Category: ফুটবল

  • উয়েফা বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসি

    উয়েফা বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই মেসি

    ২০১৭-১৮ মৌসুমের উয়েফা বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ আর মিসরের তারকা মোহাম্মদ সালাহ। তবে জায়গা হয়নি আর্জেন্টাইন খুদেরাজ লিওনেল মেসির।

    তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় সালাহ ঢুকে গেছেন গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলকে ফাইনালে তোলায়। রোনালদো মনোনীত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রেকর্ড পঞ্চমবার এবং টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে। টানা ছয় মৌসুম টুর্নামেন্টটির সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

    রোনালদোর মতোই মদ্রিচ জায়গা পেয়েছেন রিয়ালের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোতে। তার আবার বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে গোল্ডেন বলও জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার।

    এদিকে, দলের ব্যর্থতার প্রভাবটাই পড়েছে মেসির উপর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার দল বার্সেলোনা রোমার কাছে হেরে শেষ আট থেকেই বাদ পড়ে। বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডের গন্ডি পার হতে পারেনি। ঘরোয়া, মহাদেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আঙিনায় ব্যর্থতার কারণেই তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকার বাইরে চলে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

    উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের তিনজনের এই সংক্ষিপ্ত তালিকাটি করেছেন গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপা লিগে খেলা দলগুলোর ৮০ জন কোচ, সঙ্গে ছিলেন ইউরোপিয়ান স্পোর্টস মিডিয়ার (ইএসএম) ৫০ জন সাংবাদিক।

    সোমবার এই তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার মোনাকোয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বের ড্র চলার সময় বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে।

    উয়েফা বর্ষসেরা হিসেবে আগের বিজয়ীরা :

    ২০১১- লিওনেল মেসি
    ২০১২- আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা
    ২০১৩-ফ্রাঙ্গ রিবেরি
    ২০১৪-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
    ২০১৫-লিওনেল মেসি
    ২০১৬-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
    ২০১৭-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

  • কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

    কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

    এশিয়ান গেমসের ফুটবলে এর আগেও বেশ কয়েকবার জিতেছে বাংলাদেশ। ১৯৮২ সালে মালয়েশিয়া, ১৯৮৬ সালে নেপাল, ২০১৪-তে আফগানিস্তান; কিন্তু জাকার্তায় আজ বাংলাদেশ যে জয়টা পেল সেটির সঙ্গে তুলনীয় নয় আগের কোনোটিই। শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি যে বাংলাদেশকে নিয়ে গেল এশিয়াড ফুটবলের নকআউট পর্বে। খেলার একেবারে যোগ করা সময়ে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার গোলে নিশ্চিত বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন ইতিহাস।

    ম্যাচটা বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই। আগের ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে জিততে ড্র করে নক আউট পর্বের স্বপ্নটা দেখতে শুরু করেছিল দল। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কাতার বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ‘আমরাও কাতারকে হারাতে পারি’ এই বিশ্বাসটা দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত শেষ হাসিটা হাসল বাংলাদেশই। দেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগে যেটি হয়নি, সেটিই করে দেখাল বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। এশিয়ান গেমসের ফুটবলের দ্বিতীয় পর্ব বা নকআউট পর্বে পা রাখাটা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বিরাট অর্জনই।

    দেশে ফেরার টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজ জাকার্তায় কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের নক আউট পর্বে বাংলাদেশ। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি আসে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার পা থেকে।

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯৮তম স্থানে কাতার। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৪। ২০২২ সালে এই কাতারই আয়োজন করবে বিশ্বকাপ ফুটবলের। আজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা বাংলাদেশের ফুটবলাররা চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লড়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী এই ফুটবল-শক্তির বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নটা পুরোপুরি বাস্তব বাংলাদেশের ফুটবলে।

    আজকের ম্যাচের আগে গ্রুপ ‘বি’র সমীকরণটা ছিল এমন—দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে কাতারকে অবশ্যই জিততে হবে। বাংলাদেশকেও জিততে হবে। তবে ড্র করলেও সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে থাইল্যান্ড যদি উজবেকিস্তানকে হারিয়ে দিত, তাহলে উজবেকিস্তানের সঙ্গে পরের রাউন্ডে সঙ্গী হতো তারাই। উজবেকিস্তান থাইল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়ায় কাতার ও বাংলাদেশের পথটা পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে কাতার চাপ তৈরি করে খেলেও বাংলাদেশের রক্ষণ সেনাদের দৃঢ়তায় সুবিধা করতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটের মধ্যে এই ম্যাচে বাংলাদেশ যদি ২-০ গোলে এগিয়ে যেত তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকত না।

    আগের ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলদাতা মাহবুবুর রহমান সুফিল ওই সুযোগ দুটি হেলায় হারান। প্রথমবার সুফিল নিজেই ডান প্রান্ত দিয়ে কাতারি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে যে শটটি নেন সেটি দ্বিতীয় বারের পাশ দিয়ে চলে যায়। পরে কাতারের রক্ষণের ভুল বোঝাবুঝিতে ওয়ান টু ওয়ান পরিস্থিতিতে বল পেলেও সেটি গোলরক্ষকের শরীরে মেরে নষ্ট করেন ঢাকার ফুটবলের উদীয়মান এই তরুণ।

    প্রথমার্ধে কাতারও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। এর মধ্যে একটি ফ্রিকিক বাংলাদেশের পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। রক্ষণে তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষরা গোটা ম্যাচেই কাতারের ফরোয়ার্ডদের পায়ের সঙ্গে লেগে থেকে বল প্রতিহত করেছেন। তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মিডফিল্ডাররা কিছুটা নিষ্প্রভ থাকায় কাতার বারবার বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির সুযোগ পেয়েছে। প্রথমার্ধে জমাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে তপুর দুর্দান্ত হেডটি প্রতিহত করে কাতারের গোলরক্ষক।
    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গা ছাড়া দিয়ে ওঠে। আক্রমণের ধারও বাড়ায়। তবে সবগুলি আক্রমণই ছিল প্রতি আক্রমণ থেকে। এ সময় কাতার গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় ফাঁক-ফোকর তৈরি হচ্ছিল প্রায়ই। কিন্তু সে সুযোগগুলি থেকে পরিকল্পনামতো মাথা খাঁটিয়ে গোলের সুযোগ তৈরিতে দুর্বলতা ছিল বাংলাদেশের আক্রমণভাগের।

    এই অর্ধে সুফিল, সাদউদ্দিনরা কিছুটা নিষ্প্রভ হয়ে পড়লে তাদের তুলে নেন কোচ জেমি ডে। সুফিলের বদলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও সাদের বদলে মতিন মিয়া মাঠে নামলে কিছুটা আক্রমণের ধার বাড়ে। তবে আবদুল্লাহ একটি সুযোগ নষ্ট করেন বক্সের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখতে না পারার কারণে।
    খেলা যত গড়িয়েছে কাতার দলের খেলা তত বেশি এলোমেলো হয়ে গেছে। এর জন্য কৃতিত্ব দিতেই হবে বাংলাদেশের রক্ষণকে। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাও ভালো খেলেছেন। পেছন থেকে রক্ষণের নেতৃত্বটা আসলে দিয়েছেন তিনিই। সুশান্ত ত্রিপুরাও তপু-বিশ্বনাথ ও টুটুল হোসেন বাদশাদের সঙ্গে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়েছেন।

    খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জয় সূচক গোলটি পেয়ে যায়। কিন্তু নিজেদের বেশ খানিকটা ভাগ্যবান ভাবতে পারে বাংলাদেশ দল। কাতারের একটি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে বল বক্সের মধ্যে সুশান্ত ত্রিপুরার হাতে লাগলেও রেফারির দৃষ্টিতে সেটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো ‘অপরাধ’ ছিল না। পরের আক্রমণ থেকেই ইতিহাস রচিত হয় বাংলাদেশের। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়া প্রায় একক প্রচেষ্টায় কাতারের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে বল জালে ঠেলে দেন।

    এশিয়ান গেমসের গ্রুপিং হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ‘যতটা ভালো করা যায়’। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিশ্চিত ভেবে নিয়ে ২১ আগস্ট দেশে ফেরার ফ্লাইট ও বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কাতারের বিপক্ষে দারুণ জয়ে এখন মধুর ঝামেলার মুখোমুখি বাংলাদেশ।
    নক আউট পর্বে আগামী ২৪ আগস্ট ইরানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

  • ‘ফুটবলের এই অর্জনে গর্বিত হওয়া উচিত দেশবাসীর’

    ‘ফুটবলের এই অর্জনে গর্বিত হওয়া উচিত দেশবাসীর’

    কাতারকে হারিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দল। কোচ জেমি ডে বলছেন, এশিয়ান গেমসের ফুটবলের নক আউট পর্বে ওঠায় দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত।

    কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমস ফুটবলে এই প্রথম দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা। এই রাতে ফুটবলারদেরই তো মন ভরে আনন্দ করার কথা! সেটি তাঁরা করলেনও। সব নিয়ম ভেঙে সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ঢুকে কয়েকজন ফুটবলার ধরলেন গানও।

    এই দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। নিজে কোনো কৃতিত্ব নিলেন না। সব প্রশংসা বরাদ্দ রাখলেন ফুটবলারদের জন্য, ‘ছেলেরা যা খেলেছে আমি খু্ব খুশি। গত কয়েক মাসে ওরা অনেক কষ্ট করেছে। কখনো অনুশীলন ফাঁকি দেয়নি। নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে ওরা। এই জয় সেটিরই ফল।’
    জেমি ডে যোগ করেন, ‘আজ আমি ভীষণ আনন্দিত, এশিয়াডে আগে কখনো দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ দল।

    আজ সেই অর্জন ধরা দিয়েছে। আর এই অর্জনে আমি বলব, দেশবাসীর গর্বিত হওয়া উচিত।’
    জাকার্তার প্যাট্রিয়ট স্টেডিয়ামে সত্যিই রোববার রাতটা বাংলাদেশের জন্য গর্বেরই। যে কাতারকে আগে কখনো হারাতে পারেনি বাংলাদেশ, সেই কাতারের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে এখনই দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবতে রাজি নন বাংলাদেশ কোচ। এই রাউন্ডে ফল যা–ই হোক, প্রতিপক্ষ যারাই আসুক, ডে মনে করেন বড় প্রাপ্তিটা এসে গেছে। সঙ্গে সমালোচকদের দিয়েছেন জবাব, ‘এই দল নিয়ে দেশে অনেক সমালোচনা হয়েছে। এরা কিছু পারবে না ইত্যাদি। কিন্তু আমরা সেটির জবাব দিয়েছি। দ্বিতীয় রাউন্ডে যা–ই হোক, আমরা লক্ষ্যে পৌঁছেছি।’

    জয়সূচক গোলদাতা অধিনায়ক জামাল ভূইঁয়া আনন্দে আত্মহারা। সংবাদ সম্মেলনে কোচের পাশে বসে বলেন, ‘গোল করার পর আমি বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কী ঘটেছে মাঠে। আমার মধ্যে কোনো অনুভূতি কাজ করছিল না। এটা ঠিক, গোলটা আমিই করেছি। তবে এই গোল আমার একার নয়, সবারই। মূলত আত্মবিশ্বাসই আমাদের এখানে এনেছে।’

    জামালদের বিরতির সময় কোচ বলেন, ‘কাতারের অনেক টাকা আছে। ওদের অনেক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু তোমাদের আছে মনোবল।’ সেই মনোবলেরই জয় হলো। দেশের ফুটবলে অনেক খারাপ খবরের মধ্যেই ধরা দিল একটু আনন্দের উপলক্ষ।
    আজ রাতটা আনন্দে ভেসে যেতেই পারেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা!

  • ভারতে না গিয়ে সনি নর্দে ঢাকা আসছেন এ মাসেই?

    ভারতে না গিয়ে সনি নর্দে ঢাকা আসছেন এ মাসেই?

    বাংলাদেশে শেখ রাসেল ও শেখ জামালের জার্সিতে খেলেছিলেন হাইতিয়ান তারকা সনি নর্দে। বাংলাদেশে খেলে যাওয়া অন্যতম সেরা বিদেশি ফুটবলার বলা হয় তাঁকে। পরবর্তী সময়ে কলকাতার মোহনবাগানে নাম লেখানো নর্দেকে আবারও বাংলাদেশে দেখার সম্ভাবনা আছে

    বেশ কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন, আবারও ঢাকার মাঠে পা ফেলতে যাচ্ছেন হাইতির ফরোয়ার্ড সনি নর্দে। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনটি সত্যি হওয়ার পথে। তবে পুরোনো কোনো ক্লাবের জার্সিতে নয়, সনির নতুন ঠিকানা হবে নবাগত ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। যারা শেষ মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লিখিয়েছে প্রিমিয়ার লিগে। ইতিমধ্যে বিগ বাজেটের দল গড়ে ফুটবল মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে ক্লাবটি।

    শুধু সনিই নন, চলতি মাসে তাঁর সঙ্গে ঢাকায় আসার কথা হাইতির জাতীয় দলের হয়ে খেলা স্ট্রাইকার কেলভোন বেলফোর্ট ও ডিফেন্ডার জুদেলিন আভাসকার। এর মধ্যে বেলফোর্ট গত মৌসুমে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্লাব জামশেদপুরের হয়ে খেলেছেন আর ইকুয়েডর লিগে খেলছেন ডিফেন্ডার আভাসকা। চমক আছে আরও। বসুন্ধরার জার্সিতে ইরাকের জাতীয় দলের এক ফুটবলারের খেলাও প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘সনি নর্দেকে চলতি মাসেই ঢাকা আসতে বলা হয়েছে। তিনিও মৌখিকভাবে দুজন খেলোয়াড়সহ ঢাকা আসার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের দলে ইরাকের জাতীয় দলের এক ফুটবলারের খেলাও প্রায় নিশ্চিত। এই চারজনের সঙ্গে ঢাকা আসার কথা আরও দুজনের। সেখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে চারজনকে।’

    বিশ্বস্ত সূত্রমতে, শুধু বসুন্ধরা নয়, সনির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে ভারতীয় আইএসএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ডায়নামোস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এর মধ্যে মুম্বাইয়ের জার্সিতে সনি আগেও খেলেছেন। কিন্তু গত মৌসুমের মাঝপথে চোট নিয়ে ক্লাব ছাড়ায় ভারতীয় ক্লাবগুলোর কাছে নতুন মৌসুমে দলবদলের বাজারে আগের সেই কদরটা নাকি পাচ্ছেন না সনি। এই সুযোগটাই নিতে যাচ্ছে বসুন্ধরা। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোন দলের জার্সি গায়ে ওঠে সনির। এ বিষয়ে সনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    বসুন্ধরায় যদি সনি চলেই আসেন, তাহলে এটি হবে তাঁর বাংলাদেশের তৃতীয় ক্লাব। এর আগে শেখ রাসেল ও শেখ জামালের জার্সিতে দুই মৌসুম খেলেছিলেন হাইতিয়ান এই তারকা ফুটবলার। দারুণ গতি আর স্কিলের মিশেলে দুর্দান্তই ছিলেন তিনি। অনেকেই তাঁকে বাংলাদেশের ফুটবলে অন্যতম সেরা বিদেশির তকমা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের শুরুতে কলকাতার আইএফএ শিল্ডে শেখ জামালকে প্রায় একাই ফাইনালে তুলেছিলেন। ভারতের মাটিতে নর্দের সেই দুরন্ত পারফরম্যান্সই কাল হয়েছিল জামালের জন্য। সে বছরই মোটা টাকায় কলকাতার মোহনবাগান ছিনিয়ে নেয় তাঁকে। চার বছর বাদে বসুন্ধরার সুবাদে আবার হয়তো বাংলাদেশে দেখা যাবে সনিকে।

    শুধু বিদেশি খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েই চমক দিচ্ছে না বসুন্ধরা, ভালো মানের বিদেশি কোচও দেখা যাবে তাদের ডাগআউটে। বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, স্প্যানিশ অস্কার ব্রুজোনই হতে যাচ্ছেন বসুন্ধরার কোচ, যিনি গত মৌসুমে মালদ্বীপ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব নিউ রেডিয়ান্টের কোচ ছিলেন। ৪১ বছর বয়সী ব্রুজোন মালদ্বীপ ছাড়াও এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসসহ ভারতীয় বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ ছিলেন। স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কার সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর। তবে কোচের বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খুলতে নারাজ বসুন্ধরা ক্লাব সভাপতি। কিন্তু ইতিমধ্যে ট্রান্সফার মার্কেটে ওয়েবসাইটে ব্রুজোনের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে বসুন্ধরার নাম।

  • ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

    ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

    দুই অর্ধের শুরুর দিকে ভুটানকে মনে হয়েছিল লড়াকু; কিন্তু স্বাগতিকরা লড়াই করার শক্তিটা আর এগিয়ে নিতে পারেনি বেশিদূর। বাংলাদেশের মেয়েরা খেলা ধরতে একটু সময় নিলো। ব্যাস, তারপর সব গল্পই মারিয়া, তহুরাদের। ভুটানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেভারিট-সেমিফাইনালের আগে সেটাই ছিল বাস্তবতা। ম্যাচও বলে দিলো তাই।

    স্বাগতিক দেশের কিশোরীরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারলো না। সুতরাং, ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ উঠে গেলো সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গত বছর ডিসেম্বরে যাদের ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা।

    চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট ধরে রাখতে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে এখন মাত্র এক ম্যাচ বাকি। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভারত। জিতলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট থাকবে মারিয়া-তহুরাদের মাথাতেই। গ্রুপ পর্বের ২ ম্যাচ ও সেমিফাইনলে দুর্দান্ত দাপুটে জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশই থাকবে ফেবারিট।

    বাংলাদেশ প্রথমার্ধে এগিয়েছিল ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে করে ২ গোল। ১৮ মিনিটে ছোটনের দলকে এগিয়ে দেন আনাই মগিনি। মারিয়া মান্দার কর্নার ধরে শট নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার। ভুটানের এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে গেলে বল পান বক্সের বাইরে আনাই। তিনি একটু সামনে এগিয়ে দুর্দান্ত শটে কাঁপিয়ে দেন নেপালের জাল। তারই বোন আনুচিং মগিনি ব্যবধান দ্বিগুন করেন ৩৮ মিনিটে। ৪৩ মিনিটে তহুরার গোল বাংলাদেশকে প্রথমার্ধে এগিয়ে রাখে ৩-০ ব্যবধানে।

    দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ৬৯ মিনিট পর্যন্ত। মাঝবৃত্ত থেকে বল ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ভুটানের সীমানায় ঢুকে বা পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন। বাংলাদেশ পঞ্চম গোল করে ৮৬ মিনিটে। ৭৬ মিনিটে তহুরার বদলি হিসেবে মাঠে নামা শাহেদা আক্তার রিপা দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান। এ নিয়ে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে টানা ৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো। কোনো গোলও হজম করেনি টানা ৭ ম্যাচে।

    দিনের প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ২-১ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের ফাইনালও খেলেছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয় বাংলাদেশ।

  • নেপালকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    নেপালকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পাবে না নেপাল, তা জানাই ছিল। নেপালের জালে কতবার বল পাঠায় বরং তা-ই ছিল দেখার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। একটি করে গোল করেছে তহুরা খাতুন, মারিয়া মান্দা ও সাজেদা খাতুন। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে পা রাখল বাংলাদেশ। ১৬ আগস্ট ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভুটান।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪-০ গোলের জয়ের পর স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতি প্রত্যাশার পারদ গিয়েছে বেড়ে। সেই মেয়েরাই যখন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খুলতে না পারে, দুশ্চিন্তা তো হওয়ারই কথা। হয়েছিলও তা–ই। বিরতিতে যাওয়ার আগে সেখান থেকে মুক্তি দিয়েছে আগের ম্যাচের জোড়া গোলদাতা তহুরা খাতুন। ৪৬ মিনিটে অধিনায়ক মারিয়া মান্দার ক্রসে দূরের পোস্ট থেকে হেডে গোল করেছে তহুরা। এ যেন গোলের রাস্তা খুঁজে পেল বাংলাদেশ।

    দ্বিতীয়ার্ধে বল জালে পাঠিয়েছে মারিয়া ও সাজেদা খাতুন। ৫১ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে ২-০ করেছে অধিনায়ক মারিয়া। তহুরার শট নেপালিজ ডিফেন্ডার ঠেকিয়ে দিলে চলতি বলে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলটি করেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৬৭ মিনিটে শেষ গোলটি করেছে সাজেদা খাতুন।

    ১৬ আগস্ট ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই দিন অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও নেপাল।

  • জুভেন্টাসের জার্সিতে মাঠে নেমেই রোনালদোর চমক

    জুভেন্টাসের জার্সিতে মাঠে নেমেই রোনালদোর চমক

    স্প্যানিশ জায়েন্ট রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর নতুন দলের হয়ে প্রথম দিন মাঠে নেমেই আলো ছড়ালেন এই পর্তুগীজ তারকা।

