Category: রাজণীতি

  • আবেদন করলে এমপিদের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে : গণপূর্তমন্ত্রী

    আবেদন করলে এমপিদের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে : গণপূর্তমন্ত্রী

    গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রোজাউল করিম সংসদে জানিয়েছেন, রাজউকের আওতাধীন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ফ্ল্যাট প্রকল্পে ‘এ‘ ব্লকে ১৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের কিছু ফ্ল্যাট অবরাদ্দকৃত অবস্থায় আছে। সংসদ সদস্যরা ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন করলে তাদের সবাইকে ওই প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবারের বৈঠকে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা এমপি হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের (নওগাঁ-৬) প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, বনানীর এফ আর টাওয়ার অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হয়নি। ওই ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • নড়বড়ে ও পুরনো সেতু দ্রুত মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    নড়বড়ে ও পুরনো সেতু দ্রুত মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    নড়বড়ে ও পুরনো সেতুগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

    রবিবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় চারজন নিহতসহ আহত হন শতাধিক যাত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনেকে বলা বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আরেকটি কথা খুব জরুরি এসেছে একনেক সভায়। একটি ঘটনা হলো রেলের। আমরা অভিনন্দন জানিয়েছিল রেলমন্ত্রীকে, দ্রুত তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। তার কাছে বহু টেলিফোন আসতেছে মানুষের কাছ থেকে। ইতিমধ্যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী রেল এবং সড়ককে সকল সেতুতে সার্ভে করতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইমিডিয়েটলি নেমে পড়েন। যেগুলো নড়বড়ে, পুরনো– এগুলো তাড়াতাড়ি মেরামতের ব্যবস্থা করেন। আসন্ন বর্ষার আগেই যেগুলো মেরামত করার, করেন। কারণ বর্ষা আরম্ভ হলে বৃষ্টি পড়বে এবং ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়বে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

  • পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার চক্রান্ত মমতা সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

    পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার চক্রান্ত মমতা সরকারের, অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে রাজ্যটিকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ তৈরির করার চক্রান্ত করা হচ্ছে এবং আর এই চক্রান্ত করছে মমতা ব্যনার্জির রাজ্য সরকার।

    মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় ‘মোশন অফ থ্যাঙ্কস’ পর্বে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রথমবারের এই সংসদ সদস্য।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দেশের সর্বত্র এক আইন হয়। কিন্তু আপনারা পশ্চিমবঙ্গে যেতে গেলে সেখানে বাংলা শিখে আসতে হবে। এখন মাননীয় সাংসদ হেমা মালিনী যদি গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নানে যেতে চান, তবে তাকে বাংলা শিখতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হেলিকপ্টার পশ্চিমবঙ্গে যেতে চাইলে তাদেরকে নামার অনুমতি দেওয়া হয় না।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন যে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওঁকে ধন্যবাদ। কোন বাংলা ভাষী প্রধানমন্ত্রী হলে আমরাও বাংলায় কথা বলতো পারবো। কিন্তু ৪২ আসনে জিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। এজন্য উনি ঠিক করেছেন যে বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গকে মিশিয়ে একটা দেশ তৈরি হলে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন এবং তিনি নিশ্চিতভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এজন্য সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ওদের কাছে জনপ্রিয় নেতা না থাকায় প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ থেকে অভিনেতা নিয়ে এসেছেন। ওনারা কেউ বহিরাগত নয়। ওই দেশ (বাংলাদেশ) থেকে অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা-যেই আসুক না কেন তারা বহিরাগত নয়। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ এ রাজ্যে আসলেই তারা বহিরাগত। আপনারা বাংলায় যেতে পারবেন না, সেখানে আপনাদের অনুমতি নেই। এজন্য আমরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান বলি। এটা কোন ধার্মিক স্লোগান নয়। কিন্তু তৃণমূলের তরফে পাল্টা বলা হচ্ছে ‘জয় বাংলা’। ওটা তো বাংলাদেশের স্লোগান। ওই বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গকে এখন ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর একটা চক্রান্ত চলছে। আমরা এর চরম বিরোধিতা করছি।

