Category: রাজণীতি

  • মিথ্যা তথ্যে সরকারি ভাতা নিলে ৬ মাসের জেল

    মিথ্যা তথ্যে সরকারি ভাতা নিলে ৬ মাসের জেল

    মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো ভাতা নিলে বা কাউকে ভাতা নিতে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে এক ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এমন বিধান রেখে ‘সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০১৯’ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতামতসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫০টির মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বড় বড় কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, দুঃস্থ নারী, চা বাগানের শ্রমিক, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারী, তৃতীয় লিঙ্গসহ পিছিয়ে পড়া মানুষদের ভাতা দিচ্ছে সরকার।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদার, কার্যকর সমন্বয়, সামাজিক বীমা ও পেনশন সুবিধা দিতে সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি সুসংগঠিত করা প্রয়োজন। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সেবা প্রদান পদ্ধতি সহজীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা জোরদার, নির্বাচনে দক্ষতা বৃদ্ধি করাও প্রয়োজনীয় বিষয়। এ সংক্রান্ত দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাত সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তি নিশ্চিতেও কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব কারণে সামাজিক নিরাপত্তা আইনটি করা হচ্ছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিভিল রেজিস্ট্রেশন ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা) শাহনাজ আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা একটা খসড়া (সামাজিক নিরাপত্তা আইন) করেছি, চট করেই তো একটা আইন করা যায় না। সবার মতামত নিচ্ছি। এছাড়া আইনের যে গ্রামার আছে সেগুলো ঠিক আছে কি-না, তা একটি কমিটি দেখছে। আমরা ছোট ছোট করে এগোচ্ছি। যাতে আইনটি করতে গিয়ে কোনো ভুল না করি।’

    তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের স্ট্র্যাটেজি আছে, অ্যাকশন প্ল্যান আছে। কোনো আইন নেই। স্ট্র্যাটেজি, অ্যাকশন প্ল্যান- এগুলো হচ্ছে সময়ভিত্তিক। আর আইন হচ্ছে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা। যাতে সামাজিক নিরাপত্তার ভালো কাজগুলো কন্টিনিউ করা যায়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সব দেশেই আছে। এটা করতে যাতে আমার পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়, এ আইনের হাত ধরে যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, এসব উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হচ্ছে।’

    খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুবিধা নেন, অন্য কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ভাতা বা সুবিধা পেতে সহযোগিতা করেন, অন্যায়ভাবে কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা ভাতাপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বা সুবিধাপ্রাপ্তিতে সহযোগিতার জন্য উৎকোচ গ্রহণ বা দাবি করেন তবে তিনি অপরাধী হবেন।’

    এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ/দফতর/সংস্থার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে গাফিলতি বা পরিষদকে (আইনের অধীনে গঠিত জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদ) সহযোগিতা না করেন বা অবহেলা প্রদর্শনের কোনো কাজ করেন তবে তিনিও এ আইনের আওতায় অপরাধ করেছেন বলে বিবেচিত হবে।

    এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে।

    এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সংস্থা ও বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারের মধ্যে সমন্বয় সাধন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং সর্বোপরি এ ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতে ‘সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠিত হবে। সংক্ষেপে এটি সিএমসি বলে অভিহিত হবে। এ কমিটির সভাপতি হবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

    মন্ত্রণালয়/বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ে সহযোগিতা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিভুক্ত প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের কমপক্ষে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সামাজিক নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত বা যুগ্ম সচিব (সমন্বয়) সামাজিক নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।

    সামাজিক নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের (সমন্বয় ও সংস্কার) নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট সমন্বয় কমিটি গঠিত হবে। এ কমিটি সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির যাবতীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা দেবে। কমিটি প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সুপারিশ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে উপস্থাপন করবে।

    মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার

    দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিতে কার্যক্রমের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর সমন্বয়ে পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার গঠন করা হবে। সামাজিক ভাতা ক্লাস্টার, খাদ্যনিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহায়তা ক্লাস্টার, সামাজিক বীমা ক্লাস্টার, শ্রম ও জীবিকায়ন ক্লাস্টার এবং মানব উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ক্লাস্টার। খসড়া আইনে এ পাঁচ ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রণালয় ও কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

    সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়, কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণ, সুবিধাভোগীদের সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি ও এমআইএস উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জেলা পর্যায়ে সার্বিক সুশাসন নিশ্চিতে প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হবে।

    এছাড়া জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত জেলা ব্যবস্থাপনা কমিটি’ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উপজেলা ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হবে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে এনজিও ও সুশীল সমাজের কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের (সমন্বয় ও সংস্কার) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

    ‘একজন ব্যক্তি শুধু একটি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন’ উল্লেখ করে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ‘কোন অবস্থাতেই কেউ একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন না।’

    এতে আরও বলা হয়েছে, ‘সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাপ্রাপ্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তাবলি প্রতিটি কার্যক্রমের সঙ্গে স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে তা হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জনগণের দারিদ্র্য স্কোরভিত্তিক খানাজরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় কমিটির সুবিধাভোগী নির্বাচন করতে হবে। দারিদ্র্য স্কোর সংক্রান্ত কোনো আপিল বা অভিযোগ থাকলে তা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় উপজেলা কমিটি যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

    সুবিধাভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলির নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ভাতা বিতরণে ডিজিটাল তথা উদ্ভাবনী পদ্ধতি উৎসাহিত করবে।

    উপযুক্ত ব্যক্তিরা ভাতা পেতে আবেদন করতে পারবেন

    সামাজিক নিরাপত্তাপ্রাপ্তির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যথাশিগগিরই যাচাই ও পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আবেদনকারীকে ফলাফল জানাতে হবে।

    সামাজিক নিরাপত্তায় সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটির কাছে আবেদন করতে পারবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ বা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করতে পারবে।

    তহবিল গঠন

    সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় বিধায় আকস্মিক দুর্যোগকালীন ভাতা বিতরণের জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্থানীয় তহবিল গঠন করা যাবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ তহবিল থেকে যেকোনো দরিদ্র ও ঝুঁকিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য দেয়া যাবে।

    চালু হবে সামাজিক নিরাপত্তা পদক

    খসড়া আইনে বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও বিশেষ আর্থিক অনুদান উৎসাহিত করতে সরকার প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা পদকসহ অন্যান্য পুরস্কার দিতে পারবে।

    পরিষদ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা পদক এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য পুরস্কারগ্রহীতা নির্বাচন করবে।

    জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা পদক ও অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তির শর্তাবলি সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে জার্সি উপহার দিলেন ফিফা সভাপতি

    প্রধানমন্ত্রীকে জার্সি উপহার দিলেন ফিফা সভাপতি

    একদিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।

    আজ সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শিমুল হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইনফ্যান্তিনো। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অপরদিকে বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন ফিফা সভাপতি।

    INFANTINO

    ফিফার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার নাম লেখা নীল রংয়ের একটি ১০ নাম্বার জার্সি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন ইনফ্যান্তিনো। প্রধানমন্ত্রীও ইনফ্যান্তিনোর নাম খেলা লাল সবুজ বাংলাদেশ দলের একটি জার্সি উপহার দেন ফিফা সভাপতিকে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর বাফুফে কার্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে ইনফ্যান্তিনোর। এরপর বেলা ২টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন ফিফা সভাপতি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আজ বিকেল পাঁচটায়ই লাওসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।

  • যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা আসছে

    যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা আসছে

    অনলাইন ডেস্ক:

    সাস্প্রতিক সময়ে শীর্ষ কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ইমেজ সংকটে পড়েছে দেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগ। দলের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত তাদের ওপর ক্ষুব্ধ।

    প্রশ্নে উঠেছে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও। ফলে, যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলটিকে।

    হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবার সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চায় দলটি। সে জন্য বেশকিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে যুবলীগের বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা আসছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

    জানা গেছে, আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের সম্মেলনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। ওই দিনই বিকেলে তার বাসভবন গণভবনে যুবলীগের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি।

    সে বৈঠকে সকল প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। তবে থাকবেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

    বুধবার (১৭ অক্টোবর) গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন।

    দেশের প্রথমসারির একটি পত্রিকাকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও তাদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ। তিনি চান না রোববারের বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকুক।

    এটি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে থাকবেন না সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

    এদিকে রোববারের ওই বৈঠকে যুবলীগের সম্মেলনকে সফল করতে ১২টি উপকমিটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য দেওয়া হবে। একইসঙ্গে বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলনের তারিখও চূড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে ২২ নভেম্বর দুই মহানগর শাখার সম্মেলন হতে পারে।

    জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করতে পারেন। কে সভাপতিত্ব করবেন সেটি নির্ধারণের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ওপর ছেড়ে দিবেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী রোববারের বৈঠকে ঠিক করে দিতে পারেন।

    শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগের মতো যুবলীগেও বয়সসীমা বেধা দেয়ার চিন্তা করছে দলটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী ২৩ নভেম্বর দলটির দলটির সপ্তম কংগ্রেসকে সামনে রেখে নেতৃত্বের বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুবলীগ নেতাদের বয়স সর্বোচ্চ ৫০ বছর নির্ধারণ করার চিন্তাভাবনা চলছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি। ওই সময় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪০ বছর বয়সসীমার বিধান ছিল। তবে ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ঐ বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকে সময় যত গড়িয়েছে সংগঠনটির নেতৃত্বে এসেছে পঞ্চাশ থেকে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। বর্তমান যুবলীগ চেয়ারম্যানের বয়স ৬৪ বছর।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফিফা সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফিফা সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

    অনলাইন ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে একটি ফ্লাইটযোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো। একদিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসে বিমানবন্দরে সবাইকে শুভ সকাল জানান তিনি। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো।

    বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের আমন্ত্রণে সফরে ঢাকায় পা রেখেছেন ইনফান্তিনো। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটিই প্রথম সফর তার।

  • প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

    প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

    অনলাইন ডেস্ক:

    ‘ভ্যাকসিন হিরো’ এবং ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

    বুধবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি অভিনন্দন জানান বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম তাকে স্বাগত জানান।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তার যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় দুটি সফর সম্পর্কে পৃথক দুটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাধারণত বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এ সময় পারস্পরিক স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন বলেও জানান প্রেস সচিব। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রিমান্ডের প্রথম দিনেই সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে পাঠাল ডিবি

    রিমান্ডের প্রথম দিনেই সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে পাঠাল ডিবি

    অনলাইন ডেস্ক:

    অস্ত্র ও মাদক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনেই যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা দুটি তদন্ত করবে র‍্যাব।

    এর আগে মঙ্গলবার সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

    শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন অস্ত্র মামলায় ৫ দিন ও মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাকে এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখান।

    ৯ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে চিঠি দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সম্রাট অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ বিষয় শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    ৮ অক্টোবর সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

    শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের জন্য গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

    গত ৭ অক্টোবর রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরা আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও রিমান্ড শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

    র‌্যাব-১ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় এ মামলা দুটি দায়ের করে। দুই মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক। এর মধ্যে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

    ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মিলছিল না সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর রাত থেকেই তার গ্রেফতার হওয়ার খবর এলেও পরদিন সকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরমানকেও আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র‌্যাব।

    ৬ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

  • যুবলীগের দুর্নীতিবাজ কেউ যেন গণভবনে না আসে :  প্রধানমন্ত্রী

    যুবলীগের দুর্নীতিবাজ কেউ যেন গণভবনে না আসে : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:

    আওয়ামী যুবলীগের আসন্ন সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বৈঠকে দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন কেউ যেন গণভবনে না আসে; তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বুধবার দুপুরে গণভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে যুবলীগের আসন্ন কংগ্রেস নিয়ে বৈঠক করার সময় চান। সে অনুযায়ী আগামী রোববার বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে বসার সময় দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    সংগঠনটির সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকালে কংগ্রেস আয়োজনের দিকনির্দেশনার জন্য বৈঠকের অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে গণভবনে না আসে।

    যুবলীগের নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এ কথা বলেছেন তখন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই বৈঠকে অংশ নেবেন তারা। সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা এ বৈঠকে অংশ নিলেও থাকতে পারছেন না দুর্নীতির অভিযোগ থাকা নেতারা।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর শেষে দেশে ফেরার দিন গত ৭ অক্টোবর রাতে ওমর ফারুক চৌধুরী গণভবনে গিয়েছিলেন। ওইদিন গণভবনে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুবলীগ নেতারা যে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সে দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকাননি।

    জানা গেছে, সর্বশেষ ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়াম বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চেয়ারম্যানের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন নেতা। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথাও বলেন তারা।

    ওই সভা থেকেই সাধারণ সম্পাদককে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বৈঠকের পর থেকে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদেরও।

    সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক থাকেন চেয়ারম্যান, কিন্তু সপ্তম কংগ্রেসের প্রস্তুতি কমিটিতে ওমর ফারুক চৌধুরীকে না রাখার জন্য আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোববারের বৈঠকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন অভিযোগ আসায় যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকেও সম্মেলনের আগে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে যে কঠোর রয়েছেন সেই বার্তাটা দেয়া হবে।

    এ বিষয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, আগামী জাতীয় কংগ্রেসের বিষয়ে নেত্রীর গাইডলাইন দরকার আমাদের। এ বিষয়ে নেত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকের অনুমতি নিতে আজ (বুধবার) নেত্রীর সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তিনি আমাদের আগামী রোববার বিকেল ৫টায় গণভবনে সময় দিয়েছেন।

    সংগঠনের চেয়ারম্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান যেহেতু প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আসেন নাই, সেহেতু রোববারের বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকবেন কিনা সেটা পরিষ্কার নয়।

    হারুনুর রশীদ বলেন, গণভবন একটি পবিত্র জায়গা। এখান থেকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নেত্রী তার সমস্ত পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যান। কাজেই এই পবিত্র জায়গায় কোনো বিতর্কিত লোকের যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করি।

  • ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষণ ধামাচাপা দিলেন বাবুগঞ্জের ওসি ও মেম্বাররা!

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে। যা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার এবং বিচার বিভাগ। কিন্তু সেই মুহুর্তে সালিশ মিমাংসার নামে ধামা চাপা দেয়া হয়েছে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা। থানা পুলিশ এবং স্থানীয় মেম্বাররা মিলে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে দুই সন্তানের জনক কর্তৃক ধর্ষিত অসহায় কিশোরীর ইজ্জত।

    ঘটনাটি প্রায় এক মাস পূর্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বুসারের পিঠ নামক গ্রামের জনবিচ্ছিন্ন এক চরে ঘটেছে। যা নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না এলাকার অসহায় মানুষগুলো। কেননা ধর্ষণের ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার পেছনে খোদ থানার ওসি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান তিন মেম্বারের সম্পৃক্ততার কারণে মুখ বুজে আছে গ্রামবাসি। তাছাড়া সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা এক যুবককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে।

    কিন্তু মেয়ে এবং তার পরিবারের অভিযোগ ও প্রকাশ্যে এতসব ঘটার পরেও কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন অভিযুক্ত বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান। তার দাবী মেম্বাররা নিজেরা বাঁচতে পুলিশকে জড়াচ্ছে। আর অভিযুক্ত মেম্বাররা বলছেন যা কিছুই হয়েছে তার সব কিছু পুলিশের উপস্থিতিতেই হয়েছে।

    ধর্ষিতা ১৩ বছরের কিশোরী জানায়, ‘গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যে কোন বুধবার দুপুর দুইটার দিকের ঘটনা। কলস নিয়ে পানি আনতে ঘর থেকে বের হন কিশোরী। পথিমধ্যে ধান খেতে হালচাষে ব্যস্ত থাকা মুলাদী উপজেলার কাজীরচর এলাকার বাসিন্দা মৃত আর্শেদ হাওলাদারের ছেলে দুই সন্তানের জনক দুলাল হাওলাদার পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে তার পথরোধ করে।

    কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, ‘দুলাল পথরোধ করে পাশের পাট খেতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাত ধরে টানা হেচড়া করে। যেতে না চাইলে জোর করে কোলে তুলে পাঠ খেতের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। তখন কিশোরী চিৎকার দিলে পাশর্^বর্তী দুই যুবক ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পরেই শুরু হয় ধামা চাপা দেয়ার প্রক্রিয়া। তবে মেয়ের অসহায় পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এমনকি বিচারের দাবি নিয়ে মেয়ের মা ওই দিন মেয়েকে নিয়ে বাবুগঞ্জ থানায়ও যান। সেখানে হাজির হন বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বিএনপি নেতা জামাল হোসেন পুতুল, মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর সেলিম হাওলাদার, তার মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খান, মেয়ের চাচাত ভাই সেলিম হাওলাদার, স্থানীয় হারুন মাল ও নাসিরসহ বেশ কয়েকজন।

    মেয়ের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেনি। বরং আমাদের বিভিন্নভাবে ভয় ভিতি প্রদর্শন করে। ‘মামলা করলে কে চালাবে ? মামলা করলে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতাকেও জেলে যেতে হবে’ এ ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেন ওসি এবং মেম্বাররা। তাদের এসব কথা শুনে আমরা ভিতু হয়ে পড়ি।

    এক পর্যায় বাবুগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাটি ক্ষতিপূরনের মাধ্যমে মিমাংসা করে দিতে মেম্বার সহ স্থানীয়দের নির্দেশ দেন। এমনকি ক্ষতিপূরন বাবদ মেয়েকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে দেয়ার জন্যও মেম্বারদের নির্দেশনা দেন ওসি। কিন্তু ওসি’র বলে দেয়া ৫০ হাজার টাকা আমরা পাইনি। ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দিয়েছে। এমনকি তা ইসলামী ব্যাংক রহমতপুর শাখায় মেয়ের নামে একটি এফডিআর করে জমা দেয়া হয়েছে।

    মেয়ের বাবা-মা বলেন, ‘যে টাকা দিছে তা আমরা আমাদের হাত দিয়েও ধরিনি। যা করার মেম্বার এবং উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরাই করেছে। কিন্তু আমরা এই ক্ষতিপুরন চাইনি। আমরা চেয়েছি বিচার। এমনকি ক্ষতিপূরণ নয় বরং এই ঘটনায় আইনি বিচার দাবি করেছেন ধর্ষিতা কিশোরী।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ধর্ষক দুলাল হাওলাদার মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক এর ভায়রা। সেই সুবাদে আব্দুল মালেকের মেয়ে জামাই বর্তমান মেম্বার শামীম খানও ধর্ষকের আত্বীয়। তারা দু’জন বাবুগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জামাল হোসেন পুতুলকে সাথে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামা চাপা দেন।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র ১০ হাজার টাকায় মিমাংসার চেষ্টা চলছিলো। কিন্তু আমি জানার পরে ক্ষতিপুরনের পরিমান ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি। এমনকি ওই টাকা মেয়ের নামে ৩ বছরের একটি এফডিআর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছি। এফডিআর’র জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে তাও আমার নিজের পকেট থেকে দিয়েছি।

    ধর্ষণ সালিশ যোগ্য অপরাধ নয় এমনটি স্বীকার করে পুতুল মেম্বার বলেন, ‘সালিশের বিষয়টি থানায় বসেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওসি সাহেব সব নিজেই বলেছেন এটি সামাধান করে দিতে। কিন্তু তিনি যে ক্ষতিপুরনের কথা বলেছেন সেটা আদায় করে দেয়া সম্ভব হতো না। কারন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নিজেও গরিব। তাছাড়া মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আমি ধর্ষণের ঘটনার সালিশ করেছি। এটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আপনারা পারলে আমায় ধরেন।

    এদিকে ধর্ষক দুলালের ভায়রা সাবেক মেম্বার আব্দুল খালেক বলেন, ‘ওই ঘটনার কোন সালিশ হয়নি। এটি কোন ধর্ষণের ঘটনা না। দুলাল ধান খেতে চাষ করতে ছিলো। দুই ব্যক্তি তাকে ধান খেত থেকে ডেকে এনে মেয়ের পাশে দাড় করিয়ে ছবি তুলে মিথ্যা অপবাদ দেয়। এ খবর পেয়েই আমি সেখানে যাই।

    তিনি বলেন, আমি কোন অপরাধের পক্ষে নই। আমি ন্যায়ের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি সব সময়। তবে ধর্ষণের ঘটনাটি কেন টাকার বিনিময়ে ধামা চাপা দেয়া হলো এমন প্রশ্ন করা হলে কোন উত্তর না দিয়ে ব্যস্ততার কথা বলে পড়ে ফোন করবেন বলে এড়িয়ে যান সাবেক মেম্বার আব্দুল মালেক।

    অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি এই থানায় নতুন এসেছি। এলাকা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সবকিছু জানতেও পারিনি। তাছাড়া যে ধর্ষণের ঘটনার নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে ধরনের কোন অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। আর আসলে অবশ্যই আমি মামলা নিতাম। কেননা ধর্ষণ বড় অপরাধ। এখানে সালিশ মিমাংসার কোন সুযোগ নেই।

    মেম্বার পুতুলের দেয়া বক্তব্যের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ওসি বলেন, ‘হতে পারে মেম্বাররাই সালিশ করে ধামা চাপা দিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে পুলিশের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। কেননা আমি এই ঘটনা আদৌ শুনিনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

    বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানাগেছে, ‘বর্তমান অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বাবুগঞ্জ থানায় যোগদান করেছেন গত ২ সেপ্টেম্বর। আর ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তিনি যোগদানের কয়েক দিনের মাথায় ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। তাই ঘটনাটি অস্বীকার করার পেছনে ওসি’র ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে ওসি’র বক্তব্য নেয়ার পর পরই নিউজ থামাতে শুরু হয় লবিং-তদবির। বাবুগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিউজ না করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ান ওসি মিজানুর রহমান।

    এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তার বিচার হবে। পুরো বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

  • আমি কোন অন্যায়ের দায়ভার নেবো না এবং দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায় করতে দেবো না : মেয়র সাদিক

    আমি কোন অন্যায়ের দায়ভার নেবো না এবং দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায় করতে দেবো না : মেয়র সাদিক

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল­্লাহ বলেছেন, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে যারা এখনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত আছেন তাদের উচিত হবে সংগঠন ছেড়ে দেয়া। আমি কোন অন্যায়ের দায়ভার নেবো না এবং কাউকে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অন্যায় করতে দেবো না।

    বুধবার বিকেলে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে বরিশাল আন্তর্জাতিক জামদানি, তাঁত বস্ত্র রপ্তানী মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বরিশাল চেম্বারের পরিচালক এটিএম শহীদুল­াহ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মেয়র আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন সেই অভিযানকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগেই সাধুবাদ জানানো হয়েছে। অনেক অপরাধী আজ কিন্তু ইঁদুরের গর্তে যেতে বাধ্য হয়েছে।

    অতীত থেকে নিজেও অনেক শিক্ষা নিয়েছেন উল্লে­খ করে মেয়র বলেন, ভুলত্রুটি শুধরিয়ে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে।

    ১৫ আগস্টে নিহত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করে মেয়র বলেন, চারটি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী থাকার পরেও তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর ব্যাংক একাউন্টে মাত্র ১১’শ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। রব সেরনিয়াবাত তাঁর পরিবারের জন্য অর্থ রেখে যেতে না পারলেও আদর্শ রেখে গেছেন। আমরা আদর্শ বুকে ধারন করে রাজনীতি করি। কোন কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করিনা। অর্থ দিয়ে কিছুই হয়না। আমিও ১৫ আগস্টে মরে যেতে পারতাম। আমাদের বিবেক জাগ্রত রেখে একজন মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কারন মহান সৃষ্টিকর্তা অঅমাদের বিবেক দিয়ে তৈরী করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে।

    মেয়র আরো বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন হবে একটি পরিস্কার গ্লাসের মতো। যেখানে জনগনের কাছে জবাবদিহীতা থাকবে। আমি এলক্ষে কাজ করছি। যেসকল সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর নামে বেনামে অগনিত স্টল নিয়েছেন তাদের তালিকা আমার হাতে রয়েছে। আমি আগেও বলেছি বিসিসির কোন কাউন্সিলর কর্পোরেশনের কোন ঠিকাদারী কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

    পুলিশের সকল ভাল কাজে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বেই এই নগর থেকে মদ, জুয়াসহ সকল অশ্লীলতা বন্ধ করে দিয়েছি।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান এ ধরনের একটি মেলার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল­াহর প্রশংসা করে বলেন, একটি সুন্দর ও অপরাধমুক্ত নগর গড়তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়রকে সবধরনের সহায়তা করা হবে।

    উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি সাউথ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২ নং প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ন কবির চৌধুরী প্রিন্স, সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান শেষে মেয়র প্রধান অতিথিসহ অন্যান্যের সাথে নিয়ে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এর আগে মেয়র বেলুন ও শান্তি প্রতিক পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন।

  • মুজিবর্ষ উপলক্ষে বরিশালে ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন

    স্টাফ রিপোর্টার//স্বর্না বিস্বাস:

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বা ‌মুজিবর্ষ উপলক্ষে বরিশালে ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে বরিশাল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. কানাই লাল স্বর্ণকারের সভপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ জেলার খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে জেলা প্রশাসক খামারিদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করেন।