Category: প্রশাসন

  • বরিশালে শুরু হচ্ছে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ’ সপ্তাহ

    বরিশালে শুরু হচ্ছে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ’ সপ্তাহ

    আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। জনসাধারনের নিরাপত্তার স্বার্থে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে তথ্যাদি দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক মেইল বার্তায় বলা হয়েছে মনে রাখবেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ আপনার সেবায় সর্বদা সচেষ্ট।

  • বরিশাল নগরীতে ২৫শ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ টাকাসহ ক্রেতা-বিক্রেতা আটক

    বরিশাল নগরীতে ২৫শ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ টাকাসহ ক্রেতা-বিক্রেতা আটক

     নিউজ ডেস্ক ::

    বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২৫শ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ টাকসহ বিক্রেতা ও ক্রেতাকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযান চালিয়ে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের লিচুশাহ সড়ক এলাকার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়

    আটককৃতরা হলেন, নগরীর জুমির খান সড়ক এলাকার রিশাতুল ইসলাম রন্টির স্ত্রী আছমা আক্তার রুবিনা (২৭) ও সুমন মৃধা। এদের মধ্যে আছমা আক্তার ইয়াবা বিক্রেতা ও সুমন ক্রেতা। থানা পুলিশ সূত্রে জান গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, ইয়াবা বিক্রেতা আছমা আক্তার নগরীর লিচুশাহ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা বিক্রয় করতেন। সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে ওয়্যারড্রোবের নিচের ড্রয়ার থেকে ১ হাজার ও শোকেসের নিচের ড্রয়ার থেকে ১৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা সুমন মৃধার কাছ থেকে ২শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় ইয়াব বিক্রির নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সমীরণ মন্ডল, এএসআই শরিফ, এএসআই সুমন ও এএসআই বিধান। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে কোতোয়ালি পুলিশ জানিয়েছে।

    ২৫শ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ টাকাসহ দুই জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম (পিপিএম)। তিনি আরও জানান ইয়াবা ও নগদ উদ্ধারের বিষয় নিয়ে আগামীকাল সকাল ১০ টায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের হল রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। এসময় উপস্থিত থাকবেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম।

  • পটুয়াখালীতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানি, ৩ বাসকে জরিমানা

    পটুয়াখালীতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানি, ৩ বাসকে জরিমানা

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

    বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে তিন বাসকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্ব পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

    মাহবুবুর রহমান জানান, বরিশাল থেকে কুয়াকাটার কথা বলে যাত্রী তুলে, পরে পটুয়াখালীতে নামিয়ে দিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা ও মিথ্যা কথা বলার দায়ে তিন বাসকে জরিমানা করা হয়।

  • বরিশালে বিধবা বৃদ্ধাকে থানায় বসে মারধর, ওসি বললেন আমাকে ফাঁসাচ্ছে সাংবাদিক

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিধবা স্ত্রীকে থানার মধ্যে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ওই বৃদ্ধার গালে রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলা ফুলা জখমের সৃষ্টি হয়েছে।

    একই সাথে রাশিদা বেগম (৬২) নামের ওই বৃদ্ধাকে মারধরের পর তার গালে সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে কনস্টেবল পুলিশ সদস্য জাহিদ। এ ঘটনার পরপরই নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধাকে থানা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে চিৎকার করে কান্না করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    রাশিদা বেগম বলেন, ‘জাহিদ পুলিশ এই চায়ের দোকানে (থানা সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে বাচ্চুর দোকান) বসে আমার গালে সিগারেটের আগুনের ছ্যাকা দিয়ে পুড়িয়েছে। দেয়ালের সাথে আমার মাথা ঠুকিয়েছে। পিঠে ও ঘাঁড়ে ছয় থেকে সাতটি ঘুষি দিয়েছে। পাশের লোকজন ও দোকানদার না থাকলে আমাকে মেরেই ফেলতো। মারধরের সাথে আমার মা-বোন নিয়েও গালিগালাজ করেছে।’

    রাশিদা কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন ‘মার খেয়ে ওসির কাছে গেলাম ওসিও আবার মারলো। জাহিদ পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়ে আমি সাথে সাথে থানার মধ্যে ওসি শিশির কুমার পালের রুমে গিয়ে বিষয়টি জানাই। এ কথা শোনার পরই ওসি শিশির চেয়ার থেকে উঠে আমাকে গালি দিয়েই বলে, ‘শালির ঝি শালি বের হ, এখানে আসছো কেনো।’ এরপর শুরু করে দুই গালে থাপ্পড়। এক পর্যায়ে ওসি থাপ্পড় দিতে দিতে তার রুম থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

    নির্যাতিতা রাশিদা অভিযোগ করেছে, প্রায় এক মাস আগে মেয়ে তার কাছে বেড়াতে আসলে মেয়েকে ওই ভাড়া বাসায় রেখে তিনি (রাশিদা) মামলার কাজে বরিশাল শহরে যান। এই সুযোগে ওই ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয় শুক্কুর, বোরহান, আনিচ, কালামসহ বেশ কয়েকজন বখাটে মিলে তার মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    পরে উপায়ান্ত না পেয়ে গত ২-৩ আগে বৃদ্ধা রাশিদা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করে তাকে পুরো ঘটনাটি জানিয়ে ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক রেঞ্জ ডিআইজি উজিরপুর থানার ওসি শিশিরকে ফোন করে বৃদ্ধা রাশিদাকে আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তার ভাড়া বাসা থেকে মালামাল উদ্ধারের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

    রাশিদা আরও বলেন, ডিআইজি স্যারের কাছে যাওয়ার পরে ওসি বুধবার (১১ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় আমাকে থানায় ডেকে এনেছে। সন্ধ্যায় আমি থানায় ওসির সাথে দেখা করতে রুমে গেলে তিনি বলেন, আপনি একটু পরে আসেন, আপাতত থানার বাহিরে চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন।’ ওসির কথানুযায়ী রাশিদা তার রুম থেকে বেড়োতেই পুলিশ সদস্য জাহিদ তাকে বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে জানায় মাদারীপুর।

    এরপর একটু সামনে এগিয়ে থানার পশ্চিম পাশ্বের গেটের কাছে আসলে বৃদ্ধা রাশিদাকে ওই পুলিশ সদস্য জাহিদ পুন:রায় বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে একই উত্তর দেন। পরবর্তীতে থানার সামনের বাচ্চুর চায়ের দোকানে গিয়ে বসলে ওই পুলিশ সদস্য জাহিদ ফের রাশিদাকে বলে আপনার বাড়ি কোথায়, এখানে কি? এ সময় বৃদ্ধা রাশিদা রেগে গিয়ে জাহিদকে জানায় ‘কয়েকবার তো বললাম মাদারীপুর, শোনেনি।’ এরপরই পুলিশ সদস্য জাহিদ তাকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে গালে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওসির নিকট নালিশ দিতে গিয়ে পুন:রায় মারধরের শিকার হন।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো: জাহিদুল ইসলাম বৃদ্ধা রাশিদাকে মারধরের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, ‘আমি বাচ্চুর দোকানে চা খেতে গিয়ে দেখি ওই মহিলা ওসি স্যার’কে নিয়ে গালাগালি করতেছে। তখন ওই মহিলাকে বাঁধা দিলে সে আমাকেও গালিগালাজ করে। এ সময় আমি তাকে সেখান থেকে তাড়ানোর জন্য মারধরের ভয় দেখিয়েছিলাম।’

    কিন্তু অপর একটি সূত্র বলছে, এ রাশিদা বেগম ভালো লোক নয়। তার নামে মাদারিপুর থানায় প্রতারণা মামলা রয়েছে। তিনি উজিরপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে তার মেয়েকে একা রেখে বিভিন্ন দিকে যায়। সেই সুযোগে তার মেয়ে বিভিন্ন লোককে বাড়িতে ডেকে তাদেরকে প্রতারণার ফাদে ফেলে টাকা আদায় করে। আর দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়।

    উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। এক সাংবাবিদকে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় আমাকে ফাঁসানো চেষ্টা করছে। এমন ঘটনা ঘটলে অন্যান্য সাংবাদিকরা কি কোন ভূমিকা নিতো না। শুধু ওই সাংবাদিক আমাকে ফাঁসাতে এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। জাহিদ নামে আমার কোন ড্রাইভার নেই। আর কোন ড্রাইভার / কনস্টেবল এমন ঘটনা ঘটালে এ দায় আমি কেন নেব।

  • বরিশালে মাদক মামলায় ৫ জনের কারাদণ্ড

    বরিশালে মাদক মামলায় ৫ জনের কারাদণ্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালে মাদক মামলায় পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শহরের কাউনিয়া খালপাড় সংলগ্ন এলাকার মৃত কামরুল গাজীর ছেলে সজল ওরফে সাজন গাজী, নতুন বাজার আদি শ্মশান সংলগ্ন এলাকার সাগর মজুমদারের ছেলে জনি মজুমদার ও তার বড় ভাই সুজন মজুমদার, বিএম স্কুল এলাকার আলী হোসেন মৃধার ছেলে জুম্মান হোসেন মৃধা ও পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরান বাজার এলাকার মৃত কালাচান ধরের ছেলে কাজল ধর ওরফে বিকাশ ধর।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ নতুন বাজার এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই পাঁচজনকে আটক করে। এসময় সজলের কাছ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, জনির কাছ থেকে দুইশ’ পিস ও বাকি তিনজনের প্রত্যেকের কাছ থেকে একশ’ পিস করে মোট দেড় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় ২১ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ডিবির ফিরোজ আহমেদ। তদন্তে সত্যতা পেয়ে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী মাহবুবুর রহমান একই বছরের ২৯ এপ্রিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

    মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক সজলকে ১২ বছর কারাদণ্ড, পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া জনিকে সাত বছর কারাদণ্ড, পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

    অপরদিকে জুম্মান, সুজন ও কাজলকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড, পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    রায় ঘোষণার সময় আসামি সজল পলাতক ছিলেন। বাকি চারজন উপস্থিত ছিলেন। সজল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

  • বরিশালে পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার ১

    বরিশালে পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার ১

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের মাজেদ ফকিরের ছেলে নিজাম ফকির (৪০) কে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসআই জসিম উদ্দিন গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত নিজাম মারামারি মামলার পলাতক আসামী।

    বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারকৃত নিজামকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • ‘তুই’ বলায় হত্যা, কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    ‘তুই’ বলায় হত্যা, কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক ::

    গাজীপুর মহানগরীর রাজদীঘিরপাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু (১৬) নামের এক কিশোর খুনের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলো- মো. রাসেল মিয়া (১৮), মো. সৌরভ (২১), মো. আশরাফুল ইসলাম (১৭), মো. জোবায়ের (১৭), মো. আমির হামজা (১৯) ও মো. সুজন পাটোয়ারি (১৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার এবং ৫টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮ হাজার ২০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

    গ্রেফতারদের বাড়ি গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ‘তুই’ বলাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর সদর থানাধীন রাজদীঘিরপাড় এলাকায় দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ফকির আলমগীরের ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু খুন হয়।

    ঘটনার দুদিন আগে ভিকটিম নুরুল ইসলামের ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের ছয়-সাত সদস্য স্থানীয় বালুর মাঠ এলাকায় আড্ডা দেয়ার সময় একই এলাকার রাসেলের ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। জুনিয়র গ্রুপের কাছে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রাসেলের ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সদস্যরা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে থাকে।

    ঘটনার দিন ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের ১০-১২ জন মিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নুরুল ইসলাম তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য পাশের পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ও অন্যরা পালিয়ে যায়। ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সদস্যরা অন্যদের ধরতে না পেরে নুরুল ইসলামকে পুকুর থেকে তুলে ধারালো চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

  • ঝালকাঠিতে কিশোর গ্যাং রুখতে মাঠে তৎপর এসপি

    ঝালকাঠিতে কিশোর গ্যাং রুখতে মাঠে তৎপর এসপি

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঝালকাঠিতে যুব নেতাদের অনুসারী হয়ে আড্ডার দিকে ঝুঁকছে উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা। জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। স্কুল-কলেজে যাওয়ার নাম করে তারা ইউনিফর্ম পরে পার্কে, গাবখান ব্রিজে ও চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। বিকেল হলে গ্রুপভিত্তিক অবাধ বিচরণ দেখা যায়। সেই বিচরণ চলে রাত ১০টা-১২টা পর্যন্ত।

    ফলে জেলায় কিশোর গ্যাং, সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয় রুখতে মাঠে নেমেছেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিন। তাকে সহযোগিতা করছে সদর থানা পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

    সন্ধ্যার আগেই তরুণদের বাড়ি ফেরানো, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সভাসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এসপি ফাতিহা ইয়াসমিন। যার ফলে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।

    জানা গেছে, জেলার বখাটেপনা বন্ধে শহরের অলিগলির সব চায়ের দোকান কিংবা পার্ক অথবা আড্ডাস্থল থেকে তরুণদের সন্ধ্যার পূর্বেই বাসায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন এসপি ফাতিহা ইয়াসমিন। সন্ধ্যার পরই শহরে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেছেন কিশোরদের সম্ভাব্য আড্ডা স্থলে। এ সময় কাউকে পাওয়া গেলে সাময়িক শাস্তি অথবা অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। দ্বিতীয়বার পেলে অভিভাবকদের এসে জিম্মায় নিয়ে যেতে হবে অথবা জেলে যেতে হবে বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন তিনি।

    এছাড়াও পারিবারিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিভাবক সমাবেশ এবং মাদক, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, যৌতুকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সভা ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সভা করছেন। সন্তানরা কোথায় যায়, কি করে, ঠিক মত স্কুলে যায় কি-না, নিয়মিত পড়াশুনা করে কি-না, পার্কে আড্ডাবাজি করে কি-না সে সম্পর্কে এসব সমাবেশে তিনি অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান। এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ঝালকাঠি শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য শহরের গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টসমূহে গাড়ি চেকিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরেজমিনে নিজে উপস্থিত থেকে কাজ করছেন এই পুলিশ সুপার।

    পুলিশ সুপারের এসব কার্যক্রম নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, ইতোপূর্বে জেলায় যতো পুলিশ সুপার এসেছেন তারা যেসব কাজ করতে পারেননি বর্তমান পুলিশ সুপার তা করে সফলতা দেখিয়েছেন। অল্প দিনেই তিনি তার কর্মকাণ্ডে অভিভাবকসহ সর্বমহলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তার কর্মকাণ্ডে অল্প দিনেই শুধু ঝালকাঠি জেলা নয়,বরিশাল বিভাগ জুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।

    বাহের রোডের বাসিন্দা অভিভাবক আব্দুল আলিম খলিফা বলেন, আমার ছেলেদের নিয়ে আমি খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। ক্রমেই যেন অবাধ্য হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন আমার জীবনে আশির্বাদ হয়ে এসেছেন। আমি মনে করি শুধু আমি নয়, জেলার অনেক অভিভাবকের জীবনেই এমনটা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের প্রতি যে দায়িত্ব পালনে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, সেই দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। যার ফলে বিপথগামী সন্তানরা এখন স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে।

    ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমি একজন অভিভাবক হিসেবে মনে করি ফাতিহা ইয়াসমিনের মতো পুলিশ সুপার পেয়ে ঝালকাঠিবাসী ধন্য। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন সদিচ্ছা থাকলে সমাজের ভালো করা সম্ভব।

    এ ব্যাপারে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, আমি ঝালকাঠিতে আসার পর দেখেছি এখানে উঠতি ছেলেদের রাতভর আড্ডাসহ বিভিন্ন ধরনের সমাজ ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু আমি এখন পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছে আমার জেলায় এসব হবে না। যারা এসব বেআইনি কাজ করছেন তাদের সম্পূর্ণরুপে শুদ্ধ হয়ে চলতে হবে। নতুবা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    তিনি বলেন, আমি মাদক কারবার, চাঁদাবাজি বা জুয়া খেলা কিংবা কোনো অপরাধমূলক কাজ মেনে নেব না। আমার ঝালকাঠি জেলা থাকবে মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত।

    এসপি ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিন থেকে শুরু করে রাত ১২টা নাগাদ তরুণ প্রজন্ম আড্ডা দেয়। এটা যেমনি সমাজের দৃষ্টিতে খারাপ তদ্রুপ পরিবারের জন্যও। তাছাড়া ওই সময় অনেক ছেলে বখাটেপনা করে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দিতে চাই যে, ঝালকাঠিতে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সকল তরুণদের সন্ধ্যার পূর্বেই পড়ার টেবিলে ফিরতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, শুধু বাসস্টেশন ও লোক সমাগম এলাকাগুলো বাদ দিয়ে শহরের বাকি সকল অলিগলিতে সন্ধ্যার পর দলবদ্ধ আড্ডা মেনে নেয়া হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে আমরা কেউ নই। তাই সবাই যখন আইন-কানুন মেনে চলবো তখনই সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে উঠবে।

    এসপি ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে যেসব শিক্ষার্থী চায়ের দোকান এবং পার্কসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করছে তাদেরকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর জন্য আমরা একটি বিশেষ অভিযানে নেমেছি। লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে আড্ডার ফলে যুব সমাজ যাতে ধ্বংসের পথে পা বাড়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রেখে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ঝিনাইদহে ১২টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    ঝিনাইদহে ১২টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    খুলনা প্রতিনিধি/ জান্নাতুল ফেরদৌস:

    ঢাকা থেকে দর্শনাগামী পূর্বাশা পরিবহন থেকে ১২টি স্বর্ণের বারসহ মোঃ শরিফ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব-৬। গত শনিবার গভীর রাতে ঝিনাইদহ থেকে আটক করা হয়। আটক শরিফ উদ্দিন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার পুরাতন বাজার এলাকার মৃত শফি উদ্দিনের ছেলে। র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন বিসিক শিল্প নগরীর সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে। ওই সময় পূর্বাশা পরিবহনে (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৬১১) থেকে তল্লাশী চালানোর সময় যাত্রী মোঃ শরিফ উদ্দিন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশী করে অভিনব কায়দায় জুতার ভিতরে স্কচটেপ দ্বারা প্যাঁচানো ২টি প্যাকেটে উদ্ধার করা হয়। দুটি প্যাকেটে ২৪ ক্যারেটের ১২টি স্বর্ণের বার ছিলো। যার মোট ওজন আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ গ্রাম এবং মূল্য আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা। এছাড়াও তার পাঞ্জাবীর ডান পকেট হতে নগদ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

  • মাদকে ছেয়ে গেছে বরগুনা, রাতে তৎপরতা নেই পুলিশের

    মাদকে ছেয়ে গেছে বরগুনা, রাতে তৎপরতা নেই পুলিশের

    অনলাইন ডেস্ক :

    পটুয়াখালী ও বরগুনার সংযোগ ব্রিজ চান্দখালী সংলগ্ন বাজারে রাতে পুলিশের টহল টিমের তৎপরতা নেই। অভিযোগ রয়েছে, এ পথেই মাদকের চালান এসে ছেয়ে যায় পুরো বরগুনা জেলা।

    বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাত ৩টার দিকে চান্দখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায় ব্রিজ ও চান্দখালী বাজার ফাঁকা। পুলিশ টহল টিমের চিহ্ন নেই কোথাও।

    চান্দখালী পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, সিন্দু নামের এক কনস্টেবল ডিউটিতে থাকলেও ইনচার্জ ঘুমিয়ে আছেন। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।

    চান্দখালীর বাসিন্দা ও পুলিশ ক্যাম্পের অটোরিকশা চালক ইসাহাক জানান, পুলিশ টহল টিমের সদস্যদের আমি নিজে ক্যাম্পে দিয়ে এসেছি আরো ঘণ্টাখানেক আগে।

    চান্দখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জানান, আমাদের পুলিশ টহল টিম বিভিন্ন স্থানে থাকে। বর্তমানে পুলিশ টহল টিম কোথায় আছে ফোন করে জেনে দেখুন, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি (ইনচার্জ) এ প্রতিবেদককে বলেন, মোবাইলে সবসময় নেটওয়ার্ক থাকে না। তাই তারা কোথায় আমার জানা নেই।

    বরগুনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, সম্প্রতি চান্দখালী বাজার সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিদুল ও রুবেল নামে দুইজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছি।

    তবে রাত সাড়ে ৩টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পুলিশ টহল টিমকে চান্দখালীর বিভিন্ন স্থানে খুঁজলেও তাদের দেখা মেলেনি।