Category: রাজণীতি

  • আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ : মেনন

    আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ : মেনন

    অনলাইন ডেস্ক:

    বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। যা আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু কতিপয় রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতার অপব্যাবহার করে দুর্নীতি লুটের মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে। দূর্ণীতি দূর্বৃত্তায়ন ও অস্প্রদায়িকতা অবসানে ১৪ দলের কর্মসূচীর বিপরীতটাই ঘটেছে এ যাবৎকাল।

    তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদদের হাতে এখন আর রাজনীতি নেই। রাজনীতি দখল করে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া সাম্প্রতিক অসাদু দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। এ অভিযান সফল করতে এক যৌক্তিক পরিনতির দিকে যেতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন আপনার চারপাশে যারা রয়েছে তাদের মধ্যে কিছু নেতারা শেয়ার বাজারে সাথে দুর্নীতি করেছে ও ব্যাংক কেলেংকারি সাথে যারা জড়িত।

    রোববার সকাল ১১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়াম চত্বরে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

    পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন গত ১০ বছরে ওয়ার্কার্স পার্টির বিস্তৃতি ঘটেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মানকে উন্নতি না করতে পারলে পার্টির এই বিস্তৃতিকে কাজে লাগানো যাবে না। মেনন পার্টির সকল নেতাকর্মীদের জনগণের বিভিন্ন অংশের মধ্যে দৃঢ় সংগঠন গড়ে তোলার আহবান জানান।

    বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি টিএম শাহজাহান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও জাতীয় কৃষক সমিতির বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক গোলাম হোসেন, ও কেন্দ্রীয় যুব মৈত্রীর নেতা শাহিন হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল খালেক, বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু,সাধারন সস্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান, অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান সবুজ,ছাত্র মৈত্রির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সুজন আহমেদ প্রমূখ।

  • মোদি বললেন ‘জয় বাংলা’

    মোদি বললেন ‘জয় বাংলা’

    নরেন্দ্র মোদি হিন্দিতে তাঁর বক্তৃতার শেষাংশে বলেন, ‘জয় হিন্দ। জয় বাংলা। জয় ভারত-বাংলা বন্ধুত্ব। ধন্যবাদ।’

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আরো জোরালো সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের বৈঠক শেষে বক্তব্যে দুই নেতা এসব কথা বলেন।

    গতকাল এর আগে তাঁদের উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ ও ভারত সাতটি দলিল সই করেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও একটি কর্মসূচি। স্বাক্ষরিত দলিলগুলো হলো চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতের ব্যবহারের বিষয়ে এসওপি, ত্রিপুরার সাবরুম শহরের খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ফেনী নদী থেকে ভারতের ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তুলে নেওয়া বিষয়ে এমওইউ, বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতীয় ঋণ বাস্তবায়নে চুক্তি, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এমওইউ, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (নবায়ন), যুব বিষয়ে সহযোগিতার জন্য এমওইউ এবং ‘কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ (উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা) সরবরাহের বিষয়ে এমওইউ।

    এর আগে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের ব্যবসাখাতে দুটি এমওইউ সই হয়। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরের তৃতীয় দিন শেষে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি, এমওইউ বা দলিলের সংখ্যা ৯-এ উন্নীত হলো।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে গতকাল নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউস থেকে দুই দেশের তিনটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হলো বাংলাদেশ থেকে ভারতে ‘বাল্ক এলপিজি’ (বড় পরিসরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানি, ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবন (ছাত্রাবাস) উদ্বোধন এবং খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশে (আইডিইবি) বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইপিএসডিআই) উদ্বোধন।

    এদিকে যৌথ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ওই প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের জনগণের কাজে লাগবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত এক দশকে আমাদের উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাতে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লুু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) এবং মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি এবং সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এসব বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এই অবদান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিরদিন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বক্তৃতার শেষাংশে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক।’

    এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যই নয়, সারা বিশ্বের কাছে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত। এবারের আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।

  • ‘টেগর শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অভিনন্দন

    ‘টেগর শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অভিনন্দন

    তানজিম হোসাইন রাকিব:

    ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘টেগর শান্তি পুরস্কারে’ ভূষিত হওয়ায় তাঁকে বরিশাল নগরবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এক অভিনন্দন বার্তায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বলেণ, এশিয়াটিক সোসাইটি, কোলকাতা-শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষুধা দারিদ্র্য ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কারে ভুষিত করেছে। যা আমাদের জন্য বিরল সন্মান বয়ে এনেছে।

  • সম্রাট ও আরমান যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

    সম্রাট ও আরমান যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

    অসামাজিক কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি আরমানকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রোববার দুপুরে এ খবর জানা গেছে। রাজধানী ঢাকার সম্রাটের দুটি কার্যালয় যে কোন সময় অভিযান চালাতে পারে র‌্যাব।

    প্রসঙ্গত রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন জুয়া খেলতে।

  • আড়ালে তিস্তা, উল্টো ভারত পেল ফেনী নদীর পানি

    আড়ালে তিস্তা, উল্টো ভারত পেল ফেনী নদীর পানি

    অনলাইন ডেস্ক ::

    নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো আলোচনা হয়নি। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ২০১১ সালের একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোর কথা শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিলেও অতীতের অজুহাত দেখিয়ে দায় সেরেছেন নরেন্দ্র মোদি। বরং উল্টো এখন ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় হিসেবে সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

    ২০১৭ সালের পর এই প্রথম নয়াদিল্লি সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটিই প্রথম ভারত সফর।

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাধার মুখে অতীতে বেশ কয়েকবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরেও তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো সমঝোতা কিংবা চুক্তি সই হয়নি।

    তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের সরকার একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোয় একমত হয়েছিল। এই চুক্তির বাস্তবায়ন জানার জন্য বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিস্তা চুক্তি যাতে দ্রুত সময়েল মধ্যে সম্পাদন করা যায়; সেলক্ষ্যে বিজেপি সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দড় কষাকষি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কেউই। বরং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য নদীর পানি নিয়ে আলোচনা কিংবা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও সেসব প্রস্তাবও আলোর মুখ দেখেনি।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা ছাড়াও আরো ছয়টি অভিন্ন নদী মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমারের পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে শিগগিরই একটি খসড়া কাঠামো প্রস্তুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করতে যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়াই কয়েক বছর ধরেই ফেনী নদী থেকে ভারত পানি উত্তোলন করছে। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদীটি থেকে পানি উত্তোলন করছে নয়াদিল্লি। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।

    তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সেই ফেনী নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামো তৈরি করতে যৌথ কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এখন এই ফেনী নদী থেকেই ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি নিয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জনগণের জন্য সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

    তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আড়ালে থাকলেও দুই দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে এই কাঠামো অনুস্মরণ করা হতে পারে।

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৪টি। এর মধ্যে পানিবণ্টন চুক্তি আছে শুধু গঙ্গা নিয়ে। সেই গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্যতা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা ভারতের; অথচ কোনো কোনো বছর মাত্র দেড় হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে পাঁচ দশক ধরে। সর্বশেষ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তিতে রাজি হলেও তিস্তার পথে এখন বাধা পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও এখনো প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভারতের শক্তিশালী সমর্থনের ব্যাপারে অনেকে আশাপ্রকাশ করলেও আপাতত তাতেও হতাশ হতে হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এবার রোহিঙ্গা শব্দটিও উচ্চারণ করা হয়নি। বিবৃতিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আরো প্রচেষ্টা দরকার বলে উভয় দেশ ঐক্যমতে পৌঁছেছে। তবে ভারত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কাজে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাখাইনে ইতোমধ্যে আড়াইশ ঘর তৈরি করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি ভারতের আসাম প্রদেশে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) করায় সেখানকার ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন; যাদের অনেকেই বাংলাদেশি বলে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন। এমনকি এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোরও হুমকি এসেছে প্রায়ই।

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের ফাঁকে একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকে এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু শনিবার নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর যে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়েছে তাতে এনআরসি শব্দটিরও উল্লেখ নেই।

  • ৫ শত নদী-খাল খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    ৫ শত নদী-খাল খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, বন্যা মোকাবিলায় দেশের সব জেলার ৪৪৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও ৫ শত নদী-খাল খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে আগামীতে বন্যা কমবে।

    শনিবার (৫ অ‌ক্টোবর) সকা‌লে বরিশালে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাশের দেশের বৃষ্টির পানি আমাদের দেশের নদ-নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। কিন্তু নদী-খালের নাব্যতা না থাকায় ওই পানিতে বন্যা হয়। এ কারণে দেশের ৬৪ জেলার নদী-খালের নাব্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম দফায় ৪৪৮টি নদী-খাল খনন করা হচ্ছে। পরে আরও ৫ শত নদী-খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কমবে।

    ‘চলতি বছর দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা ও নদী ভাঙন দেখা দিলে এগুলোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নদী ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে। এছাড়া অন্য যেসব স্থা‌নে নদী ভাঙন দেখা দি‌য়ে‌ছে সেখা‌নে জরুরি পদ‌ক্ষেপ নেওয়া ছাড়াও পুরো দে‌শে যে‌ কোনো প‌রি‌স্থি‌তি মোকা‌বিলায় পা‌নি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী‌দের প্রস্তুত রাখা হ‌য়ে‌ছে।’

    এ সময় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

    এর আগে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশায় কর্মরতদের অর্ধ শতাধিক সন্তান যারা ২০১৯ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদের বৃত্তি দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

    এরপর তি‌নি ব‌রিশাল নগ‌রের হাসপাতাল রোডস্থ পূজা মণ্ডপ প‌রিদর্শনের পর ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের এক‌টি প্রক‌ল্পের জায়গা প‌রিদর্শন ক‌রেন।

  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সর্বকালের সেরা: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সর্বকালের সেরা: প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে সর্বকালের সেরা সম্পর্ক উপভোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের তাদের নিজ নিজ জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলকে প্লাটফর্মটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং আমাদের জনগণের বৃহত্তর পারস্পরিক স্বার্থে উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য অনুরোধ করছি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারবো।’

    শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ভারতের নয়াদিল্লিতে হোটেল আইটিসি মৌরিয়ায় আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণে একথা বলেন তিনি। খবর বাসসের

    আইবিবিএফের প্লাটফর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক উপভোগ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আপনাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্লাটফর্মটি রয়েছে এবং আমরা আপনাদের প্রচেষ্টা সহজ করার জন্য সকল ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী ভারতের ব্যবসায়ীদের বংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। মংলা, ভেড়ামারা ও মিরেরসরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই তিনটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আমাদের রফতানিযোগ্য খাতকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়তা করবে।’

    ‘আমরা সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈাতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি, যার মধ্যে প্রায় ১২টি তৈরী হয়ে গেছে যেখানে ৪টি অঞ্চল ৩টি দেশের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

    এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান দেশটিকে এই অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমে ভারত, উত্তর দিকে চীন এবং পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের বাজারের মাঝামাঝি রয়েছে।

    বৈশ্বিক সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশে বৈশ্বিক এফডিআই’র ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।

    সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির দ্বারা বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আরো বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দেখতে চাই যেখানে ভারতীয় বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে এবং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানী করতে পারে।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, বিশ্বের বেশিরভাগ বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলো তাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতেই তাদের প্রাথমিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।’

    একইভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে খুব বড় ভূমিকা পালন করেতে পারেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বা ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। এভাবেই আমরা আমাদের শহিদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি, বলেন তিনি।

  • শুদ্ধি অভিযানের আট লক্ষ্য

    শুদ্ধি অভিযানের আট লক্ষ্য

    দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাম্প্রতিক সময়ের শুদ্ধি অভিযান এখন দেশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ অভিযানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন অনেকে। আবার বিরোধীপক্ষ সমালোচনাও করছেন।

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের একাধিক ক্লাবে পশ্চিমা ধাঁচের উন্নত জুয়ার আসরে ‘ক্যাসিনোবিরোধী’ অভিযান শুরু করে পুলিশের এলিট ফোর্স- র‍্যাব। র‍্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওইদিনই গ্রেফতার হন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেফতার হন কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ। দুদিন পর গ্রেফতার হন ঠিকাদার জি এম শামীম, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর একে একে থানা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা হয় অবৈধ অস্ত্র, লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।

    অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম আলোচিত হওয়ায় তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয় ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী এবং ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার স্ত্রীর এছাড়া গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নিজস্ব এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়। কে, কখন ধরা খান এমন আতঙ্কে রয়েছেন দুর্নীতিগ্রস্ত, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজি কাজে অভিযুক্ত মন্ত্রী-এমপিরা।

    চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে বিরোধীপক্ষও। জাতিকে বিভ্রান্ত করতে সরকার তথাকথিত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। চলমান ‘ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী’ অভিযান প্রসঙ্গে সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শুধু নিচের দিকে নয়, উপরের দিকেও শুদ্ধি অভিযান শুরু করুন।

    তবে ক্ষমতাসীনরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, আটটি বিশেষ লক্ষ্য অর্জনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিগত দিনে সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে এমনটি উঠে এসেছে।

    সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন, অবৈধ ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকানো, সরকারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত ও ঠেকানো, দলকে বিশুদ্ধ করা, দলকে শক্তিশালী করা, দলের কিছু নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে লাগাম টানা এবং ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা- এ আট লক্ষ্য অর্জনের বিষয় উঠে এসেছে।

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম বলেন, ইতোমধ্যে যাদের ধরা হয়েছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী। আপনারা জানেন যে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দলের মধ্য থেকে একটি দাবি উঠছিল, এসব অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের ভয়ানক ক্ষতি করছে। তাদের এখন আমরা চিহ্নিত করেছি। চিহ্নিত করে দেখা যাচ্ছে সবাই একসময় হয় যুবদল করতো, না হয় বিএনপি করতো বা জামায়াত-শিবিরের সদস্য ছিল। কাজেই তাদের খুঁজে খুঁজে যেহেতু আমরা বের করে ফেলেছি, এজন্য তাদের পক্ষ হয়ে এতদিন যারা কাজ করছিল তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে। তাদের গাত্রদাহটা ওইখানে।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গুটিকয়েক লোকের কারণে দলের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না। আমি আপনাদের আহ্বান জানাব, আওয়ামী লীগকে বিশুদ্ধ করুন, আওয়ামী লীগ থেকে দূষিত রক্ত বের করে দিন। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করুন। এটাই আজ সময়ের আহ্বান। সেটাই আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনার) চাওয়া। তিনি নিউ ইয়র্কে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেই এবার আমরা শপথ নিয়েছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত দেশ আমরা গড়বই। এখানে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    আওয়ামী লীগের অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, তৃণমূল থেকে পাবলিক এ অভিযানের পক্ষে। তারা দুর্নীতির বিপক্ষে, চাঁদাবাজির বিপক্ষে। তাহলে অটোমেটিক এটা আমাদের পক্ষে আসবে। মদ, জুয়া, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স দেখাব।

    সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগ করলে যা ইচ্ছা তা করা যায় না। আওয়ামী লীগ করতে লাগে নীতি, আদর্শ এবং জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার। নির্বাচনী ইশতেহারে মোট ২১টি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন নম্বর হচ্ছে দুর্নীতি নির্মূল করা। বঙ্গবন্ধু কন্যা নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করেন না। দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে তিনি এ অঙ্গীকার করেছেন, এখানে কোনো আপস নয়। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি (শেখ হাসিনা) চলমান অভিযান অব্যাহত রাখবেন।

    আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, চলমান অভিযানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগও কিছুটা শুদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দলে অনুপ্রবেশকারীরা চিহ্নিত হচ্ছে, যারা অতীতে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল তারা সতর্ক হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করবে।

    ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, নেত্রীর এমন অভিযানের সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের অনেক বড় উপকার করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে যারা এতদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তারা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। এতদিন দল বেচে যারা চলেছেন, তারা কোণঠাসা হওয়ায় ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • বরিশালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা করলেন পানি প্রতিমন্ত্রী

    বরিশালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা করলেন পানি প্রতিমন্ত্রী

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল সদর উপজেলার ফকিরেরহাট বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ শামীম ফারুক এমপি। শুক্রবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে এই অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি।

    ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দোকানিকে নগদ ৬ হাজার করে টাকা ও দুই বান করে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু এবং মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

  • বরিশালে শারদীয় দূর্গা পূজার উদ্বোধন করলেন কাউন্সিলর মান্না

    বরিশালে শারদীয় দূর্গা পূজার উদ্বোধন করলেন কাউন্সিলর মান্না

    বরিশালে ফিতা কাটার মধ্যদিয়ে শ্রী শ্রী সার্বজনীন শারদীয় দূর্গা পূজার শুভ উদ্বোধন করলেন বিসিসি ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্না।

    বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বরিশাল শহরের ২১ নং ওয়ার্ডস্থ অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাঁশতলা ঘোষ বাড়ীর দূর্গা পূজা মন্ডপের ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক্ষ মোঃ হানিফ, বিশু ঘোষসহ এ্রলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্না বলেন, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার যুব সমাজ আমাকে দির্ঘদিন যাবত পূজা উদযাপনের জন্য বলছিলো। তাই আমি সকলকে নিয়ে পূজার মন্ডপ প্রতিষ্ঠা করেছি। ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

    স্থানীরা জানায়, সকল মিলে পূজার মন্ডপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না। পরে কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্নার সহযোগীতা ও অর্থায়নে মন্ডপটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কাউন্সিলর সাইদ আহম্মেদ মান্নাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।