Category: রাজণীতি

  • ইসি ছাড়া আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই : আলাল

    ইসি ছাড়া আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই : আলাল

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সরকার ক্ষমতায় থেকে প্রথমবারের মতো দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। গ্রেফতার ও হয়রানি বাণিজ্য এখনো চলছে। তাই আস্থা না থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।

    বুধবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

    আলাল বলেন, গ্রেফতার-হয়রানি বাণিজ্য এখনো চলছে। বাম্পার ফলন যেভাবে হয়, সেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের বাম্পার ফলন শুরু করা হয়েছে। গতকালও একজন মহিলা কমিশনারসহ কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মওদুদ আহমদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে ইসিকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

    জোটের প্রতীকের বিষয়ে আলাল বলেন, জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকই দেওয়া হবে। আমরা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছি- একজনকে প্রতীক দিলে অবশিষ্ট জোটভুক্ত বৈধ প্রার্থীরা বাতিল হবেন নাকি চিঠি দিয়ে জানাতে হবে? তারা বলেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। আর নিবন্ধিত দলের কেউ না হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা ১১টি দল জোটগতভাবে ভোট করার সিদ্ধান্ত আগেও জানিয়েছিলাম। আজ আবার মনে করিয়ে দিলাম।

  • নাজিরপুর বিএনপি শামীম সাঈদীকে মানবে না

    নাজিরপুর বিএনপি শামীম সাঈদীকে মানবে না

    পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ) আসনে ২০–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শামীম বিন সাঈদীকে মানতে নারাজ নাজিরপুর উপজেলা বিএনপি। গতকাল সোমবার উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় দলীয় নেতারা শামীম সাঈদীকে চূড়ান্ত প্রার্থী না করার দাবি জানান। শামীম বিন সাঈদী মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।

    পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠি যুক্ত করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন শামীম বিন সাঈদী। এ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. সরোয়ার হোসেনও বিএনপির জোটের প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে গতকাল সকাল দশটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলা সভায় দলের উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় বেশির ভাগ নেতা শামীম বিন সাঈদীকে ২০–দলীয় জোটের মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানান। তবে কয়েকজন নেতা শামীম বিন সাঈদীর পক্ষে বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে শামীম বিন সাঈদীকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য কার্যবিবরণী করা হয়।

    সভায় বক্তারা বলেন, শামীম বিন সাঈদীর বাড়ি ইন্দুরকানি উপজেলায়। ইন্দুরকানি উপজেলা পিরোজপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু শামীম বিন সাঈদীকে পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ আসনে ২০–দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বা জেলা বিএনপির সদস্য মো. সরোয়ার হোসেনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হোক। শামীমকে জোটের প্রার্থী করা হলে নেতা-কর্মীরা পুলিশের হয়রানির শিকার হবেন। ফলে শামীম বিন সাঈদী প্রার্থী হলে নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি হবে।

    সভায় উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শামীম বিন সাঈদীর পক্ষে কাজ করতে রাজি না।

    উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম লাহেল মাহমুদ শামীমের পক্ষে কাজ করার কথা বলেন।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সভায় শামীম বিন সাঈদীকে মনোনয়ন না দেওয়ার পক্ষে দলের বেশির ভাগ নেতা বক্তব্য দেন। এরপর সর্বসম্মতিক্রমে আমরা শামীম বিন সাঈদীকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য রেজল্যুশন করেছি। ওই রেজল্যুশন দলের মহাসচিবের কাছে পাঠানো হবে।

    শামীম বিন সাঈদীর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

    জেলা জামায়াতের আমির তোফাজ্জেল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বিএনপির নেতাদের দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত। এ আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী প্রার্থী শামীম বিন সাঈদী।

  • ছাত্রলীগের বিভাগীয় নির্বাচনী কমিটি গঠন : বরিশালের দায়িত্বে জয়-রিয়াদ

    ছাত্রলীগের বিভাগীয় নির্বাচনী কমিটি গঠন : বরিশালের দায়িত্বে জয়-রিয়াদ

    আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বিভাগীয় নির্বাচনী ও সমন্বয় কমিটি’ গঠন করেছে ছাত্রলীগ। দেশের ৮টি বিভাগে নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করার জন্য ছাত্রলীগের ১৬নেতাকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।

    সোমবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চোধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবগঠিত এই কমিটিতে রংপুর বিভাগে প্রদীপ চৌধুরী ও আল-মামুন; রাজশাহী বিভাগে তন্ময় আহমেদ অভি ও আহসান হাবিব, খুলনা বিভাগে শওকুতুজ্জামান সৈকত ও লেখক ভর্টাচার্য, বরিশাল বিভাগে আল নাহিয়ান খান জয় ও ইয়াজ আল রিয়াদ, ময়মনসিংহ বিভাগে সোহান খান ও শামস ই নোমান, ঢাকা বিভাগে তানজিল ভূইয়া তানভীর ও আরেফিন সিদ্দিকী সুজন, সিলেট বিভাগে জহির খান ও খায়ের চৌধুরী এবং চট্টগ্রামে সাজ্জাদ হোসেন ও সাদ বিন কাদের (সাদী) দায়িত্ব পালন করবেন।

    কমিটির বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, ‘তাদের নির্বাচনকালীন সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্ব-স্ব বিভাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের (আওয়ামী লীগ) বিজয় নিশ্চিতের জন্য তারা কাজ করবেন।

  • মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

    মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনে থাকা ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্নের জন্যও আদেশে বলা হয়েছে।

    একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার কারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে রেখে দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

    আাগমী চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    মির্জা আব্বাসের করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে মির্জা আববাসের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান।

    ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, ‘গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা-৯ আসন থেকে চেষ্টা করেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। পরে ১ ডিসেম্বর এটি নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দেয়া হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে ওই মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই সম্পন্নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রিট করা হয়।

    রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ের পর ঢাকা-৯ আসনে মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তা নিতে অস্বীকার করা হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, মির্জা আব্বাসের ছবি দেখেই শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা নিতে গড়িমসি করেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

    তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা দাবি করেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসায় তা জমা নেয়া সম্ভব হয়নি।

    রিটের বিবাদীরা হলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার।

  • ধানের শীষে লড়বেন সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী সানসিলা

    ধানের শীষে লড়বেন সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী সানসিলা

    দীর্ঘ ২২ বছর পর শেরপুর-১ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। এতে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীর মেয়ে ডা. সানসিলা জেবরিন (২৭)। পেশায় চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে ‘প্রিয়াঙ্কা’ নামেই পরিচিত।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে এই আসনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী সানসিলা জেবরিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীসহ বিএনপির অন্য তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও টিকে রয়েছেন হযরত আলীর মেয়ে সানসিলা জেবরিন।

    রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি এবং অপর দুই প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ফজলুল কাদের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়।

    sansilaজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জোটের রাজনীতির স্বার্থে বিগত চারটি জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়া হলেও জয়ের মুখ দেখেনি জামায়াত। যে কারণে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে গত ২২ বছরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়া হয়নি বিএনপি সমর্থকদের। কিন্তু জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকরের পর সদর আসনে নতুন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করলেও ঋণ খেলাপি থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী চার বারের এমপি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের বিপক্ষে লড়বেন হযরত আলীর মেয়ে সানসিলা জেবরিন।

    সানসিলা জেবরিন পেশায় চিকিৎসক। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    শেরপুর-১ (সদর) আসনে প্রার্থিতার বিষয়ে ডা. সানসিলা জেবরিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এটা অনেক আনন্দের ব্যাপার। এছাড়া এ আসনে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

    তিনি আরও বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। উনি শ্রদ্ধার একজন মানুষ, উনার কাছে শেখার অনেক কিছু আছে। নিজেকে অনেক ‘লাকি’ মনে করছি, কারণ সর্বকনিষ্ঠ একজন প্রার্থী হিসেবে উনার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। আমি মনে করি রাজনীতিতে হারজিত থাকবেই। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, ধানের শীষের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

    ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিএনপির নতুন মুখ সানসিলা জেবরিন। সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের চারবারের এমপি হুইপ আতিউর রহমান আতিক, জাতীয় পার্টির ইলিয়াস উদ্দিন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জহির রায়হান, ইসলামী আন্দেলনের মতিউর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির আফিল শেখের বিপক্ষে নির্বাচনে লড়বেন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম রকীব বলেন, সানসিলা জেবরিন এখন আমাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বিএনপি নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সানসিলা কনিষ্ঠ প্রার্থী এটা কোনো বিষয় নয়, সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে। মাঠপর্যায়েও আমরা তাকে নিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

  • বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্যের রেকর্ড করেছে: কাদের

    বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্যের রেকর্ড করেছে: কাদের

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি এবার মনোনয়ন বাণিজ্যের রেকর্ড করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ২৭৮ জনের মনোনয়ন টিকেছে আর বিএনপির টিকেছে ৫৫৫ জন। তাহলে মনোনয়ন কার বেশি টিকেছে। নির্বাচনে তো অংশ গ্রহণ করবে ৩শ জন। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে দিতে হবে না?

    আমরা বিশ্বস্তসূত্রে খবর পেয়েছি, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্যে এবার রেকর্ড করেছে। এই যে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারপর এখনও ৫৫৫ জন রয়েছে। এটা কি মনোনয়ন বাণিজ্য নয়?

    তিনি বলেন, কোনো কোনো শীর্ষ নেতা ঢাকা থেকে পালিয়ে গেছে। যাদের থেকে টাকা নিয়েছে তারা এখন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ধর্না দিচ্ছে। এলাকায় গিয়ে তারা এখন এই মুহূর্তে প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে, মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে, এরকম খবরও আমরা পাচ্ছি।

    বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বাতিল করে সরকার পুতুল নাচের খেলা আয়োজন করেছে, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীয় এমন বক্তব্যের জবাব জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়াটাই একটা পুতুল নাচের খেলা। সরকার কেন করবে? নির্বাচন কমিশন কি সরকার?

    ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছে। পুতুল নাচের খেলা, যেমনি নাচাও তেমনি নাচে।কামাল হোসেন তো নামকাওয়াস্তে নেতা, অনেক দুঃখে কষ্টে নির্বাচনটাই করছেন না। নেতাও নেই মাথাও নেই এই দলকে কে ভোট দেবে। মানুষ জিজ্ঞেস করবে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? কি জবাব দেবেন মির্জা ফখরুল সাহেব?

    তিনি বলেন, যখন নির্বাচন কমিশন তাদের পক্ষে না থাকে তখন তো নির্বাচন কমিশন সৎ মা হয়ে যায়। জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়নে কোনো টানাপোরেন হবে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বহিষ্কারের বিষয়টা তাদের ব্যাপার, এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আর এ নিয়ে মহাজোটের যে ঐক্য প্রক্রিয়া এখানে প্রভাব পড়বে না।

    আগামী নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কেউ অংশগ্রহণ না করায় বিএনপির রাজনীতিতে জিয়া পরিবার নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার পাপে, আমি আজকে ভিকটিম হচ্ছি, আমার অন্যায়ে আজকে আমি ভিকটিম হচ্ছি। এতে অন্যদের কী করার আছে। আপনি অপরাধ করেছেন, এতিমের টাকা আত্মসাত করেছেন মামলা হয়েছে। ১০ বছর মামলাটাকে বিলম্বিত করা হয়েছে, রায় বিরুদ্ধে গেছে। হাতেনাতে প্রমাণ আছে, এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের নেই। আমরা কেন নিশ্চিহ্ন করতে যাবো।

    তিনি বলেন, বিএনপি একটা বড় দল গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে থাকলে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। গণতন্ত্র দুই চাকার বাই সাইকেল। একদিকে সরকারি দল অন্যদিকে অপজিশন। অপজিশনকে বাদ দিয়ে তো সংসদীয় গণতন্ত্র হয় না। কাজেই এখানে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব ধরনের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করেছে। যা হচ্ছে আদালতের আদেশে হচ্ছে, এখানে কোনোভাবে আমরা তাদের হয়রানি, হুমকি দিতে যাইনি।

    ইজতেমায় সংঘর্ষের ঘটনা এবং পাবনার সংঘর্ষের ঘটনায় বিরোধীদের কোনো ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে করছেন কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে একটা অশান্তি অস্থিরতা সৃষ্টি তারা করতে চায়, কারণ তারা জেনে গেছে বুঝে গেছে আগামী নির্বাচনে তাদের জয়লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা নির্বাচন বানচালের জন্য দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশটাকে তারা বিঘ্নিত করতে চাইছে। নিজেরা কোনো আন্দোলন করতে পারেনি, অন্যদের ইস্যুতে নাক গলাচ্ছে, অন্যদের ইস্যুতে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে কি না সেই অপচেষ্ট তাদের আছে।

    দলীয় সমর্থকদের দ্বন্দ্বে পাবনায় দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক ব্যাপারেও হতে পারে। নরসিংদীদের ৫০ বছর ধরে ঘটে আসা সামাজিক দ্বন্দ্বকেও দলীয় হিসেবে অনেকে প্রচার করেছে। এখন পাবনার ঘটনা সেরকম কিছু হতে পারে। পাবনার ঘটনায় দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এ ধরনের ঘটনা হয়েছে- এমন কোনো রিপোর্ট আমাদের কাছে নেই।

    বিএনপিকে নির্বাচনে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুরোধ করার কারণ জানতে চাইলে কাদের বলেন, এই যে সারা বছর দেশে-বিদেশে নালিশ আর নালিশ, সরকার নির্বাচন করতে দেয়নি। সরকার কারসাজি করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে। এই অপবাদ যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য তাদের মাঠে থাকাটাই ভালো। তারা এখন এদিক-সেদিক করছে, আমরা তো বুঝি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, পাবলিকের সাড়া নেই, দিন যত যাচ্ছে বিএনপির ভাঙা হাট আরও ভাঙছে। সেজন্যই এইসব বক্তব্য দিচ্ছে। কী করবে তারা তো এখন বেপরোয়া। পল্টনের আবাসিক প্রতিনিধি বসে বসে গুজব আর মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড প্রতিনিয়ত বাজাচ্ছে।

    তিনি বলেন, শরিকদের জন্য প্রতারণামূলক কোনো অভিসন্ধি আমাদের নেই, এটা আমরা করতে পারি না। তাহলে আমাদের কে বিশ্বাস করবে? শরিকদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া আছে। আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন নেই।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে চাদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

    বরিশালে চাদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

    গরিবের চাল আত্মসাতের মামলায় বরিশালের সদর উপজেলার চাদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমানুল্লাহ আমান ও মেম্বার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খানকে ১০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বার সশরীরে হাজির হয়ে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।

    মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

    চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। দুদকের পক্ষে ছিলেন একেএম ফারহান।

    ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আসামিরা ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বরিশাল সদর উপজেলার চাদপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমানুল্লাহ আমান ও মেম্বার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ভিজিডি কার্ডধারী ২৫১ জনের মধ্যে এক লাখ ৮২ হাজার ৪২৬ টাকা মূল্যমানের ৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৭ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটনের বন্দর থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় দুইজন হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

  • নির্বাচন আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ : মান্না

    নির্বাচন আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ : মান্না

    নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দীর্ঘ ১০ বছর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে না; এ নির্বাচনটিও আদৌ নূন্যতম গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চোখ কানা করে একদিকে তাকিয়ে দেখলে তো নির্বাচন করা যাবে না। তবে তারা ও সরকার মিলে যা-ই করুক না কেনো নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠ ছাড়ছি না। কারণ নির্বাচনকে তো জাতীয় ঐক্যফ্রসহ গণতন্ত্র রক্ষার একটি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নিয়েছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে সব চক্রান্ত হুমকি ভেসে যাবে।