    নতুন দল জুভেন্টাসের হয়ে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে প্রথম গোল পেতে মাত্র ৮ মিনিট সময় নিয়েছেন রোনালদো। যদিও ম্যাচটি ছিল শুধুই প্রস্তুতিমূলক, তবুও ইতালিতে তার অসংখ্য ভক্তদের মন ভরিয়ে দিলেন প্রথম দিনেই। প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল জুভেন্টাস ‘বি’ দল।

    ভিলার পেরোসায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জুভেন্টাস সিনিয়র দল ৫-০ গোলে হারিয়েছে ‘বি’ দলকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে খেলা রোনালদো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন। মাত্র ৮ মিনিটেই পেয়ে যান গোল। ফেডেরিকো বার্নাডেসচির লং পাস রিসিভ করে গোলবারের দিকে বল নিয়ে যান পর্তুগালের এই তারকা ফরোয়ার্ড। নিজেদের দলের দ্বিতীয় গোলেও অবদান রাখেন রোনালদো। তবে সে গোলটি হয় আত্মঘাতী।

    জুভেন্টাস বি দলের গোলরক্ষক রিকার্ডো ক্যাপেলিনি ভুলে নিজেই জালে বল জড়িয়ে দেন। পাওলো দিবালা করেন দলের হয়ে তৃতীয় গোল। এরপর গোলের সুযোগ পেলেও তা শেষ করতে পারেননি রোনালদো।

    প্রথমার্ধের সময়ই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়া হয়।

  • প্রথমার্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

    প্রথমার্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

    চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভুটানে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই খেলতে গেলো বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দল। সে লক্ষ্যে সূচনাটা দারুণ করেছে মারিয়া মান্দারা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা চ্যাম্পিয়নশিপের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের মেয়েরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে এগিয়ে গেলো ৬-০ গোলের ব্যবধানে।

    ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেছেন তহুরা খাতুন। বাকি চার গোল করেছেন মারিয়া মান্ডা, মানিকা চাকমা, আখি খাতুন ও শামসুন্নাহার।

    এই ম্যাচ জিততে পারলে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা। শেষ ম্যাচ তারা খেলবে ১৩ আগস্ট নেপালের বিপক্ষে।

  • দলবদলে ব্রাজিলিয়ানদের রাজত্ব!

    দলবদলে ব্রাজিলিয়ানদের রাজত্ব!

    এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে তথ্য-উপাত্তবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ১৮টি দলবদলের মধ্যে ৯টিই ব্রাজিলিয়ানদের।

    ফুটবল-বিশ্বকে ব্রাজিল উপহার দিয়েছে পেলে। দিয়েছে গারিঞ্চা, টোস্টাও, জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো ও নেইমারদের মতো তারকাদের। সুতরাং দলবদলের বাজারে ব্রাজিলিয়ানদের ঘিরে যে বাড়তি আগ্রহ থাকবে, এ তো জানা কথাই! তবে সর্বশেষ কয়েক মৌসুমের মধ্যে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ব্রাজিলিয়ানদের দাপটটা একটু বেশিই বলে মনে হচ্ছে। দলবদলের তথ্য-উপাত্তবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, এবার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ১৮টি দলবদলের মধ্যে ৯টিই ব্রাজিলিয়ানদের।

    দলবদলের বাজারে সাড়া ফেলে দেওয়া এই ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে অবশ্য একজন গোলরক্ষক-আলিসন। কিছুদিন আগে রোমা থেকে তাঁকে কিনতে লিভারপুলের খরচ হয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ ইউরো। যে দলবদলটা আলিসনকে বানিয়ে দিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি গোলরক্ষকও। আলিসন ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন এই দলবদলে বাড়তি নজর কেড়েছেন ফ্রেড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ফাবিনহো, আর্থার ও ম্যালকম। শাখতার দোনেৎস্ক থেকে মিডফিল্ডার ফ্রেডকে কিনতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খরচ হয়েছে ৬ কোটি ইউরো।

    বিস্ময়-বালক তকমা লেগে যাওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পেতে অবশ্য ২০১৬ সালেই ফ্ল্যামেঙ্গোর সঙ্গে ৪ কোটি ৬০ লাখ ইউরোতে চুক্তি করে
    রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই চুক্তি অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় কয়েক দিন আগে পাকাপাকিভাবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চলে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। অবশ্য এখনই তাঁকে রিয়ালের মূল দলে দেখা যাবে না, আরও পরিণত হতে তাঁকে রাখা হয়েছে বয়সভিত্তিক দলে।

    কেন এত আগ্রহ ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলারদের ঘিরে? তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ ও প্রতিভাবান, এটা বড় কারণ। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে জুভেন্টাসে
    যোগ দেওয়া ডগলাস কস্তা ছাড়া এই ৯ জন ব্রাজিলিয়ানের মধ্যে কারও বয়সই ২৫-এর বেশি নয়। গড় বয়স ২৩। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তো সদ্য কৈশোর পেরিয়েছেন। বার্সেলোনার নতুন দুই ব্রাজিলিয়ান ম্যালকম ও আর্থার, এভারটনের রিচার্লিসনরা ২১-এ পা রেখেছেন মাত্র। লিভারপুলের ফাবিনহোর
    বয়সও মাত্র ২৪।

    আলিসন-কস্তারা তো রাশিয়া বিশ্বকাপের দলেই ছিলেন। তাঁদের তাই নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। ম্যালকম, আর্থার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রিচার্লিসনরা এখনো জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষায়। ওয়েস্ট হামের ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার ফিলিপে অ্যান্ডারসন ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ, ফাবিনহো মাত্র চারটি। তবে নিজেদের সাবেক ক্লাবে সর্বশেষ কয়েকটা মৌসুম পারফর্ম করে হয়ে উঠেছেন দলবদল-বাজারের বড় আকর্ষণ।

    যে কারণেই হয়তো বোর্দো থেকে ম্যালকমকে কিনতে বার্সেলোনা রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছিল। শেষ মুহূর্তে ৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো দাম দিয়ে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে রোমার কাছ থেকে প্রায় ছিনতাই করে নিয়েছে লা লিগার চ্যাম্পিয়নরা। যে ঘটনায় রোমার সঙ্গে সম্পর্কটাই খারাপ হয়ে গেছে বার্সেলোনার।
    দলবদলের বাজারে ব্রাজিলিয়ানদের নিয়ে এমন কাড়াকাড়ি দেখে হয়তো ভালোই লাগে তিতের। আরও চার বছরের জন্য ব্রাজিলের কোচ হিসেবে চুক্তি নবায়ন হয়েছে তাঁর। আগামী দিনের ব্রাজিল দল গড়তে এই খেলোয়াড়দের ওপর তো চোখ থাকবে তাঁরও।

  • মেসিদের নতুন কোচ হতে যাওয়া কে এই সাবেলা?

    মেসিদের নতুন কোচ হতে যাওয়া কে এই সাবেলা?

    বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর হোর্হে লুইস সাম্পাওলিকে ছেঁটে ফেলে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন। এরপর নতুন কোচের সন্ধানে নামে তারা। এ সময় কোচের দৌঁড়ে উঠে আসা বেশ কিছু নাম। সেই তালিকায় ছিল পেপ গার্দিওলার মতো বড় নামও। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দেখা যাবে কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলাকে। তা কে এই সাবেলা?

    সাবেলা আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার। যার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল আর্জেন্টিনার প্রথম সারির ক্লাব রিভার প্লেটে। এরপর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব শিফিল্ড ইউনাইটেডে। অবসরের পর কোচিংয়ে মনোযোগ দেন সাবেলা। খেলোয়াড়ী জীবনে ‘এল মাগো’ (দ্য ম্যাজিশিয়ান) ডাকনাম ছিল সাবেলার। কোচ হিসেবেও তিনি জাদু দেখিয়েছেন।

    আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ ড্যানিয়েল প্যাসারেলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন ৭ বছর। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফেও ছিলেন। তবে ২০০৯ সালে এস্তুদিয়ানতেসের কোচ হয়েই জীবনের মোড় ঘুরে যায় সাবেলার। ক্লাবটিকে কোপা লিবার্তাদোরেসের শিরোপা জিতিয়েছেন, দলটি অ্যাপারতুরাও জিতেছে তার অধীনে। এরপর তো ২০১১ সালের আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হেড কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান। ২০১১ থেকে ২০১৪ টানা তিন বছর জাতীয় দলের কোচ ছিলেন সাবেলা। যার কোচিংয়ে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল মেসিরা।