Category: ফুটবল

  • প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে বাংলাদেশ

    প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে বাংলাদেশ

    সেমিফাইনালে ওঠার দারুণ হাতছানি। জয় প্রয়োজন নেই, কোনোমতে ড্র করতে পারলেও চলবে। তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই উঠে যাবে সেমিফাইনালে। তবে হারের কোনো অবকাশ নেই। নেপালের কাছে যে কোনো ব্যবধানেই হার মানে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত। দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩-০ গোলে জয়ের পরই এই সমীকরণ দাঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সামনে।

    সেই সমীকরণ সামনে নিয়েই নেপালের বিপক্ষে খেলতে নামে জেমি ডে’র শিষ্যরা। আগের দুই ম্যাচে ভুটান এবং পাকিস্তানকে হারানোর কারণে দারুণ উজ্জীবিত ছিল বাংলাদেশ দল। শুরু থেকেই তপু বর্মণরা আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে কাঁপন ধরিয়ে দেয় নেপালের রক্ষণভাগে।

    কিন্তু দুর্ভাগ্য সঙ্গী হলে যা হয় আরকি! ৩৩ মিনিটে গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অ-মার্জনীয় ভুলের খেসারত দিয়ে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। রাইট উইংয়ে ফ্রি-কিক পায় নেপাল। শট নেন নেপালের বিমল ঘার্তিমাগার। তার নেয়া দুর্দান্ত শটটি চলে আসে সোজা গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের হাতে। দুই হাত মাথার ওপর বাড়িয়ে বলটি লুফে নেন গোলরক্ষক। কিন্তু হাতে আর বলটি জমিয়ে রাখতে পারলেন না। তার হাত গলে বল চলে গেলো জালে।

    যেখানে হারা যাবে না- এমন কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশের সামনে, সেখানে গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অ-মার্জনীয় ভুল বাংলাদেশকে ঠেলে দিলো ব্যাকফুটে। নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচেও এই গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ভুলের কারণে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এসেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি।

  • নিজের দাম বোঝাচ্ছেন তপু বর্মণ

    নিজের দাম বোঝাচ্ছেন তপু বর্মণ

    পাকিস্তানকে হারিয়ে এসে কথায় কথায় আটখানা হাসি হাসছিলেন তপু বর্মণ। নির্মল সেই হাসিতে বোঝার উপায় নেই মাঠে কতটা মারমুখো হয়ে থাকেন তিনি। দলের সহকারী কোচ যিনি কিনা দলের ডিফেন্স অর্গানাইজেশন দেখারও মূল দায়িত্বে, সেই স্টুয়ার্ট পল ওয়াটকিসের চোখে তপুর মূল শক্তির জায়গাই হলো তাঁর আক্রমণাত্মক মনোভাব, ‘এর জোরেই ও স্ট্রাইকারদের সামলাতে ভয় পায় না। এই কারণেই প্রতিপক্ষ বক্সের মধ্যেও সে অপ্রতিরোধ্য।’

    বয়স কতই বা, ২৩ ছাড়িয়েছেন মাত্র। ডাচ কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফের হাতে এক ঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছিল নেপাল সাফের পর। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তপুর নিজেকে চেনানো তখন থেকেই। স্টপার ব্যাক পজিশনে খুব দ্রুত ‘তরুণ প্রতিভার’ তকমা ঝেড়ে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন দলে। যে কারণে এরই মধ্যে ২৩ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তাঁর। মোহামেডানের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে শেখ রাসেল হয়ে ঢাকা আবাহনীতেও খেলে ফেলেছেন। জাতীয় দল এবং আকাশি-নীল জার্সিতে তাঁর নির্ভরতা দেখে নতুন ক্লাব সাইফ স্পোর্টিং গত মৌসুমে রেকর্ড ট্রান্সফারে তাঁকে দলে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ডিফেন্ডারের পেছনে ৫৮ লাখ টাকা খরচ বিস্ময় জাগালেও তপুর সামর্থ্য নিয়ে কেউ সন্দেহ করেননি। যদিও সাইফে সময়টা কেটেছে হতাশায়।

    ক্লাবের অভিযোগ অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। লিগ ম্যাচে একাধিক এবং টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে এএফসি কাপেও তাঁর লাল কার্ড দেখায় যারপরনাই হতাশ ছিলেন সাইফের কর্মকর্তারা। কিন্তু জাতীয় দলে তাঁর পারফরম্যান্স দেখুন। এমন বাজে একটা মৌসুম কাটিয়ে এসেছেন কে বলবে! এশিয়ান গেমসে তিন সিনিয়র খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে জেমি ডে’র দলের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। এশিয়াডের পর সাফেও খেলছেন আক্রমণাত্মক অথচ নিখুঁত ফুটবল। বাংলাদেশ দলের এত দিন যে মাথাব্যথা ছিল বক্সের আশপাশে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রিকিক উপহার, জেমির এই দলে সেই প্রবণতা নেই বললেই চলে। এশিয়াডে চার ম্যাচ খেলেছেন, সাফেও খেলে ফেলেছেন দুই ম্যাচ। তাঁর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোলের পর ওই জার্সি খোলার কারণে শুধু একবার হলুদ কার্ড দেখেছেন, লাল কার্ড তো দূরের কথা। তবে কি সাইফই জহরতের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি? লাল-সবুজ জার্সিতে কিন্তু তপু দেখাচ্ছেন তিনি সত্যিই কতটা দামি।

    ওয়াটকিস বলছিলেন দলের ডিফেন্ডারদের ফাউল করার প্রবণতা কমেছে অর্গানাইজেশন ঠিকঠাক হওয়াতেই, তার পেছনে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি ফিটনেসের। তপু নিজেও বলেছেন শক্তিশালী পাকিস্তানিদের বিপক্ষেও ‘মাথা খাটিয়ে খেলেই’ তাঁরা সফল। ৯৫ মিনিট পর্যন্ত সেই মাথা খাটিয়ে পারফরম করে যেতে পেরেছেন যে তাঁরা, সেই জ্বালানি আবার জুগিয়েছে ফিটনেস। আজ নেপালের বিপক্ষে আরেকটি কঠিন পরীক্ষায় নামতে তাই ভীত নন তপু কিংবা বাংলাদেশ ডিফেন্সের কেউ। পাকিস্তানের বিপক্ষে যাঁরা বেঞ্চে ছিলেন এবং শেষ দিকে বদলি নেমেছিলেন যে তিনজন তাঁদের নিয়েই কাল বিকেলে ঘাম ঝরিয়েছেন জেমি ডে ও তাঁর সহকারীরা। তপুরা হোটেলেই ছিলেন বিশ্রামে। আজ আবার সজীব হয়ে মাঠে নামার কথা তাঁদের। দলের সিনিয়র স্টপার ব্যাক নাসিরউদ্দিন চৌধুরী এখনো মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না তপু ও টুটুল হোসেন বাদশা সমান তালে পারফরম করছেন বলেই। জুনিয়র টুটুলকে গাইডও করছেন তপু, নিজে যেমন দারুণ ভক্তি করেন লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সালকে। দুজনই নারায়ণগঞ্জের। মোনেম মুন্নার সাহচর্যও পেয়েছেন ওয়ালি। কিংব্যাকের সেই ধারাটাই যেন তাঁরা ধরে রেখেছেন জাতীয় দলে। গত মৌসুমে তপুর রেকর্ড পারিশ্রমিকই তো মুন্নাকে স্মরণ করিয়েছে। এখন পারফরম্যান্সেও সেই পথে হাঁটার দাবি। এই সাফ বড় উপলক্ষ হয়েই এসেছে তপুর জন্য, রক্ষণ সামলানোর মূল কাজটা করে দুই ম্যাচে দুই গোলও যে করে ফেলেছেন তিনি। আরেক বর্মন রজনী কান্তের হাত ধরে ২০০৩-এর সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। তপু এত দূর এখনই ভাবতে চাইছেন না, ‘সেমিফাইনালে ওঠা নিয়েও এখনো অনেক সমীকরণ। অত দূর তাই আমরা ভাবতে চাই না। নেপালিদের হারানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। ওরাও দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ডিফেন্সে আমাদের ছয়জনের তাই আরো একাত্ম হয়ে খেলতে হবে।’ হ্যাঁ, ডিফেন্সে ছয়জনের কথাই বলেছেন তপু। জেমি ডে’র একাদশে দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার যে থাকবেই। ডিফেন্ডিংয়ের সময় সেই দুজনকে নিয়েই বাংলাদেশের ছয়। এভাবেই এখনো পর্যন্ত কঠিন বাধাগুলো পেরিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজ। যেকোনো একজনের ভুলচুকেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে সব। তবে তা হচ্ছে না, বরং তপুর মতো একজনের পারফরম্যান্স গোটা দলকেই করছে উজ্জীবিত।

