Category: রাজণীতি

  • জি কে শামীম ও খালেদ ৭ দিনের রিমান্ডে

    জি কে শামীম ও খালেদ ৭ দিনের রিমান্ডে

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বহিষ্কার হওয়া খালেদ মাহমুদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    রোববার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আল মামুন শুনানি শেষে এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে দুর্নীতি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

    এর আগে ২৩ অক্টোবর ঢাকা মহানগর আদালতে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে আগামী ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। এছাড়া ২২ অক্টোবর তাদের দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত তাদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য একই দিন ধার্য করেন।

    জি কে শামীমের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও খালেদের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।

    এর আগে ২১ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

    অন্যদিকে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার মামলা করেছে দুদক।

  • নলছিটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেসিপের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বিতরণ

    নলছিটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেসিপের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বিতরণ

    আরিফুর রহমান আরিফ::

    নলছিটি উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) আওতায় ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ( স্কুল ও মাদ্রাসা) এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২৭ অক্টোবর ) সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণ করা হয়।

    এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য, শিল্পমন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সফল শিল্প ও খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

    জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নলছিটি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মোহম্মদ শাহ আলম,জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান, নলছিটি পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তছলিম উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা সিকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খোন্দকার মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

    এছাড়া আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুধীজন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

  • অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে : প্রধানমন্ত্রী

    অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে পুনরায় হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যারা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। অপরাধী সে যেই হোক না কেনো ছাড়া পাবে না।’

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আজারবাইজানে স্থানীয় একটি হোটেলে সে দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যদি আমাদের দলেরও কেউ অপরাধে জড়িত হয়, সে তৎক্ষণাৎ শাস্তি ভোগ করছে। অপরাধীরা অপরাধীই, আমরা অপরাধীদের অপরাধীর দৃষ্টিতেই দেখবো এবং আমরা সেটাই দেখার চেষ্টা করছি।’

    অন্যকে শিক্ষা দেওয়াটা নিজের ঘর থেকেই শুরু করা উচিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সেটাই করছি (দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ) এবং আমি এটি অব্যাহত রাখবো।’

    বিএনপি-জামায়াত সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের পাঁচ বছরের দু:শাসনে দেশে দুর্নীতির কোন সীমা ছিল না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের হীন স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।’

    বিএনপি চেয়ারপার্সনের উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে একজন প্রবাসীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী অন্যান্য বন্দীদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভ করছেন। বেগম জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী একজন গৃহপরিচারিকা কারাগারে তার সাথে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়াকে কারাগারে সে সেবা করছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারের ইতিহাসে বা কোন দেশে এমন নজির নেই কোন নিরপরাধী গৃহপরিচারিকা একজন বন্দীর সাথে কারাগারে অবস্থান করে। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই সুবিধা ভোগ করছেন। বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউতে একটি কেবিনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বিএনপি বলছে বেগম জিয়া অসুস্থ, কারণ তারা তার মুক্তির দাবিকে আন্দোলনের ইস্যু বানাতে এটা বলছে। কিন্তু বিএনপি তার মুক্তির আন্দোলন বা জনমত গঠন করতে পারেনি। আমাদের কিছু করার নেই। আমরা কি করতে পারি?’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিগত কেয়ারটেকার সরকারের আমলে দায়েরকৃত মামলায় সাজা হয়। আরো মামলা চলমান রয়েছে। বেগম জিয়ার দুই ছেলে মানি লন্ডারিং, ২১ আগস্ট গ্রেনড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযানগুলোতে আমরা ভালো ফল পাচ্ছি। কারণ মাদক একটি ব্যক্তি ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমি ক্ষমতায় আসার পর সর্বাত্মকভাবে দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মায়ানমারের সাথে আলোচনা চলছে। এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে আবাস গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কিছু এনজিও তাদেরকে সেখানে যেতে দিতে চায় না।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য, আইসিটি, সামাজিক নিরাপত্তা সেক্টরে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ সাফল্যের কারণে বিশ্বে উন্নয়নের জন্য রোল মডেল হিসাবে পরিণত হয়েছে। তিনি দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্বীকার করেন।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১০টি বোয়িং এয়ারক্রাফট কিনে বিভিন্ন দেশের সাথে বিমান নেটওয়ার্ক বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২টি ও কানাডা থেকে ৩টি বোয়িং বিমান ক্রয় করা হবে।’

