Category: রাজণীতি

  • শ্রমিক আন্দোলনও বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে: মেনন

    শ্রমিক আন্দোলনও বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে: মেনন

    বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, রাজনীতির মত শ্রমিক আন্দোলনও এখন বাণিজ্যের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসংখ্য ফেডারেশন থাকলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের পক্ষে দর কষাকষির আন্দোলন ও নেতৃত্ব নাই। এ কারণেই গার্মেন্টসের মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি নির্ধারণে তাদের বেসিক বেতন কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। পাট কলের শ্রমিকদের হপ্তা মাসের পর মাস বাকি পড়ে আছে।

    কিংবদন্তী শ্রমিক নেতা আবুল বাশারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে রাজধানীর পার্টি কার্যালয় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, নুরুল হাসান, মাহামুদুল হাসান মানিক, কামরূল আহসান, কেন্দ্রীয় সদস্য শরীফ সমশির ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।

  • ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রস্তাবে সরকারের সরাসরি ‘না’

    ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রস্তাবে সরকারের সরাসরি ‘না’

    আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো সংলাপে বসেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজকের সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একজন উপদেষ্টা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টাবিশিষ্ট নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ হয়ে যায় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপে গণভবনে এসে লিখিতভাবে এই প্রস্তাব দেয়। আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়ে সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একমত হতে পারেনি।

    বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন চায়। কিন্তু এটা হলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচন পেছানোর কথা না বলতে ঐক্যফ্রন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    কাদের বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও ১০ জন উপদেষ্টার বিষয়ে প্রস্তাব মানা হবে না, কারণও নেই।

    ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা সংবিধানসম্মত না। এই দাবি মেনে নিলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের ৭টি দাবি আবারও জানিয়েছে।

    বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা সংলাপ বেলা দুইটায় শেষ হয়। দুই পক্ষের পৃথক অবস্থানে কোনো পক্ষই ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

    বেলা সোয়া দুইটার দিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গণভবন থেকে বের হন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন—ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর কথা বলেছে। তবে আওয়ামী লীগ বা সরকার বলেছে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।

    পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন চাইছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাত দফার বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন।

    খালেদা জিয়ার মুক্তি না, জামিন চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা আদালতের বিষয়।

  • প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দেবেন, এটাই সত্য

    প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দেবেন, এটাই সত্য

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেছেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দেবেন এবং তিনি যা বলেছেন সেটাই সত্য।

    আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয়বার সংলাপে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংলাপ শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “আমি আমার দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক কোনো অভিসন্ধী নিয়ে কাজ করি না। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা থাকব। আপনাদের ভোট দিলে আপনারা জিতবেন। নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি, জালিয়াতি কোনো কিছু হবে না। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে, ক্রেডিবল ইলেকশন হবে, অ্যাকসেপ্টেবল ইলেকশন হবে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক যেকোনো বুথে যেতে পারে, যেকোনো নির্বাচন কেন্দ্রে যেতে পারে। তাঁরা (নির্বাচন পর্যবেক্ষক) যেভাবে চান, নির্বাচন কমিশন অ্যালাউ করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

    সংলাপের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতারা চাইছেন যে সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার জন্য। এটা হচ্ছে মূল কথা। এ ছাড়া নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, বিদেশি পর্যবেক্ষক, রাজবন্দীদের মুক্তি। এসব বিষয়ে আমাদের নেত্রী, আমাদের দলনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, এসব দাবি মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। শিডিউল ডিক্লিয়ারের পরে নির্বাচন কমিশন এগুলো করবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে আমরা সম্মত।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা নিজের এলাকায় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না, সার্কিট হাউস ব্যবহার করবেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। কোনো প্রকার সরকারি ফেসিলিটিস আমরা ব্যবহার করব না। অন্যান্য কোনো এমপিরাও, তাঁদের কোনো পাওয়ার থাকবে না। ঐক্যফ্রন্ট যদি প্রার্থিতা দেয় বা অন্যান্য দল যদি প্রার্থিতা দেয়, তাদের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বা মহাজোটের প্রার্থীরা একই সুবিধা এনজয় করবেন। এর অতিরিক্ত কিছু হবে না। ইলেকশন কমিশন বিষয়টি দেখবে।’

