Category: প্রশাসন

  • যেখানে বাল্য বিবাহ দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন : অজিয়র রহমান

    যেখানে বাল্য বিবাহ দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন : অজিয়র রহমান

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দারিদ্র সিমায় বাস করা মানুষগুলোকে উপরে নিয়ে আসার জন্য আপনাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করছে। কারো কাজের দিকে না তাকিয়ে নিজের শক্তিকে ভাল কাজে লাগালে সহজেই দরিদ্রতা দূর করা সম্ভব।

    এসময় জেলা প্রশাসক ব্রাকের সহায়তায় অতি দারিদ্র থেকে স্বাবলম্বী হওয়া উঠান বৈঠকে মহিলাদের বলেন, শুধু খেয়াল রাখবেন আপনার সংসারে স্বামী সন্তানসহ কেহ যেন মাদকাশক্তিতে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তাহলে সেই সংসারে সুখ শান্তি থাকবে না।

    পাশাপাশি কোন প্রকার আপনারা সন্তানদের বাল্য বিবাহ দেবেন না। এবং যেখানে বাল্য বিবাহ দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান।

    অন্যদিকে দেশ জুড়ে অতি দারিদ্রতা নিরসনে ব্রাকের কার্যক্রমে প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনে সরকারের পাশাপাশি ব্রাকের আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকুন্দপট্রি এলাকায় ব্রাকের আয়োজনে এক উঠান বৈঠকে উক্ত গ্রামের মহিলারা ব্রাকের সহায়তায় গবাদী পশু পেয়ে অতি দারিদ্র থেকে স্বাবলম্ভি হওয়া মহিলাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। এবং সে সময় তিনি মহিলাদের গবাদী পশুর খামারগুলো পরিদর্শন করেন।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আরোয়ার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শোয়েব ফারুক, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন, বরিশাল জেলা ব্রাক প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র মন্ডল, জোনাল ম্যানেজার আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম মোঃ খাইরুল ইসলাম।

    এসময় ব্রাকের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে অবহিত করে বলেন, জাতীসংঘ এ বছরে দারিদ্র বিমোচন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে পরিবার শিশু, ও সমাজের ক্ষমতায়ন, সকলের অংশগ্রহনে দারিদ্র বিমোচন।

    তারই ধারাবাহিকতায় বরিশাল ব্রাকের আলট্রা পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগামের মাধ্যমে বরিশাল জেলাসহ ৪৩টি জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জেলায় আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশনের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৩ শত ৪৭ টি অতি দারিদ্র পরিবার ব্রাকের কর্মকর্তারা দারিদ্র দূরিকরনের কাজ করছে।

    এছাড়া ২০১৯ সালে জেলার আরো ৭ টি উপজেলার ২ হাজার ৪ শত ১৭টি অতি দরিদ্র পরিবার ব্রাকের এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছে।

  • ঝালকাঠিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় জেল জরিমানা

    ঝালকাঠিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় জেল জরিমানা

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

    ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে অভিযান চালিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় চার জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় চার জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধারসহ ৭১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

    জেলা মৎস্য বিভাগ রাইজিংবিডিকে জানান, সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালায়। এসময় ৫০ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধারসহ সুগন্ধা নদী থেকে ৫১ হাজার মিটার ও কাঁঠালিয়ার হলতা নদী থেকে ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও নদী থেকে জব্দ করা হয় ১৫টি মাছ ধরার নৌকা।

    আটক করা হয় চার জেলেকে। এদের তিনজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড ও একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. বশির গাজী। পরে জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

  • বরিশালে এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের অভিযোগ, মিলছে না সত্যতা !

    বরিশালে এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের অভিযোগ, মিলছে না সত্যতা !

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কোতোয়ালি থানার অফিসার এসআই মহিউদ্দিন (পিপিএম) এর বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে মাদক ও চোর চক্র। চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে বরিশাল নগরীর রূপাতলির হাউজিং এর মাদকের গডফাদার বাপ্পি ওরফে বাপ্পি মৃধার। এই বাপ্পিকে রুপাতলি হাউজিং এর বাপ্পি ওরফে র্যাব বাপ্পি হিসেবে স্থানীয়রা চেনেন। র্যাবের সোর্স পরিচয়ে বাপ্পি তার আধিপত্য বিস্তার করে বলে স্থানীয়রা তাকে এ উপাধি দিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পোষ্ট মাষ্টারের ছেলে সেই বাপ্পি মৃধার শেল্টালে হারিছ গ্রুপ ও বরিশালের আরও বড় কয়েকটি গ্রুপ এবার সংঘবদ্ধভাবে সাহসী পুলিশ অফিসার মহিউদ্দিনকে প্রতিহত করতে ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে।

    বিগত দিনের এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে। তখন চুরি মামলায় আটক হওয়া আত্মস্বীকৃত চোরদের নাম চার্জশীট থেকে বাদ না দেওয়ায় উল্টো মামলা খেয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মহিউদ্দিন।সেবছর ৮ ফেব্রুয়ারী বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন নগরীর রুপাতলী খান সড়ক এলাকার মৃত আবুল হাসেম মৃধার ছেলে মো: রিপন মৃধা। সরেজমিনে খোজ নিয়ে তখন জানা গিয়েছিল , ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে রুপাতলী সবুজ খানের বাড়ীতে চুরি মামলায় (জি আর ১৫১/১৬ ধারা-৪৫৪/৩৮০ দঃবিঃ) রিপন মৃধা, আফজাল, রিপন আকন আটক হয়। আদালতে ফৌঃকাঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক তারা চুরির ঘটনায় স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্ধি দেয় । সেখানে স্বর্ণ, টাকা চুরি ও ভাগাভাগির বিস্তারিত তথ্য তারা স্বীকার করে গ্রিল কেটে চুরির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়। ঐ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো: মহিউদ্দিন। আসামীরা তদন্তকালে চার্জশীট থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রলোভন সহ নানান ভাবে দাবী জানায়। কিন্তু এস আই মহিউদ্দিন তা বাদ না দিয়ে তাদের নামে চার্জশীট দিয়ে দেয় । মামলার চার্জসিট থেকে রিপন মৃধা নাম বাদ না দেয়ার কারনে তিনি দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এই মামলাটি দায়ের করে। তাই উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তাই তখন আদালতের কাঠগড়ায় দাড়িয়েছিলেন । এবং পরবর্তীকালে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং এসআই মহিউদ্দিন গভীর ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে সক্ষম হন।

    প্রায় একই ঘটনার পুঃনারাবৃত্তি হল ২০১৯ সালেও। গভীর অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে রুপাতলির ২৪ নং ওয়ার্ডের কথিত ইট-বালু ব্যাবসায়ী, চিন্হিত মাদকসেবি ও কারবারি হারিছুল ইসলাম (করাল) সুদীর্ঘদিন ধরে শহরে বীর দর্পে মাদকের চালান সরবরাহ করে আসছে। তবে এর মধ্যে (কারবারে) বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স হওয়া ও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে ম্যানেজ না করতে পারা। হারিছ মাদকসহ একাধিকবার আটক হলে একটি কুচক্রী মহলের বুদ্ধিতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও পুলিশের মহা পরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি সেল, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রায় উনিশটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপূর্ন। লিখিত অভিযোগে হারিছ গ্রুপ অভিযোগ করে যে, এসআই মহিউদ্দিন তার নিজের সরকারি অস্র ঠেকিয়ে তাদের ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছেন এবং মামলা দিয়ে অহেতুক হয়রানি করে চলেছেন। প্রায় দশজনের নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করলেও লিখিত ওই অভিযোগের কথিত নির্যাতিতদের সাথে যোগাযোগ করলে কোন প্রমাণ তারা দিতে পারেনি এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এবং তথ্যের বিভ্রান্তি পাওয়া যায়।

    আবার, হারিছ গ্রুপের পক্ষ থেকে যাদেরকে নির্যাতিত বলা হয়েছে তারা প্রায় সকলেই বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত ও মামলাপ্রাপ্ত বলে জানা গেছে।
    এ বিষয়ে অভিযোগকারী হারিছকে জানতে চাইলে তিনি বলেন ” এসআই মহিউদ্দিন আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা চায়। ভুক্তভোগী সবাই তার শিকার। ” একইসাথে হারিছ নিজেকে মাদকসেবি হিসেবে স্বীকারও করেন। তবে মাদক কারবারের কথা অস্বীকার করে।

    অভিযুক্ত হাউজিং এর বাপ্পি মৃধা বলেন ” এসআই মহিউদ্দিন একজন দাম্ভিক ও অহংকারী পুলিশ অফিসার। তিনি অভিযোগপত্রের সবাইকে অত্যাচার করেছেন। আর আমাকে তিনি মাদকের শেল্টারদাতা বলে আখ্যা করেছেন। অথচ আমার নামে কোন মাদক,সন্ত্রাস মামলা নাই। এসআই মহিউদ্দিনের অঢেল সম্পদ রয়েছে। ” হারিছ প্রসঙ্গে বাপ্পি স্বীকার করেন হারিছ মাদকসেবি তবে কারবারি বলে অস্বীকার করেন।

    এসআই মহিউদ্দিন জানান ” আমি আমার কর্তব্য ঠিকমত পালন করতে বাধ্য। আমি অভিযোগকারীদের হাতেনাতে আটক করি এবং বিভিন্ন অপরাধে মামলা দেই। বিভিন্ন মামলার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চার্জশিট দেয়াও শেষ। তাই এরা মিলে এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে প্রতিহত করতে চেষ্টা করছে। আর আমি কোনদিনই অবৈধ সম্পদের মালিক ছিলামনা। বাকিটা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও আমার সিনিয়র অফিসাররা তদন্ত করলে সব জানতে পারবেন।

  • দুই বস্তা ইলিশসহ জনতার হাতে আটক ৩ পুলিশ

    দুই বস্তা ইলিশসহ জনতার হাতে আটক ৩ পুলিশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ পরিবহনের সময় ৩ পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটককৃত পুলিশের এটিএসআই মন্টু হোসেন, কনস্টেবল সঞ্জিত সমাদ্দার ও কনস্টেবল হৃদয়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ।
    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের সদর হাসপাতালের সামনে দিয়ে ৪টি মোটরসাইকেলে ইলিশ মাছ নিয়ে যেতে দেখে মোটরসাইকেল আরোহীদের পিছু নেয় স্থানীয় জনতা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পুলিশ লাইন্সের সামনে তাদের গতিরোধ করে তল্লাশি করে ২টি মোটরসাইকেলে থাকা ২টি বস্তা ভর্তি অন্তত দুইশ ইলিশ মাছসহ পুলিশের তিন সদস্যকে আটক করে স্থানীরা।

    এসময় অপর ২ মোটরসাইকেলসহ বাকি সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। আটক পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন আটক হওয়া তিন পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেন।

  • বরিশালে নৌ-পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘন্টায় ৭২ জনকে কারাদন্ড

    বরিশালে নৌ-পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘন্টায় ৭২ জনকে কারাদন্ড

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    নৌ-পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় ২৪ ঘন্টায় ৭২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আজ নৌ-পুলিশ বরিশাল সার্কেল অফিস সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনা জেলার সকল থানা এবং ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬ অক্টোবর সকাল ৮ টা থেকে আজ ১৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত মা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান চালায় নৌ-পুলিশ। এতে ৭২ জন জেলে আটক করা হয়। যাদের এক বছরসক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

    এছাড়া, ১৭টি ট্রলার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৯ লাখ ৬৯ হাজার ২০০ মিটার জাল এবং ৭৭৭ কেজি মাছ।

    নৌ পুলিশ পরিদর্শক আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার কফিল উদ্দিন স্যারের নেতৃত্বে সব জায়গায় নৌ-পুলিশ ব্যপক অভিযান চালাচ্ছে। মা ইলিশ নিধনে যারা নদী-খালে জাল ফেলছেন তাদেরই আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

  • রিমান্ডের প্রথম দিনেই সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে পাঠাল ডিবি

    রিমান্ডের প্রথম দিনেই সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে পাঠাল ডিবি

    অনলাইন ডেস্ক:

    অস্ত্র ও মাদক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনেই যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা দুটি তদন্ত করবে র‍্যাব।

    এর আগে মঙ্গলবার সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

    শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন অস্ত্র মামলায় ৫ দিন ও মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাকে এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখান।

    ৯ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে চিঠি দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সম্রাট অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ বিষয় শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    ৮ অক্টোবর সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

    শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের জন্য গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

    গত ৭ অক্টোবর রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরা আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও রিমান্ড শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    র‌্যাব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় এ মামলা দুটি দায়ের করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক। এর মধ্যে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

    ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মিলছিল না সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর রাত থেকেই তার গ্রেফতার হওয়ার খবর এলেও পরদিন সকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরমানকেও আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

    ৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

  • ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। যা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার এবং বিচার বিভাগ। কিন্তু সেই মুহুর্তে সালিশ মিমাংসার নামে ধামা চাপা দেয়া হয়েছে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা। থানা পুলিশ এবং স্থানীয় মেম্বাররা মিলে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে দুই সন্তানের জনক কর্তৃক ধর্ষিত অসহায় কিশোরীর ইজ্জত।

    ঘটনাটি প্রায় এক মাস পূর্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বুসারের পিঠ নামক গ্রামের জনবিচ্ছিন্ন এক চরে ঘটেছে। যা নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না এলাকার অসহায় মানুষগুলো। কেননা ধর্ষণের ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার পেছনে খোদ থানার ওসি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান তিন মেম্বারের সম্পৃক্ততার কারণে মুখ বুজে আছে গ্রামবাসি। তাছাড়া সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা এক যুবককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে।

    কিন্তু মেয়ে এবং তার পরিবারের অভিযোগ ও প্রকাশ্যে এতসব ঘটার পরেও কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন অভিযুক্ত বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান। তার দাবী মেম্বাররা নিজেরা বাঁচতে পুলিশকে জড়াচ্ছে। আর অভিযুক্ত মেম্বাররা বলছেন যা কিছুই হয়েছে তার সব কিছু পুলিশের উপস্থিতিতেই হয়েছে।

    ধর্ষিতা ১৩ বছরের কিশোরী জানায়, ‘গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যে কোন বুধবার দুপুর দুইটার দিকের ঘটনা। কলস নিয়ে পানি আনতে ঘর থেকে বের হন কিশোরী। পথিমধ্যে ধান খেতে হালচাষে ব্যস্ত থাকা মুলাদী উপজেলার কাজীরচর এলাকার বাসিন্দা মৃত আর্শেদ হাওলাদারের ছেলে দুই সন্তানের জনক দুলাল হাওলাদার পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে তার পথরোধ করে।

    কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, ‘দুলাল পথরোধ করে পাশের পাট খেতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাত ধরে টানা হেচড়া করে। যেতে না চাইলে জোর করে কোলে তুলে পাঠ খেতের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। তখন কিশোরী চিৎকার দিলে পাশর্^বর্তী দুই যুবক ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পরেই শুরু হয় ধামা চাপা দেয়ার প্রক্রিয়া। তবে মেয়ের অসহায় পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এমনকি বিচারের দাবি নিয়ে মেয়ের মা ওই দিন মেয়েকে নিয়ে বাবুগঞ্জ থানায়ও যান। সেখানে হাজির হন বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বিএনপি নেতা জামাল হোসেন পুতুল, মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর সেলিম হাওলাদার, তার মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খান, মেয়ের চাচাত ভাই সেলিম হাওলাদার, স্থানীয় হারুন মাল ও নাসিরসহ বেশ কয়েকজন।

    মেয়ের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেনি। বরং আমাদের বিভিন্নভাবে ভয় ভিতি প্রদর্শন করে। ‘মামলা করলে কে চালাবে ? মামলা করলে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতাকেও জেলে যেতে হবে’ এ ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেন ওসি এবং মেম্বাররা। তাদের এসব কথা শুনে আমরা ভিতু হয়ে পড়ি।

