Category: রাজণীতি

  • চিত্রনায়িকা শায়লা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    চিত্রনায়িকা শায়লা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রসন) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা শায়লা।

    তিনি বিএনপির জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। তার পাশাপাশি এ আসনে বিকল্প হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেছেন শায়লা। তার এই মনোনয়ন প্রাপ্তির পরে সারা দেশেই আলোচনায় উঠে এসেছে কে এই শায়লা?

    জানা গেছে, শায়লার পুরো নাম শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রামে। এক সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়িকা ওরা কারা, ফুটপাতের শায়েনশাহ, নষ্টা মেয়ে, জ্বলন্ত নারী, ধর মফিজ, তেজী মেয়ে, যৌথ হামলাসহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন।

    গত বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় শায়লা। ঢাকায় বেড়ে উঠলেও এ সময়ে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে তার। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সরব ছিলেন তিনি।

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া রায় গ্রহণযোগ্য নয় : ফখরুল

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া রায় গ্রহণযোগ্য নয় : ফখরুল

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া এ রায় গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    ফখরুল বলেন, এই রায় সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করার জন্য সরকারের ইচ্ছায় এ রায় দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এই রায় জনগণের মাঝে প্রশ্নের উদ্রেগ করবে। জনগণ মানবে না।এ রায় জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছে। ঐক্যফ্রন্ট ও নির্বাচন প্রতিহত করতেই এই রায় দেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন,অামরা অাশা করেছিলাম, নির্বাচনের অাগেই চেয়ারপার্সন মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু সরকার অাদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই রায় দেয়া হয়েছে।

  • মনোনয়ন জমা দিতে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না: ইসি

    মনোনয়ন জমা দিতে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না: ইসি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মন্ত্রী-এমপিরা পতাকাবাহী সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি আরও বলেন, কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নিজ এলাকায় গেলে পতাকা নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

    ইসি সচিব আরও বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় শোডাইন বা সভা সমাবেশ করা যাবে না। কেউ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    নির্বাচনী কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যাতায়াতে কেবল দলীয় প্রধানরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হেলিকপ্টার থেকে লিফলেট ফেলতে পারবেন না।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধী আলীমপুত্র পেলেন চিঠি

    মানবতাবিরোধী অপরাধী আলীমপুত্র পেলেন চিঠি

    জয়পুরহাট-১ আসনেও (সদর ও পাঁচবিবি) কৌশলগত কারণে দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।গতকাল সোমবার তাঁদের এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফয়সল আলীম।

    ফয়সল আলীম সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বড় ছেলে। আবদুল আলীমকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাভোগ করার সময় মারা যান। জয়পুরহাট-১ আসনে তিনি বিএনপি থেকে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মন্ত্রী ছিলেন।

    ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান জেলার-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাজা সামছুল আলমকে ৩৪ হাজার ২৯২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে ২০১৪ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামছুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। মোজাহার আলী গত ৫ জানুয়ারি মারা যান।

    মুঠোফোনে জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি ও ফয়সল এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

    এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ সামছুল আলম।

    জয়পুরহাট-২ : জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল) আসনে দুই সাবেক সাংসদকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তাঁরা হলেন জয়পুরহাট জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা ও আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন গোলাম মোস্তফা। নির্বাচনে আবু সাঈদ পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৭২১ ভোট। গোলাম মোস্তফা ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আবু সাঈদ আল মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন।

    মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রয়াত আবদুল আলীমের ছেলে ফয়সল আলীম ছাড়াও চিঠি পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুর রহমান।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা অনেক আগে থেকেই মাঠে কাজ করছেন।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওবায়দুর রহমান চন্দন বলেন, ‘আমি নিজেও জয়পুরহাট-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দলের সাবেক দুই সাংসদ গোলাম মোস্তফা ও আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমানের নামে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করবে দল।

    গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ‘একতরফা’ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাংসদ নির্বাচিত হন। এবার অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হবেন।

    আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘সাংসদ নির্বাচিত হয়ে আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল উপজেলায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছি। টিআর ও কাবিখার শত ভাগ কাজ করেছি। গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাইনি। আশা করছি, এবার নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

