Category: রাজণীতি

  • ৩ আসনে লড়তে চান এরশাদ

    ৩ আসনে লড়তে চান এরশাদ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আরও দুদিন আগে থেকে। আর আজ থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। আজ রোববার সকাল থেকে ৩০০ আসনেই মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে দলটি।

    সকালে রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন হলে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। পরে তিনি নিজের জন্য তিনটি সংসদীয় আসনের ফরম সংগ্রহ করেন।

    আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত।

    মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত। বেশি করে ফরম কিনতে জাতীয় পার্টির নেতা–কর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি অনেক ঘাত–প্রতিঘাত সহ্য করে অগ্রসর হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ থেকে জাতীয় পার্টির যাত্রা শুরু হলো। শেষ হবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে। অনেক ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি টিকে আছে। সবার পূর্ণ সহযোগিতা থাকলে নির্বাচনে বিজয়ী হবে জাতীয় পার্টি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো–চেয়ারপারসন ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি দেশবাসীর কাছে জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গলে ভোট চান। তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের সেবার সুযোগ চায় জাতীয় পার্টি। তাঁর দল ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।

    ৩০০ আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হলেও আজকের অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির নেতাদের বক্তব্যে জোটগত নির্বাচনের বিষয়টিও বারবার সামনে আসে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় অনুষ্ঠানে নেতাদের বক্তব্যে জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথাও বলেন। আবার বিগত নির্বাচনের চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে এবার বেশি আসন নেওয়ার কথাও বলেন কোনো কোনো নেতা। তবে এইচ এম এরশাদ আজকের অনুষ্ঠানে জোটগত নির্বাচন নিয়ে কিছু বলেননি।

    আজ যাঁরা মনোনয়ন ফরম কিনলেন:

    মনোনয়ন ফরম বিক্রি কেন্দ্র করে গুলশানের ইমানুয়েলস হল ও আশপাশের সড়কে দলটির নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থন–কর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বাদ্য বাজনা ও মিছিল নিয়ে ভিড় করেন সেখানে।

    জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরমের দাম ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ফরম বিক্রি কবে নাগাদ শেষ হবে সে সম্পর্কে আজ জানানো হয়নি।

    ফরম বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১৭, রংপুর-৪ এবং নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপরই এরশাদের স্ত্রী ও পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নেন।

    এ ছাড়া আজ প্রথম দিনেই দলটির প্রথম সারির অনেক নেতাই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের জন্য, লালমনিরহাট-৪ আসন থেকে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন এরশাদের ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

    এর বাইরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা-৪, কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকা-৬, এস এম ফয়সল চিশতী ঢাকা-১১, শফিকুল ইসলাম সেন্টু ঢাকা-১৩, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু চট্টগ্রাম-৯, খালেদ আকতার লালমনিরহাট-১, লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ–৪ ও জহিরুল আলম রুবেল মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

  • নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন শেখ হাসিনা

    নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন শেখ হাসিনা

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন হবে বলেও জানান তিনি।

    বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    সেসময় ৩’শ আসনে উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার কথাও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    এর আগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

    তবে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তারা যে ৭ দফা দাবি দিয়েছেন, সেই দাবি থেকে ফিরে আসবেন না বলে জানিয়েছে তারা।

  • নির্বাচন করবেন শাকিব খান

    নির্বাচন করবেন শাকিব খান

    আওয়ামী লীগের হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। তবে মনোনয়নপত্র কেনেননি এখনও। কোন আসনের হয়ে নির্বাচন করবেন এখনও জানা যায়নি। তবে একটি সূত্র জানায়, গাজীপুরে হতে পারে শাকিবের সম্ভাব্য আসন।

    শাকিব খান জানান,  (রোববার) সকালে তিনি ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন।

    অপরদিকে বাংলা‌দেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী নির্বাচ‌নেও সভাপ‌তি প‌দে অংশ নেবেন তি‌নি। এই সমিতির পরপর দুই টার্ম সভাপতি ছি‌লেন শা‌কিব। আর সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করবেন ডি এ তায়েব।

    এ বিষয়ে শাকিব খান বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর আগে দুবার সভাপতি ছিলাম। বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। শিল্পীদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি।

    দেশের চলচ্চিত্রের জন্য আরও অনেক কিছুই করার আছে। এ কারণে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    সাধারণ সম্পাদক পদে ডি এ তায়েবকে নিয়ে শাকিব বলেন, ‘তায়েব ভাই চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য অনেক কাজ করেন। তবে, তিনি তা কখনও প্রকাশ করেন না। নীরবে নিভৃতে তিনি কাজ করছেন। তিনি শিল্পীদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার যোগ্যতা রাখেন। তার মতো একজন মানুষ আমাদের দরকার। এ কারণে তাকে নিয়ে নির্বাচন করার চিন্তা করছি।’

    ২০১৭ সালের ৫ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হয়। সেখানে মিশা সওদার ও জায়েদ খান বিজয়ী হন। আগামী বছর মে মাসে সমিতির দ্বি-বার্ষিকী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার এফডিসিতে সহকারী পরিচালক সমিতির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান শাকিব খান। সেখানে ঘটনার ভিডিও করা দুই সাংবাদিককে হেনস্তা করেন শাকিব। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শাকিবের এই আচরণের সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হেনস্তার শিকার হওয়া দুই সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন আলম ও সুদীপ্ত সাঈদ খান।

  • আজ যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    আজ যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংগঠনটি।

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আদলে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠন। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ এক বিবৃতিতে যুব সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যুবলীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৬টায় যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৮টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ। সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

  • গোপালগঞ্জ-১ : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন আরিফা রুমা

    গোপালগঞ্জ-১ : আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন আরিফা রুমা

    গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন আরিফা রহমান রুমা।

    শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগী অধ্যাপক। এসময় তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র কেনার পর আরিফা রহমান রুমা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় আমি আজ মনোনয়ন ফরম কিনেছি।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যে কোন সিদ্ধান্তকেই আমি স্বাগত জানাবো। সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে শৈশবেই নিয়েছি রাজনীতির প্রথম পাঠ। তাই এই বিষয়ে আমার ইচ্ছার চেয়ে তার ইচ্ছার গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশী।

    এসময় মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক সবার জন্য শুভ কামনা জানান তিনি।

  • ১০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপির

    ১০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপির

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন যুদ্ধে ঘুরেফিরে পুরনো প্রার্থীরাই ভোটের মাঠে। অবশ্য গুটিকয়েক আসনে বিএনপির নবীন নেতারা মনোনয়ন চাইবেন। কোথাও পিতার বদলে পুত্র কিংবা অন্য কেউ ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। কোথাও কোথাও বিএনপির মারা যাওয়া নেতাদের পরিবর্তে নতুনদের আনাগানো লক্ষ্য করা গেছে। আবার পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন চাইছেন।

    চূড়ান্ত হওয়া তালিকায় থাকা ১০০ আসন হচ্ছে— ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), ফরহাদ হোসেন আজাদ (পঞ্চগড়-২) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), শামসুজ্জামান (নীলফামারী-২), আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩), এমদাদুল হক ভরসা (রংপুর-৪), অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী (কুড়িগ্রাম-২), ফয়সাল আলিম (জয়পুরহাট-১), প্রকৌশলী  গোলাম  মোস্তফা (জয়পুরহাট-২), হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), ব্যারিস্টার আমিনুল হক (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (সিরাজগঞ্জ-২), আবদুল মান্নান তালুকদার (সিরাজগঞ্জ-৩), হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪), মাসুদ অরুণ (মেহেরপুর-১), মেহেদী আহমেদ রুমি (কুষ্টিয়া-৪), শামসুজ্জামান দুদু (চুয়াডাঙ্গা-১), মাহমুদ হাসান বাবু (চুয়াডাঙ্গা-২), মশিউর রহমান (ঝিনাইদহ-২), তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিত (যশোর-৩), টি এস আইয়ুব (যশোর-৪), নিতাই রায় চৌধুরী ( মাগুরা-২), নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২), রফিকুল ইসলাম বকুল (খুলনা-৩), আজিজুল বারী হেলাল (খুলনা-৪), হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১), অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন (বরগুনা-২), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাব হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী-১), এ বি এম মোশাররফ হোসেন (পটুয়াখালী-৪), মেজর (অব.) এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩), নাজিম উদ্দিন আলম (ভোলা-৪), মজিবর রহমান সরোয়ার (বরিশাল-৫), ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (ঝালকাঠি-১), ফকির মাহবুব আলম স্বপন (টাঙ্গাইল-১), লুত্ফর রহমান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), লুত্ফর রহমান মতিন (টাঙ্গাইল-৪), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-২), অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী (টাঙ্গাইল-৬), মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ময়মনসিংহ-১), ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (ময়মনসিংহ-৪), এ কে এম  মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ-৫), আখতারুল আলম ফারুক (ময়মনসিংহ-৬), মাহবুবুর রহমান লিটন (ময়মনসিংহ-৭), শাহ নূরুল কবির শাহীন (ময়মনসিংহ-৮),  ফকরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (ময়মনসিংহ-১১), ব্যারিস্টার কায়সার কামাল             (নেত্রকোনা-১), ড. ওসমান ফারুক বা তার সহধর্মিণী (কিশোরগঞ্জ-৩), অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ-৪), শরিফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-৩), আমানউল্লাহ আমান (ঢাকা-২), গয়েশ্বর চন্দ্র  রায় (ঢাকা-৩), সালাউদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৫), নাসিমা আক্তার কল্পনা (ঢাকা-৭), হাবিব-উন-নবী খান সোহেল (ঢাকা-৮), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৯), এমএ কাইয়ুম (ঢাকা-১১), এসএ খালেক (ঢাকা-১৪), ডা. দেওয়ান  মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (ঢাকা-১৯), শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর-৪), একেএম ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫), খায়রুল কবীর খোকন (নরসিংদী-১), ড. আবদুল মঈন খান (নরসিংদী-২), আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (রাজবাড়ী-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (ফরিদপুর-২),  সেলিমুজ্জামান সেলিম (গোপালগঞ্জ-১), সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (গোপালগঞ্জ-২), হেলেন জেরিন খান (মাদারীপুর-২), শফিকুর রহমান কিরন (শরীয়তপুর-৩), কলিমুদ্দিন আহমেদ মিলন (সুনামগঞ্জ-৫), তাহসিনা রুশদির লুনা (সিলেট-২), নাসের রহমান (মৌলভীবাজার-৩), প্রকৌশলী খালেদ মাহবুব শ্যামল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), ড. খন্দকার  মোশাররফ  হোসেন (কুমিল্লা-১), শওকত মাহমুদ (কুমিল্লা-৫), আমিন উর রশিদ ইয়াসিন (কুমিল্লা-৬), জাকারিয়া তাহের সুমন (কুমিল্লা-৮), আবুল কালাম (কুমিল্লা-৯), আ ন ম এহছানুল হক মিলন (চাঁদপুর-১), শেখ ফরিদউদ্দিন আহমেদ মানিক (চাঁদপুর-৩), হারুনুর রশিদ (চাঁদপুর-৪), ভিপি জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২), আবদুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩), ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন (নোয়াখালী-১), জয়নাল আবেদীন ফারুক ( নোয়াখালী-২), বরকত উল্লাহ বুলু ( নোয়াখালী-৩),  মো. শাহজাহান ( নোয়াখালী-৪), ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (নোয়াখালী-৫), শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী (লক্ষ্মীপুর-৩), এম  মোরশেদ খান (চট্টগ্রাম-৭), ডা. শাহাদাত  হোসেন (চট্টগ্রাম-৮), আবদুল্লাহ আল  নোমান (চট্টগ্রাম-৯), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১০), জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), সালাহউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১), লুত্ফর রহমান কাজল (কক্সবাজার-৩), আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া (খাগড়াছড়ি) এবং সাচিং প্রু জেরী (বান্দরবান)।

  • মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক ব্যবসায়ী

    মনোনয়ন দৌড়ে শতাধিক ব্যবসায়ী

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই পছন্দ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পিছিয়ে নেই বিএনপি সমর্থিতরাও। প্রধান দুই দলে ঠাঁই না পাওয়াদের পছন্দ বর্তমান সংসদের নামে মাত্র বিরোধী দল এরশাদের জাতীয় পার্টি। আবার কেউ কেউ আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে। অনেকেই টাকা দিয়ে বড় দলগুলোর মনোনয়ন কেনার চিন্তাভাবনাও করছেন।

    বর্তমান সংসদে ব্যবসায়ী এমপির সংখ্যা ৫৯ শতাংশ, অর্থাৎ দশম সংসদের মোট ১৭৭ এমপি কোনো না কোনো ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। চলতি দশম সংসদে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৩৭ নেতা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন চারজন। আগামী নির্বাচনে তারাও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এফবিসিসিআইর সাবেক একাধিক সভাপতি, বিজিএমইএর সাবেক ও বর্তমান নেতা এমন কি জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারাও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে নিজ নিজ সমর্থিত দলের সঙ্গে জোর লবিং করছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শিল্প ও বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। ঢাকা-১ আসন থেকে মনোয়ন পেতে তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সেই সঙ্গে এলাকায়ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।  অন্যদিকে এফবিসিসিআইর আরেক সাবেক সভাপতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও নির্বাচনী দৌড়ে পিছিয়ে নেই। আসন্ন নির্বাচনে ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে দিন-রাত ছুটে বেড়াচ্ছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপিপন্থি আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী বন্ধ হওয়া সিটিসেলের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী  এম মোর্শেদ খান, একমির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান সিনহা। অন্যদিকে বিজিএমএইএর সাবেক সভাপতি এক সময়ের তারকা ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী ইতিমধ্যে খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আসছে ভোটেও তিনি একই দল থেকে একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    জানা গেছে, এফবিসিসিআইর আরেক সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী নেতা ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলটির সাবেক অর্থ ও বাণিজ্য সম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু দুই দফা আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গেল ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই কুমিল্লার একটি আসন থেকে এমপি হয়েছেন। কিছুদিন আগে অন্য স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের শীর্ষ পর্যায় থেকেই ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনের সংকেত দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামার ইঙ্গিত পেয়েছেন।

    জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন নারী উদ্যোক্তাও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে আছেন- বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদও নৌকায় চড়ে দাউদকান্দি থেকে জাতীয় সংসদে ঢুকতে চান। এফবিসিসিআইর আরেক নারী সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে অভিনেত্রী শমী কায়সারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    এদিকে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। বিজিএমইএ আরেক সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এখন নারায়াণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সভাপতি। তিনিও নারায়াণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আরেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী বর্তমানে সংসদ সদস্য। তিনি আবারও রংপুর থেকে নির্বাচন করতে চান।  তিনি আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক।

    জানা গেছে, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু এখন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চান চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর ও দামুড়ডাঙ্গা) আসন থেকে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক। আর বিজিএমইএর আরেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির নৌকাতেই ভরসা রেখে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাচ্ছেন নিয়মিত নিজ এলাকায়। বিজিএমইএর আরেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম মান্নান কচি নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

    জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এফবিসিসিআই পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান। ভোরের পাতা গ্রুপের এই কর্ণধার ইরান-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি। ঢাকার গুলশান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন- এফবিসিসিআইর পরিচালক হাবিব উল্লাহ ডন। গাড়ি, ব্যাংক, পর্যটনসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এই ব্যবসায়ী নেতা বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি বারভিডা ও সিআইএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি। তবে এফবিসিসিআইর আরেক পরিচালক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু নাসের নৌকায় চড়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে এমপি হতে চান। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সাবেক এই পরিচালক একাধিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত কয়েকবছর যাবৎ নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন।  রাজধানী পুরান ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ঘনিষ্ট বন্ধু ব্যবসায়ী নেতা আবু মোতালেব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে পোশাকশিল্প খাতের অন্যতম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রেজা গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে এম শাহিদ রেজা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা ফেনী চেম্বারেরও সভাপতি।

    এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচন করতে চান কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আফজাল খানের পুত্র ও এফবিসিসিআই পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। নেত্রকোনা-৩ (কেন্দ্র আতপাড়া) আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক নাগিবুল ইসলাম দিপু এবং সোনারগাঁও থেকে নির্বাচন করতে চান এফবিসিসিআই পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চান তোবারাকুল তোসাদ্দেক হোসাইন টিটু। সংসদ সদস্য আলী আশরাফের ছেলে মুনতাকিম আশরাফ কুমিল্লা-৭ আসন ( চান্দিনা) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    চুয়াডাঙ্গা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আশা করছেন এফবিসিসিআইর পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। তিনি চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক। নরসিংদী-৪ (বেলাব ও মনোহরদী) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিকেএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি আসলাম সানি। জামালপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এফবিসিসিআইর আরেক পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু।

    এ ছাড়া নির্বাচনী দৌড়ে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একমির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান সিনহা। তিনি বিএনপির মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি। বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তারা হলেন-ঢাকা থেকে শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মান্নান ও আবু আশফাক, নারায়ণগঞ্জ থেকে মাহাবুবুুর রহমান সুমন, নজুরুল ইসলাম আজাদ, দীপু ভুইয়া ও শাহ আলম। বাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল আনোয়ার, নাছিরউদ্দীন হাজারী, খালেদ মাহাবুব, কুমিল্লা থেকে আবুল কালাম চৈতী, হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, মোবাশ্বের আলম ভুইয়া, আলাউদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের সুমন, কর্নেল আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর থেকে শেখ ফরিদউদ্দিন আহমেদ মানিক, লায়ন হারুনুর রশীদ, আব্দুল হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান, জি এম ফজলুল হক, ড. জালাল উদ্দিন, শরীয়তপুর থেকে জামাল কামাল ও কিরন আহমেদ, জয়পুরহাট থেকে ফয়সাল আলিম, দিনাজপুর থেকে হাফিজুর রহমান, নীলফামারী থেকে শামসুজ্জামান, বগুড়া থেকে শুকরানা আহমেদ, বগুড়ার জি এম সিরাজ, পাবনা থেকে সঞ্জু খান, টাঙ্গাইল থেকে স্বপন ফকির ও আব্দুল মতিন, জামালপুর থেকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেরপুরের হযরত আলী, ময়মনসিংহের জাকির হোসেন বাবলু, গাজীপুরের সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, মানিকগঞ্জের আফরোজা খান রিতা ও মইনুল ইসলাম, চট্টগ্রামের শামসুদ্দিন, আসলাম চৌধুরী ও এরশাদুল্লাহ, ফরিদপুরের নাসিরউদ্দিন, মাগুরায় কাজী সলিমুল হক কামাল, যশোরের টি এস আইয়ুব, মেহেরপুরের মিল্টন মোর্শেদ, খুলনায় অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, শাহ শরীফ কামাল তাজ ও বাগেরহাটের ড. শেখ ফরিদুল আলম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

  • নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত সাকিব আল হাসানের

    নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত সাকিব আল হাসানের

    শনিবার সকাল থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র নেওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরের শিরোনামে ছিলেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান। তবে এদিন রাতেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলে জানালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

    সাকিব আল হাসান জানান, আমি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। নির্বাচন করব না। আগে নির্বাচন করার কথা জানিয়ে এখন কেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানিয়ে সাকিব বলেছিলেন, তিনি মাগুরা-১ আসনের জন্য তার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

  • ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রবিবার দুপুরে

    ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রবিবার দুপুরে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

    শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকের পর  তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোটের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

    বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, রবিবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন ড. কামাল হোসেন।

    এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোকাব্বির খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাহেদ উর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমদ বাদল প্রমুখ।

  • ভোটে যাবে বিএনপি

    ভোটে যাবে বিএনপি

    নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভোটের পথেই হাঁটছে বিএনপি। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ভোটে থাকবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এ দলটি। নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে থাকবে ২০-দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে নির্বাচনী তফসিল আরও এক মাস পেছানোর দাবি জানানো হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, সন্ধ্যায় ২০-দলীয় জোটও সর্বশেষ রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে যাওয়ার পাশাপাশি তারা খোলা রাখছে আন্দোলনের পথও। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকলে শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জনও করতে পারে বিএনপি জোট ও ফ্রন্ট। তবে আজ বিএনপিসহ জোট ও ফ্রন্টের শরিক দলগুলো জোটবদ্ধ নির্বাচনের জন্য পৃথকভাবে চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশনে। পরে আগামীকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেখানে তারা নির্বাচনী তফসিল অন্তত এক মাস পেছানোর দাবি জানাবে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে স্থায়ী কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি অংশ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে অতীতের সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ চলমান সমঝোতাহীন সংলাপের উদাহরণ টানেন তারা। তবে আরেক অংশ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাসহ নেতা-কর্মীদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির স্বার্থেই নির্বাচনে যাওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে মৃদু হট্টগোল হলেও শেষ পর্যন্ত সবাই নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন।

    জানা যায়, দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক বলে জানা গেছে। পুরনো কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ করলে তাঁকে জোট ও ফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেন তিনি। তবে তিনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।

    এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। কিন্তু গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। তফসিল ঘোষণার পরও নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানি চলছে। সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একতরফা তফসিল ঘোষণা করানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া খুবই কঠিন। ভোটের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের নিশ্চয়তা চাই।’

    বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ শেষ হলেও ছোট পরিসরে আলোচনা চালিয়ে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শেষ পর্যন্ত দর কষাকষিতে থাকবে তারা। তবে বর্তমান তফসিলকে পেছানোর দাবি জানানো হবে। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি কূটনীতিবিদদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকারকে চাপ দিতেও অনুরোধ জানাবে বিএনপি ফ্রন্ট। দল, জোট ও ফ্রন্টের নেতারা মনোনয়ন ফরমও কিনবেন। মনোনয়নপত্র জমাও দেবেন। তবে ভোটের পরিবেশের ওপর সব কিছুই নির্ভর করবে। প্রতিকূল পরিবেশ না পেলে নির্বাচন বর্জনও করতে পারে বিএনপি জোট। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর ভুল করতে আমরা রাজি নই। সরকারকে এবার আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। বিনা চ্যালেঞ্জে মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না।

    বিএনপি সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে আন্দোলন প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছে। তবে একাধিকবার জরিপ চালিয়ে বিএনপি প্রার্থী তালিকাও প্রায় প্রস্তুত করে রেখেছে। তবে কিছু প্রার্থী শেষ সময়ে পরিবর্তনও হতে পারে। প্রতিটি আসনে অন্তত তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। ৩০০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত থাকলেও এরমধ্যে জোট ও ফ্রন্টের জন্য অন্তত ৮০ আসন ছেড়ে দেবে বিএনপি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের দলে ৩০ জন প্রার্থী রয়েছে। আরও বেশি ছিল। তবে ঐক্যফ্রন্টগতভাবে নির্বাচন করলে ৩০টি আসন চাইব। প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

    বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, দলের থিঙ্কট্যাংক ও সিনিয়র নেতারা নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়াও করে রেখেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশে গোপনে সারা দেশে প্রতিটি ওয়ার্ড কেন্দ্রিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে একাধিক দক্ষ ও সাহসী কর্মীর নাম তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।

    দিনভর জোট-ফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির : গতকাল দিনভর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করে বিএনপি। আগামী নির্বাচন নিয়ে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা বৈঠক করেন। এরপর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের সভাপতিত্বে সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এরপর রাতে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ভোটের পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন নেতারা। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। স্থায়ী কমিটি বৈঠকের পরপরই বসে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক।

    জোটের বৈঠকেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত : ২০-দলীয় জোটের অধিকাংশ নেতাই ভোটে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তারা বিএনপির ওপর এ দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জোট নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জানিয়েছেন, ভোটে যাওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া এক জোট নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘ভোটে যাচ্ছি আমরা। জামায়াত জোটবদ্ধ না স্বতন্ত্রভাবে যাবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে জোটের বৈঠকে ২০ দলের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নূর হোসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকিব প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে থাকা একটি দলের চেয়ারম্যান জানান, বৈঠকের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি, জোট প্রধান কারাগারে, তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, এই পরিস্থিতে জোটের করণীয় কী। প্রায় প্রতিটি দলের প্রতিনিধিই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। বৈঠকে থাকা ২৩ দলের তিন দল নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। দল তিনটি হচ্ছে— বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও ডেমোক্রেটিক লীগ। পরে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠকে দেশের নির্বাচন ও দেশে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে যাব কি যাব না এই ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আগামী দুই দিনের মধ্যেই ২০-দলীয় ঐক্যজোট আমাদের মূল দল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে উপস্থাপন করব।

    তিনি বলেন, জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি হলো আমাদের প্রধান, তাকে মুক্তি দিতে হবে। তা হলেই নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসবে। ২০ দলের অনেক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। যদিও সরকার বলছে, সবার জন্য নির্বাচনের সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি এটা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ, পত্রিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখনো সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।

    সোমবার ইসিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট : নির্বাচনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে আগামীকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে নেতারা আলোচনা করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ও তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবে এবং একটি চিঠি হস্তান্তর করবেন। সেই চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে এই চিঠিতে বলা হবে। নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি করা হবে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাতের এই বৈঠকে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

    কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে বিএনপি : দেশের চলমান ইস্যু নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে বিএনপি। দলটির কূটনৈতিক উইংয়ের সূত্রগুলো বলছে, গত ১ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়বস্তু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করা হবে। কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ের বিষয়টি বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। গুলশানের বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ ব্রিফ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, দুই দফা সংলাপে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, নতুন মামলা না করা এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়টির ওপর জোর দেবে বিএনপি। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণসহ কিছু কাগজপত্র কূটনীতিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। জানতে চাইলে বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আহ্বায়ক ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী জানান, আমরা নিয়মিত কূটনীতিকদের ব্রিফ করি। আগামী সোমবারও ব্রিফ করব। চলমান রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলব।