Category: ফুটবল

  • সার্বিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

    সার্বিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

    ড্র করলেও চলতো। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হতো ব্রাজিলের। তবে ইউরোপিয়ান দেশ সার্বিয়া আক্ষরিক অর্থেই ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে নেইমার অ্যান্ড কোং অনায়াসে খেলেই ২-০ গোলে জয় তুলে নিলো। কোনো বিপদের সম্ভাবনাই তৈরি হতে দিলেন না নেইমাররা। নিজে গোল করতে না পারলেও একটি গোলে অ্যাসিস্ট ছিল নেইমারের। কৌতিনহোও তৈরি করে দিয়েছিলেন অন্য গোলটি। পওলিনহোর পা এবং থিয়াগো সিলভার মাথা থেকে এলো ব্রাজিলের গোল দুটি।

    দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে সার্বিয়ার প্রয়োজন ছিল জয় আর ব্রাজিলের ড্র। এমন সমীকরণ নিয়ে মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে মাঠে নামে ব্রাজিল এবং সার্বিয়া। প্রথমার্ধে সার্বিয়ানদের জালে একবার বল জড়িয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৩৬ মিনিটের সময় গোলটি করেন মিডফিল্ডার পওলিনহো। পরে ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন সিলভা।

    ৩৬তম মিনিটে সার্বিয়ার একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ড থেকে লম্বা ক্রস দেন কৌতিনহো। সার্বিয়ার ডিফেন্সের ওপর দিয়ে উড়ে তাদেরই রক্ষণে এসে পড়লো।

    সেই ক্রসকে শুধু দৌড়ে এসে বার্সেলোনা তারকা পওলিনহো পায়ের টোকা দিলেন। সেই টোকাতেই সার্বিয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে বল জড়িয়ে গেলো তাদের জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে গেলো ব্রাজিল।

    ৬৭ মিনিটে অনেকদুর থেকে বল নিয়ে ছুটে আসেন নেইমার। সার্বিয়া ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে মাটি কামড়ানো শট নেন তিনি। কিন্তু বক্সের সামনে সেটিকে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করে দেন মিলেনকোভিক। কর্নার কিক নেন নেইমার নিজে। কিকটা ছিল অসাধারণ। বল ফেলেন একেবারে পোস্টের মাঝে। লাফিয়ে উঠে সেটিতে মাথার সংযোগ ঘটান থিয়াগো সিলভা। গোল। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

    খেলার শুরু থেকেই অবশ্য আক্রমণের সূচনা করে ব্রাজিল। ২য় মিনিটেই মিডফিল্ডার ফিলিপ কৌতিনহো বল নিয়ে ঢুকে যান সার্বিয়ার রক্ষণের ভেতর। নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে তিনি শট নিলে সার্বিয়ার ডিফেন্ডাররা সেটা ক্লিয়ার করে দেন। ১৪ মিনিটে সার্বিয়ার ফিলিপ কোস্তিক বাম পায়ের শট নিলে ব্রাজিল ডিফেন্ডাররা সেটা ক্লিয়ার করে দেন।

    খেলার ৯ম মিনিটেই মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্সেলো। খেলার মত অবস্থা ছিল না তার। দ্রুত তাকে তুলে নিয়ে ব্রাজিল কোচ তিতে মাঠে নামান ফিলিপ লুইজকে।

    ২৫ মিনিটে দারুণ একে সুযোগ পেয়েছিলেন নেইমার। বক্সের মধ্যে বল নিয়ে প্রবেশ করেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বল দেন নেইমারকে। দারুণ এক শট নিয়েছিলেন পিএসজি তারকা। কিন্তু সার্বিয়া গোলরক্ষক স্টোজকোভিক ঝাঁপিয়ে পড়ে এই যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন।

    ২৯ মিনিটে গ্যব্রিয়েল হেসুসের দারুণ একটি চেষ্টা ব্লক করে দেয় সার্বিয়া। ৩৪ মিনিটে আক্রমণ করে সার্বিয়া। দুজান তাদিকের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের শট নেন আলেকজান্ডার মিতরোভিক। কিন্তু সেটা পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর দুই মিনিট পরই গোল। পওলিনহোর পা থেকে।

    ৪০ মিনিটে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল সার্বিয়া। কিন্তু দুজান তাদিকের শট ডান কর্নারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে নেইমার একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। ফিলিপ লুইজের কাছ থেকে বল পেয়ে অনেক দুর থেকে শট নেন তিনি। কিন্তু সেটা মিস হলো।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সার্বিয়ানরা। একর পর এক আক্রমণে ব্যস্ত করে তোলে তারা। এ সময় বেশ কিছু গোলের সৃষ্টি করে সার্বিয়ানরা। তবে তাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন। চারটি নিশ্চিত গোল থেকে ব্রাজিলকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

    ৬১ মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি করে সার্বিয়া। এলজাজিক বিপজ্জনক একটি ক্রস করেন ব্রাজিল গোল লক্ষ্যে। অ্যালিসন পাঞ্চ করে দলকে রক্ষা করেন। মিত্রোভিক ছিলেন শুধু বক্সে। তিনি হেড করার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন। দারুণ সুযোগটা মিস হয় সার্বিয়ার।

  • নেইমার যতবার মাটিতে পড়বে ততবার দেওয়া হবে ‘ফ্রি বিয়ার’!

    নেইমার যতবার মাটিতে পড়বে ততবার দেওয়া হবে ‘ফ্রি বিয়ার’!

    বিশ্বকাপ উপলক্ষে সারাবিশ্বের বেশ কিছু নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিভিন্ন অফার দিয়েছে। এর মধ্যে লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুইজ সুয়ারেজ নিজ নিজ ম্যাচের দিন গোল করলেই আইস লেমন টি ফ্রি, বার্গার ফ্রি অথবা অন্য খাবারের উপর ডিসকাউন্ট থাকছেই। কিন্তু, নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলের এাকটি রেস্টুরেন্ট যে অফার দিয়েছে তা চমকে যাওয়ার মতোই।

    ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরিও’র একটি বিয়ারের রেস্টুরেন্ট বলছে, ‘আগামীকাল সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন নেইমার যতবার মাঠে পড়ে যাবেন, ততবার ফ্রি’তে পাওয়া যাবে এক মগ বিয়ার’। ওই রেস্টুরেন্ট নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞাপনও দিয়েছে।

    তা নেইমারের পড়ে যাওয়ার সাথে বিয়ার ফ্রি’র কারণ কি? এটি হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছেন না বা ভুলে গেছেন। তাহলে, একটু চোখ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাক বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে ব্রাজিল-কোস্টারিকা ম্যাচের দিকে।

    গত ২২ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে মুখোমুখি হয়েছিলো ব্রাজিল-কোস্টারিকা। ওই ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বল নিয়ে কোস্টারিকার ডি-বক্সের ভেতর ঢুকে যান ব্রাজিলের অধিনায়ক নেইমার। এসময় তাকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন ডিফেন্ডার জিয়ানকার্লো গঞ্জালেজ। ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। সাথে সাথে ফাউলের কারণে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি।
    রেফারির এই সিদ্বান্তের প্রতিবাদ করে কোস্টারিকার খেলোয়াড়। এরপর ভিডিও রেফারির সহায়তা নিয়ে পেনাল্টি বাতিল করে দেন অন-ফিল্ড রেফারি।

    টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, কোস্টারিকার গঞ্জালেজ বাঁধা দেয়ার সময় নেইমারের গায়ে হালকা স্পর্শেই অভিনয়ের ভান করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। যাতে পেনাল্টির পাওয়া যায়। পেনাল্টি ঠিকই পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু ভিডিও রেফারির সহায়তায় সেই পেনাল্টি বাতিল হয়।

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সার্বিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে যতবার মাঠে লুটিয়ে পড়বেন নেইমার, ততবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে ক্রেতাদের ফ্রি বিয়ার দিবে একটি নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্ট। আগামীকাল সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে ব্রাজিল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়।

  • শাহরুখ খানের রক্তচাপ থামালেন টনি ক্রুস

    শাহরুখ খানের রক্তচাপ থামালেন টনি ক্রুস

    প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয় পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্কোর লাইন ১-১ থাকায় ছিটকে পড়ার শঙ্কা জেগেছিল। আর এতে করে রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের। অবশ্য ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের চোখ জুড়ানো ফ্রি-কিকে গোলের সেই চাপ কমে তার। জার্মানিও ২-১ গোলে ম্যাচটি জিতে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখে।

    শাহরুখ খানের প্রিয় দল জার্মানি। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে জার্মানির হার হতাশ হয়েছিলেন শাহরুখ। এরপর সুইডেনের বিপক্ষেও ড্র করতে চলেছিলো জার্মানি। ম্যাচ দেখার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন শাহরুখ। এমন সময় তার রক্তচাপ বেড়ে যায়। এতে অসুস্থ অনুভব করতে থাকেন তিনি। এমন সময় ম্যাচের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল জার্মানদের হাফ ছেড়ে বাঁচার মত জয় এনে দেন ক্রুস।

    পরে টুইটারে শাহরুখ জানান, ‘জার্মানির ভাগ্যকে শেষ মুহূর্তে ফিরিয়ে আনলো ক্রুস। আমার রক্তচাপ যেভাবে তারা বাড়িয়ে দিয়েছিলো, তা থামিয়ে দিলো ক্রুস। তাকে অনেক ধন্যবাদ।’

  • মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

    মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

    প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদ্ধস্ত হয় আর্জেন্টিনা। প্রথম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এক পয়েন্টই নাইজেরিয়াকে এনে দিতে পারবে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে জয় ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। এমকি ড্র করলেও বিদায় নিতে হবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে।

    এমন সমীকরণ মাথায় রেখে বাঁচা-মরার ম্যাচে নাইজেরিয়া বিপক্ষে মাঠে নেমেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর মাঠে নেমেই ম্যাচের শুরুতে মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

    বিস্তারিত আসছে…

  • গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যারা

    গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যারা

    বিশ্বকাপে ফিফার প্রবর্তিত সেরা পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটি ‘গোল্ডেন বুট’।গোল্ডেন বুট ‘গোল্ডেন শু’ হিসেবেও পরিচিত, বাণিজ্যিকভাবে বলা হয় “অ্যাডিডাস গোল্ডেন শু”। ১৯৩০ সালে সর্বপ্রথম আসরের শীর্ষ গোলদাতার জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    ব্রাজিল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ী হয়েছিলেন কলম্বিয়ান ফুটবলার জেমস রড্রিগেজ। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপে এখনো গোলের দেখা পাননি তিনি। এবারের বিশ্বকাপে যারা গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন চলুন জেনে নিই তাদের নাম-

    ১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: 

    দুই ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করে এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে এ পর্তুগীজ তারকা।

    ২. রোমেলো লুকাকো:

    বেলজিয়ামের ফুটবলার রোমেলো লুকাকোও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সমানে লড়ে যাচ্ছেন। দুই ম্যাচে দুইবার জোড়া গোল করে তার গোল সংখ্যাও চারটি।

    ৩. এবারের বিশ্বকাপে ৩টি করে গোল করেছেন রাশিয়ার ডেনিশ চেরিশেভ ও স্পেনের দিয়াগো কস্তা

    ৪. দুটি করে গোল করেছেন মোট ৭ জন। তারা হলেন- ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, ব্রাজিলের পিলিপ্পি কুতিনহো, বেলজিয়ামের ইডেন হেজার্ড, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, নাইজেরিয়ার আহমেদ মুসা, অস্ট্রেলিয়ার মাইল জেডিনাক ও রাশিয়ার অরটেম জিয়ুবা।

  • সুইডেনের বিপক্ষে ১০ জনের জার্মানির নাটকীয় জয়

    সুইডেনের বিপক্ষে ১০ জনের জার্মানির নাটকীয় জয়

    গোছালো রক্ষণভাগ আর দারুণ কাউন্টার অ্যাটাকে জার্মানিকে প্রথমার্ধে হতাশ করেছিল সুইডেন। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল জার্মানরা। কিন্তু বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় তারা। আর ১০ জনের দল নিয়েও ইনজুরি সময়ের গোলে অসাধারণ জয় পায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

    মাত্র ৩ মিনিটে জার্মানদের দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করে দেয় সুইডেন। টিমো বার্নারের হেডে বক্সের মাঝে বেশ জায়গা নিয়ে পায়ে বল পান হুলিয়ান ড্র্যাক্সলার। জোরে শটও নেন তিনি লক্ষ্যে। কিন্তু আন্দ্রেস গ্রাঙ্কভিস্ত পিঠ দিয়ে ঠেকিয়ে তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।

    ৬ মিনিটে এমিল ফোর্সবার্গের দারুণ চেষ্টা রুখে দেয় জার্মানির ডিফেন্ডাররা। ৯ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একটি সুযোগ ব্যর্থ করে দেয় সুইডিশ ডিফেন্ডার। মার্কো রয়েসের ক্রস থেকে বার্নারের আক্রমণ মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান লিন্ডেলফ।

    সুইডেনের সুবর্ণ সুযোগ আসে ১২ মিনিটে। জার্মান রক্ষণ ভেদ করে ডিবক্সে ঢুকে গিয়েছিলেন মার্কাস বার্গ, কিন্তু মানুয়েল নয়ার ও জেরোম বোয়াটেংয়ের মাঝে পড়ে যান তিনি। জার্মান ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে নয়ারের সামনে শট নেওয়ার আগেই হোঁচট খান সুইডেনের ৯ নম্বর জার্সি পরা এ খেলোয়াড়। গত বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক বল সামলে নেন নিজের হাতে।

    কয়েক বার জার্মানির রক্ষণ ভেদ করায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সুইডেন। তার পুরস্কার পায় ম্যাচের আধঘণ্টা পার হতেই। ৩২ মিনিটে পা থেকে বল হারালে ভিক্টর ক্লাসেনের অ্যাসিস্টে ডান দিক থেকে বল পান ওলা টোইভনেন। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েই নয়ারের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে গোল উদযাপনে মাতেন তিনি।

    বিরতিতে যাওয়ার আগে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল জার্মানি ৩৯ মিনিটে। একই সময়ে দুইবার লক্ষ্যে শট নিলেও সুইডিশ গোলরক্ষক রবিন ওলসেন ত্রাতা হন। গুন্দোগানের প্রথম শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর ম্যুলার নেন ফিরতি শট। এবার বল গোলবারের কয়েক ইঞ্চি দূর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।

    বোয়াটেং ৪৫ মিনিটে দূর থেকে শট নিলেও ভাগ্য সহায় হয়নি জার্মানদের। গোলবারের পাশ দিয়ে বল জায়গা করে নেয় মাঠের বাইরে। বরং ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নয়ার জার্মানিকে দ্বিতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান। সেবাস্তিয়ান লারসনের ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে হেড করেছিলেন বার্গ। জার্মান গোলরক্ষক দারুণ সেভ করেন।

    বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানি। ৪৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বার্নারের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে ওলসেনকে পরাস্ত করে দলকে সমতায় ফেরান রয়েস। এই গোলের পর আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৫০ মিনিটে টোনি ক্রসের ফ্রি কিক থেকে লক্ষ্যে হেড করেছিলেন থোমাস ম্যুলার। কিন্তু গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

    ৫৬ মিনিটে জোনাস হেক্টর সময়মতো বলে পা লাগাতে পারেননি, ওলসেন সহজে ঠেকান জার্মানির এই চেষ্টা। ক্রোসের ক্রস ৬৬ মিনিটে প্রতিহত করে তাদের আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন লিন্ডেলফ। ৭২ মিনিটে বার্নারের ক্রস সুইডিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালের দিকে ছুটেছিল, আবারও ওলসেন দারুণ সেভে আটকে দেন জার্মানিকে।

    দুরমাজ সুইডেনের পক্ষে ৭৬ মিনিটে কর্নার আদায় করে নেন। অগাস্টিনসনের বাঁকানো শট জার্মান ডিফেন্ডার হেড করে বাইরে পাঠালেও বক্সের বেশ দূর থেকে বার্গ শক্তিশালী শটে নয়ারের পরীক্ষা নেন।

    ৮১ মিনিটে বার্নারের সরাসরি শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে বড় ধাক্কা খায় জার্মানরা। বার্গকে পেছন থেকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন বোয়াটেং। শেষ ৮ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলেছে গতবারের শিরোপা জয়ীরা। ওই ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। বক্সের মধ্যে ৬ গজ দূর থেকে নেওয়া গুইদেত্তির শট পাঞ্চ করে কোনোভাবে মাঠের বাইরে পাঠান নয়ার।

    ৮৮ মিনিটে অসাধারণ সেভ করেন ওলসেন। গোমেসের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে তুলে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক। কিন্তু ইনজুরি সময়ে পঞ্চম মিনিটে ক্রোসের অসাধারণ ফ্রি কিক গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় জার্মানি।

  • গোলরক্ষকে পরিবর্তন আসছে আর্জেন্টিনার, খেলবেন আরমানি

    গোলরক্ষকে পরিবর্তন আসছে আর্জেন্টিনার, খেলবেন আরমানি

    রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করার পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ০-৩ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচে গোলরক্ষক উইলি কাবালেরোর হাস্যকর ভুলে পিছিয়ে পড়ে মেসি বাহিনী। পরে আর খেলায় ফেরা হয়নি আকাশি সাদাদের।

    তবে শুক্রবার ‘ডি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে নাইজেরিয়া ২-০ গোলে আইসল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়ায় এক চিলতে আশা এখনো জেগে আছে মেসিদের। তাই শেষ সুযোগটুকু কাজে লাগাতে মরিয়া দলটি। তাইতো গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোলরক্ষক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। ফলে উইলি কাবালেরোর বদলে দলে জায়গা পাচ্ছেন রিভার প্লাতের গোলবার রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখা ফ্রাঙ্কো আরমানি।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলতে পৌঁছানোর নতুন আশা নিয়ে শনিবার অনুশীলন করেছে শিরোপা প্রত্যাশী আর্জেন্টিনা। এখন গ্রুপ ম্যাচে ক্রেয়েশিয়া যদি আইসল্যান্ডের কাছে হেরে না যায় এবং নাইজেরিয়াকে হারাতে পারলেই গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলতে জায়গা খুঁজে পাবে ধুকতে থাকা লিওনেল মেসির দলটি।

  • ঝুলে আছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ভাগ্য

    ঝুলে আছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ভাগ্য

    ব্রাজিল শুক্রবার বিস্ময়কর ফুটবল খেলেছে। কী বল ব্রাজিলের বন্ধু?’ প্রশ্ন শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন অগাস্তু। ব্রাজিলের এক নামকরা দৈনিকের রিপোর্টার। তারপর কথায় কথায় জানালেন অনেক কিছু। ব্রাজিল ফুটবল দলটা আর আগের মতো নেই। ফুটবলের দর্শনটাই এখন বদলে গেছে ব্রাজিলে। ‘জোগো বোনিতো’র উত্তরাধিকার আর বহন করছে না ব্রাজিল। পেলেদের ‘বিউটিফুল গেম’ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। নেইমার, কটিনহো, উইলিয়ান, জেসুসরা জয় দিয়ে ভক্তদের সন্তুষ্ট করলেও ব্রাজিলের ফুটবলে সেই আবেগ কোথায়! শিল্প কোথায়! পঞ্চাশোর্ধ্ব অগাস্তু জীবনে কম দেখেননি। কিন্তু গত কয়েক বছরের ব্রাজিল দল যেন মরূদ্যান খুঁজতে খুঁজতে পথ হারিয়ে ভিন্ন কোনো এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। যে বাঁক থেকে ছড়িয়ে গেছে অনেক পথ। সঠিক পথটাই বেছে নিতে পারছে না তারা। বিশ্বকাপে তাই ব্রাজিলকে নিয়ে খুব বড় কিছু আশা করেন না ব্রাজিলীয় সাংবাদিকরা। আর্জেন্টিনার অবস্থাও একই। মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে আর্জেন্টাইন সাংবাদিক কায়েতানোর বক্তব্য ছিল, এই দলটার গ্রুপ পর্ব পাড়ি দেওয়াই কঠিন হবে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সাংবাদিকরা বিশ্বকাপে এসে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করছেন। কারণ, তারা অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন। সমর্থকদের এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। তারা দেখেন, আর্জেন্টিনায় আছেন লিওনেল মেসি। ব্রাজিলে আছেন নেইমার। দুই দলের দুই মহাতারকা। যারা বিশ্ব ফুটবলে এরই মধ্যে আলোড়ন তুলেছেন। ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। সমর্থকরা ভাবেন, নেইমার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের হেক্সা উপহার দেবেন। মেসি আর্জেন্টিনাকে ত্রিমুকুট এনে দেবেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি করে ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের দুই ফেবারিট নিজেদের পথ অনেকটাই অমসৃণ করে তুলেছে। দুই দলকেই এখন কঠিন হিসাব কষতে হচ্ছে। এ যেন একেকটা ভয়ঙ্কর রকমের গণিত পরীক্ষা! তবে এখনো আশা জেগে রয়েছে দুই দলের।

    ব্রাজিলের সামনে পথ অনেকটা সহজ। গ্রুপ পর্ব পাড়ি দিতে হলে তাদের শুধু পরের ম্যাচটা জিততে হবে সার্বিয়ার বিপক্ষে। হারলেই মহাবিপদ। সে ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড আর সার্বিয়া নকআউট পর্বের পথ ধরবে। অবশ্য ব্রাজিলকে ড্র করলেও চলবে। গ্রুপ পর্বের বাধা পাড়ি দিতে পারবে সিলেকাওরা। কিন্তু তাতে বিপদ কমবে না। রানার্স-আপ হলেই ব্রাজিলের দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা হতে পারে এফ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে জার্মানি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। গত বিশ্বকাপের ভূতটা কয়েক সপ্তাহ আগে কাঁধ থেকে নামিয়েছেন নেইমাররা জার্মানিকে হারিয়ে। কিন্তু প্রীতি ম্যাচ আর বিশ্বকাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন মঞ্চ! ব্রাজিলকে তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়াই করতে হবে। ব্রাজিলের সামনে সমীকরণ সহজ হলেও আর্জেন্টিনাকে বেশ কঠিন অঙ্ক কষতে হচ্ছে। ডি গ্রুপে প্রথম ম্যাচ আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র এবং পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজয়, আর্জেন্টিনাকে ঠেলে দিয়েছে খাদের একেবারে কিনারে। ২৬ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়ার। এ ম্যাচ জিতলেই কেবল দ্বিতীয় রাউন্ড খেলার সুযোগ আসবে আলবেসিলেস্তদের সামনে। তাও তাকিয়ে থাকতে হবে আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের দিকে। এ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া জিতলে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে। একটা বিষয় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে পারছে না দ্বিতীয় রাউন্ডে। এর অর্থই হলো, নকআউট পর্বের শুরুতেই মেসিদের মুখোমুখি হতে হবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্সের। টানা দুই ম্যাচ জিতে সি গ্রুপে শীর্ষে থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড এরই মধ্যে মোটামুটি নিশ্চিত করে নিয়েছে ফরাসিরা।

    ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আশা টিকে আছে। কিন্তু দুই ফেবারিটকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে কঠিন বাধার মুখে পড়তে হবে। পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ।

  • দ. কোরিয়ার বিদায়, মেক্সিকোর টানা দ্বিতীয় জয়

    দ. কোরিয়ার বিদায়, মেক্সিকোর টানা দ্বিতীয় জয়

    রাশিয়া বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে মেক্সিকো। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দ. কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দলটি। এই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপে টেবিলের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টের শেষ ষোল’র পথ সুগম করলো মেক্সিকানরা। এর আগে, বিশ্বকাপের প্রথম জয়টি তারা তুলে নিয়েছিলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে। অন্যদিকে, টানা দুই হারে পয়েন্টশূণ্য থেকে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের বিদায়ঘণ্টা বাজালো কোরিয়া।

    গ্রুপের অপর দুই দলের প্রথমটি জার্মানি এখনও কোন পয়েন্ট পায়নি। যদিও তাদের গ্রুপ পর্বে দু’টি ম্যাচ হাতে আছে। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইডেনের পয়েন্ট ৩।

    শনিবারের এই ম্যাচের শুরুটা মেক্সিকোর তুলনায় বেশ গোছালোই করেছিলো কোরিয়া। কিন্তু ম্যাচের ২৭  মিনিটে অঘটন ঘটিয়ে বসে এশিয়ার দাপুটে এই দলটি। ম্যাচের ২৬ মিনিটে কার্লোস ভেলার করা পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো মেক্সিকো। সেই লিডেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে হার্নান্দেজরা।

    এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ফরোয়ার্ড হ্যাভিয়ের হার্নান্দেজ তথা চিচারিতোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো।

    পরে ইনজুরি টাইমে ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে সনের দুরপাল্লার শটে জাল খুজে পায় কোরিয়া। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সনের গোলের ১ মিনিট না যেতেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করলেন রেফারি।

  • শেষ মুহূর্তের দুই গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে ব্রাজিল

    শেষ মুহূর্তের দুই গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে ব্রাজিল

    প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন দিতে ম্যাচের অনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে সমর্থকদের ভীড়। সেন্ট পিটার্সবার্গ যেন হলুদের জনসমুদ্র। তবে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে কোস্টারিকার জমাট রক্ষণকে কিছুতেই পরাস্ত করতে পারছিলেন না নেইমার-কৌতিনহোরা।

    নির্ধারিত সময়েও গোল না পেয়ে নিশ্চিত ড্রয়ের পথেই ছিল ম্যাচটি। অতিরিক্ত সময়ে এসে নিজেদের জাদু দেখিয়েছে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ে কৌতিনহো আর নেইমারের দুর্দান্ত দুই গোলে কোস্টারিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের অনেকটা কাছে চলে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    প্রথমার্ধ থেকেই দাপট দেখিয়ে খেলেছে টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট ব্রাজিল। কেবল গোলটাই পাচ্ছিল না। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে কৌতিনহোর দূরপাল্লার শট বক্সের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।

    neymar-5

    ১৩ মিনিটে বড় একটি সুযোগ পেয়েছিল কোস্টারিকাও। ডানপাশ থেকে ক্রিশ্চিয়ান গ্যাম্বোয়া দারুণভাবে বলটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে দৌঁড়ে যাওয়া ইয়োহান ভেনেগাসের কাছে, তার শট গোলপোস্টের বাম পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

    ২৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে দৌঁড়ে বল নিয়ে যান মার্সেলো, দেন নেইমারকে। নেইমার বক্সের মধ্যে থাকা গ্যাব্রিয়েল হেসুসের কাছে বল দিলে সেটা জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। তবে সেটা অফসাইডর কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।

    ২৮ মিনিটে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন নেইমার। কোস্টারিকা গোলরক্ষক কেইলর নাভাস এগিয়ে এসে কোনোমতে সেটা ফিরিয়ে দেন। পরের মিনিটে আরও দুটি আক্রমণ করে ব্রাজিল। বাঁ প্রান্তে বক্সের বাইরে থেকে মার্সেলোর দূরপাল্লার শট একটুর জন্য পোস্টের ডানপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২৯ মিনিটে কৌতিনহো আরেকটি শট নেন একই জায়গা থেকে, সেটাও পোস্টের একটু উপর দিয়ে চলে যায়।

    ৩২ মিনিটে আরও একবার বল নিয়ে বক্সে ঢুকে যান নেইমার, পাস দিয়েছিলেন হেসুসকে। তিনি সেটায় মাথা ছুঁয়াতে পারেননি, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ব্রায়ান অভিয়েদো বল ক্লিয়ার করেন। অফসাইডও ডাকেন রেফারি।

    coutinho-2

    ৪০ মিনিটে একাই বল নিয়ে বক্সের বাইরে বাঁ দিক থেকে শট নিয়েছিলেন মার্সেলো, নাভাসের সেটা ধরতে কষ্ট হয়নি। ৪৩ মিনিটে ব্রাজিলের আরেকটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ রুখে দেয় কোস্টারিকা। ফলে গোলশুন্য সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ৪৮ মিনিটে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। পাওলিনহোর ক্রসে আরেকটি সংঘবদ্ধ আক্রমণে গোলমুখে জটলা পাকিয়েও সাফল্য পায়নি সেলেসাওরা। ৪৯ মিনিটে একইরকম আক্রমণে আরও একবার হতাশ হতে হয় তাদের। ফ্যাগনারের ক্রস থেকে বল পেয়ে হেসুসের শট গোলবারে লেগে ফেরত আসে।

    ৫৬ মিনিটে পাওলিনহোর ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে নেইমারের শট আঙুলের ডগা দিয়ে ফিরিয়ে দেন নাভাস। পরের মিনিটে পাওলিনহোর কাছ থেকেই বল পেয়েই সরাসরি রিয়াল গোলরক্ষকের হাতে মেরে দেন কৌতিনহো।

    ৭০ মিনিটে নেইমারের কর্ণার থেকে কাসিমিরো দারুণ একটি হেড নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা দক্ষতার সঙ্গে ধরে ফেলেন নাভাস। মিনিট দুয়েক পর কোস্টারিকা ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। তবে পিএসজি তারকা বলটা আরও একটু ভেতরে না নিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই শট মেরে দেন, যদিও সেটা একটুর জন্য জাল পায়নি।

    ৭৭ মিনিটে বলতে গেলে একাই মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কোস্টারিকার বক্সে ঢুকে পড়েন নেইমার। কিন্তু ফাঁকা পেয়েও শটটা নিতে পারেননি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের আলতো ছোঁয়ায় বক্সের মধ্যেই পড়ে যান নেইমার। ভিএআরে দেখা যায় এটা ফাউল হয়নি।

    coutinho-3

    গোল পেতে এরপর আক্রমণ চালিয়েই গেছে ব্রাজিল। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কৌতিনহোর শট ধরে ফেলেন নাভাস। একই মিনিটে কাসিমিরো, হেসুস আর নেইমারের সমন্বিত আরেকটি আক্রমণ ডিফেন্সে আটকে গেলে গড়িয়ে যাওয়া বল শুয়ে ধরে ফেলেন কোস্টারিকা গোলরক্ষক।

    নির্ধারিত সময়ে গোলশুন্য ডঅতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে এসে অবশেষে হতাশা কাটে ব্রাজিলের। ফার্নান্দোর ক্রস পেয়ে বক্সের মধ্যে ফিরমিনোর মাথা হয়ে হেসুসের পায়ে বল যায়। সেখান থেকে তিনি সেটা দেন দৌঁড়ে আসা কৌতিনহোকে। বার্সেলোনা মিডফিল্ডার সেটা জালে জড়াতে একটুও ভুল করেননি (১-০)।

    চতুর্থ মিনিটে ফিরমিনো আর কৌতিনহোর ওয়ান টু ওয়ান পাসে আরেকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। তবে সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে এসে দুর্দান্ত আরেকটি গোল করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বক্সের ডানপাশ থেকে কস্তার পাস থেকে গোল করেন নেইমার (২-০)।