Category: রাজণীতি

  • যুবকের হাত-পা বেঁধে মলমূত্র খাওয়ানো যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    যুবকের হাত-পা বেঁধে মলমূত্র খাওয়ানো যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    বরিশালের হিজলা উপজেলায় আজম ব্যাপারী (২৫) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার দুপুরে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার (৪৫) তার সহযোগী টুমচর এলাকার রশিদ মাতব্বর (৩৬) ও কবির হোসেন (৩৬)।

    তবে ঘটনার নেপথ্যে থাকা নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির খান ও মল-মূত্র খাওয়ানোর দৃশ্য ধারণকারী মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারী হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার মহিউদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম ব্যাপারী।

    স্থানীয়রা জানান, জহির খান ও আজম ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন।

    জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায়িক সমান অংশীদার হলেও জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।

    সম্প্রতি আজম এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসার লাভের টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। জহির এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজমকে শায়েস্তা করতে ফন্দি করেন। জহিরকে মারধর ও অপমান করতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইয়নিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী আটদিন আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন তারা। এরপর আজমের হাত-পা চেপে ধরেন মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা।

    এ সময় মাহবুব সিকদার বদনাভর্তি মল-মূত্র আজমের মুখে ঢেলে তা খাওয়ান। মল-মূত্র খাওয়ানোর ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

    সোমবার মল-মূত্র খাওয়ানোর ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেন তারা। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় আজম ব্যাপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান।

    সোমবার রাতে বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আসলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হিজলা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে হিজলা থানা পুলিশ অভিযানে নামে। দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মল-মূত্র খাওয়ানোর মূলহোতা যুবলীগ নেতা মাহবুব সিকদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আজম ব্যাপারীর স্বজনরা জানান, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। পুলিশের সঙ্গে তাদের ওঠা-বসা। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। এছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়ে বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আইন আদালতে গেলে আজমকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হবে।

    আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ কারণে আজমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে অবস্থান করা আজমের জন্য নিরাপদ ছিল না। জহির টাকা দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখন তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে এলাকায় নানা কথা রটাচ্ছে।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। যত বিরোধই থাকুক এভাবে কেউ কাউকে অপমানিত করতে পারে, ভাবা যায় না। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

  • আন্দোলনের নামে দেশ অস্থিতিশীল করা হচ্ছে: ছাত্রলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

    আন্দোলনের নামে দেশ অস্থিতিশীল করা হচ্ছে: ছাত্রলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    বুয়েটের আবরার হত্যার ঘটনায় সাংগঠনিক, আইনী, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন। এসময় আবরার হত্যার পর ছাত্রলীগের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়।

    ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, লক্ষ্য করেছি কিছু কুচক্রিমহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।

    জয় বলেন, এখন আন্দোলনের নামে দেশ অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগ থেকে অপরাধীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাঠে আছেন তারা। হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ছাত্রলীগ থেকে প্রশ্রয় দেয়া হয়নি।

    তিনি দাবি জানান, পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত সময় গ্রেফতার করা হোক। এ জন্য ছাত্রলীগের সাহায্য লাগলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুতবিচার আইনে নিয়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক।

    এসময় আবরার হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • শিক্ষিত দূর্নীতিবাজদের চেয়ে অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ভাল : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    শিক্ষিত দূর্নীতিবাজদের চেয়ে অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ভাল : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষিত দুর্নীতিবাজদের চেয়ে অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ভাল। আমি অন্যায় করিনা কাউকে কোন ধরনের অন্যায় করতে দেব না।

    এসময় মেয়র শিশুদের সহ আগত অভিভাবকদের বলেন এই নগরীতে আমি শিশুদের বিনোদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি আপনারা আমাকে কাজ করার সময় দেন।

    মেয়র আরো বলেন, আমাদের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন বরিশাল নগরীকে একটি শিশুবান্ধব নগরী করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি আমি শিশুদের সেই শিশুবান্ধব নগরী উপহার দেব।

    আজ বুধবার (০৯ অক্টোবর) অশ্বিনী কুমার টাউন হলে শিুশু অধিকার সপ্তাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

    বরিশাল জেলা প্রশাসন ও বরিশাল শিশু একাডেমির আয়োজনে সপ্তাহব্যপি বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে আযোজিত অনুষ্ঠানের দ্বীতিয় দিনে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার), বরিশাল ইউনিসেফ পরিচালক এস.এম তৌফিক এলাহী, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ রায় চৌধুরী।

    এসময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি কাজল ঘোষ, সাবেক সভাপতি এ্যাড. এস.এম ইকবাল ও নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ দুলাল।

    পড়ে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র দর্শক সারিতে বসে শিশুদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্য উপভোগ করে এসময় তিনি বেশ কিছু শিশুদের কাছে টেনে নিয়ে আনন্দে-উৎসবে মেতে উঠেন।

  • নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না বরিশালবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু!

    নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না বরিশালবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু!

    অনলাইন ডেস্ক ::

    পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় চলতি বছরের ডিসেম্বর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ কোনোভাবেই শেষ করা যাচ্ছে না। তাই আরও দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। সেখানে সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। সে অনুযায়ী সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও বৈঠক করার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি চালু হলে ১০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে বিশাল পদ্মা নদী। আর সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, এতে গাড়ি চলার কথা ২০২১ সালের জুনে। সেতু নির্মাণে সর্বশেষ সংশোধিত ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রথমে ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন ধরা হয়েছিল মেয়াদ। এর পর দুই দফা মেয়াদ বাড়ে। এবার তৃতীয় দফায় বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

    এ বিষয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। তাই ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে কিছু যৌক্তিক কারণে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

    জানা গেছে, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে-এমন ঘোষণা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাতেও কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় আবারও মেয়াদ বাড়াতে হবে। প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়ার যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে চার কারণ। এর মধ্যে নদীর তলদেশে মাটির স্তর নরম হওয়াকে সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথম কারণ হিসেবে দাবি করা হয়।

    এতে বলা হয়, মূল নদীর ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইল নতুন করে ডিজাইন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পিয়ারের জন্য বাড়ানো হয় একটি করে পাইল। একই কারণে আরও আটটি পিয়ারের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজও স্থগিত করতে হয়েছিল। যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও এরই মধ্যে সবকটি পাইলের ডিজাইন সংশোধন করে নির্মাণ নকশা (কনস্ট্রাকশন ড্রয়িং) ঠিকাদারকে সরবরাহ করা হয়েছে।

    তাছাড়া সেতুর মূল অংশে সাতটি মডিউলে (নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পরিমাণের একক) ৪১টি স্টিল ট্রাসের (সেতু ধরে রাখার কাঠামো) স্প্যান থাকে। প্রতিটি স্টিল ট্রাসের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। সেতুর কিছু অংশ সোজা, অনুভূমিক ও খাড়াভাবে বাঁক থাকায় স্টিল ট্রাসগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে স্থাপন করতে হয়। ঠিকাদারের দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সেগুলো তৈরি করা হয় চীনে। আগের সিকোয়েন্স তথা ক্রমানুসারে মাওয়া সাইটে এনে এগুলোর সংযোজনও করা হচ্ছিল। কিন্তু ওই ২২টি পিয়ারের পাইলের নির্মাণ নকশা ঠিকাদারকে দিতে দেরি হওয়ায় সিকোয়েন্স অনুযায়ী স্টিল ট্রাস স্থাপন বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে রেলওয়ে ডেক ও রোডওয়ে ডেক স্থাপনের কাজও দেরিতে শুরু করতে হয়েছে। অবশ্য বর্তমানে রেল ও রোড ডেক স্থাপনের কাজ চলমান।

    আবার পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে নদী শাসনকাজে ঠিকাদারের গাফিলতি ছিল শুরু থেকেই। সময়মতো কাজ করতে সিনোহাইড্রো নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কয়েকবার তাগিদ দেওয়া হলেও খুব একটা লাভ হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, জাজিরা প্রান্তে নদীশাসনের ১১০০ মিটার ট্রায়াল সেকশনের (পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পর্ব) কাজ নির্ধারিত সময়ে সারতে পারেনি ঠিকাদার। সন্তোষজনকভাবে তা শেষ করতে বাড়তি দেড় বছর সময় নেয় তারা। এর ফলে মূল কাজে দেরি হচ্ছে। অথচ ট্রায়াল সেকশনের কাজ শেষে অবশিষ্ট কাজ একই ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মানে নির্মাণের কথা।

    পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দেরির আরেকটি কারণ-২০১৫ সালে মাওয়া প্রান্তে বর্ষা মৌসুমে দুটি বড় গর্তের সৃষ্টি। প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ঘন মিটারের দুটি স্কোর হোলের সৃষ্টি হয় সে সময়। ফলে সেতু নির্মাণের পরীক্ষামূলক কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তখন জরুরি ভিত্তিতে ডিজাইন করতে হয়। সে অনুযায়ী ৬০ কেজি রাইস ব্যাগ এবং ১২৫ ও ৮০০ কেজি জিওব্যাগ দিয়ে ভরাট করতে হয় গর্ত দুটি। এ কাজে অতিরিক্ত ছয় মাস লেগে যায়। আর এখন পর্যন্ত নদীশাসনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৩ ভাগ।

  • বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, দেশে উৎপাদিত বোতলজাত এলপিজি গ্যাস রফতানি করছে। যে বিএনপি-জামায়াত গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারা গ্যাস বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে হইচই করছে।

    সম্প্রতি ভারত সফর উপলক্ষে বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারতে রফতানি করছে। এক সময় হাতে গোনা দু-একটি কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসা করতো, বর্তমানে তা ওপেন করে দেয়ায় ২৬টি কোম্পানি প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করছে। তাই ১০ থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতো, সেখানে এখন ৯০০ টাকায় বিক্রি করছে।

    এলপিজি গ্যাস বাংলাদেশের রফতানি আইটেমে নতুন যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বিদেশ সফর থেকে ফিরে প্রতিবারই সংবাদ সম্মেলন করেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। প্রতিবারই সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

    এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ অংশ নিতে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লি সফর করেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভিন্নমত

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভিন্নমত

    গত ৭ অক্টোবর বরিশাল নগরীর কলেজ রো, এলাকায় প্লান বর্হিভূত একটি নির্মানাধীন দালানের বর্ধিত অংশ উচ্ছেদ করতে গেলে ওই দালানের মালিক এস.এম জাকির হোসেনসহ তার পক্ষের কতিপয় লোকজন বিসিসির কর্মীদের কাজে বাঁধাদানসহ হামলা চালিয়ে দুইজনকে আহত করে।

    এখবর পেয়ে বিসিসির কর্মচারীরা সেখানে জড়ো হয়ে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। পরিস্থিতি যাতে অস্বাভাবিক না হতে পারে তার জন্য কর্পোরেশনের দুই প্যানেল মেয়রসহ বেশীরভাগ কাউন্সিলর সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্ঠা করে। পরে বিসিসির মেয়র জনাব সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল­াহর হস্তক্ষেপে কর্মচারীরা শান্ত হয়ে কাউন্সিলরদের সাথে ওই স্থান ত্যাগ করে। যা ওই সময়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীরাও অবলোকন করেছেন।

    কিন্তু ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার ওই দিনের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গুটি কয়েক পত্রিকা ও দু’একটি অনলাইন আসল ঘটনা পাশ কাটিয়ে কল্প কাহিনী তৈরী করে নিজেদের মনগড়া তথ্য দিতে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রায় একই ধরনের ওই সকল সংবাদে ২১নং ওয়ার্ডের সম্নানিত কাউন্সিলর সাঈদ আহম্মেদ মান্নাকে জড়িয়ে যেসকল মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করেছে তা কর্পোরেশনের সকলকে ব্যথিত করেছে।

    আমরা এধরনের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাই। এবং ভবিষ্যতে এধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

    আমরা মনে করি একটি মহল তাদের সূদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিসিসির একটি বৈধ অভিযানকে নসাৎ করতে পূর্ব থেকে নেয়া তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি কাজে বাঁধাদান, কর্মীদের মারধর ও একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা রটাচ্ছে।

    এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্য হচ্ছে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারো দলীয় পরিচয় কিংবা কে কতো বড় প্রভাবশালী তা বিবেচনা করা হবেনা। নগরবাসীকে কোন বিভ্রান্তকর তথ্যে বিচলিত না হওয়ার আহবান জানিয়ে বিসিসি কর্তৃপক্ষ একটি সুন্দর আগামীর বরিশাল গড়তে পূর্বের ন্যায় সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছে।

    এবং সকলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছে বিসিসি কোন অন্যায় ও অনিয়মের সাথে কখনো আপোষ করবেনা।

  • ‘ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না, শাস্তি পেতেই হবে’

    ‘ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না, শাস্তি পেতেই হবে’

    অনলাইন ডেস্ক:

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় যে বা যারা সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নেতাদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৷

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, শাস্তি পেতেই হবে। জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি।

    এসময় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    বুয়েটের হত্যাকাণ্ডসহ সার্বিক বিষয়ে বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করবে ছাত্রলীগ ৷ প্রধানমন্ত্রীই ছাত্রলীগকে সংবাদ সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন৷

    প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈঠক করেন।

    বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র আরও জানায়, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কাদের নির্দেশে এটা হয়েছে, সব খুঁজে বের করা হবে। খবরটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে।

    এছাড়া ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনার একদিন পর বুয়েটের উপাচার্যের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলন, উনি কেমন ভিসি? একটা ছাত্র মারা গেল, আর এতোটা সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন!

    বুয়েটের এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • আমি মেয়র হবার পিছনে ৫০ ভাগ কৃতিত্ব সাংবাদিকদের : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    আমি মেয়র হবার পিছনে ৫০ ভাগ কৃতিত্ব সাংবাদিকদের : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়নুর রহমান সফেন:

     বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, আমার বর্তমান অবস্থা অর্থাৎ মেয়র অথবা নেতা হওয়ার পিছনে ৫০ ভাগ কৃতিত্ব সাংবাদিকদের। সকল সাংবাদিকরাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন, মেয়র অথবা নেতা হওয়ার জন্য। আমি ভাল কাজ করলে সাংবাদিকরা সুন্দর করে সবাইকে জানিয়ে দেন আবার আমি ভুল করলেও তাদের লেখনীর মাধ্যমে আমাকে সতর্ক করেন। আমি মেয়র হবার পিছনে সাংবাদিকদের ৫০ ভাগ কৃতিত্ব¡ আছে এটা আমি স্বীকার করি এবং ভবিষ্যতেও করবো।

    মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অ্যানেক্স ভবনের ৪র্থ তলার সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদরাই দেশ ও সমাজ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। আমি বলবো আপনারা আমার কাজে সহযোগিতা করুন। আমার ভাল কাজে উৎসাহ ও মন্দকাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

    সাদিক বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবেনা। নগরবাসীকে কোন বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিচলিত না হওয়ার আহবান জানান। একটি সুন্দর আগামীর বরিশাল গড়তে পূর্বের ন্যায় সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

    এসময় সকলের জ্ঞাতার্থে তিনি একটি বার্তা জানিয়ে দেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কোন অন্যায় ও অনিয়মের সাথে কখনো আপোষ করবেনা।

    মতবিনিয়ম সভায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ বরিশালের সর্বস্তরের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

    নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

    নিউইয়র্ক ও ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সফলতা ও অভিজ্ঞতা জানাতে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে তার এ সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

    বিদেশ সফর থেকে ফিরে প্রতিবারই সংবাদ সম্মেলন করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। প্রতিবারই সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

    এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইর্য়ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ অংশ নিতে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নয়াদিল্লি সফর করেন। এসময় দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

  • বরিশালে তেল ব্যবসায়ীকে মারধর করে মলমূত্র খাওয়ালো যুবলীগ নেতা! (ভিডিও)

    বরিশালে তেল ব্যবসায়ীকে মারধর করে মলমূত্র খাওয়ালো যুবলীগ নেতা! (ভিডিও)

    নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের হিজলায় এক তেল ব্যবসায়ী যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পরে মুখে মলমূত্র ঢেলে দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

    ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড এর ওই ভিডিওটিতে দেখা যায় যুবকটির পেছন থেকে হাত-পা বেঁধে বুকের ওপর পা চেপে ধরে মলমূত্র খাওয়ানো হচ্ছে। যুবকটি অনেক চেষ্টা করেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

    হিজলার হরিনাথপুর তালতলা জামে মসজিদ রোড নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে।

    যা নিয়ে গত ক’দিন ধরেই পুরো হিজলা উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে এ ধরনের কোন ঘটনা ইতিপূর্বে জানা ছিলো না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে জানাগেছে, তিনি হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন টমুচরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে আজম বেপারী (২৫)। সে হরিনাথপুর লঞ্চঘাটের জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী।

    এছাড়া তাকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন- একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে ও হরিনাথপুর লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মাহবুব সিকদার। তার নেতৃত্বেই যুবককে নির্যাতন ও মল-মুত্র খাওয়ানোর ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে।

    তাছাড়া ঘটনার পর থেকেই আজম বেপারী নামের ওই যুবকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও তার পরিবারের দাবি আজম ঘটনার পরে তাবলিক জামায়াতে গেছে। তবে এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘আজম বেপারীকে হাত-পা বেধে ‍রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। তার চার দিক ঘিরে দাড়িয়ে আছে ৭-৮ জন লোক। এর মধ্যে একজন আজমের বুকের ওপর পা দিয়ে দাড়িয়ে আছে। এছাড়া অপর একজন ব্যক্তি আজমের পা এবং অন্য একজন ব্যক্তি তার মাথা মাটির সাথে চেপে ধরে আছে

    একটু পরেই বুকের ওপর পা দিয়ে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তি মলমূত্র নিয়ে তা জোর করে আজমের মুখে ঢালার চেষ্টা করছেন। তখন আজম অনেক অনুনয় বিনয় এবং ধস্তাধস্তি করেও তাদের থেকে রক্ষা পায়নি। এসময় পাশে দাড়িয়ে কিছু লোক ওই ঘটনা উপভোগ করলেও কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। আর পুরো ঘটনাটি পাশ থেকে দাড়িয়ে কেউ একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে।

    স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ঝাক-ফুকের কাজ করে বলে অপবাদ দিয়ে আজম নামের ওই তেল ব্যবসায়ী যুবকে এমন মধ্য যুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে মাহবুব ও তার লোকজন। এমনকি ঘটনার পরে ওই যুবক লোক লজ্জায় মোবাইল ফোন বন্ধ করে তাবলিগ জামায়াতে চলে যায়। তবে সে কোথায় আছে সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

    এদিকে অভিযোগ উঠেছে খবর পেয়ে হিজলার হরিনাথপুর শাওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক তারেক আহসান রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তিনি ঘটনাটি এড়িয়ে যান।

    তবে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক তারেক আহসান রাসেল এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। পরে অবশ্য বলেন, ‘আমি রাতেই (সোমবার) ঘটনাটি শুনেছি। তবে ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি আমার জানা নেই। সেটি এখনো আমার হাতে এসে পৌছায়নি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। রাতেই স্থানীয়দের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমার কাছে খবর আসে। তবে এখন পর্যন্ত ভিডিওটি দেখিনি। থানা পুলিশকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।