Category: প্রশাসন

  • পটুয়াখালী যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে দেওয়া হলো ‘বিক্রেতা’র জিম্মায়!

    পটুয়াখালী যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে দেওয়া হলো ‘বিক্রেতা’র জিম্মায়!

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

    তখন বয়স ১১ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। খালা একটি যৌনপল্লীতে বেচে দেন। প্রতি মাসে এসে বাবা টাকা নিয়ে যেতেন। গত মঙ্গলবার পালিয়ে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ বাবার হাতেই তাকে তুলে দিয়েছে। কোনো মামলা হয়নি।

    ১৭ বছরের মেয়েটি জানায়, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় খালা কলাপাড়ার বাড়ি থেকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে আসেন। এখানে খালার ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল; কিন্তু মেয়েটিকে বেচে সদর রোডের পতিতাপল্লীর পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর দালাল এসে ওকে খালার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। দালাল পৌঁছে দেয় পল্লীর সর্দার লিপি বেগমের কাছে। শিশু অবস্থায়ই তাকে যৌন কর্মে বাধ্য করেন তিনি। এক বছর পর মেয়েটি পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। তারপর মা-বাবা ওকে বিয়ে দেন। এক বছর স্বামীর সংসার করে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করলে বাবার বাড়ি ফিরে যেতে চায়; কিন্তু ওখানে ঠাঁই পায়নি। একপর্যায়ে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হতাশ হয়ে আবার পল্লীতে ফিরে আসে।

    এদিকে মেয়ে পল্লীতে চলে গেছে—এ খবর পেয়ে ওর বাবা প্রতি মাসে এসে ওর কাছ থেকে আট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যেতেন। এদিকে এই কাজে চরম অনীহা চলে আসে মেয়েটির। গত মঙ্গলবার রাতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেখতে যাবে বলে পল্লী থেকে বের হয়। সর্দারনি ওর সঙ্গে একজন রক্ষী দিয়ে দেন। সুযোগ বুঝে সে রাত ৯টায় লঞ্চঘাটের উদ্দেশে একটি রিকশা নিয়ে চলে যায়।

    এদিকে ওকে না পেয়ে রক্ষী তাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় গিয়ে তাকে ধরে ফেলে। আর পল্লীতে ফিরবে না বলে রক্ষীকে জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওর খালা, বাবা কিংবা ওই সর্দারনির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি, বরং পরিবারকে খবর দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাবা ও চাচার হাতে তুলে দেয়।

    পটুয়াখালী সদর থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ওকে পল্লীতে বিক্রির জন্য যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পরিবার ব্যবস্থা নেবে কি না, সে ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে আইনের সহায়তা চাইলে আমরা দেব।’

  • বরগুনায় মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

    বরগুনায় মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    বরগুনা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্রীকে মাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে বরিশালে আবাসিক হোটেল কক্ষে একাধিকবার ধর্ষণ করে জসিম নামের এক যুবক। ধর্ষণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই ধর্ষকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।

    বৃহস্পতিবার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ হাফিজুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে এজাহার রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামি হল বরগুনা জেলাধীন পাথরঘাটা উপজেলার বটতলা নাচনাপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ওই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন। তার মেয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে লেখাপড়া করে। কলেজে যাওয়া-আসার পথে ওই আসামি জসিমের সঙ্গে পরিচয় হয়ে প্রেমের সম্পর্ক হয়। জসিম তার মেয়েকে বলে তার মা (জসিমের মা) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তাকে এখনই রক্ত দিতে হবে। জসিম তার মেয়ের কাছে রক্তের গ্রুপ জানতে চায়। জসিম তার মেয়েকে বলে তোমার এবং আমার মায়ের রক্তের গ্রুপ এক। বরিশাল কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। জসিম বাদীর মেয়েকে বলে তার মাকে বাঁচাতে হলে এখনই বরিশাল যেতে হবে। জসিম বাদীর মেয়েকে নিয়ে ২ আগস্ট বরিশাল যায়। জসিম তার মেয়েকে নিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য প্রথমে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে। ওই দিন জসিম একাধিকবার ধর্ষণ করে।

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ কলেজছাত্র গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ কলেজছাত্র গ্রেফতার

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ ব্যবসায়ি কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে বরিশাল র‌্যাব-৮।

    থানার ডিউটি অফিসার এএসআই জাহিদুর রহমান জানান, বরিশাল র‌্যাব-৮ সদস্যরা সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দাসেরহাট এলাকা থেকে পারভেজ খলিফা (২০) কে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত পারভেজ মধ্য শিহিপাশা গ্রামের ফরিদ খলিফার ছেলে ও সরকারী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের ছাত্র।

    এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে র‌্যাব ডিএডি আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেন।

  • বরিশালে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আটক

    বরিশালে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আটক

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গিসংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে র‌্যাব-৮ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দিনগত রাতে মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সালাউদ্দিন কাওসার উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে।

    র‌্যাব জানায়, সালাউদ্দিন কাওসার দক্ষিণ কাজিরচর স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। তিনি স্থানীয় হার্ডওয়ার ও ইলেকট্রিক দোকানে কাজের পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে সুলতান নাসির উদ্দিন ওরফে নাসিরের সান্নিধ্যে জেএমবি কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হন। তিনি জেএমবির দাওয়াতি শাখার সদস্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মী সংগ্রহের কাজ করে আসছেন।

  • আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন।

    আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একদিন আগে (৫ অক্টোবর) শেরে বাংলা হলের ১৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা ফেসবুক গ্রুপে ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এ নির্দেশ দেন তিনি।

    ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ নামে ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আবরারকে মেরে বের করে দেয়ার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    গ্রুপটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হলের ১৫ ও ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জাগো নিউজের হাতে এ রকম কথোপথনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের চারটি স্কিনশর্ট এসেছে। ওই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে নেতাকর্মীদের কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেহেদি হাসান রবিন লিখেন, ‘১৭ এর আবরার ফাহাদ; ১৬তম ব্যাচকে ম্যানশন করে লিখেন, মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত@১৬; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনো বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুইদিন সময় দিলাম।’

    abrar-11

    রবিন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে আরও লিখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মনিরের সঙ্গে কথা বলিস। ও আরো কিছু ইনফো দিবে শিবির ইনভলমেন্টের ব্যাপারে।’

    ‘ওকে ভাই’ জবাব দেন ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির।

    রবিনের নির্দেশ পাওয়া পরদিন রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে মনির গ্রুপে লিখেন, ‘নিচে নাম সবাই’। এখানে উল্লেখ্য যে, মিজান আবরারের রুমমেট। এ ধরনের কথোপকথনের সূত্র ধরে মিজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

    ওই কথোপকথনের পরপরই রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় তানিম, বিল্লাহ, অভি, সাইফুল, রবিন, জিওন, অনিক। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর শেরেবাংলা হলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে।

    এরপর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা লিখেন, ‘আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?’ জবাবে শামসুল ও সজিব জানান, ‘২০১১ তে আছে।’ জানা গেছে ২০১১ কক্ষটি অমিত সাহার।

    ম্যাসেঞ্জারে অন্য আরেকটি ব্যক্তিগত কথোকথন পাওয়া গেছে, যা ছিল অমিত সাহা ও ইফতি মোশাররফ সকালের মধ্যে। এতে অমিত সাহা লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদ রে ধরছিলি তোরা’। ইফতি জবাবে লেখেন, হ। পুনরায় অমিত প্রশ্ন করেন ‘বের করছস?’ জবাবে ইফতি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’ এবার অমিত লিখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করা উচিত।’

    এরপর ইফতি জবাবে বলেন, ‘মরে যাচ্ছে; মাইর বেশি হয়ে গেছে’ জবাবে অমিত সাহা লিখেন, ‘ওওও. বাট তাকে তো লিগ্যাললি বের করা যায়’ এরপর একটি ইমোজি সেন্ড করেন ইফতি। পরবর্তীতে এই দুজনের আর কোনো কথোকথন পাওয়া যায়নি।

    abrar-22

    ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথনের প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমরা হত্যা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কথোপকথনের বিষয়টিও যাচাই-বাছাই চলছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত সাহা উপস্থিত ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে আবরার হত্যায় তার প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও পরোক্ষ দায়-দায়িত্ব রয়েছে। তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তা উঠে এসেছে।

    তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বলতে পারি, অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ঘটনাস্থলে থেকেও করতে পারে আবার ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। অনেক ঘটনায় দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যায় জড়িতরা কে, কি নামে, কোন দলের তা দেখা হবে না। আইনে সুযোগও নেই। কারো সামাজিক অবস্থানও তদন্তে আমলে নেয়া হচ্ছে না। ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করছে।

    আবরারের বাবার এজাহার দায়েরের আগেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ জনের নামে মামলা করার পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ জনকে মোট পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। এজাহারের পর খুবই দ্রুততার সাথে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মোট ১৬ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন হচ্ছেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন ও হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

