Category: রাজণীতি

  • বিসিসির ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে -সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসির ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে -সাদিক আবদুল্লাহ

    মেয়র হিসাবে আমার নগরবাসীকে যেভাবে দেখি, সাংস্কৃতিক জগতকেও সে ভাবেই দেখি। আপনাদের যে কোন সহযোগীতায় আমাকে সব সময় কাছে পাবেন।

    আজ শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে দু-দিন ব্যপি ১১তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, আমার শারিরীক শ্রম দিয়ে বিসিসির অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কারনেই চলতি বছর ১২ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে। যা বিসিসির ইতিহাসে এবারই প্রথম।

    বিসিসিতে কিছু যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে এব্যাপারে আমি মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছি। সেগুলো আসলে আমি বরিশালকে একটি সুন্দর শহর হিসাবে নগরবাসীকে উপহার দেব।

    তিনি আরো বলেন শহরের জলব্ধতা দুর করতে ড্রেনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গুরুত্ব দিয়েছি।

    এসময় তিনি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ব্যবহার পরিত্যাগ করে সকলকে মাটির আসবাব পত্র ব্যবহার করার আহবান জানান।

    বরিশাল চারুকলা সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রত্নতত্ন আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা, বরিশাল বিসিক উপ-পরিচালক মোঃ জালিস মাহমুদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি এ্যাড. মানবেন্দ্র ব্যটকবল, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি কাজল ঘোষ, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স পরিচালক মৃনাল কান্তি সাহা, ও ভানু লাল দে।

    পড়ে সিটি মেয়র মৃৎ শিল্পীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং মৃৎ লিল্পীদের সাথে মাটির আসবাব পত্র তৈরী করেন তিনি। পড়ে সকলকে দেশীয় মৃৎশিল্পকে বাচিয়ে রাখার কথা বলেন।

    এছাড়া সন্ধায় একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে চারুকলা শিল্পিদের আবৃতি পাঠ, নৃত্যঙ্গনসহ রবিন্দ সংগীত ও নজরুল গীতি।

  • যুগ পাল্টেছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় : মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    যুগ পাল্টেছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় : মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল সিটি করেপোরেশেনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, যুগ পাল্টেছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে, তাদের আমাদেরই একজন ভাবতে হবে। এখন থেকে বরিশাল নগরে বাড়িসহ যে কোন স্থাপনা করতে গেলে তা যেন প্রতিবন্ধীরা ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

    বুধবার (০২ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গনে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতার বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, লঞ্চে যাতে হুইলচেয়ার নিয়ে প্রতিবন্ধীরা উঠতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এমনকি বাসে ও লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট সিটের ব্যবস্থা, হাসপাতালে বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে। আর যাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তারা সিটি কর হ্রাসের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি এই শহরে যাদের বাড়িতে ছাদ বাগান থাকবে তাদের ২% হারে সিটি কর মওকুফ করা হবে। প্রয়োজনে ছাদ বাগান করতে সহায়তা করা হবে।

    মেয়র আরো বলেন, সিনিয়র সিটিজেন ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নগর ভবনে যে স্পেশাল ডেক্স খোলা হয়েছে, সেখানে মন্তব্য বই রয়েছে। যেখানে সেবা বঞ্চিত হলে কিংবা কোন অভিযোগ থাকলে লিখতে পারবেন। আর আশা করি সে বিষয়টি দ্রুততার সহিত সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোটা দেশে বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এবং যে গতিতে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে তাতে বরিশাল হবে উন্নত ও ব্যস্ততম একটি শহর।

    তিনি বলেন, বিগত দিনে বরিশালে যেভাবে জুয়া-হাউজি চলতো তা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কাজে যারাই লিপ্ত হবেন সে যেই দলের লোকই হোক না কেন কোন প্রশ্রয় দেয়া হবে না। ভালো সকল কাজের সাথে আমি আছি।

    বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার প্রমুখ।

    উল্লেখ্য বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ৪১৩ জন প্রতিবন্ধি ভাতাভোগী রয়েছেন। আজ তাদের মধ্য থেকে ২৭৬ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতার বই বিতরণ করা হয়। যেখানে প্রতিমাসে ৭ শত টাকা হারে জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ২৩ লাখ ১৮ হাজার টাকার ভাত প্রদান করা হয়।

  • দলীয় বা আত্মীয় পরিচয় দেখতে চাই না, অভিযান চলবেই : প্রধানমন্ত্রী

    দলীয় বা আত্মীয় পরিচয় দেখতে চাই না, অভিযান চলবেই : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::

    দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অভিযানে কে দলের, কে কী বা কে আমার আত্মীয়-পরিবার এসব আমি দেখতে চাই না। অভিযান অব্যাহত থাকবেই।

    সম্প্রতি ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারের নেয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    দেশ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। কারণ, আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে হবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকের সাথে সাথে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান না চালানো হয় তাহলে সমাজে একটা বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে উন্নয়নের প্রকল্প তৈরি করি। আমরা যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও উন্নত হবে, আরও এগিয়ে যাবে। সমাজের বৈষম্যটাও দূর হবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, এখানে (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) আমার দলের কে কী, সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিবার দেখতে চাই না, বিত্তশালী কেউ আছে কি-না -এটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবেই।

    তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, আমি জানি এটা খুব রিস্কি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা একটা (অবৈধ সম্পদ অর্জন) অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা মুষ্টিমেয় কিছু লোক করে যাচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষ করে না, কিন্তু এর প্রভাবটা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়। সেখান থেকে দেশটাকে তো রক্ষা করতে হবে।

    রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। আমাদের জীবনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সমস্যাটা প্রায় তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করছে। আমরা মিয়ানমারের সাথে আলোচনা এবং একটি চুক্তিও করেছি যে, তারা তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে। কিন্তু ফেরত নেওয়ার সময় আর ফেরত নেয়া হচ্ছে না।

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বৃক্ষদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বৃক্ষদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এম পি’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান “শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র “র উদ্যোগে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৭৩ জন সুবিধা বঞ্চিত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে বৃক্ষরোপন (১ টি করে পরিবেশ বান্ধব ফলজ ও বনজ) ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ (স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলম, জ্যামিতি বক্স, পেন্সিল, রাবার, সার্পনার) বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ (উত্তর) এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

    বুড়িচং থানা আওয়ামীলীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হাজী জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন সাবেক আইন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, এমপি। সাবেক আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এর জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একমাত্র শেখ হাসিনাই পারবেন শতভাগ শিক্ষিত জাতি গঠন করতে। শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিনে সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এম পি বুড়িচং থানার পূর্ণমতি গ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ পাঠিয়েছেন; সে জন্য কুমিল্লা বাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।

    অনুষ্ঠানে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র ২০১৪ সাল থেকে সারা বাংলাদেশে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছে। শেখ হাসিনার আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এখন থেকে প্রতিমাসে বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের ৩ টি বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। আলোচনা শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মদিন উপলক্ষে পূর্ণমতি বন্ধুমহল ‘৯৭ এর আয়োজনে পূর্ণমতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শরীফ মাহমুদ অপু’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা, ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান, রিহ্যাবের পরিচালক ইঞ্জি. আল আমিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সৈকত সরকার, ৩ টি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ ও ছাত্র ছাত্রী প্রমুখ।

  • শেখ হাসিনা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলস ভাবে কাজ করছে : সাদিক আব্দুল্লাহ

    শেখ হাসিনা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলস ভাবে কাজ করছে : সাদিক আব্দুল্লাহ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, হিন্দু-মুসলমান এরকম কোন ব্যবধান আমি দেখি না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলস ভাবে কাজ করছে। আর আমি তার একজন কর্মী হিসেবে সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমি ঈদেও যেমন সবাইকে নিয়ে উৎসব পালন করেছি, তেমনি পুজোতেও সবাই নিয়ে উৎসব পালন করতে চাই।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগর ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশাল নগরের ৪২ টি পূজামন্ডপে অনুদানের চেক বিতরণকালে এ কথা বলেন মেয়র।

    পূজায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন কিছু দেখে সন্দেহ হলে কিংবা কোন কিছু সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবেন । আর আমি আপনাদের পাশি আছি।  আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে, সাধারন সম্পাদক মানিক মুখার্জি কুডু, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নারয়ান চন্দ্র দে, সাধারন সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, ধর্মরক্ষিণী সভার সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি সাহা প্রমুখ।

    বক্তব্য প্রদান শেষে মেয়র ও ‍উপস্থিত অতিথিরা বরিশাল নগরের ৫ টি ব্যক্তিগতসহ ৪২ টি পূজা মন্ডপের নেতৃবন্দর হাতে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    উল্লেখ্য এবারই প্রথম অনুদানের পরিমান বাড়ানো হয়েছে।  গত বছর সার্বজনীন পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দকে ১২ হাজার টাকা দেয়া হলেও এ বছর তা ২০ হাজার এবং ব্যক্তিগত পূজা মন্ডপগুলোর নেতৃবৃন্দকে ৬ হাজার টাকার স্থলে ১০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।

  • বরিশালে ২২ পুজামন্ডপে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রদান

    বরিশালে ২২ পুজামন্ডপে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রদান

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল সদর উপজেলার ২২ টি পুজামন্ডপ কর্তৃপক্ষকে দুর্গাপুজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ সহায়তা তুলে দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- ২২ মন্ডপ কর্তৃপক্ষের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে চেক দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে দুর্গাপুজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম প্রমুখ।’

  • শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেঞ্চে বসে খাবার খেলেন দীপু মণি-নওফেল

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেঞ্চে বসে খাবার খেলেন দীপু মণি-নওফেল

    অনলাইন ডেস্ক ::

    সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কক্ষের বেঞ্চে বসেই মিড-ডে মিলের খাবার খেলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

    রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের ওই স্কুলে মিড-ডে মিলের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অনুরোধ করেন, একসঙ্গে খেতে হবে। তারাও বসে গেলেন শিক্ষার্থীদের কাতারে।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে মন্ত্রী-উপমন্ত্রী যেন ফিরে গিয়েছিলেন তাদের স্কুলজীবনেং! বিদ্যালয়ের সাদামাটা খাবার তাদের কতটুকু তৃপ্ত করতে পেরেছে, তা হয়তো জানা নেই। তবে শিক্ষার্থীরা যে তৃপ্ত হয়েছেন, তা প্রস্ফুটিত ছিল তাদের চোখে-মুখে।

    তাই তো প্রিয় মেহমানদের যত্ন-আত্তি করতে ছাত্রীদের কেউ এসেছিলেন পানি নিয়ে। অনেকেই ছিলেন গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে। এ সময় তাদের চোখে-মুখে ছিলো আনন্দের ঝিলিক।

    যদিও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি বারবার বলছিলেন, ‘তোমরাও খেতে বসো।’ তবে কে শুনে কার কথা! ছাত্রীরা সেখানেই ছিলেন দাঁড়িয়ে। শিক্ষার্থীদের কাতারে খাবার খেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন, উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেলও।

    খাবার শেষে বের হওয়ার সময় মমতাময়ী শিক্ষামন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন ছাত্রীরা। ডা. দীপু মণিও তাদের অনেকের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন আশীর্বাদ করেন, ‘তোমরা জীবনে অনেক বড় হও’।

    এদিকে উপমন্ত্রী নওফেল তার ফেসবুক পেজের টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘সিলেট অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মিড-ডে মিল কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করার পরপরই ২০টাকার বিনিময়ে ‘মিড-ডে মিল’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করি।’

    উদ্বোধন হওয়া ১৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সিলেটে ২, মৌলভীবাজারে ৩, হবিগঞ্জে ৪ এবং সুনামগঞ্জের ৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    সিলেট অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৬২২টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৬২টি, সুনামগঞ্জে ৬৮টি, মৌলভীবাজার জেলায় ১১৬টি এবং হবিগঞ্জ জেলায় ১৭৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে উপকৃত হচ্ছে ২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী।

