Category: রাজণীতি

  • জামায়াত ৬১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলবে

    জামায়াত ৬১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলবে

    জাতীয় সংসদের ৬১টি আসনে মনোনয়ন ফরম তুলবে জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

    স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারিয়েছে। এ অবস্থায় দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়।

    ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুর রহমানের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন নেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিমসহ কয়েকজন নেতা।

    অবশ্য অনেক আগে থেকে শোনা যাচ্ছিল শফিকুর রহমান নিজ এলাকা মৌলভীবাজার-২ আসনের বদলে সিলেট সদর আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। এখন ঢাকা-১৫ আসন থেকে কেন মনোনয়ন ফরম নিলেন, এ বিষয়ে দলীয় একটি মাধ্যমে শফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য চেয়ে প্রশ্ন পাঠালে তাঁর পক্ষে লিখিত জবাব দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে এ আসনে প্রার্থী হতে অনুরোধ করা হয়েছে। শফিকুর রহমান জামায়েতের পক্ষ থেকে জোটের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান, তাই দল ও জোটের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য তাঁর ঢাকায় অবস্থান প্রয়োজন।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত হামিদুল্লাহ খান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন।

    পাবনা-১ আসন থেকে জামায়াতের সাবেক আমির (যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) মতিউর রহমান নিজামী দুবার সাংসদ হয়েছিলেন। তাঁর ছেলে নাজিব মোমেনকে প্রার্থী করা হবে বলে প্রচার ছিল। কিন্তু গতকাল পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম নেন জামায়াতের নেতা আবদুল বাসেত। গতকাল জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে দলটির ফজলুর রহমান মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

    গত রোববার চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৫ আসন (সাতকানিয়া) থেকে আ ন ম শামসুল ইসলাম মনোনয়ন ফরম নেন।

    জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াতের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে ৬১টি আসনে তারা মনোনয়ন ফরম তুলবে।

    তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সমঝোতা হলে এবার জামায়াতকে ২০–২৫টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের ৩৫টি আসন দেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে ২০-দলীয় জোটের শরিক আটটি নিবন্ধিত দলকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে বলেছে। বিএনপির মহাসচিব এই চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনে জোটগত মনোনীত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

    জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

  • সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেবেন: সিইসি

    সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেবেন: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, যে যেই অবস্থানে থাকুক না কেন, প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে হবে। সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আইনগতভাবে কেউ যেন বঞ্চিত না হন, আবার কেউ যেন বাড়তি সুবিধা না পান।

    আজ বুধবার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে তাঁদের উদ্দেশে সিইসি এসব কথা বলেন।

    কে এম নুরুল হুদা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলেন, ‘প্রার্থী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখবেন। তাতে তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। পেশা ও দায়িত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ যেন নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করতে না পারে, সেটা দেখবেন।

    সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিইসি আরও বলেন, ‘ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের। কেন্দ্রগুলো জনগণের সুবিধাজনক জায়গায় স্থাপন করবেন। প্রার্থী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে যদি কেন্দ্র থাকে এবং সেটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, তবে তা ঠিক করা আপনাদের কাজ।

  • মনোনয়ন লড়াইয়ে দেবর–ভাবি

    মনোনয়ন লড়াইয়ে দেবর–ভাবি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান এবং তাঁর বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম।

    এই আসনে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক সাংসদ আবুল কালামসহ ৩ জন।

    পারভীন ওসমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, তাঁর পক্ষে দলের নেতা–কর্মীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর আগে সাংসদ সেলিম ওসমান দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

    এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, আরজু রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাল, জি এম আরাফাত, আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ।

    নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনীতির কারণে তিনি নারায়ণগঞ্জে সুপরিচিত।

    এ আসনে বিএনপি থেকে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আবুল কালাম, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম খন্দকার, সুলতান মাহমুদ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    পারভীন ওসমান বলেন, ‘আমার দলের নেতা–কর্মীরা চান আমি নির্বাচন করি। আমার পক্ষে দলের নেতা–কর্মীরা মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। যাঁরা নাসিম ওসমানকে ভালোবাসেন তাঁরাই আমার কর্মী। তাঁরা আমাকে চান।’

    এস এম আকরাম বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচন করব। জোটের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে জোটের অংশীদারেরা কে কয়টা আসন পাবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে আমি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

    জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে দল যদি তাঁকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

  • মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদের

    মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের একটি গাড়ি প্রায় পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখবে আওয়ামী লীগ।

    আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, এই উসকানি কারা দিল? নির্বাচন পেছানোর জন্য বিএনপি এই উসকানি শুরু করে দিল? তারা কি জানান দিল যে ২০০১, ২০১৪–এ যেটা করেছে, সেটাই করবে? তিনি বলেন, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আজ পুলিশের ওপর সাঁড়াশি হামলা করে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া নেতারা স্বরূপ প্রকাশ করেছেন।

    বিএনপির নেতা-কর্মীর একটি মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংঘর্ষের ঘটনার কিছু পরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

  • বরগুনা-১ আসনে আ.লীগ থেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন ৫২ জন

    বরগুনা-১ আসনে আ.লীগ থেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন ৫২ জন

    বরগুনা-১ আসনে কেবল আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৫২ জন। এত সংখ্যক ফরম সংগ্রহের পেছনে দলীয় কোন্দল অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন।

    যাঁরা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাঁদের একটি অংশ বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

    দলীয় কোন্দলের কারণে জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ গত ৪ সেপ্টেম্বর বরগুনায় সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

    জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক ও মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ‘সাংসদ এমন সব পর্যায়ের লোকজনকে দিয়ে মনোনয়ন ফরম কিনিয়েছেন যে এলাকায় মুখ দেখানো যায় না। সাংসদ জানেন এঁরা কারা, এঁদের পরিচয় কী।’

    সাংসদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন বলেন, ‘দলীয় কোন্দলের কারণে গণহারে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা নোংরা রাজনীতির খেলা। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

    যাঁরা ফরম নিয়েছেন

    যাঁরা ফরম নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুর আহসান, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক জোমাদ্দার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরওয়ার ফোরকান, আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জামাল বিশ্বাস, প্রয়াত সাবেক সাংসদ নিজাম তালুকদারের স্ত্রী জাকিয়া এলিচ এবং প্রয়াত সাংসদ সিদিকুর রহমানের মেয়ে সোহেলী পারভীন, সাংসদ শম্ভুর স্ত্রী মাধবী দেবনাথ, বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রইসুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান, বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদের ভায়রা সিদ্দিকুর রহমান, আমতলী পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, তালতলী উপজেলা পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

  • ইসির সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের ১৪ নেতা

    ইসির সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের ১৪ নেতা

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক চলছে। নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেন। অপর দিকে কমিশনের পক্ষে বৈঠকে আছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা।

    নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট ইসির সঙ্গে এই বৈঠক করছে। যদিও গতকাল মঙ্গলবারই সিইসি জানিয়েছেন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথমে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে এ বৈঠকের কথা জানানো হলেও পরে ইসির পক্ষ থেকে পরিবর্তিত এই সময়ের কথা জানানো হয়।

    ইসির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া ঐক্যফ্রন্টের এই প্রতিনিধি দলে আছেন, ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মওদুদ আহমদ, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তাফা মহসীন মন্টু, মোদাব্বির খান, এস এম আকরাম, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও আবদুল মালেক রতন।

    এদিকে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ইসির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মির্জা ফখরুল নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার পরিবেশ ঘোলাটে করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।

    আজ বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

  • সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

    আজ বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা একটি চক্রান্ত। আমরা নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে নমিনেশন নেওয়ার জন্য তাদের লোকজন ভিড় করেছে, তখন কিছু করেনি।’

    উসকানি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে চিঠি দিল। এই চিঠি দিয়ে আজকে পুলিশের অ্যাকশন। প্রভোকেশন (উসকানি) করে নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।

    আজ বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের একটি পিকআপসহ দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া প্যালেট বুলেটে (ছররা গুলির মতো) বিএনপির কমপক্ষে ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ রাস্তায় তাঁদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। বেলা পৌনে একটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন।

    ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে কর্মী-সমর্থকেরা সরে না যাওয়ায় একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি মিছিলের ওপর উঠে যায়। ওই সময় কয়েকজন আহত হন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ প্যালেট বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। তবে বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। তাঁরা রাস্তায় চলাচল করা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্যালেট বুলেটে আহতরা হলেন: পিরোজপুরের নেছারাবাদের মো. শামসুল হক, রাজধানীর মুগদার মেহেদি হাসান মিরাজ, অরিন, পল্টনের মো. কাদির, হৃদয় শেখ, মতিঝিলের মকবুল হোসেন, সবুজবাগের মনির হোসেন, খিলগাঁওয়ের মোস্তাক, কলাবাগানের সুমন, বিমানবন্দর থানা এলাকার মহিউদ্দিন রতন, মাদারীপুরের সাখাওয়াত হোসেন এবং পিরোজপুরের আসাদুজ্জামান। তাঁদের গলা, মাথা ও পিঠে গুলির আঘাত লেগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

  • ঐক্যফ্রন্ট হতাশ, কাল ইসিতে যাবে

    ঐক্যফ্রন্ট হতাশ, কাল ইসিতে যাবে

    বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তা করা হয়নি। এতে তাঁরা অত্যন্ত হতাশ।

    আজ মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল, ড. কামাল হোসেন, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে আগ্রহী নয়। তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি অন্তত জরুরি। ভোট গ্রহণের যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে সময় বড়দিনের ছুটি থাকবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এখানে আসার সুযোগ থাকবে না। এগুলোসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল নির্বাচন কমিশনে যাবে। নির্বাচন কমিশন কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসবে বলে আশা মির্জা ফখরুলের।

    ১৬ নভেম্বর প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে বসার সময় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

  • ইভিএমের কেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী

    ইভিএমের কেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পৃক্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ইসি সশস্ত্র বাহিনীর ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং ২১০ জন জেসিও ও অন্যান্য পদবির সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ইসি সচিবালয় থেকে প্রশিক্ষণের জন্য জনবল চেয়ে গত ১২ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন।

    জানতে চাইলে আবদুল বাতেন আজ মঙ্গলবার বলেন, মূলত ইসির জনবল ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পরিচালনা করবে। সে জন্যই জনবল চাওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয়েছে, ইসি ইতিমধ্যে স্বল্প পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করেছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসি। এ জন্য ইসি উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ইভিএম পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইভিএম পরিচালনার জন্য ইসির যে জনবল আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই জনবল দিয়ে সারা দেশে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা অসম্ভব। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেক ঘাঁটি, অঞ্চল ও ডিভিশন থেকে কর্মকর্তা, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সামরিক সদস্যদের ৩ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্ব স্ব ঘাঁটি, অঞ্চল ও ডিভিশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেবেন। পরবর্তী সময় সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যরা আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে জনসাধারণকে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।

  • মিম্বারের ঠকচি, ইলেকশন বড়ডা-ই করমো: হিরো আলম

    মিম্বারের ঠকচি, ইলেকশন বড়ডা-ই করমো: হিরো আলম

    হ্যালো, হিরো আলম বলছেন?
    হিরো আলম: কচ্চি, কে কচ্চেন?
    -দলীয় মনোনয়ন তুললেন? নির্বাচন করবেন?
    হিরো আলম: বগুড়া-৪ আসন থ্যাকে ইলেকশন করিচ্চি। জাতীয় পার্টি থ্যাকে মনোনয়ন তুলচি। আজ (মঙ্গলবার) মনোনয়ন জমা দিচ্চি। কেন্দ্রীয় নেতা জিএম কাদের আর নায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা হামাক সাহস দিচ্চে, উৎসাহ যোগাচ্চে। এমপি হবার পারলে মন্ত্রীও করবে কচ্চে।

    -কিন্তু আপনি বগুড়া সদরের বাসিন্দা? অন্য এলাকার ভোটার আপনাকে চিনবে?
    আপনাকে ভোট দিবে?
    -হিরো আলম: হামাক চিনে না বগুড়াত লোক কম আচে। হিরো আলম এখন ওয়াল্ড ফেমাস স্টার। হামার বাড়ি বগুড়াত। সদরত ভোট করবার চাচনো। কিন্তু অন্য এডা কারণে কাহালু-নন্দীগ্রামত ভোট করিচ্চি। ওই এলাকাত হামার বহু ভক্ত, সগলি হামাক চিনে। জনগণের ভালোবাসায় হামার সম্বল। ক্যানডিডেট হলে হামিই জিতমো।

    -আপনি তো আগে ইউপি সদস্য পদেও নির্বাচন করে হেরেছেন? সংসদ নির্বাচনে জিতবেন কীভাবে?
    হিরো আলম: ভোটত জিততে টেকা লাগে না, সাহস লাগে। ভোটারের ভালোবাসা, সমর্থন লাগে। সেডা হামার আচে। আগে দুইবার মিম্বারত দাঁড়াচি। ৬ জন ক্যানডিটেড আচল। একবার ৭১, আরেকবার ১৬ ভোটে মিম্বার ইলেকশনত ঠকচি। মেম্বারের ভোটত ফেল করার পর খুব কষ্ট পাচি। তখন হিরো আলমক কেউ চিনিচ্চিল না। সগলিক সেদিন কচলাম ভোট করলে বড়ডা-ই (সংসদ নির্বাচন) করমো। এখন হিরো আলম ওয়াল্ড সেলিব্রিটি। গোটা বিশ্বে সগলি হামাক চিনে। হামি জিরো থেকে হিরো আলম, এজন্যি বড় নির্বাচনডা-ই করারই সিদ্ধান্ত লিচি।

    -আপনি যেখানে নির্বাচন করার কথা বলছেন সেখানে তো অনেক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, জাসদের বর্তমান সাংসদ একেএম রেজাউল করিম তানসেন, বিএনপি থেকে চারবার নির্বাচিত জিয়াউল হক মোল্লা। এসব নেতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?

    হিরো আলম: নেতাগেরে টেকা আচে, হামার আচে জনগণের ভালোবাসা। ৫০০ মিউজিক ভিডিও, ৮০ টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মারছক্কা’র হিরো হামি। বলিউলের’ বিজু দ্যা হিরো’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হইচি। দুনিয়াজুড়ে কোটি ভক্ত হামার। ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ৩ লাখ ৩১ হাজার। হিরো আলমের প্রতি মানুষের সেই ভালোবাসার জোরেই নির্বাচনে জিতমো হামি। হামার নেতা হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসলে মন্ত্রীও হবার পারি।

    -শুনলাম আপনি বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে লড়তে বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের চেষ্টা করেছিলেন।
    হিরো আলম: ওগলা যারা কচ্চে, তারা সগলি না জানেই কচ্চে। সদরে হামি ভোট করবার চাচলাম, তবে আওয়ামী লীগ থ্যাকে লয়। জাতীয় পার্টি কথা দিলে রাখে, এ জন্যি লাঙল মার্কার প্রার্থী হবার চাচ্চি।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তুমুল আলোচনায় আসা কেবল ব্যবসায়ী থেকে ঢালিউড ও বলিউডের অভিনেতা বনে যাওয়া বগুড়ার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম মঙ্গলবার এভাবেই মুঠোফোনে বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় বলছিলেন।
    বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটির ‘লাঙল’ মার্কায় নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে ব্যাপক আলোচিত হিরো আলমের হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় নতুন করে আলোচনায় তিনি। মঙ্গলবার দিনভর বগুড়ার সর্বত্র আলোচিত হয় হিরো আলমের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি। হিরো আলমের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছে। বগুড়ার প্রত্যন্ত এরুলিয়া গ্রামে একসময় সিডি বিক্রি করতেন আশরাফুল আলম। সিডি যখন চলছিল না তখনই মাথায় আসে কেবল সংযোগ ব্যবসার। কেবল সংযোগের ব্যবসার সুবাদে মিউজিক ভিডিও তৈরি শুরু করেন। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হিরো আলম। ইউটিউবে প্রকাশ করা তাঁর নিজস্ব ভিডিওগুলোও অনেক জনপ্রিয়। ভিডিওগুলোর নির্দেশনাও দেন হিরো আলম। ভিডিওগুলোর মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ইউটিউবে হিরো আলমের এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তাঁর ভিডিও নিয়ে কৌতুক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তাঁর ভিডিও নিয়ে হয় ট্রল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

    হিরো আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই কর বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। সিডির ব্যবসার সুবাদে ২০০৮ সালে নিজেই একটা মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন। নায়ক-নির্দেশক তিনি নিজেই।
    এরপর তা কেবল চ্যানেলে প্রচার করেন। পরিচিতরা প্রশংসা করেন। আলম সিডি ব্যবসা বাদ দিয়ে মিউজিক ভিডিও বানানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হিরো আলম ইতিমধ্যেই ‘মার ছক্কা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি।
    ২০১৬ সালে হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শিরোনাম হন তিনি। ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়।

    হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করায় বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। সেখানে হিরো আলমকে বাংলাদেশের বিনোদনজগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়।
    ফেসবুকে হিরো আলমের রেকর্ড অনুসারীর ভিত্তিতে গুগল তথ্য তথ্য প্রকাশ করে বলিউড নায়ক সালমান খানের চেয়েও হিরো আলমকে গুগলে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। আল্টিমেট ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ইউএনবির খবরে বলা হয়েছে, গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে,‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকা খ্যাত সালমান খানকে পেছনে ফেলেছেন হিরো আলম। সালমানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে।

    হিরো আলমের বিপক্ষে লড়বেন কারা :

    হিরো আলম লাঙল প্রতীকে যে আসনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত সেই বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪১ জন। ১৯৯১ সালে এই আসনে বিএনপির সাংসদ নির্বাচিত হন দলের প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে প্রয়াত সাংসদের ছেলে জিয়াউল হক মোল্লা দলীয় মনোনয়নে সাংসদ হন। এ ছাড়া তিনি আরও তিন দফা সাংসদ হন। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সংস্কারপন্থী নেতাদের পক্ষ নেওয়ায় জিয়াউল হক মোল্লা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে বাদ দিয়ে মোস্তফা আলী মুকুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি মহাজোট মনোনীত জাসদের প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে হারিয়ে সাংসদ হন।

    ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগে সমঝোতার ভিত্তিতে জাপার নুরুল আমিনকে জেতার সুযোগ করে দিতে মাঠ ছেড়ে দেয়। কিন্তু মহাজোটের অন্যতম শরিক জাসদের রেজাউল করিম তানসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জাপার প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি সাংসদ হন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কার পন্থী জিয়াউল হককে ইতিমধ্যেই দলে ফিরিয়ে এনে প্রার্থী করতে যাচ্ছে বিএনপি। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ২৮ অক্টোবর নির্বাচনী জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে একেএম রেজাউল করিম তানসেনকে (জাসদ) ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনও এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।