    সূত্র: বাসস

  • বঙ্গবন্ধুর নামে সড়কের নামকরণ হচ্ছে ফিলিস্তিনে

    বঙ্গবন্ধুর নামে সড়কের নামকরণ হচ্ছে ফিলিস্তিনে

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শহর হেভরনের একটি রাস্তার নাম বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিন সরকার।

    শনিবার আজারবাইজানের বাকু কংগ্রেস সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি এই তথ্য জানান। রাস্তাটির নামফলক উন্মেচন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মালকি।

    ১৮তম জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে আজারবাইজান সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও ছিলেন।

    পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রিয়াদ মালকি জানিয়েছেন ফিলিস্তিন সরকার হেভরনে একটা রাস্তা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে নামকরণ করবে। এ ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিন সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে বলে জানান শহীদুল হক।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুটা সব সময় বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রিয়াদ মালকি।

    বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য, কুটনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়নের জন্য ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানিয়েছেন শহীদুল হক।

  • আজ দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

    আজ দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    ১৮তম নন-অ্যালাইন মুভমেন্ট (ন্যাম) সম্মেলনে যোগ দিতে আজারবাইজানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ রোববার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় বাকু হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। বিমানটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

    ১২০টি উন্নয়নশীল দেশের জোট নিরপেক্ষ ফোরাম ন্যামের দুই দিনের সম্মেলনটি ২৫ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর কংগ্রেস সেন্টারে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন।

    শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারে ১৮তম ন্যাম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া তিনি বাকু কংগ্রেস সেন্টারে সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিশ্চিতে ‘বান্দুং নীতিমালা’ সমুন্নত রাখা বিষয়ে এক সাধারণ আলোচনায় বক্তৃতা করেন।

    বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছি। তাদের আমাদের দেশ এবং এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছি। মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজভূমিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়াই সংকটের একমাত্রা সমাধান।’

    শনিবার প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে ওয়ার্কিং লাঞ্চন ও সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পরে সন্ধ্যায় তিনি হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে আজারবাইজানের ইলহাম আলিয়েভের দেয়া সরকারি সংবর্ধনায় যোগ দেন। এছাড়া তিনি হিলটন বাকুতে একই সঙ্গে আজারবাইজানের দূত হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া নৈজভোজে অংশ নেন।
    ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, আলজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবদেল কাদের বেনসালাহ ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালকিসহ বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

    একই দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাকুতে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হোটেল হিলটন বাকুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বাকুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • ক্যাসিনোকাণ্ডে বরিশালের এমপি শাওন-পঙ্কজ এখন কাঠগড়ায়!

    ক্যাসিনোকাণ্ডে বরিশালের এমপি শাওন-পঙ্কজ এখন কাঠগড়ায়!

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতসহ নানা বিতর্কে অভিযুক্ত এমপিরা এখন কাঠগড়ায়। ক্যাসিনোকাণ্ড ও নানা অপকর্মের কারণে ইতোমধ্যে সরকারদলীয় এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশযাত্রায় দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচনী এলাকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আসন্ন সম্মেলনসহ ও সব সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিরত রাখা হয়েছে। নানা কারণে বর্তমানে সমালোচিত-আলোচিত হচ্ছেন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও।

    শনিবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন শাবান মাহমুদ ও রফিকুল ইসলাম রনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজিতে জড়িত যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকজন এমপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে চারজন এমপির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যারা এত দিন এলাকায় গডফাদার ছিলেন, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস করেছেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি শেখ হাসিনার। ইতোমধ্যে কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। আরও প্রায় দেড় ডজন এমপিকে সতর্ক চোখে রাখা হয়েছে।

    সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণ ফোরামের নেতারা বলছেন, নিজ দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করায় জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যত বড় রাঘববোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ন্যাম সম্মেলন শেষে আজারবাইন থেকে দেশে ফেরার পর দুর্নীতিবাজ এমপি-নেতার তালিকা আরও বড় হতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপের ফলে কোনো অপরাধীই অপরাধ করে ছাড় পাবে না। তবে দলের শীর্ষ মহল থেকে ঘোষণা দিয়ে অ্যাকশন শুরু করা এটাই প্রথম। এতে জনমনে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপ। এর ফলে অপরাধীরা আর অপরাধ করার সাহস পাবে না। যারা এত দিন নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করতেন তারাও নিজেদের গুটিয়ে নেবেন। কারণ শেখ হাসিনার আমলে অপরাধীদের ছাড় নেই। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দেশের জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকবে। সূত্র জানায়, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে দুর্নীতিগ্রস্ত, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজির কাজে অভিযুক্ত মন্ত্রী-এমপিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এসব মন্ত্রী-এমপিকে বিতর্ক এড়িয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করার জন্য দলীয় ফোরামে শোধরাতে বলেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

    জানা গেছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযান শুরুর পরপরই এই এমপির নাম আসায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। শাওনের সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান করছে দুদক। তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংস্থাটি। অন্য অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পরপরই এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শামসুল হক চৌধুরী। চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব হুইপ শামসুল হকের বিরুদ্ধে ক্লাবটিকে জুয়ার আসরে পরিণত করার অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগের। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক।

    সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকারদলীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিপুল অবৈধ অর্থের মালিক। গ্রেফতার ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, এই এমপি কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদার ইলিয়াসকে (জি কে শামীমের সহযোগী) ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উপজেলা ও উপজেলার বাইরের এলাকায় এসব কাজ দিয়েছেন রতন। এ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রতনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একজন এমপি অভিযানে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণের বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের চারজন, পাবনার একজন, নাটোরের একজন, ময়মনসিংহের একজন, রাজশাহীর একজন, বরগুনার একজনসহ প্রায় দুই ডজন এমপির ব্যাপারে সতর্ক চোখ রাখা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এই এমপিদের তথ্য আগে থেকেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাদের নামও আছে ওইসব তালিকায়। শুধু নিজ দলের এমপি-মন্ত্রী নন, অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন এমন দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এমনকি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন গ্রুপিং করা নেতাদের তালিকাও রয়েছে। সেই তালিকা ধরে অভিযান চালানো হবে।

    এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। সভানেত্রী হিসেবে দলের ভিতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য অনেক সাহস প্রয়োজন হয়। তিনি তা দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন একটি দল ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাকেন্দ্রিক লোভ-লালসা জন্মে। ফলে কারও কারও কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

    সুত্র : বিডি প্রতিদিন

  • ভোলায় নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দিলেন তোফায়েল

    ভোলায় নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দিলেন তোফায়েল

    ভোলা প্রতিনিধি//মো: নিশাত:

    ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চারজনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল নিহতদের বাবা-মায়ের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এর আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নিজ বাসভবনে সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভোলার অভিভাবক সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

    তিনি বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অচিরেই পাওয়া যাবে। পুরো ঘটনাটিকে নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ভোলার সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে আলী আজম মুকুল বলেন, নিহতদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা করা হয়েছে। আহতদেরকে চিকিৎসা সাহায়তা দেয়াসহ সবগুলো দাবিই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবীকে (স.) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রোববার সমাবেশ ডাকে ‘তৌহিদী জনতা’। এতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।

  • সন্ধ্যানদী ভাঙনরোধে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    সন্ধ্যানদী ভাঙনরোধে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যানদী ভাঙনরোধে ড্রেজিং প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চতলবাড়ি লাগোয়া নদীতে ৩০ লক্ষ ঘনমিটার মাটি কেটে প্রবাহমান স্রোত ঘুরিয়ে দিতে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছে। শনিবার এই ড্রেজিং প্রকল্প উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

    এর আগে প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন- সন্ধ্যানদী ভাঙনরোধে তিনি উজিরপুরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই ওয়াদা রক্ষায় দ্রুততার সাথে উদ্যোগ নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পে আরও ড্রেজিং মেশিন যুক্ত করার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় বরিশাল ২ আসনের এমপি শাহ আলমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

    পরে প্রতিমন্ত্রী স্পিডবোটযোগে নদীতে নেমে সুইচ চেপে ড্রেজিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    ড্রেজিং বিভাগের খুলনা অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এম গোলাম সরোয়ার বরিশালটাইমসকে এই প্রকল্পে ৩০ লক্ষ ঘনমিটার মাটি কেটে ২০০ মিটার প্রস্থ এবং ৯ ফুট গভীরতা বৃদ্ধি করে একটি নতুন চ্যানেল করে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে উপজেলার চতলবাড়ি ও তার আশপাশ এলাকার সন্ধ্যানদী ভাঙন অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।’

  • রোহিঙ্গা সংকটের মূল মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারকে খুঁজতে হবে

    রোহিঙ্গা সংকটের মূল মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারকে খুঁজতে হবে

    বাংলার মুখ ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজভূমিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়াই সংকটের একমাত্র সমাধান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সংকট এবং এর মূল গভীরভাবে মিয়ানমারে প্রোথিত। তাই এর সমাধানও মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই খুঁজতে হবে। এই সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আজারবাইজানের বাকু কংগ্রেস সেন্টারে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিশ্চিতে ‘বান্দুং নীতিমালা’ সমুন্নত রাখা বিষয়ে এক সাধারণ আলোচনার ভাষণে একথা বলেন।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছি। এটির আমাদের দেশ এবং এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছি।’
    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারত আশ্রয় দেয়ার কথা স্মরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এবং তার ছোটবোন শেখ রেহানাকে ছয় বছর নির্বাসনে কাটাতে হয়।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দায় খুবই নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে তাই অবশ্যই জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে।

    শেখ হাসিনা শান্তি বজায় রাখতে ন্যামের কার্যকরী ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করে। তবে শান্তি রক্ষা, বজায় রাখা এবং সংহত করতে ন্যাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

    তিনি বলেন, যেকোনো অঞ্চলের যেকোনো দেশকে রক্ষায় শক্তি ও প্রভাব ব্যবহারে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, নিরস্ত্রীকরণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি হাতিয়ার। বাংলাদেশ নিরস্ত্রীকরণের বিকাশে সবসময় সক্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতিও দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

    জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের লক্ষ্যের প্রতি বাংলাদেশ দৃঢ় বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যামের নীতিমালা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যামের গুরুত্বের প্রতি স্বীকৃতি জানিয়ে এর আলজিয়ার্স শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এ শীর্ষ সম্মেলনে বলেছিলেন, পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আরেক দিকে শোষিত। ২০২০ সালের মার্চে আমরা এই মহান নেতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন বিষয়টি সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল সমস্যা। ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী পদক্ষেপের অভাবে ফিলিস্তিনি জনগণ অধিকার বঞ্চিত রয়েছে। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এ অবৈধ দখলদারিত্বের অবশ্যই অবসান হতে হবে।

    জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় আজারবাইজানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ন্যামের নতুন প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভকে বাংলাদেশের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এই খাতে আমরা নজিরবিহীন অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমাদের জিডিপি বর্তমানে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থাকে জোরদারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দারিদ্র্য হ্রাসে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়, নারীর ক্ষমতায়নে এবং লিঙ্গ সমতায় আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা অর্জন করেছে।

    বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক চোরাচালান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমাদের এ পদক্ষেপ সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।

    সুত্র: বিসিসি

  • চুপ থাকো! একটা কথাও বলবা না, সুজনকে পাপনের ধমক

    চুপ থাকো! একটা কথাও বলবা না, সুজনকে পাপনের ধমক

    বাংলার মুখ ডেস্ক ::

    ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে অস্বস্তি বিরাজ করছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবিতে। যদিও ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের বৈঠকের পর আপাতত স্বস্তি ফিরেছে। মাঠে ফিরেছেন খেলোয়াড়রা। দাবিগুলো নিয়ে বোর্ড এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে হওয়া বৈঠকে বারবার হস্তক্ষেপ করছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। আর তখনই রেগে যান বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। একপর্যায়ে কড়া ধমক দেন সুজনকে।

    জানা গেছে, বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতের জরুরি ওই বৈঠকে বারবার খেলোয়াড়দের বিপক্ষে কথা বলতে থাকেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং এবং পাতানো ম্যাচের অভিযোগ খেলোয়াড়দের সাজানো নাটক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    মাহমুদ বলেন, ঢাকার ক্রিকেটে কোনো পাতানো ম্যাচ হয় না। আম্পায়ারদের কেবল দু’একটি ভুল হয়। এছাড়া বাকি সব অভিযোগ কোচ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাজানো নাটক। এসব নিয়ে তাদের দাবি ভিত্তিহীন।

    তার এসব কথায় একপর্যায়ে খেপে যান নাজমুল হাসান পাপন। উচ্চস্বরে তিনি বলেন, চুপ করো। তুমি (খালেদ মাহমুদ) আর একটা কথাও বলবা না। তোমার লজ্জা লাগে না! টাকা নাও আবার কথা বলো! এতদিন আমাকে অনেক ভুল বুঝাইছো, আর না।

    এর আগে নাজমুল হাসান জানান, বিসিবির পরিচালক হয়েও জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে বেতন নেন খালেদ মাহমুদ। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন দলের কোচিং করান। এসব স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করছে।