Category: রাজণীতি

  • মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কারনে বদলে যাচ্ছে নগর ভবনের কর্মজীবীরা

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কারনে বদলে যাচ্ছে নগর ভবনের কর্মজীবীরা

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    স্মার্ট সিটি গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলার প্রথম বর্ষপূর্তিতে নগর সেবক, নির্লোভ প্রিয় মানুষ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তার কর্ম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একই বছরের ২৩ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহন করেন। সংখ্যার হিসেব অনুযায়ী আজ মেয়র হিসেবে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ৩৬৫ দিন অর্থাৎ এক বছর পূর্ন করলেন।

    নগর পিতা নয়, সেবক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রথমেই তিনি দৃষ্টি দিলেন নগর ভবনের দিকে। তিনি বিশ্বাস করেন নগর ভবনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যদি দায়িত্ববোধ, কর্তব্য ও জবাবদিহীতার জায়গা তৈরী কো যায় তাহলে নগরবাসী তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু থেকে বঞ্চিত হবেন না। তাইতো শুরুতেই তিনি তাঁর প্রিয় নগর ভবনকে ঢেলে সাজাতে শুরু করলেন। অবকাঠামোগত পরিবর্তন নয়।

    মেয়র মনে করলেন তাঁর সহযোদ্ধা অর্থাৎ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যদি মানষিকতার পরিবর্তন করা যায় আর দাবি করার আগেই যদি তাদের আশা গুলো পূরন করা যায় তাহলে এদের নিয়েই নগরবাসীর সেবা করা সম্ভব। যেই ভাবা সেই কাজ। মেয়র শুরু করলেন শুদ্ধি অভিযান। এ অভিযানে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির স্টাফরা পড়ে গেলেন বিপদে। পূর্বে প্রভাব খাটিয়ে আর দলীয় আনুগত্য নিয়ে যারা নামকাওয়াস্তের পদোন্নতি নিয়েছিলেন তাদের ফিরতে হলো তাদের মূল পদে। দীর্ঘদিন ধরে অঘোষিতভাবে চলা আলিস্যা ভাতা বন্ধ হয়ে গেলো।

    মেয়র সকল স্টাফদের বেতন তাদের নিজ নিজ একাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নিলেন। যারা রাতের ঘুম ও আরামকে হারাম করে এই নগরকে পরিস্কার করেন সেই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দাবি করার আগেই মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ হঠাৎ করে তাদের বেতন একলাফে তিন হাজার বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা থেকে করে দিলেন ৯ হাজার টাকা। খুশীতে মাতোয়ারা এসকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এখন মনের আনন্দে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন আর মেয়র বন্দনা করছেন। আগে নিয়মিত বেতন না পাওয়ার কারনে এই নগরীর অনেক বাড়ীওয়ালা সিটি স্টাফদের ঘড় ভাড়া দিতেন না। মুদি দোকানী বাকি দিতে চাইতেন না। কিন্তু কর্মকর্তা কর্মচারী বান্ধব মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহন করে এখন পর্যন্ত স্টাফদের বেতন নিয়মিতভাবে পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

    আন্দোলন করে যাদের বেতন নিতো এখন তারা মাস শেষ হওয়ার পরপরই হাসিমুখে ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করছেন। দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকরা নিয়মিত বেতন পাওয়াটাকেই ভাগ্য বলে মনে করতেন। বোনাস পাওয়ার বিষয়টি স্বপ্নেও দেখতেন না। কিন্তু সেই শ্রমিকরা এখন যেমন বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন তেমনি বেতনের অর্ধেক হিসেবে বোনাসও পাচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে নগর ভবনে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিসিসির কোন স্টাফ অবসর নেয়ার পর তার জীবদ্দশায় সকল বকেয়া নিতে পেরেছেন বলে কোন নজির আগে খুজে পাওয়া যায়নি।

    এমনকি মৃত্যুর পরেও তার ন্যায্য পাওনা পরিবারের সদস্যরা পেয়েছেন বলে শোনা যায়নি। কিন্তু মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ এব্যাপারে রের্কড গড়েছেন। একদিনে ৪২ জন স্টাফের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করে তিনি যে নজির গড়েছেন তা ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিসিসির সকল স্টাফ মেয়রের আমন্ত্রনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে একত্রে বসে কোনদিন ইফতার করার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে আমার জানা নাই। গত রমজানে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ আমাদেরকে সেই সুযোগটাও করে দিয়েছেন।

    এই মেয়রের মাত্র এক বছরের দায়িত্ব পালন কালিন সময়ে বিসিসির কতোজন স্টাফ যে চিকিৎসা ও মৃত্যুর পর বড় অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন তার হিসাব মেলানো দুস্কর। পোষ্য কোঠায় কতোজন যে চাকুরী পেয়েছেন তাও গুনে শেষ করা যাবেনা। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ নগর ভবনে যে পরিবর্তনের হাওয়া লাগিয়েছেন তাতে সকল স্টাফরা যে একটু একটু করে তাদের পূর্বকার বদাভ্যাস পাল্টাতে শুরু করেছেন।

    এখন ঘড়ির কাটা ৯টায় পৌছলেই কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছোটেন নগর ভবনে। সাদিক আবদুল্লাহর বসানো মেশিনে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সকলে লেগে পড়েন নিজ নিজ কাজে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবার কখনো তারপরেও কাজ করে পুনরায় আধুনিক হাজিরা মেশিনে হাতের ছাপ রেখে গন্তব্যস্থলে যান সকলে। টুপাইস দিয়ে অনৈতিক কাজ করানোর দিন এখন অনেকাংশে শেষ হয়ে গেছে। সকল স্টাফরা এটা ভালো করে বুঝে গেছেন তাদের মেয়র দূর্নীতি করেন না এবং দূর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেন না।

    তাই অপকর্ম করে কোন পার পাওয়া যাবেনা। এই উপলদ্ধি থেকেই বিসিসির বেশীরভাগ স্টাফ এখন অনেকটাই সৎ জীবনযাপন করছেন। তাদের ভাষ্যমতে নিয়মিত বেতন, বোনাস পাচ্ছি। বেতনের সাথে সাথে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকাও ব্যাংকে চলে যাচ্ছে। শ্রান্তি বিনোদনসহ অন্যান্য সুবিধাদিও পাওয়া যাচ্ছে চাহিদার আগেই। তাই আমরা এখন পূূবের অপকর্ম থেকে সরে এসেছি। নিন্দুকরাও অকপটে স্বীকার করছেন এখন আর কারো রক্ত চাহনি সহ্য করে কাজ করতে হয়না। ফিল্ডে কাজ করতে গিয়ে কোন স্টাফকে আর বাঁধার সম্মুখিন বা মারধরের শিকার হতে হয়না।

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বলিষ্ট নেতৃত্বে নগরবাসী এখন আগের চেয়ে বেশী আগ্রহী হয়ে কর পরিশোধ করেছেন। গত মাসে বিসিসির ইতিহাসের সর্বোচ্চ কর আদায় হয়েছে। এখন ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা কর সহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করছেন। আগে যেখানে মালামাল ক্রোকের ভয় দেখিয়েও যা সম্ভব হতোনা। এখন আর সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহক দিনের পর দিন হয়রানীর স্বীকার হতে হয়না।

    এখন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ আর সিনিয়র সিটিজেনরা নগর ভবনের ১০২ নম্বর রুমে গিয়ে যাবতীয় সেবা গ্রহনের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের আর এক রুম থেকে অন্য রুমে ছোটাছুটি করতে হয়না। গ্রাহকদের সুবিধার্থে কমিয়ে দেয়া হয়েছে গভীর নলকূপ বসানোর কাজের জন্য পূর্বেকার অর্থের পরিমান। যে সকল পরিবারে অসুস্থ রোগী আছেন, যাদের ঘড়ে প্রতিবন্ধী আছেন এবং যাদের বাড়ীর ছাদে বাগান আছে সেই সকল গ্রাহকরা হোল্ডিং করের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাচ্ছেন। আর এ কাজের অংশীদার হতে পেরে কর্পোরেশনের স্টাফরা নিজেদের ধন্য মনে করছেন।

    আজ দুষ্ট প্রকৃতির কতিপয় অসাধু স্টাফ তাদের কৃতকর্মের জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকলেও বাকীরা সবাই মহানন্দে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আজ মেয়র যেমন অসাধু স্টাফদের বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য রাখছেন আবার ভালকাজের প্রশংসা করছেন। আজ আমাদের উচিত হবে সম্মিলিতভাবে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর পাশে থেকে তাঁর সকল ভাল কাজের অংশীদার হওয়া।

    মেয়র এক সভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যাপক প্রশংসা করে বলেছিলেন, তারা সকলে এক একজন সাদিক আবদুল্লাহ হয়ে কাজ করছেন। আজ মেয়র সাদিক আবদুল­াহ ও তাঁর বর্তমান কর্ম পরিষদের দায়িত্ব গ্রহনের ১ম বর্ষ পূর্তিতে আমাদের সকলের শপথ হোক একটি সুন্দর আগামীর বরিশাল গড়তে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল­াহর স্বপ্নের স্মার্ট সিটি বাস্তবে রুপ লাভ করবে।

  • নগরবাসীর কল্যাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র সাদিক

    নগরবাসীর কল্যাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র সাদিক

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সোমবার ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি নগরীর ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি সংলগ্ন ওয়াপদা এলাকার মহান মুক্তিযদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত টর্চার সেলের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে যান। তিনি একাজে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

    এছাড়া মেয়র সাদিক আবদুল­াহ নগরীর কালিবাড়ী রোডের উদয়নী ক্লাব ও শহীদ নেরনিয়াবাত পাঠাগারের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জহর প্রসাদ মজুমদারের মৃত্যুর খবর শুনে বরিশাল মহাশ্মশানে ছুটে যান। এবং সেখানে বেশ কিছু সময় উপস্থিত থেকে প্রয়াতের পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

    এছাড়া নগরীর কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে বরিশাল বারের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের পিপি, জিপি, এপিপি ও এজিপি বৃন্দ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় নবনিযুক্ত অভিনন্দন জানিয়ে মেয়র প্রত্যেককে নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

    অপরদিকে রাতে বরিশালের দর্জি শ্রমিক নেতৃবৃন্দ মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে তাদের পেশাগত নানা সমস্যার কথা মেয়রকে অবহিত করেন। মেয়র ধৈর্য্য সহকারে তাদের কথা শোনেন। এবং শ্রমিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সরকারি ব্রজমোহন কলেজ নেতৃবৃন্দ রাতে নগরীর কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনে গিয়ে মেয়র সাদিক আবদুল­াহর সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় মেয়র বরিশাল নগরীর উন্নয়ন বিষয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়সহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।

    বিএম কলেজের শিক্ষকবৃন্দ একটি স্মার্ট সিটি গড়তে মেয়রের নানা পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

     

  • বরিশালে আ.লীগ নেতার হামলায় কোস্টগার্ড সদস্যসহ আহত ২

    বরিশালে আ.লীগ নেতার হামলায় কোস্টগার্ড সদস্যসহ আহত ২

    বরিশালের হিজলা উপজেলায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় কোস্টগার্ডের এক সদস্যসহ দুই জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ওই নেতার বাড়িতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হচ্ছেন- কোস্টগার্ড সদস্য সৈকত ইসলাম (২৩) ও ট্রলার মাঝি খলিল (২৫)। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা হলেন- হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বেপারী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন বেপারীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল মজুদ রয়েছে- এমন তথ্য পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা জাল উদ্ধার করতে যান। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

    হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিলন জানান, গৌরবদী গ্রামে আলাউদ্দিন বেপারীর দুটি বাড়ি। যে বাড়িতে কোস্টগার্ড জাল উদ্ধারে গিয়েছিল সেখানে আলাউদ্দিন বেপারী থাকেন না। কে বা কারা সেখানে জাল লুকিয়ে রেখে কোস্টগার্ডে খবর দেন। কোস্টগার্ড পৌঁছানোর পর ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কেউ আহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার সময় আলাউদ্দিন বেপারী উপস্থিত ছিলেন না বলে চেয়ারম্যান মিলন দাবি করেন।

    আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বেপারী সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, সোমবার বাজারে গিয়ে কোস্টগার্ড তল্লাশি করে। কাকুরিয়া বাজারের মাঠে জাল শুকাতে দেয় জেলেরা। কোস্টগার্ড সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করলে নারীরা বের হয়ে তাদের ধাওয়া করেছে। তবে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।

    বরিশাল আঞ্চলিক মৎস কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হিজলায় আমাদের একজন কোস্টগার্ড জাল উদ্ধারে গিয়ে ইউপি সদস্যের হামলায় আহত হয়েছেন।

    হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ অসীম কুমার সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বলেন, তিনিও এ ঘটনা লোকমুখে শুনেছেন। তবে কোস্টগার্ড থেকে তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

  • প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি’র সাথে বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

    প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি’র সাথে বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

    শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউবি) নেতৃবৃন্দ।

    শনিবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রী একদিনের সরকারী সফরে বরিশাল এলে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলক চ্যাটার্জি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম স্বপন, সুশান্ত ঘোষ, আলী জসিম, নজরুল বিশ্বাস, মিঠুন সাহা, মঈনুল ইসলাম সবুজ, মর্জিনা বেগম প্রমূখ।

    নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীকে বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা বেশকিছু জটিলতার কথা তুলে ধরেন এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্যে আবেদন করেন।

    শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করেছে। অন্যান্য সমস্যারও সমাধান হবে। তিনি বরিশালে সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার বাধা দূর করতে উদ্যোগ নেবেন বলেন আশ্বাস দেন।

  • সাদিক আবদুল্লাহর সাথে থাকেন ও আপনাদের সঙ্গে বেইমানী করবেনা- শ্রম প্রতিমন্ত্রী

    সাদিক আবদুল্লাহর সাথে থাকেন ও আপনাদের সঙ্গে বেইমানী করবেনা- শ্রম প্রতিমন্ত্রী

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

     

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান-এমপি বলেছেন, আমরা সরকার গঠনের পর শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনে ৬ লাখ টাকা পেয়েছি। আর এখন সেখানে ৪ শত কোটি টাকার ওপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে আপনাদের ১৫ কোটি টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    আজ শনিবার বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের সামনে আয়োজিত শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনের কল্যান তহবিল হতে আহত/অসুস্থ শ্রমিক ও শ্রমিকের পরিবারবর্গের চিকিৎসা এবং তাদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চ শিার জন্য আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের স্বার্থে সবসময় কাজ করছে। আমরা শ্রমিকের স্বার্থে অনেক আইন বাতিল করেছি, আবার যাতে মালিক পও তিগ্রস্থ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেও সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী, আজ যাদের জন্য পরিচ্ছন্ন এ শহর, তারা ভালো আছেন এটা শুনতেই ভালো লাগছে।

    আজ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে আপনাদের বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যায়, কারো কোন ফায়দা লুটার সুযোগ নাই। আবার বিনা দাবীতে আপনাদের বেতন বোনাস বেড়েছে। আপনারা সাদিকের পাশে থাকবেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে ওর শরীরের রক্তের মিল আছে, সাদিক বেইমানী করবে না এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। তিনি বলেন, শুধু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে আপনার সন্তানদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। কারন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আর যুব সমাজকেই তো দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, আমি চাই জনগনের জন্য কাজ করতে। আর আমি যদি জনগনের জন্য করি, তাহলে তারাই ভোট দিবে এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি আগামীতে কারো কাছে ভোট চাইবো না। তিনি বলেন, বরিশালে টেন্ডারবাজি, চাদাবাজি নাই, প্রধানমন্ত্রী শান্তিতে বিশ্বাস করেন, আমরাও শান্তি চাই। এসময় তিনি সাবেক ও প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনকে সফল মেয়র হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, নগর ভবনের শ্রমিকদের কোন দাবী করার প্রয়োজন হবে না, আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের সকলের দায়িত্ব আমার।

    অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সচিব মহিদুর রহমান, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, শ্রম পরিচালক (খুলনা) মিজানুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগ বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাসসহ শ্রম অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য রাখেন । পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। বক্তব্য প্রদান শেষে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার ৩৯ জন শ্রমিকের হাতে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছার পাশাপাশি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ পিতলের নৌকা প্রদান করেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান নগর ভবনে গিয়ে বেশ কিছু সময় মেয়রের কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

  • অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী

    অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

    শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়ত দেশের জন্য অনেক কিছু করত। মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়সে কেমন হতো দেখতে তাকে? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেন, রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। ঠিক যেই মুহূর্তে রাসেল জন্মায় তখন আব্বা খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। তিনি সেই নির্বাচনে প্রচারণার কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন। অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। রাসেলের জন্ম হওয়ার পর আমরা তাকে খবর দেই।

    তিনি বলেন, আমরা চার ভাই-বোন উদ্বিগ্ন হয়ে বসে ছিলাম এই ছোট্ট শিশুটির জন্ম মুহূর্তটা এবং তারপর তাকে কোলে নেয়া। তাকে লালন-পালন করা তার পাশে থাকে। জাতির জনক ৬৭ সালে যখন কারাগারে গেলেন রাসেলের বয়স তখন ২ বছরও হয়নি। তখনই সে বাবার স্নেহ বঞ্চিত হলো।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারাগারে যেতাম আব্বার সঙ্গে দেখা করতে। রাসেল কিছুতেই আসতে চাইতো না। সে বাবাকে ছাড়া আসবে না। বাবাকে নিয়ে ঘরে ফিরবে। সেই সময় আমার বাবা বলতে বাধ্য হলেন, এটা আমার বাড়ি। আমি আমার বাড়িতে থাকি। তুমি তোমার মায়ের বাড়িতে যাও। তখনও সে ভালো করে কথাও বলতে পারে না। তারপরে সে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করত। তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে আসতে হতো।

    তিনি বলেন, যে দিন আমরা জেলখানায় দেখা করতে যেতাম সেই দিন সে খুব অস্থির থাকত। ঘুমাতে চাইতো না, খেতে চাইতো না। অনেক সময় মধ্য রাতে উঠে বসে থাকতো, আমাদের সবাইকে ডাকতো। আমরা সব ভাই-বোন গিয়ে তার কাছে বসতাম। সে কিছু বলতে পারছে না। সে তার মনের ব্যথাটা জানাতে পারছে না। কিন্তু তার বেদনাটা আমরা বুঝতে পারতাম।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেই সে বড় হয়ে ওঠে। বাবাকে বাবা বলে ডাকা শুরু করে। কিন্তু আব্বা, আব্বা বলে যে ডাকবে। অনেক সময় আমার মাকে যখন সে আব্বা বলে ডাকতো, তখন বলতেন আমি তোমার আব্বা। আমাকে আব্বা বলে ডাকো। কারাগারে গিয়ে একবার সে আব্বার মুখের দিকে তাকাতো, আব্বা বলে ডাকতো। আবার মায়ের দিকে তাকাতো। তখন মা বলেছিলেন, ও যেহেতু আব্বা আব্বা বলে কান্নাকাটি করে তাই আমি বলেছি আমাকেই আব্বা ডাকতে।

    তিনি বলেন, সেই জন্যই সে জেলখানায় গিয়ে একবার বাবার দিকে তাকায়, আরেকবার মায়ের দিকে তাকায়। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত। আমরা তো বঞ্চিত ছিলামই। কিন্তু এই ছোট বাচ্চাটাও।

    একাত্তরের যুদ্ধচলাকালীন সময়ের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলতো না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনো বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে কী যেন পড়েছে। ওই টুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখতো আমার ভাবতেও অবাক লাগে।

    তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই কামাল সে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিল। জামাল বন্দি খানা থেকে বের হয়ে সেও মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যখন আক্রমণ হতো, বিশেষ করে যখন এয়ার রেইড হতো। রাসেল সব সময় পকেটে একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দিত, ছোট্ট জয়ের কানে দিয়ে দিত। যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনো ক্ষতি না হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাসেল সব সময় খুব খেয়াল রাখতো জয়ের প্রতি। স্বাধীনতার পর আব্বা যখন ফিরে আসলো। আপনারা দেখবেন সব সময় আব্বার পাশে রাসেল। রাসেল যেন আব্বাকে ছাড়তে চাইতো না।

    তিনি বলেন, রাসেলের খুব সখ ছিল সে বড় হয়ে আর্মি অফিসার হবে। সেই ভাবে সে কিন্তু নিজেকেও তৈরি করতো। ছোট ছোট গরিব শিশুদের প্রতি তার দরদ ছিল। যখন গ্রামে যেত তখন অনেক শিশুদের জড়ো করতো। সে কাঠের বন্দুক বানাতো। এই শিশুদের জন্য মাকে বলতো যে কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হবে। মা ঠিকই কাপড়-চোপড় কিনে দিতো।

    শেখ হাসিনা বলেন, ওদেরকে নিয়ে সে প্যারেড করাতো। প্যারেড করানো শেষে তাদের খাবার দাবার দিত। আর সবাইকে ছোট ছোট এক টাকার নোটের বান্ডিল থেকে একটা করে টাকা দিত। এটা সে করবেই।

    তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ছয় বছর পর যখন দেশে আসি, যখন টুঙ্গিপাড়া যাই সেখানে একটা আলমারি ছিল। সেই আলমারির ভেতরে দেখি অনেকগুলো ছোট ছোট শিশুদের জামা তখনও পড়ে আছে। আমি জানতাম যে এইগুলো রাসেল ওই গ্রামের গরিব শিশুদের মাঝে বিতরণ করতো। তাদের আর্থিক সহায়তা দিত।

    শেখ হাসিনা বলেন, তার ভেতরে এই যে একটা দরদি মন ছিল। হয়তো বেঁচে থাকলে এই দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারতো। আজকে মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়স পূর্ণ করেছে। এ বয়সে রাসেল কেমন হতো দেখতে? বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত চোখে থেমে যান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আমি তার বড় বোন আমি কোলে পিঠে করেই তাকে আসলে মানুষ করেছি সব সময়। আমাদের অতি আদরের ছিল সে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকেও বাঁচতে দেয়নি।

  • আ.লীগের ২১তম সম্মেলনে থাকছে চমক, নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেতে পারেন সাবেক ছাত্রনেতারা

    আ.লীগের ২১তম সম্মেলনে থাকছে চমক, নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেতে পারেন সাবেক ছাত্রনেতারা

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দেখা যাবে বেশ কিছু নতুন মুখ, যাদের মধ্যে এবার অধিক সংখ্যায় স্থান পাবেন নারীরা। নেতৃত্বে গতিশীলতা আনতে সাধারণ সম্পাদক পদেও আসতে পারে পরিবর্তন। ডিবিসি নিউজ ১০:০০

    তবে সব সমীকরণই নির্ভর করছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।
    বর্তমান কমিটিতে নবীন প্রবীণের যে সমারোহ দেখা যায়, তার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে। নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেতে পারেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা। চলছে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর। আলোচনায় রয়েছেন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, সহযোগী সংগঠনের ভেতর থেকেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনা উচিৎ। আবার আওয়ামী লীগেও ধারণক্ষমতা কতোটুকু সেই ব্যাপারটাও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, পূর্ববর্তী কমিটির মধ্যে যারা একটু নিষ্ক্রীয়, সেই সমস্ত কিছু বাদ পড়ে এবং কিছু অন্তভুক্তি হয়। যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ নেই, এমন ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত, যোগ্য, ভালো সংগঠক হিসেবে ব্যক্তিদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এবারও সে বিষয়টিকেই বিবেচনা করা উচিত। আমরা চেষ্টা করব যতো বেশি সংখ্যক নারী নেতৃত্বকে অন্তভুক্ত করা যায়।

    সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসবে কি না তা নির্ভর করছে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর, এমনটিই জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুক খান।

