Category: ফুটবল

  • দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও গোল্ডেন বল জিতলেন মদ্রিচ

    দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও গোল্ডেন বল জিতলেন মদ্রিচ

    ক্রোয়েশিয়ার জাদার শহরের ঠিক পাশেই ডায়নারিক আল্পসের পাদদেশে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ক্রোয়েট তারকা লুকা মদ্রিচ। ছোটবেলাটা বেশ কষ্টে কেটেছে তার। যুদ্ধের দামামার মাঝেই বড় হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার এই অধিনায়ক। সে সময়ে জাদার শহরের অবস্থা ছিল বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানের মতো।

    তার জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটেছে রিফিউজি ক্যাম্পে। মদ্রিচের ছোট্ট সেই শহর জাদার এবার সেজে উঠেছে বিশ্বকাপের জন্য। জাদার হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে পুরাতন ও ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহর। ভ্রমণপিয়াসু মানুষদের কাছে এক স্বপ্নের শহর এটি। এই শহর থেকেই ৪ জন ফুটবলার  ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালের মাঠে নামেন।

    মদ্রিচ ছাড়াও ড্যানিয়েল সুবাসিচ, সিমে ভ্রাসালকো ও গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচেরও জন্ম এখানে। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেও গোল্ডেন বল জিতলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ। ক্রোয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সি টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচে পরাজিত দলে থাকলেও ব্যক্তিগত সাফল্যের খাতায় একটি ট্রফি যোগ হলো মদ্রিচের। ঠিক যেনো ২০১৪ সালে লিওনেল মেসির ভাগ্য! লুকা মদ্রিচ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতেছেন। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় সিলভার বল জিতেছেন বিশ্বকাপ জয়ী দল ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার আন্তোনিও গ্রিজম্যান। এছাড়া তৃতীয় সেরা খেলোয়াড়ের ব্রোঞ্জ বল জিতেছেন বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামের তারকা এডেন হ্যাজার্ড।

    আসলে একটি বিশ্বকাপের সাথে মিশে থাকে অজস্র গল্প। একটি দল জিতে যায় বিশ্বকাপ। সেই সাথে রচিত হয় অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের জীবনের বিভিন্ন না ভোলা মুহূর্ত। ইতিহাসে জায়গা করে নেয় অনেকের নাম। সাধারণ কোনো দলের কারো অসাধারণভাবে জ্বলে উঠা কিংবা অসাধারণ কারো আরও অসাধারণ হয়ে উঠার সাক্ষী হয়ে থাকে বিশ্বকাপ।

  • ফ্রান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রকেও হারাল ‘বাংলাদেশ ফুটবল দল’

    ফ্রান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রকেও হারাল ‘বাংলাদেশ ফুটবল দল’

    মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শুরু হয়েছে স্পেশাল অলিম্পিক ইউনিফাইড ফুটবল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে হারলেও পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ইউনিফাইড দল। আজ স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল ২-১ গোলে।

    ইউনিফাইড ফুটবল দলটি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে সুস্থ ফুটবলারদের সমন্বিত দল। মোট ১৫ জনের দলে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর সঙ্গে সাতজন সম্পূর্ণ সক্ষম ফুটবলার খেলতে পারছেন। একাদশে খেলতে পারেন ছয়জন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে পাঁচজন সক্ষম খেলোয়াড়।

    আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই সোহানুর রহমান সোহানের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করেন আতিফ ও আহসানুর রহমত। স্বাগতিকেরা বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।

    টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলের হার দিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র তো বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।

  • বিশ্বকাপ জিতেছে আফ্রিকা’ অমিতাভের ট্যুইট ঘিরে বিতর্ক

    বিশ্বকাপ জিতেছে আফ্রিকা’ অমিতাভের ট্যুইট ঘিরে বিতর্ক

    ৪-২ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে রাশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ফ্রান্স৷ অনবদ্য ফুটবলের জন্য সারা বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এমবাপে, গ্রিজমানরা৷ এরই মধ্যে অবাক করা ট্যুইট করেছেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন৷ ট্যুইট করে বিগ-বি লেখেন ‘আফ্রিকা বিশ্বকাপ জিতেছে’৷

    এরকম ট্যুইট করে নেটিজেনের সমালোচনার মুখে পড়েছেন অমিতাভ৷ অনেকেই রি-ট্যুইট করে বিগ-বিকে জানিয়েছেন এরকম কথা বলা ঠিক হয়নি তাঁর৷ তবে বিগ-বি’র মতো একজন খেলা-পাগল মানুষ এরকম লিখলেন কেন? শেষ দশকে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের নিজেদের দেশে জায়গা এবং নাগরিকত্ত্ব দিয়ে আসছে ফ্রান্স৷

    ফরাসীদের বিশ্বকাপ জয়ী দলে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন যাঁরা জন্মসূত্রে আফ্রিকান৷ অনেকে রয়েছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী৷ তাই ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই ফ্রান্সের জয়কে ‘আফ্রিকার জয় কিংবা মুসলিমদের জয়’ বলে বিভেদ তৈরি করতে চেয়েছেন৷ এরকমই একটি ট্যুইট শেয়ার করে বিগ’বি লেখেন ‘এই জয় তাহলে আফ্রিকার৷’

    সিনিয়র বচ্চনের শেয়ার করা ট্যুইটটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই ফ্রান্স দলে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য রয়েছে৷২৩ জনের দলের ১৬ জন ফুটবলার জাইরে, ক্যামেরুন, মরক্কো, কঙ্গো, আলজেরিয়ার মতো জায়গা থেকে ফ্রান্সে অভিবাসিত হয়ে এসেছে৷এটা সত্যিই অসাধারণ অভিবাসীরা ফ্রান্সের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছে৷’

    যে দেশ বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে আশ্রয় দেয় তাদের বিশ্বজয়ের দিন এই ধরনের বিভেদমূলক প্রশংসাকে সমর্থন করেনি নেটিজেন৷ বিগ বি’র এক ফলোয়ার লিখেছেন, ‘এরকম জিনিস বিগ বি’র কাছ থেকে আশা করা যায় না৷ একটা দেশ শরণার্থীদের হাসি মুখে গ্রহণ করে এরকম জায়গা দিয়েছে৷ সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে এসেছে৷ এর জন্য সমস্ত ক্রেডিট ফ্রান্সের প্রাপ্য৷’

    সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর সেভেন।

  • হৃদয় ভেঙে গেছে আমাদের : হ্যারি কেইন

    হৃদয় ভেঙে গেছে আমাদের : হ্যারি কেইন

    ইংল্যান্ডের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে হেরেছে ইংলিশরা। ফলে ‘ইটস কামিং হোম’ (ট্রফি ঘরে ফিরে আসছে) স্লোগানে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও ফাইনালের মঞ্চে নামতেই পারলো না ইংল্যান্ড।

    ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেও স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার বেদনা ভীষণ পোড়াচ্ছে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এ স্ট্রাইকার বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন, হারের বেদনায় মুষড়ে পড়েছি, হৃদয় ভেঙে গেছে আমাদের। তবে ভক্তরা যে সমর্থন দিয়ে গেছেন, তা আমাদের অভিভূত করেছে।’

    কিরান ট্রিপিয়ারের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। আর অতিরিক্ত সময়ে ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচের গোলে স্বপ্নভেঙ হয় ইংল্যান্ডের।

    ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে মোট ১২০ মিনিটের খেলায় ৫০:৫০ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আমরা ম্যাচের দিকে ফিরে তাকালে বুঝবো, আরও কিছু ভালো করতে পারতাম আমরা। এটা এখন কষ্ট দিচ্ছে, অনেক কষ্ট।’

    তবে গ্রুপ পর্ব, নকআউট পর্ব এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই অনেক বড় বড় দল ছিটকে পড়লেও ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোয় গর্বিত আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন।

    এখন শনিবার (১৪ জুলাই) সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলজিয়ামের সঙ্গে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে নামতে হবে ইংলিশদের।  আর তার পরদিন ১৫ জুলাই লুঝনিকিতে গড়াবে ফাইনাল। সেখানে লড়বে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স ও একই আসরের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া।

  • যেভাবে ফাইনালের মঞ্চে ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স

    যেভাবে ফাইনালের মঞ্চে ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স

    ২১তম রাশিয়া বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব থেকেই নানা ঘটন-অঘটনের জন্ম দিয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে ফেবারিটের তকমা নিয়ে আসা বড় দলগুলো বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই। সবাইকে চমকে দিয়ে মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে আগামী ১৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। চলুন দেখে নিই দুই দলের রোড টু ফাইনাল সম্পর্কে-

    প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৯৮ সালের পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ফরাসিরা। অন্যদিকে শেষ চারের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১‍  গোলে বিদায় করে প্রথমবারের মতো স্বপ্নে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ক্রোয়েটরা।

    এই ফাইনাল মঞ্চে আসাটা অবশ্য দু’দলের জন্য খুব সহজ ছিলো না। ফ্রান্সের কথাই ধরুন না, ‘সি’ গ্রুপে দুর্বল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে শুরু। পরের ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে ফের কষ্টার্জিত জয়। ব্যবধান ১-০। আর শেষ ম্যাচে তো ডেনমার্কের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র।

    তবে শেষ ষোলো থেকেই দারুণ খেলা শুরু করেন এমবাপ্পেরা। যেখানে ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়র্টার নিশ্চিত করে। আর শেষ আটে উরুগুয়েকে দাপটের সঙ্গে ২-০ গোলে হারিয়ে খেলে সেমিফাইনাল।

    অন্যদিকে ‘ডি’ গ্রুপে অসাধারণ ছিল ক্রোয়েশিয়া। যেখানে ২-০ গোলে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শুরু। আর আর্জেন্টিনাকে তো কোনো পাত্তা না দিয়ে ৩-০ গোলে হারান মদ্রিচ-রাকিটিচরা। শেষ ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

    তবে ১৯৯৮ সালে সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়াকে মূল পরীক্ষা দিতে হয় শেষ ষোলো থেকে। যেখানে দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল। আর শেষ আটেও এসে দেখতে হয় টাইব্রেকারকে। স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়। তবে সর্বশেষ সেমিফাইনালে তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় দিয়েই ইতিহাস গড়লো দলটি।

    আগামী ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ফাইনালে লড়বে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া।

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

    জমে উঠেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। যোগ্য দলগুলো এরইমধ্যে সেরা চার নিশ্চিত করেছে। বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যের লড়াইও চলছে ফুটবলারদের মধ্যে। চলতি আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন রয়েছেন শুধু ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন আর বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারি কেন। চার ম্যাচে ইতিমধ্যেই ৬ গোল করা হয়ে গেছে ইংল্যান্ড অধিনায়কের। যার মধ্যে পেনাল্টি থেকে তিনটে গোল করেছেন তিনি। অন্যদিকে, চার ম্যাচে চার গোল করে গোল্ডেন বুট পাওয়ার দৌড়ে কেনের পরেই আছেন রোমেলু লুকাকু।

    সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল করে হ্যারি কেনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে লুকাকুর কাছে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হ্যারি কেনের সামনে।

    উল্লেখ্য, ৪ গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর রাশিয়ার চেরিশেভও। তবে পর্তুগাল আর রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এই দুই ফুটবলারের গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ নেই।

  • বেলজিয়াম-ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে কী বলছে জ্যোতিষী উট! (ভিডিও)

    বেলজিয়াম-ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে কী বলছে জ্যোতিষী উট! (ভিডিও)

    রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথম ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স বেলজিয়াম। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায়।

    তবে ম্যাচটি নিয়ে ইতোমধ্যে জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়ে গেছে। আরব আমিরাতের ভবিষ্যৎবক্তা উট ‘শাহীন।’ উটের সামনে দুটি পতাকা রাখা হয়। তারপর উটটি একটি পতাকাকে বেছে নেয়। এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়ে থাকে ম্যাচটি আসলে কোন দেশ জিতবে।

    আর সেমিফাইনালে উট ‘শাহীন’ বিজয়ী হিসেবে বেছে নিয়েছে ফ্রান্সকে। উটের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হলে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে লুকাকুদের।

    চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বেলজিয়াম হারাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল উট ‘শাহীন। সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল। এবার দেখা যাক সেমিফাইনালে কতুটুক সত্য হয় তার কথা।

  • ৫৬ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানই নেইমারের খেলা নিয়ে অসন্তুষ্ট

    ৫৬ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানই নেইমারের খেলা নিয়ে অসন্তুষ্ট

    রাশিয়া বিশ্বকাপে আশা জাগিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে নেইমার-জেসুসদের। শেষ আট থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তিতের শিষ্যদের। আর শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলের হারের পর ব্রাজিলীয়দের কাঠগড়ায় নেইমার ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

    সেলকাওদের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের উপর ক্ষেপেছে ব্রাজিলিয়ানরা। আর সমর্থকদের সেই ক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছে এক মিডিয়া জরিপে। যেখানে ব্রাজিলিয়ানরা মনে করছে নেইমার খেলার চেয়ে কথাই বলেছেন বেশি। ফাউল নিয়ে পিএসজির তারকার ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’র আলোচনাও তার খেলায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

    ব্রাজিলের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ‘গ্লোবোস্পোর্ত’ ব্রাজিলের হারের পর একটি অনলাইন জরিপ চালায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ায় ব্যর্থতার পেছনে ৫৬ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানই নেইমারের খেলা নিয়ে অসন্তুষ্ট। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করেছেন তিনি।

    অপরদিকে নেইমারের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের। জরিপে অংশ নেয়া ৮৩ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানই তার পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্ট।

    ব্রাজিলের খেলা পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন জেসুস। কিন্তু এক ম্যাচেও গোলের দেখা পাননি। তারপরও তাকে দলে রেখেছেন কোচ তিতে। ম্যানচেস্টার সিটিতে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়ে আসার পর তার এমন পারফরম্যান্সে বেজায় হতাশ ব্রাজিলিয়ানরা

  • মৃত্যু ঝুঁকিতে ছিলেন সিলভা!

    মৃত্যু ঝুঁকিতে ছিলেন সিলভা!

    রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে ব্রাজিল। গতকাল রাতে আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে এবারের বিশ্বকাপকে বিদায় জানায় নেইমারের দল। তবে এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে ব্রাজিলের ডিফেন্স। যার কেন্দ্রে ছিলেন থিয়াগো সিলভা। অনেকেই তাকে দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসাবে মন্তব্য করেন।

    রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যাচের ৯০ মিনিট পুরোটা মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সিলভা। প্রতিপক্ষের আক্রমণকে শক্ত হাতে দমন করেছেন তিনি। অথচ এই সিলভাই রাশিয়ায় মরতে বসেছিলেন ফুসফুসে ছিদ্রের কারণে!

    ঘটনাটা ২০০৫ সালের। ২০ বছর বয়সে রাশিয়ায় ডায়নামো মস্কোতে ধারে খেলতে গিয়েছিলেন সিলভা। সেখানেই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের যক্ষ্ণা ধরা পড়ে। পরের ছয় মাস ফুটবল থেকে একেবারেই বাইরে চলে গিয়েছিলেন, ক্ষয়রোগের সঙ্গেই চলছিল তার যুদ্ধটা।

    সেই সময় ডায়নামো মস্কোর কোচ ছিলেন ইভো ওর্টমান। তিনিই জানালেন, ওই সময়টায় মৃত্যুর কতটা কাছে চলে গিয়েছিলেন সিলভা।

    ‘ব্যাচেলর রিপোর্টে’র সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে ওর্টমান বলেন, ‘আমি তাকে দেখে একদম ভেঙে পড়েছিলাম। একদিন ডাক্তার আমাকে বলল, থিয়াগোর ফুসফুসে একটি ছিদ্র আছে এবং তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। এতে মৃত্যুর ঝুঁকিও আছে।’

    পাশাপাশি ডাক্তার সতর্ক করে বলেছিলেন, বেঁচে গেলেও পরবর্তীতে সিলভা আর ফুটবল খেলতে পারবেন না।ওর্টমান বলছিলেন, ‘তারা আমাকে সতর্ক করে বলেছিল, তার (সিলভা) আর ট্রেনিংয়ে ফেরার আশা নেই। সম্ভবত তার ক্যারিয়ার শেষ। ফুসফুসের একটা অংশ ছাড়া সে কিভাবে দৌঁড়াবে?’

    তবে সেই ঘটনার শেষটা মোটেও এমন ছিল না। একটা সময় আশ্চর্যজনকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন ব্রাজিলের এই ডিফেন্ডার। পরে স্বদেশি ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে ক্যারিয়ারও শুরু করেন।

  • ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    রাশিয়া বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে পুরো ফুটবল জগত। প্রতিটি ম্যাচেই চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড। শেষ আটের এই লড়াইয়ে সর্বস্ব দিয়ে নিজেদের মেলে ধরছে দলগুলো। তারই জের ধরে গতকাল রাতে কাজান এরেনায় মুখোমুখি হয়েছিল চলতি আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম। উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারায় লুকাকুরা। তবে এই ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউ কুরতোয়া।

    বেলজিয়ান এই পেশাদার ফুটবলারের জন্ম ১৯৯২ সালের ১ মে বেলজিয়ামের ব্রি’তে। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব চেলসিতে এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের জন্য গোলরক্ষক হিসেবে খেলছেন তিনি। ফুটবল জীবনে খুব অল্প বয়সেই প্রবেশ করেন কুরতোয়া। ১৮ বছর বয়সে বেলজিয়ান প্রো লিগ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১১ সালের জুলাইয়ে তিনি ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে যোগদান করেন। পরে তাকে অবিলম্বে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ধার দেওয়া হয়। সেখানে তিনটি মৌসুমে ২০১২ সালে ইউরোপা লিগ, ২০১৩ সালে কোপা দেল রে এবং ২০১৪ সালে লা লিগা শিরোপা জিতেছিলেন এই গোলরক্ষক।

    কুরতোয়া লা লিগায় সেরা গোলরক্ষক রিকার্ডো জামোরা ট্রফিও জিতেছেন। এরপর ২০১৪ সালেন জুলাইয়ে কুরতোয়া চেলসিতে ফিরে আসেন এবং তার প্রথম মৌসুমে তিনি লিগ কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন।

    বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বকনিষ্ঠ গোলরক্ষক হয়ে ২০১১ সালের অলিম্পিকে কুরতোয়ার আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। তিনি ৫০টির’ও বেশি ক্যাপ অর্জন করেছেন এবং ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ইউইএফএ ইউরো ২০১৩’তে উপস্থিত হয়েছেন।

    রাশিয়া বিশ্বকাপেও আলো ছড়াচ্ছেন এই গোলরক্ষক। গতকালের ম্যাচে ব্রাজিলের দুর্দান্ত সব শট ঠেকিয়ে বারবার তাদের হতাশ করেছেন কুরতোয়া। এদিন ৮ মিনিটেই সুযোগ পায় ব্রাজিল, তবে তা গোলে পরিণত করতে পারেনি থিয়াগা সিলভা। পরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখলে ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রসে ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে লিড পায় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। পরে প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে দলটি। কিন্তু এরইমধ্যে আরেকটি গোল হজম করে এর খেসারত দিতে হয় তিতের দলকে।

    ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে লুকাকুর বাড়ানো বলে গোল করেন ডি ব্রুইনা। এতে স্কোরলাইন হয় বেলজিয়াম ২-০ ব্রাজিল। এরপরই মরিয়া হয়ে উঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় নেইমার-মার্সেলোরা। তবে তাদের আক্রমণগুলো প্রতিহত করে দেন কুরতোয়া। পরে ৭৬ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান অগাস্টো রেনোতো। এতে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ব্রাজিল। তবে সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুরতোয়া।