    ঐক্যফ্রন্টের ১০ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনকালীন সরকারের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা ওই প্রক্রিয়া, ৯০ দিন। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না, এটা আমরা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আশাবাদী যে যখন একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দলনেতা পরিষ্কারভাবে তাঁদের বৈঠকে এবং পারসোনালি বলেছেন যে, আসুন আমি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু, ফ্রি-ফেয়ার-নিউট্রাল ইলেকশন করতে চাই। এ ব্যাপারে সহায়তা করুন এবং জনগণকে পিছিয়ে দিতে গিয়ে কোনো অপশক্তিকে ফাঁকফোকর দিয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেবেন না, যেটা আপনাদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, আমাদের সকলের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।’

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ‘সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নিয়ে তাঁরা যে কথা বলেছেন, এটা আমাদের দেশে হয় না। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের নিয়ম চালু নেই। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে টাস্কফোর্স হিসেবে। তারা যেখানেই প্রয়োজন, লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহায়তায় তারা যখনই, যেখানে চাইবে, সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে। এখন তাঁরা যে দাবি দিয়েছেন, সাত দফা দাবি দিয়েছেন-সাত দফার বেশির ভাগই মেনে নিতে আমাদের নেত্রী দলনেতা শেখ হাসিনা সম্মত হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা আজকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, যে এটাকে (জাতীয় নির্বাচন) পরবর্তী ৯০ দিনে নিয়ে যাওয়া। হয়তো তাঁদের অনেকেরই সদিচ্ছা আছে, কিন্তু এটা আসলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা বাহানা এবং এই পিছিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁকফোকর তুলে দেওয়া হচ্ছে, যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে যে ওয়া-ইলেভেনের মতো সেই ঘটনার, অনভিপ্রেত-অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। আমরা সেটাই মনে করছি।’

    ‘সংলাপ আমাদের এখনো শেষ হয়নি। রাতে আরেকটি সংলাপ আছে। ২৫টি দল এখনো বাকি আছে। আরও কিছু অ্যাপ্লিকেন্টস আছে, আমরা আর অ্যাকোমোডেট করতে পারছি না। এখন যে সংলাপ আজকে ১১টা থেকে হলো, এই সংলাপ দ্বিতীয় দফা সংলাপ। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এসেছেন। আলোচনা হয়েছে। তাঁরাও মন খুলে আলোচনা করেছেন, আমরাও আলোচনা করেছি। তবে আজকে তাঁরা যে দাবিগুলো নিয়ে এসেছেন, আজকে তাঁদের যে ইমিডিয়েট নির্বাচনী শিডিউল ডিক্লিয়ারের আগে তাঁরা কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা চান বা কিছু বিষয়ে ঐকমত্য চান। এর মধ্যে মূল কথা হচ্ছে, তাঁরা আসলে সংবিধানসম্মতভাবে ২৮ জানুয়ারি থেকে এদিকে যে ৯০ দিন সংসদ যেদিন বসেছে, বিদায়ী সংসদ, সেদিন থেকে যে সংসদ পাঁচ বছর, এর আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।’

    খালেদা জিয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে জামিন চেয়েছেন, তাঁরা ওইভাবে মুক্তি চাননি। আপনারাই (গণমাধ্যমকর্মীরা) প্যারোল বানিয়েছেন। তাঁরা কিন্তু প্যারোল বলেননি। খালেদা জিয়ার মামলা তো এই সরকার করেনি। এটা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখন খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তির বিষয় আদালতের ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু প্রস্তাব আছে যেগুলো আমাদের মেনে নিতে আপত্তি নেই। তাঁরা তো প্রস্তাব দিচ্ছেন সংবিধানের মধ্যেই, কিন্তু বিষয়টি তো সংবিধানের বাইরে। এখানে একটা বিরাট গ্যাপ আছে তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে। তারপরও আমার কাছে মনে হলো, যাওয়ার সময় তাঁরা নমনীয় মনে হয়েছে তাঁদের কথাবার্তা-আচরণ।’

    সংলাপে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের দলনেতা, আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এই কয়দিনের সংলাপে যে বক্তব্যগুলো সাম-আপ হয়েছে, এগুলো নিয়ে তিনি আমাদের অবস্থান-আমাদের বক্তব্য জানিয়ে দেবেন।’

    ঐক্যফ্রন্ট কঠোর কর্মসূচিতে গেলে আওয়ামী লীগ কী করবে? এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁরা বলেছেন, তাঁরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন, রোডমার্চ করবেন—এগুলো তো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এগুলো তো আমরাও করেছি। কিন্তু এই যে পদযাত্রা আর রোডমার্চ করতে গিয়ে যদি বোমাবাজি করে বা জ্বালাও–পোড়াও করে, সেই পরিস্থিতে আমরা বসে থাকব না।

  • আরও আলোচনার প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের, কাল রোডমার্চ

    আরও আলোচনার প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের, কাল রোডমার্চ

    নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা নিয়ে আরও আলোচনা চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা সংলাপে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

    এদিকে ঐক্যফ্রন্টের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ভবিষ্যতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে।

    সংলাপ শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। কাল রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। সংলাপ আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি তা না চায়, তার দায়ভার তাদের। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শেষে বুধবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সরকারের কাছে তাঁরা আরও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনা ফলপ্রসূ কি না, সেটা জনগণই ঠিক করবে।

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আইনিভাবে তা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

    ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ অবস্থা হোক, সেটাই আমরা চাচ্ছি।

    এ দিকে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর কথা বলেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘সংবিধানসম্মতভাবে আমরা তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর কথা বলেছি।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসির দিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতার তর্জনী অমার্জনীয়

    ইসির দিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতার তর্জনী অমার্জনীয়

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকা অনিবন্ধিত একটি দলের নেতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে অমার্জিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ওই নেতা সেদিন তর্জনী তুলে ইসিকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, যা অমার্জনীয়। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।

    আজ বুধবার বিকেলে ইসির সঙ্গে এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে সংলাপে বসে আওয়ামী লীগের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ওই সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইসি কার্যালয়ে ব্রিফ করা হয়। এই ব্রিফিংয়ে এইচ টি ইমাম নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

    এইচ টি ইমাম বলেন, অতি সম্প্রতি ইসি কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। এসব সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর ব্যতিক্রম। তাদের সঙ্গে থাকা অনিবন্ধিত একটি দলের নেতা ইসির সঙ্গে সংলাপে অমার্জিত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তর্জনী তুলে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। এ ধরনের আচরণ অমার্জনীয়। দেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। জনগণ এর জবাব দেবে ভোটের মাধ্যমে।

    এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা যেহেতু সরকারের সঙ্গে আছি, তাই আমাদের দায়দায়িত্ব অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের একটি নিজস্ব নির্বাচনী সেল আছে। সেই গবেষণা সেলের কাজ হলো নির্বাচন নিয়ে গবেষণা করা। সে হিসেবে নির্বাচন কীভাবে ভালো করা যায়, সেই বিষয়টা আমরা ইসির কাছে তুলে ধরেছি। তফসিল বা নির্বাচনের তারিখ ইসির যেভাবে সিদ্ধান্ত সেভাবেই থাকবে।’

    এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নারীদের ভোট নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বুথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধন আছে কি না, সে দিকে লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে। পর্যটক ভিসা নিয়ে কেউ বলবে “আমি পর্যবেক্ষক” তা হবে না। সিইসি জানিয়েছেন, নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রস্তাব হলো, প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের ইভিএম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। কোনো বেসরকারি ব্যাংক বা এনজিও থেকে যেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়া হয়।’

    সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগ আগেও এর বিরুদ্ধে ছিল না, এখনো নেই। সেনা মোতায়েন হবে আইন অনুযায়ী। ফৌজদারি কার্যবিধি—সিআরপিসি অনুযায়ী। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে, আওয়ামী লীগের এটাই প্রত্যাশা। ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি প্রসঙ্গে ইমাম বলেন, তফসিল ঘিরে কোনো সহিংসতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    আওয়ামী লীগের সংলাপ প্রসঙ্গে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সকালে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে ইসি সংলাপ করেছে। জাপা বলেছে নির্বাচনের তফসিল যেন পেছানো না হয়। বিকেলে আওয়ামী লীগও একই পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসি যেন সংবিধান ও আইন মেনে নির্বাচন করে। আওয়ামী লীগ থেকে আরও বলা হয়েছে, তফসিলের আগে যেন আর কোনো দলের সঙ্গে সংলাপ না হয়। তবে কোনো দলের সঙ্গে সংলাপ হবে কি হবে না, সেটা ইসিই ঠিক করবে।

    প্রসঙ্গত, গত সোমবার ইসির সঙ্গে তফসিল পেছানোর বিষয়ে কথা বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে ইসির উত্তপ্ত বাক্যবনিমিয় হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে নাগরিক ঐক্যের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই।

  • আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় তফসিল ঘোষণা করা হবে: সিইসি

    আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় তফসিল ঘোষণা করা হবে: সিইসি

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন।

    ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-সচিব এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিইসির ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশন হতে ফিড নিয়ে প্রচার করতে পারবে।

    প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সময়ের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়েছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • বিশ্বের তেল ক্রেতা দেশগুলোর জন্য আসছে কঠিন দিন

    বিশ্বের তেল ক্রেতা দেশগুলোর জন্য আসছে কঠিন দিন

    ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান নামদার জাঙ্গানে বলেছেন, বিশ্বের তেল ক্রেতা দেশগুলোর জন্য কঠিন দিন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি দেশকে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার অনুমতি দিলেও তা আন্তর্জাতিক তেল বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে না।

    বুধবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ইরানের তেলমন্ত্রী আরও বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা প্রথমে ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও এখন তারা স্বীকার করছে যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার থেকে ইরানকে দূরে রাখা সম্ভব নয়।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখলেও বাজারে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ হবে না। এ কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেবে এবং তেল ক্রেতা দেশগুলো কঠিন সমস্যায় পড়বে।

    ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট পেতে নিজ দেশে কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রেখেছেন বলে তিনি জানান।

    তেলমন্ত্রী বলেন, বেশি দিন কৃত্রিম উপায়ে তেলের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কয়েক মাসের মধ্যেই তেলের দাম বেড়ে যাবে।

    মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইতালিসহ আটটি দেশকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে।

    গত সোমবার থেকে ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত মে মাসে ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের ঘোষণাকে গুরুত্ব না দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশই ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে অনেক আগেই।

  • আশ্বাসে বিশ্বাস নেই খেলাফতের

    আশ্বাসে বিশ্বাস নেই খেলাফতের

    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ‘শুধু আশ্বাস দিলে চলবে না। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বিরোধী দলের মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদার পরও হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাই আশ্বাসের বিশ্বাস নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করুন।

    আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংকট নিরসনকল্পে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমদ আবদুল কাদের এ কথা বলেন।

    মানববন্ধনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানান আহমদ আবদুল কাদের। তিনি বলেন, জাতি সংলাপের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নেবেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন এবং একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সহযোগিতা করবেন। তা হলেই চলমান জাতীয় সংকটের সমাধান হতে পারে।

    খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জলিল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মদ তাইফুর রহমান প্রমুখ।

    সভাপতির বক্তব্যে শেখ গোলাম আসগর বলেন, ‘সংলাপে যদি সরকার সমঝোতায় না আসে বা জনগণের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আপনারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

  • বল সরকারের কোর্টে, দায়িত্ব তাদেরই: ড. কামাল

    বল সরকারের কোর্টে, দায়িত্ব তাদেরই: ড. কামাল

    নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা নিয়ে আরও আলোচনা চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা সংলাপে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

    এদিকে ঐক্যফ্রন্টের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ভবিষ্যতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে।

    সংলাপ শেষে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় সংবাদ ব্রিফিং করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি বলেন, সাত দফা নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর মামলা দায়ের না করা এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
    রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছি যে একটা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সবকিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের, বল সরকারের কোর্টে।’

    পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। কাল রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। সংলাপ আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি তা না চায়, তার দায়ভার তাদের। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি।’
    দ্বিতীয় সংলাপে অর্জন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পাওয়ার ব্যাপারটা রিলেটিভ। আমাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গিয়েছি। সরকার বলেছে, ভবিষ্যতে এগুলো নিয়ে তারা আলোচনা করে দেখতে পারে, সুযোগ আছে আলোচনার । সেটা তো থাকবেই। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি।

    এ দফা সংলাপে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘জনগণকে দিয়েই সন্তোষ আদায় করব।
    সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন ঐক্যফ্রন্টের দাবি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার- কিন্তু সংবিধানে সে সুযোগ নেই এবং ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর বাহানা করছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কথা বলার অর্থ হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নাই। জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা নেই। নির্বাচন পেছানোর দাবি করছি, শুধু অর্থবহ নির্বাচনের জন্য। পেছানোর জন্য না, মানুষের দাবি নিয়ে এটা করছি।’

    ৮ তারিখ তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা হবে। সরকার দাবি না মানলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করার চেষ্টা করার কথাও জানান বিএনপি মহাসচিব।
    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আইনিভাবে তা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
    নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা সংবিধান সম্মতভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছি।
    সংবাদ সম্মেলনে জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আ স ম আবদুর রব, গণফোরাম থেকে সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইডিএফ থেকে ঋণ পাবে রফতানির সব খাত

    ইডিএফ থেকে ঋণ পাবে রফতানির সব খাত

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে সব রফতানি খাতে ঋণ দেয়ার বিধান রেখে ‘রফতানি নীতি ২০১৮-২১’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে এ তহবিল থেকে শুধু তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারতেন।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বেঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

    তিনি বলেন, বলেন, নতুন নীতিতে তৈরি পোশাকে যেমন সহজ শর্তে স্বল্প সুদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইডিএফ ফ্যান্ড থেকে ঋণ নিতে পারে তেমনি অন্যান্য রফতানিকারকরাও একই শর্তে ঋণ নিতে পারবে। এ ছাড়া নতুন নীতিতে রফতানি পণ্যে উৎসাহব্যঞ্জক সুবিধা প্রদানের জন্য মূল্য সংযোজন হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

    শফিউল আলম বলেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত আগে ১২টি ছিল। এখন তিনটি বাড়িয়ে ১৫টি করা হয়েছে। নতুন তিনটি পণ্য হচ্ছে ‘ডেনিম’, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই), বিকারক (রিয়েজেন্ট) ও জুতা (চামড়াজাত, অচামড়াজাত ও সিনথেটিক)।

    বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতে বর্তমানে ১৪টি পণ্য রয়েছে। এর সঙ্গে আরও পাঁচটি পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। নতুন পাঁচটি পণ্য হলো- লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সোলার এনার্জি, কাজু বাদাম (কাঁচা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ), জীবন্ত ও প্রক্রিয়াজাত কাঁকড়া এবং খেলনা।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রফতানি নিষিদ্ধ পণ্যে তেমন নিষিদ্ধ (সংখ্যা বাড়ানো) করা হয়নি। তবে ওয়েড ব্লু চামড়াজাত থেকে প্রাপ্ত পণ্যকে রফতানি পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ‘শর্তসাপেক্ষে রফতানি পণ্যের তালিকায় নতুনভাবে ওজনস্তর ক্ষয়কারি দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি সাপেক্ষে রিকভারি, রিক্লেমিং বা রিসাইক্লেনিংকৃত ওজনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য পুনঃরফতানি পণ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক খাতের প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক ও সাধারণ রফতানিকারক- উভয়ের জন্য ইডিএফ (রফতানি উন্নয়ন) তহবিলে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মোল্ড স্থাপনে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি প্লাস্টিক পণ্যের পরিচিতি এবং রফতানি উন্নয়নের নিমিত্তে অধিক হারে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

    ‘প্লাস্টিক পণ্য ও গার্মেন্ট এক্সেসরিজ পণ্যের মান পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের জন্য অ্যাক্রিডেটেড ল্যাবরেটরি (অনুমোদিত পরীক্ষাগার) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ে (বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ট টেস্টিং ইনস্টিটিউট) সব পণ্যের মান পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্লাস্টিক শিল্প খাতকে গ্রিন শ্রেণিভুক্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্লাস্টিক পণ্যের জন্য গঠিত বিজনেস কাউন্সিলকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’,- বলেন সচিব।

    ২০১৫-১৮ মেয়াদের রফতানি নীতির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। সেই হিসেবে নতুনটির যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, রফতানি নীতি ২০১৮-২১ গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতি কার্যকর থাকবে।