    তিনি বলেন, একটা হচ্ছে আমাদের কাউন্সিলাররা কাকে চায়। সেই সঙ্গে আমাদেরকে দেখতে হবে যে আমাদের দলের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে কারা কারা আগ্রহী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেই ইচ্ছা, সেটাও আমাদের কাউন্সিলারদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলে আমি মনে করি।

    এবারের কাউন্সিলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর ১৯টি পদেও ঘটবে সংযোজন-বিয়োজন।

  • ছাত্রলীগেরও কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি: ওবায়দুল কাদের

    ছাত্রলীগেরও কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, আবরার হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের হলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। অপরাধী যে দলেরই হোক কোনো ছাড় নাই।

    আজ শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাট এলাকায় পুরাতন মেঘনা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হওয়ার পরও তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।’

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আমরা বৈরি সম্পর্ক চাই না। আমরা চাই বিরোধীদল গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আমরাও তাদের ব্যাপারে অনেক সহনশীল। বিএনপির সাত জন সংসদ সদস্য থাকার পরও একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে যা খুশি বলছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না। যে সহনশীল আচরণ করা হচ্ছে তা শেখ হাসিনা সরকার আছে বলেই করা হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধি অভিযানে যারা টার্গেট রয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

  • অভিযান চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অভিযান চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজিত ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এগিয়ে চলছে’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এই অভিযান কন্টিনিউ (অব্যাহত) করতেই হবে। আমি শুদ্ধি অভিযান বলব না, আমি বলব দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান। দুর্নীতিবাজ, দখলবাজরা দুর্নীতি, দখলের চিন্তা যতদিন করবে; ততদিন এই অভিযান চলবে।

    ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির পর কোন খাতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো সেক্টরকে আমরা লক্ষ্য করছি না। আমরা যেখানে দেখছি অনিয়ম হচ্ছে, আইন অমান্য হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে, সেই জায়গায়ই আমরা দেখছি। আমরা কোনো এলাকাকে টার্গেট করছি না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। আমরা অবশ্যই টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই কন্ট্রোলে নিয়ে আসব। প্রধানমন্ত্রী গত মেয়াদে বলেছিলেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দূর করবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসকে তিনি দূর করে দিয়েছেন।

    মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই নীতিতে সরকার রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    নতুন প্রজন্মের কাছে আহ্বান রেখে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তারা যেন এই ভুল কাজটি না করে। তাহলে কিন্তু তারা হারিয়ে যাবে। আমরা চাই না, আমাদের নতুন প্রজন্ম হারিয়ে যাক।

    জনগণ থেকে আরম্ভ করে যে যেখানে আছে, তাদের সবার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে আমরা সুশাসন খুব শিগগির প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। আমাদের মন্ত্রণালয়ের যে দায়িত্ব রয়েছে, তা রুটিন মাফিক করে যাচ্ছি। এখনই বলতে পারব না, কালকে থেকে সবকিছু করে ফেলব। ধীরে ধীরে আমরা আমাদের লক্ষ্যে যাচ্ছি।

    এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

  • বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষায় কর্মশালা

    বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষায় কর্মশালা

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান :

    জেলা প্রশাসন বরিশালের সার্বিক সহযোগিতায়, বিভাগীয় প্রশাসন আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তর বরিশাল এর আয়োজনে। সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মশালা শিশুশ্রম নয় শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময় এই স্লোগান নিয়ে আজ ১৯ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১ টায় এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল, মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সচিব শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কে এম আলী আজম, মেয়র বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন, মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব শ্রম অধিদপ্তর, এ. কে. এম মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক বরিশাল, এস, এম, অজিয়র রহমান, মহাপরিদর্শক অতিরিক্ত সচিব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তর, শিবনাথ রায়, নির্বাহী পরিচালক মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, শাহিনা আনামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সুশীলসমাজ, কলকারখানা প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-মালিক বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন ও ২০২৫ সালের মধ্যে সকল প্রকার শিশুশ্রম নিরসনের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই প্রেক্ষিতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা করেন অতিথিরা।