Category: রাজণীতি

  • নির্বাচনে কোন আসনে কোন তারকা

    নির্বাচনে কোন আসনে কোন তারকা

    নির্বাচন এ দেশের মানুষের কাছে জাতীয় উৎসব। অনেক আশা আর প্রত্যাশার ভেলা ভাসিয়ে নাগরিকেরা নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব তুলে দেন প্রতিনিধিদের হাতে। ভোটের বাক্সে রায় দিয়ে সেরা মানুষটিকে সংসদে পাঠান।

    আবারও শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নির্বাচন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। সেই দিনটিকে সামনে রেখে চলছে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন বিতরণ। এরই মধ্যে গেল শুক্রবার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছে দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগ।

    সেখানে দেখা গেছে তারকাদের ভিড়। আওয়ামী লীগের গয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে রীতিমত হিড়িক পড়েছে তারকাদের। তারা নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস থেকে।

    সেখানে গাজীপুর-৫ আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন চিত্রনায়ক ফারুক। চিত্রনায়িকা কবরী তার আগের আসন নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে এবার মনোনয়ন চাইছেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে। নীলফামারী-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর।

    সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ মনোনয়নপত্র কিনেছেন মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে। অভিনেত্রী তারানা হালিম তালিকায় আছেন টাঙ্গাইল-৬ এর প্রার্থী হিসেবে।

    চিত্রনায়ক শাকিল খান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান বাগেরহাট-৩ আসনে। ঢাকাই সিনেমার ডেঞ্জারম্যান খ্যাত অভিনেতা ডিপজল মনোনয়নপত্র কিনেছেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে।

    একই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন অভিনেত্রী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচী। তারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন ফেনী-৩ আসন থেকে।

    নরসিংদী-৫ রায়পুরা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা ড. মাসুদ পথিক। ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর) আসনের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান।

    আছেন ক্রিকেট তারকারাও। ক্রিকেটার মাশরাফি মনোনয়নপত্র কিনেছেন নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে। ক্রিকেটার দুর্জয় মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়পত্র কিনেছেন।

    তবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা গেলেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেননি অভিনেত্রী শাবানার স্বামী প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক, চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও শাকিব খান।

    এদিকে আজ সোমবার (১২ নভেম্বর) থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছেন বিএনপি। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয় চাইছেন কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা। সিলেট-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোয়নয়পত্র কিনেছেন চিত্রনায়ক হেলাল খান।

    দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। তিনিও এবার অংশ নেবেন নির্বাচনে। নীলফামারি-৪ আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তিনি।

    বিএনপি থেক নির্বাচনে অংশ নেবেন কণ্ঠশিল্পী মনির খানও। ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনবেন তিনি।

    এছাড়াও হিরো আলম বগুড়া-৬ আসন থেকে সতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। নায়ক সোহেল রানাকে ঢাকা-১৮ আসনে দেখা যেতে পারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে।

  • খালেদা নয় জোবাইদা

    খালেদা নয় জোবাইদা

    বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি জিয়া পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা চারবার এখান থেকে এমপি হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

    তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রার্থিতা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ফলে এই আসন থেকে তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে চায় বগুড়াবাসী। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এই আসন থেকে জোবাইদা রহমান কিংবা খালেদা জিয়া অথবা জিয়া পরিবারের উত্তরসূরিকেই চান তারা।

    যদিও এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম কেনার মধ্য দিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছে।

    এর মধ্যে দুটি হলো বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন। অতীতে বগুড়ার এই দুই আসন থেকে জয়লাভের পর বগুড়া-৬ আসন নিজের জন্য রেখে বগুড়া-৭ আসনটি ছেড়ে দিতেন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে উপ-নির্বাচন করে দলের কোনো এক সিনিয়র নেতাকে দেয়া হতো।

    তবে এবার বেগম জিয়া আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি-না সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, বেগম জিয়া না হলে জোবাইদা রহমান কিংবা জিয়া পরিবারের উত্তরসূরিকেই চান তারা।

    বগুড়া জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, জিয়া পরিবার ছাড়াও বগুড়ার এই দুটি আসনে অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন।

    যারা ধানের শীষে নির্বাচন করে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে তারা চান জিয়া পরিবারের উত্তরসূরিদের কেউ এখানে নির্বাচন করে ঐতিহ্য ধরে রাখুক। কারণ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া। এখানে বিএনপির প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মতো সাধারণ মানুষের দাবি, এখানে জিয়া পরিবারের কেউ একজন নির্বাচন করুক। সেক্ষেত্রে বেগম জিয়ার বিকল্প হতে পারেন জোবাইদা রহমান।

    এদিকে খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১ আসনে ফখরুল, বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং বগুড়া-৭ আসনে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তিনজনের হাতে মনোনয়ন ফরম তুলে দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তবে বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু কারাগারে সেহেতু বগুড়ার দুই আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন এমন প্রশ্ন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। শুধু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নন, জেলার শীর্ষ নেতারাও বিষয়টি জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। পাশাপাশি বেগম জিয়া যদি নির্বাচন করতে না পারেন সেক্ষেত্রে জোবাইদা রহমানকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

    জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, আমরা এখনও নিশ্চিত নই কে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে আমরা চাই খালেদা জিয়া অথবা জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি এই দুই আসন থেকে নির্বাচন করুক।

    তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। তবে শেষ কথা হলো- জিয়া পরিবারের উত্তরসূরিকেই এই দুই আসন থেকে চায় বগুড়াবাসী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, আইনি জটিলতায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে তার পরিবারের সদস্যদের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন এক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের মধ্য থেকে প্রার্থী বেছে নেয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

    ফলে এখন থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হচ্ছে স্থানীয় নেতাদের। তবে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। খালেদার বিকল্প হিসেবে আসতে পারেন তারাও।

    এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান বলেন, ম্যাডামের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ এখনও আছে। আমাদের প্রত্যাশা, বরাবরের মতো বগুড়ার দুটি আসনে নির্বাচন করবেন ম্যাডাম।

    যদি ম্যাডাম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি।

    বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। শীর্ষ নেতারা যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেভাবেই কাজ করব। তবে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাচ্ছেন। সেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় তারা উপস্থিত থাকবেন। কোথায় কাকে দেয়া হবে বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

    তবে বিএনপির স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কোনো কারণে খালেদা জিয়া কিংবা জিয়া পরিবারের কেউ প্রার্থী হতে না পারলে বগুড়ায় দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান ও বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে সাবেক এমপি এবং জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বিকল্প হতে পারেন। এই দুই নেতা এখন কেন্দ্রের ডাকে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনে জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চান, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর হেনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল এবং বগুড়া-৭ আসনে গাবতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন ও শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল নির্বাচন করতে আগ্রহী।

  • খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ : মির্জা ফখরুল

    খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ : মির্জা ফখরুল

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে খুবই অসুস্থ। সুচিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দিয়ে বিএসএমইউতে স্থানাস্তরের আহ্বান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এই কথা জানান বিএনপির মহাসচিব।

    তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারাগারে স্থানাস্তর করা অমানবিক। আমরা তার সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি।

  • মনোনয়নপত্র কিনলেন হিরো আলম

    মনোনয়নপত্র কিনলেন হিরো আলম

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। সোমবার জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

    বগুড়া-৬ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা। তিনি বিকাল ৫টার দিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

    এসময় হিরো আলম বলেন, আমি আগে থেকেই একটু বেশি সাহসী তা তো আপনারা জানেনই। আমার জীবনে ব্যর্থতা বলতে কিছু নেই। এখানেও আমি আশাবাদী।

  • রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

    রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

    পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলাও করা যাবে না।

    শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষুদে বার্তায় এই নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    ক্ষুদে বার্তার শিরোনামে লেখা ছিল ‘SUSPENSION OF POLITICAL ARREST (রাজনৈতিক গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ)’। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ও তার ঊর্ধ্বতনদের পাঠানো এই ক্ষুদে বার্তায় কমিশনার বলেন, ‘You are requested not to make any political arrest and not to record any political case without our knowledge until further order as instructed by hon home minister. Thanks, PC DMP’ (পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের অবগত না করে কোনো রাজনৈতিক গ্রেফতার ও মামলা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।

    এই বার্তার কিছুক্ষণ পর আরেক বার্তায় কমিশনার জানান, ‘CLARIFICATION : No bar to execute warrants of Arrest, No bar to lodge case if any incident happens, It’s a short term strategy to see the political developments in the country.’ (ব্যাখ্যা : গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার ও কোনো দুর্ঘটনার মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা)।

    এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ কখনও সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। বাংলাদেশ পুলিশ একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে কখনওই এমন করে না। এটি পুলিশের পেশাগত আচরণ ও নীতির পরিপন্থী। পুলিশ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতো না, মামলা দিত না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক (লিখিত) কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

    তবে পুলিশের একাধিক উপ-কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ডিএমপি কমিশনারের মোবাইল থেকে এই ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একটি দাবি ছিল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের গত বৃহস্পতিবারের রাজশাহী অভিমুখের রোডমার্চটিও বাতিল করা হয় এই কারণে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান বলেন, এই নির্দেশনা যদি আন্তরিক হয় তাহলে মঙ্গল, আর যদি রাজনৈতিক হয় বিপজ্জনক। আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোকেও তাদের মানতে হবে।

    দ্বিতীয় দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা-গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের তালিকা দেন।

  • খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে ৫ নেতা

    খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে ৫ নেতা

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে গেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা। আজ সোমবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাঁরা কারাগারে ভেতরে ঢোকেন।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে কারা ফটকের সামনে অপেক্ষা করছেন বিএনপির ৫ নেতা। ছবি: দীপু মালাকার

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া পাঁচ নেতা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস।

    কারাগারের ভেতর ঢুকছেন বিএনপির ৫ নেতা। ছবি: দীপু মালাকারকারাগারের ভেতর ঢুকছেন বিএনপির ৫ নেতা।

    মালাকারবিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী আছেন। দুর্নীতির দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালত ১৭ বছর জেল দিয়েছেন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আজই প্রথমবারের মতো দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে গেলেন।

  • আ.লীগের মনোনয়ন দৌড়ে অনেক হোমরাচোমরা

    আ.লীগের মনোনয়ন দৌড়ে অনেক হোমরাচোমরা

    আলোচিত ব্যক্তি, তারকা, বড় ব্যবসায়ী—এই তিন শ্রেণির ব্যক্তিরা এবার ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন–দৌড়ে অংশ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। চলচ্চিত্র তারকা, ক্রিকেটারসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা রীতিমতো মহড়া দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন।

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, ভোটের আগেই মাঠ গরম করার একটা কৌশল ছিল। এ জন্য নামকরা কিছু ব্যক্তি ও সাবেক ছাত্রনেতাকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবার প্রার্থীদের অনেকের মধ্যে এমন ভাবনা যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেই জয় নিশ্চিত। এ কারণেও এবার মনোনয়ন কেনার হিড়িক পড়ে গেছে।

    মনোনয়ন–দৌড়ে শরিক হয়েছেন এক–এগারোর আলোচিত ব্যক্তি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও। গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি। এই কমিটির অধীনেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এক–এগারোর পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চাকরির মেয়াদও কয়েকবার বাড়ানো হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে ফেনী-৩ আসনে (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) নির্বাচন করতে চান তিনি। গত শনিবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তা জমাও দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি নির্বাচন করতে আগ্রহী। দলীয় ফরম কিনে তা জমা দিয়েছি। বাকিটা নেত্রীর সিদ্ধান্ত।’

    গতকাল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। গতকাল দুপুরে মিছিলসহকারে ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া নেন। মাশরাফি নড়াইল-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এই আসনের বর্তমান সাংসদ ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির হাফিজুর রহমান।

    জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বলে আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সাকিব মত পাল্টান। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে খেলায় মনোযোগ দিতে বলেন। এই আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শেখর।

    মনোনয়ন ফরম বিতরণের প্রথম দিনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদাও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিএনপি ছাড়ার পর বিএনএফ হয়ে তিনি বিএনএ জোট গঠন করেন। তবে এই জোটের কোনো দলেরই নিবন্ধন নেই।

    ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র হন মনজুর আলম। সর্বশেষ ২০১৬ সালেও বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছে হেরে যান। এবার আওয়ামী লীগের হয়ে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী, হালিশহর, খুলশী) আসনে প্রার্থী হতে চান তিনি।

    আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অসুস্থ্ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) আসন থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ভাই সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম, চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রাসেল আহমেদ, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    তারকা প্রার্থী
    তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ দীর্ঘদিন ধরেই। এবার তিনি টাঙ্গাইলের একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার বর্তমান সাংসদ। আবারও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনি। অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী ২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর আসন থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। এবার তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। অভিনেতা শাকিল খানসহ আরও কিছু চলচ্চিত্র তারকা আওয়ামী লীগের দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    অভিনয়শিল্পী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ফেনী-৩ আসনে (সোনাগাজী-দাগনভূঞা)। এখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও সাবেক আমলা আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিমও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এই আসনের বর্তমান সাংসদ রহিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের নেতা। তবে স্বতন্ত্র হিসেবে গত নির্বাচনে জয়ী হন।

    চিত্রনায়ক ফারুক গাজীপুর-৩ আসনে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে তাঁর পদচারণ খুব একটা নেই। এ আসনে বর্তমান সাংসদ প্রবীণ নেতা রহমত আলী। ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তরুণ অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি।

    ব্যবসায়ী নেতা
    ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান ঢাকা-১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ আরেক ব্যবসায়ী গ্রুপ যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী সালমা ইসলাম। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক।

    তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মোর্শেদী সম্প্রতি খুলনা-৪ আসন থেকে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। গতকাল বিকেলে তিনি ওই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক দুই সভাপতি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। এই আসনের বর্তমান সাংসদ সোলায়মানুল হক জোয়ার্দার একাধিকবারের সাংসদ। আর ফরিদপুর-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক সভাপতি দিলীপ রায় ও কাজী সিরাজুল ইসলাম। এখানে বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান।

    নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদ কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। বর্তমানে এই আসনের সাংসদ মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির আমির হোসেন।

    এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পরিচালক আবু নাসের, আমিনুল হক শামীম, মাসুদ পারভেজ খান, তাবারুকুল তোসাদ্দেক খান টিটু ও রেজাউল করিম রেজনু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। মাসুদ পারভেজ খান ২০১৪ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কাছে হেরে যান। তাঁর বাবা আফজল খানের সঙ্গে বাহাউদ্দিনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এবার মাসুদ পারভেজ ছাড়াও তাঁর বাবা আফজল খান ও বোন আঞ্জুম সুলতানাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আমিনুল হক ময়মনসিংহ সদর আসনের জন্য ফরম সংগ্রহ করলেও এই আসনের বর্তমান সাংসদ রওশন এরশাদ। এফবিসিসিআইএর সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    এর বাইরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে মোহাম্মদ নাসির, এস এম মান্নান, আসলাম সানি, মশি উজ জামান, মঈন উদ্দিন আহমেদ, নুরুল আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট করার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    অন্যান্য
    দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসন (মাধবপুর-চুনারুঘাট) থেকে। কুমিল্লা-৭ আসন থেকে ভোট করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করে তা জমাও দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজ এলাকায় বিনা পয়সায় চিকিৎসা প্রদানসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। অবশ্য সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর থেকেই তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।

  • কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফকেই প্রার্থী করছেন শেখ হাসিনা

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফকেই প্রার্থী করছেন শেখ হাসিনা

    স্বাস্থ্যগত অবস্থা যাই হোক কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কোন বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ। এই আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, “আশরাফের শ্বাস থাকা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-১ থেকে যেন কেউ মনোনয়ন চাইতে না আসে। আশরাফ অসুস্থ থাকলে প্রয়োজনে আমি গিয়ে তার পক্ষে ভোট করবো।

    আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘দলের প্রতি আনুগত্য এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে সৈয়দ আশরাফকেই কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী করছেন শেখ হাসিনা।’

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনের টানা চার বারের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশে সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির আদর্শ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই অসুস্থতার জন্য তিনি জাতীয় সংসদ থেকেও ছুটি নিয়েছেন। তাঁর এই অসুস্থতা নিয়ে নানা কথা আলোচিত হলেও হাইকমান্ডের বার্তা এতটাই শক্ত যে সেখানে দল বা জোটের কারও ভিন্ন কোনো চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।

    দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অসুস্থতার কারণে শারীরিক অনুপস্থিতি থাকলেও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক দায়িত্বে দৌঁড়ঝাপ দৃশ্যমান নয় অথচ কেবল এই আসনে নয় দলের ভেতরে-বাইরে জনপ্রিয়তায় ঈর্ষণীয় এমন রাজনীতিবিদ কোন দলেই সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। সৈয়দ আশরাফের এই কারিশমার রহস্য কারো জানা নেই। বিষয়টি সবার কাছেই বিস্ময়কর।

    ১৯৯৬ সালের ১২ই জুনের নির্বাচনে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহাজোট সরকারের মন্ত্রীসভায় লাভ করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব। এ সময়ে টানা দুইবার তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেন। এর আগে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে দলের ক্রান্তিলগ্নে দলের হয়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করায় তিনি আবির্ভূত হন ‘সফলতার প্রতীক’ হিসেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম একজন নির্লোভ, দেশপ্রেমিক ও আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে আমৃত্যু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবার-পরিজনসহ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন খুনি মোশতাক চক্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। এর মাত্র কিছুদিন পর ৩রা নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

    সৎ পিতার সৎ সন্তান হিসেবে যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে এসেছিলেন। রাজনীতিতে অবিস্মরণীয় এই প্রত্যাবর্তনের পর একজন ভদ্র, বিনয়ী ও অজাতশত্রু রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের সবার শ্রদ্ধা ও স্নেহ কুড়াতে বেশি সময় নেননি সৈয়দ আশরাফ।

    অতিকথন ও ক্ষমতার দম্ভ সৈয়দ আশরাফকে স্পর্শ করতে পারেনি। একজন উদার পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদের মতোই তিনি নীরবে নিভৃতে পথ হেঁটেছেন। তদবিরবাজ, মতলববাজ, সুবিধাবাদীরা যেমন তাঁর কাছে ভিড়তে পারেননি, তেমনি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারে নুন্যতম কলঙ্কের ছিটেফোটাও তাঁর গায়ে লাগেনি। স্বভাবতই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও তার প্রতি আস্থা হারাননি।

    সৈয়দ আশরাফের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থানের পর শুক্রবার (৯ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।

  • আ.লীগের মনোনয়ন নিলেন খালেদার বেয়াই!

    আ.লীগের মনোনয়ন নিলেন খালেদার বেয়াই!

    আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩ আসনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বেয়াই। তিনি খালেদা জিয়ার ছোট ভাই সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা।

    শনিবার দলের সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

    মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, শনিবার দলের সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এ নিয়ে আসনটি থেকে মোট ১৪ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দলের সভাপতির কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা।

    সাবেক সেনা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন, সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

    সাক্ষাতে এরশাদ তাকে কী বলেছেন তা জানা যায়নি। তবে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার মধ্য দিয়ে তিনি যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান তা খোলাসা হয়েছে।

    ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারোর পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন তিনি।

  • বগুড়া থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চাই: অপু বিশ্বাস

    বগুড়া থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চাই: অপু বিশ্বাস

    বিনোদন জগতের জনপ্রিয় তারকা চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফরম কিনতে চান তিনি।

    রবিবার (১১ নভেম্বর) দলটির ধানমন্ডির নতুন কার্যালয়ে যাওয়ার পথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে নায়িকা জানান, ‘বগুড়া থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চাই।’

    অপু বলেন, ‘ধানমন্ডিতে যাচ্ছি মমতাজ উদ্দিন এমপি চাচার সঙ্গে কথা বলতে। তিনি এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা সবুজ সঙ্কেত দিলে মনোনয়ন ফরম কিনব। আমি মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করতে চাই। মানুষের পাশে থাকতে চাই। কারণ রাজনীতি হলো মানুষের পাশে থাকার সরাসরি মাধ্যম।’

    এর আগে শনিবার গাজীপুরের একটি আসন থেকে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন অপু বিশ্বাসের সাবেক স্বামী নায়ক শাকিব খান। কিন্তু রাত পোহাতেই সিদ্ধান্ত বদলান ঢাকাই ছবির কিং। জানান, ‘আপাতত রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা নেই। ভক্তরা চাচ্ছেন না আমি রাজনীতিতে জড়াই।