  • ২ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে নির্বাচন নয়

    ২ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে নির্বাচন নয়

    বিএনপির পাঁচ নেতার দুর্নীতির পৃথক মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে করা পৃথক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই বছরের বেশি দণ্ড ও সাজা হলে সাজা মাথায় নিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে আদালত অভিমত দিয়েছেন।

    বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশের পাশাপাশি কিছু অভিমত দেন।

    আবেদনকারী পাঁচ নেতা হলেন আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মসিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব।

    আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজা মাথায় নিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে আদালত অভিমত দিয়েছেন। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল বিচারাধীন, আবেদনকারী জামিনে আছেন, জরিমানার আদেশ স্থগিত হয়েছে—এসব দণ্ড বা সাজা স্থগিতের যুক্তি হতে পারে না বলেছেন আদালত। সংবিধান সর্বোচ্চ আইন। দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্তদের নির্বাচন করার বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদে বাধা আছে।

    বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেনের আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন,ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুসারে দণ্ড স্থগিতের সুযোগ নেই বলেছেন আদালত। দণ্ড ও সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আদালতে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির করা আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, বলেছেন আদালত।

    আদালতে আমান উল্লাহ আমানের পক্ষে আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম, জাহিদের পক্ষে রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী, ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও আবদুল ওহাবের পক্ষে ছিলেন রফিক-উল হক ও ফখরুল ইসলাম। মসিউর রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল হক ও মাহবুব শফিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

  • এরশাদের ‘রাজনৈতিক অসুখ’ ও শহীদ মিলনেরা

    এরশাদের ‘রাজনৈতিক অসুখ’ ও শহীদ মিলনেরা

    সাবেক স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতে পারেন ২৮ বছর ধরে তুখোড় খেলোয়াড় হিসেবে রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বিতাড়িত হলেও এখন সোজা কথায় তিনি হলেন কিং মেকার। অবশ্য কয়েক বছর ধরে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জনগণকেও এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে তাঁর সময়ে দেশের মানুষ অনেক বেশি সুখে–শান্তিতে ছিল। ভবিষ্যতে তিনি কিং মেকার না হয়ে নিজেই কিং হবেন। জাতীয় পার্টির সর্বশেষ স্লোগান—পল্লিবন্ধু এরশাদ আরেকবার।

    এরই মধ্যে খবর এল, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিএমএইচে। দুদিন আগেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘জাতীয় পার্টি থেকে কে প্রার্থী হবেন আমিই ঠিক করে দেব।’ কিন্তু নির্ধারিত দিন তাঁর পরিবর্তে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার দলীয় নেতাদের কাছে মনোনয়নপত্র বিতরণ করছেন।

    আসন ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা দেখা দেয়। পত্রিকার খবর ছিল দলের সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু চট্টগ্রামে তাঁর আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। এরপর আওয়ামী লীগ কক্সবাজার-৩ আসনটি তাঁর জন্য ছেড়ে দিচ্ছে—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার আওয়ামী লীগ–প্রত্যাশীর অনুসারীরা কলাগাছ নিয়ে এক অভিনব মিছিল করে।

    শুধু কক্সবাজার নয়, আরও অনেক আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও অবরোধ, জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    এ অবস্থায় দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কয়েক দিন আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। এরশাদের এই অসুস্থতা দেখে ২০১৪ সালে তাঁর সিএমএইচে ভর্তি হওয়ার কথা মনে পড়ল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না। দলের নেতাদের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য চিঠিও পাঠিয়েছিলেন।

    এরপরই তিনি হঠাৎ এক রাতে বাসা থেকে সিএমএইচে স্থানান্তরিত হন। তিনিও সাংসদ নির্বাচিত হয়ে যান। কিন্তু তাঁর নির্দেশ মেনে যাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন, তাঁরা পাঁচ বছর ধরে রাস্তায়ই পড়ে আছেন।

    এরশাদ সাহেব মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েছেন। তাঁর দল থেকে যাঁরা মন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনি তাঁদের বহুবার পদত্যাগ করতে বললেও কেউ শোনেননি। এই মুহূর্তে এরশাদ আলাদা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে দলের তিন মন্ত্রীসহ অনেক নেতাই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবেন। তাই জাতীয় পার্টির আলাদা নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এরশাদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

    এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে তিনি অসুস্থ হতে পারেন না। কিন্তু তাঁর পক্ষে অসুস্থতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করা অস্বাভাবিক নয়।

    নির্বাচনের জন্য আগামী কয়েকটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর মধ্যে দুই মহাজোট আসন ভাগাভাগির কাজ শেষ করতে পারবে বলে মনে হয় না। অনেক আসনে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    নেতারা বলেছেন, হতাশ হওয়ার কারণ নেই, প্রত্যাহারের তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রার্থীদের অপেক্ষার তারিখ যেদিন শেষ হবে, সেদিনই ভোটারদের অপেক্ষার পালা শুরু হবে। তাঁরা ৩০ ডিসেম্বর পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। কিন্তু ভোটটি দিতে পারবেন কি না, সেটি নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের ওপরই।

    ২৭ নভেম্বর যেদিন এরশাদনামা লিখছি, সেদিন শহীদ মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে সাবেক স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী ডা. শামসুল আলম মিলনকে হত্যা করে। তাঁর আত্মদানের মধ্য দিয়েই নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ নেয়। এরশাদ সেদিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে সাংবাদিকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করেন। স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি।

  • বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম: ইইউ পার্লামেন্ট

    বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম: ইইউ পার্লামেন্ট

    সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল বলেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সক্ষম বাংলাদেশ সরকার। এ কারণে এ নির্বাচনে ইইউ পার্লামেন্ট কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।

    গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রক্ষণশীল সদস্য রুপার্ট ম্যাথুস বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি তাতে আমি আস্থাশীল, এই দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তিনি বলেন, আসন্ন এই নির্বাচনে ইইউ পার্লামেন্ট কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না কারণ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বিশ্বাস করে বাংলাদেশ নিজের মতো করেই নির্বাচনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভালোভাবেই প্রস্তুত।

    বাজেট বরাদ্দ না থাকায় ইইউ পার্লামেন্ট পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না, এ ধারণা নাকচ করে ম্যাথুস বলেন, ইইউ পার্লামেন্ট পর্যবেক্ষক পাঠাতে চাইলে এ বিষয়ে তারা বাজেট বরাদ্দ দিত। তিনি বলেন, ‘ইইউ পার্লামেন্ট মনে করে বাংলাদেশ নিজস্ব আইনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম। তাই আমরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন মনে করছি না।

    বিশ্বব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ইইউ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের কথা উল্লেখ করে ম্যাথুস বলেন, তাঁদের মতামত অনুযায়ী বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। তিনি বলেন, তাঁর দল সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাধারণ জনগণসহ বাংলাদেশের অনেক লোকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

    ম্যাথুস আরও বলেন, ‘নির্বাচন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামাজিক, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি।

    পর্তুগালের পার্লামেন্টের সদস্য জোয়াও পেদ্রো গুইমারেস বলেন, তাঁর দেশ ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁদের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। সফরটি বাংলাদেশ সম্পর্কে এই ভুল ভেঙে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি এ দেশ সত্যিই চমৎকার।’ বিশ্বের কাছে সত্যিকারের বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ভালো উদাহরণ। বাংলাদেশ এমন একটি চমৎকার দেশ যেখানে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং শিল্প ও এর শ্রমিকদের অবস্থান বিশ্বমানের।

    প্রতিনিধিদলে আরও আছেন ইতালির ইইউ পার্লামেন্ট সদস্য ফ্লুভিও মার্টুসিয়েলো এবং আলবার্তে সিরিও, পর্তুগিজ পার্লামেন্টের সদস্য সান্দ্রা ক্রিস্টিনা ডি সিকিওরোস পিরিয়ারা এবং যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিটির সদস্য মাদি শর্মা। তাঁরা বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। একটি জনবহুল দেশ কীভাবে গণতান্ত্রিক চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে স্বল্প সময়ে এগিয়ে যেতে পারে, বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বকে তা শিখিয়েছে।

  • নৌকার পক্ষে কাজ করতে নানক-সাদেক এক মঞ্চে

    নৌকার পক্ষে কাজ করতে নানক-সাদেক এক মঞ্চে

    দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে এক হয়ে কাজ করতে এক হলেন ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাদেক খান।

    আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক মতবিনিময় সভায় সাদেক খানকে সমর্থন জানান। এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন নানক।

