প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আনন্দ মিছিল ও র্যালি সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। র্যালি শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ডাস্টবিন, কাঁদা, ময়লার স্তুপ ও রাস্তাসহ যত্রতত্র ফেলে দিতে দেখা যায়।
এছাড়াও, রাস্তায় পড়ে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলো পথচারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারাই পায়ের নিচে পড়তেও দেখা যায়।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে থেকে র্যালি শুরু করে ছাত্রলীগ। র্যালিটি মধুর ক্যান্টিনের সামন থেকে শুরু করে মল চত্বর হয়ে টিএসসিতে এসে টিএসসির সড়কদ্বীপ প্রদক্ষিণ করে মল চত্বর হয়ে আবার মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি সমাবেশে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, হল শাখা ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সম্পর্কে জানতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই দুঃখজনক। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করা হয়েছে। আমরা শুরুতেই যারা প্ল্যাকার্ড বানিয়েছে তাদের বলে দিয়েছিলাম, র্যালি শেষে সেগুলো গুনে ফেরত দিতে। তবে, কারা এ কাজ করেছে আমরা বিষয়টি দেখছি।’
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেই বলে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নুরুল হক নুর।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব বলেন।
বিবৃতিটি হুবুহু তুলে ধরা হল, গতকাল ২৬/০৯/২০১৯ ইং তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর মিটিংয়ে ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন ও সদস্য রাকিবুল ইসলাম এর দাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব পরিপ্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য ছিল নিম্নরূপ :
বাংলাদেশ সংবিধান মোতাবেক প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুন মেনে যেসব রাজনৈতিক দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিংবা যেসব ধর্মভিত্তিক দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিংবা যে সব ধর্ম ভিত্তিক দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করছে ঢাবিতে তাদের ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণে ডাকসু বা ঢাবি কর্তৃপক্ষের কোনো এখতিয়ার নেই। সুতরাং এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমরা ডাকসু থেকে নিতে পারি না।
তাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় বরং উগ্রপন্থী, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সংগঠন যাতে ঢাবিতে কোন ধরনের কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য ডাকসু থেকে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা না পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি।
মিটিংয়ের এক পর্যায়ে ৩৪ জন ছাত্রলীগের নেতার অবৈধভাবে ভর্তি ও জিএস এর পদে থাকা নিয়ে আলোচনা তুললে অবৈধ ভর্তি হওয়া ডাকসু নেতাদের ব্যক্তি আক্রমণাত্মক কথাবার্তায় আমি সভা বর্জন করে বের হয়ে আসি। আমার অনুপস্থিতিতে তারা নিজেদের মতো করে সংযোজন-বিয়োজন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেনের স্বাক্ষরসহ প্রকাশ করে। যা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নয়।
উল্লেখ্য, গতকাল ডাকসুর মিটিংয়ে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শয়ন ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করলে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে আসা সব সদস্য সর্বসস্মতিক্রমে প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটে যেন একটি ধারা সংযোজন করা হয়, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগ থেকে আসা ডাকসু সদস্যরা।
দেশের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার জন্মদিন পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ১২টা ১ মিনিটে সদর রোডস্থ বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মোনাজাত ও কেক কাটা হয়। দোয়া মোনাজাত ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মাদ ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে কেক কাটা হয়।
শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।
শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে চলে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।
বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩, নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তার শহর বাসের পালা।
তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচণ্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তার জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ দুঃখ-যন্ত্রণা।
এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।
১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কাণ্ডারি হয়েছেন তার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস।
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এর আগে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রি, পদক ও স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করা হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টিকা দান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যদাপূর্ণ ‘ভ্যাকসিন হিরো ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
সুইজারল্যন্ড ভিত্তিক বিশ্বব্যাপী টিকা দান সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন ( জি এভি আই ) ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয় । এর আগে এ মাসেই শেখ হাসিনাকে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড পদক প্রদান করা হয়। কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজরি কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা এ্যাম্বাসেডর টিপি শ্রী নিবাসন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ পদক হস্তান্তর করেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন।
সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণের প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টা) জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যবারের মতো এবারেও বাংলায় ভাষণ দেন।
এ বছরের সাধারণ বিতর্কের বিষয়বস্তু হলো ‘দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিকরণে বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার উজ্জীবন।’ নাইজেরিয়ার টিজানি মুহাম্মাদ-বান্দে জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।’
তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।’ এবং প্রধানমন্ত্রী তার শেষ প্রস্তাবে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম।’
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এ মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে। যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।’
রোহিঙ্গা সমস্যার অনিশ্চয়তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুধাবনের অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশের সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এ এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।’
রোহিঙ্গা ইস্যুকে মিয়ানমার এবং তাদের নিজস্ব জনগণের সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি যা মিয়নামারের তৈরি। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে আগামী বছর জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মানব সভ্যতার জন্য একটি শক্তিশালী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় সকলকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। যেন তা আগামী শতকের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় সক্ষম হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিনে বাংলার মুখ টুইনটি ফোর ডট কম এর পরিবার থেকে জননেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয় । বাংলার মুখ টুইনটি ফোর ডট কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা: পলাশ চৌদুরী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আধুনিক বংলাদেশের নায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানেই শৈশব-কৈশোর কাটে।
চুয়ান্ন’র নির্বাচনের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবার রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকায় টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে বর্তমানে শেরে বাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ওই কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা ষাটের দশকে শিক্ষার্থীজীবনে জড়িত হন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬৮ সালে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বিপথগামী একদল সেনা সদস্য যখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে, তখন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাসায়। মা-বাবাসহ স্বজনদের হারিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার এক অবর্ণনীয় দুঃসহ জীবন শুরু হয়। নানা দেশ ঘুরে তাঁদের আশ্রয় মেলে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হয়ে পড়ে বিভক্ত।
এই বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরই তিনি তৎকালীন শাসকদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁকে দলের অভ্যন্তরেও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়।
৭৫ এ প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনকে নির্মমভাবে হত্যার পর, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা হয়েছে অন্তত ঊনিশবার। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধেদিয়ে ইতিহাসের কলঙ্কমোচন করেন তিনি। পাহাড়ে রক্তারক্তি বন্ধে করেছেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর দেশ বিনির্মাণে পেয়েছেন সাফল্য। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। তবু থেমে নেই শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন সাধারণের মাঝে অসাধারণ এই নেত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পথে। সন্ত্রাস দমন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু-কন্যা এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বেও সমাদৃত। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনবার সরকার গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গ্র্যাজুয়েট দেশকে পরিণত করতে চান জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলায়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন আজ। আধুনিক বংলাদেশের নায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানেই শৈশব-কৈশোর কাটে। চুয়ান্ন’র নির্বাচনের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবার রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকায় টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে বর্তমানে শেরে বাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ওই কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা ষাটের দশকে শিক্ষার্থীজীবনে জড়িত হন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬৮ সালে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বিপথগামী একদল সেনা সদস্য যখন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে, তখন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে ছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়ার বাসায়। মা-বাবাসহ স্বজনদের হারিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার এক অবর্ণনীয় দুঃসহ জীবন শুরু হয়। নানা দেশ ঘুরে তাঁদের আশ্রয় মেলে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হয়ে পড়ে বিভক্ত। এই বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরই তিনি তৎকালীন শাসকদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁকে দলের অভ্যন্তরেও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়। ৭৫ এ প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনকে নির্মমভাবে হত্যার পর, শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা হয়েছে অন্তত ঊনিশবার। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধেদিয়ে ইতিহাসের কলঙ্কমোচন করেন তিনি। পাহাড়ে রক্তারক্তি বন্ধে করেছেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর দেশ বিনির্মাণে পেয়েছেন সাফল্য। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। তবু থেমে নেই শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন সাধারণের মাঝে অসাধারণ এই নেত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পথে। সন্ত্রাস দমন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু-কন্যা এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বেও সমাদৃত। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনবার সরকার গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গ্র্যাজুয়েট দেশকে পরিণত করতে চান জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলায়।
দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে জুয়া বন্ধের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশনা দেয়া হয়। যদিও পরবর্তীকালে এ বিষয়ে আর নতুন কোনো আইন হয়নি। ফলে এখনও কার্যকর রয়ে গেছে দেড়শ বছরের বেশি পুরনো আইনটি।
বর্তমান সংবিধানের ১৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’ এছাড়া ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ এর ৩, ৪ ও ১৩ ধারা অনুসারে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স বা পারমিট নিয়ে মদ বিক্রি ও পানের সুযোগ আছে।
সম্প্রতি ঢাকায় র্যাবের সমন্বিত অভিযানে চারটি কথিত ক্যাসিনো সিলগালা ও অনেককে আটকের পর জুয়া খেলা ও ক্যাসিনো নিয়ে এখন বাংলাদেশে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাতে জানা যাচ্ছে, ঢাকায় অন্তত ৬০টি এমন ক্যাসিনোর অস্তিত্ব রয়েছে।
পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের আশপাশের দেশ সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এমনকি নেপালেও জুয়া খেলার জায়গা হিসেবে ক্যাসিনোর জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্লাবে বা আড্ডায় গোপনে জুয়া খেলার অনেক আসর বসার কথা নানা সময়ে শোনা গেলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণসজ্জিত এ ক্যাসিনোগুলোর অস্তিত্ব থাকার খবর বাংলাদেশের মানুষের কাছে একেবারেই নতুন। অথচ মদ বিক্রি বা পানের মতো ক্যাসিনোর অনুমোদন বা লাইসেন্স দেয়ার কোনো ব্যবস্থা বা সুযোগই বাংলাদেশের কোনো আইনে নেই। জুয়ার বিষয়ে যে আইনটি কার্যকর আছে সেটি হলো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭’, সেখানে অবশ্য ‘ক্যাসিনো’ বিষয়ে কিছু বলা নেই।
তবে ওই আইনে ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবহারকারী হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে বা স্বেচ্ছায় অন্য লোককে, ওই স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে দিলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তাস, পাশা, কাউন্টার অর্থ বা অন্য যেকোনো সরঞ্জামসহ যেকোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলেও শাস্তি দেয়ার সুযোগ আছে এ আইনে।
সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বহিষ্কার হওয়া খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম গ্রেফতার হন। তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত জুয়া আইনে শাস্তির বিধান কী- তা নিয়েও চলছে আলোচনা। যদিও জুয়া নিয়ে শাস্তির বিধান থাকলেও তা কোনো শাস্তির পর্যায়ে পড়ে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাসিনো খেলা নিয়ে সত্যিকার অর্থে শাস্তি দেয়ার মতো কোনো আইন নেই। আবার কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় সংবিধানে জুয়া অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই সেটি চলতে পারে না। আইনজ্ঞরা বলছেন, জুয়া ও ক্যাসিনো নিয়ে নতুন করে আইন তৈরি করা দরকার।
জুয়া বন্ধে দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো আইনটি যুগোপযোগী করে সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতিরা। তারা বলছেন, জুয়া নিয়ে প্রচলিত আইনটিতে সাজা নামমাত্র। ওই আইনে ‘ক্যাসিনো’ বলে কোনো শব্দই নেই। এছাড়া যে বিধিবিধান রয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা-ও চলে না। বলা চলে, আইনটি তার কার্যকারিতাই হারিয়েছে। তাই দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আইনটির সংশোধন জরুরি।
জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু ক্যাসিনো সিলগালা ও অনেককে আটক করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কারও বিরুদ্ধেই জুয়া খেলার অপরাধে মামলা হয়নি। সব মামলা হয়েছে মাদক, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনে।
পুরনো জুয়া আইনের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চয়ই পুরনো আইনটি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করব। কারণ আমরা জানতামই না জুয়া এ রকম হয়। বাস্তবতার নিরিখে আমাদের জুয়া খেলা বন্ধ করতে হবে এবং কার্যকর আইন তৈরি করতে হবে।’
১৮৬৭ সালের বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের প্রজারা যেসব এলাকায় বসবাস করে সেখানে প্রকাশ্যে জুয়ার জন্য শাস্তি প্রদানের এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য একটি আইন।’ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনাধীন এলাকায় প্রকাশ্য জুয়া খেলার অপরাধে শাস্তি এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
