Category: রাজণীতি

  • ছোট হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ

    ছোট হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। আগামী ১৫-২০ দিন পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তাই খুব অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে।

    রোববার রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : দেশের সার্বিক উন্নয়নের অনুঘটক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা মানেই ক্যাম্পেইন শুরু। শিগগিরই মন্ত্রিসভার কর্মের ধরন পাল্টে যাবে, তারা কেবিনেটের রুটিনওয়ার্ক করবেন। মন্ত্রিসভার আকার ছোট হলে সেখানে আমিও থাকব কি না তা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ জানেন না। কারা সেই মন্ত্রিসভায় থাকছেন এটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ বলতেও পারবেন না। তবে সরকার এই সরকারই থাকবে। মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকছেন, সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ইঙ্গিত পেয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ অনুমতি দিয়েছে। অফিসিয়াল চিঠি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অহেতুক নাটক করবেন, এটা তাদের পুরনো অভ্যাস।

    তিনি বলেন, সিলেটে বড় বড় নেতা যাবেন, নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ একটু খতিয়ে দেখবে। অলরেডি পুলিশ তাদের অনুমতি দিয়েছে। আমার তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি আমাকে বলেছেন যে, সভা-সমাবেশ যেখানেই করতে চান, এ ব্যাপারে কোনো বাধা-নিষেধ থাকবে না, থাকার কথাও নয়।

    ঐক্যফ্রন্ট সিলেটে সমাবেশের জন্য আদৌ অনুমতি পাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখুন, অনুমতি নিয়ে নাটক করা এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি অনুমতি পেয়েছে, কিন্তু এটা নিয়ে নাটক করতে তারা দ্বিধা করেনি। আমি এখানেও বলছি, এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। তারা অনুমতি নিয়ে নাটক করেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব কি ভুলে গেছেন যে, নির্বাচন কমিশন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট? প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আরও চারজন কমিশনার আছেন।

    তিনি আরও বলেন, একজন কমিশনার কোনো ইস্যুতে যদি ভিন্নমত পোষণ করেন অথবা নোট অব ডিসেন্ট দেন, এটা তো গণতন্ত্রের বিউটি। সেখানেও ইন্টারনাল ডেমোক্রেসি কাজ করছে, সেটাই আমরা মনে করব। এটাকে নিয়ে বিভক্তির যে অভিযোগ তিনি (মির্জা ফখরুল) তুলেছেন, এটা সম্পূর্ণই কাল্পনিক ও হাস্যকর ব্যাপার।

    এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাজধানীর যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারের করণীয় নিয়ে মন্তব্য করার সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আজই পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন শুরু হবে। এখন এসে আমি কী করব? আর ১৫-২০ দিন পরেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। এরপরে নির্বাচনী ব্যস্ততা, ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি যদি থাকিও নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর মেজর কোনো পলিসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। আমাদের কাজ সীমিত হয়ে যাবে। আমরা রুটিন কাজ করব। ইচ্ছে করলেই বড় কোনো প্রজেক্ট উদ্বোধন অথবা নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্বোধন করতে পারব না। এসব বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে। কাজেই এখন কোনো কিছুই করতে পারব না।

    মন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসন হবে কীভাবে, ভিআইপিরা সড়কে উল্টো পথে চলেন। তাহলে সাধারণ মানুষ আইন মানতে চাইবে কেন? ফুটপাত চলে গেছে বেদখলে। পথচারীদের দখলে নেই। সচেতনতার বড় অভাব। সড়কে ডিভাইডারের ওপর দিয়ে লাফিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হয়, তবু ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চায় না।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপর করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ পিএসসি।

    স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব-উল-হক মজুমদার এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক প্রমুখ।

    এদিকে রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ৩৭তম সভা শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করবে নির্বাচন কমিশন। এরপর তফসিল নিয়ে বৈঠক করবে ইসি। বৈঠকের পর তফসিলের দিন-তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

    রোববার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে সাক্ষাতের জন্য ইসি সময় চেয়েছিল। ওইদিন বিকেল ৪টায় সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

  • মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে বরন করতে প্রস্তুত বরিশাল

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে বরন করতে প্রস্তুত বরিশাল

    শেখ সুমন/ শামীম ইসলাম:

    আগামীকাল সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ইং সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ পড়াবেন বরিশালের নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে । শপথ শেষে দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ এবং ঐ দিনই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। যেখানে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় এবং আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাদিক আবদুল্লাহর ভালোবাসার বরিশালের নাগরীক বৃন্দ।

    এরপর আগামী ২৩ অক্টোবর ২০১৮ বিকাল সাড়ে ৩টায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    ২৩ অক্টোবর বিকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাকে দেয়া হবে নাগরিক সংবর্ধনা। সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বরিশালে চলছে ব্যাপক উৎসব ও আয়োজন। বরিশালের সর্বস্থরের জনগন এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নির্বাচিত মেয়রকে বরণ করতে প্রস্ততি নিচ্ছে।

    নগর ভবন জুড়ে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার সাথে চলছে রং-তুলির কাজ। রহমতপুর থেকে নগরী পর্যন্ত সড়ক সাজছে তোড়ন আর শুভেচ্ছা ব্যানারে।

    মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীরা জানান, ব্যাপক আনন্দ ও জাকজমকপূর্ন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বরন ও সংবর্ধনা জানানো হবে।

    সরেজমিনে দেখাগেছে, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বরণ করতে নগরীর নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ড, রূপাতলী বাসষ্ট্যান্ড, টাউনহলের সম্মুখে,বিবির পুকুর পাড়, লঞ্চঘাট,বঙ্গবন্ধু উদ্দ্যান, বরিশাল ষ্টেডিয়াম,ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজার,ফলপট্টির মোড়,জিলা স্কুল এর সম্মুখে সাজছে নতুন রূপে।

    এখন নগরবাসী অপেক্ষা করছে কখন বরিশালে আসবেন তাদের নগরপিতা।

     

     

     

  • আপনারা চাইলে আজই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : মাহাথির

    আপনারা চাইলে আজই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : মাহাথির

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না বরং সবাই চেয়েছে বলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। রবিবার মালয়েশিয়ার লংকাউয়িতে ট্যাক্সি চালকদের অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন কথা বলেন।

    মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, তিনি সমাজের সবার সুবিধার জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান বের করতে চান। আর এরপরই প্রায় ২০০ জন ট্যাক্সি চালকের মধ্যে ১০ জনের একটি দল মাহাথিরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শব্দ ব্যবহার করেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

    পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর মাহাথির বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ট্যাক্সি চালকদের সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন।

    মাহাথির আরও বলেন, এমন না যে আমি প্রধানমন্ত্রী থাকতে চাই। আমি অবসর নিয়েছিলাম, কিন্তু মানুষজনই আবার আমাকে চেয়েছে, তাই আমি ফিরে এসেছি। যদি আপনারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না চান, তাহলে আমি আজই পদত্যাগ করতে পারি, এটি আমার জন্য কোনও সমস্যা না।

  • বরিশাল সদর-৫ আসনে এমপি পদে দুইজন আলোচনার শীর্ষে

    বরিশাল সদর-৫ আসনে এমপি পদে দুইজন আলোচনার শীর্ষে

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেই আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে বসার কথা রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট ও আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের প্রার্থীর অবস্থার বিশ্লেষন করেই মনোনয়ন দেওয়ার বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আ.লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সূত্র মতে, প্রার্থীর ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি, জনগনের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা, আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়তা প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী বাছাই একটি জটিল সমিকরনে আবদ্ধ।

    আওয়ামীলীগের দক্ষিনবাংলার অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পছন্দ ও সমর্থন বরিশাল-৫ আসনের মনোনয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বরিশাল-৫ আসনে ৬/৭ জন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য গনসংযোগ, প্রচার ও লবিং চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ২জন নবীন প্রার্থী প্রচারনায় চমক দেখালেও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাদের মনোনয়নের ব্যাপারে কোন প্রকার সমর্থন নেই বলে জানিয়েছেন।

    আওয়ামীলীগের প্রার্থীর তালিকায় তিন জন সুনজরে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর উপজেলা চেয়ারম্যান/পৌর মেয়রদের মনোনয়ন দেয়া হবে না-এমন ঘোষণায় অনেকটাই পিছু হটেছেন বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। তবে মনোনয়নের বিষয় এখনো আশাবাদী তিনি।

    দল থেকে এবার সুপারিশ যেতে পারে, মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবীক্রম ও বর্তমান সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজের জন্য। আর এই দুইজনের মধ্যে যে কোন একজন মনোনয়ন পাবেন।

