Category: রাজণীতি

  • সংলাপ সফল না হলে পরদিন রোডমার্চ : ফখরুল

    সংলাপ সফল না হলে পরদিন রোডমার্চ : ফখরুল

    আগামীকালের সংলাপ সফল না হলে এবং দাবি না মানলে পরদিন (৮ নভেম্বর) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ। এর পরদিন (৯ নভেম্বর) রাজশাহীতে জনসভা হবে। একে একে খুলনা ও বরিশাল অভিমুখেও রোডমার্চ হবে।

    মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, সংলাপে দাবি না মেনে তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া জেলে যাবার সময় বলেছিলেন, কারাগার আমি ভয় পাই না। দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের নির্দেশনা তিনি (খালেদা) দিয়ে গেছেন। আজ আমরা জাতীয় নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়াতেই দুঃশাসন থেকে মুক্তি, জনগণের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

    আগামীকাল আবার ছোট সংলাপ হবে। আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি। কিন্তু নাটক করলে চলবে না। আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) সরে যেতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। আমাদের দাবি দাওয়া মেনে নিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে- যোগ করেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র।

    ফখরুল বলেন, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ হাজার ৩৭১টি মামলা হয়েছে। আমরা আর গ্রেফতার হতে চাই না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবো। জনগণের সরকার গঠন করতে চাই।

    সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

    এছাড়া সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব, সুলতান মো. মনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আবদুল মালেক রতন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আবদুল মঈন খান।

    এর আগে দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিএনপির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কর্মীদের সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

    উদ্যান ঘিরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনও চোখে পড়ার মতো।

  • তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার নির্দেশ

    তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার নির্দেশ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী সবাই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন। সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।

    আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচারণাকালে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন না মন্ত্রী বা এমপিরা।

    বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তবে তফসিল ঘোষণার পর এ সরকারের কার্যপরিধি কমে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনের আগে ছোট আকারে নির্বাচনকালীন সরকার করার কথা ভাবা হয়েছিল। কারণ তখন সংসদে বিএনপি ছিল। তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আনার জন্য সে চিন্তা করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, এবার তো সংসদে বিএনপি নেই। নির্বাচনকালীন সরকারে অনির্বাচিত কাউকে রাখা যাবে না। তাই এ সরকারকে আর ছোট করার কোনো দরকার নেই।

  • পদত্যাগ করলেন টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রী

    পদত্যাগ করলেন টেকনোক্র্যাট ৪ মন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রী।

    তারা হলেন- ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

    মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেয়া হয়েছে বলে টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীর দফতর থেকে জানা গেছে।

    এর আগে আজ মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পদত্যাগ করলেন তারা।

  • নিজ ছকেই এগোচ্ছে আ.লীগ

    নিজ ছকেই এগোচ্ছে আ.লীগ

    বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসার তারিখ ঠিক করলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ নিজেদের ছক বা পরিকল্পনা অনুযায়ীই নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে। ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। সারা দেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় ও নতুন মামলা দেওয়াও বন্ধ হয়নি।

    তারপরও কেন পুনরায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে রাজি হলো সরকারি দল, এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ কিছুটা চাপ অনুভব করছে। তাই বিরোধীদের নির্বাচনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা বোঝানোর জন্য পুনরায় সংলাপে সাড়া দেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, তারা মনে করছে, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটা সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে চাইছে। তবে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আগের অবস্থানে আছে।

    ঐক্যফ্রন্ট কত দূর যায় বা কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেটাও সরকারি দল পর্যবেক্ষণ করছে। আজ মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত দফা দাবিতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আছে। ৯ নভেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ। এ দুটি সমাবেশে জমায়েত এবং ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী কর্মসূচির প্রতিও সরকারের পর্যবেক্ষণে থাকবে।

    খুব বেশি চাপ তৈরি হলে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় বিরোধী জোটকে দুই-একটি মন্ত্রণালয় ছেড়ে দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা হতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলতে পারে।

    তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে সংসদ ভেঙে দিতে হবে বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। আমরা বলেছি সংসদ নিষ্ক্রিয় থাকবে। আলোচনায় আসুন তাঁরা, যদি সংবিধানের ভেতরে থেকে আর কোনো পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তিসংগত প্রস্তাব করেন, গ্রহণ করার মতো হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।’

    গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করে ১৪ দলের শরিকেরা। বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী দুটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। প্রথমত সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা নির্বাচন হবে, এই প্রস্তুতি সবাইকে নিতে বলেছেন। আর নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে, এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে। ১৪ দলের শরিকেরাও সংবিধানের মধ্যে থেকে যতটা ছাড় দিয়ে বিরোধীদের নির্বাচনে আনা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, বড় দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ছকে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে বলে আওয়ামী লীগ মনে করে। পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে ভাঙনের তৎপরতাও আছে। ধর্মভিত্তিক কিছু দলের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের সমঝোতা আছে, আর কয়েকটির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এখন বাইরে আছে কেবল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ও আটটি বাম দলের জোট বাম গণতান্ত্রিক জোট। শেষ পর্যন্ত এই বাম জোটকে ভোটে নিয়ে আসতে পারলে ঐক্যফ্রন্টকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ।

    আজ দুপুরে ইসলামী ঐক্যজোট ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে এবং সন্ধ্যায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সংলাপ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন বুধবার দুপুরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সংলাপ-প্রক্রিয়া শেষ হতে যাচ্ছে। এরপর বৃহস্পতিবার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর সব বক্তব্যের রেকর্ড রাখা হচ্ছে। বক্তব্যগুলো একসঙ্গে করে সেগুলো থেকে সারসংক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ফলাফল ও সরকারের সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানাবেন। আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবার এই সংবাদ সম্মেলন হতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতির কাছে বি. চৌধুরীর চিঠি

    রাষ্ট্রপতির কাছে বি. চৌধুরীর চিঠি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান।

    রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা চিঠিতে বি. চৌধুরী বলেন, ‘যুক্তফ্রন্টের নেতারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপনার (রাষ্ট্রপতির) সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।’ চিঠিতে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে নির্বাচনের মূল পরিচালক নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির আধীনে ন্যস্ত। সে হিসাবে নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আপনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই।

    চিঠিতে বি. চৌধুরী লিখেছেন, সময় সংক্ষিপ্ত। সে জন্য ৭ নভেম্বরের মধ্যে সময় নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি।

    চিঠিতে মেজর মান্নান একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে নির্বাচন ইস্যুতে সিইসির সঙ্গে আলোচনার জন্য ৯ নভেম্বরের মধ্যে সময় চেয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বি. চৌধুরীর চিঠি গণভবনে সকাল ১০টায় এবং পরে সিইসির কাছে মেজর মান্নানের চিঠিটি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেন বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক।

  • প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বৃহস্পতিবার

    প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বৃহস্পতিবার

    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে আসছেন। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ নিয়ে কথা বলবেন। সংলাপ–পরবর্তী সিদ্ধান্তও জানাবেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সেখানে সংলাপ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেবেন। এর আগে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সম্ভবত ৮ বা ৯ নভেম্বর সংলাপের ফল জানাতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবাদ সম্মেলন করবেন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর তাঁদের সঙ্গে সংলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টিও সংলাপে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেয়। সেই আলোচনাও শেষ হয়েছে। আজ দুপুর থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপ চলছে, বিকেলে বামপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কাল বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ হওয়ার কথা।

  • ইসলামী জোটগুলো সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রস্তুত

    ইসলামী জোটগুলো সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রস্তুত

    ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, ইসলামী জোটগুলো এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

    দলটি আরও কয়েকটি ইসলামী দলকে সঙ্গে নিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেছে।

    আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ আরো অনেক দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বা সংসদ রেখেই নির্বাচন হওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আমাদের দেশেও ওই পদ্ধতিই অনুসরণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।

    তবে কী নিয়ে এই সংলাপ, জানতে চাইলে আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি নিয়ে বিরোধী জোটগুলোর সাথে সরকারের দ্বন্দ্বের সমাধান খোঁজার উদ্দেশে এই সংলাপ। নির্বাচনকালীন সরকারের যে দাবি বা বিতর্ক তা সমাধানের লক্ষ্যে আইনগত ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলেন, এই বিষয়ে একটি স্থায়ী আইন করা প্রয়োজন যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়।

    সংলাপে ইসলামী দলগুলোর দাবি প্রসঙ্গে আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘সারা দেশে হাজার হাজার আলেম ওলামা মামলায় জর্জরিত, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাব তাদের এসব মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সেই দাবিও জানাবেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা।

    নির্বাচনের আগে কয়েকটি বিরোধীদলের সাথে সংলাপ সীমাবদ্ধ না রেখে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরিচালনা করার সিদ্ধান্তকেও ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানান নেজামী। গত ১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টির সঙ্গেও সংলাপ করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ইসলামী ঐক্যজোট, মুসলিম লীগ, জাকের পার্টি, সম্মিলিত ইসলামী জোটসহ আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপ চলছে। বিকেলে বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের জোটের সঙ্গেও বসবেন প্রধানমন্ত্রী।

  • আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৯ নভেম্বর থেকে: ওবায়দুল কাদের

    আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৯ নভেম্বর থেকে: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা নেওয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে ১২টি ইসলামি দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেন। সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    সংলাপ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবেন-এ ব্যাপারে ১২টি ইসলামি দলের নেতারা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে প্রত্যেক দলের নেতারা নিজ নিজ কথা এবং কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। সংলাপে ইসলামি ১২টি দলের ৫২ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

    মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। সেটি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শের ব্যাপারে প্রত্যেকে অভিন্ন অভিমত উচ্চারণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছর ধরে যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন এতে প্রত্যেকেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

  • সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চায় ইসলামী দলগুলো

    সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন চায় ইসলামী দলগুলো

    সংবিধানের মধ্যে থেকেই ইসলামী দলগুলো সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসতে চায়। আজ মঙ্গলবার ১২টি ইসলামী দলের নেতারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষে এ কথা বলেন।

    গণভবন থেকে সংলাপ শেষে বের হওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলগুলোর নেতারা। ১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে শুরু হওয়া সংলাপের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বসছেন।

    সংলাপ ভালো হয়েছে জানিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হোক, নির্দলীয় বা সর্বদলীয় সরকার এটা নিয়েই তো দ্বন্দ্ব চলছে। সরকার বলছে এখন সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। অন্যরা বলছে সংবিধানের মধ্যেই এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব। তাহলে তো একটা ঐক্য হয়েছেই। আমরাও সংবিধানের মধ্যে থেকেই দ্বন্দ্বের সমাধান করতে বলেছি।

    বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরিয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জি হুজুর বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।’ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছেন কি না জিজ্ঞেস করতে তিনি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়েন।

    আন্‌জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়’র চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘কোন জোটে যাব তা এখনই বলতে পারছি না। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।

    জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সল মুজাদ্দেদী বলেন, ‘সংলাপে সার্বিক রাজনীতির বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা আগাগোড়া মহাজোটের সাথেই আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। বারবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তো কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে আমরা দেখব কতটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। যদি একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তবে সেটা হবে আমাদের জাতির জন্য এক মাইলফক।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যফ্রন্ট হোক বা অন্য দলগুলো হোক তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এর কো–চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল বলেন, সবাই সরকারের নির্বাচনের পাশে থাকতে চায়। সমর্থন দিতে চায়। সংবিধান রক্ষা করে বিধিবিধান ঠিক রেখে যেন নির্বাচন হয়। এই সরকারের উন্নয়ন ও ইসলামের প্রচার প্রচারণায় তাদের অবদানের জন্য পাশে আছি, থাকব।

    মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা সংলাপ আর কী, সবাই প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছে। আমরা বলেছি, আপনারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এসেছিল। সংবিধান সংশোধন হয়েছিল। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে এই ব্যবস্থার অধীনেই আপনারা নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এর বাইরে আর কি কিছু বলতে হবে?’

  • পদত্যাগপত্র জমা দিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

    পদত্যাগপত্র জমা দিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

    পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। মন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে আজ দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে।

    নুরুল ইসলাম ছাড়া বাকি তিন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে অনির্বাচিত (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৮ নভেম্বর ঘোষণার কথা রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।