    তার আরও অভিযোগ, ‘স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে যে বাংলা সবসময় আগে থেকেছে, সেই বাংলাকেই এখন পিছনের সারিতে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাকে পৃথক করার একটা চক্রান্ত চলছে।’

    দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশজুড়ে ৫৪২ আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ আসনে কোথাও সহিংসতা, গণ্ডগোল হয়নি। কেবল রাজ্যের ৪২টি আসনেই মারপিট, খুন সংগঠিত হয়েছে, রাস্তা অবরোধ হয়েছে। ওই রাজ্যে ভোটার রয়েছে, কিন্তু ভোটাধিকার নেই। সরকার আছে, কিন্তু গণতন্ত্র নেই।’ এ সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’এর সদস্যরা ‘শেম শেম’ বলে টেবিল চাপড়াতে থাকেন।

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল এর নামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিজেপি নাগরিকত্ব ও ধর্মকে মিশিয়ে ফেলছে। এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বিলের মধ্যে দিয়ে কেবলমাত্র একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে।

    কয়েকদিন আগে ঝাড়খন্ডের সেরাইকেলা এলাকায় মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিয়েও সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মহুয়া।

  • যেভাবে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী

    যেভাবে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী

    ভারতের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী প্রথমে ১৯৬৬-র জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭-এর মার্চ পর্যন্ত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ১৪ জানুয়ারি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।

    ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তারই দুই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারান।

    কেমন ছিল সেই দিনটি, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল- বিভিন্ন বই পড়ে তারই একটি বিবরণ তুলে ধরেছেন বিবিসির হিন্দি বিভাগের রেহান ফজল।

    ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর শহরের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর বেশ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তবে বেশিরভাগ স্মৃতিই আনন্দের নয়। এই শহরেই তার বাবা জওহরলাল নেহরু প্রথমবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপরেই ১৯৬৪ সালের মে মাসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ১৯৬৭ সালের নির্বাচনী প্রচারে এই শহরেই ইন্দিরা গান্ধীর দিকে একটা পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, যাতে তার নাক ফেটে গিয়েছিল। সেই ভুবনেশ্বর শহরেই ১৯৮৪ সালের ৩০ অক্টোবর জীবনের শেষ ভাষণটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। প্রতিটা ভাষণের মতোই ওই ভাষণও লিখে দিয়েছিলেন মিসেস গান্ধীর মিডিয়া উপদেষ্টা এইচ ওয়াই শারদা প্রসাদ। কিন্তু ভাষণ দিতে দিতে হঠাৎই লেখা ভাষণ থেকে সরে গিয়ে নিজের মতো বলতে শুরু করেন ইন্দিরা। তার বলার ধরনও পাল্টে গিয়েছিল সেদিন।

    তিনি বলেছিলেন, আমি আজ এখানে রয়েছি। কাল নাও থাকতে পারি। এটা নিয়ে ভাবি না যে আমি থাকলাম কী না। অনেকদিন বেঁচেছি। আর আমার গর্ব আছে যে আমি পুরো জীবনটাই দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে পেরেছি বলে। আর শেষ নিশ্বাসটা নেওয়া পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব। আর যেদিন মরে যাব, আমার রক্তের প্রতিটা ফোঁটা ভারতকে আরও মজবুত করার কাজে লাগবে।

    কখনও কখনও বোধহয় শব্দের মাধ্যমেই নিয়তি ভবিষ্যতের একটা ইশারা দিয়ে দেয়। ভাষণের শেষে যখন মিসেস গান্ধী রাজ্যপালের আবাস রাজভবনে ফিরেছেন, তখন রাজ্যপাল বিশ্বম্ভরনাথ পান্ডে তাকে বলেছিলেন, একটা রক্তাক্ত মৃত্যুর কথা বলে আপনি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।

    আমি যা বলেছি, তা নিজের মনের কথা। এটা আমি বিশ্বাস করি, জবাব দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

    সেই রাতেই দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। খুব ক্লান্ত ছিলেন। সারা রাত প্রায় ঘুমাননি। পাশের ঘরে সোনিয়া গান্ধী ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর প্রায় চারটে নাগাদ শরীরটা খারাপ লাগছিল সোনিয়ার। বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে ওষুধও রাখা থাকত।