  • উপেক্ষিত সুফিলই এখন অপরিহার্য

    উপেক্ষিত সুফিলই এখন অপরিহার্য

    শামীম ইসলাম:

    ০১৬ স্বাধীনতা কাপ। তিন তরুণ উঠে এলেন আলোচনায়। তৃতীয় বিভাগ থেকে সরাসরি প্রিমিয়ারের ক্লাবে নাম লিখিয়ে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালেও তুলে নেন দলকে। আরামবাগের সেই তিন তরুণ তুর্কি জাফর ইকবাল, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাহবুবুর রহমান সুফিলের মধ্যে জাফর, আব্দুল্লাহ দুজনই এরপর ডাক পেয়ে গেলেন টম সেইন্টফিটের মালদ্বীপ ও ভুটানগামী দলে। যে ম্যাচ দুটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় লজ্জা। মালদ্বীপের মাঠে ৫-০ এবং ভুটানের কাছে প্রথমবারের মতো ৩-১ গোলের হার।

    ত্রয়ীর দুজনের জাতীয় দলে সুযোগ হয়ে যাওয়া, একা পড়ে যাওয়া সুফিলের মধ্যে কি জেদ তৈরি করেছিল কে জানে! পরের ইতিহাস এবং বর্তমানও সিলেটি এই ফুটবলারের সঙ্গী। ঝড়ে গেছেন জাফর, আব্দুল্লাহরা। কে জানত ভুটান ম্যাচের কলঙ্কিত সেই স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া সুফিলই দুই বছর বাদে সেই হারেরই শোধ নেবেন। জাফর, আব্দুল্লাহ ওই বছর বড় দলের হাতছানিতে ক্লাবও ছাড়েন, সুফিল থেকে যান আরামবাগেই। ক্লাব তাঁর মূল্য দেয়। পরের মৌসুমে মারুফুল হকের দলের অধিনায়ক হন তিনি। এই সময়েই অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে জাফর-সুফিল আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েন জাতীয় দলে। উইঙ্গার থেকে তাঁর স্ট্রাইকার বনে যাওয়া এই আসরেই। ভারতের বিপক্ষে সেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জাফরের সঙ্গে তাঁরও দারুণ অবদান।

    স্ট্রাইকার সুফিল পারফরম্যান্সটা ধরে রাখেন পরের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়েও। সে আসরের চার ম্যাচে তাঁর তিন গোল। মূল জাতীয় দলে এরপর উপেক্ষা করা যায় না তাঁকে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে থাকা অ্যান্ড্রু ওর্ড তাঁর অভিষেকের সুযোগ করে দেন লাওসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। ভুটান লজ্জার দুই বছর পর হওয়া জাতীয় দলের সেই ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে একমাত্র গোলটি তাঁর। পরশু ভুটানের বিপক্ষে সিনিয়র জাতীয় দলে তাই মাত্রই দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল তাঁর। তাতেও গোল করে দুইয়ে দুই করে ফেললেন এই স্ট্রাইকার। হ্যাঁ, তাঁকে এখন স্ট্রাইকার বলাই যায়। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের তুমুল পারফরম্যান্সেও তাঁর অবদান অনেক। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে একমাত্র গোলটি তাঁর। জাকার্তা থেকে ফিরে পরশু একই ছন্দে খেললেন ভুটানের বিপক্ষে। জেমির চোখে ম্যাচের সেরা পারফরমার ছিলেন তিনি, ‘সুফিল খুবই ভালো খেলেছে এই ম্যাচে। আমাদের সেরা পারফরমার বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। গোলটা ছিল অসাধারণ। সত্যি বলতে তাকে নিয়ে আমার আশা এখন আরো বেড়ে গেছে।’

    জাতীয় দলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে আজ তিনে তিন করার হাতছানি এই স্ট্রাইকারের সামনে। কতটা মুখিয়ে আছেন তিনি। কাল টিম হোটেলে বিশ্রামের ফাঁকে জানালেন নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের খেলাটা আসল, ‘আমরা দল হিসেবে যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে গোল আসবেই। সেটা আমি করতে পারি বা অন্য যে কেউ।’ জেমির দলের মূলমন্ত্রও এটাই। যে কারণে সুফিল দলের নাম্বার নাইন নয়, তাঁর মতো একই দায়িত্ব আছে সাদ উদ্দিনেরও, এশিয়াডে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যিনি বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি করেছেন। স্কোয়াডে প্রকৃত নাম্বার নাইন হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন রনি আছেন।

    কিন্তু সুফিল দলের দর্শন ও পরিকল্পনায় অনেক বেশি একাত্ম বলেই মূল একাদশে তিনিই ফেভারিট। আজ অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ তাঁর। পরশু নেপালের দারুণ আক্রমণভাগও খাবি খেয়েছে পাকিস্তানি ডিফেন্সের কাছে। জেমির চোখে, ‘উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নয় শুধু ওদের ডিফেন্স অর্গানাইজেশনও খুব ভালো।’ সুফিল বলছেন, ‘এমন ডিফেন্সের বিপক্ষে আমাদের আরো বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে হবে। ওদের উচ্চতা আমার কাছে সমস্যা মনে হয় না, গতি ও কৌশলে তা হারানো যাবে।’ নিজের কথা বলতে গিয়ে পুরো দলকেই হয়তো বার্তা দিলেন ভুটান ম্যাচের সেরা পারফরমার। বাংলাদেশ কোচও মনে করছেন ভুটানের চেয়ে কঠিন হবে পাকিস্তানকে হারানো। তবে খেলার ধরন বদলানোর কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।

    অর্থাৎ একই রকম গতিময় ফুটবল আশা তাঁর সাদ, সুফিল, বিপলুদের কাছ থেকে। আর সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যাপারে আরো একটু বেশি মনোযোগ। ওয়ান অন ওয়ানে সুফিলকে গোল মিস করতে দেখা কোচকে মেনে নিতে হয় অসাধারণ আরেকটি সুযোগ হয়তো ঠিকই কাজে লাগাবেন তাঁর শিষ্য। এখন পর্যন্ত সেই আস্থার অন্যথা হয়নি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই প্রত্যাশা কোচের, সবারও।

  • মামুনুলকে নিয়ে শুরু করছে বাংলাদেশ

    মামুনুলকে নিয়ে শুরু করছে বাংলাদেশ

    ভুটানের বিপক্ষে বেশ কিছু ভুল করার পর গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল বেশ। শোনা গিয়েছিল আবাহনীল লিমিটেডের এ গোলরক্ষকের পরিবর্তে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ হতে পারে এশিয়াডে দুর্দান্ত খেলা আশরাফুল রানার।

    কিন্তু সোহেল থাকছেন দলে। আগের ম্যাচ থেকে পরিবর্তন এসেছে অন্য এক জায়গায়। মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।

    আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে জামাল ভূঁইয়ারা।

    ৪-২-৩-১ ফরমেশনে বাংলাদেশের একাদশ:
    শহিদুল আলম (২২) ( গোলরক্ষক) ; ডিফেন্ডার : বিশ্বনাথ ঘোষ (১২) , তপু বর্মন (৪) , টুটুল হোসেন বাদশা (৫), ওয়ালি ফয়সাল(৩); মাঝমাঠ : জামাল ভুঁইয়া (৬), মামুনুল ইসলাম (৮) ও মাসুক মিয়া জনি (১৮) ; আক্রমণভাগ: মাহবুবুর রহমান সুফিল (১৬) , বিপলু আহমেদ (১৫) ও সাদউদ্দীন (৯)।

  • মেসিকে সতর্ক করে দিলেন রিয়াল কোচ

    মেসিকে সতর্ক করে দিলেন রিয়াল কোচ

    শামীম ইসলাম:

    শেষ ৯টি বছর দু’জনের দ্বৈরথ দেখার জন্য উন্মুখ হয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা নয়, ফুটবল বিশ্ব শাসন করা এই দুই ফুটবলারের পরস্পর লড়াইতে মেতে থাকার জন্য প্রায় এক দশক সুযোগ পেয়েছে ভক্ত-সমর্থকরা। এবার সেই দ্বৈরথ ভেঙে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে গেলেন ইতালিতে। যোগ দিলেন জুভেন্টাসে।

    রোনালদো চলে যাওয়ার পর এই প্রথম এ নিয়ে কথা বললেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী, বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, ‘রোনালদো ছাড়া রিয়াল দুর্বল শক্তির দল।’

    কিন্তু মেসির এই কথা খুব সহজভাবে নিতে পারেননি রিয়ালের বর্তমান কোচ হুলেন লোপেতেগুই। তিনি মেসির প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে দিয়ে বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ে দুশ্চিন্তা মেসির না করলেও চলবে। আমি তো রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড় এবং স্কোয়াড নিয়ে এক সেকেন্ডও চিন্তিত নই।’ এল ট্রান্সিটরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেসির প্রতি এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন লোপেতেগুই।

    রোনালদোর চলে যাওয়া নিয়ে এর আগে কোনো কথা বলেননি রিয়াল কোচ। কিংবা এ নিয়ে রোনালদোর সঙ্গেও কথা বলেননি। সেটাই তিনি জানিয়ে দিলেন সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, ‘আমি রোনালদোর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলিনি। আমি যখন রিয়ালে আসি, তখন এটা ছিল একটা অবস্থা। তখন সে রিয়াল ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। ক্লাবও তার এই ইচ্ছাটা গ্রহণ করেছিল তখন। সিদ্ধান্তটাকে আমি স্বাগত জানাই এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করি।’

    একই সঙ্গে হুলেন লোপেতেগুই এটাও জানিয়ে দেন যে, বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে স্পেন জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে নিজের মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নেই তার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা নিয়ে নিজের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। ভবিষ্যতেও হয়তো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি।’

    বিশ্বকাপের পর লোপেতেগুইয়ের জায়গা নিয়োগ দেয়া হয়েছে বার্সেলোনার সাবেক কোচ লুইস এনরিকেকে। এ নিয়েও কোনো বক্তব্য নেই লোপেতেগুইর। তিনি বলেন, ‘স্পেন জাতীয় দল নিয়ে কোনো কিছু শুনলে তা আমার মর্মে আঘাত করে না। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমার সামনে এখন দারুণ এক চ্যালেঞ্জ। তবে আমি স্পেন জাতীয় দলের সব সময় ভালো কামনা করি। স্পেন দলের কোচ এনরিকে, প্রতিটি ফুটবলার- সবার প্রতিই রইলো আমার শুভেচ্ছা।’

  • পর্তুগাল দল থেকে সরে গেলেন রোনালদো

    পর্তুগাল দল থেকে সরে গেলেন রোনালদো

    দেশের হয়ে নেশনস লীগ ও একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য গঠিত জাতীয় দল থেকে স্বেচ্ছায় সরে গেলেন পর্তুগাল সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    জাতীয় দলের কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস শুক্রবার বলেছেন নিজের অনুরোধের ভিত্তিতেই রোনালদোকে বাইরে রেখে জাতীয় দল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি রোনালদোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাসে যাবার বিষয়টি অনুধাবন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

    স্যান্টোস বলেন, আলোচনার পর আমি ওই খেলোয়াড়ের সঙ্গে একমত হয়েছি। তিনি সবেমাত্র জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে মানিয়ে নেয়ার বিষয় রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদে থাকার সময় সর্বশেষ আটটি মৌসুমে গড়ে ৪০টি করে গোল করেছেন রোনালদো। তবে নতুন ক্লাবে যাবার পর এখনো কোন গোল করতে পারেননি ৫ বারের ব্যালন ডি আর খেতাবধারীর।

    উরুগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব থেকে বিদায় নেয়া পর্তুগাল আগামী বৃহস্পতিবার ফারোতে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এরপর তারা ইতালি সফরের প্রস্তুতি নিবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর উয়েফার অধীনে নতুন শুরু হওয়া নেশনস লীগের প্রথম ম্যাচে অংশ নিবে তারা।

  • ধারে বার্সা থেকে ডর্টমুন্ডে আলকাসের

    ধারে বার্সা থেকে ডর্টমুন্ডে আলকাসের

    ২০১৮-২০১৯ মৌসুমের বাকি সময়ের স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা থেকে ধারে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দিয়েছেন পাকো আলকাসের। স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডকে নিতে জার্মান ক্লাবটির খরচ হয়েছে ২ মিলিয়ন ইউরো। মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডর্টমুন্ড।

    এ ব্যাপারে ২৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড ক্লাবের ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘ডর্টমুন্ড ও তাদের অবিশ্বাস্য সমর্থকদের জন্য খেলতে মুখিয়ে আছি আমি। বুন্দেসলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগ।’

    এদিকে, মৌসুম শেষে চাইলে আলকাসেরের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে চুক্তি করতে পারবে ডর্টমুন্ড। এ জন্য তাদের খরচ হবে আরও ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

    উল্লেখ্য, আলকাসের ২০১৬ সালে ভ্যালেন্সিয়া থেকে বার্সায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাতালান ক্লাবটির নিয়মিত একাদশে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি তিনি।

  • ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন

    ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন

    ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচে শুক্রবার স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাপান। খেলার প্রথমার্ধে স্পেন আধিপত্য ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি।

    এদিন ম্যাচের ৩৫ মিনিটে স্পেনের ফুটবলার ক্যান্ডেলা আন্দুজা গোল করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। এরপরে ৩৮ মিনিটে স্পেনের জালে প্রথম গোল জড়ান জাপানি ফুটবলার হিনাতা মিয়াজাওয়া। এর কিছুক্ষণ পরে জাপানের জালে গোল জড়ানো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় স্পেন। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে দেন জাপানের সাওরি তাকারাদা। এরপর ৬৫ মিনিটে তৃতীয় গোল করে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান ফুকা নাগানো। খেলার ৭১ মিনিটে স্পেনের পক্ষে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন আন্দুজা।

    শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।

  • বিপাকে পিএসজি, শাস্তি হলে ছাড়তে হবে নেইমার-এমবাপ্পেকে!

    বিপাকে পিএসজি, শাস্তি হলে ছাড়তে হবে নেইমার-এমবাপ্পেকে!

    এবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই। স্পেনের রেডিও স্টেশন ‘ওন্দা সেরো’র রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকেই। উয়েফার ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি তদন্তের শেষে পিএসজির আর্থিক অনিয়মের জন্য শাস্তির পথে হাঁটে তাহলে ক্লাবটিকে ছেড়ে দিতে হতে পারে নেইমার এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের যেকোন একজনকে।

    এছাড়া ওন্দা সেরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, উয়েফার অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তি কার্যকর হলে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি রিয়াল মাদ্রিদ, মোনাকো, বার্সেলোনা। নেইমারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। মোনাকো তাদের পুরোনো তারকা এমবাপ্পেকে নিতে তৎপর হবে। বার্সেলোনার ভূমিকা আপাতত দর্শকের।

    এদিকে, ফিনান্সিয়াল ফেয়ার (প্লে এফএফপি) কথায়, ফুটবলার কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আর্থিক নিয়ম মেনে চলা, যাতে কোন ক্লাব অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাড়তি সুবিধা না নিতে পারে। এই নিয়মের দিকে চোখ রেখে সব সময় পা ফেলতে হয় ম্যানচেস্টার সিটি, কখনও পিএসজি, কখনও রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মতো ধনী ক্লাবগুলোকে।

    উল্লেক্য, গত বছর নেইমারের জন্য বার্সেলোনাকে ২২ কোটি ২০ লক্ষ ইউরো ট্রান্সফার মূল্য দিয়েছিল পিএসজি। তারপর মোনাকো থেকে এমবাপ্পেকে নিতে আইনের ফাঁক খুঁজে বের করেছিল পিএসজি কর্তারা। গত বছরেই এমবাপ্পেকে তারা নিয়েছিল লোনে। কিন্তু একটি শর্ত চুক্তিতে রাখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এখন লোনে নিলেও পরে পাকাপাকি ভাবে এমবাপেকে কিনে নেওয়ার ‘অপশন’ আছে। সেখানে ট্রান্সফার মূল্য উল্লেখ ছিল ১৮ কোটি ইউরো।

    সেই সময় পিএসজি ঘোষণা করেনি, তারা এমবাপ্পের সঙ্গে পাকাপাকি চুক্তি করছে। তাহলে সেই বছরের অ্যাকউন্টেই ১৮ কোটি ইউরো ট্রান্সফার মূল্যের হিসেব ঢুকে যেত। সরাসরি আর্থিক বেনিয়মের খাতায় চলে যেত তাদের বার্ষিক হিসাব। এখন যা পরিস্থিতি তাতে এফএফপি নিয়ে পিএসজির বিরুদ্ধে তদন্তে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে কোপ পড়বে এই দুই তারকার যেকোন যে একজনের উপর। নেইমারকে বিক্রি করতে হতে পারে। অথবা, এমবাপ্পের সঙ্গে যে লোন চলছে, তা বাতিল করতে হতে পারে।

  • নেইমার রিয়ালে, ইঙ্গিত ব্রাজিলের চ্যানেলগুলোর সিদ্ধান্তে

    নেইমার রিয়ালে, ইঙ্গিত ব্রাজিলের চ্যানেলগুলোর সিদ্ধান্তে

    নেইমার-রিয়াল মাদ্রিদ নাটকের নতুন পর্ব। ব্রাজিলে দেখানো হবে না লিগ ওয়ানের খেলা, ফলে দেখা যাবে না নেইমারের খেলা। এতে অনেকেই নেইমারের দলবদলের ইঙ্গিত পাচ্ছেন

    কাব্য করে লাভ কী, যদি সেটা কাউকে শোনানো না যায়? অসাধারণ কোনো শিল্পের জন্ম দিয়েও কি কোনো লাভ আছে, যদি না সেটা উপভোগ করার কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায়? এ প্রশ্নগুলোর সঙ্গে হাত ধরাধরি করেই একটি প্রশ্ন করে ফেলা যাক, কী লাভ গোল করে, সে গোলে যদি ভক্তেরা তালিই না দেয়!

    এমন প্রশ্ন নিজেকে নিজে করতেই পারেন নেইমার। কারণ, বিশ্বজুড়ে তাঁর অগণিত ভক্ত থাকতে পারে, তাঁর গোলে মন জুড়াতে পারেন। কিন্তু নেইমার নিজেও জানেন তাঁর সেরা ভক্তরা সবাই বাস করেন দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশে, ব্রাজিলে। গত মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগ মাতানো নেইমার এবারও দুর্দান্ত শুরু করেছেন লিগে, দুই ম্যাচে করেছেন দুই গোল। কে জানে এবার হয়তো লিগ ওয়ানের গোলের সর্বকালের সব রেকর্ডও ভেঙেচুরে দিতে পারবেন পরিপূর্ণ সুস্থ থাকলে। কিন্তু ব্রাজিলে থাকা তাঁর সবচেয়ে বড় ভক্তকুল যে সে মুহূর্তগুলোই দেখতে না পারেন, তবে পূর্ণ তৃপ্তি আসবে?

    গোলডটকমে ড্যানিয়েল এডওয়ার্ডস এ প্রশ্নটাই করেছেন নেইমারের কাছে। গত মৌসুমে ফেব্রুয়ারির পর আর খেলতে পারেননি, তার পরও ২৮ গোল করেছেন নেইমার। এবারও তাই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে গোলবন্যা আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু ব্রাজিলের টিভি দর্শকের সরাসরি তা দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, দেশটির টিভি সম্প্রচারকারীরা কেউ লিগ ওয়ানের টিভি স্বত্ব কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। নেইমার নিজেই যেখানে বলছেন পিএসজিতেই থাকবেন, এখানেই কিছু করে দেখাবেন, তাতে আস্থা রাখতে পারছে না তারা, নাকি ফ্রেঞ্চ লিগে যত রেকর্ডই ভাঙুন না কেন, সেটা গোনায় ধরতে চাইছে না কেউ!

    ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে ফ্রেঞ্চ লিগ ঢুকে পড়েছে এখন। এ লিগে গোল করে এখন তাই ইউরোপিয়ান সোনালি জুতার দৌড়ে থাকা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্রেঞ্চ লিগের মান নিয়ে ইউরোপের শীর্ষ চার লিগে একটু নাক সিটকানো ভাব আছে। এমনিতেই দুর্বল এক লিগে পিএসজির মতো কাতারি অর্থে ধনবান দল লিগটাকে আরও একপেশে করে দিচ্ছে। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিকে থাকা মোনাকো থেকেও অর্থের ভারে সেরা তারকা নিয়ে যায় পিএসজি। ফলে ফ্রেঞ্চ লিগ নিয়ে ইউরোপে কেউই মাথা ঘামাতে যায় না। ইতালি কিংবা জার্মানিতেও একপেশে শিরোপা লড়াই, কিন্তু সেখানকার খেলার মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। লিগ ওয়ানের ক্ষেত্রে মান নিয়ে লড়াইয়ের মুখ নেই খুব একটা।

    এমবাপ্পে এরই মাঝে নেইমারের কাছাকাছি চলে এসেছেন তারকাখ্যাতিতে। ছবি: রয়টার্সনেইমারের জন্য তাই পিএসজি এক বড় ‘কিন্তু’ হয়ে উঠেছে। প্যারিসের ক্লাবে খেলে বিশ্ব ফুটবলে নজর কাড়ার তাই একটিই উপায়, আর সেটা হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। কিন্তু এক মৌসুমেই নেইমার-এমবাপ্পেকে কিনেও নিজের ভাগ্য বদলাতে পারেনি দলটি। শেষ ষোলোতেই বিদায় নিয়েছে গতবারও। এবারও যে এর ভিন্ন কিছু হবে, এমনটা আশা দেখাতে পারছে না কেউ।

    এর চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লিওনেল মেসির ছায়ায় থাকবেন না বলে পিএসজিতে এসেছেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন বলেই রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার প্রসঙ্গে বারবার যতি পড়েছে। কিন্তু এবার পিএসজিতে যে বয়ঃকনিষ্ঠ এমবাপ্পের আড়ালে পড়ার দশা। একে তো সদ্য বিশ্বকাপ জেতায় ফ্রান্স ও প্যারিসের নয়নের মণি এখন এমবাপ্পে। ক্লাবের জার্সি বিক্রিতে তাঁকে পোস্টার বয় বানিয়েছে ক্লাব। আবার গত সপ্তাহেই নেইমার মাঠে থাকা অবস্থায় ১-০ তে পিছিয়ে পড়া দলকে উদ্ধার করেছেন বদলি নামা এমবাপ্পে। এ মৌসুমে এমন কিছু বারবারই হয়তো দেখা যেতে পারে।

    এ কারণেই নেইমারের রিয়ালে যাওয়ার গুঞ্জন আবারও শুরু হয়েছে। মাসের শুরুতেই একদম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নেইমারকে নেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ জানিয়েছে রিয়াল। কিন্তু অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা ৩০০ মিলিয়ন ইউরো এবং দলবদলে কোনো ফরোয়ার্ড কেনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না থাকা ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক বার্সেলোনা তারকা রিভালদো যেমন বিশ্বাস করেন, নেইমার একদিন রিয়ালে খেলবেনই, ‘আপাতত আমি ওর কথা বিশ্বাস করছি যে সে পিএসজিতে থাকবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা শুনেছি, আগে হোক পরে হোক সে রিয়ালে যাবে।’ আর এবারই পিএসজি থেকে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে আসা ইউরি বেরচিচেও বলছেন সাবেক সতীর্থকে খুব শিগগির লা লিগায় সঙ্গী পাবেন, ‘ও ফিরবে বলেই মনে হয় তবে নীল-লালে (বার্সেলোনা) নয়, সাদাতে (রিয়াল)। সে বার্সেলোনাতে খুব সুখী ছিল। সে এখনো লা লিগা খুব পছন্দ করে। আমি জানি কারণ ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব আছে, সে অসাধারণ মানুষ। সে মাদ্রিদে এলে তার জন্য শুভকামনা।’

    মাদ্রিদে নেইমারের চলে আসার কথা যত সহজে বলা হচ্ছে, কাজটা এর চেয়ে অনেক কঠিন। একে তো ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর ট্যাগ, সে সঙ্গে মৌসুমে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ইউরো বেতনের ব্যাপারটাও আছে। রোনালদোকে এর চেয়ে প্রায় অর্ধেক বেতন দিত রিয়াল। কিন্তু একই মৌসুমে জিদান ও রোনালদোকে হারানো ক্লাবটি সমর্থকদের শান্ত করতে চায়। সেই সঙ্গে ক্লাবের গ্যালাকটিকো আনার সংস্কৃতির কথা চিন্তা করলে নেইমারের দলবদল এখনো আলোচনায় পানি পাচ্ছে। আর ব্রাজিলিয়ান টিভি সম্প্রচারকারীদের লিগ ওয়ানের টিভি স্বত্ব না কেনার সিদ্ধান্ত যে সুদূরপ্রসারী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এ কথাও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না!