Category: রাজণীতি

  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি

    আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারাবান্দি বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসাপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তার চার আইনজীবী।

    দেখা করে কারাগারের বাইরে এসে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আজ সাক্ষাতে ম্যাডামকে যেভাবে দেখেছি তাতে তিনি কীভাবে আগের দিন আদালতে এসেছিলেন তা ভাবছি। তিনি বাম হাত নাড়াতে পারছেন না। বাম পাশ পুরো অবশ হয়ে গেছে। তার চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। চোখের ভবিষ্যত কী, সেটা বলা যাচ্ছে না। আমরা মনে করি, তাকে চিকিৎসা না দেয়ায় এই অবস্থা হয়েছে।

    তিনি বলেন, তাই আমরা দাবি করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হোক। ইউনাইটেড, অ্যাপোলো বা যে কোনো বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। আগে চিকিৎসা তারপর বিচার। খালেদা জিয়ার সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

    এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আইনজীবীরা কারাগারে পৌঁছে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের অনুমতি চান। ৫টার কিছুক্ষণ আগে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাত শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বের হন।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রেজ্জাক খান।

  • আলোয় এল গোয়েন্দা নথির বঙ্গবন্ধু

    আলোয় এল গোয়েন্দা নথির বঙ্গবন্ধু

    শুক্রবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলনের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

    ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করত পাকিস্তানের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ(আইবি)।

    দীর্ঘ ২৩ বছরের সেইসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলন প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স।

    ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

    তরুণ শেখ মুজিব নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে কেমন করে বাংলার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলেন- সেই পথচিত্র যেমন এই বইয়ে এসেছে, সেই সঙ্গে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলার মানচিত্র।

    এসব কারণে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সঙ্কলনকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করছেন ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে।

     

    ১৪ খণ্ডের সঙ্কলনে ভাষা আন্দোলন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, বক্তব্য-বিবৃতি, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের বিষয়গুলো উঠে এসেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বয়ানে।

    ইংরেজি ভাষায় লেখা পুরনো এসব নথি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) রেকর্ড রুমেই পড়ে ছিল অযত্ন আর অবহেলায়।

    বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে সেসব নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন এবং ৬০৬-৪৮ ফাইল নম্বর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড তথ্য সেখানে ছিল, সেগুলোর পাঠোদ্ধার ও সঙ্কলিত করার ব্যবস্থা করেন।

    ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে।

    ৫৮২ পৃষ্ঠার প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।

    বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ছিলেন অনুষ্ঠানে।

    এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

  • শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘ

    শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘ

    মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উদারতার প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খবর বাসসের।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশ্বসমর্থন আদায়ে আপনার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয়টি ছিল উল্লেখ করার মত। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই ঢাকা ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই যৌথ সফরের মধ্যদিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তা-সহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে আরো সচেতন হয়েছেন।
    এ প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিবিড় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সংকটের মধ্যমেয়াদি প্রভাব মোকাবেলায় ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান ভিত্তিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।
    চিঠিতে তারা আরো বলেন, আমরা ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আপনার এবং আপনার সরকারের সাথে জড়িত হওয়ার সুযোগেরও প্রশংসা করছি।
    জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট উভয়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের চমৎকার অগ্রগতির জন্যে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
    তারা বলেন, অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ২০৩০ সালের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ উভয়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে অব্যাহত সহায়তার অঙ্গীকার করেছে।
  • ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি

    দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করবে। বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে এক বৈঠকে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    দুই দেশের প্রথম টু প্লাস টু বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন উপস্থিত ছিলেন। এসময় দু-দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে সম্মত হন তারা।

    বৈঠকে তারা পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রস-বর্ডার সন্ত্রাসবাদ, এনএসজি এবং বিতর্কিত এইচ-১বি ভিসা প্রদান বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ সংক্ষিপ্ত বৈঠকের বিস্তারিত বলতে গিয়ে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই চুক্তিকে যোগাযোগ, সামঞ্জস্য ও নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি হবে দুই দেশের জন্য একটি মাইলফলক।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন বলেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি আরো বৃদ্ধি পাবে।

    চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সুবিধা অর্জন পাবে ভারত; যার মাধ্যমে মার্কিন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

  • সরকার-বিএনপির বিপরীতমুখী বক্তব্য

    সরকার-বিএনপির বিপরীতমুখী বক্তব্য

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারা অভ্যন্তরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দিতে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। বিএনপির আইনজীবীদের এ বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, আইন মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আজ বৃহস্পতিবার সমিতির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, এই আদালতটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। সরকার খালেদা জিয়াকে একতরফাভাবে যেনতেনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। সরকারকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে এই গেজেটটি (কারাগারে অস্থায়ী আদালত বসানো) প্রত্যাহার করে উন্মুক্ত আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় দেশের আইনজীবীরা এ বিষয়ের ওপরে পরবর্তী বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

    দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেছেন, আইন মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ওই মামলাটি করা হয়, বর্তমান সরকার মামলাটি করেনি। সাজা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার চেষ্টা করছে, এটি ঠিক নয়। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এমন বক্তব্য আদালতের প্রতি অনাস্থা, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো মামলা বিচারের জন্য কোনো স্থানকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা নতুন নয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার বিচার যখন হয়, তখন পুরোনো কারাগারের একটি অংশকে আদালত ঘোষণ করা হয়েছিল। ওই মামলায় বিচার ক্যামেরা ট্রায়াল হবে বা কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না সরকার বা আদালত এমন ঘোষণাও দেননি। কাজেই এ ব্যাপারে তাঁদের ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এসব বক্তব্য মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত করার জন্যই।

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাছে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা নাইকো ও বড়পুকুরিয়া ইত্যাদি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিচারকাজ ওই আদালতেই চলছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ওই কোর্ট বা ওই সব বিচারকাজ তো কোনো জেলখানার অভ্যন্তরে স্থানান্তর কিংবা পরিচালনা করা হচ্ছে না। অথচ খালেদা জিয়াকে কারা অভ্যন্তরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা প্রদানের লক্ষ্যে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। যাতে সাধারণ জনগণ বিচারের নামে সরকারের বেআইনি কার্যক্রম দেখতে বা বুঝতে সক্ষম না হয়।

    লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ৭ নম্বর কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তা সংবিধানের ৩৫ (৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুসারে উন্মুক্ত আদালত নয় বা হতে পারে না। সেখানে পাবলিক তো দূরের কথা খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী, আসামিদের আত্মীয়স্বজন কিংবা দলীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার নেতা–কর্মীদের প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শোনার কোনো সুযোগ নাই।’…কারা অভ্যন্তরে গঠিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার সুযোগ না থাকায় এমন আদালতে খালেদা জিয়ার মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ সময় অন্যদের মধ্যে সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি

    অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি

    শামীম ইসলাম:

    অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে দুই দিনব্যাপী এফইএমবিওএসএ-ফেমবোসা সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ভুল করেছেন। আমরা তাকে বলিনি। তার এভাবে বলা উচিত হয়নি।

    সিইসি বলেন, আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। মিডিয়ার সামনে বললাম, অর্থমন্ত্রী ভুল করেছেন। এটা তার কাজ নয়। এভাবে বলা তার ঠিক হয়নি।

    এর আগে গতকাল বুধবার নিজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। তবে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল অনুযায়ী হবে। তাকে প্রধান করে স্বল্পসংখ্যক মন্ত্রী নিয়ে এ সরকার হবে।

    ভোটের তারিখ নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত করবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুনেছি নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৭ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।

  • জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

    জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে জাতীয় পার্টি। তবে নির্বাচনী কোনো জোটে জাতীয় পার্টির যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করছে বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার সিদ্ধান্তের ওপর।এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন খোদ চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

    বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়, তাতেই এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, আমরা কারো কাছে সিট চাইবো না, মন্ত্রী সংখ্যাই বা আমরা কেন চাইবো। আমরা বিরোধী দল বা সরকারের অংশীদার হওয়ার জন্য তো রাজনীতি করছি না। রাজনীতি করছি ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

    তিনি বলেন, এবার আমরা সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। নির্বাচনী রাজনীতিতে জোট করা যায়। কিন্তু এবার আমরা কারো সাথে আগ বাড়িয়ে জোটে যাওয়ার কথা কেন বলবো? কেউ যদি ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, তাহলে তারাই আমাদের সঙ্গে জোটে আসবে।

    জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ বলেন, রওশনের বক্তব্যে আমি খুশি হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি। আমরা এবার নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো। প্রয়োজন হলে আরও বৃহৎ জোট করবো। তবে এটা নিশ্চিত, এবার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।

    এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়। ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে সভা থেকে। যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের চেয়ারম্যান।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সংসদ সদস্য জানান, সভায় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। যদি কারও আগ্রহ থাকে আমাদের সঙ্গে জোট করার সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির স্বার্থ রক্ষা করেই সে জোটে যেতে হবে। ওই সংসদ সদস্য আরও জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি শুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথসভার সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, এখন থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করুক বা না করুক সেদিকে জাতীয় পার্টি ফিরে তাকাবে না। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

    সভায় বলা হয়, জাতীয় পার্টি অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি নিজেরাই ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। তার জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় যেসব জেলায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেখানে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্মেলন সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় আরও বলা হয়, নির্বাচনের জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন বাদেও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটিও গঠন করতে হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় পার্টির কর্মসূচি অবহিত করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের এই যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ।

  • নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র শেখ হাসিনার

    নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র শেখ হাসিনার

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানেন না। বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কী হবে, আকারে কতটা ছোট হবে, ক্যাবিনেটে কতজন থাকবেন?- তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।

    জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলে আওয়ামী লীগ যাবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্যে বিশ্বাসী। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দেব। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই।’

    তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের বিষয়। নির্বাচন মানেই হলো প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা- সেটা হবেই। আমরা এগুলোকে ওয়েলকাম করি। আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে যাচ্ছি এমন তো নয়। ঐক্যও হতে পারে। নির্বাচন আসলে জোট হবেই। আওয়ামী লীগও জোট করে, অন্যান্য দলও জোট করে। বিএনপিরও জোট আছে। আমাদের ১৪-দলীয় জোট আছে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের জোট হয়েছে, সরকারে আমরা এক সঙ্গে আছি। সেই মহাজোটের সরকারই তো বর্তমানে-বাস্তবে দেশ চালাচ্ছে।’

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দল আছে। এ দলগুলোকে বাদ দিয়ে যেটা হবে তা হলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় নাকি? ‘জাতীয় ঐক্য’- এ শব্দদয় ব্যবহার না করাই ভালো।’

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি একমাত্র বিএনপির পক্ষে শোভা পায়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে অনিয়ম, জালিয়াতি নেই। নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় গেছে বিএনপি।’

    কাদের বলেন, ‘২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ- এটা নিশ্চিত হলেও তা বলার দায়িত্ব আমাদের না, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলের কোনো নেতার না। তাই আমরা যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল (দায়িত্বশীল) ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।’

    রাজশাহী নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনো কারণ আছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা ও  অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে।’

    তিনি বলেন, ‘রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাততেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়, অন্যরাইও চাইতে পারেন। আমাদের পার্টির ফান্ডও আছে। ২৫ হাজার করে টাকা দিতে হবে। এবার ভাবছি আরেকটু বাড়াব।’

    দলের মধ্যে আত্মঘাতী প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে- যেটা হওয়ার কথা ছিলো বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণা আর কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’

    ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না’-এমন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। বরগুনাতে একটা ঘটনা ঘটেছে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। আমরা তা মোটেও অ্যালাউ করব না। কারও অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দেবেন। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদি আলোচনা যথেষ্ঠ না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেব। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নেবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। যারা করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে, আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।’

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলনামা আছে, এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই-বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ।

  • নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি : স্পিকার

    নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি : স্পিকার

    শামীম ইসলাম:

    জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু সংসদ। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা অন্যতম প্রধান শর্ত। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই ফেমবোসা’র মূল লক্ষ্য।

    বুধবার রাজধানী ঢাকার রেডিসন ব্লু’তে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আয়োজিত ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (এফইএমবিওএসএ) এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ এফইএমবিওএসএ এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ফেমবোসার বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. গোলাজান এ. বাদি সাইদ এবং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বক্তব্য রাখেন।

    স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারিগরি উদ্ভাবনী, ওয়েরসাইট ডিজাইন, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    এ সময়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন খুব কাছে উল্লেখ করে বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন স্মার্ট কার্ডসহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ফেমবোসার এ ধরনের সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়া দেশসমূহের মাঝে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক জ্ঞান লাভে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।

    নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা আনয়নে ফেমবোসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি

    স্পিকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ বিজয় ছিনিয়ে আনে। এখন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

    অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নবম ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি ফেমবোসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ভোট অব থ্যাংকস প্রদান করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে ভারতের নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা, ভুটানের নির্বাচন কমিশন সচিব দাউয়া তানজিন, মালদ্বীপের অ্যাম্বাসেডর এশাথ শান শাকির, নেপালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. আইয়োদী প্রাশাদ জাদেভ, পাকিস্তানের ভারপাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার, শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান মাহিন্দ্রা দেশাপ্রিয়াসহ বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনারগণ এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দুর্নী‌তি কর‌লে যে দ‌লেরই হন রক্ষা পা‌বেন না : প্রধানমন্ত্রী

    দুর্নী‌তি কর‌লে যে দ‌লেরই হন রক্ষা পা‌বেন না : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা ব‌লে‌ছেন, দলীয় প‌রিচ‌য়ে নয়, নির্বা‌চিত জনপ্র‌তি‌নি‌ধি হি‌সে‌বে সব ধরনের সু‌যোগ সু‌বিধা পা‌বেন। য‌দি সেখা‌নে অ‌নিয়ম হয়, দুর্নী‌তি হয়, সন্ত্রাস ও জ‌ঙ্গিবা‌দের স‌ঙ্গে জড়া‌নোর কোনো অ‌ভি‌যোগ উঠে তাহ‌লে যে দ‌লের নেতাই হন না কেন, রেহায় পা‌বেন না।

    বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল‌য়ে রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠা‌নে তি‌নি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, যারাই ক্ষমতায় অাসুক দে‌শের উন্নয়ন যেন থে‌মে না যায়। বাংলা‌দেশ যেন পি‌ছি‌য়ে না যায়। জনগণ অ‌নেক অাশা আকাঙ্ক্ষা নি‌য়ে অাপনা‌দের ভোট দি‌য়ে‌ছে। তা‌দের অাশা পূর‌ণে অাপনা‌দের কাজ কর‌তে হ‌বে। অাগামী ডি‌সেম্ব‌রে জনগণ তা‌দের ভোটা‌ধিকার প্র‌য়োগ ক‌রে নতুন সরকার গঠন কর‌বে।

    তিনি আরও বলেন, যেই সরকার গঠন করুক না কেন তারা নি‌জে‌দের সম্পদশালী না ক‌রে যেন জনগণ‌কে সম্পদশালী ক‌রে। তাহ‌লে দে‌শের উন্নয়ন হ‌বে, দেশ এ‌গি‌য়ে যা‌বে। জনগণ যেন সম্পদশালী হয় সে দি‌কে লক্ষ্য রে‌খে অাপনা‌দের কাজ ক‌রে যে‌তে হ‌বে।

    স্থানীয় সরকার সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল‌য়ের মুখ্য স‌চিব মো. ন‌জিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।