  • ক্যাসিনোয় জড়িতদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বেনাপোলে সতর্কতা

    ক্যাসিনোয় জড়িতদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বেনাপোলে সতর্কতা

    সম্প্রতি আলোচিত ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে সর্বোচ্চ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্তেও সতর্ক রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার সকালে ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রোববার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত এলাকা ঘুরে পুলিশ ও বিজিবির বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। ইমিগ্রেশনে ভারতগামী যাত্রীদের নাম, ঠিকানা যাচাই ও পাসপোর্টের সঙ্গে তাদের ছবি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া একাধিক বা জাল পাসপোর্ট যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারেন সেজন্য হাতের ছাপও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সীমান্তে ঘুরে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছেন। অবৈধভাবে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য তারা প্রহরা বৃদ্ধি করেছে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাসিন খান পাঠান জানান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে তাদের কাছে একটি নির্দেশনা এসেছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত ও সন্দেভাজন ব্যক্তিদের পাশাপাশি ৯ নেপালের নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন আরও নামের তালিকা আসছে বলেও জানান তিনি।

    যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা ও খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় ঘোষিত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চলে যেতে না পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • আসছে নির্মল বায়ু আইন, দূষণের শাস্তি ২ বছর জেল

    আসছে নির্মল বায়ু আইন, দূষণের শাস্তি ২ বছর জেল

    বায়ুদূষণের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। তবে এ অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা কমপক্ষে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি পেতে হবে। এমন বিধান রেখে ‘নির্মল বায়ু আইন, ২০১৯’ পাস হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

    বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার ২০১৯’ (এসওজিএ) এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এক লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বায়ু দূষণে। প্রথম চারটি দেশের মধ্যে আছে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। এর পরেই আছে বাংলাদেশ অর্থাৎ বিশ্বে বায়ু দূষণে মৃত্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

    এতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মাত্রা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে নেপালে সবচেয়ে দূষিত বায়ু ছিল। এরপর রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এ অঞ্চলে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বায়ু ভুটানের। ডব্লিউএইচওর নিচের মাত্রাটির খুব কাছে তাদের অবস্থান। অঞ্চল ভিত্তিতে মাত্রাতিরিক্ত বায়ু দূষণে দক্ষিণ এশিয়ার পরে আছে সাব সাহারা আফ্রিকা।

    এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশ সরকার ‘নির্মল বায়ু আইন, ২০১৯’ পাস করতে যাচ্ছে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতরই হবে আইন প্রয়োগের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা। অধিদফতর দূষণ নিয়ন্ত্রণে বায়ুর মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেবে। সরকার বায়ুদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রকল্প ও কাজের তালিকা প্রকাশ করতে পারবে। এছাড়া বায়ুদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কেউ অসামান্য অবদান রাখলে তাকে সরকার পুরস্কৃত করবে।

    পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন অংশে বায়ুমান সন্তোষজনক অবস্থায় রাখা এবং পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিকের জীবন ও বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের অধিকারের নিশ্চয়তার জন্য একটি আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেজন্য বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিশুদ্ধ ও লাগসই প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া, অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থা উৎসাহিত করার মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধ ও প্রশমনে নির্মল বায়ু আইন করা হচ্ছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নির্মল বায়ু আইনের খসড়া করেছে পরিবেশ অধিদফতর। এখন খসড়ার বিষয়ে আরও মতামত নেয়া হবে। মতামত নেয়ার পর আমরা সবার সঙ্গে বসব খসড়াটি চূড়ান্ত করার জন্য।’

    সচিব আরও বলেন, ‘আমরা এ বছরের মধ্যেই আমাদের পর্যায়ে চূড়ান্ত করে আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর চেষ্টা করছি।’

    খসড়া আইন অনুযায়ী, বায়ুদূষণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুমানের উন্নতি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক যা প্রয়োজনীয় মনে করবেন সেসব কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন।

    বায়ুদূষণ রোধে মহাপরিচালক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বায়ুমান পরিবীক্ষণ যন্ত্রপাতি বা পদ্ধতি স্থাপন, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দিতে পারবেন। কোন উপায়ে বায়ু দূষিত করলে বা করতে পারে- এমন আশংকা সৃষ্টি হলে দূষণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্ৰণ ও উপশমের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তিকে আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারবে।

    বায়ুদূষণ ঘটাতে পারে এমন সব উৎপাদন প্রক্রিয়া, দ্রব্য ও বস্তু নিয়ন্ত্রণ বা পরিহার করার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক।

    বায়ুদূষণের মাধ্যমে কোনো ক্ষতি হলে মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধ এবং যথাযথ ক্ষেত্রে সংশোনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা উভয় প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিতে পারবেন। এ নির্দেশ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পালনে বাধ্য থাকবেন বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ না দিলে মহাপরিচালক আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থতার জন্য ফৌজদারি মামলা বা উভয় মামলা দায়ের করতে পারবেন। লিখিত নোটিশ দেয়ার পর মহাপরিচালক বায়ুদূষণকারী যে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারবেন।

    মহাপরিচালকের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কোনো নোটিশ না দিয়ে দূষণের উৎসস্থলে প্রবেশ করে তল্লাশি করতে পারবেন। এমনকি কোনো সরঞ্জাম, শিল্প-প্ল্যান্ট, রেকর্ড, নথি, রেজিস্ট্রার, দলিল বা এ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরীক্ষা এবং যাচাই ও জব্দ করতে পারবেন।

    বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সময়ে সময়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন বা বিধিমালার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বায়ুদূষনের তালিকা, বায়ুর মানমাত্রা, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, নির্দেশিকা ও নির্ণায়ক বা মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারবেন। এটা সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে।

    সরকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন, পরিবহন ও অন্যান্য উৎসের (বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, সিমেন্ট কারখানা, ইস্পাত কারখানা, লৌহ ঢালাই, বয়লার ইত্যাদি) বায়ু নিঃসরণ মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেবে। প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, গৃহাভ্যন্তরীণ ও পরিবেষ্টিত বায়ুর মানমাত্রা নির্ধারণও করে দেয়া হবে।

    নির্ধারিত মানমাত্রা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিবেশ অধিদফতর, এ আইন কার্যকর হওয়ার পর সময়ভিত্তিক একটি জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এ পরিকল্পনা পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো এলাকাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড বা বিশেষ নিয়ন্ত্রণ এলাকা ঘোষণা করতে পারবে।

    সরকারি বিরল প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক, সংস্কৃতিক আবেদন সম্পন্ন বা বিশেষ বায়ুমান ব্যবস্থাপনা গ্রহণের দাবি রাখে এমন এলাকায় শিল্প বা প্রকল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বা বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে।

    বায়ুদূষণকারী বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে সরকার। প্রয়োজনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ওই এলাকা থেকে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারবে বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া সরকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিবেশগত বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বা হতে পারে এমন বায়ুদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রকল্প ও কাজের তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।

    সরকার বায়ুদূষণকারী কোনো দ্রব্য বা বস্তুকে সার্বিকভাবে বা কোনো নির্দিষ্ট এয়ারশেডের জন্য প্রধান বায়ুদূষক হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

    নির্মল বায়ু আইন বাস্তবায়নে সরকার ও পরিবেশ অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সুপারিশ দিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্ৰণ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। পরিবেশ অধিদফতর এ আইনের বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন সংস্থার বায়ুমান সুরক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেশব্যাপী বায়ুমান পর্যবেক্ষণ করবে।

    আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশব্যাপী উপযুক্ত স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রসহ আন্তঃদেশীয় বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বায়ুমানের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা মূল্যায়নের জন্য বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করবে।

    যানবাহন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রকারী ব্যক্তিরা বায়ুর নির্ধারিত মানমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থা পরিকল্পনায় সুপারিশকৃত কর্মপদ্ধতি মেনে চলবে। পরিবেশ অধিদফতর সময়ে সময়ে যানবাহনের নিঃসরণ পরীক্ষা করবে এবং বেশি দূষণকারী পুরাতন যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে।

    বায়ুর নির্ধারিত মানমাত্রা ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিশ্চিতে পরিবেশ অধিদফতর যানবাহনে ব্যবহৃত ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। লাইসেন্স দেয়ার জন্য বিআরটিএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যানবাহনের নিঃসরণ মাত্রা সরকারের মাত্রা অনুযায়ী নিশ্চিত করবে।

    স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ কাজ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সরকার নির্ধারিত বায়ুর মানমাত্রা অনুসরণ করবে।

    বায়ুমান উন্নয়ন তহবিল নামে একটি আলাদা তহবিল গঠন করা হবে। যা বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বায়ুদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুর গুণগতমান রক্ষা ও উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখলে তাকে সরকার উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করবে।

    আইন অনুযায়ী কেউ যদি কোন প্রতিবেদন দাখিল বা তথ্য দিতে ব্যর্থ হন বা মিথ্যা বিবৃতি দেন বা মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে কেউ লাইসেন্স বা অনুমোদন নিলে তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।

    সরকার নির্ধারিত বায়ুর মানমাত্রা না মানা ও বায়ুদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খসড়া আইনে উল্লেখিত বিধি-বিধান না মানলে কোনো ব্যক্তি দোষীসাব্যস্ত হবেন। প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ আবারও করলে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা কমপক্ষে দুই বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলে প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বায়ুদূষণের আশঙ্কাগ্রস্ত বা বায়ুদূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি লিখিতভাবে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিকার চাইতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মহাপরিচালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা গণশুনানিসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। পরিবেশ অধিদফতর ধার্য করা ক্ষতিপূরণ অপরাধীর কাছ থেকে আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দিতে পারবেন।

    অধিদফতরের কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ অনুযায়ী আপিল করতে পারবেন।

    খসড়া নির্মল বায়ু আইনে আরও বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দিতে পারবেন। পরিবেশ আদালত বা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ বিচারের জন্য আমলে নিতে পারবেন।

  • কার আয় কত, খুঁজে বের করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    কার আয় কত, খুঁজে বের করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ এবং অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যদি কেউ অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে, তার এই অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা বা অসৎ উপায় ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে যেই হোক না কেন, আমার দলের হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না।’

    ‘এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোথায় ফাঁক-ফোকর রয়েছে, কারা এই কাজগুলো করছে এবং কিভাবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আরেকটা জিনিস আমি দেখতে বলে দিয়েছি-সেটা হলো কার আয়-উপার্জন কত? কীভাবে জীবন-যাপন করে? সেগুলো আমাদের বের করতে হবে।’

    শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের হার বেড়ে গেলে যেসব ব্যক্তি বা তাদের সন্তানেরা সৎ পথে জীবন নির্বাহ করতে চায়, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, ‘একজন সৎভাবে চলতে গেলে তাকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হয়, আর অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই ব্র্যান্ড, ওই ব্র্যান্ড, এটা সেটা হৈ চৈ, খুব দেখাতে পারে।’

    ‘ফলাফলটা এই দাঁড়ায় একজন অসৎ মানুষের দৌরাত্মে যারা সৎ জীবন-যাপন করতে চায় তাদের জীবনযাত্রাটাই কঠিন হয়ে পড়ে,’ যোগ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৎ মানুষের ছেলে-মেয়েদের মনে সহসাই একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, কেন তাদের পরিবার বিলাসবহুল জীবন-যাপন করতে পারে না। বাস্তবিকভাবেই এই চিন্তা লোকজনকে অসৎ পথে ঠেলে দেয়।’

    উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আরো বেশি উন্নত হতে পারতো যদি প্রকল্পের প্রত্যেকটি টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হতো।

    তিনি বলেন, ’তাহলে আমরা সমাজ থেকে এই ব্যাধিটা, একটা অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে আমাদের সমাজকে রক্ষা করতে পারবো, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারবো।’