    গ্রেফতারদের মধ্যে এজাহারবহির্ভূত চারজন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন রাফাত।। প্রাথমিক তদন্তে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

  • ভাটার খাল এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী মিথুনকে জেল হাজতে প্রেরণ

    ভাটার খাল এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী মিথুনকে জেল হাজতে প্রেরণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশাল নগরীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নগরির উত্তর সাগরদী ২৩ নং ওয়ার্ড ইসলাম পাড়া থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ ৬ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে। অভিযানের সময় ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত তিন আসামী পালিয়ে যায়।

    এঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মো. বশির আহম্মেদ মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

    আটকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় এজাহার ভুক্ত পালাতক ৩নং আসামী মো: মেহেদী হাসান মিথুন বুধবার বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক আনিচুর রহমান এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    মামলা সুত্রে জানাগেছে, নগরির উত্তর সাগরদী ২৩ নং ওয়ার্ডস্থ ইসলাম পাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ধান গবেষনা এলাকার আবুল কালাম শেখের ছেলে মো. সানজিদ শেখ , জর্ডন রোড এলাকার মকবুল আহম্মেদের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের সাথে থাকা আরো ৩জন পালিয়ে যায়। এরমধ্যে বুধবার আদালতে আত্মসমর্পন করেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মেহেদী হাসান মিথুন। মিথুন নগরির ১০ নং ওয়ার্ড সিএ্যান্ডবি স্ট্যাফ কোয়াটার মহিলা পুলিশ ব্যরাকের পেছনের এসএম আবুল কালাম আজাদের ছেলে। সে বেশ কয়েকদিন পূর্বে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসের ৩ ঠিকাদারকে চাঁদার দাবিতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

    জানা গেছে, এই বখাটে মিথুন এলাকায় দির্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছেন। মিথুন ইয়াবা ব্যবসার মূলহোতা বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা আরও জানায় তার কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সেবনকারী ও ব্যবসায়ীরা আসে।তিনি যুব সমাজের হাতে ইয়াবা দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই মামলার অপর আরো দুই আসামী এখনো পালাতক রয়েছে। এরা হলেন নগরির ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড রোডের মৃত আবুল কাশেম সিকদারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ও ভাটারখাল এলাকার মো. সগীর।

  • পরিবার চাইলে আবরার হত্যা মামলার আইনজীবী হবেন সুমন

    পরিবার চাইলে আবরার হত্যা মামলার আইনজীবী হবেন সুমন

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় তার পরিবার চাইলে আইনজীবী হিসেবে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

    বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) তিনি এ ঘোষণা দেন। সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, মামলায় তার পরিবার যদি আমার কাছে আসেন আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। এ মামলায় আমি বাদী হওয়ার সুযোগ নেই। আমি আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য যদি কোনোভাবে ওনারা আমাকে চান আমি অবশ্যই থাকবো।

    ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়া লাগবে। তাতে ছাত্রদের যে আশা, দ্রুত আসাসিমেদর ফাঁসি হওয়া, এতে আমার মনে হয় ছাত্ররা অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিচার দেখে যেতে পারবেন।

    ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় গ নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এ মামলায় দু’দিনে গ্রেফতার ১৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ১৩ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া বাকি তিনজনকে (ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং ফাহাদের রুমমেট মিজান ও তোহা) এখনও আদালতে হাজির করা হয়নি।

    বাকিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মুজাহিদুর রহমান ও মেহেদী হাসান রবিন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মো. আকাশ হোসেন (২১)।

    তবে এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, যুগ্ম-সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, ছাত্রলীগ সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান ও এহতেমামুল রহমান রাব্বিকে বহিষ্কার করেছে।

  • আবরারের ভাবিকে টানাহেঁচড়া ও পিটিয়ে জখম করল পুলিশ

    আবরারের ভাবিকে টানাহেঁচড়া ও পিটিয়ে জখম করল পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে

    পুলিশ মারধর করে এবং আবরারের মামাতো ভাবি তমাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করে আবরারের পরিবার। তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ সব ঘটনা ঘটে।

    আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ বলেন, পুলিশ আমার গায়ে হাত দিয়েছে। বুকে গুতো মেরেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আমাকে মেরেছে। আমার এক ভাইকে পিটিয়ে মেরেছে, এবার পুলিশ কী আমাকে মারবে?

    আহত অবস্থায় ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভিসি স্যারের নিকট জানতে চাইলাম আমার ভাইয়ার খুনিদের এখনও কেন বহিষ্কার করা হয়নি। এ সময় তিনি নীরব ছিলেন, আমি আমার ভাইয়ের হত্যা সম্পর্কে আরও প্রশ্ন করতেই তিনি কোনো জবাব না দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার মুহূর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সপুার মোস্তাফিজুর রহমান আমার বুকের উপর হাত দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন। এতে আমি মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছি।

    তিনি বলেন, আমার মামাতো ভাবিকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং এলাকাবাসীকে ধরপাকর করা হবে বলে পুলিশ হুমকি প্রদর্শন করায় আমরা আতংকে আছি।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, আমার ভাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে আর আমাদের পুলিশ হুমকি দিচ্ছে। প্রয়োজনে আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

    অন্যদিকে বুয়েটের ভিসি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিহত আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ।তিনি বলেন, ভিসি মহোদয় সম্মানীয় ব্যক্তি তিনি আমার বাড়ির দরজায় এসে ঘরে না ঢুকে কেন চলে গেলেন। তিনি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমার ছেলের লাশ দেখাতো দূরের কথা ছেলের জানাজা নামাজেও শরীক না হয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, আমরা এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। ভিসি মহোদয় বাড়িতে আসবেন শুনে এলাকাবাসী দারুন খুশি হয়েছিল। এলাকাবাসী ভিসির নিকট ফাহাদের খুনিদের শাস্তির দাবি জানাতে বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। সেখানে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিল তার পরও তিনি আমার সঙ্গে ও ফাহাদের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে চলে গেলেন এতে আমার পরিবার দারুণভাবে মর্মাহত।

    ফাহাদের পিতা বলেন, ভিসি চলে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমার ছেলে আবরার ফাইয়াজের বুকে আঘাত করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ফাহাদের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পুলিশ নির্দয়ভাবে প্রহার করে আহত করেছে।

  • ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা : বরিশালে ১৬ জেলের কারাদণ্ড

    ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা : বরিশালে ১৬ জেলের কারাদণ্ড

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই বরিশাল বিভাগে ১৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় দেড় টন মা ইলিশ।

    এ দিকে, মৎস্য অধিদপ্তর দাবি করেছে, প্রথম দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নদীতে নিষেধাজ্ঞা অনেকাংশেই কার্যকর হয়েছে।

    কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক জানান, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই বিভাগের ১৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে ১৯টি। এছাড়া ৫৫ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে এক দশমিক ৬৯৯ মেট্রিক টন ইলিশ।

    এ দিকে, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন বুধবার ভোরে বরিশালের ইলিশ মোকামে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম থেকে ৪০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ইলিশ বিক্রয়ের দায়ে জাকির হোসেন জাহিদ নামে ওই বাজারের এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসেন।

    এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, অভিযানে তারা তিনজনকে আটক করেছেন। এছাড়া ইলিশ বিক্রয়ের দায়ে অর্থদণ্ড করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ৬০ কেজি ইলিশ। এ সময় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে নৌবাহিনীর টহল টিমের কারণে নদীতে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে পালন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • যুবকের হাত-পা বেঁধে মলমূত্র খাওয়ানো যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    যুবকের হাত-পা বেঁধে মলমূত্র খাওয়ানো যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    বরিশালের হিজলা উপজেলায় আজম ব্যাপারী (২৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার দুপুরে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার (৪৫) তার সহযোগী টুমচর এলাকার রশিদ মাতব্বর (৩৬) ও কবির হোসেন (৩৬)।

    তবে ঘটনার নেপথ্যে থাকা নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির খান ও মল-মূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য ধারণকারী মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারী হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম ব্যাপারী।

    স্থানীয়রা জানান, জহির খান ও আজম ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন।

    জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।

    সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। জহির এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি করেন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইয়নিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী আটদিন আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন তারা। এরপর আজমের হাত-পা চেপে ধরেন মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা।

    এ সময় মাহবুব সিকদার বদনাভর্তি মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে তা খাওয়ান। মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

    সোমবার মল-মূত্র খাওয়ানোর ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেন তারা। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম ব্যাপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান।

    সোমবার রাতে বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আসলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হিজলা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে হিজলা থানা পুলিশ অভিযানে নামে। দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগ নেতা মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আজম ব্যাপারীর স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়ে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আইন আদালতে গেলে আজমকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হবে।

    আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে অবস্থান করা আজমের জন্য নিরাপদ ছিল না। জহির টাকা দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখন তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে এলাকায় নানা কথা রটাচ্ছে।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। যত বিরোধই থাকুক এভাবে কেউ কাউকে অপমানিত করতে পারে, ভাবা যায় না। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।