Category: রাজণীতি

  • সাংবাদিক মানবেন্দ্রের শয্যা পাশে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    সাংবাদিক মানবেন্দ্রের শয্যা পাশে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

    শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অসুস্থ এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যালকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ঢাকার মোহাম্মদপুর আল-মানার হাসপাতালে দেখতে যান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম।

    এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মানবেন্দ্র বটব্যালের শয্যাপাশে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিক মানবেন্দ্র বটব্যালের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি সু-চিকিৎসার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন।

    তিনি নিয়মিত সিনিয়র সাংবাদিক অসুস্থ মানবেন্দ্র বটব্যালের খোঁজ খবর রাখছেন। গত রোববার ঐ হাসপাতালে সাংবাদিক মানবেন্দ্রর মুখের মধ্যে থাকা একটি টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি বর্তমানে অনেকটা সুস্থ রয়েছেন।

  • বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর নগরীর জেলখানা মোড়ে রোড ডিভাইডার এর কাজ পরিদর্শন

    বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর নগরীর জেলখানা মোড়ে রোড ডিভাইডার এর কাজ পরিদর্শন

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল নগরীর জেলখানা মোড়ে রোড ডিভাইডার এর কাজ পরিদর্শন করেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র হিসেবে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দয়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বরিশাল নগরীর রুপ অনেক পরিবর্তন এসেছে। উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে । সুন্দর একটি শহরে পরিনত হচ্ছে।

    আর এ সব কিছুর পিছনে যার অবদান রয়েছে তিনি হলেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বরিশাল নগরীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জেলখানা মোড়ে রোড ডিভাইডার বসানো হচ্ছে।

    ব্যস্ততার মাঝেও গতকাল বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল নগরীর জেলখানা মোড়ে রোড ডিভাইডার এর কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি, কিভাবে হবে, কোন দিক থেকে হবে তার দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

  • নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।ব্যস্ত তম নগরী বরিশাল। উন্নয়নের ধারা বইতে শুরু করেছে।

    আর এই উন্নয়নের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একজন ব্যক্তি। তিনি হলেন, বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সব দিকে খেয়াল রাখেন। তাই গতকাল ২৬ জুন বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বিসিসি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • দেশের ১০ জেলায় নেই জাতীয় মহাসড়ক

    দেশের ১০ জেলায় নেই জাতীয় মহাসড়ক

    সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের ১০টি জেলায় কোনো জাতীয় মহাসড়ক নেই। সেগুলো হলো, শরীয়তপুর, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, খাড়গাছড়ি, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, বরগুনা ও পিরোজপুর।

    বুধবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শহীদুজ্জামান সরকারের (নওগাঁ-২) প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

    এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়।
    এসময় তিনি আরও বলেন, সড়ক ও জনপথের আওতাধীন মোট সড়কের পরিমাণ ২১৫৯৫.৪৯৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৩৯০৬.০৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪৪৮২.৫৪০ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৩২০৬.৯২৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে সব থেকে বেশি জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এর দৈর্ঘ্য ২২০.৪৮০ কিলোমিটার।

    অন্যদিকে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর (সুনামগঞ্জ-৪) প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা রোধে ৩৮২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের হার নেই বললেই চলে। ৩৯৪ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে একস্তর নিচু পৃথক স্তরসহ চার লেনের কাজ চলমান রয়েছে। ১২১টি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে যথাক্রমে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ ও ৬০ কিলোমিটার। হাইওয়ে পুলিশ স্পিড ডিটেক্টরের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দূরপাল্লার গাড়ি চালকের একটানা ৫ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন ও ফিটনেসবিহীন ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

    নাটোর-২ আসনের শফিকুল ইসলাম শিমুলের (নাটোর-২) প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশের এক হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়ক ধীর গতির যানবাহন চলাচলের জন্য উভয় দিকে সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা রেখে চার লেনে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • এবার নয়ন বন্ড প্রসঙ্গে যা বললেন এমপি শম্ভু

    এবার নয়ন বন্ড প্রসঙ্গে যা বললেন এমপি শম্ভু

    বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান।

    বরগুনার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামী (নয়ন) আমার এলাকার ছেলে, তবে সে এত বড় মাদক কারবারী তা আমার জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। স্ত্রীর সামনে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ড যারা প্রকাশ্যে দিবা লোকে ঘটিয়েছেন তাদের বিষয়ে বুধবার (২৬ জুন) রাতে দেশের একটি বেসরকারি টেলিভশনের সাথে ফোনাআলাপে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভূ।

    স্থানীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, সে (নয়ন) আমার এলাকারই ছেলে। সে যে এমন নারকীয় ঘটনা ঘটাতে পারে তা আমি কল্পনাও করতে পাচ্ছি না। যুব সমাজ হঠাৎ করে কিভাবে এমন বর্বর হয়ে যাচ্ছে আপনাদের মত আমারও প্রশ্ন। সে যে মাদক ব্যবসা করে তা আমি জানতাম না। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে একথাও বলেন তিনি। এই অপরাধের শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

    সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, পুলিশ বলছে নয়নের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে। সে ওই এলাকার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র এতো বড় একটা যুদ্ধ ঘোষণা করছে অথচ আপনার এলাকায় এতো বড় এক মাদক ব্যবসায়ী কেমনে রয়ে গেল এবং সে লোহমর্ষক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলো। আর আপনি কিছুই জানলেন না, কী করে তা সম্ভব?

    অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মিথিলা ফারজানাও সংসদ সদস্যকে একই প্রশ্ন করেন, কারা মাদক ব্যবসায়ী একথা যদি নাই বা জানা যায় তাহলে সারাদেশে এ রকম যেসব মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স কীভাবে বাস্তবায়ন করবে?

    এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পুলিশের ওপর দোষারোপ করে বলেন, আমি খুব আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি, বরগুনার মত ছোট্ট শহরে কী করে এত বড় একজন অপরাধী ঘুরে বেড়ায়? নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে পুলিশের আরো বেশি তৎপর হওয়া উচিত ছিল। এখানে পুলিশ প্রশাসনের গাফলতি দৃশ্যমান বলেই জানান তিনি।

    এমন নারকীয় ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে এলাকায় যাবেন কিনা জানতে চাইলে শম্ভু জানান, পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ আছে বলে আজ তিনি যেতে পারবেন না। তবে আগামীকাল নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবা লোকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ডরহীন ভাবে এলাকা ত্যাগ করে। এসময় আশপাশে অসংখ্য লোক তাদের এই নৃশংসতা চর্ম চক্ষু দিয়ে দেখেছে, কেউ আসেনি বলে জানান নিহতের স্ত্রী মিন্নি। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এই হামলার ভিডিওচিত্র ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশেবাসী ক্ষোভে ফুঁসছে এমন লোহমর্ষক ঘটনায়। নিহত রিফাত শরীফ সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে।

  • প্রধানমন্ত্রীও দেখেছেন সেই ভিডিও!

    প্রধানমন্ত্রীও দেখেছেন সেই ভিডিও!

    বরগুনায় প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফকে হত্যাকারীদের যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।

    গতকালকের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এটা কি বলা যায়? এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

    গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীও হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি দেখেন। তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তার পাশে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করেন, মানুষ এতটা পশু হয় কিভাবে! তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি তখন বলেন আমি যত দ্রুত সম্ভব এদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় দেখতে চাই।

    স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্বামী রিফাত শরীফকে। বুধবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে বের হন রিফাত। বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এলে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড এবং তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর ছেলে রিফাত ফরাজী। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

    চোখের সামনে স্বামীকে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন মিন্নি। বললেন, আমার চোখের সামনেই আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা। অনেক চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি আমি।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার নিজ বাড়িতে বসে জাগো নিউজকে স্বামী হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

    আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, সকাল ৯টার দিকে স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা কলেজে আসি আমি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে পৌঁছালে বেশ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করে তারা। এর মধ্যেই চাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী।

    মিন্নি বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফারজী। এরপরই রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। আমি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই তাদের থামাতে পারিনি। রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

    মিন্নি আরও বলেন, ভিডিওতে যাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মূলত তারাই প্রথমে রিফাত শরীফ ও আমার পথ আটকে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে তিন-চারজন রিফাত শরীফকে মারতে শুরু করেছিল। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করলে তারা পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছিল। এরপর আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেও রিফাত শরীফকে বাঁচাতে পারিনি।

    এদিকে, রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা দুলাল শরীফ। এ মামলার ৪নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

    প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

  • বিচারহীনতার কারণে বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা: নজরুল ইসলাম

    বিচারহীনতার কারণে বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা: নজরুল ইসলাম

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিচারহীনতার কারণে বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা করেছে। যা মেনে নেয়া যায় না। দেশে দারুণ দু:সময় অতিক্রম করছে। মানুষ বিচার পায় না। দিনে দুপুরে মানুষ হত্যা করে, বিচার হয় না। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।  নজরুল ইসলাম খান বলেন, ফালতু মামলার জামিন না দিয়ে জোড় করে কারাগারে আটকে রেখেছেন খালেদা জিয়াকে।
    ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। ভোট চুরির বিজয়ী উল্লাস করে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের জনগণ স্বৈরশাসন দীর্ঘদিন মানে নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার লড়াই এক সঙ্গে চলবে। এসময় তিনি বলেন, বাজেট করের বোঝা মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বাজেট প্রত্যাহারের দাবী জানাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

  • নিয়োগ বানিজ্য, থানায় খবরদারি বন্ধসহ এমপিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ নিষেধাজ্ঞা!

    নিয়োগ বানিজ্য, থানায় খবরদারি বন্ধসহ এমপিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ নিষেধাজ্ঞা!

    মন্ত্রিসভা গঠনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মন্ত্রীদের জন্য কোনও ছাড় নেই, নজরদারিতে আছেন সবাই। এবার সে তালিকায় যোগ হলেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্দেশ্যে এরইমধ্যে তিনি সকল সংসদ সদস্যদের জন্য দিয়েছেন ১০টি নিষেধাজ্ঞা।

    জানা গেছে, একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপিদের সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাদের জন্য ১০টি বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এসব নির্দেশ না মানলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞাগুলো হলো-

    (১) নিয়োগ বাণিজ্য: পূর্বেকার এমপিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বহুবার। নতুন সরকারের আমলে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। নিয়োগের ব্যাপারে এমপিদের পক্ষ থেকে কোন ডিও লেটার দেয়া যাবে না। যদি কেউ দেয় তাহলে সেই প্রার্থীকেই অযোগ্য বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    (২) উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ: অভিযোগ আছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রায় সময়ই অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন স্থানীয় এমপিরা। একনেকের সভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুটিকয়েক নেতার সুবিধার জন্য কোন উন্নয়ন পরিকল্পনার মাস্টারপ্ল্যানে পরিবর্তন করা হবে না।

    (৩) থানায় খবরদারি: দেখা যায়, এমপিরা নিজ এলাকায় থানার উপর খবরদারি করেন এবং বিভিন্ন মামলার আসামি ও জামিনে হস্তক্ষেপ করেন। এতে হয়রানির শিকার হন অনেকেই। এবার এ ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

    (৪) বিভিন্ন ভাতার অর্থ: বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন রকম সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ ও সহায়তা অনেক সময় এমপিদের হস্তক্ষেপের কারণে সঠিক লোকের কাছে যায় না। প্রকৃত দরিদ্র, বিধবা বা বয়স্ককে না দিয়ে টাকা এমপিদের পছন্দের লোকদের দেয়া হয়। এর ফলে এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের বদনাম হয় এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এসব যেন না হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পক্ষপাতহীনভাবে বিষয়টি তদারকি নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

    (৫) টেন্ডারে হস্তক্ষেপ: স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডার বা সরকারী কোনো কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না এমপিরা। কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    (৬) স্বজনপ্রীতি ও দলীয় কোন্দল: দেখা গেছে, এমপিরা যখনই নির্বাচিত হন, তখনই নিজেদের একটি বলয় তৈরি করার চেষ্টা করেন এবং স্বজনপ্রীতি দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নজর রাখছেন। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    (৭) প্রশাসনে রদবদলে সুপারিশ: গত ১০ বছরে দেখা গেছে, এমপিরা তাদের পছন্দমতো স্থানীয় প্রশাসন ঢেলে সাজান এবং এর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা পুলিশ সদর দপ্তরে তদবিরও করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসপি বা ওসি পদে এমপিরা সবসময় তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসাতে চান। এবার এটি সম্পূর্ণ রূপে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় প্রশাসনে নিয়োগ হবে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।

    (৮) মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক: চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা যে মূল লক্ষ্যগুলো স্থির করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। যেটা দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তেই শুরু হয়েছিল। স্থানীয় কোন এমপি যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কোন সম্পর্ক বা পৃষ্ঠপোষকতা না করেন সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    (৯) ভিন্ন দলের লোক ভেড়ানো: বিগত সময়ে বিশেষ করে ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন দল থেকে বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিজেদের দলের ভেড়ানোয় মেতে উঠেছিলেন এমপিরা। এবার নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের পর সংসদীয় প্রথম বৈঠকেই তিনি এ ব্যাপারে এমপিদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

    (১০) ক্ষমতার জোরে ব্যবসা: অনেকে এমপি হওয়ার পর তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে নানা রকম ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ও সেগুলোর প্রসার ঘটান। ব্যবসায় বাণিজ্য করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু এমন কিছু করা যাবে না যাতে করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। যে কাজের জন্য যোগ্য নয়, সে কাজ যেন কোন এমপি না পান, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

  • প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন ১ জুলাই

    প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন ১ জুলাই

    প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন বৈঠকেও যোগ দেবেন তিনি।

    আগামী ১ জুলাই, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের বিজি-১৭২০ বিশেষ ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

    স্থানীয় সময় মধ্য রাতে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান ঝোউশুইঝি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। সেখানে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংগ্রি-লা হোটেলে বিশ্রাম নেবেন শেখ হাসিনা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা জয়, সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী সফরের দ্বিতীয় দিন ২ জুলাই, মঙ্গলবার সকালে ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    স্থানীয় সময় বিকেলে শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করবেন ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াব।

    পরে, ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কোঅপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ৩ জুলাই, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে চীন সরকারের বিশেষ বিমানে ডালিয়ান থেকে বেইজিং যাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেইজিংয়ে ডিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউজে নেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীকে। সফরকালে সেখানেই অবস্থান করবেন শেখ হাসিনা।

    ৪জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুরে চীনের প্রধানমন্ত্রী কেছিয়াং-এর এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

    দুপুরে চীনা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এ দিন বিকেলে চীনের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ৫ জুলাই, শুক্রবার বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে চীনা প্রেসিডেন্টের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

    ৬ জুলাই, শনিবার  প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

  • অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ মুলাদী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে!

    অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ মুলাদী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে!

    বরিশালের মুলাদীতে ৪টি ইউনিয়নের অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে। গঠনতন্ত্র নিয়ম না মেনে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের মাধ্যমে কোন সম্মেলন বা পূর্ব ঘোষণা না দিয়েই এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন ছাত্রদল নেতা! ফলে ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় পুরো উপজেলায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    সূত্র জানায়, এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অনুপ্রবেশকারী অছাত্র এবং ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের। এ নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ¦লছে ওই চারটি ইউনিয়নের তৃনমুল নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তারা হস্তক্ষেপ কামনা করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের। এদিকে বিতর্কিত কমিটি নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের রোশানল এড়াতে গাঢাকা দিয়ে আছেন উপজেলার নেতারা। এমনকি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তাদের মোবাইল নম্বরও। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। কেউ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত মঙ্গলবার মুলাদী উপজেলার শফিপুর, নাজিরপুর, চার কালেখা ও গাছুয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে গত ২৪ জুন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ স্বাক্ষরিত শফিপুর ও নাজিরপুর ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা করা হয়। এ কমিটি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই পদবঞ্ছিত নেতা ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিরাজ করে চাপা ক্ষোভ।

    নাজিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বঞ্চিত নেতারা বলেন, চার বছর পূর্বে এই ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে বহুবার সম্মেলন করতে উপজেলা ছাত্রলীগকে তাগিদ দেয়া হয়। কিন্তু তারা সম্মেলনের বিষয়ে কোন সহযোগিতা করেনি। হঠাৎ করেই ২৪ জুন গোপনে ইউনিয়নের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এ কমিটিতে যে ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি ঢাকায় থাকেন। তাছাড়া নতুন কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তার মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী, অছাত্র এবং মাদকাসক্ত।

    অপরদিকে সফিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ গোপনিয়ভাবে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছে। এই ইউনিয়নে গঠন করা ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির বেশিরভাগ অছাত্র এবং অনুপ্রবেশকারী। বিশেষ করে যাকে আরিফ হোসেন মুন্সি নামে যাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে সে ছিলো ছাত্রদল নেতা। গেলো ঈদেও সে সফিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হিসেবে নিজের ছবি সহ শুভেচ্ছা ব্যানার টানিয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। মাত্র ক’দিনের ব্যবধানে ছাত্রদলের সেই নেতাকে ছাত্রলীগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান ইমাম বলেন, চারটি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এরই মধ্যে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটির বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই। শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত এই কমিটি ঘোষণা করেছে।

    তিনি বলেন, সভাপতি ও সম্পাদক সহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি। কিন্তু সভাপতি-সম্পাদক বাদে কমিটির বাকি পাঁচ জন উপেক্ষিত। কমিটি গঠনের পরে আজ পর্যন্ত সভাপতি-সম্পাদক আমাদের নিয়ে এক সাথে বসে কোন আলোচনা বা পরামর্শ করেনি। এমনকি যে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সে বিষয়েও ডাকাতো দূরের কথা কোন পরামর্শেরও প্রয়োজন মনে করেনি।

    মূলতঃ আমরা উপজেলা ছাত্রলীগে আমাদের পদ থাকলেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা দু’একদিনের মধ্যের বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। পরে যারা আমাদের অভিভাবক তাদের কাছে যাব। যাতে ইউনিয়ন লীগের অবৈধ কমিটি বাতিল ও ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা অপর দুটি ইউনিয়নের কমিটি যাতে না হয় সে জন্য। আমাদের স্বাক্ষর দেয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু নূন্যতম মূল্যায়ন পেতে চাই। কেননা আমাদের কর্মী সমর্থক রয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুলাদীর ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। তাছাড়া অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান খান মিঠু বলেন, দুটি ইউনিয়নে কমিটি গঠন হয়েছে শুনেছি। তবে বিষয়ে আমার বিস্তারিত কিছু জানা নেই। সেরকম করে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তাই খোঁজ নেয়ার চেষ্টাও করিনি।