Category: প্রশাসন

  • বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮ পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮ পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পটুয়াখালীর জলসীমায় ইলিশ শিকারে যাওয়ার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) কর্মরত ৮ পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই দিনে পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আকরাম হোসেন।

    তিনি জানান, এখনি সবিস্তারে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি জানানো যাবে।

    শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পাঁচজনকে ক্লোজড করা হয়েছে।

    সাময়িক বরখাস্তকৃতরা হলেন- উপ-পরিদর্শক আনিস, কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী ও জুলফিকার আলী। ক্লোজড হয়েছেন এএসআই তরিকুল ইসলাম, এফরান, সোহেল, কনস্টেবল জাকির ও ইব্রাহিম। এরা সবাই বন্দর থানায় কর্মরত ছিলেন।

    জানা গেছে, রোববার পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তেঁতুলীয়া নদীর ধূলিয়া পয়েন্টে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর (সাহেবেরহাট) থানার কনস্টেবল জুলফিকার আলী ও মোহাম্মদ আলীকে আটক করে স্থানীয় প্রশাসন। ওই অভিযানে আরও ৪ জেলেকে আটক করা হয় এবং জব্দ করা হয় মা ইলিশ।

    পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ সাংবাদিকদের জানান, রোববার বিকালে বাউফল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার এবং নৌপুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে। তেঁতুলিয়া নদীর ধূলিয়া পয়েন্টে ইলিশ ধরারত একটি ট্রলার আটক করে।

    ওই ট্রলার থেকে বরিশাল বন্দর থানার মো. জুলফিকার ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই পুলিশ সদস্য ও ৪ জেলেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় দুটি স্পিড বোটসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।

  • বরিশাল নৌ পুলিশের অভিযানে ১১ জেলের কারাদণ্ড

    বরিশাল নৌ পুলিশের অভিযানে ১১ জেলের কারাদণ্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকারের অপরাধে নদ-নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৭ জেলেকে আটক করেছে বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে নৌ পুলিশেল পৃথক দুটি টিম।

    পরে তাদেরকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে ১১ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ৬ জনকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৯ জেলেকে আটক করে। এবং এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও এক মণ মা ইলিশ উদ্ধার করে।

    এরআগে সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. পারভেজ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে আরও ৮ জেলেকে আটক করে। এসময় ২ লাখ ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৯০ কেজি মা ইলিশ উদ্ধার করে।

    আটক জেলেদের পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তুলে তাদের মধ্যে ১১জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ৬ জেলেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো শহরের বিভিন্ন এতিমখানা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।’

  • পিরোজপুরে ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতা আটক

    পিরোজপুরে ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতা আটক

    পিরোজপুর প্রতিনিধি ::

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ সুমন মৃধা (২৯), মামুন হাওলাদার (২৬) ও রফিকুল হাসান লিখন (৩০) নামে তিন মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ২৩ নম্বর উত্তর পাতাকাটা সরকারি গ্রাখমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ১৩ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।

    আটক মাদক ব্যাবসায়ী সুমন পৌরশহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আব্দুল মন্নান মৃধার ছেলে ও মামুন পৌরশহরের ৯নং ওয়ার্ড এলাকার বাদশা হাওলাদারের ছেলে। রফিকুল হাসান লিখন উপজেলার বকশির ঘটিচোরা গ্রামের সামাদ মৃধার ছেলে।

    মঠবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক জানান- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ২৩ নম্বর উত্তর পাতাকাটা সরকারি গ্রাখমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে ওই ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় জনি নামে আরেক মাদক ব্যাবসায়ী পালিয়ে যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে কাছ থেকে ১৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

  • ভোলায় দফাদারের নেতৃত্বে মা ইলিশ শিকার, ৫ গ্রাম পুলিশ কারাগারে

    ভোলায় দফাদারের নেতৃত্বে মা ইলিশ শিকার, ৫ গ্রাম পুলিশ কারাগারে

    ভোলা প্রতিনিধি//মো: নিশাত:

    ভোলায় দফাদারের নেতৃত্বে মা ইলিশ শিকারের দায়ে পাঁচ গ্রাম পুলিশসহ ৯ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এ সময় দিন মোহাম্মদ ও জসিম নামের দুই জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দফাদার মো. ইউছুফ, একই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মোশারেফ হোসেন (হেজু), ২নং ওয়র্ডের গ্রাম পুলিশ আব্দুল মন্নান, ৩নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. হেলাল ও ৫নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. লোকমান হোসেন। বাকি দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার মো. নুরউদ্দিন, মো. ইউছুফ, মো. অহিদ, মো. ইব্রাহীম।

    সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকালে মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশের একটি টিম ভোলার মেঘনা নদীতে অভিযানে নামে। এ সময় মেঘনা নদীর ভোলার খাল পয়েন্ট থেকে একটি ট্রলারে পাঁচজন গ্রাম পুলিশকে পোশাক পরিহিত অবস্থায় মাছ ও জালসহ আটক করা হয়।

    তাদের কাছে ১০ কেজি মা ইলিশ ও এক হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এদের বিরুদ্ধে এর আগেও নিষিদ্ধকালীন সময়ে নদীতে জেলেদের দিয়ে মাছ ধরানো এবং জেলেদের থেকে জাল-মাছ নিয়ে যাওয়াসহ নান অভিযোগ রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, গ্রম পুলিশ ছাড়াও অভিযানে আরও ৬ জেলেকে আট করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ গ্রাম পুলিশ ও চার জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড ও দুই জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমনা প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  • আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আর নিরাপদ সড়ক করতে চাই না : অজিয়র রহমান

    আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আর নিরাপদ সড়ক করতে চাই না : অজিয়র রহমান

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    “জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দূর্ঘটনা আর নয়” এই প্রতি পাদ্য নিয়ে বিভাগীয় শহর বরিশালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আর নিরাপদ সড়ক করতে চাই না। এখন থেকে চালক পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে দূর্ঘটনা মুক্ত বরিশাল বিভাগকে নিরাপদ সড়ক গড়তে চাই।

    তিনি এসময় উপস্থিত পরিবহন চালক ও মালিক সমিতির সদস্যদেরকে বলেন, চালকরা যেন কোন ভাবেই প্রতিযোগীতা গাড়ি না চালান। প্রতিযোগীতার কারনেই চালক ও যাত্রী সহ জান মাল সবই ধ্বংশ হচ্ছে তাই অনাকাংঙ্খিত প্রতিযোগীতা গাড়ী চালানো থেকে চালকদের সতর্ক হওয়ার আহবান জানান।

    পাশাপাশি পরিবহন মালিক পক্ষ থেকে তাদের চালকদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও বিআরটি’এ থেকে সহযোগীতা করার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

    আজ মঙ্গলবার (২২ই) সাড়ে নয়টায় বরিশাল সার্কিট হাউজ ধানসিঁড়ি মিলনায়তন সভা কক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির আসনে আরো বক্তব্য রাখেন উপ-পুলিশ কমিশনার (বিএমপি) ডিসি ট্রাফিক খাইরুল আলম, (পদন্নোত্তি) পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ইঞ্জিঃ) বিআরটি’এ জিয়াউর রহমান, বরিশাল জেলা সড়ক ও জনপথ নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা,বরিশাল বাস-মালিক গ্রুপ সমিতি সভাপতি মাসরুক আহমেদ বাবলু , বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিন, নথুল­াবাত শ্রমীক ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক মোঃ ফরিদ হোসেন ও বরিশাল ট্রাক-লড়ি মালিক সমিতির সম্পাদক ইমান আলী শরীফ বাবুল প্রমুখ।

    এসময় (ডিসি ট্রাফিক) উপ-পুলিশ কমিশনার খাইরুল আলম বলেন চালকরা নির্ধারিত গতিসিমা লংঘন, ওভার স্প্রিডসহ ওভারটেক করে গাড়ি না চালাবার জন্য চালকদের আরো বেশী সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানান।

    সেই সাথে জেলার বিভিন্ন মহা সড়কের পাশে হাট বাজার রয়েছে সেগুলো মুক্ত করার জন্য ডিসি ট্রাফিক জেলা প্রশাসকের সহযোগীতা কামনা করেন।

    এর পূর্বে সকাল ১য়টায় নগরের অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ করে র‌্যালিতে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যান্ড পার্টি নিয়ে অংশ গ্রহন করে।

    উল্লে­খ্য, চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নিরাপদ সড়কের দাবীর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার ২০১৭ সালের ৫ জুন জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষনা করেন।

  • ‘মা’ ইলিশ শিকারের অপরাধে বরিশাল বন্দর থানার এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

    ‘মা’ ইলিশ শিকারের অপরাধে বরিশাল বন্দর থানার এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

    নিজস্ব প্রতিবেবদক :

    পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদী‌তে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে যাওয়ার অভিযোগে বরিশাল বন্দর থানার এসআই আনিসুর রহমান, কনস্টেবল মোহম্মদ আলী ও জুলফিকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে তাদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বন্দর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার।

    গত রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর ধূলিয়া পয়েন্ট থেকে ইলিশ মাছ কারেন্ট জাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত স্টিলের ট্রলারসহ বরিশাল বন্দর থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়।

    অভিযোগ ছিল,আটক হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়।

    এরপর রাত ১০টার দিকে মৎস্য কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে মোহাম্মাদ আলী এবং মো. জুলফিকার নামে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের বিষয়টি জানালেও কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহাগের হস্তান্তর করেন তিনি।

    পরে কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জও কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ওই দুই পুলিশ সদস্যকে তড়িঘড়ি করে মাইক্রোবাসযোগে বরিশাল বন্দর থানায় পাঠিয়ে দেয়। পুলিশের ইলিশ শিকার এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক হওয়া পুলিশ সদস্যদের এভাবে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

    এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন আটকের পর তিন পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছিলেন। আটক হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্যকে নৌপথে নিয়ে আসার সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহাগের সঙ্গে ডাঙায় নামেন। এরপর তারা বোটে উঠতে গড়িমসি করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহাগের কাছে রেখে চলে আসি।

    বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাসের কাছে এমন নির্দেশনা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিসি স্যারকে জানিয়েই ওই দুই পুলিশ সদস্যকে নৌ পুলিশে নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু তারা একটি বাহিনীর সদস্য তাই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে

    এ বিষয়ে কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহাগ বলেন, এখানে অবৈধভাবে ইলিশ ধরতে আসা কথাটি সঠিক নয়, তারা সীমানা ক্রস করে আমাদের সীমানায় ঢুকে পড়েছিল। তাদের আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

    তাদের সঙ্গে ইলিশ মাছ এবং কারেন্ট জাল পাওয়া গেছে এবং এ সময়ে তাদের সঙ্গে জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটির কোনো সদস্যও ছিলেন না তা হলে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আপনি তাদের কীভাবে বরিশাল বন্দর থানায় পাঠিয়ে দিলেন- এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান, বরিশাল অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মো. কফিল উদ্দিন স্যার এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান স্যারের নির্দেশে বরিশাল বন্দর থানার ওসি নিজে এসে আটক ওই দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে গেছেন। এর থেকে বেশি কিছু আমার বলার নেই।

    এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ওই দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আসার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দুইজন হোক কিংবা পাঁচজন, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

  • ভোলার এসপির ফেসবুক হ্যাকড

    ভোলার এসপির ফেসবুক হ্যাকড

    ভোলা প্রতিনিধি//মো:নিশাত ::

     

    ভোলা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে। জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সহিংসতার দুদিন পর এসপির আইডি হ্যাকড হওয়ার ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় এসপি ভোলা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    বোরহানউদ্দিনে সহিংসতার ঘটনার মূল কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির হ্যাকড আইডি থেকে সহিংসতার সূত্রপাত।

    তাই এসপির আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া প্রশাসন ‘তৌহিদী জনতার’ যে ছয়টি দাবি মেনে নিয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে জেলার এসপিকে প্রত্যাহার।

    বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির হ্যাকড হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বার্তা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত রোববার (২০ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিন উপজেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। এতে চারজন নিহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মোতায়েন করা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাঁর আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে জিডি করেন। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন।

    এদিকে হেফাজতের ডাকে আজ বিকেল চারটায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভোলা শহরের হাটখোলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরে প্রদক্ষিণ করবে। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভোলা শহরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মহড়া দিচ্ছেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, শহরে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য নেতা–কর্মীরা অবস্থান করছেন।

    এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র ছয় দফা দাবি মেনে নেয় প্রশাসন। দাবি মেনে নেওয়ায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

    ছয় দফা দাবি হলো
    ১. জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে

    ২. ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে

    ৩. আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

    ৪. নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে

    ৫. অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং

    ৬. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে

  • ভোলার সেই বিপ্লবের ভগ্নিপতিকে তুলে নিয়ে গেল ডিবি পুলিশ!

    ভোলার সেই বিপ্লবের ভগ্নিপতিকে তুলে নিয়ে গেল ডিবি পুলিশ!

    ভোলা প্রতিনিধি//মো: নিশাত ::

    ভোলার ফেসবুক আইডির বিপ্লব চন্দ্র শুভর ভগ্নিপতি বিধান চন্দ্র মজুমদারকে ডিবি পরিচয়ে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে একটি গ্রুপ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার রাতে উপজেলার দুলারহাট থানার রোদেরহাট বাজারের দোকান থেকে একটি গ্রুপ তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে স্বজনরা জানান।

    বিধানের বাড়ি একই এলাকায়।

    এদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক হ্যাক করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার জেলায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা টহলে রয়েছেন।

    স্বজনদের অভিযোগ, বিপ্লব চন্দ্র শুভর ভগ্নিপতি বিধান চন্দ্র মজুমদারকে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার রোদেরহাট বাজারের দোকান থেকে রাতে ডিবি পরিচয়ে একটি গ্রুপ তুলে নিয়ে যায়।

    তবে ডিবির ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের কোনো দল ওই অভিযানে যায়নি। বিষয়টি তারা জানেন না।

    বাজারের দোকানিরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি কালো গ্লাসের মাইক্রোবাস বাজারে আসে। ওই মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন নেমে বিধানকে ডেকে তুলে নিয়ে যায়।

    এর পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। ওই বাজারে বিধানের ছোট আকারের জুয়েলারি দোকান রয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমোহন পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আশরাফুল আলম টুলু।

    দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না। তবে লোকমুখে শুনেছেন বিষয়টি।

    এদিকে এ ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর দাফন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে আটক তিনজন বর্তমানে ভোলার জেলহাজতে রয়েছে। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান।

  • কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে অনুষ্ঠানসূচি

    কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে অনুষ্ঠানসূচি

    আগামী ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলা পুলিশ কর্তৃক কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে।

    দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ অক্টোবর সকাল ৯ টায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড হতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত র‌্যালি, সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলা পরিষদের শহীদ সুকান্ত বাবু মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে রক্তদান কর্মসূচি, দুপুর পৌনে ৩ টায় পুলিশ লাইন্সের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা (মুলাদী থানা চ্যাম্পিয়ন দল বনাম বাকেরগঞ্জ থানা চ্যাম্পিয়ন দল),

    বিকাল সাড়ে ৩টায় বরিশাল পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ (কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি একাদশ বনাম সাধারণ সম্পাদক একাদশ), বিকাল ৫টায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা,

    সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বরিশাল পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

  • বরিশালে কলেজ ছাত্রী মিথিলা হত্যাঃ স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

    বরিশালে কলেজ ছাত্রী মিথিলা হত্যাঃ স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

    নগরীর তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও গৃহবধূ সুস্মিতা সরকার মিথিলাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামী আইনুল ইসলাম শান্ত ও তার মা শাহনাজ মাহমুদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সাইদুল হক এ চার্জশিট জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন- পিরোজপুরের নাজিরপুর থানা এলাকার মনোহরপুর ফকির বাড়ির আলতাফ হোসেনের ছেলে ও স্ত্রী। নগরীর কলেজ অ্যাভিনিউর ৫ম গলির ইউনুস ভিলায় বসবাস করেন। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার ৫ মাস পূর্বে মাইনুল ইসলাম শান্ত কলেজ ছাত্রী সুস্মিতা সরকার মিথিলাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শান্ত তার স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাসায় ওঠেন। কিন্তু গত ১ জুন মা শাহনাজ মাহমুদ স্বীকার না করে ছেলেকে অন্যথায় বিয়ে করাবেন বলে হুমকি দিয়ে মিথিলার সাথে খারাপ আচরণ শুরু করেন। একই সাথে তাদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। এতে শান্ত ওই এলাকার আফসার উদ্দিন লেনে ছালাম মিয়ার বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন। ওই বাসায় শান্ত তার স্ত্রী মিথিলাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। ৮ জুন রাতে শাহনাজ মাহমুদের প্ররোচণায় শান্ত তার স্ত্রী মিথিলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের বাবা সরদার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা শান্ত ও তার মা শাহনাজ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ৭ অক্টোবর এসআই সাইফুল হক আত্মহত্যায় প্ররোচিত আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারায় চার্জশিট জমা দেন। বর্তমানে মাইনুল ইসলাম শান্ত জামিনে থাকলেও শাহনাজ মাহমুদ জেল হাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।