    এর পিছনে কাজ করছে এই দুজনের সাংগঠনিক ত্যাগ। সর্বশেষ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে দিন রাত কাজ করে হাসনাত পরিবারের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এসপি মাহবুব। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সাহসী ভূমিকার জন্য বরিশালের কৃতি সন্তান মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রমের প্রতি বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি রয়েছে। পাশাপাশি দলের হয়ে একনিষ্ঠ কাজ করায় প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে রয়েছেন জেবুন্নেছা আফরোজ।

    যে কারনে বরিশাল আ.লীগের ঘরে বাইরে এখন মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবীক্রম ও জেবুন্নেছা আফরোজকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

  • বিগত ১০ বছরে দেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে’

    বিগত ১০ বছরে দেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে’

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বিগত প্রায় ১০ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে  অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এ খাতে উন্নয়নের ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন বেগবান হয়েছে।

    শনিবার ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশারফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রাক্তন সচিব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মিঞা লুৎফার রহমান, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া ও পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানকে ঘিরে আজকের এ উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য আমাকে আন্দোলিত করেছে। আমি এই কলেজের ছাত্র ছিলাম। আজকের দিনটিতে আমার স্মৃতিপটে এ কলেজে ছাত্র থাকাকালীন সোনালী সময় গুলো ভেসে উঠছে। এ সময় তিনি তার সময়কার বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

    তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা অনেক সীমবদ্ধতার মাঝে শিক্ষাজীবন পার করেছি। তোমরা এখন হাত বাড়ালেই সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছ। তোমরা নিজেদেরকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের জন্য তোমরা তোমাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা নিয়োগ করবে।

    মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে নিজের সারা জীবন ত্যাগ-তিতীক্ষা ও সংগ্রাম করেছেন, নতুন প্রজন্মকে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রয়াস ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করবে। আলোচনা অনুষ্ঠানে আগে মন্ত্রী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

  • মুন্নি সাহা ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেনকে ‘রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন’ বললেন

    মুন্নি সাহা ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেনকে ‘রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন’ বললেন

    সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলার প্রতিবাদে আয়োজিত সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে  ‘রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সাংবাদিক মুন্নি সাহা। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীনদের সাবধান থাকতে বলেছেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নি সাহা।

    মুন্নি সাহা বলেন, ‘আমরা আজকের এই প্রতিবাদটিকে কোট আন কোট নারী পারসপেকটিভে দেখতে চাই না। এটি একটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমার বক্তব্যটি বলতে চাই। আপনার যখন আমাদের কাছে হেরে যাবেন। তখন শেষ অস্ত্র নারী এবং চরিত্র আছে কি না—সেগুলো বলতে থাকবেন। আর আমরা আমাদের কাজ করতেই থাকব।

    মুন্নি সাহা বলেন, ‘ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং আপনারা যারা নানান সময়ে রাজনৈতিকভাবে কলঙ্কিত ও রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন। আপনারা ‍একটু সাবধান থাকবেন। আজকের এই প্রতিবাদ সকল রাজনৈতিক কলঙ্কিত ও চরিত্রহীনদের প্রতি আমাদের সকলের প্রতিবাদ।

    এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক বলেন, ‘আমরা এই রাজনৈতিক চরিত্রটা একটু ঠিক করতে চাই। বাংলাদেশের পক্ষে যারা কথা বলবেন, বাংলাদেশে বসে যারা রাজনীতি করবেন, বাংলাদেশের পক্ষে যারা থাকবেন। সেটায় আমাদের ফিল্টার, সেটাই আমাদের একক। এই এককের মাপকাঠি নিয়ে আপনারা রাজনীতি করতে আসবেন। সোজা-সাপটা কথা আমাদের সকলের তরফ থেকে।

    ছবি : ফোকাস বাংলা

    মুন্নি সাহা বলেন, ‘শুধুমাত্র নারী সাংবাদিক আমরা এক হইনি, বাংলাদেশের সকল স্বাধীনতাকামী এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের এক স্বর, এক গলা—সবাই আজকে অন্তত ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের এই ধৃষ্টতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে এটা আরও জোরে উচ্চারণ করতে চাই।

    ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনসহ অন্যদের উদ্দেশে মুন্নি সাহা বলেন, ‘যারা রাজনীতি করবেন, যারা জাতীয় ঐক্য করছেন এবং নির্বাচনের কথা বলছেন, তারা আজকের এই প্রতিবাদ মাথায় রেখে মাঠে নামবেন আশা করি।

    এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভির এক লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে আখ্যায়িত করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল।

    ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের ওই মন্তব্যে মাসুদা ভাট্টি ভয় পেয়েছেন কি না—আলোচনায় এ প্রসঙ্গে মুন্নি সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে এত বোকা ভাবলে চলবে না। যে এখনো এই ডিজিটাল যুগে উনি ভয় পেয়ে যাবেন। মাসুদা ভাট্টিকে হঠাৎ করে এক মুহূর্তে নারী মনে হয় এবং নারী হিসেবে তার চরিত্র নিয়ে হঠাৎ করে বাক্য উচ্চারণ করলেন। আমার মনে হয়, তিনি অনেক দূরে বাস করছেন। আমাদের এই জমানায় তিনি আসলে নাই। কিন্তু তার (মঈনুল হোসেন) জামানা থেকে তিনি কী কী করে এসছেন?’

    ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ক্ষমা চাইলেও সেই ক্ষমা যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবাদ সভায় উল্লেখ করেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু। সেখানে তিনি নারীদের পক্ষ থেকে দুটি দাবি তুলে ধরেন। এই দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে না মানলে আইনের আশ্রয়ের নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান তিনি। দাবিগুলো হলো, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতেও এমন ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন।

    প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমা, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিল্পী। সাংবাদিকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মিথিলা ফারজানা, নাসিমা খান মন্টি, শাহনাজ মুন্নী, ফারজানা রূপা, সুপ্রীতি ধর, আঙ্গুর নাহার মন্টি, ফারহানা মিলি, নাদিরা কিরণ, মুনমুন শারমিন শামস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

  • বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ফরমায়েশি রায় উল্লেখ করে প্রতিবাদে বরিশালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

    শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সদররোড সংলগ্ন টাউন হল চত্বরে মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

    উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসলিমা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মহিলা দল নেতা তাসলিমা কালাম পলি, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাতেমা রহমান, পাপিয়া আজাদ, ফাতেমা তুজ জোহরা মিতু, মির্জা খাদিজা, হাজেরা বেগম ও শায়লা শারমিন প্রমুখ।

    উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসলিমা বেগম বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। মানববন্ধনে কোনো মাইক কিংবা হ্যান্ড মাইকও ব্যবহার করতে দেয়নি পুলিশ। এরপর মিছিল করতে চাইলে তাতেও বাধা দেয় পুলিশ।

  • কবিতা খানমের সংবিধান পাঠ

    কবিতা খানমের সংবিধান পাঠ

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন প্রসঙ্গে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘উক্ত বিষয়ে প্রণীত আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করিবেন।’ কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর এবং সংবিধান প্রণয়নের ৪৬ বছর পরেও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারেননি আমাদের রাষ্ট্রের পরিচালকেরা। করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানা যায় না।

    বর্তমান কে এম নুরুল হুদা কমিশন এবং এর আগের কাজী রকিবউদ্দীনের কমিশন গঠিত হয়েছিল সার্চ কমিটির মাধ্যমে। এর আগের সব কমিশন গঠিত হতো নির্বাহী বিভাগের সুপারিশে। সেদিক থেকে এর এক ধাপ অগ্রগতি হতে পারত, যদি কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে সচেষ্ট থাকত। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। সর্বত্র দলীয় রাজনীতি ঢুকে পড়েছে।

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে চার কমিশনার (প্রধান কমিশনারসহ) বনাম এক কমিশনারের যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, তার মূলেও আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিকীকরণ। অথচ বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশন তো বটেই, তারা যেসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে, সেই জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময় রাজনীতির বাইরে রাখা হয়। রাজনীতির বাইরে রাখার অর্থ সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পছন্দসই প্রার্থী বা দলকে ভোট দিতে পারবেন না, তা নয়। রাজনীতির রাইরে রাখা মানে তাঁরা যখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন, তখন সেখানে শতভাগ পেশাদারি বজায় রাখবেন। তাঁদের বাঁয়ে–ডানে হেলে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। তাদের ওপর যে ১০ কোটি মানুষের ভোট আমানত আছে, সেটি তারা কোনোভাবে খেয়ানত করতে দিতে পারে না। প্রতিটি মানুষ যাতে তার ভোটটি পছন্দসই প্রার্থী বা দলকে দিতে পারে, সেই নিশ্চয়তা কমিশনকেই দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন কমিশনার থাকার কোনো অর্থ হয় না। এই দায়িত্বটি এতই মহৎ যে সংবিধান বলে দিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে ছিলেন, এমন ব্যক্তি ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের যোগ্য হইবেন না।

    অন্য কমিশনাররা কেবল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন, অন্য কোনো পদে নন। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ৪ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।’ এখন নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারীরা নিজেরাই বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, তাঁরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন বা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন।

    এই গৌরচন্দ্রিকা দিতে হলো নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একটি বৈঠক ও তার ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া দেখে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ওই বৈঠকে কমিশনের অন্যতম সদস্য মাহবুব তালুকদার কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আপত্তি জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বেরিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, কমিশনের বৈঠকে তাঁর বাক্স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। তাঁকে ছাড়াই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাসহ চার কমিশনার বৈঠক করেন। পরে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও নির্বাচন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

    ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হয়নি। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম এক দিন পর বললেন, মাহবুব তালুকদার যেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, তার কোনোটি অপরিপক্ব, কোনোটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি তাঁর কাছে অপরিপক্ব বা অসময়োচিত মনে হয়েছে। যেখানে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে তোড়জোড় চলছে, বিদেশি কূটনীতিকেরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইছেন, যেখানে অতীতে সব জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানে সেই প্রস্তাব অপরিপক্ব হয় কী করে? তাঁর দাবি, মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করায় ইসির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বার্তা গেলেও কমিশন তা মনে করছে না। কমিশনের ঐক্যও নষ্ট হয়নি। সে ক্ষেত্রে কবিতা খানমের কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, তিনি কমিশনের ঐক্য বলতে কী বোঝাচ্ছেন? একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যদি কমিশনের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রশ্ন আসে, তাহলে মাহবুব তালুকদারের প্রস্তাবগুলো আলোচনা করা জরুরি। আর যদি কমিশন ২০১৪ সালের মতো আরেকটি বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তার জন্য কোনো পর্যায়ে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়েই আলোচনার প্রয়োজন নেই। ভোটের দিন–তারিখ ঠিক করে ফলাফল ঘোষণা করে দিলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হবে। আর সে জন্য কোনো কমিশনারেরও প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

    যে প্রস্তাবকে কবিতা খানম সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেছেন, এবার আসি সেই প্রসঙ্গে। কমিশনার মাহবুব তালুকদার নাকি জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেওয়ার কথা বলে মহা অন্যায় করে ফেলেছেন। যদি তিনি সেটি বলেও থাকেন, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীরা হরহামেশাই বলে বেড়াচ্ছেন যে নির্বাচনের সময় সরকার রুটিন কাজ করবে। নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। নির্বাচনসংক্রান্ত সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপরই ন্যস্ত হবে।

    ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে নির্বাচনের সময় যে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন, সেটি নিশ্চয়ই তাঁর (খালেদা জিয়ার) নেতৃত্বে আরেকটি আলাদা সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং নির্বাচনের সময়ে ওই দুটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে। অর্থাৎ নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কাজে ওই দুটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের আদেশ–নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবেন।

    নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম যে সংবিধানের দোহাই দিয়েছেন, এখন দেখা যাক সেই সংবিধানে কী আছে। সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদে আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যে রূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেই রূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।’ এর অর্থ শুধু ওই দুটি মন্ত্রণালয় নয়, এর বাইরে থাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও কমিশন তার এখতিয়ারে নিয়ে আসতে পারবে। আর মাহবুব তালুকদার নিশ্চয়ই তাঁর এবং অন্যান্য কমিশনারের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে ব্যবহারের জন্য স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে যেতে বলেননি।

    কবিতা খানম নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনের আগে আইন-আদালত নিয়েই কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে মাহবুব তালুকদারের কথার মর্মার্থ তাঁর অনুধাবন না করার কথা নয়। তারপরও তিনি সংবিধানের দোহাই তুলে ‘বাঙালকে হাইকোর্ট’ দেখালেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করা। এখন দেখার বিষয় সেই নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মাহবুব তালুকদারের প্রস্তাবটি, না কবিতা খানমের সংবিধান পাঠ অন্তরায়?

    কবিতা খানম আমাদের সংবিধান শেখাচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের নেতৃত্বাধীন কমিশন যে সম্প্রতি পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নামে নানা রঙ্গ দেখিয়েছ, সেটি কতটা সংবিধানসম্মত ছিল? সংবিধান তাঁদের ওপর যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেননি সেটি পালনে তাঁরা সক্ষম। সবশেষে বলতে চাই, জনগণকে সংবিধানের পাঠ শেখানোর আগে সংবিধান নির্বাচন কমিশনারদের ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তারা সেটি পালন করলে দেশ ও জাতি মহাদুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে।

  • নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ২২অক্টোবর শপথ পরদিন দায়িত্ব গ্রহন ও নাগরিক সংবর্ধনা।

    নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ২২অক্টোবর শপথ পরদিন দায়িত্ব গ্রহন ও নাগরিক সংবর্ধনা।

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বরিশাল মহানগরী যেনো প্রান ফিরে পেয়েছে, সর্বময় একটাই আলোচনা কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ,নবনির্বাচিত বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ শপথ নিবেন ও বিসিসির নগর পিতার দায়িত্ব বুজে নিবেন।

    ব্যানার ফেস্টুন ও রঙ্গিন আলোয় সজ্জিত এখন পুরো বরিশাল সিটিকর্পোরেশন এলাকা আওয়ামীলীগ এর দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারন জনগন এর মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা।

    আগামী ২৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    তার আগে ২২ অক্টোবর সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে শপথ পড়াবেন। শপথ শেষে দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ এবং ঐদিনই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন।

    ২৩ অক্টোবর বিকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাকে দেয়া হবে নাগরিক সংবর্ধনা। আর তাই সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আয়োজন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পাশাপাশি নবনির্বাচিত মেয়রকে বরণ প্রস্তুতির দিক থেকে থেমে নেই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

    নগর ভবন জুড়ে সাজসজ্জার সাথে চলছে রং-তুলি আর আলোকসজ্জার কাজ। রহমতপুর থেকে নগরী পর্যন্ত সড়ক সাজছে তোড়ন আর শুভেচ্ছা ব্যানারে।

    অপরদিকে শপথ গ্রহনের লক্ষ্যে আজ শনিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলররা। পাশাপাশি সাদিক আবদুল্লাহর শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামীকাল রোববার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তবে বরিশালের অধিকাংশ নেতা-কর্মী নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বরণ করবেন টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে।

    মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, ব্যাপক জাকজমক পূর্ন আয়োজনের মাধ্যমে নবনির্বাচিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সংবর্ধনা জানানো হবে। কেননা গত ৩০ জুলাই নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। কিন্তু জাতীয় শোক দিবস এবং শোকের মাস হওয়ায় সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে নেতা-কর্মীরা কেউ সংবর্ধনা জানাতে পারেননি। এমনকি নেতা-কর্মীদের কোন ফুল পর্যন্ত গ্রহণ করেননি তিনি।

    আর তাই দায়িত্ব গ্রহনের দিনে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে জাকজমক পূর্ন আয়োজনের মধ্যেমে সংবর্ধণা জানাতে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি চলছে। যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে ব্যতিক্রম ধর্মী।

    সরেজমিনে দেখাগেছে, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বরণ এবং সংবর্ধনা জানাতে নগর জুড়ে সাজসজ্জা চলছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে বিশাল বিশাল ব্যানার এবং বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ। রহমতপুর থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত সড়কের উপর দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে তোড়ন নির্মান করা হচ্ছে। তাছাড়া নগরীর সিএন্ডবি সড়ক, বান্দ রোড, পোর্ট রোড এলাকা, সদর রোড, দলীয় কার্যালয়, বিএম কলেজ সড়ক, হাসপাতাল রোড ঘিরে তোড়ন নির্মান করছেন নেতা-কর্মীরা। সদর রোড এবং নগর ভবনে প্রবেশের প্রধান সড়ক ফজলুল হক এভিনিউ ঘিরে প্রস্তুতি বেশি চলছে। কেননা ওই দুটি সড়ক হয়েই নগর ভবনে পৌছবেন নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তাছাড়া নগর ভবন চত্ত্বরের মুক্ত মঞ্চে তাকে দেয়া হবে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা।

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, আমাদের নেতাকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বরণ করা হবে। সে জন্য প্রস্তুতি চলছে। তাকে বরণ সহ দায়িত্বগ্রহন পর্যন্ত নানান কর্মসূচিও রয়েছে। আমরা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নবনির্বাচিত মেয়রকে সংবর্ধনার আয়োজন চলছে।
    মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, নবনির্বাচিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হবে। সেভাবে করেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর আগে ২২ অক্টোবর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর শপথ অনুষ্ঠানে গণভবনে অংশ নিবেন। ২১ অক্টোবর আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যাব।

    তবে তার আগেই আজ ২০ অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নবনির্বাচিত সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলরা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। প্রত্যেক কাউন্সিলর এর সাথে একজন করে ডেলিগেট নগর ভবনে অংশ নিতে পারবেন। নবনির্বাচিম মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রী শপথ করালেও কাউন্সিলরদের শপথ করাবেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। গণভবনে প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতা-কর্মী ঢাকায় যাচ্ছে না।

    এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ২২ অক্টোবর শপথ শেষ করেই টুঙ্গিবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাবেন। সেখানে তিনি নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর মাজার জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে সরাসরি বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর মাজার থেকেই আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে গ্রহন করে নিয়ে আসবেন এবং রাতে তিনি কালিবাড়ি রোডে সেরনিয়াবাত ভবনেই থাকবেন।

    এর পর ২৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় নগর ভবনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি তার দায়িত্ব ভার বুঝে নেবেন। ওইদিন বিকালেই নগর ভবন চত্ত্বরে মঞ্চ স্থাপন করে তাকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র নিজ দলীয় নেতা-কর্মীরাই নয়, সুশীল সমাজের পাশাপাশি সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র প্রার্থীদেরও আমন্ত্রন জানানো হবে। কর্মক্ষত্রে তাদের সহযোগিতা পেতে এবং সকলকে সাথে নিয়েই নগর উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যেই তাদেরকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর।

    অপরদিকে বিসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত মেয়রকে বরণের লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রস্তুতি দাপ্তরিক কাগজপত্র ঠিক করে রাখা হচ্ছে। চলছে সাজসজ্জা এবং উন্নয়নের কাজ। নগর ভবনে বাইরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সীমানা প্রচীরে রং-তুলির আচড় লেগেছে। গোটা নগর ভবন আলোকসজ্জার প্রস্তুতি রয়েছে। নগর ভবনে পৌছার পর পরই সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। এছাড়া পুষ্প বৃষ্টিতে নবনির্বাচিত মেয়রকে সিক্ত করবেন বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • সংসদ ভোটের আচরণবিধিতে যেসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব

    সংসদ ভোটের আচরণবিধিতে যেসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব

    আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনতে চায় নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    রোববার ৩৭তম সভায় ইসির আইন সংস্কার কমিটি চারটি বিষয়ে সংশোধন এনে প্রস্তাবনা রাখতে যাচ্ছে।

    আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এ দিন বিকেল ৩টায় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। দেশের বাইরে থাকায় সভায় থাকছেন না মাহবুব তালুকদার। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

    সূত্র জানায়, সংশোধিত আচরণবিধিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকলে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমন- ধারা যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সইয়ের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে প্রচারণায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ধারা সংযোজন, জীবন্ত প্রাণী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলসহ কিছু ধারা এতে ‍যুক্ত হচ্ছে।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আচরণবিধিতে বড় কোনো ধরনের সংশোধন নেই। জীবন্ত প্রাণী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নিষিদ্ধ, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলসহ কিছু ধারা ‍যুক্ত হতে পারে আচরণবিধিতে।

    ইসির উপসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত সভায় কার্য তালিকার আলোচ্যসূচিতে চারটি বিষয় রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮-এর সংশোধন; স্বতন্ত্র প্রার্থীর (প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা ২০১১ সংশোধন এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নীতিমালা ২০১৮ নামে নতুন করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন; বিবিধ।

    রোববার কমিশন সভায় এসব বিধি অনুমোদন পেলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং হয়ে আসার পর এগুলো বিধিতে পরিণত হবে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।