Category: রাজণীতি

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন- ১৭ কেন্দ্রে ভোটে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    বরিশাল সিটি নির্বাচন- ১৭ কেন্দ্রে ভোটে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    অনলাইন ডেস্ক : বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তদন্তে ১৭টি কেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্ত কমিটি।

    সম্প্রতি কমিশনে জমা দেয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান খন্দকার মিজানুর রহমান মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসি যে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছিল তার মধ্যে ৯টিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

    বাকি ৭টি কেন্দ্রে তদন্ত কমিটি অনিয়মের প্রমাণ পায়নি। অপরদিকে স্থগিত হয়নি এমন ৮টি কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সব মিলিয়ে ১৭টি কেন্দ্রের ভোটে অনিয়ম পেয়েছে কমিটি। ওই কমিটি দুই দফায় প্রায় ৬০টি কেন্দ্রের অনিয়ম তদন্ত করেছিল।

    কমিশন সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশনের তদন্তে স্থগিত হয়নি এমন ৮টি কেন্দ্রে অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাই এ অনিয়মের কারণে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে জয়-পরাজয়ে কোনো প্রভাব পড়ল কিনা, সেটা নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশন এখন ওই কেন্দ্রগুলোর ব্যাপারে কী করবে, তা নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে।

    জানা গেছে, তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী অনিয়মের পক্ষে ভিডিও ক্লিপিং দিয়েছিলেন।
    তবে তদন্তে ভোট কেন্দ্রের অনিয়ম সম্পর্কিত কয়েকজন অভিযোগকারী ও সাক্ষীরা ভয়ে কিছু বলার সাহস পাননি। যে কারণে তদন্ত কমিটিও অনিয়মের হদিস পায়নি।

  • বরিশাল জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান বহিস্কার

    বরিশাল জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান বহিস্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে সাবেক এমপি ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ১ অক্টোবর সোমবার বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ আঃ কাদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক এড. তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি এক যুক্ত বিবৃতিতে আব্দুর রশিদ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    আব্দুর রশিদ খান, বিএনপি থেকে কয়েক বছর পূর্বে আওয়ামীলীগে যোগদেন।

  • বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না সরকার

    বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না সরকার

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, অবৈধ সরকারের কর্মকাণ্ডে বাকশাল স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তারা কোনোভাবেই বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম ছক তৈরি করছে সরকার। আজ দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

    আওয়ামী লীগ লুটেরাদের দল বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও দুর্নীতির কোনো মামলা হয় না। তাদের কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদ চরিত্র ফুটে উঠছে। তিনি বলেন, বিএনপির জনসভায় লোক সমাগম দেখে সরকার আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছে। একতরফা নীলনকশার নির্বাচন করতেই আগাম ফরম্যাট তৈরি করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • নরসিংদী-৫ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে আ: রব সেরনিয়াবাত এর নাতি ব্যারিস্টার তৌফিক

    নরসিংদী-৫ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে আ: রব সেরনিয়াবাত এর নাতি ব্যারিস্টার তৌফিক

    মেঘনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র আর আঁড়িয়াল খা- এই তিন নদী বেষ্টিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল রায়পুরা। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নরসিংদী জেলার এ উপজেলাটি দেশের একটি অবহেলিত জনপদ। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রায়পুরা উপজেলা নিয়ে নরসিংদী-৫ সংসদীয় আসন গঠিত। দেশের অন্যসব প্রান্তের মতোই  দুর্গম এ চরাঞ্চলেও বইছে এখন ভোটের হাওয়া।

    নরসিংদী-৫ আসনে ভোটের মাঠে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তৎপর থাকলেও বিএনপি প্রার্থীদের এখনো মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধান দুটি দল ছাড়া রায়পুরায় অন্য দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি নেই বললেই চলে। চরবাসীদের জল্পনা-কল্পনা তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়েই। এ আসনের টানা তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর এই সদস্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে লড়তে চান।

    দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একই সংসদ সদস্য থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি, একসময়ের গণবান্ধব সংসদ সদস্য  রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর কাছে পৌছাতে সাধারণ মানুষের এখন বেগ পেতে হয়। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতার রায়পুরার সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন মুখের দাবি তুলেছেন।  এমনকি বর্তমান এমপির বিরোধিতা করছেন তার পরিবারের সদস্যরাই।এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বিরোধিতা করে তারই ছোটভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু নির্বাচনে আওয়মী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও এ অাসন থেকে ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন- আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান  ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সামছুল হক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী।

     

     

    নরসিংদী-৫ আসনে নৌকা প্রতীকের হাফডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে এলাকাবাসীর মাঝে আলাদা আবেদন তৈরি করেছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান। বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন তার নানা, সেইসূত্রে তৌফিক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র।তার আরেক পারিবারিক পরিচয় তিনি কবি শামসুর রাহমানের  ভ্রাতুষ্পুত্র। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিক দীর্ঘদিন ধরেই রায়পুরার উন্নয়নে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ জনপদে  প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় তাদের সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যারিস্টার তৌফিক রায়পুরার স্যাটেলাইট ক্লিনিককে মানসম্পন্ন করে তুলতে কাজ করছেন। শিক্ষায় পশ্চাদপদ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রায়পুরার পাড়াতলি কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তরের উদ্যোগও নিয়েছিন তিনি। পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই বিনা পয়সায় আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    নিজের এইসব সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পূর্বপশ্চিমকে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান বলেন,  আমাদের এই রায়পুরা নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সবদিক থেকেই পিছিয়ে আছে। এখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ভালো  চিকিৎসার সুযোগ নেই। যাতায়াতের অবকাঠামোও অনুন্নত। এ এলাকার সন্তান হিসেবে নিজের  ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট থেকেই উন্নয়নমূলক সামাজিক  কর্মকাণ্ড জড়িত হয়েছি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চিন্তাভাবনা করার বহু আগে থেকেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। এইসব কাজকে আরো এগিয়ে নিতেই এলাকাবাসীর পরামর্শে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই।।

    ব্যরিস্টার তৌফিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের আত্মীয়তার সূত্রে মনোনয়ন নয়, আমার দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দল যদি মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। দল যদি মনোনয়ন না দেয়, তবুও রায়পুরার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমার অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

     

     

    গত কয়েকমাস ধরে রায়পুরার  ২৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন। এসব বৈঠতে  আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি চরাঞ্চলের বহুল সমালোচিত টেটাযদ্ধে বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে ব্যরিস্টার তৌফিক বলেন, চরাঞ্চলের কুখ্যাত  টেঁটাযুদ্ধের কারণে রায়পুরা প্রায়ই পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে।  তুচ্ছ কারণে টেটা নিয়ে একপক্ষ আরেক পক্ষের ঝাপিঁয়ে পড়ছে। গত আট বছরে চরাঞ্চলে ৮৮টি লাশ পড়েছে। সন্ত্রাস কবলিত জনপদ হিসেবে রায়পুরা পরিচিতি পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। প্রশাসনের পক্ষ ধেতে টেটাযুদ্ধ বন্ধের কোনো  কাজে আসছে না। আসলে গণসচেতনা এটা বন্ধ করা অসম্ভব। আর তাই নির্বাচনী প্রচারণায় আমি যেখানেই যাচ্ছি টেটাযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছি, গণমত গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

    দেশের মানুষের কাছে রায়পুরার পাড়াতলি কবি শামসুর রাহমানের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। অথচ কবির জন্মবার্ষিকী বা প্রয়াণদিবসে শামসুর রাহমানের স্মরণে দীর্ঘদিন কোনো আয়োজন ছিল না এখানে। কবি শামসুর রাহমানের ভাইয়ের ছেলে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমানই পাড়াতলীতে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে  স্মরণ-অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেন।এ উপলক্ষে শুভাকাঙ্খীদের মিলনমেলা বসে কবির বাড়িতে। প্রতিবছর ঢাকা থেকে অনেক কবি-সাহিত্যিক ও খ্যাতিমান বক্তিত্ব যোগ দেন এসব অনুষ্ঠানে। পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসব আমেজ। কবির স্মৃতিরক্ষায় এরই মধ্যে ব্যারিস্টার তৌফিক গড়ে তুলেছেন শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশন। কবির গ্রামের বাড়ি দেখতে আসা আতিথেয়তা দেওয়া হচ্ছে এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি কবি শামসুর রহমানের বাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এসব কাজ বাস্তবায়নে ব্যারিস্টার তৌফিককেই পালন করতে হচ্ছে প্রধান ভূমিকা।

     

     

    ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমানের বৈচিত্র্যময় কর্মতৎপরতায় এলাকায় গড়ে ওঠেছে তার ব্যাপক সমর্থন ও জনপ্রিয়তা। বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদী একাধিক মহল।নরসিংদী-৫ রায়পুরা এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, আওয়ামী লীগ নেতা ও কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তৌফিকের জনসংযোগে নানাভাবে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। তবে স্থানীয়রা স্বতস্ফুতভাবে এসব হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি।

  • জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে: কাদের

    জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ায়দুল কাদের বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে নেতিবাচক রাজনীতির কারণে দলটির জনপ্রিয়তা কমে গেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের সমাবেশেও এর চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি হয়।

    রবিবার আওয়ামী লীগে ধানমন্ডির কার্যালয়ের দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি একথা বলেন।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে আওয়ামী লীগ তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। কিন্তু জ্বালা-পোড়াওয়ের পথ বেছে নিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে যা যা করা দরকার তার সব করা হবে।

  • জাতীয় ঐক্যের ফল শূন্য বলে মন্তব্য করেছেন: অর্থমন্ত্রী

    জাতীয় ঐক্যের ফল শূন্য বলে মন্তব্য করেছেন: অর্থমন্ত্রী

    জাতীয় ঐক্যের ফল শূন্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘এর ফল শূন্য। এসব দিয়ে কিছুই হবে না।’ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি আয়োজিত এক ‘নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে উল্টো জানতে চান—জাতীয় ঐক্য কারা করেছে। এরপর তিনি বলেন, ‘জিরো প্লাস জিরো ইকুয়েল টু জিরো জিরো জিরো।’

    আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি মিলনায়তনে এই সেমিনার হয়। সেমিনার শেষে সাংবাদিকেরা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, নির্বাচনকারী সরকারে কারা থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব আছে, তারাই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে। অন্য কেউ থাকবে না। ২০১৪ সালে যে প্রক্রিয়ায় দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেভাবেই এই দেশে নির্বাচন হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরীক্ষা এই দেশে হয়ে গেছে। তাই যথাসময়েই নির্বাচন হবে।

    বিএনপির মতো একটি বড় দলকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ উদ্যোগ আছে কি না, তা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেই। বিএনপি একসময় বড় দল ছিল। এখন আছে কি না আমার সন্দেহ আছে।’

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনসেবায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এই দেশের মানুষ ভালো, তাদের কোনো কিছুর সুযোগ দিলে তারা পথ বের করে নেয়। যেকোনো ভালো কাজ তারা করতে পারে।

    শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু চিন্তাভাবনা আছে। কিন্তু আমি তাঁর সব কথা রাখতে পারি না। তার মানে এই নয় যে এসব চিন্তাভাবনা ভালো নয়। সমস্যা হচ্ছে টাকার। প্রধানমন্ত্রী চান একেবারে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত শিক্ষাকে বিনা মূল্যে করে দিতে। তাঁর কথা হলো মানুষ শিক্ষিত হলে মানসিকতায় পরিবর্তন আসে, দেশপ্রেম আসে। যেকোনো কাজ তারা করতে পারে। আমি বলেছি, এটা ধীরে ধীরে করতে হবে।’

    বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির দাতা সদস্য ও সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক, সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. এমরান হোসেন, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান প্রমুখ।

    বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল আলম, ফিমেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কায়েছ চৌধুরী, পলা ইসলাম, আবদুল মোতালেব, ফিমেল একাডেমির অধ্যক্ষ নাজমা বেগম প্রমুখ।

  • দুদকে হাজির হননি তিতাসের দুই কর্মকর্তা

    দুদকে হাজির হননি তিতাসের দুই কর্মকর্তা

    দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হলেও হাজির হননি তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের দুই কর্মকর্তা। দুজনই সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন।

    তাঁরা হলেন তিতাসের পাইপলাইন ডিজাইন বিভাগের একটি শাখার ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরী এবং ইলেকট্রিক্যাল কোরেশন কন্ট্রোল (ইসিসি) বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। এই দুই কর্মকর্তাকে আজ রোববার দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে নোটিশ দিয়েছিল দুদক। ২০ সেপ্টেম্বর তাঁদের তলব করে চিঠি পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান। দুদক সূত্র জানায়, দুজনই সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন।

    এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, সীমার অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে দিয়ে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া তিতাসের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এ অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন।

    দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে দুদক এ অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে এর দায়িত্ব ছিল উপ-পরিচালক আহমারুজ্জামানের। প্রেষণে দুদকে আসা এই কর্মকর্তা সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে নিজ প্রতিষ্ঠান পুলিশে ফিরে গেলে নতুন অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান দুদকের আরেক উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ।

    জানা গেছে, অভিযোগ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। নতুন অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়ে এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও তাঁর দল তিতাসের দুই কর্মকর্তাকে তলব করলেও তাঁরা সময় প্রার্থনা করলেন।

    এদিকে, তিতাসের দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। ইতিমধ্যে তিতাসের এমডিসহ ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব করেছেন তিনি। তিতাসের এমডি মীর মশিউর রহমান, উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম আবদুল ওয়াদুদ ও ব্যবস্থাপক ছাব্বের আহমেদ চৌধুরীকে কাল সোমবার দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার তলব করা হয়েছে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ শাখার মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান, টিঅ্যান্ডটি শাখার (গাজীপুর) ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, ব্যবস্থাপক মো. আখেরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস শাখার ব্যবস্থাপক শাহজাদা ফরাজী ও সহকারী কর্মকর্তা আবু ছিদ্দিক তায়ানী।

  • তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি

    তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছে বিএনপি। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় এ দাবি জানানো হয়।

    বিএনপির জনসভা চলাকালীন রাজধানীর কয়েকটি এলাকা থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। জনসভাস্থল শাহবাগের কাছ থেকে আটক করা হয় কয়েকজন যুবককে।

    রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা। ছবি: দীপু মালাকাররাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা। জনসভা থেকে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিএনপির সাত দফা দাবি হলো:

    ১. খালেদা জিয়ার মুক্তি

    ২. জাতীয় সংসদ বাতিল করা

    ৩. সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা

    ৪. সুষ্ঠু নির্বাচনে স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ

    ৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা

    ৬. নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ না করা

    ৭. ক. বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার

    খ. তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স্থগিত ও নতুন মামলা না দেওয়া

    গ. পুরোনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করা

    ঘ. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের এবং সাংবাদিকদের আন্দোলন ও মত প্রকাশের কারণে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দেওয়া

    আজ বেলা দুইটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা শুরু হয়। বেলা দুইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সভা শুরু হলেও দুপুর ১২টা থেকে জনসভাস্থলে ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হয়েছেন।

    জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকজন যুবককে আটক করে পুলিশ। ছবি: দীপু মালাকারজনসভাস্থলের আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকজন যুবককে আটক করে পুলিশ,আজকের জনভার প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রধান বক্তা দলটির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আর এতে সভাপতির ভাষণ দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থাকা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিএনপি এই জনসভা করছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ পয়লা অক্টোবর থেকে নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

    ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বিএনপির মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও বিএনপির সমাবেশে অন্য কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই জনসভা বিএনপি একাই করছে।

  • ১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩২ হাজার

    ১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩২ হাজার

    কাজী সাইফুলঃ

    দরিদ্র, অসহায়, নির্যাতিতসহ পিছিয়ে পড়া সব শ্রেণিপেশার মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ‘১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

    টোল ফ্রি এই নম্বরটির যাত্রা শুরুর পর থেকে এতে ফোন করে আইনি সহায়তা নিয়েছেন ৩২ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে নারী ৯ হাজার ৮৮৭ জন এবং পুরুষ ২২ হাজার ৯৯৯ জন। ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল টোল ফ্রি ১৬৪৩০ নম্বরটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এরপর থেকেই সরকারি আইনি সহায়তায় ‘জাতীয় হেল্পলাইন’ হিসেবে নম্বরটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যা সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে ‘সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান’ প্রকল্পের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করছে এই কলসেন্টার সার্ভিস। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল টোল ফ্রি সার্ভিসটি চালুর পর একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১৫ জন নারী-পুরুষ এর মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন।

    এরপর ২০১৭ সালে সেবা নেন ১১ হাজার ১০৬ জন। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৬ জন নারী এবং ৭ হাজার ৬৭৯ জন পুরুষ, অর্থাৎ মোট ১০ হাজার ৭৬৫ জন ভুক্তভোগী এর সুফল ভোগ করেছেন। আর লিগ্যাল এইডের এই সফলতার পেছনে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। লিগ্যাল এইডের এমন সফলতার পেছনে দুইটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

    প্রথমত, টোল ফ্রি লিগ্যাল এইড সার্ভিসে ফোন করে মানুষ মন খুলে যে পরামর্শ চায়, তা পাচ্ছে। এবং দ্বিতীয়ত, লিগ্যাল এইড সার্ভিসে জনগণ আশানুরূপ সুবিধা পেয়ে বিষয়টিকে তারা অন্যদের মাঝে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এটা তো নতুন একটি সেবা প্রকল্প। তাই এটি শুরু করতে গিয়ে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করছি আর সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা সেবাটির আরও উন্নতিকরণের চেষ্টা করছি।

    আইনি পরামর্শ, আইনগত তথ্য, কাউন্সিলিং, মামলা/মোকদ্দমা করার প্রাথমিক তথ্য, সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কিত যেকোনও পরামর্শ, অভিযোগ দিতে ‘১৬৪৩০’ নম্বরে টোল ফ্রি কল করে সহায়তা পাওয়া যাবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সেবা দেওয়া হয়। কল করা ছাড়াও নম্বরটিতে ম্যাসেজ, লিগ্যাল এইডের ফেইসবুক মেসেঞ্জার বা তাদের অ্যাপস্ ব্যবহার করেও ভুক্তভোগীদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে যেকোনও ব্যক্তি এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

    সরকারি আইনি সেবা পাওয়ার যোগ্যতা: যারা দরিদ্র ও অসহায় এবং নিজ খরচে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না তাদের জন্য সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়।

    এই সুবিধা পেতে আবেদন করতে পারেন যারা: (ক) অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি যার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকার বেশি নয়; (খ) কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন বা বার্ষিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে অক্ষম এমন মুক্তিযোদ্ধা; (গ) যেকোনও শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ টাকার বেশি নয়; (ঘ) যেকোনও শিশু; (ঙ মানব পাচারের শিকার যেকোনও ব্যক্তি; (চ) শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু; (ছ) নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে; (জ) যেকোনও উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের লোক; (ঝ) পারিবারিক সহিংসতার শিকার অথবা সহিংসতার ঝুঁকিতে আছেন এমন যেকোনও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি; (ঞ) বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন যেকোনও ব্যক্তি; (ট) বিজিডি কার্ডধারী দুঃস্থ মাতা; (ঠ) এসিড দগ্ধ নারী বা শিশু; (ণ) যেকোনও প্রতিবন্ধী; (ত) আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা বা আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমর্থ ব্যক্তি; (থ) বিনাবিচারে আটক এমন ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল; দ) আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি এবং (ধ) জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি।

    এ জাতীয় আরও কিছু সেবা প্রকল্প বাস্তাবায়নে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই আপাতত লিগ্যাল এইডের সঙ্গে নতুন কিছু যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এইটুকু বলতে পারি, নিশ্চই এই সেবা সম্প্রসারিত হবে।

    এবং আরও কিছু সেবা যদি এর সঙ্গে যোগ করে জনগণের উপকরা করা যায়, তবে অবশ্যই আমরা তা করবো। কেননা, লিগ্যাল এইড সার্ভিসটি আমাদের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প।’ জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. জাফরোল হাছান বলেন, ‘লিগ্যাল এইডের কলসেন্টার সেবার পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান ও প্রত্যেককে পৃথক পৃথক মোবাইল নম্বর সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে। এতে জনগণ আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আইনি সুবিধা পাবেন বলে আমরা মনে করছি।

  • অসুস্থ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতিকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

    অসুস্থ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতিকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

    শেখ সুমন:

    বরিশাল মহানগর সাত নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল ফারুক হুমায়ুন এর অস্ত্রপচার হওয়ায় তাকে ঢাকাস্থ ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে দেখতে যান বরিশাল সিটিকর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    এসময় তিনি অসুস্থ আবুল হুমায়ুন এর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে এসময় কথা বলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। এসময় তিনি অসুস্থ সভাপতির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন