Category: ফুটবল

  • বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

    বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

    বা/মু/প্র/ শেখ সুমন

    বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফিলিস্তিন । শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে তাজিকিস্তানকে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হলে শিরোপা নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

    ৬ জাতির টুর্নামেন্টে দুই টপ ফেভারিটের ফাইনাল ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার পনের দর্শক ফাইনাল দেখেছেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে। নিরাশ হননি তারা, একটি প্রাণবন্ত ফাইনাল দেখার তৃপ্তি নিয়েই ঘরে ফিরেছেন।

    নির্ধারিত ৯০ মিনিট, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ থাকলেও গোল নামের সোনার হরিণ ধরা দেয়নি কোনো দলকে। তাই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের সর্বশেষ ব্যবস্থা টাইব্রেকারেই খুঁজে দেয় চ্যাম্পিয়ন দল।

    অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে কৃতিত্বই দেখিয়েছেন তাজিকিস্তানের খেলোয়াড়রা। তারা ১২০ মিনিটের মধ্যে ৮৬ মিনিটই খেলেছেন ১০ জন নিয়ে। ৩৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে মাথা দিয়ে ঢুস মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুল্লু।

    ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন তাজিকিস্তান দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    ম্যাচের প্রথম সুযোগটি তৈরি করেছিল ফিলিস্তিন। ২৩ মিনিটে হেলাল মুসার জোড়ালো শট বাম দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রিজুয়েভ রুস্তম। তিন মিনিট পর খালেদ সলেম তৈরি করেছিলেন সহজ সুযোগ। দুই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে শট নিলে তা ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৩০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইসলাম বাতরানের শট ফিস্ট করেন তাজিক গোলরক্ষক।

    ৩৪ মিনিটে উত্তেজনা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে। তাজিকিস্তানের ফাতখুল্লুকে ফাউল করেন ফিলিস্তিনের মারাবাকে। তারপর ফাতখুল্লু উঠে মাথা দিয়ে গুঁতো দেন মারাবাকে। তারপর শুরু হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি। বাংলাদেশের রেফারি মিজানুর রহমান লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুল্লুকে। বাকি ৮৬ মিনিট তাজিকিস্তানকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে।

    দ্বিতীয়ার্ধে ফিলিস্তিন প্রথম সুযোগ তৈরি করে ৫০ মিনিটে। বাম দিক দিয়ে ঢুকে যে শট নেন তিনি, তা লাফিয়ে ফিস্ট করে বাইরে পাঠান তাজিকিস্তানের গোলরক্ষক রিজুয়েভ রুস্তম। ৬ মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় তাজিকিস্তান। কিন্তু মাঝ মাঠ থেকে উড়ে আসা বলের ফ্লাইট মিস করলে এরগাসেভ জাহাঙ্গীর সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

    ম্যাচটা নির্ধারিত সময়েই শেষ হতে পারতো। ইনজুরি সময়ে তাজিকিস্তান পেয়েছিল ম্যাচের অন্যতম সহজ সুযোগ। ডান দিক থেকে বদলি ওইবেকের ক্রসে পা লাগাতে পারেননি আরেক বদলি খেলোয়াড় বোজোরভ দিলশদ।

    অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধে গোল করার সুযোগ এসেছিল ফিলিস্তিনের। দুর্ভাগ্য পশ্চিম এশিয়ার দলটির। ৯৭ মিনিটে ফিলিস্তিনের পাবলো ব্রাভোর শট বাইরে চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে। ম্যাচটা টাইব্রেকারে না-ও গড়াতে পারতো। ১২০ মিনিটে ফিলিস্তিন পেয়েছিল বক্সের মাথায় একটি ফ্রি-কিক। সেখান থেকে আলবাদারির হেডের পর ফিরতি বলে পাওয়ারফুল হেড নিয়েছিলেন বদলি ফরোয়ার্ড দাবাঘ। কিন্তু বল ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে গেলে হাতছাড়া হয় তাদের শেষ সুযোগটি।

  • ইসরায়েলের কারাগার থেকে সিলেটের মাঠে!

    ইসরায়েলের কারাগার থেকে সিলেটের মাঠে!

    ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের ক্রমাগত নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থনপুষ্ট এই ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। তাদেরই একজন সামেহ মারাবা। তিনি ফিলিস্তিন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। মাতৃভূমির জন্য লড়তে গিয়ে ইসরায়েলের কারাগারে যেতে হয়েছে মারাবাকে।

    সামেহ মারাবা এখন সিলেটে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ খেলতে এসেছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ফিলিস্তিন। তাদের প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান।

    সামেহ মারাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিলের ঘটনা। কাতার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিলিস্তিনে ফিরছিলেন মারাবা। জর্ডান দিয়ে ফেরার পথে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। হামাসের জন্য অর্থ ও যোগাযোগ সংক্রান্ত সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয় মারাবার বিরুদ্ধে। ইসরায়েলের ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রথমে ৪৫ দিন কাটে সামেহ মারাবার। এরপর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন মারাবা।

    কারাগারের স্মৃতি এখনও সামেহ মারাবাকে শিউরে তুলে। তিনি বলছিলেন, ‘বিভীষিকাময় সেইসব দিনের কথা মনে পড়লেও কষ্ট হয়। আমাকে বিনা কারণে আটকে রাখা হয়েছিল। অন্ধকার কুঠুরিতে হাঁটু গেড়ে বসে সারাদিন পার হতো। শারীরিক অত্যাচার করা না হলেও মানসিক অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সূর্যের আলো দেখতে পেতাম না। নিজের প্রিয়জনদের সাথে দেখা হবে কিনা, জানতাম না।’

    ইসরায়েলের অগ্রাসনে নিয়মিত ফুটবল খেলারই সুযোগ হয় না ফিলিস্তিনিদের। বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ নম্বরে ফিলিস্তিনকে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অজুহাত দেখিয়ে গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে ম্যাচ বাতিল করে দেয় ইসরায়েল। এমনকি সীমান্তে ফিলিস্তিন দলকে আটকে দেয়ার ঘটনাও অহরহ।

    ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে পারেনি ফিলিস্তিন। ইসরায়েল বাহিনী তাদেরকে সীমান্তে আটকে দিয়েছিল। এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে গিয়েও ইসরায়েল বাহিনীর বাধায় পড়তে হয় ফিলিস্তিন দলকে। তাদেরকে বহির্গমন ভিসা দেয়নি ইসরায়েল!

    এসব নিয়ে পুরো ফিলিস্তিন ক্ষুব্ধ, সামেহ মারাবাও ক্ষুব্ধ। তিনি বলছিলেন, ‘এসব নিয়ে পুরো ফিলিস্তিন ক্ষুব্ধ, সামেহ মারাবাও ক্ষুব্ধ। তিনি বলছিলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের ওপর দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা হরণ করছে তারা।’

    তবে বঙ্গবন্ধু কাপ খেলতে আসা সামেহ মারাবা সেসব নিয়ে এখন ভাবছেন না। তার ভাবনাজুড়ে এখন এই টুর্নামেন্টে ভালো করা। ফিলিস্তিনের জার্সি গায়ে ১৫ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন সামেহ মারাবা।

  • আর্জেন্টিনা দলে আর ফেরার দরকার নেই : মেসিকে ম্যারাডোনা

    আর্জেন্টিনা দলে আর ফেরার দরকার নেই : মেসিকে ম্যারাডোনা

    ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঠোঁটকাটা স্বভাবের কথা সবারই জানা। তিনি যখন কাউকে কিছু বলেন, কোনো রাখঢাক ভনিতা করে বলেন না। আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির বিষয়েও বেশ কঠোর অবস্থানেই দাঁড়াচ্ছেন ছিয়াশির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। সাময়িক অবসরে থাকা বার্সা তারকাকে পুরোপুরি অবসরে চলে যেতে বলছেন তিনি।

    ক্লাবের মেসি ভীষণ সফল, ততটাই যেন অনুজ্জ্বল জাতীয় দলের জার্সিতে। বেশ কয়েকবার কাছে গিয়েও আর্জেন্টিনাকে একটি বড় শিরোপা জেতাতে পারেননি মেসি। এবারের বিশ্বকাপেও বড় স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিল তার দল, ফলাফল সেই একই। বিশ্বকাপের পর তাই স্বেচ্ছা নির্বাসনে গেছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। এখনও অবসর নেননি, তবে আর তিনি জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, নিশ্চিত নয়।

    এই ব্যর্থতার জন্য অবশ্য মেসিকে দায়ী করছেন না মারাডোনা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব চাম্পিয়ন না হওয়ার জন্য সে দায়ী নয়। আমাদের সবার তার উপর প্রত্যাশা ছিল। যখন আপনি দৌঁড় প্রতিযোগিতায় যাবেন, তখন তো চাইবেন আপনার ঘোড়াই জিতুক, তারপর দেখবেন সে অষ্টম হয়ে ফিরছে। এখনকার জাতীয় দল আমাকে আর টানে না। একইরকম অবস্থা সমর্থকদেরও। আমরা উদ্যমটা হারিয়েছি।’

    দলের এই দুর্দশার মধ্যে মেসির আর জাতীয় দলে ফেরা উচিত নয় বলেই মনে করছেন ম্যারাডোনা। ছিয়াশির নায়ক বলেন, ‘আপনি নিকারাগুয়া আর মাল্টার সঙ্গে খেলতে পারেন না। না, ভাই। আমরা আমাদের সব সম্মান টয়লেটে ফেলে দিয়েছি। আমি চাইব, মেসি যেন আমাদের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে আর আর্জেন্টিনা দলে না ফেরে।’

    এদিকে, বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় হোর্হে সাম্পাওলি কোচের দায়িত্ব হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লিওনেল স্কালোনিকে। এই কোচকেও অপছন্দ ম্যারোডোনার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে যা হয়েছে, আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। কারণ আমরা শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারিনি। এখন তারা স্কালোনিকে নিয়ে এসেছে। স্কালোনি খুব ভালো মানুষ, কিন্তু সে এই কাজের জন্য নয়। তারা কিভাবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে স্কালোনির হাতে তুলে দিল? আপনারা কি পাগল হয়েছেন? স্কালোনিও বললো, আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমি তাকে কখনও আর্জেন্টিনার হয়ে একটি গোল করতে দেখিনি।’

  • ম্যাচের ১২ মিনিটেই অতিথিমেসিদের জালে শট নেন

    ম্যাচের ১২ মিনিটেই অতিথিমেসিদের জালে শট নেন

    লা লিগায় চলতি মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই জয়। পাঁচ নম্বর ম্যাচটিতে নিজেদের মাঠে পা ফসকাল বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যুতে রোববার রাতের ম্যাচে জিরোনার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছেন ভালভার্দের শিষ্যরা।

    ম্যাচের ১২ মিনিটেই অতিথিদের জালে শট নেন মেসি। তবে গোলের দেখা পাননি জিরোনার গোলরক্ষক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে। যদিও গোলের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি মেসিকে। ১৯ মিনিটে আর্জেন্টাইন তারকার গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। মিনিট দশেক পর সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি জিরোনা। তবে প্রথমার্ধেই স্তুতির গোলে সমতায় ফেরে অতিথিরা। ৪৫ মিনিটে বেনিতেসের ক্রস থেকে আড়াআড়ি শটে বল জালে জড়ান স্তুতি।

    দ্বিতীয়ার্ধে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো গোল হজম করে বসে স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে বার্সার বুকে দ্বিতীয়বারের মতো ছুরি চালান প্রথমার্ধে সমতাসূচক গোল করা স্তুতি। ৬৩তম মিনিটে পিকের গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।

    এই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। একই পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদের নাম।

  • ফিফার বর্ষসেরা অনুষ্ঠানে থাকছেন মেসি

    ফিফার বর্ষসেরা অনুষ্ঠানে থাকছেন মেসি

    ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট’র তালিকা থেকে গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো বাদ পড়েছেন লিওনেল মেসি । তবে তালিকা থেকে বাদ পড়লেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই অনুষ্ঠানে ঠিকই উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার।

    জানা গেছে আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে ফিফার এই বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। তালিকায় থাকা ফুটবলারদের পাশাপাশি থাকবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসিও।

    ফিফার বেস্ট প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এবার জায়গা পেয়েছেন পর্তুগালের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ ও মিশরের মোহাম্মদ সালাহ। সেরা তিন ফুটবলারের তালিকায় নাম না থাকলেও ফিফার বর্ষসেরা একাদশে নাম রয়েছে মেসির। আর তাই বাকি ফুটবলারদের সম্মান জানাতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন তিনি।

    সর্বশেষ উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের তালিকায় নাম না থাকায় অনুষ্ঠানে আসেননি রোনালদো। পুরস্কার জেতেন মদ্রিচ। তবে সে ক্ষেত্রে উদারতাই দেখাতে যাচ্ছেন মেসি।

  • বাংলাদেশ বিধ্বস্ত করল ১০-০ গোলে বাহরাইনকে

    বাংলাদেশ বিধ্বস্ত করল ১০-০ গোলে বাহরাইনকে

    বাহরাইনের জালে রীতিমতো গোল উৎসব করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘এফ গ্রুপে স্বাগতিকদের জয় বিশাল ব্যবধানে, ১০-০ গোলে। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, আনুচিং মোগিনী ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের জোড়া গোলে নির্মিত বাংলাদেশের সহজ জয়।

    কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। ১২ মিনিটে আনাই মোগিনির লক্ষ্যভেদে শুরু লাল-সবুজ দলের গোল উৎসব। চার মিনিট পর মারিয়ার জোরালো শটে দ্বিগুণ হয়ে যায় ব্যবধান।

    ১৯ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে বক্সের ভেতরে থাকা আনুচিং মোগিনীর প্লেসিং শটে স্কোরলাইন হয় ৩-০।

    ৩৫ মিনিটে আবার গোল। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা ঋতুপর্ণার ক্রস বাহরাইনের গোলকিপার ফেরালেও আনুচিংয়ের শট কেউ ঠেকাতে পারেনি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আনাই মোগিনীর ডান প্রান্তের ক্রসে হেড করে পঞ্চম গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। এরপর মারিয়ার জোরালো শট বারে লেগে ফিরে এলে ৫-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

    দ্বিতীয়ার্ধেও স্বাগতিকদের আক্রমণে ভাটা পড়েনি। ৫৫ মিনিটে আঁখি খাতুনের পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোল করেন সাজেদা খাতুন। দুই মিনিট পর শামসুন্নাহার জুনিয়রের জোরালো শটে আবার গোল।

    ৫৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে ডানা বাসিম বাংলাদেশকে পেনাল্টি তো দিয়েছেনই, পেয়েছেন লাল কার্ডও। পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন শামসুন্নাহার সিনিয়র। ম্যাচের শেষ দুটি গোল মারিয়া এবং তহুরা খাতুনের।

    দিনের প্রথম ম্যাচে লেবানন ৬-৩ গোলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছে। জাহরা আসাফ হ্যাটট্রিক সহ চার গোল করে টানা দ্বিতীয় জয় এনে দিয়েছেন দলকে।

  • নেইমারকে নিয়ে এত কথা কেন : পিএসজি সভাপতি

    নেইমারকে নিয়ে এত কথা কেন : পিএসজি সভাপতি

    সবেমাত্র এক বছর হলো বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) গিয়েছেন ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার। কিন্তু গত ৬ মাস ধরেই তার দল বদলের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে নেইমারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বলা হচ্ছে স্প্যানিশ লিগ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের নাম। বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবটি ইতিমধ্যে নেইমারকে নিয়ে বেশ কিছু বিবৃতিও দিয়েছে। এতেই চটে গেছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি।

    গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে নেইমার এবং রিয়াল মাদ্রিদ প্রসঙ্গে খেলাইফি বলেছেন, ‘আমি এসব মোটেও পছন্দ করি না। আমরা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা হতাশাজনক। অন্য ক্লাবগুলো আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলে, এটা ঠিক না। আমাদের ভালো একটা সম্পর্ক আছে। তারা পিএসজিকে সম্মান করে। আমরা রিয়াল মাদ্রিদ এবং তাদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে সম্মান করি। আমি মনে করি, পর্দার পেছনে কিছু না করার সবার জন্যই ভালো হবে।’

    ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে নাম লেখান নেইমার। এরপর সতীর্থ এডিনসন কাভানিসহ বেশ কয়েজনের সঙ্গে তার বিবাদের সৃষ্টি হয়। দর্শকরাও দুয়োধ্বনি শুনিয়ে দেয় নেইমারকে। এরপরেই স্পেনের সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়, ২৬ বছর বয়সী নেইমারকে পেতে ৩১ কোটি ইউরো খরচ করতে প্রস্তুত রিয়াল। তবে গত জুলাইয়ে এসব প্রতিবেদন পুরোপুরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয় স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি।

  • রোনালদো-মেসিতে পার্থক্য যেখানে

    রোনালদো-মেসিতে পার্থক্য যেখানে

    লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—এ দুজনের মধ্যে সেরা কে? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। দুজনের মধ্যে পার্থক্য কী কী, এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ঠিক ততটাই সোজা। একজন ডান পা নির্ভর, একজন বাঁ পাকে পুঁজি করে খেলেন। একজন ভয়ংকর এক গোলস্কোরার। আরেকজন প্লে মেকার হয়েই খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। খেলার ধরন, আকার আকৃতি, ব্যক্তিগত জীবন মিলিয়ে পার্থক্যের কমতি নেই। তবে কার্লোস তেভেজ দুজনের মধ্যে মূল একটি পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন।

    স্বল্প কয়েকজন খেলোয়াড়, যাঁরা এ প্রজন্মের সেরা দুজনকে সঙ্গী পেয়েছেন তাঁদের একজন তেভেজ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০৬ সাল থেকেই মেসির সঙ্গী ছিলেন তেভেজ। আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ওয়েইন রুনি ও রোনালদোর সঙ্গে ভয়ংকর এক ত্রয়ীর অংশও ছিলেন।

    ১০টি ব্যালন ডি’অর জেতা এ দুজনের মধ্যে পার্থক্য করার অধিকার তাই আছে এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তেভেজ বলেছেন, ‘লিওনেল মেসিকে আমি কখনো জিমে যেতে দেখেনি। ওকে বল থামানো কিংবা ও ধরনের কোনো অনুশীলনও করতে দেখেনি। এসব ওর স্বভাবগত।’

    এটুকু পরেই মনে হতে পরে মেসি তাহলে অনুশীলন করেন না! না, মেসিরও দুর্বলতা আছে এবং সেটা কাটাতে কঠোর পরিশ্রমই করেন আর্জেন্টাইন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ও অনুশীলন করত। আগে তো ও পেনাল্টি নিত না আর এখন সে সব কোনায় মারে।’

    রোনালদোর ব্যাপার উল্টো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড সবকিছুই নিখুঁত করায় বিশ্বাসী। আর এ জন্য রোনালদো কঠোর পরিশ্রম করেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো সব সময় অনুশীলন শেষে জিমে যাবেই। ওর জন্য ব্যাপারটা একদম বাধ্যবাধকতার মতো। সবকিছুতে সেরা হওয়ার প্রতিজ্ঞার মতো। ও সব সময় সবার আগে হাজির হতো মাঠে।’

    নিজেকে নিখুঁত করতে রোনালদোর আত্মত্যাগের গল্প করতে যা বলেছেন তেভেজ যা বলেছেন, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য, ‘অনুশীলনের সময় যখন নয়টায় ঠিক করা হতো, আমি আটটায় যেতাম। কিন্তু তখনো রোনালদো মাঠে থাকত। সাড়ে সাতটায় উপস্থিত হলেও ওকে সেখানে দেখতাম। আমি তখন নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করলাম, “কীভাবে আমি এ লোকটাকে টপকাতে পারি?” তাই একদিন আমি ছয়টায় হাজির হলাম। কিন্তু রোনালদো তখনো অনুশীলন করছিল! চোখেমুখে ঘুম লেগে আছে, তবু সে সেখানে।’

    নিজেকে সেরা বানাতে হলে কতটা নিবেদন থাকতে হয়, সেটা আরও একবার জানা গেল তেভেজ ও রোনালদোর সুবাদে।

  • পুরস্কারে না থাকলে মেসির কি আসে যায় : সুয়ারেজ

    পুরস্কারে না থাকলে মেসির কি আসে যায় : সুয়ারেজ

    এবার ফিফা বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও জায়গা হয়নি লিওনেল মেসির। ১১ বছর পর এমন ঘটনা ঘটলো, যাতে বিস্মিত পুরো ফুটবল দুনিয়া। তবে বিস্মিত নন তার বার্সেলোনা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কোনো পুরস্কার না জিতলেও তার অর্জনে এতটুকু কিছু আসবে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    ফিফা বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় এবার নাম এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মদ্রিচ, জুভেন্টাসের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর লিভারপুলের মোহামেদ সালাহর। মেসির নামই যেহেতু নেই, পুরস্কার জেতার প্রশ্নই আসে না। মেসির ক্যারিয়ারে কি এটা সবচেয়ে বড় ধাক্কা?

    লুইস সুয়ারেজ মোটেই তেমনটা মনে করছেন না। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কোনো অ্যাওয়ার্ড পাওয়া কিংবা না পাওয়ায় কিছু যায় আসে। সে যা জিতেছে এবং যা অর্জন করে চলেছে, সেটা তার থেকে দূরে যাবে না। ব্যাপারটা এমন যে, আমি গোল করলাম আর এটা (পুরস্কার) জেতার যোগ্য হয়ে গেলাম। আমি এসব মনে করি না। আপনি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, প্রতি ম্যাচেই আপনি সেটা দেখাচ্ছেন।’

    মাঠে মেসির যে প্রভাব, সেটা পুরস্কারের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন সুয়ারেজ। বার্সা স্ট্রাইকারের ভাষায়, ‘পুরস্কারের চেয়ে মাঠে যেটা আপনি জেতেন, সেটা বেশি মূল্যবান। সেটা হতে পারে সেরা গোলদাতা হওয়া। এটা আপনার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনি তো গোল করেই সেটা জিতে নিয়েছেন, মাঠে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, খেলোয়াড় বা সাংবাদিকদের ভোটে আপনি সেটা জেতেননি।’

    আর্জেন্টাইন সতীর্থকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সুয়ারেজ বলেন, ‘এমন অনেক সময় থাকে, যখন আপনাকে তার দিকে তাকাতেও হবে না। কারণ আপনি জানেন, সে বলটা আপনার চাওয়া মতোই দেবে। অনেক সময় থাকে আপনি এমন ফাঁকা জায়গা দেখবেন, যেটাতে সুযোগ নেয়া যায়। এই সময়ও তাকে কিছু বলতে হবে না, কারণ ইতোমধ্যেই সে ওই জায়গায় চলে গিয়েছে। এজন্যই অনেক মানুষ এবং আমার কাছে সে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাকে কিছু বলতে হয় না, কারণ সে সবই দেখতে পায়।’

  • ‘দর্শক মাঠে আসতে শুরু করেছিল’

    ‘দর্শক মাঠে আসতে শুরু করেছিল’

    আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের পর অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের। আলোচনার বিষয়বস্তু সেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই ব্যর্থতা। দেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার, দক্ষ কোচ-ফুটবল মাঠের কোনো কিছুই তার চোখ এড়ানোর নয়। অনেক কিছু বুঝেও তাকে নীরবে সইতে হয়। তিনি যে অভিভাবক।

    কাজী মো. সালাউদ্দিনের একটা শঙ্কা দর্শক ধরে রাখা নিয়ে। নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ এবং বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শক ঢল দেখে অভিভূত হয়েছেন তিনি। অবাক হয়েছেন মালদ্বীপ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচেও ৮/৯ হাজার দর্শক আসায়। সবই জাতীয় দলের ভালো রেজাল্টে।

    ‘দল ভালো ফলাফল করলে দর্শক আসবে। এটা আমি আগেও বলেছি। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম, দর্শক মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরে। দর্শক মাঠে আসতে শুরু করেছিল। এটা দেশের ফুটবলের বড় এক দিক। কিন্তু হঠাৎ সব এলোমেলো’-বলছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি।

    এই হারের নেতিবাচক প্রভাব বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দর্শকদের মধ্যে পড়বে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘পড়তেও পারে। মানুষ জয় দেখতে পছন্দ করে। তবে আমাদের দায়িত্ব হলো এটা কাটিয়ে তোলা। একটি হার, একটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়া মানেই কিন্তু সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। জার্মানিও তো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে, জার্মানির ফুটবল শেষ হয়ে গেছে।’