    মাহমুদুর রহমান মান্না তার লিখিত বক্তব্যে দেশের সর্বশেষ নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলমসহ মতিয়ুর রহমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, কবিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মান্না অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ আমাদের সমাজে এই সন্দেহ প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলের জন্য পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবার প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন নতুন করে পরিস্থিতি আগের চাইতে আরও বেশি খারাপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়া জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে।

  • আয় কমে গেলেও শিক্ষামন্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে

    আয় কমে গেলেও শিক্ষামন্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আয় কমেছে। তবে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ বেড়েছে। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদও বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা এবং নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাহিদের জমা দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তাঁর পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা। এ আয়ের মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং পেশা থেকে ১৭ লাখ ২২ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। তবে তাঁর স্ত্রীর কোনো আয় তিনি সেবার দেখাননি।

    এবারের হলফনামায় দেখা যায়, এখনো পেশায় তিনি রাজনৈতিক কর্মী। এখন তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২০৫ টাকা; যা গত ২০১৪ সালের তুলনায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা কম। এবার দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তিনি কৃষি খাত থেকে ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের সুদ বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টাকা, পেশা থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। এবারও তিনি তাঁর স্ত্রীর আয়ের কোনো হিসাব দেখাননি।

    শিক্ষামন্ত্রীর আয় কমলেও অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ঠিকই বেড়েছে। এবার জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ১৬ হাজার ৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৪ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫০ টাকার। সে হিসাবে এবার তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকার। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাহিদের অস্থাবর সম্পদ ছিল ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৯১১ টাকার। সে তুলনায় বিগত ১০ বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পদ বাড়ল ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮ টাকার।

    তিনটি হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নুরুল ইসলাম নাহিদের স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তাঁর ৭২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৮ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে দেখা গেছে। ২০১৪ সালে এই সম্পদ ছিল ৬৯ লাখ ১৮ হাজার টাকার। সে হিসেবে গত পাঁচ বছরে তাঁর ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ টাকার স্থাবর সম্পদ বেড়েছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল যৌথ মালিকানায় ৫ একর জমি ও ২ একর বাড়ি। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত নামে তখন ছিল ৫ লাখ টাকার অকৃষিজমি।

    ২০১৪ সালে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এবারের হলফনামায় তাঁর কোনো ঋণ, দায় বা দেনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তাঁর কোনো দায় বা দেনা ছিল না।

    সম্পদ বেড়েছে স্ত্রীর

    শিক্ষামন্ত্রী একাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখাননি। তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ২ লাখ ৪ হাজার ১৭৪ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, তাঁর স্ত্রীর ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৩ টাকার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৭ টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৬ লাখ ৯ হাজার ৬৪৪ টাকা। গত ১০ বছরে বেড়েছে ৫২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৬ টাকা।

    ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষামন্ত্রীর নির্ভরশীলদের নামে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। তিনটি হলফনামাতেই শিক্ষামন্ত্রীর স্ত্রীর কোনো স্থাবর সম্পদের হিসাব ছিল না।

  • আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি, নিহত ২

    আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি, নিহত ২

    পাবনার ভারাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের আরঙ্গবাদ খয়েরবাগান গ্রামের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল মালেক ও মৃত গহের আলী খানের ছেলে লষ্কর আলী খান।

    পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। পৌঁছালে বিস্তারিত বলতে পারবো।

    স্থানীয়রা জানান,আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিশেষ করে পদ্মা নদীর চর এলাকা হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ব্যাপক বালি উত্তেলন হয় ওই এলাকায়। একটি চক্র প্রতিদিনই শতশত ট্রাক বালি উত্তোলন করে। আর এই বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিল।

    ওই দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ ও অপরটির নেতৃত্ব দেন সুলতান আহমেদ। তবে এই ঘটনায় তাদের কারোর সাথেই কথা বলা সম্ভব হয়নি।

    গুলিবিদ্ধদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চলছে বলেও জানান এলাকাবাসী।