    মতবিনিময় সভার শুরুতে ১০ বছরে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের উন্নয়নের প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নানক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এবার নৌকা তুলে দিয়েছেন সাদেক খানের হাতে। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ দেশকে রক্ষার স্বার্থে, নৌকার স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে। কারণ নৌকার বিজয় ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

    সাদেক খানের বিষয়ে নানক বলেন, ‘সাদেক খান এই এলাকার মাটি ও মানুষের নেতা, আমার ভাই। তিনি দীর্ঘদিন এই এলাকায় আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার সাদেক খানের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন, এ জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তিনি বলেন, নৌকার পক্ষে, শেখ হাসিনার পক্ষে এই এলাকায় নির্বাচনে কাজ করে যেতে হবে। সাদেক খানের পক্ষে কাজ করে যেতে হবে।

    সাদেক খানের উদ্দেশে নানক বলেন, ‘ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, নেতার সঙ্গে নেতার নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হতেই পারে। কিন্তু সকলকে আপনার বুকে তুলে নিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে সাদেক খান বলেন, ‘আমার বড় ভাই (নানক) যে বক্তব্য সবার সামনে দিয়েছেন, আমাকে বুকে তুলে নিয়েছেন, এর জন্য আমি তাঁকে স্যালুট জানাই।’ তিনি বলেন, ‘কেউ বলতে পারবে না আমি তাঁর (নানক) সঙ্গে কোনো দিন বেয়াদবি করেছি। আমার বড় ভাই যে বক্তব্য আজকে রেখেছেন, আমি তাঁকে সবার সামনে স্যালুট জানাই।’

    মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে আ.লীগের টিকিট পেলেন ১৫জন, হাড়ালেন চার এমপি

    বরিশালে আ.লীগের টিকিট পেলেন ১৫জন, হাড়ালেন চার এমপি

    বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টিতে দলীয় মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তবে এখন পর্যন্ত ছয়টি আসনে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন দলটি। এর মধ্যে চারটি আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েছেন।

    তারা হলেন: বরিশাল-৫ আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাংসদ আ খ ম জাহাঙ্গীর, পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য এ.কে.এম আউয়াল (সাইদুর রহমান) এবং পটুয়াখালী-৪ থেকে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান তালুকদার।

    ওদিকে অঘোষিত বাকি আসনের বিষয়ে সোমবার খোলাসা করবে আ.লীগ বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২১টি আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-২ আসনটি আ.লীগ প্রার্থীর জন্য রেখে দিলেও বাকি পাঁচটি আসন আ.লীগের শরিক মহাজোটের প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    মহাজোটের জন্য রেখে দেয়া আসনগুলো হচ্ছে বরিশাল-৩, বরিশাল-৬, পটুয়াখালী-১, পিরোজপুর-২, পিরোজপুর-৩। আর মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমান চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজের সম্ভাব্যতায় পটুয়াখালী-২ আসনটিতে প্রার্থিতা ঘোষণায় বিলম্ব করা হচ্ছে।

    এদিকে রবিবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং মুখেমুখে নানাজনের প্রার্থিতার কথা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রথমে গণমাধ্যমগুলোয় বরিশাল-৫ আসনে বর্তমান সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ মনোনয়ন পেয়েছেন বলে সংবাদ প্রচার করলেও বিকালে তা পরিবর্তন করে ওই আসনে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের নাম প্রচার শুরু করে। একই অবস্থা হয় পটুয়াখালী-৩ আসনে। সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গিরের নাম প্রচার হলেও পরে এসএম শাহজাদা সাজুর নাম প্রচার করা হয়।

    দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানান, কিছু কিছু আসনে টেকনিক্যাল কারণে দুইজনকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে। পরে এসব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

    সর্বশেষ তথ্যমতে, বরিশালের ১৫টি আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বরিশাল-১ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, বরিশাল-২ তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ২০০৮ সালে সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। জাহিদ ফারুক শামীম দলের মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। আর জেবুন্নেছা আফরোজও তার মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    পটুয়াখালী-৩ এসএম শাহজাদা সাজু, পটুয়াখালী-৪ মহিবুর রহমান মহিব, ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-৪ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পিরোজপুর-১ শ ম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি-১ বজলুল হক হারুন, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু, বরগুনা-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন। এরমধ্যে বর্তমান সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির। তারা দুজনেই মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। বরগুনা-২ আসনে মনোনীত হাচানুর রহমান রিমন।

    অবশিষ্ট পাঁচটি আসনে মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বরিশাল-৩ আসনে গোলাম কিবরিয়া টিপু বা বর্তমান সাংসদ শেখ মো. টিপু সুলতান, বরিশাল-৬ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিনের স্ত্রী বর্তমান সাংসদ নাসরিন জাহান রতনা আমিন, পটুয়াখালী-১ আসনে পেতে পারেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রহুল আমিন হাওলাদার, পিরোজপুর ২ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পিরোজপুর-৩ পেতে পারেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) বর্তমান সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী।

    এই বিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত আসবে বলে দলের বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  • এমন নির্বাচনই ইসি চায়?

    এমন নির্বাচনই ইসি চায়?

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী নির্ধারণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ রোববার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। ঐক্যফ্রন্টসহ অন্য দলগুলোও আজকালের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করবে। নির্বাচন কমিশনও ব্যস্ত।

    প্রতিদিনই কমবেশি বিভিন্ন নির্দেশ জারি করে বক্তব্য দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন: এই করা যাবে, সেই করা যাবে না। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, ভিডিও করা যাবে না, সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। এর মানে কি কোনোও কারচুপি দেখলেও ঠোঁট বন্ধ করে রাখতে হবে? নির্বাচন শেষেই কেবল মুখ খোলা যাবে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে যাবে। বিভিন্ন কারণে নির্বাচনকে ঘিরে ঠিক উৎসবের আমেজ নেই।

    স্বতঃস্ফূর্ততা, উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে সর্বত্রই যেন একধরনের অনিশ্চয়তা, শঙ্কা ও ভয় বিরাজ করছে। শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট কি নির্বাচনে থাকবে বা থাকতে পারবে? নির্বাচন কমিশন (ইসি) কি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে? পরিচিতজনদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, নির্বাচন কেমন হবে? প্রায় সবাই আমতা-আমতা করে বলেছেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। কেউই জোর গলায় বলেননি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। বরং অনেকেই শঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত নাও হতে পারে। বিগত কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা জনসাধারণের মনে খুব বেশি আশা জোগাচ্ছে না।

    যেমন নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই বুড়িগঙ্গায় ভেসে উঠেছে যশোর থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বক্করের দেহ। আবু বক্কর মনোনয়নের জন্য দলীয় সাক্ষাৎকার দিতে এসেছিলেন। এরপর তাঁকে পাওয়া যায় বুড়িগঙ্গায়। তিনি এখন সবকিছু ঊর্ধ্বে। মনোনয়ন পাওয়া-না পাওয়ার আনন্দ-হতাশা তাঁকে আর স্পর্শ করবে না। কিন্তু আবু বক্করের হত্যাকাণ্ড অন্যদের শঙ্কিত করতে পারে। এমন সময় আবু বক্করকে অপহরণ করা হয়, যখন বিরোধী মতকে মাঠে দাঁড়াতেই দেওয়া হচ্ছে না। অপহরণ, জেল, আটক, হামলা, মামলায় বিরোধী দল এখন জেরবার। এরা এখন আদালত প্রাঙ্গণেই দৌড়াদৌড়ি বেশি করছে। ভোটের মাঠে যাওয়ার সময় কই?

    রাজধানী বা মফস্বল—সব জায়গাতেই একই রকম ধাওয়ার ওপরে আছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি ভৈরব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডিবের গ্রামে বিএনপির উদ্যোগে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা করে সভা ভন্ডুল করে দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপির কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। কর্মিসভা আয়োজনকারী একজনের ভৈরব বাজারের রেস্টুরেন্টেও রাতের বেলায় ভাঙচুর করা হয়। যশোরের অভয়নগরেও বিরোধী নেতা-কর্মীদের সভায় পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ করে ভন্ডুল করে দেয়। এ রকম অজস্র উদাহরণ পাওয়া যাবে সারা দেশে। তফসিল ঘোষণার পরও বিরোধী দলকে বৈঠক পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু বিপরীতে মহাজোটের নেতা-কর্মীরা কিন্তু নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করছেন।

    মাঠপর্যায়ে বিরোধী কর্মীদের হামলা-মামলায় ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি নতুন পর্যবেক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদেরও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও কি পর্যবেক্ষকেরা বলতে পারবেন যে ভোট খুবই ভালো হচ্ছে? বা ঐক্যফ্রন্টের লোকজন যদি কোনো কেন্দ্র দখল করে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারি দলের মতো জাল ভোট দেওয়া শুরু করে, ব্যালটে আগেই সিলে দিয়ে এনে বাক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করে বা হাঙ্গামা করে, তাহলেও কি পর্যবেক্ষকেরা কোনো মতামতই দিকে পারবে না?

    কোনো মৃত ব্যক্তির ভোট দেওয়ার মতো অশরীরী ও অলৌকিক ঘটনা দেখা গেলেও কি মূর্তির ভান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। প্রতিবেদন দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? ইসি পরিষ্কার করে বলে দিলে ভালো হতো কোন কোন দলের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষকদের কী কী আচরণ করতে হবে? কারণ, নির্বাচনে নানা দল অংশ নেবে। দল অনুযায়ী মতপ্রকাশের ধরন ঠিক করে দিলে ভালো হয় আরকি।

    ইসি কেন গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের কর্মতৎপরতা সীমিত করতে চায়? নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হলে অবাধ প্রচার নিয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা ছিল না। বরং কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের চলাফেরা সীমিত করে ফেলা হলে বা প্রযুক্তির সুবিধা না থাকলে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে। অবশ্য নির্বাচনের দিন সারা দেশে মুঠোফোন তরঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সে সম্পর্কে ইসি এখনো কিছু জানায়নি। ইসিও নিশ্চয়ই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দ্বিমত করবে না। তবে কেন এত রাখঢাক করতে চাইছে?

    নির্বাচনে সম্ভাব্য দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের টেলিফোন করে খোঁজখবর নিয়েছে পুলিশ। গোপনে না। বরং বিষয়টি উল্টো। টেলিফোনে পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে এমন কোনো আইন আছে কি না, কোনো পরিবারের কেউ রাজনীতিতে যুক্ত থাকলে ওই সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। যদি এমন কোনো আইন থেকে থাকে, তবে বিগত নির্বাচনগুলোয় অনেক সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। কারণ, তাঁদের অনেকরই স্বামী, স্ত্রী, আত্মীয়–পরিজন রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

    এটা হঠকারী ও ভুল নীতি। কারও কোনো রাজনৈতিক সমর্থন বা সংশ্লিষ্টতা থাকলে পুলিশের কাছে টেলিফোনে স্বীকার করবে বলে মনে হয় না। বরং এতে করে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। সমাজে নানা ধরনের গুজবের সৃষ্টি হবে। সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করতে পারেন যে নির্বাচন কমিশন তাদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এই শঙ্কার জায়গা থেকেই অনেকে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে চাইছেন না। ইতিমধ্যেই তাঁরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। এটা সত্যি হয়ে থাকলে বোঝাই যাচ্ছে, নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কার মেঘ তৈরি হচ্ছে।

    কিন্তু শুরুতে প্রতিটি দলই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের নাগরিকেরা নড়েচড়ে বসেছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা দিয়েছে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে থাকার। সর্বশেষ নির্বাচন ঐকফ্রন্টের দলগুলো বর্জন করেছিল। এবার নির্বাচন করতে চাইছে। অবস্থানের পরিবর্তন হতেই পারে। রাজনীতিতে কখনো এক পা এগোলে সময়ে আবার কয়েক পা পেছাতেও হয়। ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো গতবার পৃথকভাবে এক পা পেছালেও এবার সম্মিলিতভাবে কয়েক পা এগিয়েছে। কিন্তু এবার এগিয়ে এলেও তাদের চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নিয়ে কোথায় যেন একটু ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    এক নজিরবিহীন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে দেশ। যদি রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তা খুবই নজিরবিহীন এক ঘটনা হবে। কারণ, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির নেই। আর যদি শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে না থাকে এবং তাদের হামলা, মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে বের করে দেওয়া হয়, সেটাও হবে নজিরবিহীন। কারণ, বাংলাদেশে এর আগে নির্বাচনে ইচ্ছুক কোনো দলকে এভাবে হামলা, মামলা ও ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।