Category: রাজণীতি

  • এই আদালত চলতে পারে না: খালেদা জিয়া

    এই আদালত চলতে পারে না: খালেদা জিয়া

    নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারের ব্যবস্থা করায় অসন্তোষ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এই আদালত চলতে পারে না। আধা ঘণ্টারও কম সময় আদালতের কার্যক্রম চলার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা না থাকায় শুনানি মুলতবি করে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করে দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। এদিকে বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত  পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আদালত বর্জন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নতুন এ এজলাসে বিচার কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়া নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে বিচারককে বলেন, আমি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। ডাক্তার আমাকে বেশিক্ষণ পা ঝুলিয়ে থাকতে মানা করেছেন। তাই এই পরিবেশে আমার বারবার আসা সম্ভব নয়। আপনাদের যা ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন। কারণ বর্তমানে এই আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না। এখানে ইচ্ছা মতো বিচার চলছে। অন্যায়ভাবে বিচার করা হচ্ছে।

    আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, কারাগারে আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সাতদিন আগে হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ নিয়ে কেন গেজেট হবে? কেন আগে গেজেট দেওয়া হলো না? তিনি বলেন, ইচ্ছা করে আমার আইনজীবীদের আদালতে আসতে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া আমার আইনজীবীরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এজন্য আদালতে তারা উপস্থিত হতে পারেননি।

    এর আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

  • বিমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বিমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশের বিমানবহরে প্রথমবারের মতো সংযোজিত ৭৮৭ বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানের উদ্বোধনকালে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

    ‘আমি চাই বিমানে যারা কাজ করবেন তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন, যাতে দেশের কোন বদনাম না হয় এবং দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল থাকে,’- তিনি ৭৮৭ বোয়িং ড্রিমলাইনার আকাশবীণা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিদেশি এবং স্থানীয় যাত্রীসা ধারণ সেই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশেরিরা দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তাদের মালপত্র নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে।’ তিনি এ সময় বিমান কতৃর্পক্ষকে নিরাপত্তার বিষয়টিতেও আরো গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান।

    ২৭১ আসনবিশিষ্ট বোয়িং ৭৮৭ ড্রিম লাইনার উড়োজাহাজটির নাম রাখেন ‘আকাশবীণা’ প্রধানমন্ত্রী।

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল বিশেষ অতিথি হিসেকে উপস্থিত ছিলেন।

    বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহম্মাদ এনামুল বারী এবং বেসাসরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

    মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    আমাদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে দু’একটি দেশের আপত্তি থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার একটা বিষয় ছিলো সেটা আপনারা জানেন। কোন কোন সরকার এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তাও আপনারা জানেন। যাই হোক, তারা সেটি প্রত্যাহার করেছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি এখন উন্নত হয়েছে।

    তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাই আমরা একটু সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে যে সম্মান অর্জন করেছিলাম সেটা হারিয়ে গিয়েছিল ’৭৫-এর ১৫ অগাস্টের পর থেকে। সেই সম্মানকে আবার আমরা ফিরিয়ে নিয়ে এসে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে যে উন্নয়ন করা যায়, সেটাও আমরা কিন্তু প্রমাণ করেছি।’

    দেশে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অর্জনটা ধরে রেখেই আমাদের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

    স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার হাত ধরেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকরা মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছিল তাঁদের একটি নিজস্ব এয়ারলাইন্স হবে, যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন বঙ্গবন্ধু। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় জন্ম নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

    তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ডাকোটা উড়োজাহাজ দিয়ে আর আজকে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার আকাশবীনা’র। ‘আকাশবীনা’র আজকের এই অভিষেকের দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আরো একটি মাইলফলক, স্বপ্ন পূরণের দিন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ বিমানের প্রতি এতোই আন্তরিক ছিলেন যে, এর লোগো তৈরি এবং চূড়ান্ত করার কাজ তিনি নিজেই তদারকি করেন। তাঁর সাড়ে তিন বছরের সরকারের সময় ব্যাংকক, কলকাতা, কাঠমান্ডুও দুবাই আন্তর্জাতিক রুট চালু হয়। বিমানের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিমানের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতির পিতা ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল এভিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নামে পরিচিত।

    প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিমানের দুরাবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, ২০০৯ সালে আমরা সরকার পরিচালনায় এসে দেখি বিমানের অবস্থা খুবই নাজুক। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানকে পরিণত করে দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে। তারা নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, প্যারিস, ফ্রাংকফুর্ট, মুম্বাই, নারিতা এবং ইয়াঙ্গুন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। চরম লোকসান আর অব্যবস্থাপনায় বিমান মুখ থুবড়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, জরাজীর্ণ বিমান বহর, বিপর্যস্ত শিডিউল, অন্তহীন অভিযোগ। এ সঙ্কট উত্তরণে প্রয়োজনীয় কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করি আমরা।

    একটু গান শোনার ব্যবস্থা অনেক বিমানে ছিল না, বিমানে বসে থাকলে প্রায়ই পানি পড়তো, টয়লেট টিস্যু বা তোয়ালে দিয়ে পানি আটকাতে হতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কারণে সরকারে আসার পর পরই আমরা উদ্যোগ নেই। সেই উদ্যোগের ফলেই বিমান বহরে আজ নতুন নতুন আধুনিক বিমান সংযুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বিমানবন্দরও অনেক আধুনিক হয়েছে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, সত্যিকার অর্থে একটি আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে বিমানকে গড়ে তোলার জন্য তাঁর নির্দেশেই বিমান পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ছয়টি বিমান। বাকি চারটির প্রথমটি বহরে যুক্ত হলো।

    তিনি বলেন, আমাদের বিমান বহরে সংযুক্ত হওয়া পালকি, অরুণ আলো, আকাশপ্রদীপ, রাঙ্গাপ্রভাত, মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী। আমরা নতুন নতুন আঙ্গিকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিযে বিমানগুলোরও নামকরণ করি। আরেকটি ড্রিম লাইনার, বিমানের বহরে যোগ হবে নভেম্বর মাসে।
    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, সে সময়ে আমাদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। তখন হয়তো এখানে আসা বা এটা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে না। তাই আমি চাই এটা দ্রুত এসে যাক এবং তার কাজ শুরু করুক। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যসমূহে বিমানের যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সরকার গত মাসে কানাডার সঙ্গে ৩টি ড্যাশ-৮ বোম্বারডিয়ার উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাতে করে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগটা আমরা আরো বাড়াতে পারবো।

    বিমানের উন্নয়নে তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এই বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ বলে কিছুই ছিলো না। বিমানবন্দরে নেমে হেঁটে বিমানে উঠতে হতো। আমরা সরকারে এসে এটির আধুনিকায়নের দিকে নজর দেই এবং উন্নত করার ব্যবস্থা নেই।’

    তিনি বলেন, ‘কার পার্কিং, বোর্ডিং ব্রিজ, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এই সবগুলো কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেই হয়েছে।’

    বিমানের উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করতে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরকেও আমরা উন্নত করতে চাচ্ছি। এটাও যেন একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক বিমান রুটের মধ্যে পড়ায় এটা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, আন্তর্জাতিক বিমানগুলো এটাকে রিফ্যুয়েলিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারে। ’

    সৈয়দপুর, সিলেট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকেও উন্নত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে বাগেরহাটের খান্দাইল বিমানবন্দর করার কথাও জানান ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিমান নয়, বিমানবন্দরসমূহ উন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সিলেট বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
    তিনি এ সময় হজ ফ্লাইট সফল ভাবে সম্পন্ন করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উড়োজাহাজটির একটি মডেল উপস্থাপন করা হয়। পরে বিমান বহরে যুক্ত নতুন এই উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন তিনি।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পর আজ সন্ধ্যায় ‘ড্রিমলাইনার আকাশবীণা’র প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

    আকাশবীণায় আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। দু’পাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা। একইসঙ্গে জানালার বোতাম টিপে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জানালা ছাড়াও কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম।

    টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগবে। এটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম। বিমানটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই)। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হবে ইলেক্ট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে।

  • ধীরে চল নীতি ‘ ইভিএম নিয়ে  ইসির

    ধীরে চল নীতি ‘ ইভিএম নিয়ে ইসির

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার ও কেনা নিয়ে ‘ধীরে চল নীতি’ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পরও ইভিএম প্রস্তুত রাখার জন্য আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে ইসি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পর ইসি এই নীতি অবলম্বন করেছে।

    মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তোড়জোড় করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। তবে স্বল্প পরিসরে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর নড়েচড়ে বসে ইসি। পরদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা থাকা স্বাভাবিক। কারণ এটির ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে আমরা এখনও তাদের জানাতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে তারা সব জানতে পারবেন। তবে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখব আমরা। আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

    জানা যায়, বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল আপত্তি করলেও ৩৮২৯ কোটি টাকার কেনার পরিকল্পনা করেছে। এ টাকায় দেড় লাখ ইউনিট ইভিএম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে প্রায় সব দলই ইভিএমের বিপক্ষে মত দেয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে নির্বাচনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছিলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু কতিপয় উৎসাহী কর্মকর্তার কারণে আবার ইভিএমের দিকে ইসি ঝুঁকছে বলে অভিযোগ ওঠে। এখন এই ইভিএম ব্যবহার করতে গণপ্রতিধিত্ব অধ্যাদেশে সংশোধনী আনারও উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। পাঁচ নির্বাচন কমিশনারের একজন মাহবুব তালুকদার এ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও তা আমলে নেয়নি ইসি। আরপিও এর সংশোধনী এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। পরে এটি সংসদে তোলা হবে।

    তবে এখন ইসি বুঝে শুনে এ ব্যাপারে এগুবে বলে  জানান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, ইভিএম চাপিয়ে দেয়া হবে না। সবার মতামত নিয়েই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

    এ বিষয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কাঠামো আমাদের রয়েছে। এজন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে যদি আইন পাস হয় তখন আমাদের প্রশিক্ষিত লোক যারা রয়েছেন, তাদের সক্ষমতা অর্জন, ইভিএম যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়; কেবল তখনই যতখানি ব্যবহারযোগ্য ততখানি করা হবে।

    প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পর বিভিন্ন সময় কেনা ১ হাজার ৮০টি ইভিএম কিনেছিল ইসি। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি এসব ইভিএম তৈরি পর রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ক্রুটি সারানোর জন্য প্রায় সাত কোটি টাকা খরচ হয়। পরে অকোজো হয়ে গেলে সম্প্রতি এগুলো ধ্বংস বা পরিত্যক্তের ঘোষণা করেছে ইসি।

  • ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন : নাসিম

    ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন : নাসিম

    শামীম ইসলাম:

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে। কোন শক্তি এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।

    তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো ফিরে আসবে না। সাহস থাকলে মাঠে আসুন, মাঠে হবে খেলা, মাঠ ছেড়ে পালাবেন না। না হলে খালি মাঠে গোল দেয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়েছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই, সে সময় সারা বাংলাদেশে ক্যামেরা থাকবে, সাংবাদিক থাকবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষতায় আনবে।

    হুইপ মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি।

    পরে তিনি বড়লেখা উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরেকটি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স-এর উদ্বোধন করেন।

  • অনুমোদন পেল ডেলটা পরিকল্পনা

    অনুমোদন পেল ডেলটা পরিকল্পনা

    ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নিলো সরকার। অনুমোদন পেল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা ‘ডেলটা প্লান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।’ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদী ভাঙন, নদী শাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভার বিস্তারিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১ দশকিক ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। এত লম্বা সময়ের পরিকল্পনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম- এমনকি বিদেশেও হয়নি।

    তিনি জানান, আজকের দিনটি আমাদের দেশের জন্য একটি ’রেড লেটার ডে’। ২১০০ সাল নাগাদ আমরা দেশকে পানি ব্যবস্থাপনায় কীভাবে দেখতে চাই, এটা তারই পরিকল্পনা।

    তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ আরেকাট পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। এর আলোকে আমরা উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাব।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডস এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার নতুন ভূমি পেয়েছে। তাদের সহযোগিতাতেই এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পানি আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই পানিকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষিতে আমরা পিছিয়ে থাকব না। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারব।

    ডেলটা পরিকল্পনায় যা আছে

    নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবছর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় আড়াই শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে। ২০৩১ সাল নাগাদ প্রতিবছর ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    নেদারল্যান্ডস’র ডেলটা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা তৈরির কাজ তিন বছর আগে শুরু করে সরকার।

    পরিকল্পনার ধারণা অনুযায়ী, দেশজ আয়ের মোট চাহিদার আড়াই শতাংশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকে এবং ২ শতাংশ সরকারি খাত থেকে যোগান দিতে হবে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বেশিরভাগ সরকারি অর্থায়ন বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন, নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন, এবং নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে।

    জিইডি সূত্রে জানা যায়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়ন হবে ২০৩০ সাল নাগাদ। এই পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামো-সংক্রান্ত এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প রয়েছে।

    আর বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয়টি স্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং নগর এলাকা। অঞ্চলভেদে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য এবং এর সাধারণ ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • কারাগারে খালেদার বিচার কাজ পরিচালনার গেজেট প্রকাশ

    কারাগারে খালেদার বিচার কাজ পরিচালনার গেজেট প্রকাশ

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রমের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালত বসানো হবে। মঙ্গলবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

    গেজেটে বলা হয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালীন এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের কক্ষটিকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে।

    বুধবারই (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের অফিসের একটি কক্ষ বিচার কাজ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর থেকে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। এই পরিস্থিতিতে আদালতকেই কারাগারে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যে আদালত দণ্ড দিয়েছেন, সেখানে আরও একটি মামলা শেষ পর্যায়ে আছে।

    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেন।

    এই মামলায় এখন কেবল খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি। কিন্তু সাত মাসেও তার এই যুক্তি উপস্থাপন হয়নি। ফলে এই মামলার শুনানি কবে শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    এর মধ্যে কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে খবর ছড়ায় এবং তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। বিএনপি নেত্রীকে একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। এরপর আরেক দফা তাকে সেখানে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানান।

    বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও চারটি মামলা চলছে এবং তার অনুপস্থিতির জন্য সবগুলো মামলারই কার্যক্রম আটকে আছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র ‘হিংস্র নেকড়ের মতো’ আচরণ করছে : এরদোগান

    যুক্তরাষ্ট্র ‘হিংস্র নেকড়ের মতো’ আচরণ করছে : এরদোগান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, তার দেশ রাশিয়া ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ডলার বহির্ভূত ভিন্ন কোনো মুদ্রা দিয়ে লেনদেন করবে। আমেরিকা ‘হিংস্র নেকড়ের মতো’ আচরণ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    কিরগিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে রবিবার ব্যবসায়ীদের একটি ফোরামে দেয়া বক্তব্যে এরদোগান আরও বলেন, আমেরিকা হিংস্র নেকড়ের মতো আচরণ করছে; কেউ তাকে বিশ্বাস করবেন না।

    দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে দুই দেশের নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

    এরদোগান বলেন, ডলারের ব্যবহার আমাদের ক্ষতি করছে। তবে আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা বিজয়ী হব।

    তুরস্ক ও কিরগিজিস্তানের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এ ফোরামে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তারা।

    তুরস্কে মার্কিন পাদ্রী অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে আটক করার পর আঙ্কারা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তবে অনেকে বলছেন, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তুরস্কের বিরুদ্ধে নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন সরকার।

  • রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়াই সংসদে সড়ক পরিবহন বিল

    রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়াই সংসদে সড়ক পরিবহন বিল

    বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল, ২০১৮ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়াই সংসদে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিল আইনে পরিণত হলে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা থাকলে সেই বিল সংসদে উত্থাপনের আগে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই অনুমতি না নেয়ায় সংসদ সচিবালয় থেকে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। সংসদের আইন মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা যায়, বিলটি আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংসদের অধিবেশন বসছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। ডিসেম্বরের শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে। সে হিসেবে জরুরি কোনো প্রয়োজন না পড়লে আগামী সংসদ অধিবেশনই চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন হতে পারে। নভেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জাবালে নূর পরিবহনের বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। পরের দিন থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান করে বেপরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর আইনটি চূড়ান্ত করে সাজা ও জরিমানা বাড়ানো হয়।

  • পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

    পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

    সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাকিস্তানকে দেয়া ৩০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের উত্তাপ বাড়ছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আসন্ন পাকিস্তান সফরে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কুরেশি।

    ওদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তান আরো বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকে প ড়বে।

    গত ১৮ই আগস্ট পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দেশটির সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যয় সংকোচন নীতিসহ অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়ে একের পর এক চমক দেখাতে থাকেন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের এই নেতা।

    তবে সরকার গঠনের ১৫ দিনের মাথায় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী। গত শনিবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ পাকিস্তান সফরে গেলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরানের সাথে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

    আর ওই সফরের একদিন পরই সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পাকিস্তানকে ৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ইসলামাবাদ। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণ প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলছে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আগামী বুধবারের বৈঠকে এর কারণ জানতে চাওয়া হবে।

    শাহ মোহাম্মদ কুরেশি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো দেশের একক সমস্যা নয়। এটি বর্তমানে আঞ্চলিক তথা বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা দূর করতে হলে সবাইকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ। আমাদের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই অনেক ত্যাগ স্বীকার করছে। ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ালেই কেবল সন্ত্রাসবাদ দমন সম্ভব।

    মাইক পম্পেওর সফরের আগে, পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এর ফলে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করবে পাকিস্তান।

    শশাঙ্ক জোশি (সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, আরইউএসআই) বলেন, চীন-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডর প্রকল্পে বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করছে চীন। এছাড়া, চীনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কিনে থাকে পাকিস্তান। সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিমান ঘাঁটি ব্যবহারসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। পেন্টাগনের এমন পদক্ষেপের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চীনমুখী হতে পারে পাকিস্তান।

    সন্ত্রাসবাদ দমনে গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানিস্তানে তালেবান নির্মূলে পাকিস্তানকে জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গ হিসেব ব্যবহৃত হয়-এমন অভিযোগ তুলে সবধরনের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের হুমকি দেয় ওয়াশিংটন।

  • মন্ত্রিসভায় সংশোধিত শ্রম আইন অনুমোদন

    মন্ত্রিসভায় সংশোধিত শ্রম আইন অনুমোদন

    শ্রম ইস্যুতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন এনে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত খসড়াটি উপস্থাপিত হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এই অনুমোদনের কথা জানান।

    তিনি বলেন, সংশোধিত শ্রমআইনে বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্য রয়েছে শ্রমিকদের উৎসব ভাতা বাধ্যতামূলক; কিশোররা কাজ করতে পারবে, শিশুরা নয়; দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক নিহত হলে তার ক্ষতিপূরণ দ্বিগুণ দিতে হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মালিক ও শ্রমিকদের অসদাচরণ বা বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। আগে কারাদণ্ডের পরিমাণ ছিল ২ বছর।

    বাংলাদেশে ২০০৬ সালের শ্রমআইন কার্যকর রয়েছে। বিভিন্ন শ্রম সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে ২০১৩ সালে শ্রমআইন সংশোধন করা হলেও তা যথেষ্ট হয়নি বলে আলোচনা ছিল।