Category: প্রশাসন

  • কাউনিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী মুন্নির দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, নিরব প্রশাসন

    কাউনিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী মুন্নির দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, নিরব প্রশাসন

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    মাদক ব্যবসায়ী মুন্নির দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানার সরদার সড়ক এলাকার কয়েকহাজার বাসিন্দা। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। শেষপর্যন্ত মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বার হুশিয়ারী দিয়ে খানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও নিবর দর্শকের ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। তাদের অভিযোগ, বিক্রির জন্য কারবারিদের ইয়াবা ও গাঁজার যোগান দিচ্ছে পুলিশের কোনো কোনো সদস্য।

    কাউনিয়া থানার এই এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার কারবার এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সকাল সন্ধ্যা মাদকসেবীদের যন্ত্রণায় এলাকায় নারীরা বের হতে পারছেনা। এবং নানা সময় অপ্রিতিকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন তারা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে তথ্য দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়না থানা পুলিশ। এসময়, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের আঁতাতের অভিযোগও করেন তারা।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মুন্নিকে একাধিক বার উচ্ছেদ করে মাদক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবু মুন্নি গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

    মাদক ব্যবসায়ীদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান ওসি।”

  • অপ-সাংবাদিকতা যেন গ্রাস না করে সেদিকে লক্ষ রাখার আহবান পুলিশ কমিশনারের

    অপ-সাংবাদিকতা যেন গ্রাস না করে সেদিকে লক্ষ রাখার আহবান পুলিশ কমিশনারের

    বরিশালে বর্ণ্যাঢ্য আয়োজনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিজয় নিউজ ডট কমের শুভ উদ্বোধন সহ বিজয় নিউজের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি ও বরিশাল প্রেস ক্লাব সভাপতি সম্পাদক সহ সিনিয়র সাংবাদিরদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    এসময় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি নগর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান (পিপিএম বার,) বলেন, ভাল রিপোর্ট প্রকাশ করার মাধ্যমে বিজয় নিউজ ডট কম নিজেকে সমাজের কাছে তুলে ধরবেন।

    অপ-সাংবাদিকতা আমাদেরকে যেন গ্রাস না করে সেদিকে লক্ষ রাখার আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, সমাজের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ ও সাংবাদিক মহল সমন্বয়ে কাজ করা যায় তাহলে নগর উন্নয়নে বেশী সময় লাগবে না।

    আজ সোমবার (১৬ই) সেপ্টেম্বর বরিশাল প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তালায় শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাব সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (পিপিএম, বিপিপিএম (বার)।

    আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বরিশাল শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল আঞ্চলিক পরিচালন প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল আঞ্চলিক পরিচালক অলক সাহা, বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন, প্রেস ক্লাব কার্যকরী পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্দা নুরুল আলম ফরিদ, সাবেক সভাপতি এ্যাড,  এস.এম ইকবাল, দৈনিক পরিবর্তন সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ প্রমুখ।

    এরপূর্বে বিজয় নিউজ ডট কম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করা হয়।

    এছাড়া বিজয় নিউজের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ সিনিয়র ২০জন সাংবাদিকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করার মধ্যে পুরো অনুষ্ঠান জমিয়ে রাখেন বিজয় নিউজের উপদেষ্টা ও দৈনিক যুগান্তর বরিশাল ব্যুরো প্রধান আকতার ফারুক শাহিন।

  • ভোলায় নদীতে জাল ফেলা নিয়ে সংঘর্ষে জেলে নিহত, আটক ১

    ভোলায় নদীতে জাল ফেলা নিয়ে সংঘর্ষে জেলে নিহত, আটক ১

    ভোলা প্রতিনিধি //মো:নিসাত::

    মেঘনা নদীতে জাল পাতা নিয়ে ভোলায় জেলেদের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মো. আবুল বাশার (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে।

    এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে ভোলা মডেল থানায় একটি মামলা করার পর পুলিশ প্রধান আসামি মো. মাকসুদকে (৩০) গ্রেফতার করেছে। তিনি ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতের দিকে মেঘনা নদীর তুলাতুলি এলাকায় ৫/৬ জন জেলেকে নিয়ে জাল পাতেন আবুল বাশার। এ সময় মাকসুদ ও তার সঙ্গী ৮/৯ জন জেলে তাদের জাল উঠিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আবুল বাশারসহ উভয় পক্ষের আরও ৪/৫ জন আহত হন।

