবে আসন করে নিতে আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনসেবার এ অভূতপূর্ব ধারা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

    যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, সব ধরনের পুলিশি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমকে অধিকতর বেগবান ও ফলপ্রসূ করতে পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পুলিশ কর্মকর্তা মনোনীত করা হবে। এতে পুলিশের কাজের অধিকতর জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। পরিশেষে আইজিপি বলেন, পুলিশকে বর্তমানের মতো করে সব সময় দাঁড়াতে হবে মানুষের পাশে।