    এক পর্যায় বাবুগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাটি ক্ষতিপূরনের মাধ্যমে মিমাংসা করে দিতে মেম্বার সহ স্থানীয়দের নির্দেশ দেন। এমনকি ক্ষতিপূরন বাবদ মেয়েকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে দেয়ার জন্যও মেম্বারদের নির্দেশনা দেন ওসি। কিন্তু ওসি’র বলে দেয়া ৫০ হাজার টাকা আমরা পাইনি। ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দিয়েছে। এমনকি তা ইসলামী ব্যাংক রহমতপুর শাখায় মেয়ের নামে একটি এফডিআর করে জমা দেয়া হয়েছে।

    মেয়ের বাবা-মা বলেন, ‘যে টাকা দিছে তা আমরা আমাদের হাত দিয়েও ধরিনি। যা করার মেম্বার এবং উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরাই করেছে। কিন্তু আমরা এই ক্ষতিপুরন চাইনি। আমরা চেয়েছি বিচার। এমনকি ক্ষতিপূরণ নয় বরং এই ঘটনায় আইনি বিচার দাবি করেছেন ধর্ষিতা কিশোরী।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ধর্ষক দুলাল হাওলাদার মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক এর ভায়রা। সেই সুবাদে আব্দুল মালেকের মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বার শামীম খানও ধর্ষকের আত্বীয়। তারা দু’জন বাবুগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জামাল হোসেন পুতুলকে সাথে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামা চাপা দেন।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র ১০ হাজার টাকায় মিমাংসার চেষ্টা চলছিলো। কিন্তু আমি জানার পরে ক্ষতিপুরনের পরিমান ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি। এমনকি ওই টাকা মেয়ের নামে ৩ বছরের একটি এফডিআর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছি। এফডিআর’র জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে তাও আমার নিজের পকেট থেকে দিয়েছি।

    ধর্ষণ সালিশ যোগ্য অপরাধ নয় এমনটি স্বীকার করে পুতুল মেম্বার বলেন, ‘সালিশের বিষয়টি থানায় বসেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওসি সাহেব সব নিজেই বলেছেন এটি সামাধান করে দিতে। কিন্তু তিনি যে ক্ষতিপুরনের কথা বলেছেন সেটা আদায় করে দেয়া সম্ভব হতো না। কারন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নিজেও গরিব। তাছাড়া মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আমি ধর্ষণের ঘটনার সালিশ করেছি। এটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আপনারা পারলে আমায় ধরেন।

    এদিকে ধর্ষক দুলালের ভায়রা সাবেক মেম্বার আব্দুল খালেক বলেন, ‘ওই ঘটনার কোন সালিশ হয়নি। এটি কোন ধর্ষণের ঘটনা না। দুলাল ধান খেতে চাষ করতে ছিলো। দুই ব্যক্তি তাকে ধান খেত থেকে ডেকে এনে মেয়ের পাশে দাড় করিয়ে ছবি তুলে মিথ্যা অপবাদ দেয়। এ খবর পেয়েই আমি সেখানে যাই।

    তিনি বলেন, আমি কোন অপরাধের পক্ষে নই। আমি ন্যায়ের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি সব সময়। তবে ধর্ষণের ঘটনাটি কেন টাকার বিনিময়ে ধামা চাপা দেয়া হলো এমন প্রশ্ন করা হলে কোন উত্তর না দিয়ে ব্যস্ততার কথা বলে পড়ে ফোন করবেন বলে এড়িয়ে যান সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক।

    অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এই থানায় নতুন এসেছি। এলাকা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সবকিছু জানতেও পারিনি। তাছাড়া যে ধর্ষণের ঘটনার নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে ধরনের কোন অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। আর আসলে অবশ্যই আমি মামলা নিতাম। কেননা ধর্ষণ বড় অপরাধ। এখানে সালিশ মিমাংসার কোন সুযোগ নেই।

    মেম্বার পুতুলের দেয়া বক্তব্যের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ওসি বলেন, ‘হতে পারে মেম্বাররাই সালিশ করে ধামা চাপা দিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে পুলিশের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। কেননা আমি এই ঘটনা আদৌ শুনিনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

    বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানাগেছে, ‘বর্তমান অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বাবুগঞ্জ থানায় যোগদান করেছেন গত ২ সেপ্টেম্বর। আর ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তিনি যোগদানের কয়েক দিনের মাথায় ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। তাই ঘটনাটি অস্বীকার করার পেছনে ওসি’র ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে ওসি’র বক্তব্য নেয়ার পর পরই নিউজ থামাতে শুরু হয় লবিং-তদবির। বাবুগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিউজ না করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ান ওসি মিজানুর রহমান।

    এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তার বিচার হবে। পুরো বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

  • ঝালকাঠিতে যৌথ অভিযানে ৪ জেলের জেল-জরিমানা

    ঝালকাঠিতে যৌথ অভিযানে ৪ জেলের জেল-জরিমানা

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরার সময় ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৭১ হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ ৫০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। এ সময় আটক করা হয়েছে চারজন জেলেকে। পরে তাদের জেল-জরিমানাও করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাত থেকে বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা পর্যন্ত এ অভিযান চালায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

    জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ অভিযানে জব্দ করা হয় ৭১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    যৌথ অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. বশির গাজী জানান, যৌথ অভিযানে সুগন্ধা নদী থেকে ৫১ হাজার মিটার ও কাঁঠালিয়ার হলতা নদী থেকে ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ ৫০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নদী থেকে ১৫টি মাছ ধরার নৌকাসহ আটক করা চার জেলেকে। পরে তাদের মধ্যে তিনজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড ও একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

  • বরিশালে চোরাই মোবাইলসহ আটক ২

    বরিশালে চোরাই মোবাইলসহ আটক ২

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল নগরীতে চোরাই মোবাইলসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নগরীর মুনসুর কোয়াটার এলাকা থেকে তাদের আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
    এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম।

    পুলিশ জানায়, গত ১০ আগষ্ট বিকালে ১৪নং ওয়ার্ডস্থ সিএন্ডবি রােডস্থ হাতেম আলী চৌমাথা সংলগ্ন সােহরাব ম্যানসনের ৩য় তলার ভাড়াটিয়া মোঃ মোসারেফ হোসেন নামে বিএম কলেজে অধ্যায়নরত এক কলেজ ছাত্রের ২২হাজার ৯৯০টাকা দামের HUAWEI nova 3i মডেলের মােবাইল ফোন (যার IMEI 1: 866524040147383, IMEI 2: 866524040175392) চুরি হয়। পরে কোতয়ালী মডেল থানায় একাটি সাধারন ডায়রী (জিডি) করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রাকিংএর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান জানতে পেরে তাদেরকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, নগরীর দফতরখানা এলাকার আলমগীর হায়দারের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৮) ও তার সহযোগী মুনসুর কোয়াটার এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকে ছেলে মনিরুল ইসলাম তপু (২৮)।

    কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মোবাইল চুরির অপরাধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় ওসি।

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে  ১২ মামলার পলাতক আসামি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে ১২ মামলার পলাতক আসামি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলা থেকে খুন ও ডাকাতিসহ ১২ মামলার পলাতক আসামি ডাকাত দোলোয়ার খানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় তার কাছ থেকে একটি একনালা বন্দুক-০১টি, ওয়ান শুটার গান-০১টি, ০৪ টি কার্তুজ ও ০২টি ধরালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    বুধবার বিকেলে বরিশাল র‌্যাব অফিস থেকে প্রেরিত এক ইমেল বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে তাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে ইন্দুরকানির দড়িরচর গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার দোলোয়ার খানের বিরুদ্ধে খুন, গুরুতর জখম, অপহরণ, ডাকাত ও চোরাচালানসহ ১২টি মামলা রয়েছে। এই মামলার চারটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তিনি এলাকায় অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন।

    গোয়েন্দা তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং এসময় একটি একনালা বন্দুক ০১টি, ওয়ান শুটার গান-০১টি, ০৪ টি কার্তুজ ও ০২টি ধরালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানায় র‌্যাবের ডিএডি মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।’