    পরে আশপাশের জেলেরা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তাদের মধ্যে আবুল বাশারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রোববার দুপুরে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

    ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছগীর মিঞা জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি মাকসুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • পিরোজপুরে তরুণীকে ফিল্মি স্টাইলে গণধর্ষণ

    পিরোজপুরে তরুণীকে ফিল্মি স্টাইলে গণধর্ষণ

    পিরোজপুর প্রতিনিধি ::

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক গৃহকর্মীকে (১৯) ফিল্মি স্টাইলে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি গৃহকর্মী বাদী হয়ে ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দাউদখালী গ্রামের আফজাল খানের ছেলে সুমন খান (২২), একই এলাকার ছালাম হাওলাদারের ছেলে ইমরান হাওলাদার (২০) ও জিয়াম হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার (২৫) কে আসামি করা হয়েছে।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাউদখালী গ্রামের ওই কিশোরী পাশ্ববর্তী দেবত্র গ্রামের এক বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। আসামীরা প্রায়ই পথে ঘাটে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে দেবত্র গ্রামের ওই বাড়িতে কাজ করতে যাওয়ার সময় আসামিরা মেয়েটিকে মুখ চেপে স্থানীয় একটি সরকারী ক্লিনিকের ছাদের উপর নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে ইমরান হাওলাদার ও পরে সুমন খান এবং রাজু হাওলাদার মেয়েটিকে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে রাত দেড়টার দিকে মাছ ধরতে যাওয়া এক লোক আসামিদের কথা শুনে সন্দেহ হলে ছাদে গিয়ে টর্চলাইট মারলে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

    মঠবাড়িয়া থানার ওসি সৈয়দ আব্দুল্লাহ জানান, গৃহকর্মীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সোমবার পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হবে।’

  • বরিশাল বন্দর থানার সেই ওসিকে শাস্তিমূলক বদলি!

    বরিশাল বন্দর থানার সেই ওসিকে শাস্তিমূলক বদলি!

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    অবশেষে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) থানার সেই ওসি গোলাম মোস্তফা হায়দারকেও শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। রোববার রাতে তাকে থানা থেকে সরিয়ে নগর বিশেষ (সিটিএসবি) শাখায় সংযুক্ত করা হয়। ওই থানায় নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) ইউনিটের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের জারি করা এই আদেশ রোববার রাতেই কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    উল্লেখ করা যেতে পারে- বন্দর (সাহেবেরহাট) থানার ওসি গোলাম মোস্তফা হায়দারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ তিনি থানার বকশি ফাইজুল ইসলামের সহযোগিতায় ভুমি সংক্রান্ত একটি মামলা বাদীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাসহ অনলাইন পত্রিকায় গত ০৩ সেপ্টেম্বর ‘বরিশালে বাদীর কাছ থেকে ওসির ৩ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ পেলে শুরু হয় তোলপাড়।

    সেই সংবাদের পরে বকশি ফাইজুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক থানা থেকে শাস্তিমূলক সরিয়ে বিতর্ক এড়াতে উদ্যোগ নেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান। পাশাপাশি তিনি ঘটনাটি জোরালোভাবে তদন্তের নির্দেশও দেন।

    অবশ্য পুলিশ কমিশনার শুরুতেই ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন ওসির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিন্দু পরিমাণ সত্যতা মিললে কোন তাকে ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরং ওসির বিরুদ্ধে তিনিও এই ঘটনায় শাস্তি গ্রহণে সুপারিশ চাইবেন কেন্দ্রীয় পুলিশের কাছে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়- গত ৩ সেপ্টেম্বর পত্র পত্রিকায় ঘুষ গ্রহণ সংবাদটি প্রকাশ পাওয়ার পরেই বিষয়টিতে নড়েচড়ে বসেন পুলিশ কমিশনার। তিনি এই ঘুষ কেলেংকারির ঘটনাটি ‌দ্রুত তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট বন্দর থানার সহকারি কমিশনারকে (এসি)।

    সেই তদন্তের মাঝামাঝি সময়ে বকশি ফাইজুল ইসলামকে থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পাওয়ার পরে এবার ওসিকেও শাস্তিমূলক বদলি করা হল।

    যদিও এই বদলি আদেশকে শাস্তিমূলক নয় দাবি করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা হায়দার বলছেন- রুটিন মাফিক তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে এই বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কেউ মন্তব্য না করলেও একাধিক কর্মকর্তার সাথে আলাপচারিতায় ওসিকে শাস্তিস্বরুপ বদলির বিষয়টি অনুমান করা গেছে।’

  • গাড়ির কাগজ দেখতে চাওয়ায় ছাত্রলীগ নেতার হামলায় পুলিশসহ আহত ৪

    গাড়ির কাগজ দেখতে চাওয়ায় ছাত্রলীগ নেতার হামলায় পুলিশসহ আহত ৪

    অনলাইন ডেস্ক : পিরোজপুর এর ইন্দুরকানী উপজেলায় মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেক করার সময় ছাত্রলীগ কর্মীর হামলায় পুলিশ কমকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    থানা সূত্রে জানা যায়, ইন্দুরকানী থানার এসআই মোনমথর নেতৃত্বে এএসআই আব্বাস, শাহাদাৎ হোসেন ও কনস্টেবল তোফায়েল উপজেলার কলেজ মোড় এলাকায় মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেক করছিলেন। এ সময় বালিপাড়া এলাকা থেকে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আলাউদ্দিন খানের ছেলে তৌকির ও আহাদ দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওইদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ তাদেরকে থামাতে বললে ওই স্থানে না থামিয়ে একটু দুরে গিয়ে গাড়ি থামায় তারা।

    এ সময় পুলিশের এএসআই আব্বাস মোটরসাইকেল চালক তৌকিরের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে এএসআই আব্বাস এবং কনস্টেবল তোফায়েল হামলার শিকার হন।

    উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইস্রাফিল খান নেওয়াজ জানান, তৌকির উপজেলা ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। তবে তিনি ইন্দুরকানী কলেজ ছাত্রলীগের একজন কর্মী।

    ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে তৌকীর নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • ফুচকা বিক্রেতা শারমিনের কাছ থেকে পুলিশ দৈনিক চাঁদা নেয় ২৫০ টাকা

    ফুচকা বিক্রেতা শারমিনের কাছ থেকে পুলিশ দৈনিক চাঁদা নেয় ২৫০ টাকা

    ব্যবসায় লাভ হোক আর না হোক; ফুচকা বিক্রেতা শারমিনকে প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয় ২৫০ টাকা। লাইনম্যানের মাধ্যমে এই চাঁদার টাকা চলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে।

    শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফুটপাতে দোকানে দাঁড়িয়েই পুলিশকে চাঁদা দেয়ার কথায় জানান শারমিন। তিনি বলেন, ‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করতে পারি? কে কোথায় দোকান বসাবে, কতক্ষণ থাকবে-তার সবই হয় পুলিশের ছকে। চাঁদা দিয়ে দোকান করি, এটি ঢাকা শহরের একটি কাকও জানে।’

    গল্পচ্ছলে জীবন-জীবিকার কথা শোনান শারমিন। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। স্বামী শাহজালাল শৈশব থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফেরি করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। ১১ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। ৮ বছর বছর বয়সী মেয়ে ধানমন্ডির একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলের বয়স দুই বছর।

    আগে শুধু ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও এখন সঙ্গে বুট আর ফুচকাও বিক্রি করেন এই দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ব্যবসায় যোগান দিয়ে আসছেন তিনি। আগের জায়গা থেকে সরে মিরপুর সড়কের এই জায়গায় দোকান করেছেন এক বছর হলো। ৩২ নম্বরে থাকাকালে প্রতিদিন চাঁদা দিতেন ১২০ টাকা করে। নতুন জায়গায় আসার পর তা বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

    প্রধান সড়কের পাশে এভাবে দোকান করা ঠিক কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে শারমিন বলেন, ‘অবশ্যই ঠিক না। জানি, মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হয়। কিন্তু উপায় কী! কাজ করে তো খাচ্ছি। পুলিশ চাঁদা নিয়ে দোকান করার জায়গা দিয়েছে। দৈনিক ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে কষ্ট হয়। তবে ব্যবসাও এখন ভালো হয়। আর চাঁদার টাকা তো পকেট থেকে দিই না। আগে যে মুড়ি বিক্রি করতাম ১০ টাকায়, এখন তা বিক্রি করছি ১৫ টাকায়। এই অতিরিক্ত ৫ টাকা থেকেই চাঁদা দিই।’

    ব্যবসার লাভ-লোকসান বিষয়ে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যবসা করি। স্বামী-স্ত্রী শিফট করে দোকান করি। দিনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। বিক্রি ভালো হলে লাভ থাকে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। তবে পণ্যের দাম কম থাকলে আরও লাভ হতো।’

  • বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাবের অভিযানে দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী গ্রেফতার

    বরিশাল র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব ৮) এর অভিযানে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর দেড় বছরের শিশু ধর্ষণকারী প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

    আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় এ সম্পর্কিত বিশদ মিডিয়া ব্রিফিং করবেন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম, বিপিএম। র‌্যাব-৮ এর ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার এ মিডিয়া রুমে অনুষ্টিত হবে। এ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি থাকার আহ্বান করেছে র‌্যাব।

  • বরিশালে বিধবা বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসি-কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

    বরিশালে বিধবা বৃদ্ধাকে পেটানো সেই ওসি-কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার মধ্যে প্রকাশ্যে বিধবা বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ ওঠা ওসি শিশির কুমার পাল ও পুলিশ সদস্য জাহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হককে সভাপতি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (বাকেরগঞ্জ) ও বরিশাল জেলা পুলিশের ইনেসটেক্টর (প্রশিক্ষক) মাসুম বিশ্বাসকে সদস্য করা হয়েছে।

    এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়দের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুর হক জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’

    এদিকে বুধবার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পরপরই নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মহিলা থানা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়লে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবক ও বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বরিশাল টাইমস২৪ ডট কমসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন।

    এর আগে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে গত চারদিন আগে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে নালিশ দেওয়ার অপরাধে গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদশর্কের (এএসআই) বিধবা স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬২) নামের এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ওই নারীর অভিযোগ প্রথমে কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম একটি চায়ের দোকানের মধ্যে মারধর করে গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে ঝলসে দেন এবং ওয়ালে মাথা ঠুকেন। পরে তিনি ওসি শিশির কুমার পালের কাছে অভিযোগ দিতে থানায় গেলে ওসি নিজে তার কক্ষে ওই নারীকে মারধর করে থানা থেকে বের করে দেন।

    মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিচত্বর এলাকার স্বামী মৃত মোঃ মঈন উদ্দিন মাতবরের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬২) জানান, তার স্বামী মোঃ মঈন উদ্দিন মাতবর বাংলাদেশ পুলিশের একজন সহকারী উপ-পরিদশর্কের (এএসআই) ছিলেন। ২০০৩ সালে দায়িত্ব পালনকালে হরতাল-অবরোধে পরে সন্ত্রাসীদের হাতে গুলি খেয়ে মারা যান।

    স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পরে তার দুই ছেলে মারা যায়। পরবর্তিতে ছেলে আল আমিন (২১) ও মেয়ে (১১) তাদের বাবার বাড়ি মাদারীপুরে থাকেন। রাশিদা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইচলাদি গ্রামের আবুল কালামের ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গত আগস্ট মাসে তার সপ্তম শ্রেনি পড়ুয়া মেয়ে (১১) তার কাছে (মায়ের) উজিরপুরের ইচলাদি বাসায় বেড়াতে আসে।

    আগস্ট মাসের ১৩ তারিখে মেয়েকে বাসায় রেখে সে বরিশাল গেলে উজিরপুরের ইচলাদি গ্রামের মৃত রহম অলীর ছেলে বখাটে শুক্কুর আলী (৩২) নেতৃত্বে তার সহযোগী বোরহান হোসেন (৩২), আনিচুর রহমান (৩৮), কালাম হাওলাদার (৪০)সহ ৫/৬ জন বখাটে তার মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় পরের দিন ১৪ আগষ্ট তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের জন্য লিখিত অভিযোগ জমা দিলে ওসি শিশির কুমার পাল মামলা রুজু না করে অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ আগষ্ট মেয়েকে উদ্ধার করে তাকে (রাশিদাকে) থানায় ডেকে নিয়ে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।

    মেয়েকে হাতে পেয়ে অপহরনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে বললে ওসি রাশিদাকে বলেন আপনার মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন মামলার দরকার নেই চলে যান। তিনি থানা থেকে বের হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাসায় আসার পথে পূর্বের অপহরনকারী পুনরায় মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    ওই রাতেই থানার ফিরে এসে পুনরায় অপহরনের কথা ওসিকে জানালে ওসি নতুন করে অভিযোগ করতে বললে সে নতুন করে অভিযোগ লিখে জমা দেন। ওই অভিযোগ পছন্দ না হওয়ায় ওসি তা ছিঁড়ে ফেলে আবার নুতন করে অভিযোগ লিখে দিতে বলেন। এভাবে তিনবার অভিযোগ নেন এবং ছিড়ে ফেলেন ওসি।

    এদিকে আগস্ট মাসের শেষের দিকে অপহরনকারী ও তাদের প্রভাবশালী স্বজনরা রাশিদা বেগমের বাসায় তালা লাগিয়ে দেন। ২/৩ দিন আগে রাশিদা বেগম বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করে তাকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন এবং ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

    অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক রেঞ্জ ডিআইজি উজিরপুর থানার ওসি শিশিরকে রাশিদা বেগমকে আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তার ভাড়া বাসা থেকে মালামাল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

    রাশিদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ডিআইজি স্যারের কাছে যাওয়ার ২/৩ দিন পরে বুধবার (১১ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় ওসি আমাকে থানায় ডেকে পাঠান। সন্ধ্যায় আমি থানায় ওসির সাথে দেখা করতে রুমে গেলে তিনি বলেন, আপনি একটু পরে আসেন, আপাতত থানার বাহিরে কোন চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন।

    ওসির কথামত আমি থানার সামনে বাচ্চু মিয়ার চায়ের দোকানে গিয়ে বসলে থানার কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম আমাকে ধমকের সুরে বাড়ি কোথায়? এখানে কেন এসেছি? জানতে চান। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্য জাহিদ আমাকে থাপ্পর-ঘুষিসহ মারধর করে এবং গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে পুড়িয়ে দেয়।

    ওই সময় চায়ের দোকানে উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ কিনা জানিনা তবে সিভিল পোষাকের এক লোক মহিলাকে মা বোনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেদমভাবে মারধর করেছে। তারা এগিয়ে রক্ষা না করলে মহিলার অবস্থা খারাপ হতো বলেও জানান।

    অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কল রিসিপ করে বলেন, আমি চা খেতে বাচ্চুর চায়ের দোকানের ভেতরে গিয়ে দেখি এক মহিলা ওসিকে স্যারকে গালাগাল করছে। আমি গালাগালের প্রতিবাদ করি। এক পর্যায়ে মহিলাকে সেখান থেকে তাড়ানোর জন্য আমি গালাগাল করি ও মারধরের ভয় দেখাই।

    রাশিদা বেগম আরো বলেন, জাহিদুল ইসলাম নামের পুলিশের হাতে মার খেয়ে আমি থানায় ওসি শিশির কুমার পালের রুমে যাই এবং ঘটনাটি তাকে জানাই। এতে ওসি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে আমাকে গালি দিতে দিতে বলে, ‘শালির ঝি শালি থানা থেকে বের হ, এখানে আসছো কেনো।’ এরপর শুরু করে দুই গালে থাপ্পড়। এক পর্যায়ে ওসি থাপ্পড় দিতে দিতে তার রুম থেকে আমাকে বের করে দেন

    অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, ‘ওই মহিলা একটা খারাপ লোক ও মামলাবাজ। তার স্বামী প্রসঙ্গে বলেন, তার স্বামীর হিসেবের কোন শেষ নেই। ছেলে গাড়ির হেলপার মাদারীপুরের একটি ডাকাতি মামলার আসামি। মেয়ে অপরহরন প্রসঙ্গে বলেন, তার মেয়ে অপহরনের কোন ঘটনা নাই। আমি কোন মেয়ে উদ্ধার করে দেই নাই।

    বুধবার সন্ধ্যায় থানায় ডেকে আনা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তার মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার জন্য থানায় ডেকে এনেছি। ডিআইজি স্যারের নির্দেশে মালামাল উদ্ধার করেছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাড়ির মালিক ঘর ভাড়া পাওনা বাবত মাল আটকে রাখে। আমি এক পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে সেই মালামাল উদ্ধার করে ফেরত দিতে থানায় ডেকেছি।’

    রাশিদার ছেলে পরিবহন শ্রমিক বাবু ওরফে আল-আমিন মুঠোফোনে জানায়, তার মা’কে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসি ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    সে আরও জানায়, ঘটনার পরে উজিরপুর থানার সামনে তার আহত মা সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেয়ার পরপরই ওসি শিশির সেখান থেকে তাকেসহ তার মা রাশিদাকে থানায় আটকে নির্যাতনের ঘটনা মিথ্যা এই মর্মে মোবাইল ফোনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়।

    বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম (বিপিএম) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম (পিপিএম) এর সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলে তিনি ধরেননি।

  • বরিশাল কারাগারে বসেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ!

    বরিশাল কারাগারে বসেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ!

    দক্ষিণাঞ্চলের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক ইয়াবা সম্রাট হিরা মাঝি ও নান্নু মৃধা বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বসেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এরমধ্যে নান্নু মৃধা একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ও হিরা মাঝি একটি মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
    এ দুই মাদক সম্রাটের অবর্তমানে হিরা মাঝির ভাই ও তার শতাধিক সহযোগিরা এবং নান্নু মৃধার অবর্তমানে তার স্ত্রী ও স্বজনরা মাদক ব্যবসা মাঠে সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছে।

    এরমধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৪৫ পিস ইয়াবাসহ গৌরনদীর কটকস্থল গ্রামের বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে মাদক সম্রাট হিরা মাঝির ভাই মনির মাঝিকে আটক করেছে।

    এ ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি আল মামুন সিকদার বাদি হয়ে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। একইদিন রাতে মাদকের বিরুদ্ধে নিরবে জেহাদ ঘোষণা করা গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ারের নেতৃত্বে বেজগাতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট নান্নু মৃধার স্ত্রী হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার নন্দনপট্টি গ্রামের শফিজউদ্দিন মৃধার পুত্র মাদক সম্রাট নান্নু মৃধা ও তার সহযোগিরা একই গ্রামের খাদেম সরদারকে কুপিয়ে হত্যা ও তার পুত্র আসলাম সরদারকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেয়। ওই মামলায় আসামিদের উপস্থিতিতে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ আদালতের বিচারক নান্নু মৃধাকে ফাঁসির আদেশ ও তার সহযোগি সেন্টু মৃধা এবং আলম মৃধাকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন।

    স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নান্নু মৃধার কাছে ইয়াবা তৈরির দুটি মেশিন ছিলো। যা অদ্যবর্ধি খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মাদক সম্রাট নান্নু মৃধা গ্রেফতারের পর কিছুদিন এ অঞ্চল শান্ত ছিলো। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা নান্নু মৃধার দিকনির্দেশনায় পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু করেন তার (নান্নু) স্ত্রী হাসিনা বেগম ও তার স্বজনরা। কৌশলে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ইয়াবার চালান আসে হাসিনা বেগমের কাছে। সম্প্রতি সময়ে স্থানীয় যুব সমাজ ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে এক ব্যক্তিকে আটক করে চরম রোষানলে পরেছিলেন। এ ব্যাপারে থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার বলেন, সময়মতো সঠিক তথ্য না পাওয়ায় এতোদিন হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ৩০৫ পিস ইয়াবাসহ হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    সূত্রমতে, নান্নু মৃধার অবর্তমানে গৌরনদীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ইয়াবা ডিলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কটকস্থল গ্রামের ইঙ্গুল মাঝির পুত্র হিরা মাঝি ও তার সহদর মানিক মাঝি। তারা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য ও জাল টাকা আমদানি করে নিজস্ব সহযোগিদের মাধ্যমে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করে আসছিলো।

    সূত্রে আরও জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের ইয়াবা সম্রাট মানিক মাঝি ও তার সহদর হিরা মাঝি এবং তাদের সহযোগিদের গ্রেফতার করায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পরেন গৌরনদী মডেল থানার সাবেক ওসি ফিরোজ কবির। যে কারণে মাত্র চার মাসের মধ্যে গৌরনদী থানা থেকে বদলি করা হয় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে সফলতা অর্জনকরা ওসি ফিরোজ কবিরকে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ মহলের অপতৎপরতায় তার (ফিরোজ কবির) বিরুদ্ধে নাটকীয়ভাবে দুদক দিয়ে একটি মামলা দায়েরও করানো হয়েছিলো। এ কারণে মাদক সম্রাট মানিক ও হিরা মাঝিকে পূর্ণরায় গ্রেফতার করতে সাহস দেখায়নি পুলিশ প্রশাসন।

    এরইমধ্যে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে র‌্যাব-৮ এর চৌকস সদস্যরা মাদক সম্রাট হিরা মাঝি, তার সহযোগি বিপ্লব বেপারী ও পলাশ কুমার মিত্রকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড এ্যামোনিশন, তিন হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২২ বোতল ফেন্সিডিল, চার কেজি গাঁজা, দুই বোতল বিদেশী মদ, ২৫ হাজার জাল টাকার নোট, মাদক বিক্রির ৫৬ হাজার ৭৮৫ টাকা, ১২টি মোবাইল সেট ও ১১টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি’র ডিএডি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরইমধ্যে পূর্বের একটি মামলায় হিরা মাঝির একবছরের সাজা প্রদান করেন আদালতের বিচারক।

    সূত্রমতে, হিরা মাঝি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে দিকনির্দেশনা দিয়ে তার সহদর মানিক মাঝির মাধ্যমে পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু করে। মানিক মাঝি মাহিলাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে থেকে সহযোগিদের মাধ্যমে মাদকের রমরমা ব্যবসা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৯ মার্চ র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মানিক মাঝিকে আটক করেন। এসময় ৩৫৫ পিস ইয়াবা, ১০৫ বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির নগদ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি’র ডিএডি মামুনুর রশিদ খান বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

    সূত্রে আরও জানা গেছে, হিরা মাঝির পর মানিক মাঝিও গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার সুবাদে মাদক ব্যবসার পুরো দায়িত্ব পালন করে তাদের ছোট ভাই মনির মাঝি। চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মনির মাঝিকে আটক করেছে। বর্তমানে হিরা মাঝিসহ তার অপর দুইভাইয়ের অবর্তমানে তাদের অন্যান্য সহযোগিরা নিরবে মাদকের রমরমা ব্যবসা করে আসছে।
    এদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সদ্য জামিনে বের হওয়া নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানায়, মাদক সম্রাট নান্নু মৃধা ও হিরা মাঝি কারাগারে থেকে তাদের সহযোগিদের মাদক ব্যবসার কৌশল সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

    প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে রহস্যজনক কারণে কতিপয় সংবাদ কর্মীরা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে অভিযানের গতি কমিয়ে দিচ্ছেন। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ওই সংবাদের জেরধরে তদন্তের নামের একের পর এক থানা পুলিশকে হয়রানী করায় মাদকের বড় ধরনের অভিযানে নামতে চাচ্ছেন না থানা পুলিশ।

    এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, মাদককে কোন ছাড় নয়। মাদক কারবারিরা পুলিশের জালে ধরা পড়বেই। একসময় মাদক ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিলো। ওইসব ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে থাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। ওসি আরও জানান, এখনও যারা আত্মগোপনে থেকে মাদক ব্যবসা করছে তাদের গ্রেফতারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।