Category: প্রশাসন

  • বরিশাল শেবাচিমে ছিনতাই চক্রের নিয়ন্ত্রকসহ আটক ২

    বরিশাল শেবাচিমে ছিনতাই চক্রের নিয়ন্ত্রকসহ আটক ২

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে হাসপাতালের নীচ তলায় টিকেট কাউন্টারের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলো- ছিনতাই চক্রের হোতা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন চরেরবাড়ির বাসিন্দা আবুল হোসেন এর স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও মাদারীপুরের বাসিন্দা সুমন হোসেনের স্ত্রী সুমি বেগম (২২)।

    শেবাচিম হাসপাতালের গার্ড রুমের দায়িত্বে থাকা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, ‘নগরীর রূপাতলী এলাকার সুমি আক্তার চিকিৎসা নেয়ার জন্য হাসপাতালে আসেন। লাইনে দাড়িয়ে টিকেট কাটার সময় সুমি নামের ছিনতাইকারী তার ব্যাগ খোলার চেষ্টা করলে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছিনতাইকারী সুমিকে হেফাজতে নেয়।

    এসআই নাজমুল জানিয়েছেন, সুমির স্বীকারক্তি অনুযায়ী ছিনতাই চক্রের নিয়ন্ত্রক ঝর্ণা বেগম নামের নারীকে হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগ থেকেই আটক করা হয়েছে। তাদের দু’জনকেই কোতয়ালী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    আটককৃত সুমি জানিয়েছে, ‘সে দীর্ঘ দিন ধরেই হাসপাতালে রোগীর টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত। প্রতিদিন ৫/৭ হাজার টাকা ছিনতাই করেন। তবে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হলেই ২ হাজার টাকা দিতে হয় ঝর্ণাকে। আর স্বর্ণালংকার পেলে তারও ভাগ নেয় ঝর্ণা। এই চক্রের সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন জড়িত। তাদের সবাইকেই পরিচালনা করে ঝর্ণা।

    তবে ঝর্ণার দাবি সে হাসপাতালে রোগীর দালালী করেন। ছিনতাই চক্রের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না এবং এর সাথে তিনি জড়িতও নন।

  • বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ চরমপন্থী শীর্ষসন্ত্রাসী পলাশ আটক

    বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ চরমপন্থী শীর্ষসন্ত্রাসী পলাশ আটক

    অনলাইন ডেস্ক ::

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৮ এর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ চরমপন্থী শীর্ষসন্ত্রাসী পলাশ মাতব্বর (৪৫)কে আটক করা হয়েছে । বিশেষ কৌশলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস টিম। ১৮ অক্টোবর রাতে মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন বাগমারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সেখান থেকে ১৯৭ পিস ইয়াবা, ০২টি পিস্তল, ০৯ রাউন্ড এ্যামোনিশন ও ০৪টি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়

    পলাশ ডাকাতি মামলাসহ এজাহারভূক্ত ৭টি মামলার আসামী ও চরমপন্থী দলের কালো বাহিনীর নেতা । তার বাবার নাম দাদন মাতব্বর। সে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    আজ (১৯ অক্টোবর) বরিশাল ক্রাইম নিউজে প্রেরিত এক ই-মেইল বার্তায় র‌্যাব-৮ জানিয়েছে, পলাশ মাতব্বর দীর্ঘদিন যাবত অপহরন, খুন এবং ডাকাতি করে আসছে। খুন করার পর সে ভারতে চলে যায় এবং ভারতে কিছুদিন অবস্থানের পর পুনরায় তার নিজ এলাকায় এসে খুন, ডাকাতিসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে। এছাড়া অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকরে। এ সংক্রান্তে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ০৭টি মামলা রয়েছে।

  • পুলিশের দাপটে অসহায় আদালতের আদেশ, সাংবাদিকদের চাদাবাজি মামলায় ফাসানোর হুমকি

    পুলিশের দাপটে অসহায় আদালতের আদেশ, সাংবাদিকদের চাদাবাজি মামলায় ফাসানোর হুমকি

    স্টাফ রিপোর্টার// রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

    আদালতের নির্দেশ থমকে গেছে পুলিশের দাপটে।জমির প্রকৃত মালিককে চাদাবাজি মামলায় ফাসিয়ে হাজতে রেখে বহুতলা ভবন নির্মান করচে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কর্নকাঠীর বাসিন্দা মৃত আ: বাকের হাওলাদারের ছেলে দিনমজুর ওসমান গনি হাওলাদারেরে স্ত্রী রাজিয়া ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একই এলাকার বাসিন্দা মৃত জাবেদ আলী হাওলাদারের ছেলে মো: আক্কেল আলী হাওলাদারের কাছ থেকে কর্রকাঠী মৌজার ৬১ নং খতিয়ানের প্রায় ৮ শতাংশ জমির মালিকানা পান।জমি ক্রয় করার পর থেকে দখল বুঝে দীর্ঘদিন ভোগ দখল করে আসছিলেন। জমির সাব রেজিস্ট্র দলিল নম্বর ৯৬৭৩ । অপরদিকে নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড কাশিপুর  এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে মাহবুবুল হাসান ২০০৮ সালে নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ ৬১০ নং কর্নকাঠী মৌজার ৫৭ নং জে. এল থেকে ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত আছমত আলী হাওলাদারের ছেলে মো: শাহাজাহান হাওলাদার ও আয়শা বেগম দের অর্থাত ১নং দাতার কাছ থেকে ২.৫২ শতাংশ , ২ নং দাতার কাছ থেকে ৩.০২ শতাংশ , ৩ থেকে ৬ নং দাতার কাছ থেকে ৩.৩৬ শতাংশ ৭ নং দাতার কাছ থেকে ০.৫০ শতাংশ, ৮ ও ৯ নং দাতার কাছ থেকে ১.৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ১৭ নং দাতার কাছ থেকে ২.৮০ শতাংশ সর্বমোট প্রায় সাড়ে ১৩ জমি ক্রয় করে।হাসানের ক্রয়কৃত সম্পত্তির রেজিস্ট্রিকৃত হাত নকশা ও পরিমাপ অনুযায়ী দেখা যায়, কুয়াকাটা বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব পাশে মানে বর্তমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর জন্য সরকারের অধিগ্রহনকৃত জমির মধ্যে হাসানের সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি সরকার অদিগ্রহন করে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে মাহবুবুল হাসান তার শশুর (সাবেক কোর্ট ইন্সেপেক্টার ) সুলতান মাহামুদের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার অপরপাশে অপর পাশে রাজিয়ার ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে ভবন নির্মান করে যাচ্ছে। জমির মালিক রাজিয়া জানান , প্রথমে বন্দর থানা পুলিশকে জানাই । পুলিশ এ বিষয় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতের দারস্থ হন। আদালত রাজিয়ার সামী ওসমান গনি জমিতে স্থায়ীবস্তা চেয়ে মামলা করলে বিচার মামলাটি আমলে নিয়ে বন্দর থানা পুলিশকে  তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহন ও স্ব স্ব অবস্থানে উভয়কে স্থিতিশীল থাকার নির্দেশ দেন। অথচ পুলিশের জামাতা মাহবুবুল হাসান আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারক বরাবর পাল্টা আবেদন করলে আদালত তা না মন্জুর করে পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করে ।রাজিয়ার স্বামী ওসমান গনি আদালতের নির্দেশের অনুকুলে , পুলিশের কাছে  একাদিক বার গিয়েও কোন প্রতিকার পান নি। উল্টো নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে ওসশান গনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া এবং অষ্ঠম শ্রেনীতে পরুয়া ছেলে হানিফের বিরুদ্ধে চাদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা সহ একাদিক মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেয় সাবেক কোর্ট ইন্সেপেক্টর সুলকান মাহমুদ। বিষয়টি মাহবুবুল হাসান ও মিজানের কাছে জানতে চাইলে উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এর আগে এক সাংবাদিক আসছিলেন।তাকে চাদাবাজি মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দিয়েছি ।  এ নিয়ে আপনার বেশী বোঝার দরকার নাই । যা বোঝার পুলিশ বুঝবে।

    অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার মাহবুবুল হাসান আদালতের নিষেদ না মেনে জমিতে স্থাপনার কাজ করা শুরু করলে বাধা দিতে যায় রাজিয়া । বাধা দিতে যাওয়ায় রাজিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে । এবং  সাবেক কোর্ট ইন্সেপেক্টর সুলকান মাহমুদ এর দাপটে কিছু পুলিশ এনে তাদের জমি থেকে বের করে দেয় এবং বাধা দিতে আসলে গ্রেফতারের হুমকি দেয়।

  • চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট নিহত

    চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট নিহত

    চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান চাপায় এক ট্রাফিক সার্জেন্টের মৃত্যু হয়েছে। নগরের পাহাড়তলী থানার টোল রোডে দায়িত্ব পালনের সময় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাণী রাসমনির ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম বকশী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩০)। তিনি নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বন্দর জোনে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়

    পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, ‘দায়িত্ব পালনের সময় দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সার্জেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। হাসপাতালে নেয়ার পর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

  • বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলগুলোতে পুলিশের তল্লাশি

    বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলগুলোতে পুলিশের তল্লাশি

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা আলোকে বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে আইনঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ডক্টরস হোস্টেলে অভিযান চালিয়েছে। এসময় এফ.এম নূর-উর-রফী হোস্টেলের সামনের ব্লকের তৃতীয় তলার ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে ইয়াবাসহ রিফাতুল ইসলাম খান রন্টি নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয় মাদক সেবনের উপকরণসহ ধারালো অস্ত্রও। এর আগে বুধবার রাত থেকে শহরের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পুলিশ সূত্র জানায়- সাম্প্রতিকালে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে কঠোর অভিযোন চালানোর নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই কোতয়ালি পুলিশ বুধবার রাত থেকে হলগুলোতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে হোস্টেলগুলোতে অভিযানের প্রাক্কালে এফ.এম নূর-উর-রফী হোস্টেলের সামনের ব্লকের তৃতীয় তলার ৩০৩ নম্বর কক্ষে হানা দিয়ে রিফাতুল ইসলাম খান রন্টি নামে এক ওই ব্যক্তিকে ৫২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এবং কক্ষটিতে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, মদের বোতল, চুরিসহ বেশ কিছু সিগারেটের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এই অভিযোনে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালি পুলিশের সহকারি কমিশনার (এসি) মো. রাসেল।

    পুলিশ জানায়- গ্রেপ্তার রিফাতুল ইসলাম খান রন্টি বহিরাগত এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি। কিন্তু সে দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটিতে অবস্থান নিয়ে মাদক সেবন এবং ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেলসহ একাধিক থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। তাছাড়া শহরের দক্ষিণ আলেকান্দার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই রন্টির স্ত্রী আসমা আক্তার রুবিনাও মাদক ক্রয়-বিক্রিতে জড়িত। বর্তমানে কারান্তরীণ আসমা আক্তার রুবিনাকে সাম্প্রতিকালে আড়াই হাজার পিস ইয়াবাসহ নগরীর গোরস্থান রোড এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    শেবাচিমের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানিয়েছে- শেবাচিম হাসপাতাল কলেজের কতিপয় শিক্ষার্থী স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ শেল্টারে এফ.এম নূর-উর-রফী হোস্টেলের বেশ কয়েকটি কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাদকের আখড়া গতে তোলার পাশাপাশি একটি অঘোষিত টর্চার সেলে পরিণত করে। ওইসব কক্ষে বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের আটকে মারধর করাসহ নানাভাবে নির্যাতনের একাধিক অতীত উদাহরণ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিগত সময়ে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলেও সেখানে অভিযান চালানোর কথা শোনা যায়নি।

    অনুরুপভাবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকটি আবাসিক হলের কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের টর্চাসেল গড়ে তোলার বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনা আসে।

    এরই মধ্যে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। মুলত সেই নির্দেশনার আলোকেই বুধবার রাত থেকে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন। অবশ্য গতকাল শেবাচিমের ওই সফল অভিযানের পরে পুলিশও নিশ্চিত হয়েছে হলগুলোতে মাদকের আখড়ার পাশাপাশি টর্চারসেল গড়ে তোলার বিষয়ে।

    সঙ্গত কারণে এই অভিযানের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে হলগুলোতে শৃঙ্খলা এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়তে অনড় থাকার বিষয়টি জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বরিশালটাইমসকে বলেন- শেবাচিমের হোস্টেল থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবং সেখানে মাদকের একটি আখড়া গতে তোলা সাথে কে বা কারা জড়িত সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার সাথে সাথে শেল্টারদাতাদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

  • পুলিশের কারসাজিতে এলাকা ছাড়া সাংবাদিক, ডিআইজির কাছে অভিযোগ করায় চটলেন ওসি!

    পুলিশের কারসাজিতে এলাকা ছাড়া সাংবাদিক, ডিআইজির কাছে অভিযোগ করায় চটলেন ওসি!

    মিথ্যা অভিযাগে দায়ের করা মামলা ও তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্ব থেকে পরিত্রাণ পেতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি’র কাছে আবেদন করে বেকায়দায় পড়েছেন এক সংবাদকর্মী। ডিআইজির কাছে আবেদন করা হয়েছে এমন তথ্য জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ সদস্য মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন গ্রহণ করে অভিযুক্ত সংবাদকর্মীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি ওই তদন্ত কর্মকর্তা। শেষে ওসিকে দিয়ে প্রতিবেদককে ‘হুমকি’ দেওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানায়।

    জানা গেছে, দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান এবং দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার ফটো সাংবাদিক খান মাইনউদ্দিন তার গ্রামের বাড়ি উত্তর জুরকাঠির আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় একজন পরিছন্নতাকর্মী কাম দপ্তরি নিয়োগ প্রদানে ঘুস আদান-প্রদানের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপারের কাছে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে সাংবাদিক খান মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন ‘ঘুস দিয়ে চাকরী নেওয়া’ দপ্তরি মানিক বেপারী। নালিশি তদন্তে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিলে তদন্তভার পান
    সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নজরুল। তিনি তদন্তে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশ করে শুধু বাদী পক্ষের লোকদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মাদরাসা থেকে বের করে দেন এএসআই নজরুল। একই সাথে প্রকাশ্যে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, বাদীর মনমত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

    এই খবর জানতে পেরে ২ অক্টোবর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে সুষ্ঠু তদন্ত প্রার্থনা করে আবেদন করেন খান মাইনউদ্দিন। আবেদনটি খতিয়ে দেখতে ঝালকাঠি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। খান মাইনউদ্দিনের আবেদন বর্তমানে তদন্ত করছেন পুলিশ সুপার।
    অন্যদিকে রেঞ্জ ডিআইজির কাছে আবেদন হয়েছে এমন তথ্য জানতে পেরে খান মাইনউদ্দিনকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের জিরো পয়েন্টে ডেকে নেন এএসআই নজরুল ইসলাম।

    মুঠোফোনে খান মাইনউদ্দিন জানান, ডেকে নিয়ে এএসআই নজরুল খুবই খারাপ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, তোর বিরুদ্ধে মামলা হইছে তুই থানায় যাবি। আমি তদন্ত করছি-আমার সাথে সমঝোতা করবি। কিন্তু তুই ডিআইজির কাছে আমার বিরুদ্ধে আবেদন করেছ। দেখি এখন ডিআইজি কেমনে বাঁচায়। মাইনউদ্দিন বলেন, তখনই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে হুমকি দিয়ে যান। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাইনউদ্দিন বলেন, শুধু হুমকি দিয়ে চলে যান। কিন্তু কোন টাকা-পয়সা দাবি করেননি। এএসআই নজরুল ৪ অক্টোবর এই হুমকি দেন বলেও জানান মাইনউদ্দিন।

    নজরুলের হুমকির শিকার এই সাংবাদিক আরও বলেন, আমি ডিআইজি স্যারের কাছে আবেদন করেছি যেন সঠিক তদন্ত হয় সে কারণে। কিন্তু আবেদন করায় যে ক্ষুব্ধ হবেন নজরুল তা বুঝিনি।
    এরপরপরই তড়িঘড়ি করে ১২ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এএসআই নজরুল এবং ওইদিনই তা অগ্রগামী করেন ওসি সাখাওয়াত হোসেন।

    তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খান মাইনউদ্দিনের পূর্বের আশঙ্কা অনুসারে নিরপেক্ষ তদন্ত না করে বাদীর আত্মীয়-স্বজন ও মাদরাসার শিক্ষকদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেই মাইনউদ্দিনকে দোষী করে চার্জশিট প্রদান করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    তদন্ত প্রতিবেদনে এএসআই নজরুল উল্লেখ করেছেন, মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর (মামলা নং-২) একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাসহ একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

    অথচ নলছিটি থানা সূত্রে জানা গেছে, এএসআই নজরুল যে মামলাটি তদন্ত করছেন সেটি ছাড়া আর কোন মামলা মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে নেই। তাছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ২০০৪ সালে দায়ের হওয়া যে মামলাটি চলমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি থেকে ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর ঝালকাঠি সহকারী দায়রা জজ (২য়) আদালতের বিচারক লিয়াকত আলী মোল্লা বেকসুর খালাস প্রদান করেন। রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক উল্লেখ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খান মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়। কিন্তু যে অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে তাতে সন্দেহাতীতভাবে নির্দোশ প্রমাণিত হন মাইনউদ্দিন, তার পিতা আব্দুল আজিজ খান ও ভাই গিয়াস উদ্দিন।

    এই রায়ের বিষয় না উল্লেখ করে মাইনউদ্দিনকে উদ্দেশমূলকভাবে ফাঁসাতে মামলায় খালাসের তথ্য চেপে গিয়ে ‘বিচারাধীন’ উল্লেখ করেন এএসআই নজরুল ইসলাম।

    এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে ঘায়েল করতে সুযোগবাদীরা দীর্ঘ পরিকল্পনা করে চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়েছেন। মামলাটি সাজানো ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদা দাবির বিষয়ে এজাহারে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তেমন কোন ঘটনা এলাকায় ঘটেছে বলে কেউ শোনেনওনি।

    এ বিষয়ে এএসআই নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে গতকাল দুপুরে জানান, বিচারাধীন ও খালাস তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব আমার না। মাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনেক মামলা চলমান রয়েছে বলে শুনেছি। বাকিটা আদালত দেখবেন। এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমিইতো শেষ কথা নয়। আমার ওপরে অনেক কর্মকর্তা রয়েছে। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন এমন প্রতিবেদন হয়েছে কেন। শেষে এএসআই নজরুল বলেন, বিকেলে নলছিটি থানায় আসেন। সামনাসামনি সব বুঝিয়ে দিব।

    সন্ধ্যায় এএসআই নজরুলের ফোন দিয়ে প্রতিবেদককে কল দেন নলছিটি থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন। সাখাওয়াত হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে জানতে চান, কেন এএসআই নজরুলকে ফোন দেওয়া হচ্ছে? সমস্যা কি? প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদক সবিস্তারে বললে ওসি বলেন, তথ্যের জন্য আদালতে যান; থানায় ফোন দিচ্ছেন কেন? আর তারপরও কোন কিছু জানতে চাইলে সরাসরি থানায় আসেন।

    ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিচারাধীন ও খালাস শব্দের অর্থ জানতে চাও-তোমার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? লেখাপড়া করলে সরকারি চাকরীর চেষ্টা করো। এসব ছাড়ো। অপর প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন যাই হোক এখন মাইনউদ্দিন আদালতে আবেদন করে জামিন নিক।

    ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির আ.স.ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু বলেন, খালাস ও বিচারাধীন শব্দ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। খালাস বলতে মামলাটির সমাপ্তি। আর বিচারাধীন বলতে চলমান। খালাস পাওয়া কোন মামলাটি বিচারাধীন বলে উপস্থাপন করা সঠিক তথ্যের উপস্থাপন নয়। বর্তমানে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিক খান মাইনউদ্দিন।

  • বরিশালে আদালতের নিষেদ না মেনে জোরপূর্বক জামি দখল, স্থাপনা নির্মান

    বরিশালে আদালতের নিষেদ না মেনে জোরপূর্বক জামি দখল, স্থাপনা নির্মান

    স্টাফ রির্টাপোর//রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

     

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খতিয়ান নং ৬১১ , ১৬৯ অনুযায়ী   ১৪ , ১৫ দাগের জমির মূল মালিক মো: ওসশান গনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা।

    কিন্তু কিছুদিন পূর্বে ঐ জমিটি অবৈধ ভাবে দখল নেয়মাহবুবুল হাসান ও মিজানুর রহমান। এবং জমির মালিক সহ আরও কয়েকজনের নামে মিথ্যা মামলা করে তাদের হয়রানি করার চেষ্টা করে। এর পরে কোন উপয়ন্তর না পেয়ে মো: ওসমান গনি বন্দর থানায় একটা মামলা করে।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জমি থেকে ক্যামেরায় রেজুয়ানুর রহমান সফেন

     

    এর পর আদালত থেকে নিষেদ করা সত্তেও ঐ জমিটি মাহবুবুল আলম ও মিজানুর রহমান আবার জমিটি দখল করে করে এবং  স্থাপনার কাজ শুরু করে।

    ঐ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বাংলার মুখ ২৪ ডট কম এর প্রতিবেদকে জানান,  মাহবুবুল হাসানের শশুর সাবেক কোর্ট ইনেস্পক্টর সুলতান মাহমুদ এর ক্ষমতায় এসব কাজ করছে।সাবেক কোর্ট ইনেস্পক্টর সুলতান মাহমুদ এর নামে এর পূর্বেও দৈনিক আজকের বার্তা সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও টনক নরেনি প্রশাশনের। সব কিছু উপেক্ষা করে এখনো জমিতে স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দখলকারীরা।

    
    
  • জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে সম্রাট-আরমান

    জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে সম্রাট-আরমান

    অস্ত্র ও মাদক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে র‍্যাব-১ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লায় সম্রাটের সঙ্গে আটক সহযোগী আরমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব।

    বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক এবং র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত

    তিনি বলেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে করা মামলা দুটি তদন্ত করবে র‍্যাব। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা থেকে গ্রেফতারের সময় সম্রাটের সঙ্গে ইয়াবাসহ গ্রেফতার আরমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার দেখানো-পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন অস্ত্র মামলায় পাঁচদিন ও মাদক মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাকে এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখান।

    ৯ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানো-পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে চিঠি দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।

    সম্রাট অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ বিষয় শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    ৮ অক্টোবর সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

    শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ বলেন, ‘সম্রাটের জন্য গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।’

    গত ৭ অক্টোবর রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো-পূর্বক ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরা আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও রিমান্ড শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    র‌্যাব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় এ মামলা দুটি করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল খালেক। এর মধ্যে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

    ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মিলছিল না সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর রাত থেকেই তার গ্রেফতার হওয়ার খবর এলেও পরদিন সকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরমানকেও আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

    ৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

  • বরিশালে পিপি ও সহকারী পিপি হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা

    বরিশালে পিপি ও সহকারী পিপি হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা

    স্টাফ রিপোর্টার :

    বরিশাল জেলায় দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে আইন কর্মকর্তা পিপি, এপিপি হিসাবে ১২৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জিপি পিপি মো. আবদুস সালাম মন্ডল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এ কে এম জাহাঙ্গীরকে।

    এছাড়া সহকারী পিপি ১২৯ জন। অপর দিকে মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান (মন্টু) সহকারী কৌঁসুলী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আনিছ উদ্দিন সহিদ, বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালত।

    অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা হচ্ছেন- মজিবর রহমান-২, দেলোয়ার হোসেন দিলু, সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলু, নাসির উদ্দিন খান, ফিরোজ মাহমুদ খান, এছাড়া বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. লষ্কর নুরুল হক, মো. মুনসুর আহমেদ, ফয়জুল হক ফয়েজ, মো. মামুন চৌধুরী, এ কে এম আমিনুল ইসলাম সেন্টু, ইসতিয়াক আহমেদ রুবেল, সামসুল আলম সেলিম, আবদুল হাই মাহবুব, মো. সাইফুল আলম গিয়াস, মো. নাসির উদ্দিন ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন মুন্সি, সবুর আহমেদ, এম এ জলিল, সালাউদ্দিন সিপু, দেবাশীষ দাস, এম ফয়েজুল হক, মো. শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মো. কাইয়ুম খান সরকার, মো. রফিকুল ইসলাম খোকন, দেবাশিষ রায়, খান ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সবুজ, মো. কবির সরদার, মো. সামসুজ্জামান নয়ন, সমির কুমার দত্ত, মো. নজরুল ইসলাম চুন্নু, এস এম রেজাউল হক মিলু, মাহমুদ হোসেন মাখন, মো. ফারুক মিরা, মাইনুল ইসলাম বাবুল, মো. সহিদ আজগর খান বাবুল,

    মো. মামুন অর রশিদ, মো. জামাল হোসেন, আসাদুজ্জামান কচি, উজ্জল কুমার রায়, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, মো. বেলায়েত হোসেন শরীফ হেলাল, মো. নাসির উদ্দিন মাঝি, নাজমা বেগম শিউলী, মো. আতিকুর রহমান রিয়াজ, মো. জসিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম রিমন, মো. আঃ খালেক মনা, মো. মিজানুর রহমান টিটু, মো. বশির আহমেদ সবুজ, মো. গোলাম আসেক কবির তুষার, এস এম ফেরদৌস রিপন, আসাদুজ্জামান ফিরোজ, দেবাজিৎ ঘোষ, মো. আবুল কালাম আজাদ-৪, মো. এ বি এম ফকর উদ্দিন,

    মুঈন উদ্দিন মাহাবুব আলম সিকদার, শংকর চন্দ্র ঘোষ, এইচ এম মিজানুর রহমান মিন্টু, উম্মে আসমা সেলি, এইচ এম মিজানুর রহমান পিকু, বাসব বড়াল, মো. আনোয়ার হোসেন মিজান, মো. মাইনুদ্দিনর ডিপটি, মো. ফাহাদ এম এ বাশার, মো. আতিকুর রহমান জুয়েল, সুমন চন্দ্র হালদার, মো. গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ নয়ন, মোসা, মোরসদা হক শিল্পী, মো. রবিউল ইসলাম রিপন, সুবিমল চন্দ্র দাস রিপন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, মো. মোস্তাফা জামাল খোকন সহ ১২৯ জনকে পিপি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া অতিরিক্ত সহকারী কৌঁসুলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৫ জনকে। এরা হচ্ছেন- স্বপন কুমার দত্ত, মজিবুর রহমান তালুকদার-২, মো. গোলাম কবির বাদল, বিপুল চন্দ্র রায়, মো. নিয়াজ মাহামুদ খান, কাজী মোসা. মঞ্জুরা বেগম, মোসা. হালিমা বেগম হেপী, বিটুল চন্দ্র সিংহ, মো. বাহাদুর শাহ, আশারাফী বেগম নিপা, রতন কুমার দাস, কমল দাস মুন্সি, মো. মাসুম খান, বিষ্ণু পদ মুখার্জী,

    সৈয়দ আজমল হোসেন চৌধুরী, সাঈদা নাসরিন, মো. হুমায়ুন কবির হিমু, সুভাস চন্দ্র নাথ, কামরুন নাহার তনু, বাসুবেদ খাসকেল, অসীম কুমার সাহা, বসুদেব দাস, দুলাল চন্দ্র শীল, তাবাসসুম আক্তার সিমকি।

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মকর্তা ধরা!

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মকর্তা ধরা!

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে ধনাঢ্য পরিবারের দুই মেয়েকে বিয়ে করায় মো. হাচিবুর রহমান ওরফে কাওছার মিয়া (১৯) নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব৮) সদস্যরা।

    বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে র‌্যাব-৮ (সিপিসি-১) এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্ব পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    আটক মো. হাচিবুর রহমান ওরফে কাওছার মিয়া (১৯) মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার দেউলী এলাকার খবির উদ্দিন মোল্লার ছেলে। তবে তার সহযোগী মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মকর্তা পরিচয়ধারী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সাইফুল নামে অপর প্রতারককে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাব-৮ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

    র‌্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক ব্রাক্ষণবাড়িয়ার গঙ্গাসার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে হাচিবুর আনুমানিক তিন মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. কাওছার মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে পটুয়াখালী সদরের উত্তর হাজিখালী গ্রামের ধনাঢ্য পরিবারের দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এছাড়া হাচিবুর বিয়ের সময় ঢাকায় ভাড়ায় বসবাসরত বিলাশবহুল ফ্ল্যাটকে নিজেদের ফ্ল্যাট হিসেবে দাবি করেন এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় তাদের নিজস্ব জমি রয়েছে বলে মেয়ে পক্ষকে ভুয়া কাগজপত্র দেখান।

    পাশাপাশি প্রতারক হাচিবুরের অপর সহযোগী মনিরুল নিজেকে মন্ত্রণালয়ের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই মেয়ের চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন এবং মোটা অংকের যৌতুক আদায় করেন। শুধু তাই নয়, হাচিবুর ও মনিরুল উভয়েই ওই এলাকার অনেককেই মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

    সর্বশেষ ৮-১০ দিন আগে এ দুই প্রতারক তাদের স্ত্রীদের কাছে থাকা সোনার গহনা ও ব্যবহৃত মোবাইল সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যান। এ সংক্রান্তে ভিকটিমদের পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং অভিযুক্ত প্রতারকদের আটকের ব্যাপারে র‌্যাবের সহযোগিতা কামনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদস্যরা সকালে পটুয়াখালী পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাচিবুরকে আটক করেন। আটকের পর তিনি প্রতারণার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

    হাচিবুর ও তার ভগ্নিপতি মনিরুল দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত আছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।