Category: রাজণীতি

  • ন্যায়বিচারের জন্য ইসিকে ধন্যবাদ ফখরুলের

    ন্যায়বিচারের জন্য ইসিকে ধন্যবাদ ফখরুলের

    বিএনপির প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণার কারণে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে অসংখ্য প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আজকে নির্বাচন কমিশনের শুনানির মধ্য দিয়ে তাঁদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই, তারা ন্যায়বিচার করেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন যেসব কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেখানে অনেক জায়গায় প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাননি। বিএনপি বরাবরই যে কথা বলে আসছে, সেটি হলো সরকারি কর্মকর্তারা যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাঁদের কথা বেশির ভাগ সময় মেনে চলতে হয়। সে কারণে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ন্যায়বিচার করা সম্ভব হয় না।

    ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার ঘোষণা, এটা একটি বিজয়। বিএনপির আন্দোলনে জনগণের বিজয় যে আজকে দলের প্রার্থীরা বৈধ হয়ে এসেছেন এবং তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটাও আশা করি, ন্যায়বিচার যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন, বিবেচিত হবেন।’

    সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, আজ রাত আটটার পর দলের চূড়ান্ত প্রার্থীদের কিছু আংশিক তালিকা প্রকাশ করা যাবে।

    নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে সরকার এত ভীতসন্ত্রস্ত বলেই তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে, সেখানে সরকার বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করছে। উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে গ্রেপ্তার চলছেই, কোথাও কোথাও বাড়ছে। আজকে খবর এসেছে, বিএনপি কোথাও কোথাও ঘরোয়া সাংগঠনিক সভা করছে, সেখানেও বাধা দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও প্রশাসন এখানে অনেক ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। এ সময় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে এবং গ্রেপ্তার বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

  • সকালে জনসভার ঘোষণা, সন্ধ্যায় স্থগিত

    সকালে জনসভার ঘোষণা, সন্ধ্যায় স্থগিত

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১০ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে বলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষণা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সেই জনসভা স্থগিতের ঘোষণা এল।

    নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভীর এই ঘোষণার পর সন্ধ্যায় এক বৈঠক শেষে জনসভা স্থগিতের ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ভোটের প্রচারের মধ্যে জনসভার বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সভা-সমাবেশ করা একটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার। এখন তো কোনো জরুরি অবস্থা চলছে না যে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না, ঠিক আছে। কিন্তু দলীয় সভা-সমাবেশ করতে তো কোনো নিষেধ নেই। তিনি বলেন, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে, মিথ্যা মামলা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনসভা করবে। সেখানে তো ভোটের প্রচার বা ভোট চাওয়ার জন্য জনসভা হবে না।

    রিজভীর ঘোষণার ৮ ঘণ্টার মাথায় সন্ধ্যায় মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ ডিসেম্বর জনসভা হবে না। এটি পরে হবে।

  • খালেদার আসনে টিকে গেলেন মিলটন, মিষ্টি বিতরণ

    খালেদার আসনে টিকে গেলেন মিলটন, মিষ্টি বিতরণ

    বগুড়ার গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী বিএনপি নেতা মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার আপিল শুনানির প্রথম দিন বিএনপি নেতা মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে ইসি। এ আসন থেকে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায় বেগম খালেদা জিয়া এবং মিলটনের। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ২৮ নভেম্বর গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মিলটন।

    ২ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাচাইয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

    ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার খবরে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) বিএনপির নেতাকর্মীরা উল্লাস করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিএনপি নেতাকার্মীরা।

    স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু জাফর বলেন, আমরা রীতিমতো শঙ্কিত ছিলাম। শহীদ জিয়ার জন্মস্থান গাবতলীতে ধানের শীষের প্রার্থী না থাকলে একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হতো। এখন আমরা শঙ্কামুক্ত। জেলার অন্যান্য আসনের চেয়ে এ আসনে ধানের শীষ মার্কা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হবে।

    ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু করা মোরশেদ মিলটন এখন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েকবার তিনি গাবতলী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। শেষবার তিনি গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসন থেকে প্রার্থী হন। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টি থেকে।

    বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিলটন বলেন, আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আর নির্বাচনে কোনো বাধা থাকলো না। ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে কারাবন্দী খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

  • বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ

    বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল হাসান জানান, কর্পোরেশনের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একটু রদবদল করা হয়েছে। এছাড়া অন্যকিছু নেই এখানে। বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই রদবদল করা হয়েছে।

     বিসিসি সূত্রে জানা যায়, ২ ডিসেম্বর কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা আসমা বেগম রুমীকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে একই শাখায় বিশেষ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং প্রশাসন শাখার পরিসংখ্যানবিদ স্বপন কুমার দাসকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হিসাব বিভাগের বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (বাজেট ও অডিট) মো: আক্তারুজ্জামানকে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    এছাড়া কর্পোরেশনের হাট-বাজার ও স্টল শাখার সুপারিনটেনডেন্ট নুরল ইসলাম, অবৈধ উচ্ছেদ শাখায় কর্মরত উচ্চমান সহকারী (চঃদা)জাহাঙ্গীর হোসেন ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধাকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।

    এদিকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ৭ কর্মকর্তার মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।হিসাব বিভাগের বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বিগত ২ সিটি মেয়রের আমলে নগরভবনের কর্তাবাবু সেজে সাধারন স্টাফ ও ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করতেন।

    সিটি কর্পোরেশনে মেয়রের চেয়েও নিজেকে ক্ষমতাধর দাবী করা এ মশিউরকে করা হয়েছে ওএসডি।অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বিসিসিতে নিজর রামরাজত্ব চালু করেছিলেন।একটি পরিষদ খুলে কিছু হলেই সেই সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে বিসিসিতে কার্যত অচলাবস্থা চালু করতেন।তার কাছে জিম্মি ছিল নগরবাসী।তাছাড়া উপরিউক্ত দুজন সাবেক মেয়রের সাথে যোগসাজশে ভুয়া স্টাফ দেখিয়ে অর্থ আত্বসাত করতেন।আর তাদের কাজে সহযোগি ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা।

  • ‘বিএন‌পি-জামায়াত এলে না‌রীরা বোরকা ছাড়া বের হ‌তে পার‌বে না’: কাদের

    ‘বিএন‌পি-জামায়াত এলে না‌রীরা বোরকা ছাড়া বের হ‌তে পার‌বে না’: কাদের

    বিএন‌পি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের না‌রীরা বোরকা ছাড়া ঘ‌রের বাইরে বের হ‌তে পার‌বে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কা‌দের।

    তিনি ব‌লেন, ‘এটা কি আমা‌দের দে‌শের নারীরা মে‌নে নে‌বে? কখনই মে‌নে নে‌বে না।’বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের বিজয়ের বিকল্প নেই। আমাদের পরাজয় মানে ২০০১ সালের অন্ধকার, আমাদের পরাজয় মানে বাংলাদেশে রক্তের নদী বয়ে যাওয়া। ২০০১ ও ২০১৪ সালে যে বিভীষিকা, রক্তপাত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, আমরা কি সে অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই? চাই না। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    বিএন‌পি কেন্দ্র পাহারা দিতে এলে আওয়ামী লীগকেও কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে মন্তব্য করে কাদের ব‌লেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির কাছে রাজনীতির একটি বড় অস্ত্র আছে। সেটা হলো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। এই হাতিয়ার আবার ভাঙতে পারে, সতর্ক থাকতে হবে। তারা আবার নাশকতা করতে পারে, সহিংসতা করতে পারে। শুরুটা তারাই করেছে। তফসিলের পর পল্টনের নারকীয় তাণ্ডব। তারা দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছে।

    ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি এখন নেতা নন, নির্বাচনও করছেন না। তাহলে তাদের নেতা হচ্ছে পলাতক, দণ্ডিত আসামি তারেক রহমান। তার নির্দেশে কামাল হোসেন সাহেব এখন কথাও বলেন না। তারেক রহমানের নির্দেশে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু পরিচালিত হচ্ছেন। কী লজ্জা! বাংলাদেশের জনগণ কি এত বোকা? এই মানুষগুলোর অসহায় আত্মসমর্পণ খুনির কাছে, দুর্নীতির কাছে। তারা নাকি পাহারা দিতে আসবে। আসুক, আমরাও কেন্দ্র রক্ষা করব।

    আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে— বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে ৩০ আসনের বেশি দিতে চান না। ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন ২৯ সিট। আমরা কিন্তু ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে এত সিট দেবো— এমন অহংকারী উচ্চারণ একবারও করিনি। কারণ ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, তারপর দেশের জনগণ। জনগণই ঠিক করবে কাকে কত সিট দেবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আপনি কি জ্যোতিষবিদ্যা শিখলেন? বারবার শুধু সংখ্যাতত্ত্ব, ১০টি সিট, ২০টি সিট। আপনার নেত্রী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এবারও তো ১০ বছর ছুঁই ছুঁই। যতই আস্ফালন করবেন, ততই পতন ঘটবে।

    মির্জা ফখরুলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ১০ বছরের কাজ বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিত্যক্ত হবে। কারণ তারা নাকি পদ্মা সেতুতে উঠবে না। সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এবং জনগণকে উঠতে মানা করে দিয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি মির্জা ফখরুলকে, আপনাদের এমন কোনো কাজ আছে যে কাজ স্মরণ করে এ দেশের মানুষ আপনাদের ভোট দেবে?

