Category: রাজণীতি

  • পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, আমি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নই। কিন্তু পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে বসে বসে একটি হত্যাযজ্ঞ দেখবে এবং কিছুই করবে না?

    শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির এসব কথা বলেন।

    মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, দেশগুলো স্বাধীন। কিন্তু তার মানে কি এই যে, নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে!

    মাহাথির মোহাম্মদ আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশটিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া এবং নিজ দেশের মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এসব অস্বীকার করছেন।

    তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ লাখ শরণার্থী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গভীর সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। বেঁচে থাকা লোকজনের খাবার, পানি ও স্যানিটেশনের সুবিধাবিহীন অস্থায়ী শিবিরে কোনো রকম ঠাঁই হয়েছে। তারপরও সু চিসহ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব অস্বীকার করছে।

    ১৫ বছর পর জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে মাহাথির রোহিঙ্গা ইস্যু, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, বিশ্বায়ন, বাণিজ্য যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় জাতিসংঘের মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জনে তার দেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

  • ‘নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে’

    ‘নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে’

    চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সব দলকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে কমিশন আর কোনো উদ্যোগ নেবে না। কেননা এর আগেও সব দলের সঙ্গে সভা করে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে আমরা আশা করছি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে। সবার অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

    শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের লাভ লেনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সব নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এসময় চট্টগ্রামের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আ ন ম মুনির হোসাইন খানসহ উপজেলার নির্বাচনী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর বাকি কাজ শেষ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর সিইসিসহ সব কমিশনাররা দেশের প্রতিটি বিভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। দেবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও। প্রতি বিভাগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে করা হবে সমন্বয় সভাও। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে কোনো ধরণের ঝুঁকি কমিশন দেখছেন না। তবে ঝুঁকি মোকাবেলার সব ধরণের প্রস্তুতি কমিশনের আছে।’

    ইসি সচিবের সঙ্গে চার কমিশনারের মতবিরোধ বিষয়ক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব এবং বাকি চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’ ইসি সচিব জানান, সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টির সবগুলোতে ট্যাব (ট্যাবলেট পিসি) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরাসরি ফল পাঠানো যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রাইমারি, এমপিওভুক্ত ও সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা কাজ করবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও। যাচাই-বাছাই করেই এদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আ ন ম মুনির হোসাইন খান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্র থেকে ফলাফল যাতে সরাসরি কমিশনে পাঠানো যায় সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।’ সভায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে মিলেমিশে পরিচালনা করার নির্দেশনা দেন হেলালুদ্দিন আহমদ।

  • ‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু’

    ‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু’

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রবীণ এই দুই নেতার ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এদের কাণ্ড-কীর্তন দেইখ্যা আমার আজম খানের একটা গান মনে হইছে। ‘বাঘ মারতে যামু, বাঘ মারতে যামু-বন্দুক লইয়্যা রেডি হইলাম আমি আর মামু’ এই তিন নেতা বাঘ মারতে রেডি অইছে।’’

    শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ কর্মী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

    মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য তারা আবার ষড়যন্ত্রের পথে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বানচালের জন্য তারা আবার মাঠে নেমেছেন। ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচন হবে, ৫ বছর আগের নির্বাচন ঠেকাইতে পারেন নাই। এখনও পারবেন না, এই নির্বাচন হবেই। নির্বাচনে জনগণকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপাইয়া পড়ব। বাঘ মারার ডর দেখাইয়্যা কোনো লাভ নাই, ওইটা বাঘ না ফেউ মারছেন। ওই ফেউতে বাংলার মানুষ ডরায় না। ওই ফেউয়ের পেছনে বাংলার মানুষ নাই।’

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সভা হয়েছিল, সেখানে কাকে দেখলাম কামাল হোসেন। আপনাদের মনে আছে, গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের প্রার্থী ছিল জেনারেল ওসমানী। জেনারেল ওসমানীর ফাইনাল প্রজেকশন মিটিং ছিল এই পল্টনে। সেই দিন কামাল হোসেন আগের রাতে ভাগাতালি হয়ে গেছেন। টাটা-বাই-বাই উনি আর নাই। এই হলো ইলেকশনের আগে উনি ভাগা তালি হন।’

    ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে মতিয়া বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা আমরা সবাই জানি। তিনি আবার মাঠে নেমেছেন, কখন নেমেছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ওনাকে দেখা যায়নি। ১/১১-এর সময় যখন স্বৈরাচার ছিল তখন তাকে দেখা যায়নি। আজকে তিনি এসেছেন গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন।

    আপনি ইলেকশনের আগের দিন পলায়া যান, আপনারে খুইজ্জা পাওন যায় না, লোড় পাড়েন। আর আপনি আসছেন গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য? এই কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমির-উল- ইসলামের বইতে লেখা আছে। ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীনকে সাহেবকে বললেন, আমি এখানে একটু নামি পরে দেখা হবে। পরে আর জিন্দিগিতে দেখা হয় নাই। টিক্কা খানের বাড়িতে গিয়া উঠছেন।’

    সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব। বি. চৌধুরী সাহেব কে? আমার কথা না, জিয়াউর রহমান সাহেব মারা যাওয়ার পরে আপনারা তখনকার কাগজ খুইল্যা দেইখেন কী হেডিং ছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট বাবার বুক ঝাঁঝড়া করে দিল, তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলে বদু কাকা?-এটা হলো তারেক রহমানের বিলাপ। ভুলে যায় নাই বাংলার মানুষ।’

    বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তারপর আরেক সিন-সিনারি। সেইটা কি? তিনিও লোড় পাইড়্যা, দৌড় পাইড়্যা সেই রেললাইন ধইর্যা তারেকের ধাওয়া খাইয়া দৌড় পাড়ছেন।

    এখন শখ জাগছেন উনি আবার কিছু একটা হবেন। এই জন্য দুই পলায়নপর নেতা, আরেক পলাতক নেতা তারেক রহমান। টাকা পাচারের দায়ে শাস্তি হইছে-এই তিন নেতার ঐক্য হইছে। সেই ঐক্য দিয়া তারা নাকি বাংলাদেশকে উদ্ধার করবে। নির্বাচন বানচাল করবে। গণতন্ত্রের নামে এই দেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবে।’

    ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ।

    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।

  • তিন বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১৪ দলের

    তিন বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১৪ দলের

    রাজশাহী, নাটোর ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

    শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দল আয়োজিত কর্মী সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

    তিনি জানান, ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় ১৪ দল বিভাগীয় সমাবেশ করবে। তারপর নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে।

    তিনি বলেন, ওরা বলেছে অক্টোবর থেকে মাঠে থাকবে। অক্টোবর তোমাদের জীবনে আসবে না। ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠ গরম করব।

    মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওরা চেয়েছিল আজকের এই সমাবেশ ভণ্ডুল করার জন্য, বানচাল কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রান্ত করেছিল যেন মহানগর নাট্যমঞ্চে আমরা সমাবেশ করতে না পারি। আমরা হলাম বাঘের বাচ্চা। আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের কর্মীরা বাঘের বাচ্চা। যত বাধা দিবে আমরা তত বেশি অগ্রসর হবো। আজকে কর্মী সভা নয়, জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে। এখন ১৪ দলের কর্মীদের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মীদের ঘরে বসে থাকার সময় এখন আর নাই। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এটা ২০১৪ সাল নয়, ১৮ সাল। তোমাদের মরণকাল এ বছরই হবে। বিএনপি-জামায়াত লোক ভাড়া করছে। পরিত্যক্ত, পলায়নকারীদের ভাড়া করছো। যাদের নীতি নাই, ঠিকানা নাই। পলায়ন করতে অভ্যস্ত, ওই নেতাদের ভাড়া করছে। খেলার মাঠে খেলোয়াড় ভাড়া করা যায়। রাজনীতি মাঠে নেতা ভাড়া করা হয় এটা প্রথম দেখলাম। ভাড়াটিয়া দিয়ে জয় করতে পারবে না। ভাড়াটিয়া দিয়ে কাজ হয় না। একজন বিদেশে বসে আর দুইজন দেশে বসে চক্রান্ত করছে।

    জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সাবধান থাকবেন। শেখ হাসিনা ও আমরা যখন ডাক দিব তখন কেউ ঘরে বসে থাকবেন না, ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। ১৪ সালে জ্বালাও-পোড়াও করছে এবার হবে না। আমাদের ঐক্য দরকার। মাত্র কয়দিনের নোটিশে আপনারা আজকে এখানে এসেছেন। গণতন্ত্রের বিকল্প হচ্ছে গণতন্ত্র। কোনো অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় আনার চক্রান্ত করছেন, যারা চক্রান্ত করছেন তাদের কালো হাত ভেঙে দেয়া হবে। বিএনপি-জামায়াতকে কোনো ছাড় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে, নির্বাচনের ফলাফল যা হবে আমরা মেনে নিব।

    ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।

  • আদর্শহীন ঐক্য কখনো টিকেনা

    আদর্শহীন ঐক্য কখনো টিকেনা

    নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, আদর্শহীন ঐক্য কখনো টিকে থাকতে পারে না। তাদের ঐক্যও টিকবে না।
    তিনি বলেন, যারা আজকে একদল, কালকে আরেকদল, পরশু অন্যদল, তাদের কোনো নীতি নেই। নীতিহীন দলকে মানুষ কখনো গ্রহণ করে না।

    শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্র্যান্ড মিনিস্টার হাইটেক পার্ক ইলেকট্রনিক্স লি: কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
    ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইওয়ান-মিনিস্টার হাইটেক পার্কের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলরূবা তনু, প্রাইম ব্যাংক লি. এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও রাহেল আহমেদ।

    এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে কারখানার উদ্বোধন করেন এবং কারখানা ঘুরে দেখেন।

  • ৪ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে জনসভা করবে বিএনপি

    ৪ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে জনসভা করবে বিএনপি

    প্রশাসনের অনুমতি মিললে ৪ অক্টোবর নগরীর লালদীঘি ময়দানে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপি। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে এই জনসভার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

    শনিবার দুপুরে নাসিমন ভবনে নগর বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির কথা জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে শাহাদাত হোসেন বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সবার অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে জানিয়েছেন। কিন্তু গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে পুরে, হয়রানি-নির্যাতন করাই কী তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা?

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমতল ভূমি দরকার। তারা বহর নিয়ে বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর আমাদের রাতের আঁধারে গ্রেফতার করে জেলে রাখছেন। গত ১০ দিনে ১৫১ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিনা অপরাধে। এটাই কী তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ?

    হাইকোর্টের নির্দেশ পুলিশ মানছে না দাবি করে শাহাদাত হোসেন বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন নিলেও পুলিশ গায়েবী মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নিরপরাধ বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি মামলা না থাকলেও ইয়াবা ও ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

    ঢাকায় চকবাজার থানা বিএনপির এক নেতা মারা গেছেন ২০১৬ সালে, কিন্তু ২০১৮ সালে এসে সেই মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মরেও রেহাই পাচ্ছেন না। সম্মেলনে নগর বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতাদের অফিস ও বাসাবাড়িতে তল্লাশির নামে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে য় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করছে পুলিশ।

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ-সভাপতি এম এ আজিজ প্রমুখ।

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ভয় নেই

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ভয় নেই

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, যারা দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তাদের ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। স্বাধীন সাংবাদিতার নামে যারা অপসাংবাদিকতা করছে, মানুষের চরিত্র হরণ করছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদয়িতকার উপর আঘাত করছে, তাদের দমন করার জন্যই এ আইন করা হয়েছে। যারা প্রকৃত সাংবাদিতা করবেন তাদের ওপর এ আইন প্রয়োগ হবে না। যদি হয় তবে আমরা সাংবাদিক সমাজ এর প্রতিবাদ জানাবো এবং প্রতিরোধ করবো।

    আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিডিয়া এবং সাংবাদিকদের বিকাশে বিশ্বাস করেন। যার কারণেই তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য ট্রাস্ট করে দিয়েছেন, অনেকগুলো আইন প্রণয়ন করেছেন, অবাধ তথ্য আইন এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা যাবে না এমন আইন তিনিই করেছেন।

    ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে এবং এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। নবম ওয়েজ বোর্ডে প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

    এসময় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা: কামরুল হাসান খান, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগর সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলো হিজড়ারা

    প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলো হিজড়ারা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন পালন করেছে জামালপুরের হিজড়া সম্প্রদায়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হিজড়াদের সংগঠন সিঁড়ি সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করেন তারা।

    সংগঠনের সভাপতি ও জয়ীতা আরিফা আক্তার ময়ূরীর সভাপতিত্বে হিজড়ারা বলেন, দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এবং তৃতীয় লিঙ্গকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মমতাময়ী মায়ের মতো নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

  • হেলিকপ্টার লো-ফ্লাই করে ছেলের জনসভা দেখলেন রাষ্ট্রপতি

    হেলিকপ্টার লো-ফ্লাই করে ছেলের জনসভা দেখলেন রাষ্ট্রপতি

    কিশোরগঞ্জে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে হেলিকপ্টার লো-ফ্লাই করে ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিনের জনসভা পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুক্রবার বিকেলে জনসভা চলার সময় পুরাতন স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে কয়েকবার চক্কর দেয় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারটি।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

    শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছেলে ও প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের পরিচালক রাসেল আহমেদ তুহিন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

    kishorgonj02

    জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তার সাফল্য কামনা করে দোয়াও করা হয়।

    জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুল, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবিএম সিরাজুল ইসলাম, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.অধ্যাপক আ ন ম নওশাদ খান, আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল গণি ঢালি লিমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সংকট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে বৃহস্পিতবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর পৃথক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়।
    পুরস্কার দুটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দেশেরই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ।
    মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নজির স্থাপন করায় ইন্টার প্রেস সার্ভিস শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
    আর দাতব্য সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।
    জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ইন্টার প্রেস সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক উইলিয়াম লুসি সুইং। এরপর রাতে নিউইয়র্কের পার্ক এভিনিউয়ে আরেক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
    নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু ইসুফু, তিউনেসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি সাইদ এসেবসি এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসও এই পুরস্কার পেয়েছেন।
    সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে; তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
    জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক:
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতর আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠক হয়।
    শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেছন জাতিসংঘ মহাসিচব। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালবাসার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
    পররাষ্ট সচিব বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকৃত অর্থেই ‘লক্ষণীয় ও শিক্ষণীয়’। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব ধরে রাখারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
    শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা এবং ৭৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফেরনান্দা এসপিনোসা গার্সিসও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।