আইনের ১ ধারায় জুয়ার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘ক্রীড়া’ শব্দ দ্বারা জুয়া বা বাজি ধরা বোঝাবে (কেবল ঘোড়দৌড়ের জন্য ধরা বা জুয়া খেলা ব্যতীত)। খেলার কাজে ব্যবহৃত যেকোনো হাতিয়ার বা সামগ্রী ‘ক্রীড়াসামগ্রী’ শব্দের অন্তর্গত।
ধারা-৩ এ বলা আছে, ‘এ ধরনের জুয়া খেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে জুয়ারত বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
দেশে জুয়াবিরোধী একটি আইন থাকলেও রাজধানীতে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ক্রীড়া-ক্লাবের জুয়ার আসর থেকে আটক শতাধিক ব্যক্তির কারও বিরুদ্ধেই ওই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
দেশে ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ নামের যে আইনটি রয়েছে সেটি রাজধানীতে প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে ইহা প্রযোজ্য হইবে’। অন্যদিকে, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬’ এর ৯২ ধারায় প্রকাশ্যে জুয়া খেলার জন্য মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
জুয়া ও ক্যাসিনো নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, “জুয়া খেলা বন্ধে যে আইন আছে তা হচ্ছে ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন- ১৮৬৭’। এটার কোনো প্রয়োগ নেই। আইনটি আসলে আগেকার আমলে বিভিন্ন মেলায় যে জুয়ার আসর বসত, সেটি বন্ধের জন্য। কিন্তু ক্যাসিনোতে গোপনে খেলা হয়। এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ক্যাসিনোর বিষয়ে কোনো আইন নেই। তাই বেআইনিভাবে ক্যাসিনোগুলো চলছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু জুয়ার ব্যাপারে দেশে কোনো কার্যকর আইন নেই, তাই অতিদ্রুত এ ব্যাপারে একটি কঠোর আইন করা দরকার।’
ক্যাসিনো ও জুয়ার আইন নিয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনই ঊনবিংশ শতাব্দীতে করা। যে দেশ ওই আইনগুলো করেছিল, এখন সেখানেও ওই আইন খুঁজে পাওয়া যাবে না। আইনগুলো নিয়ে ব্যাপকভাবে চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জুয়া নিয়ে যে আইনটা রয়েছে, তার সাজা একেবারেই অপ্রতুল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অপরাধের দায়ে সাজা বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে, আইনটি জামিন অযোগ্যও হতে হবে। নয়তো অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে পরদিনই আবার জুয়া খেলবে।’
বর্তমানে জুয়া বা ক্যাসিনো বন্ধে যে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে, আইন সংশোধন না হলে সেই যুদ্ধে জয় লাভ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এ খেলার পর টাকা পাচার করা হচ্ছে, তাই মানিলন্ডারিং আইনে অনেক মামলা হচ্ছে বা তাদের বিচার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও করা হচ্ছে। আশা করি, তাদের বিচার মানিলন্ডারিং আইনে হওয়া দরকার।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘জুয়া নিয়ে দেশে বর্তমানে প্রচলিত আইনটি অনেক পুরনো, দেড়শ বছরেরও বেশি সময় আগে করা আইন। যখন আইনটি করা হয়েছিল, ক্যাসিনো কী, সেটা তখন কেউ জানতই না। তখন গ্রামের মেলা বা কোনো আসরে জুয়া খেলা হতো, সেই মাঠে বা আসরে খেলায় জড়িতদেরকে শাস্তি দেয়া হতো। এজন্য ওই আইনে সাজাও ছিল খুব কম।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রেক্ষাপট অনেক বদলে গেছে। এখন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলা হয়, সেখানে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। নানা ধরনের অপরাধ হয়। এজন্য প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আইনটি যুগোপযোগী করা দরকার।’
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্যাসিনো বা জুয়া সাধারণ মানুষের জন্য কোনো খেলা নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এজন্য দেশের ফাইভস্টার হোটেলগুলোতে অনুমতি দেয়া আছে। এর বাইরে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার কোনো নিয়ম নেই।’
তবে ক্যাসিনো বা জুয়া বন্ধে আইনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন এ আইনজীবী। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি তৎকালীন সময়ে অর্থাৎ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে জুয়া নিষিদ্ধ বা অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে আইনের কোনো প্রয়োজেন নাই। কারণ যেখানে জুয়া খেলা নিষেধ সেখানে আইনের প্রয়োজন পড়ে না। আর যে খেলা নিষেধ সেটি কীভাবে খেলে দেশের সাধারণ জুয়াড়িরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই এটি জানে। তারা জেনেও এসব অবৈধ জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই খতিয়ে দেখা দরকার এসবের সঙ্গে কারা কারা জড়িত।’
তিনি আরও বলেন, জুয়া নিয়ে নতুন আইন তখনই করা প্রয়োজন হবে যখন জুয়া খেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
‘দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগার ওপরে এসব হচ্ছে। তারা জানে কারা এসব করছে। এর সঙ্গে রাজনীতিবিদ, পুলিশ জড়িত। কে জড়িত না- সেটাই এখন খুঁজে বের করতে হবে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে’, যোগ করেন মনজিল মোরসেদ।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে প্রথম অভিযান চালায় র্যাব। এখানে জুয়া-ক্যাসিনো চালানোয় ক্লাবের কর্ণধার যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন মতিঝিলে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে জুয়া-ক্যাসিনোর বিপুল সরঞ্জাম, টাকা জব্দের পাশাপাশি ১৪২ জনকে আটক করা হয়।
যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রাপাচার আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া আটক অন্যদের ছয়মাস থেকে এক বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জুয়ার সামগ্রী জব্দ করে। একটি ক্লাবে মদ এবং এক লাখ টাকাও পাওয়া যায়। এসব ক্লাব থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাই কারও বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। তবে, জব্দ করা মালামাল ধ্বংস করতে এবং উদ্ধার হওয়া টাকা কোথায় জমা দেয়া হবে সে ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক এবং মানিলন্ডারিং আইনে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশ ট্রাফিক আইনে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সময়োপযোগী করেছে। জুয়া বা বাজির ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশে যে ধারা আছে সেটাও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।’
দেশে ক্যাসিনো নিয়ে চলমান ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে যে আইনশৃঙ্খলা নেই তা এখন চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়। তাদের (প্রশাসন) নাকের ডগার ওপরে এসব হচ্ছে। তারা জানে কারা এসব করছে।’
তিনি বলেন, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের ধরতে সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারের ভাবমূর্তি একেবারে তলানিতে চলে যাবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বিচারপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতা, যুবলীগ-ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা, যারা সরকার পরিচালনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এর সঙ্গে প্রশাসনের মধ্যে যাদের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, সেই পুলিশ বাহিনীও জড়িত। পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেও বক্তব্য আসছে যে, তাদেরকেও রীতিমতো মাসোহারা দেয়া হতো ক্যাসিনো চালানোর জন্য।’
তিনি বলেন, “ক্যাসিনো চালানো বাংলাদেশের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, দেশে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টিতে এটি আগেই ধরা পড়া উচিত ছিল। তারা এখন বলেন যে, ‘আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানতাম না’। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মনে করি, এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, খেলাধুলা একটি জাতিকে বিকশিত করে তোলে। বর্তমান সরকার খেলাধুলার প্রতি খুবই যত্নবান। প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন আজ সমৃদ্ধ।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ক্রীড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজটিতে আমি লেখাপড়া করেছি। এ কলেজটি না থাকলে আমার লেখাপড়া হতো কী না জানি না। আমি কলেজটির উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যেতে চাই।
মাটিভাঙ্গা উদয়ন ক্লাবের উদ্যোগে মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ সাহা ও শামীম হাসান রুনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী সাজ্জাদ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, গণপূর্তর নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বনাথ বনিক, উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোজী আক্তার প্রমুখ।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়োথ’ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ ভবনের ল্যাবুইসে হলে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রদত্ত এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
দেশের জনগণ বিশেষ করে দেশের সব শিশু এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদের প্রতি পুরস্কার উৎসর্গ করে এবং ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে দেশের সব শিশুর এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদেরই এ স্বীকৃতি প্রাপ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সম্মান আমার একার জন্য নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের। কেননা বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আমি তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগের জন্যই আমার এ পুরস্কার লাভ।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয় যেগুলোতে অতীতে তারা লেখাপড়া করেছেন সেগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার মনভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের লাখ লাখ তরুণ তাদের দক্ষতার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আমাদের জীবন এবং জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন সাধনে প্রচষ্টো চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই স্বীকৃতি বাংলাদেশে একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ এবং অর্থনীতি বিনির্মাণে দৃঢ় পদক্ষেপের পরিচায়ক।
স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত মেম্বার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজিহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার শামীম তালুকদার রাজিহার এলাকার বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়া ছাড়াও আরেকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শামীম তালুকদার। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়ার এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ইউপি সদস্য শামীম তালুকদারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর মা।
ওই মামলায় শামীমসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন পুলিশের ওসি খন্দকার আবুল খায়ের। বর্তমানে ওই মামলার বিচার চলছে।
পুলিশের চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে শামীম তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এরই মধ্যে গ্রামের লোকজনকে হয়রানিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে শামীমের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মারামারির মামলা করা হয়। ওই মামলায় শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।