Category: রাজণীতি

  • সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে

    সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সীমিত আকারে ব্যবহার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা জানান তিনি।

    সিইসি বলেন, শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

    সিইসি বলেন, পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেকগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার সফল হয়েছে। জেলা এবং অঞ্চল পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইভিএমের উপকারিতা সম্পর্কে ভোটারগণকে অবহিত করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারে তাদের মধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আগ্রহ দেখা গেছে।

    সিইসি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগতমান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

  • ১৬ই নভেম্বর শুভমুক্তি, ‘HASINA’  A DAUGHTER’S TALE

    ১৬ই নভেম্বর শুভমুক্তি, ‘HASINA’ A DAUGHTER’S TALE

    Releasing On 16 November.

    ছবিটি ইংরেজি ভার্ষন এ নির্মিত হওয়ায়,বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের সকল মিডিয়ায় এটি প্রচারিত হবে।

    CRI PRESENTS AN APPLEBOX FILMS PRODUCTION PRODUCED BY RADWAN MUJIB SIDDIO & NASRUL HAMID DIRECTED BY PIPLU.

    CINEMATOGRAPHER SADIK AHMED EDITOR NAVNITA SEN MUSIC DEBOJYOTI MISHRA.

  • রুদ্রতার আভাস দিয়ে নিম্নচাপটি এখন লঘুচাপে

    রুদ্রতার আভাস দিয়ে নিম্নচাপটি এখন লঘুচাপে

    সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য সরকারপ্রধানের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংগত কারণে প্রশ্ন এসে যায়, এই সংলাপ থেকে বিরোধী পক্ষ কী অর্জন করল, আর সরকারপক্ষই–বাকী ছাড় দিল।

    আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যাচ্ছে, এতে সরকারপক্ষ বিরোধী পক্ষের মোটাদাগের দাবিগুলোর একটিও মেনে নেয়নি; যদিও সরকারপক্ষের মুখপাত্র ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেশির ভাগ দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে।

    ঐক্যফ্রন্টের দাবি সাতটি হলেও মূল দাবি হলো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, সরকার ও বিরোধী পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন ও নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা।

    যে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো হলো ব্যক্তি, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার হওয়াদের মুক্তি দেওয়া, নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা।

    এখন প্রশ্ন হলো—নির্বিষ এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের মাঠে সরকার এই বেশির ভাগ দাবি মেনে নিয়ে যদি শতভাগ প্রয়োগও করে থাকে, সেটাকে ঐক্যফ্রন্টের বিশেষ কোনো অর্জন হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। কারণ, এই ছাড় নির্বাচনের মাঠে সরকারপক্ষকে বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করানোর শক্তি রাখে না।

    এবার আসা যাক মোটাদাগের দাবিগুলোর প্রসঙ্গে, যেগুলো সরকার মেনে নেয়নি। মেনে না নেওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, এই দাবিগুলো মেনে নিলে যে আওয়ামী লীগের তখ্ত ভেঙে তছনছ হয়ে যাবে। আর এমনই যদি ঘটে, সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সরকারের আকার, আয়তন বা প্রকৃতি কেমন হবে, সেটি সহজে অনুমান করা যায়। সেটি হবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলের কিছু একটা। সহজ এই সমীকরণ ক্ষমতাসীন দলের কাছে যেমন পরিষ্কার, তেমন পরিষ্কার ঐক্যফ্রন্টের কাছেও।

    অবশ্য সরকার সব দাবিই মেনে নেবে বা মেনে নিতে বাধ্য হবে, যদি বিরোধী পক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর প্রচণ্ড মাত্রার চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যেমনটা আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে সফলভাবে প্রয়োগ করে বিএনপিকে ক্ষমতাছাড়া করেছিল। কিন্তু বিএনপিকেন্দ্রিক ঐক্যফ্রন্ট সেই রকম চাপ প্রয়োগ করার মতো কোনো আন্দোলন এখনো গড়ে তুলতে পারেনি। বিষয়টিকে আরও সহজ করে বলা যায়—রিখটার স্কেলের তিন মাত্রার ভূকম্পন এতটাই মৃদু যে সেই কম্পন মাঝেমধ্যে সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাও টের পান না। অন্যদিকে, আট-নয় মাত্রার একটি ভূকম্পনের প্রচণ্ডতা সৃষ্টি করতে পারে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের। অথচ দুটোই ভূকম্পন!

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের অবস্থা এখন অনেকটাই তিন মাত্রার ভূকম্পনের মতো। তাদের সরকারবদলের আন্দোলন এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের শিবিরে বড় ধরনের কোনো কম্পন সৃষ্টি করতে পারেনি। নেই কোনো আফটার শকও। উল্টো সরকারপক্ষের সঙ্গে দুই দফায় সংলাপের পর সাত দফার অবস্থা এখন অনেকটাই ‘দফারফা’ হয়ে গেছে।

    দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফায় সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্টের অর্জন কী? বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যতটা না পরিষ্কার করে বলতে পেরেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বয়ানে। বুধবারের সংলাপ শেষে তাঁর বক্তব্যের সারাংশ হলো—বিদ্যমান সংবিধান অনুসরণ করেই নির্বাচন হবে। অর্থাৎ সরকার থাকবে, সংসদ থাকবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হবে না, কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করবে, সেই দিনক্ষণ মেনে নির্বাচন হবে।

    খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের উত্তর ছিল যথেষ্ট কৌশলী। তিনি বলেছেন, প্রকৃত যাঁরা রাজবন্দী, তাঁদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে খালেদা জিয়ার মামলা তো এই সরকার করেনি, করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সুতরাং খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে।

    ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একটি দাবি, সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অনুযায়ী, এটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

    অবশ্য সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে মোতায়েন–সম্পর্কিত বিএনপির এই দাবি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, বিচারের মূলমন্ত্র হলো বাদী অভিযোগ করবেন। তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ বিচারক বিচার করবেন। বাদীকে বিবাদীর বিচারের ক্ষমতা দেওয়াটা বিচারহীনতার শামিল। এর সঙ্গে বিচার বিভাগের মর্যাদার বিষয়টিও সম্পর্কিত।

    এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের এই দাবি বিভ্রান্তিকর। নির্বাচনের মাঠে সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হলে তারা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবে এবং তারাই বিচার করবে। এটা কখনোই সুবিচারের মানদণ্ড হতে পারে না। বরং ঐক্যফ্রন্ট যদি সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনী অপরাধে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করত, সেটা হতো অনেক বেশি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য।

    সুতরাং বলা যায়, ঐক্যফ্রন্ট সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের দাবিটিও যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারেনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সুবাদে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা তাদের ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর নাম ছেঁটে ফেলে। ঐক্যফ্রন্ট এই আইন পুনর্বহালের দাবি জানালে সেটা নিয়ে বরং সরকারপক্ষের সঙ্গে ভালো দর-কষাকষি করতে পারত।

    সর্বশেষ ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের মাঠের কর্মসূচি সংকুচিত করেছে। ঘোষণা ছিল, ঢাকা থেকে রোডমার্চ করে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সমাবেশ করবে। কিন্তু বুধবার সরকারপক্ষের সঙ্গে সংলাপের পর আকস্মিক জানানো হলো, রোডমার্চ হবে না, শুধু সমাবেশ হবে। গণমাধ্যম বিভিন্ন সূত্র থেকে বলছে, ফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা পথে পথে গ্রেপ্তার হতে পারেন, সেই আতঙ্কে রোডমার্চ বাতিল করা হয়েছে।

    গণমাধ্যমের দেওয়া এই তথ্য যদি সত্য হয়, তবে আবহাওয়াবিদের ভাষায় বলতে হবে, রুদ্রমূর্তির আভাস দেওয়া নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।

  • মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মির্জা ফখরুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গণভবনে গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতার মধ্যে শরিক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন। বেলা সোয়া ১১ টা থেকে দুপুর সোয়া দুইটা পর্যন্ত দীর্ঘ তিনঘণ্টা সংলাপ চলে। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে কিছুটা অসুস্থ মনে হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন।

    সংলাপ চলাকালেই বিএনপি মহাসচিবকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনাকে এমন লাগছে কেন?’ ফখরুল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত অসুস্থ। হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছি।’ প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবেই জিজ্ঞেস করেন, কোথায় চিকিৎসা করাচ্ছেন? চিকিৎসা কেমন চলছে? উত্তর ফখরুল তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে কিছু তথ্য জানান। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না, আপনার চিকিৎসা তো ঠিকমতো হচ্ছে না। আপনার চিকিৎসা ঠিকমতো হওয়া দরকার। ঠিক আছে আপনি চিন্তা করবেন না, চিকিৎসার বিষয়টি আমি দেখবো।

    গতকাল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে। দুপুর সোয়া দুইটায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়। গতকালই আবার ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক ছিল। আর দাপ্তরিক কাজের তো শেষ নেই। এরপরও প্রধানমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যের বিষয়টি ভুলে যাননি। গতকাল রাতেই একান্ত ব্যক্তিগত একজন কর্মকর্তাকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়ে সব কাগজপত্র যোগাড় করতে বলেন তাঁকে।

    যে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত বলে প্রমাণিত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছে, সেই বিএনপি মহাসচিবের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন উদগ্রীব হলেন!

    বিএনপি মহাসচিবের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদগ্রীব দেখে অনেকেরই বিস্মিত হন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে যাঁরা চেনেন তাঁরা মোটেই বিস্মিত হননি। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই। চরম শত্রুকেও তিনি আতিথেয়তা করতে ভোলেন না। চরম শত্রুরও স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর মানবতাবোধ, ঔদার্যতা, দরদি হৃদয়ে চরম শত্রুরও স্থান হয়। চরম শত্রুকেও মানবিক সহায়তায় কুণ্ঠিত নন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই অকুণ্ঠ ভালোবাসার জন্যই তো আজ তিনি পুরো বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার আসনে আসীন।

  • খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসামূলকভাবে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে

    খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসামূলকভাবে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরও চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্তেও প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ সিদ্ধান্তকে অমানবিক উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান।

  • ঐক্যফ্রন্টকে আর ছাড় নয়, হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার

    ঐক্যফ্রন্টকে আর ছাড় নয়, হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার

    নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধরণের রাজনীতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার।

    তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা হলে তা বরদাশত করা হবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে আওয়ামী লীগই। তাই আমরা চাই, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক। এজন্য আমরা অনেক ছাড় দিচ্ছি। কিন্তু সংলাপের আড়ালে কেউ যদি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে সে ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। অন্তত আমি বেঁচে থাকতে এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।

    প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যদি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান, জনগণের অধিকারের নির্বাচন চান সেটি আলাদা কথা। কিন্তু আপনাদের যদি অন্য মতলব থাকে তাহলে সেই মতলব ঝেড়ে ফেলুন। আমি বেঁচে থাকতে সেই মতলব সফল হতে দেব না।

    অন্যদিকে সংলাপ শেষে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য তারা জামিন চেয়েছে। আমরা বলেছি এটা আদালতের বিষয়। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, তারা সংসদ ভেঙে দিয়ে উপদেষ্টা সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। যা সংবিধান সম্মত নয়। সে প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে আর কোনো সংলাপ নয় আলোচনা হতে পারে বলেও জানান কাদের।

    একটি সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপের গণভবনে এসে লিখিতভাবে এ প্রস্তাব দেয়। তবে আওয়ামী লীগ এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। জবাবে বলেছে, এটা সংবিধান সম্মত না, এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি আবারো জানিয়েছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে।

    বেলা ১১টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসে ঐক্যফ্রন্ট। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে একে একে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা গণভবনে প্রবেশ করেন।

    প্রতিনিধি দলে ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. ‌মোশাররফ হো‌সেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ‌মোস্তফা মহ‌সিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত ‌চৌধু‌রী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

    সংলাপে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছিলেন, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মণি, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, স ম রেজাউল করিম, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু।

  • একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর

    একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর

    রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার আকাঙ্খার মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

    সিইসি বলেন, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। তার ২৪ দিন পর ২৩ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ।

    ৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার।

    আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি।

    সিইসি তার ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্রবাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

    রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নিষ্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসারও অনুরোধ জানাই। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

    গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগননা শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

    এ নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির পরও নির্বাচনে শহর এলাকায় সীমিত আকারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি।

    প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    ভাষণের শুরুতেই নির্বাচন পরিচালনায় দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের সহযোগিতা চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

    তিনি বলেন, আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করব। নির্বাচন পরিচালনায় সব নাগরিকের সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, যেসব বীর সন্তান স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন তাদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি ’৫২র ভাষা শহীদদের যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

    কে এম নুরুল হুদা বলেন, আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অর্জন লাল-সবুজ পতাকার এক খণ্ড বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা-দারিদ্র্য, অবণতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত ভৌত অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সে দেশটি আজ উন্নত বিশ্ব অভিমুখ অভিযানে দীপ্তপদে এগিয়ে চলছে।

    তিনি বলেন, উন্নয়নের আর একটি আরোধ্য সোপান গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি। সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন একটি নির্ভরশীল বাহন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে জনগণের কাছে হাজির হয়েছে। জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ধারা এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখার আহ্বান জানায়।

    এর আগে, বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ ভাষণ দেয়ার কথা জানায় নির্বাচন কমিশন।

    সিইসির ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করে।

    গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।

    এছাড়া, গত ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার কমিশনার।

    এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা জানিয়েছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে আগামী ৪ নভেম্বর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য তফসিল ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।

  • নাইকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ নভেম্বর

    নাইকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ নভেম্বর

    খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বিশেষ জজ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ; পরবর্তী শুনানি ১৪ নভেম্বর। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীরের আদালতে এই শুনানি হয়।

    খালেদা জিয়া ছাড়া নাইকো মামলার অন্য আসামীদের মধ্যে আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী।

    কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক। মামলার অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

    পরের বছরের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আসামীপক্ষ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে ৯ জুলাই মামলাটি স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তির সাথে সাথে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    ২০১৫’র ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া। নাইকো দুর্নীতি মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ জজ আদালত ৯, বুধবার এক আদেশে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। মামলাটির অভিযোগ গঠনের জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক মাহমুদুল কবির।

  • মঈন তুষার ও মাসুম এই দুই ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেতার অন্যরকম বন্ধুত্ব

    মঈন তুষার ও মাসুম এই দুই ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেতার অন্যরকম বন্ধুত্ব

    রাজনীতির মাঠে তারা একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাদক তাদের এক করে দিয়েছে। মাদক ব্যবসার কারণে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের চার নেতার মধ্যে গড়ে উঠেছে গভীর সম্পর্ক। তারা একে-অপরের বন্ধু।

    বাইরের লোক তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি জানলেও ভেতরে তাদের চমতকার বোঝাপড়া। মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে কখনো তাদের দ্বন্দ্ব হয়নি।

    বরিশাল নগরীতে পুলিশের চোখ এড়িয়ে কয়েক বছর ধরে এভাবেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।

    বুধবার রাতে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তাদের একজন। এ সময় উদ্ধার করা হয় ২২২ বোতল ফেনসিডিল। ফাঁস হয়ে যায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের চার নেতার বন্ধুত্বের আসল রহস্য।

    মহানগর ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড মুসলিম গোরস্থান রোড এলাকার পণ্ডিত বাড়ি থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুশফিকুল হাসান মাসুম (৩৮) এবং তার সহযোগী সবুজ ইসলাম শাহিনকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় ২১৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডস্থ বৈদ্যপাড়া মোড় এলাকার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আদনান আলম বাবুর চারতলা বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে আরও সাত বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুশফিকুল হাসান মাসুম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আরও সাত বন্ধুর নাম জানান। তারা হলেন- বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএম কলেজ অস্থায়ী কর্ম-পরিষদের ভিপি মঈন তুষার, ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার সাচিপ রাজিব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আদনান আলম বাবু, বিএন খান কলেজের শিক্ষক মো. হারুন খান, সবুজ ইসলাম শাহিন (৪০) এবং রাজশাহীর আছমত খান।

    barishal-Chhatra-League

    গ্রেফতার মাসুম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান, রাজনীতির মাঠে তারা একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাদক ব্যবসার কারণে তাদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। ব্যবসায় বেশিরভাগ পুঁজি ছিল বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিপি মঈন তুষার, ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার সাচিপ রাজিব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আদনান আলম বাবু ও বিএন খান কলেজের শিক্ষক মো. হারুন খানের।

    মাঝেমধ্যে মাসুমও টাকা খাটাতেন মাদক ব্যবসায়। সীমান্ত অঞ্চল থেকে রাজশাহীর আছমত খান ও সবুজ ইসলাম শাহিন মাদক নিয়ে আসতেন। খুচরা বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন নিয়োজিত ছিলেন।

    মাসুম আরও জানান, তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল চমতকার। ব্যবসা নিয়ে একটু ঝামেলা হলে সব অংশীদার এক হয়ে তা সমাধান করতেন। ফলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি।

    ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশিষ পাল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে মাসুম এবং সবুজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে ২২২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। মাসুম এবং সবুজ ইসলাম শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে মঈন তুষারসহ আরও পাঁজনের নাম জানায়। যে কারণে তাদেরসহ মোট সাতজনকে আসামি করে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার মাসুম নিজেকে ছাত্রদল নেতা ও মামলার দুই নম্বর আসামিকে ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়েছে।

    এসআই আশিষ পাল আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা হবে।

  • রোডমার্চ স্থগিত, জনসভা হবে: ফখরুল

    রোডমার্চ স্থগিত, জনসভা হবে: ফখরুল

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার তারিখ রয়েছে, তফসিল ঘোষণা হলে আমরা আমাদের রোডমার্চের সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত রোডমার্চ স্থগিত। রাজশাহীতে জনসভা যথা সময়ে হবে।

    বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। এর আগে সেখানে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করেন।

    ফখরুল বলেন, আগামীকাল তফসিল ঘোষণা ও যেসব জেলার উপর দিয়ে রোডমার্চ যাবে সেখানকার নেতাকর্মীদের মামলা, গ্রেফতার হওয়ার বিষয়গুলোর কারণেই মূলত কালকের রোডমার্চ স্থগিত করেছি।

    তিনি বলেন, দু’দফা সংলাপে মূল বিষয়গুলোতে কোনো ফলাফল পাইনি, আবারও আলোচনার কথা বলেছি। দেখা যাক কী হয়? তাছাড়া চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সংলাপে যাওয়া, আমরা বলেছি আপনারা আলোচনার সময় বের করেন এবং কিছুটা রাজিও হয়েছেন তারা।

    এ সময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বলেছেন, রাস্তা বন্ধ করবে না, মাঠে সমাবেশ করুন কাউকে গ্রেফতার করা হবে না কিন্তু গতকালের জনসভা শেষে অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন একরকম, তার নিচের লোকেরা কাজকর্ম করেন আরেকরকম।

    গাড়ি চলছে উল্টোপথে, দেশ চলছে উল্টোপথে-যোগ করেন কাদের সিদ্দিকী।