    সোনিয়া গান্ধী নিজের বই ‘রাজীব’-এ লিখেছেন, “উনিও আমার পেছন পেছন বাথরুমে চলে এসেছিলেন। ওষুধটা খুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, শরীর বেশী খারাপ লাগলে যেন একটা আওয়াজ দিই। উনি জেগেই আছেন।”

    সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কালো পাড় দেওয়া একটা গেরুয়া রঙের শাড়ি পড়েছিলেন মিসেস গান্ধী সেদিন। দিনের প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ছিল পিটার উস্তিনভের সঙ্গে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ওপরে একটা তথ্যচিত্র বানাচ্ছিলেন সেই সময়ে। আগের দিন ওড়িশা সফরের সময়েও তিনি শুটিং করেছিলেন।

    দুপুরে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেমস ক্যালিঘান আর মিজোরামের এক নেতার সঙ্গে। সন্ধায় ব্রিটেনের রাজকুমারী অ্যানের সম্মানে একটা ডিনার দেওয়ার কথা ছিল মিসেস গান্ধীর। তৈরি হয়েই ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসেছিলেন তিনি। দুটি পাউরুটি টোস্ট, কিছুটা সিরিয়াল, মুসাম্বির জুস আর ডিম ছিল সেদিনের ব্রেকফাস্টে। সকালের খাবারের পরে মেকআপ ম্যান তার মুখে সামান্য পাউডার আর ব্লাশার লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই হাজির হন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার কে পি মাথুর।

    রোজ ওই সময়েই মিসেস গান্ধীকে পরীক্ষা করতে যেতেন তিনি। ভেতরে ডেকে নিয়েছিলেন ডাক্তার মাথুরকে। হাসতে হাসতে বলেছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগান কী রকম অতিরিক্ত মেকআপ করেন, যখন ৮০ বছর বয়সেও তার মাথার বেশির ভাগ চুল কালোই রয়েছে।

    ঘড়িতে যখন ন’টা বেজে দশ মিনিট, ইন্দিরা গান্ধী বাইরে বের হলেন। বেশ রোদ ঝলমলে দিনটা। তবুও রোদ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আড়াল করতে সেপাই নারায়ণ সিং একটা কালো ছাতা নিয়ে পাশে পাশে হাঁটছিলেন। কয়েক পা পেছনেই ছিলেন ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান আর তারও পেছনে ছিলেন ব্যক্তিগত পরিচারক নাথু রাম। সকলের পেছনে আসছিলেন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অফিসার, সাব ইন্সপেক্টর রামেশ্বর দয়াল।

    ঠিক সেই সময়েই সামনে দিয়ে এক কর্মচারী হাতে একটা চায়ের সেট নিয়ে পেরিয়ে গিয়েছিলেন। ওই চায়ের সেটে তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভকে চা দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মচারীকে ডেকে ইন্দিরা বলেছিলেন মি. উস্তিনভের জন্য যেন অন্য আরেকটা চায়ের সেট বার করা হয়। বাসভবনের লাগোয়া দপ্তর ছিল আকবর রোডে। দুটি ভবনের মধ্যে যাতায়াতের একটা রাস্তা ছিল। সেই গেটের সামনে পৌঁছে ইন্দিরা গান্ধী তার সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মি. ধাওয়ান তাকে বলছিলেন যে, ইন্দিরার নির্দেশমতো ইয়েমেন সফররত রাষ্ট্রপতি গিয়ানী জৈল সিংকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই দিল্লি চলে আসেন। পালাম বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করে সময়মতো যাতে রাজকুমারী অ্যানের নৈশভোজ সভায় পৌঁছাতে পারেন ইন্দিরা, সেই জন্যই ওই নির্দেশ।

    হঠাৎই পাশে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মী বিয়ন্ত সিং রিভলবার বের করে ইন্দিরা গান্ধীর দিকে গুলি চালায়। প্রথম গুলিটা পেটে লেগেছিল। ইন্দিরা গান্ধী ডান হাতটা ওপরে তুলেছিলেন গুলি থেকে বাঁচতে। তখন একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে বিয়ন্ত সিং আরও দুবার গুলি চালায়। সে-দুটো গুলি তার বুকে আর কোমরে লাগে। ওই জায়গার ঠিক পাঁচ ফুট দূরে নিজের টমসন অটোমেটিক কার্বাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সতবন্ত সিং।

    ইন্দিরা গান্ধীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে সতবন্ত বোধহয় কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিল। স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তখনই বিয়ন্ত চিৎকার করে সতবন্তকে বলে ‘গুলি চালাও।’ সতবন্ত সঙ্গে সঙ্গে নিজের কার্বাইন থেকে চেম্বারে থাকা ২৫টা গুলিই ইন্দিরা গান্ধীর শরীরে গেঁথে দিয়েছিল।

    বিয়ন্ত সিং প্রথম গুলিটা চালানোর পরে প্রায় ২৫ সেকেন্ড কেটে গিয়েছিল ততক্ষণে। নিরাপত্তা কর্মীরা ওই সময়টায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখান নি, এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন সবাই। তারপরে সতবন্ত সিং গুলি চালাতে শুরু করতেই একদম পিছনে থাকা নিরাপত্তা অফিসার রামেশ্বর দয়াল দৌড়ে এগিয়ে আসেন।

    সতবন্ত তখন একনাগাড়ে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। মি. দয়ালের উরু আর পায়েও গুলি লাগে। সেখানেই পড়ে যান তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর আশপাশে থাকা অন্য কর্মচারীরা ততক্ষণে একে অন্যকে চিৎকার করে নির্দেশ দিচ্ছেন।

    ওদিকে এক নম্বর আকবর রোডের ভবন থেকে পুলিশ অফিসার দিনেশ কুমার ভাট এগিয়ে আসছিলেন শোরগোল শুনে। বিয়ন্ত সিং আর সতবন্ত সিং তখনই নিজেদের অস্ত্র মাটিতে ফেলে দিয়েছে। বিয়ন্ত বলেছিল, আমাদের যা করার ছিল, সেটা করেছি। এবার তোমাদের যা করার করো।

    ইন্দিরার আরেক কর্মচারী নারায়ণ সিং সামনে লাফিয়ে পড়ে বিয়ন্ত সিংকে মাটিতে ফেলে দেন। পাশের গার্ডরুম থেকে বেরিয়ে আসা ভারত- তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আই টি বি পির কয়েকজন সদস্য দৌড়ে এগিয়ে এসে সতবন্ত সিংকেও ঘিরে ফেলে।

    সবসময়ে একটা অ্যাম্বুলেন্স রাখা থাকত ওখানে। ঘটনাচক্রে সেদিনই অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাজে আসেন নি।ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাখনলাল ফোতেদার চিৎকার করে গাড়ি বার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মাটিতে পড়ে থাকা ইন্দিরাকে ধরাধরি করে সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়ির পিছনের আসনে রাখেন আর কে ধাওয়ান আর নিরাপত্তা কর্মী দিনেশ ভাট। সামনের আসনে, ড্রাইভারের পাশে চেপে বসে পড়েন মি. ধাওয়ান আর মি. ফোতেদার।

    গাড়ি যেই চলতে শুরু করেছে, সোনিয়া গান্ধী খালি পায়ে, ড্রেসিং গাউন পরে ‘মাম্মি, মাম্মি’ বলে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে আসেন। ইন্দিরা গান্ধীকে ওই অবস্থায় দেখে সোনিয়া গান্ধীও গাড়ির পিছনের আসনে চেপে পড়েন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ইন্দিরা গান্ধীর শরীর। সোনিয়া তার মাথাটা নিজের কোলে তুলে নেন। খুব জোরে গাড়িটা ‘এইমস’ বা অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সের দিকে এগোতে থাকে। চার কিলোমিটার রাস্তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেরিয়ে যায়।

    সোনিয়া গান্ধীর ড্রেসিং গাউনটা ততক্ষণে ইন্দিরা গান্ধীর রক্তে পুরো ভিজে গেছে।

    ওই গাড়িটা ‘এইমস’এ ঢুকেছিল ন’টা ৩২ মিনিটে। ইন্দিরা গান্ধীর রক্তের গ্রুপ ছিল ও নেগেটিভ। ওই গ্রুপের যথেষ্ট রক্ত মজুত ছিল হাসপাতালে। কিন্তু সফদরজং রোডের বাসভবন থেকে কেউ ফোন করে হাসপাতালে খবরও দেয় নি যে ইন্দিরা গান্ধীকে গুরুতর আহত অবস্থায় এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরী বিভাগের দরজা খুলে গাড়ি থেকে ইন্দিরা গান্ধীকে নামাতে মিনিট তিনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু সেখানে তখন কোনও স্ট্রেচার নেই। কোনওরকমে একটা স্ট্রেচার যোগাড় করা গিয়েছিল।

    গাড়ি থেকে তাকে নামানোর সময়ে ওই অবস্থা দেখে সেখানে উপস্থিত ডাক্তাররা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ান। ফোন করে সিনিয়র কার্ডিয়োলজিস্টদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার গুলেরিয়া, ডাক্তার এম এম কাপুর আর ডাক্তার এস বালারাম ওখানে পৌঁছে যান।

    ইসিজি করা হয়েছিল, কিন্তু তার নাড়ীর স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছিল না। চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল যে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। একজন চিকিৎসক মুখের ভেতর দিয়ে একটা নল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যাতে ফুসফুস পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। মস্তিষ্কটা চালু রাখা সবথেকে প্রয়োজন ছিল তখন। ৮০ বোতল রক্ত দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীকে। শরীরে যে পরিমাণ রক্ত থাকে, এটা ছিল তার প্রায় ৫ গুণ।

    ডাক্তার গুলেরিয়া বলছেন, “আমি তো দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম যে উনি আর নেই। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করতে হয়েছিল। তারপরে আমি ওখানে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী শঙ্করানন্দকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এখন কী করণীয়? ঘোষণা করে দেব আমরা যে উনি মৃত? তিনি না বলেছিলেন। তখন আমরা মিসেস গান্ধীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই।”

    চিকিৎসকরা ‘হার্ট এন্ড লাং মেশিন’ লাগিয়েছিলেন ইন্দিরার শরীরে। ধীরে ধীরে তার শরীরে রক্তের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি থেকে কমে ৩১ ডিগ্রি হয়ে গেল। তিনি যে আর নেই, সেটা সকলেই বুঝতে পারছিল, কিন্তু তবুও ‘এইমস’এর আটতলার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন যে যকৃতের ডানদিকের অংশটা গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বৃহদান্ত্রের বাইরের অংশটা ফুটো হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্রান্ত্রেরও। ফুসফুসের একদিকে গুলি লেগেছিল আর পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল গুলির আঘাতে। তবে হৃৎপিণ্ডতে কোনও ক্ষতি হয় নি।

    দেহরক্ষীদের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর, দুপুর দুটো ২৩ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি প্রচারমাধ্যমে সেই ঘোষণা করা হয়েছিল সন্ধ্যা ছ’টার সময়ে।

    ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীকার ইন্দর মালহোত্রা বলছেন, গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে মিসেস গান্ধীর ওপরে এরকম একটা হামলা হতে পারে। তারা সুপারিশ পাঠিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর আবাস থেকে সব শিখ নিরাপত্তা-কর্মীদের যেন সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ফাইল যখন ইন্দিরা গান্ধীর টেবিলে পৌঁছায়, তখন ভীষণ রেগে গিয়ে তিনি নোট লিখেছিলেন, “আরন্ট উই সেকুলার?” অর্থাৎ, “আমরা না ধর্মনিরপেক্ষ দেশ?”

    এরপরে ঠিক করা হয়েছিল যে একসঙ্গে দু’জন শিখ নিরাপত্তা-কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি ডিউটি দেওয়া হবে না। ৩১ অক্টোবর সতবন্ত সিং বলেছিল যে তার পেট খারাপ। তাই তাকে শৌচালয়ের কাছাকাছি যেন ডিউটি দেওয়া হয়।

    এইভাবেই বিয়ন্ত আর সতবন্ত সিংকে একই জায়গায় ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। যার পরিণতিতে স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অপারেশন – ‘অপারেশন ব্লুস্টার’এর বদলা নিয়েছিল তারা প্রধানমন্ত্রীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়ে।

  • প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই আপাতত এই পরীক্ষা বন্ধ করার কোন পরিকল্পনা নেই। বরং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনে আজ টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেনজীর আহমেদের (ঢাকা-২০) প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু, এজন্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ জারি উল্লেখযোগ্য।

    এসময় তিনি আরো জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে অধিকতর যুগোপযোগী করে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) ডিপিপি-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচির ডিপিপি মোতাবেক ৩য় বছরে অর্থাৎ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের হাতাহাতি

    অনলাইন ডেস্ক:

    বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুসের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটির একটি ঘোষণার পর বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পন্থী দুই দল কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোর্ডের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়া যায় কিনা সে সম্পর্কে একটি সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য মঙ্গলবার তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষাবোর্ড সচিব প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত আদেশে গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন খানকে। সদস্য করা হয় উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মামুন হোসেনকে। বিএনপিপন্থী ৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতেই এ কমিটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সূত্র আও জানায়, কমিটি ঘোষণার পরই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বোর্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিলের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান বরিশাল বোর্ডের আওয়ামীলীগ পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি এবং বোর্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিএনপিপন্থীরা। বিএনপিপন্থীদের নেতৃত্বে বর্তমান কর্মচারী সংঘ সভাপতি আবু জাফর ছিলেন। পরে বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা আওয়ামীলীগপন্থী কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে, চেয়ারম্যান মো. ইউনুসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ বিষয়ে বোর্ডের শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আ. জলিল জানান, আমরা বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের পদোন্নতি দেবার জন্য কমিটি করার বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাই। তখন বিএনপি জামায়াত কর্মীদের নিয়ে শ্রমিকদল নেতা শহিদুল ইসলাম সেখানে প্রবেশ করে আমাদের ওপর চড়াও হয়।

    এরপর তারা আমাদের সংগঠন বিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। তিনি আরও জানান, বোর্ডে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন কমিটি রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কমিটি গঠন করা বিধি বহির্ভুত। আমরা সে বিষয়টিতেই বাঁধা দিতে চেয়েছি।

    তবে, শ্রমিকদল সভাপতি ও বর্তমান সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেছি। কারো ওপর হামলা চালাইনি।

    অভিযোগ পাওয়া যায়, পদোন্নতির তালিকার শীর্ষে যে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তার মধ্যে ৮ জন বিএনপিপন্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন সেকশন অফিসার সাবেক বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সচিব ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি মো: মিজানুর রহমান, উচ্চমান সহকারী ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক এবি এম মিজানুর রহমান, সেকশন অফিসার ও বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের অর্থ সম্পাদক আহসানুল কবির। এছাড়া পদোন্নতি তালিকায় রয়েছেন বিএনপিপন্থী কর্মচারী সংঘের সদস্য ও সেকশন অফিসার সাজিয়া হাসান লুনা, হিসাব সহকারী জাহাঙ্গির আলম, ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার কে এম ফরিদ হোসেন ও সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আ. ছালাম। আর এদের পদোন্নতির জন্য বোর্ড প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে বর্তমান কর্মচারী সংঘের সভাপতি আবু জাফর।

    এই বিষয়ে বরিশাল বোর্ডের সচিব অধ্যাপক বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কমিটি করেছি। তিনিই এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

    বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ইউনুসের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।

  • বাংলাদেশ দলকে বিসিসি মেয়রের অভিনন্দন

    বাংলাদেশ দলকে বিসিসি মেয়রের অভিনন্দন

    সাকিব আল হাসানের ৫ উইকেট ও দুরন্ত ব্যাটে আফগানিস্তানকে ৬২ রানে হারালো বাংলাদেশ। ১৩ বল বাকি রেখেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা।

    এই ঐতিহাসিক বিজয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
    সোমবার (২৪ জুন) রাতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু স্বারিত মেইল বার্তায় অভিন্দন জানান।
  • ৭ হাজার ভরি কালো স্বর্ণ সাদা করলেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী

    ৭ হাজার ভরি কালো স্বর্ণ সাদা করলেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী

    নিউজ ডেস্ক:

    বরিশালে চলছে দুই দিনব্যাপী স্বর্ণ মেলা। মঙ্গলবার ছিল মেলার শেষদিন। দুপুর ২টা পর্যন্ত কালো স্বর্ণ সাদা করলেন দুই শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এতে আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কর পরিশোধ করে প্রায় ৭ হাজার ভরি স্বর্ণ সাদা করেছেন তারা।

    সোমবার সকালে নগরীর গ্র্যান্ড পার্ক হোটেলে দুই দিনব্যাপী স্বর্ণ মেলার উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। কর অঞ্চল বরিশালের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

    বরিশালের উপকর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেলার প্রথমদিন সোমবার ১১৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রায় চার হাজার ভরি স্বর্ণ, রৌপ্য ও হীরা সাদা করেছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির ১০১টি প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা হয় ৪১ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। পটুয়াখালী ও ভোলার সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা হয় পাঁচ লাখ ৯২ হাজার এবং বরিশালের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা কর আদায় করা হয়।

    BARISHAL-Over-two1

    আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আরও শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি তাদের কালো স্বর্ণ সাদা করেছেন। দুইদিনে আয়কর আদায় হয়েছে অর্ধকোটি টাকার বেশি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। ৫টা পর্যন্ত প্রতি ভরি স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য এক হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ছয় হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রূপার ৫০ টাকা হারে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

    ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে যাতে সহজে কর দিতে পারেন এজন্য মেলায় সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথ স্থাপন করা হয়েছে। কর সংক্রান্ত তথ্য ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য মেলায় হেল্প ডেক্স স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান উপকর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ।

  • বরিশালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে “তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউরো ডেভোলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি)সহ সব ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম অংশীজনদের অবহিত করন সংক্রান্ত এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টায় নগরীর বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর (বিসিসি) অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে বিসিসি ভারপ্রাপ্ত সেন্টার চার্জ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বিসিসি আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলামের সঞ্চলনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথির আসনে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইথ এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসেন ফয়সাল,বরিশাল সমাজ সেবা অফিসার অধ্যাপক আঃ রসিদ,বরিশাল রাহাত আনোয়ার হসপিটালের ব্যবস্থপনা পরিচালক শারমিন আক্তার ও সফল প্রতিবন্ধী ঝালকাঠী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ফয়সাল রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিলর ট্রেনার এমরান হোসেন।

    কর্মশালা অনুষ্ঠানে বলা হয় সরকার দেশের মানবসম্পদকে তথ্য প্রযুক্তি ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানবসম্পদকে ধেশ থেকে বিদেশের মাটিতে কাজে নিয়োজিত করার জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

    পাশাপাশি বর্তমান সরকার কম্পিউটার কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জীবন মান উন্নয়ন প্রর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। আজকের কর্মশালায় শারিরীক প্রতিবন্ধী,দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সহ সব ধরনের বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা থেকে শতাধিক মহিলা-পুরুষ প্রতিবন্ধী অংশ গ্রহণ করেন।

    এছাড়া কর্মশালায় নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সদস্য,শিক্ষক,প্রশাসনিক কর্মকতারা অংশ গ্রহণ করেন।

    উল্লেখ্য, বরিশাল কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে ইতি পূর্বে ৫টি টেনিং প্রোগামের মাধ্যমে ৫ শতাধিক প্রতিবন্ধী সদস্য কম্পিউটার প্রশিক্ষন গ্রহণ শেষে বিভিন্ন কর্মসংস্থায় নিজেকে জড়িত করেছে বলে বিসিসি থেকে এতথ্য প্রদান করা হয়।

  • শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

    শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। হীরা যেমন যত বেশি কাটা হয় তত বেশি উজ্জ্বল হয়, আওয়ামী লীগও তেমন। আর এর পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের মানুষের জন্য কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা। এসব আছে জন্যই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে।

    আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।

    তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। এরপর দুই শ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখণ্ড। দুইশ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই দুইশ বছর আগে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে।

    আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এই অবস্থা ধরে রাখার জন্য দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সেই আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। এই আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে দলকে গোছাতে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু। সারা বাংলাদেশ ঘুরে তিনি দলকে গড়ে তুলেছেন।

    আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ।