Category: প্রশাসন

  • অবশেষে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগ নেতা আটক

    অবশেষে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগ নেতা আটক

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি আরমানকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    রোববার (৬ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর থেকে তাদের আটক করা হয়।

    ক্যাসিনোকাণ্ডে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও আরমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের মুখপাত্র সারওয়ার-বিন-কাশেম।

    ক্যাসিনো চালানো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজধানীর মতিঝিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারি দফতর, ক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি আরমান।

    অভিযোগ রয়েছে, মতিঝিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় যেসব ক্লাব রয়েছে, তাতে ক্যাসিনোসহ প্রতিদিন চলতো জুয়া। এসব ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট। সরকারি বিভিন্ন দফতর ও ভবনের টেন্ডারও তার নিয়ন্ত্রণে। এই এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কার পার্কিং থেকেও প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদা ঢোকে সম্রাটের পকেটে। এ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে সম্রাটের লোকজন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকেই সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল সম্রাট।

  • বরিশালে অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ৩ আড়ত মালিককে জরিমানা

    বরিশালে অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ৩ আড়ত মালিককে জরিমানা

    বরিশালে সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে ৩ আড়তদারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

    বুধবার (০২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চক বাজার সংলগ্ন পেঁয়াজ পট্টিতে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান সরকার ও মনীষা আহমেদ।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া ও বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার এসআই বশির আহমেদ এর নেতৃত্বাধিন একটি টিম সহযোগিতা করেন।

    বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পেঁয়াজ পট্টির ১২টি আড়ৎ মনিটরিং করেন তারা।

    এসময় তিনটি পেঁয়াজের আড়তে মূল্য তালিকার সাথে বিক্রয়ের মিল পাওয়া যায়নি। তাছাড়া সরকারি মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছিলো। তাই হাটখোলার বাংলা আড়ৎ এর নান্নু হোসেনকে ৫ হাজার টাকা, রিয়াদ এন্টারপ্রাইজের লিটন মৃধাকে ৫ হাজার ও শিকদার বানিজ্যালয়ের রাম প্রসাদকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় ও দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের ট্রাফিক ক্যাম্পেইন

    ঝালকাঠিতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় ও দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের ট্রাফিক ক্যাম্পেইন

    ঝালকাঠী প্রতিনিধি:

    ঝালকাঠিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের ট্রাফিক আইন সচেতনতামূলক ট্রাফিক ক্যাম্পেইন সহ ট্রাফিক সচেতনতায় মহাসড়কে জেলা পুলিশের ট্রাফিক অভিযান।

    বুধবার (২ অক্টোবর) সকালে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে গাবখান ব্রীজের পূর্বপাড়স্থ ঢালে টোলঘর সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাফিক সচেতনতায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ।

    এ সময় বিভিন্ন ধরনের হাল্কা ও ভারী যানবাহনসহ নানা প্রকার যানবাহন চেক সহ চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। যাদের কাছে গাড়ী চালনায় প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের বৈধতা পাওয়া যায় তাদের সকলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। একদিকে যেমন বৈধ কাগজ পত্র ব্যবহারকারী চালকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তেমনি হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালক ও কাগজপত্র বিহীন অন্যান্য চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত মামলা দিয়ে সতর্ক করেন।

    চলমান অভিযানের সময় জেলা পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন তার বক্তব্যে বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মানতে মানুষকে সচেতন করার করার লক্ষ্যে আমরা এই অভিযান চালাচ্ছি। ঝালকাঠি জেলাকে দুর্ঘটনামুক্ত বিশেষ করে সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে আমাদের এ কার্যক্রম চলছে। আর দূর্ঘটনা এড়াতে ও সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু যেন ঝালকাঠিতে না হয় এজন্যই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এছাড়াও দূর্গাপূজায় মোটর বাইক নিয়ে রোমিওদের উৎপাত রোধ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করারও ঘোষণা দেন তিনি।

    জেলা পুলিশের আয়োজিত এ অভিযানে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি (অপারেশন) মুরাদ আলী, জেলা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মামুন বাশার, হাবিবুর রহমান, আদেল আকবর, সার্জেন্ট শামসুদ্দিন, আতিকুর রহমান, মেহেদি হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে ব্যবসায়ীর হারিয়ে যাওয়া টাকা পাইয়ে দিলো ট্রাফিক পুলিশ

    বরিশালে ব্যবসায়ীর হারিয়ে যাওয়া টাকা পাইয়ে দিলো ট্রাফিক পুলিশ

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    ব্যবসায়ীর হারিয়ে যাওয়া প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা, ব্যাংক চেক ও এটিএম কার্ডসহ জরুরী কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক সদস্য।

    বুধবার (০২ অক্টোবর) এর এ ঘটনায় তার এ সততার পরিচয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তুষ্ট হয়েছেন। পাশাপাশি খোয়া যাওয়া টাকাসহ সকলকিছু ফিরে পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) মোঃ ইউসুফ জানান, তিনি বুধবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দরোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় সেখান নতুল্লাবাদ থেকে একটি অটোরিক্সা এসে থামে। যে অটোরিক্সা থেকে একজন বৃদ্ধ লোক নামার সাথে সাথে একটি ওয়ান টাইম ব্যবহারযোগ্য টিস্যুর প্লাষ্টিকের ব্যাগ পড়ে যায়।  পাশের এক চায়ের দোকানদার ব্যাগটি ওই বৃদ্ধর কিনা জানতে চাইলে, তিনি তার না বলে জানিয়ে চলে যান। এরপর অপর একটি লোক ব্যাগটি হাতে নিয়ে দেখেন এবং কৌশলে চলে যেতে থাকেন।  বিষয়টি সন্দেহ হলে চায়ের দোকানদারকে সাথে নিয়ে ওই লোকটিকে আটকে ব্যাগটি দেখতে চাই।  যে ব্যাগটি খুলে তার ভেতর জরুরী কিছু কাগজপত্র, ব্যাংকের দুটি চেক, দুটি এটিএম কার্ড ও নগদ ৪৬ হাজার ৫০২ টাকা পাওয়া যায়। সাথে সাথে আমি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং ওই ব্যাগের মধ্যে থাকা একটি ক্যাশম্যামোর সহায়তায় প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাই।

    ব্যাগের প্রকৃত মালিক নগরের কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাবুব সিকদার জানান, তিনি ভাড়ায় চালিত গাড়ির ব্যবসা করেন।  তিনি সকাল নগরের নতুল্লাবাদ থেকে অটোরিক্সায় সিএন্ডবি ১ নম্বর পুল এলাকায় যান। সেখানে তিনি একটি অফিসে দুটি গাড়ির টিকিট পৌছাতে গিয়ে দেখেন তার পকেটে থাকা টিস্যুর ব্যাগটি নেই।  যে ব্যাগটিতে নগদ ৪৬ হাজার ৫০২ টাকা, ব্যাংকের দুটি চেক, দুটি এটিএমকার্ডসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র রয়েছে। এরপর তিনি সেখান থেকে নেমে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোজাখুজি করেন কিন্তু কোথায় না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এরকিছুক্ষন পরই এক পুলিশ সদস্য ফোন করে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে ব্যাগটি পাওয়ার বিষয় জানায়। পরে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ব্যাগটি বুঝে পেয়েছি।

    তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কার্ডদুটিতে ব্যবসায়ীক কাজের প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিলো, চেক দুটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে ফিরে পাবেন কখনো ভাবেননি।

    এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ খায়রুল আলম বলেন, পুলিশ যে স্বচ্ছ ও সততার সহিত তার দায়িত্ব পালন করছে এটাই তার প্রমান। আশাকরি এ ধরনের ঘটনা আমাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস স্থাপনের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতে চরমোনাই পীরের ছেলেসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতে চরমোনাই পীরের ছেলেসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    এমএলএম কোম্পানির নামে গ্রাহকদের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফাঁসলেন চরমোনাইয়ের পীরের ছেলেসহ ৫ জন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শেষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    সোমবার প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকে ওই চার্জশিট অনুমোদন দেয় কমিশন। তাই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চার্জশিট আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করবেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মালটিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি এইমওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও চরমোনাইয়ের মরহুম পীরের ছেলে সাইয়েদ রিদওয়ান বিন ইসহাকসহ চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- এইমওয়ে করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, এইমওয়ের পরিচালক (অর্থ) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মশিউর রহমান এবং এইমওয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম সালাউদ্দিন।

    দুদক সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশব্যাপী তৎপর ছিল এইমওয়ে করপোরেশন লিমিটেড। প্রতিদিন চল্লিশ হাজার থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের অভাবনীয় প্রস্তাব প্রচার করে সিলভার, প্লাটিনাম, গোল্ড ও ডায়মন্ডের নামে কয়েক লাখ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা প্রতারিত/ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে মাথাপিছু পাঁচ হাজার থেকে ত্রিশ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেন। আর এসব টাকা জোগাড় করতে গ্রাহকদের অনেকেই তাদের মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করেন বলেও দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে। এছাড়াও তারা আলোর দিশারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার সদস্যদের হিসাব থেকেও লাভজনক বিনিয়োগের কথা বলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

    আসামিরা প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৯ টাকা স্থানান্তরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এছাড়া কথিত হারবাল পণ্য বিপণন করে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জমা এবং পরবর্তী সময়ে তা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। পরে তারা আরও ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৬ টাকা আত্মসাৎ করেন এইমওয়ে নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করে বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

    দুদক সূত্র আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপর অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং- ২০) দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক শেখ আব্দুস ছালামের প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে মামলার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। খুব শিগগিরই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০০৯ এর ৪(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪(২) (৩) ধারায় মামলাটির চার্জশিটটি মহামান্য আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করা হবে।

  • মাদক মামলায় ১ ব্যক্তির ৮ বছরের কারাদন্ড

    মাদক মামলায় ১ ব্যক্তির ৮ বছরের কারাদন্ড

    মাদক মামলায় গৌরনদীর টুটুল হওলাদারকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম ওই রায় প্রদান করেন।

    রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের এসআই ফিরোজ কবির ২০১৮ সনের ২৭ ফেব্রুয়ারি গৌরনদীর বাসন্ডার কটকস্থলে অভিযান চালিয়ে আসামির কাছ থেকে ১৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।

    ২০১৮ সনের ২৬ মার্চ মামলার চার্জশিট দেন গৌরনদী থানার এসআই আলমগীর হোসেন। আদালতে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি টুটুল হাওলাদার ওরফে হৃদয়কে ৮ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • বরিশালে ৩শ’ পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতা আটক

    বরিশালে ৩শ’ পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতা আটক

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের হিজলা ৩ শত পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দুর্গারপুর ভাই ভাই ষ্টানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

    আটককৃতরা হলো- খুন্না গবিন্দপুর গ্রামের মনির হোসেন মিয়ার ছেলে মো: রাসেল ওরফে জনি মিয়া (২৬), মুলাদীর তের চর গ্রামের মৃত সামসুল মোল্লার ছেলে মো: ফেরদৌস মোল্লা (২৬) ও আন্দারমানি ৩নং ওয়ার্ডের আবদুল মালেক খানের ছেলে মো: সুমন খান (২০)।

    পুলিশ জানায়, রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়াবা বিক্রির সময় হিজলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার এর নেতৃত্বে এসআই ফারুক হোসেন খান, এএসআই নাসির মিয়া সহ একটি পুলিশ টিম তাদের দুর্গারপুর ভাই ভাই ষ্টানের সামনে থেকে আটক করেন। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩শ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ অসীম কুমার সিকদার বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে ৩শত পিচ ইয়াবাসহ ৩ মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে।

  • বরিশালে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বখাটে গ্রেফতার

    বরিশালে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বখাটে গ্রেফতার

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশালের গৌরনদীতে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এনামুল শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করা হয়। এনামুল উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরোয়ার শেখের ছেলে।

    জানা যায়, অভিযুক্ত এনামুল কয়েক মাস ধরে চন্দ্রহার আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রায়ই মেয়েটির পথরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে হয়রানি করতো সে।

    পরে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করলেও গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়েটি পরীক্ষা দিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রহার পল্লীবিদ্যুৎ সাব-ষ্টেশনের কাছে বখাটে এনামুল শেখ তার পথরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে ও কু-প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি এর প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জেনে মেয়েটির বাবা বখাটের অভিভাবকের কাছে বিচার দাবি করেন। এতে বখাটে এনামুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও হুমকি দেয়।

    গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, উত্ত্যক্তের ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এনামুল শেখকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে, এনামুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    চন্দ্রহার আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এনামুল বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নষ্ট করতো। তাকে একাধিকবার ভালো হওয়ার সুযোগ দিলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে, গত বছর তাকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়।

  • মাদক নিয়ন্ত্রণে একাট্টা বরিশাল পুলিশ

    মাদক নিয়ন্ত্রণে একাট্টা বরিশাল পুলিশ

    বরিশাল বাংলার ভেনিস নামে পরিচিত। প্রাচীন যুগ থেকেই বরিশাল শিক্ষা, শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্যসহ নানা দিক থেকে সমৃদ্ধ। সমৃদ্ধ এই বরিশালকে আরও উন্নত করতে ২০০২ সালের ২৫ জুলাই সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়। ৫ লাখ মানুষের বসবাসকৃত নগরীতে নেশার রাজত্ব চালাতে মাদক ব্যবসায়ীরা সর্বদাই তৎপর ছিলো, এখনও আছে।

    এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে খুব সহজেই বরিশাল নগরীতে মাদকের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মরণ নেশার মাদক ইয়াবা নগরীতে এরই  মধ্যে সবচাইতে ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে। যদিও ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল নগরীকে সকল অপরাধ থেকে মুক্ত রাখতে গঠন করা হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    মাদকের ভয়াবহতা যখন চরম পর্যায়ে এমন এক পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. শাহাবুদ্দিন খান। যোগদানের পরই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন তিনি। তার এই যুদ্ধের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে চলছে মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন সবচেয়ে বড় থানা কোতোয়ালি মডেল থানা। এই থানা সব সময়ই বরিশাল নগরীকে নিরাপদ রাখতে কঠোর ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকা গঠনের পর চলতি বছর মাদকের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বছরের শুরুতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ২০ হাজার ও ২ হাজার ৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। মাদকের বড় এ তিন অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়। মেট্রোপলিটন এলাকা গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এত পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। বর্তমান পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানের দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম (পিপিএম) এর কারিশমায় এসআই সমীরণের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি বড় মাদকের চালানসহ ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

    মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সফল অভিযানে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তাদের অভিমত, মাদকের এতো বড় বড় সফল অভিযান এর আগে কোনোদিন বাস্তবায়ন হয়নি। পুলিশকে অভিনন্দন জানাই। এভাবে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকলে বরিশাল সুন্দর নগরীতে পরিণত হবে। পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকায় এসআই সমীরণ মন্ডলের মাদক উদ্ধারে সাফল্য দেখে মাদক ব্যবসায়ীরা আতংকে রয়েছে বলেও জানান তারা। অনেকের ভাষায় মাদক ব্যবসায়ীরা বর্তমানে এসআই সমীরণ মন্ডলের আতংকে রয়েছে।

    অপরদিকে শহরের ক্লাবগুলোতে অঘোষিত জুয়ার আসর ও মাদক বিরোধী অভিযানে গতি বাড়িয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত কয়েক দিনে পুলিশের অভিযানে পৃথক স্থান থেকে ১৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের নাজিরের পোল এলাকার নবজাগরণ ক্লাবে কোতোয়ালি পুলিশের উদ্ধার অভিযানে গাঁজাসহ ৫ জন আটকের পর অনেক অপরাধী গা-ঢাকা দিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক অভিযাত ক্লাব জুয়া ও মাদকের আসর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র জানায়, সাম্প্রতিককালে কোতোয়ালি পুলিশের অভিযানে ইয়াবার বড় দুটি চালানসহ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হওয়ায় মাদক সরবরাহ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

    মাদক উদ্ধার অভিযানে কোতোয়ালি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলামেরও রয়েছে কৌশলী ভূমিকা। মূলত কমিশনারের নির্দেশনার আলোকে এই পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ের অফিসারদের মাদক উদ্ধার অভিযানের পথ বাতলে দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে মাঠ পর্যায়ে মাদক উদ্ধারে সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরছেন এসআই সমীরণ মন্ডল। যদিও কোতোয়ালি পুলিশের এসআই, এএসআই মর্যাদার অধিকাংশ কর্মকর্তারাই এখন মাদক উদ্ধার অভিযানে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।

    কিন্তু এসআই সমীরণের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এখানেই, চৌকস এই পুলিশ কর্মকর্তা ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারে যে সফলতা দেখিয়েছেন তাতে তিনি প্রশংসার দাবি রাখেন। অবশ্য এই সফলতার জন্য এসআই সমীরণকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সম্মাননা ক্রেস্টসহ পুরস্কৃত করেছেন। বরিশাল পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৫ বছরের মধ্যে এবারেই বরিশালে নজিরবিহীন মাদক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং ৬ শতাধিক মামলা দিয়েছে পুলিশ। বছর শেষে তা ১ হাজারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছে কোতোয়ালি পুলিশ।

    কোতোয়ালি মডেল থানা গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বছরে ৫শ’র বেশি মাদক মামলা হয়নি। এক্ষেত্রে মাদক উদ্ধারে কোতোয়ালি পুলিশের তৎপরতা যে বেড়ে গেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব মামলায় অধিকাংশ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে কারান্তরীণ রয়েছে। ফলে বর্তমানে বরিশালে মাদকের বিস্তার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু এখনও পুলিশ তৎপর। কারণ পুলিশ কমিশনার মাদক নিয়ে পুরোপুরি হার্ডলাইনে রয়েছেন।

    এমনকি মাদক উদ্ধারে প্রতিদিন ৪টি থানা সংশ্লিষ্ট অফিসারদের মাদক উদ্ধার অভিযানে নামার নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বাগে আনতে কৌশলও শিখিয়ে দিচ্ছেন। এই মাদক বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকলেও কোনো ধরনের ছাড় না দিতেও থানাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান। মূলত পুলিশ কমিশনারের এই নির্দেশনার পরপরই মাদক উদ্ধারে বরিশাল পুলিশের গতি যেন কয়েকগুণ বাড়লো।

    এত কঠোরতার মধ্যেও নগরীতে মাদক সরবরাহ করছে কিছু মাদক ব্যবসায়ী। বর্তমানে এসকল মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে একাট্টা রয়েছে বরিশাল পুলিশ। জানাগেছে, পুলিশ কমিশনার ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    যে কারণে পুলিশ সদস্যরাও মাদক উদ্ধার অভিযানে বিতর্ক এড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিককালে ডিবি পুলিশের একটি টিম মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বিতর্কে জড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। শাস্তিস্বরূপ ওই টিমের ৬ সদস্যকে আপাতত আভিযানিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবারও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে আড়াইশ পিস ইয়াবাসহ আটক করে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল নগরী থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃত দুই পুলিশ সদস্যই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে পিওএম শাখায় কর্মরত ছিলেন। বরিশাল পুলিশ কমিশনার কঠোর অবস্থায় থাকার কারণে মাদকে জড়িত পুলিশ সদস্যরাও কোনোরূপ ছাড় পাচ্ছেন না বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, ব্যক্তি পুলিশের অপরাধের দায় গোটা পুলিশ বিভাগ নিতে নারাজ। এই কারণেই মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ কমিশনার তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। ফলে মাদক উদ্ধার অভিযান ব্যবসায়ীদের যতটা আতংকে রাখছে তদুপরি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারাও আতংকিত।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, বছরের শুরুতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং সমসাময়িক সময়ে চরমোনাই থেকে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নান্টুসহ দুই জনকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগরীর গোরস্থান রোড এলাকা থেকে আড়াই হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে নারীসহ দুই জনকে গ্রেপ্তারের পর মাদক উদ্ধার অভিযান জোরালো হয়েছে। প্রতিনিয়ত দু-চারটি মাদক মামলা গ্রহণের পাশাপাশি অনেক চিহ্নিত ব্যবসায়ীদের লাগামও টেনে ধরা হচ্ছে।

    এছাড়া নগরীর ক্লাবগুলোতে জুয়া ও মাদকের আসর বন্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমানতরাল ভাবে মাদক উদ্ধারে ডিবি পুলিশও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এই বাহিনীর মাদক উদ্ধার অভিযানের পরিসংখ্যান এমনটাই তথ্য দিয়েছে।

    সবকিছু মিলিয়ে বরিশাল পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানে পর্যবেক্ষক মহল পুলিশের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অবশ্য পুলিশের এই তৎপরতার কারণে শীর্ষ কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন খানকে সাধুবাদও জানিয়েছেন।

    তাদের প্রত্যাশা মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পটুয়াখালীতে বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে বর-কনের বাবা ও কাজী আটক

    পটুয়াখালীতে বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে বর-কনের বাবা ও কাজী আটক

    অনলাইন ডেস্ক :

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর সময় বর, কনের বাবা ও কাজীকে আটক করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৬ সে‌প্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে পৌর শহরের পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ থেকে তাদের আটক করা হয়।
    উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আবু ইউসুফ মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল ইসলামের (২৭) সঙ্গে একই গ্রামের ইসমাইল মোল্লার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর (১৪) বিয়ে ঠিক হয়।

    বৃহস্পতিবার আসর বাদ পৌর শহরের বাংলাবাজার সংলগ্ন পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদে বিয়ে পড়ানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে বর মঞ্জুরুল, কনের বাবা ইসমাইল মোল্লা ও কাজী শাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

    বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।