    আছে হাওয়া ভবন, আছে গ্রেনেড হামলা, উত্তরবঙ্গে বাংলা ভাই আর বিদ্যুতের নামে খাম্বা। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, যারা আন্দোলনে ব্যর্থ তারা নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে না।ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রাখেন, ১০ বছরে জনগণ কি তাদের আন্দোলনে সাড়া দিয়েছে? জোয়ার কি এসেছে মরা গাঙে?যৌথ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহে আলম মুরাদসহ অন্যরা।

  • মামলা মাথায় নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীরা

    মামলা মাথায় নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীরা

    মামলা মাথায় নিয়ে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রার্থীরা। একেকজন প্রার্থীর বিপক্ষে দুই থেকে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কারাবন্দী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। হলফনামায় তাঁর মামলাসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৬৮।

    তিনি ২০০৮ সালেও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাঁর প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছেন। তবে তাঁর পক্ষে কমিশনে আপিল করা হয়েছে।
    তাঁর মতো চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সম্ভাব্য বিএনপি প্রার্থীদের বেশির ভাগের ঘাড়ে মামলার বোঝা রয়েছে।

    অপর দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সিংহভাগ মামলামুক্ত। কারও কারও থাকলেও তা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন আগেই। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মামলা ছাড়া বিএনপির কেউ নেই। নেত্রী খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সবার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

    নির্বাচন সামনে রেখে চলছে হয়রানি, ধরপাকড়। নির্বাচন করতে না দেওয়ার জন্যই এই মামলা হামলা হচ্ছে।বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচ প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে। তাঁদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন (গিকা) কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-২, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম-৯, জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে হলফনামা জমা দিয়েছেন।

    ঋণখেলাপির কারণে গিয়াস কাদের ও আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়।চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালি) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৪০টি। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই।২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন শিল্পপতি সামসুল আলম। তিনি এবারও একই আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁর মামলা সংখ্যা ৭৭ উল্লেখ করেছেন। নবম সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল না। এবার তাঁর মনোনয়নও ঋণের কারণে বাতিল হয়।
    একইভাবে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে আসলাম চৌধুরীরও কোনো মামলা ছিল না। একই আসনে (সীতাকুণ্ড) আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকলেও তা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

    চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে মামলা আছে ৫টি। তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন দুটি মামলা থেকে। তাঁর মনেনায়ন খেলাপি বিলের কারণে বাতিল হয়। তিনি আপিল করেছেন।
    চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের আগে মামলা ছিল একটি। এর আগে অব্যাহতি পেয়েছিলেন ছয়টি থেকে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে আটটি। অবশ্য তা স্থগিত আছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ আফছারুল আমীনের বিরুদ্ধে আগে দুটি মামলা থাকলেও অব্যাহতি পেয়েছিলেন।

    চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মামলা ছিল দুটি। এখন তিনি ১৪টি মামলার আসামি। তিনি কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। এই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ লতিফের নামে কোনো মামলা নেই।এ ছাড়া জেলার ১০টি আসনেও বিএনপি বা ২০–দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক মামলা আছে।

    তবে পটিয়ার গাজী শাহজাহান জুয়েল, মিরসরাইয়ের মনিরুল ইউসুফ ও কামাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা নেই। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এনামুল হকের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা না থাকলেও বর্তমানে চারটি মামলা আছে। একই আসনে নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গাজী মো. সিরাজ উল্লাহও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর নামে ৮৭টি মামলা রয়েছে।চট্টগ্রাম-২ আসনে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা আছে সাতটি। এর আগে তিনি তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। এই আসনে তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

    গিয়াস কাদেরের ছেলে সামির কাদের চৌধুরী পাশের উপজেলা রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে একটি মামলার রায় হয়েছে। এতে তাঁর ছয় মাসের দণ্ড হয়। একই আসনে আওয়ামী লীগের ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ৫টি মামলা ছিল। দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি থেকে খালাস পান তিনি। এ ছাড়া অপর মামলাটি আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

  • স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দিলে শহীদরা কলঙ্কিত হবে: হাসানাত আবদুল্লাহ

    স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দিলে শহীদরা কলঙ্কিত হবে: হাসানাত আবদুল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার মার্কা নৌকায় ভোট দিন। আপনাদের অনুরোধ করছি, স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না। ওদের ভোট দিলে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে আবার জাতীয় পতাকা উড়বে, স্বাধীনতার জন্য জীবন দানকারী সব শহীদ, মা-বোনদের ইজ্জত কলঙ্কিত হবে।

    গৈলা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর মোহম্মদ গাজীর সভাপতিত্বে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে সভায় বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য গোলাম মোর্তুজা খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আশীষ দাসগুপ্ত, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ প্রমুখ।

  • নির্বাচনে কালোটাকা: নজর রাখছে দুদক

    নির্বাচনে কালোটাকা: নজর রাখছে দুদক

    নির্বাচনে কালোটাকা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তার ওপর নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয় করা হচ্ছে, সেটা সংসদ নির্বাচনের পর খতিয়ে দেখা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

    আজ বৃহস্পতিবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কেউ কালোটাকা ব্যবহার করলে তাদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাজ করতে সংস্থার গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দেশের মানুষ বা আপনারা আমরা কেউ চাই না যে নির্বাচনে কালোটাকা ব্যবহার করা হোক। আমাদের ইনটেলিজেন্স ইউনিটকে একটি গাইড লাইন দিয়েছি। সেটা আমি প্রকাশ করতে চাই না। এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কে কতগুলো গরু জবাই করলেন, কতগুলো খাসি জবাই করলেন, কতগুলো লাল পোস্টার করলেন। যেটা আইনসিদ্ধ নয়। সেগুলো আমাদের ইনটেলিজেন্স ইউনিট কালেক্ট করে একটি তালিকা তৈরি করবেন। আমরা ওই রিপোর্ট নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

    দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও প্লটে কালোটাকা চলে যাচ্ছে। এ বিষয়টি দুদক অবহিত। দুদক সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে দুদকের প্রত্যাশা। কালোটাকা যদি বিনিয়োগ হতো তাহলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারত।

    নির্বাচনী হলফনামার বিষয়ে দুদক কী ব্যবস্থা নেবে, জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই জনগণের প্রত্যাশা থাকে নেতাদের চরিত্র পূত-পবিত্র হতে হবে। আমাদের দেশেরও নেতার নেতৃত্বে অবশ্যই সততা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। এ জন্য আমি বলেছিলাম, যারা হলফনামায় তথ্য দেবেন তা যেন সঠিকভাবে দেন। হলফনামা পাবলিক ডকুমেন্ট। আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট সেগুলো সংগ্রহ করছে।’ হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য এনবিআর, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কথাও জানালেন তিনি।
    নির্বাচনে মনোনয়ন–বাণিজ্য নিয়ে যে তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে দুদক কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটা দুদকের বিষয় নয়।

    খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি দুদকের না, ব্যাংকের। তবে যদি কেউ জাল-জালিয়াতি করে ঋণ নেন, তাহলে বিষয়টি দুদকের। এ জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই একটি অডিট রিপোর্ট দিতে হবে। অনেকেই আছেন যাঁরা এনবিআরে এক রকম ও ব্যাংক ঋণের নেওয়ার সময় আলাদা অডিট রিপোর্ট দেন। আমরা এসব জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।

    এর আগে লিখিত বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান জানান, কমিশন গত ১২ বছরে (২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৮৯টি মামলা দায়ের করেছে। একই সময়ে পাঁচ হাজার ৫২০টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে (বিলুপ্ত ব্যুরো আমলের মামলাসহ)। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ বছরে ১ হাজার ৩২১টি মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে। কমিশনের মামলায় সাজার হার ২০১৭ সালে ছিল ৬৮ ভাগ। এ হার ক্রমাগত বাড়ছে। কমিশন প্রতিটি মামলা মনিটরিং করছে। মামলার বাদী, সাক্ষী ও প্রসিকিউটরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত এবং প্রসিকিউশন কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, কমিশনের প্রত্যাশা শতভাগ মামলায় সাজা দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতার ঘাটতিকে আমরা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণের পাশাপাশি একটি কারণ হিসেবে মনে করি। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করি না।

    ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে মানুষ প্রতিনিয়তই অভিযোগ জানাচ্ছে। গত বছরই কমিশন প্রায় ১৮ হাজার লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১২ হাজার ২২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইনে (১০৬) অভিযোগ জানাতে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ২২০টি ফোন কল এসেছে। এতে আমাদের মনে হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। মানুষ দুর্নীতিপরায়ণদের মন থেকে ঘৃণা করে।

    মতবিনিময় সভায় দুদকের পক্ষে আরও বক্তব্য দেন কমিশনার মোজাম্মেল হক খান ও সচিব সামসুল আরেফিন। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, আরটিভির প্রধান নির্বাহী আশিক রহমান, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল ইসলাম, একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, দেশ টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান, চ্যানেল ২৪–এর বার্তা প্রধান রাহুল রাহা, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক আশিষ সৈকত প্রমুখ।

  • চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ এরশাদের

    চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ এরশাদের

    কারও নাম না উল্লেখ করে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে ভয় করি না।’ তবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলার সময় এইচ এম এরশাদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নেই। জাপা তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। জাপা চিরদিন নির্বাচন করেছে, এবারও করবে।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কথা আছে। পাঁচ দিন আগে তিনি বাসায় ফেরেন। জাপা সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে আবার সিএমএইচে চলে যান এরশাদ।
    সোমবারই হঠাৎ করে এরশাদ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে বাদ দেন। মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগে হাওলাদারকে বাদ দেওয়া হয় বলে দলের কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছিলেন।

    আজ দলের নতুন মহাসচিবকে নিয়ে এরশাদ বলেন, ‘পুরোনো মহাসচিবকে ভালোবাসতাম। নতুন মহাসচিবকে তোমরা ভালোবাস। সে নতুন, তাঁকে সাহায্য করো।’ তিনি বলেন, ‘বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, পার্টি ছাড়ি নাই। সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেও না, আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও।’ কার্যালয় ত্যাগের আগে এরশাদ তাঁর কর্মীদের বলেন, ‘আমার ব্লাড শর্টেজ আছে, একটু বাসায় যাচ্ছি খেতে।

    এরশাদের অসুস্থাতা নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এরশাদ ‘ভয়ে থাকেন’। এ কারণে তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়। ঘুমের সমস্যা হলেও তিনি সিএমএইচে যান। বাসায় একা থাকেন বলে তাঁর একলা লাগে, ভয় করে। তা ছাড়া ইনফেকশনের ভয়ও আছে।

    ওই দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, এরশাদ এখন ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট’ থাকলেও চিকিৎসার জন্য তাঁর দেশের বাইরে যাওয়া জরুরি। কিন্তু পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ না করে তিনি দেশের বাইরে যেতে চান না। মহাজোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ১০ ডিসেম্বরের পর হয়তো এরশাদ বিদেশে যেতে পারেন।

  • বাংলাদেশকে যেন পেছন ফিরতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশকে যেন পেছন ফিরতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

    সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগের সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এমন জায়গায় দেশকে রেখে যাচ্ছি, যেন বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। সামনের দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, সে অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।

    নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে। যে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন, এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’ এগুলো একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু এই অভিযান অব্যাহত রেখে দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে।’

    কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এই যে দিকনির্দেশনাগুলো দিয়ে গেলাম, সেগুলো যদি অন্তত অনুসরণ করা হয়, তাহলে যাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি দেশের মানুষের আরও উন্নত জীবন নিশ্চিত হবে।

    ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে সনদ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।  সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি, শাহবাগ, ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর। ছবি: পিআইডিপ্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারীদের বেতন–ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা আমরা এ জন্যই করেছি, যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন।’ তিনি এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে পৃথিবীতে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দেশের অর্থনীতিটা একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে।

    পত্রিকার পড়ে গাইডলাইন গ্রহণ করি না
    শেখ হাসিনা হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, ‘পত্রিকায় এটা–ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে ঘাবড়ে যান। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি, রাষ্ট্র পরিচালনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইডলাইন গ্রহণ করি না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং নিজস্ব পরিকল্পনা। কে কী বলল, সেটা শুনে রি–অ্যাক্ট করার চিন্তাতেই আমি বিশ্বাস করি না।’ তবে, পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশটা আমার, আমার দেশকে আমি চিনি, আমি জানি দেশের জন্য কোনটা ভালো হবে। আর যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি, তখন অবশ্যই জানব কোথায় কী সমস্যা আছে, কোথায় কী করতে হবে।

    সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনো কাজ করতে গেলেই জটিলতা তার ওপর আবার মামলা। তারপরও আমরা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সচিব পদে ১৮০ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২০২৫ জন এবং উপসচিব পদে ২৬৮৬ জনকে পদোন্নতি দিতে সক্ষম হয়েছি। এ রকম পদোন্নতি বোধ হয় কোনো দিন কোনো সরকার একসঙ্গে দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটা দিতে পেরেছি।

    জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এবং জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর পদক বিজয়ী শ ম আজহারুল ইসলাম সনেট, শরিফ আসিফ রহমান এবং মো. মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী পরে সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন।